First Aid Present

Lifestyle Modification এবং প্রাকৃতিক খাদ্য, পানীয়, শাকসবজি, গাছ, ডালপালা, ফল, মসলা, পাতা ও ফুল ইত্যাদির দ্বারা প্রাথমিক চিকিৎসা।

Premature Ejaculation বা শীঘ্রপতন বা দ্রুত বীর্যপতন কেন হয়? এর থেকে বাঁচার উপায় কি?

আর্টিকেলটি পরিপূর্ণভাবে আসার আগ পর্যন্ত দয়া করে অপেক্ষা করুন 

যৌনমিলন সুখকর হয় কখন? শীঘ্রপতন এবং শীঘ্রপতন থেকে মুক্তির উপায় প্রসঙ্গে আলোচনা করতে গেলে সামনে আসে এই বিষয়টিও। কারণ অধিকাংশ পুরুষেরই ধারণা যে যৌনতার আসল আনন্দ লুকিয়ে রয়েছে যৌন সঙ্গিনীর শরীরে প্রবেশের মধ্যেই। ইংরেজিতে যাকে বলা হয় (Penetration) ভেদ বা অনুপ্রবেশ করানো। সঙ্গিনীর শরীরে প্রবেশ করার পর একজন পুরুষ কতক্ষণ তাঁর বীর্যপতন ধরে রাখতে সক্ষম হলেন, কতক্ষণ তিনি সঙ্গিনীকে আনন্দ দিয়ে নিজেও তৃপ্ত হলেন, ধরেই নেওয়া হয় যে এর মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে রতিসুখ বা Orgasm-এর মূল চাবিকাঠি৷

Premature Ejaculation (PE) বা শীঘ্রপতন কি?

PE বা শীঘ্রপতন পুরুষদের এমন একটি অবস্থা যখন একজন ব্যক্তি যৌনমিলনের সময় প্রবেশের আগে বা প্রবেশের কয়েক সেকেন্ড পরেই বা স্ত্রীর চরম উত্তেজনা (Orgasm) হওয়ার আগেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বীর্যপাত করেন।  

বিশেষজ্ঞের পরামর্শ- বীর্যপাতের সম্ভাবনা এলে কিছু কৌশল অবলম্বন করে বীর্যপাত দীর্ঘায়িত করা যায়।
যাদের যৌন উদ্দীপনা কম তারাও শীঘ্রপতনের সমস্যায় ভোগেন ৷ মিলনের মানসিক চাপ একজন ব্যক্তির যৌনতা নিয়ে দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়ে তোলে এবং অতিরিক্ত উদ্বেগ এই সমস্যাকে আরও প্রকট করে তোলে। এটি পুরুষদের প্রকাশিত সাধারণ যৌন দুর্বলতাগুলির মধ্যে একটি। প্রায় সব পুরুষই তাদের যৌন জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে এই অবস্থার শিকার হয়েছেন।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে লিঙ্গ প্রবেশের পর কতক্ষণ বির্য ধরে রাখা স্বাভাবিক?

বিশেষজ্ঞ পল্লবী বার্নওয়াল জানিয়েছেন যে, সম্প্রতি এই বিষয়ে এক পাঠক তাঁকে চিঠি দিয়েছেন। তিনি জানতে চেয়েছেন- সঙ্গিনীর শরীরে প্রবেশের ৫ মিনিটের মধ্যেই বীর্যস্খলনকে কি দ্রুত বীর্যপাত বা শীঘ্রপতনের সমস্যা বলে গণ্য করতে হবে?

সবার প্রথমে পল্লবী আবার মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে, পর্নোগ্রাফি যৌনতার আদর্শ নয়। সেখানে Edit করে, বার বার শ্যুট করে Penetration-এর মুহূর্তটি দীর্ঘায়িত করা হয়ে থাকে। বাস্তবে পল্লবী বলছেন যে, ৩-৫ মিনিট এক্ষেত্রে আদর্শ সময় (তবে আবহাওয়া ও জাতিভেদে শারীরিক গঠন এবং সুস্থতা অনুসারে ব্যক্তিভেদে এই সময়ের কিছু তারতম হতে পারে)। যদি ২ মিনিটেরও কম সময়ে বীর্যস্খলন ঘটে, একমাত্র তাহলেই বিষয়টিকে শীঘ্রপতন বলা যেতে পারে।

আবার, এই প্রসঙ্গে আরেকটি কথাও বলতে ভুলছেন না বিশেষজ্ঞ তাঁর মতে, যখন সঙ্গী বা সঙ্গিনী দুই পক্ষই অথবা কোনও একজন প্রস্তুত নন, কিন্তু বীর্যস্খলন হল, তাকেও শীঘ্রপতন বলতে হবে। অর্থাৎ ধরে নেওয়া যাক পুরুষটির বীর্যস্খলন হল, কিন্তু নারীটি তার জন্য প্রস্তুত নন- সেটাও পল্লবীর মতে শীঘ্রপতনের গণ্ডিতে পড়ে- কেন না, সঙ্গম দুই পক্ষের সম্মতি এবং আনন্দের ব্যাপার, এক্ষেত্রে কোনও এক পক্ষ দিয়ে কোনও কিছু বিচার করা যায় না। আবার যত কম সময়ে বীর্যস্খলন হোক না কেন তাতে যদি উভয়েই সন্তুষ্ট থাকে তাতেও আবার তেমন সমস্যা নেই।

অকাল বীর্যপাত (PE) কি এক ধরনের (sexual dysfunction) যৌন কর্মহীনতা?

PE এক ধরনের যৌন কর্মহীনতা বলে মনে করা হয়। যৌন কর্মহীনতা বলতে বোঝায় বিভিন্ন ধরনের সমস্যার কারণে যে কোনো একটি দম্পতিকে যৌন কার্যকলাপ পুরোপুরি উপভোগ করা থেকে বিরত রাখে।

তবে PE Erectile Dysfunction (ED) এর মতো নয়। ED হল একটি লিঙ্গের উত্থান ও যৌন উত্তেজনা বজায় রাখতে অক্ষমতা। যেখানে সন্তোষজনক যৌন অভিজ্ঞতা নষ্ট হয়। যাইহোক, আপনি ED এর সাথে PE-এর অভিজ্ঞতাও পেতে পারেন। অর্থাৎ একই সাথে একজন ব্যক্তির Premature Ejaculation (PE) এবং Erectile Dysfunction (ED) রোগ থাকতে পারে।

অকাল বীর্যপাতের কারণ কী?

PE-তে মনস্তাত্ত্বিক বা মানসিক উপাদান রয়েছে, তবে অন্যান্য (জৈবিক) কারণও রয়েছে যা এতে অবদান রাখে।

প্রথমে জৈবিক কারণ গুলোকে নিয়ে চিন্তা করতে পারেন;

কয়েকটা স্টেপে চিন্তা করতে হবে। একটা হচ্ছে কজটা Evaluyet করতে হবে। 

  • কারণটা (PE) ডায়াবেটিসের কারণে হচ্ছে কি না,
  • হরমোনের কারণে হচ্ছে কি না, কিছু নির্দিষ্ট হরমোনের অস্বাভাবিক মাত্রা, যেমন টেস্টোস্টেরন, বা নিউরোট্রান্সমিটার নামক স্নায়ু কোষ দ্বারা উত্পাদিত রাসায়নিক, PE-তে অবদান রাখতে পারে,
  • থাইরয়েডের কারণে হচ্ছে কি না, 
  • প্রোস্টেট বা মূত্রনালীর প্রদাহও PE এবং ED সহ অসংখ্য উপসর্গের (রোগের) কারণ হতে পারে,
  • না কি স্মোকিং-অ্যালকোহল থেকে হচ্ছে, 
  • Sexual Abuse সার্জারি বা আঘাত জনিত কারণে স্নায়ুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হলে,
  • নির্দিষ্ট ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসাবে হতে পারে,
  • হৃদরোগ,
  • Sexual Transmitted Infection (STI) যেমনঃ সিফিলিস, গনোরিয়া ইত্যাদি,
  • খুব অল্প বয়স থেকে সহবাস ও হস্তমৈথুনের ফলে PE হতে পারে।
  • যাদের উত্তেজনা কম থাকে বা শারীরিক চাহিদা নেই কিন্তু মনের চাহিদা থাকে বা যারা জোর করে Erection নিয়ে আসার চেষ্টা করে তাদেরও PE হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

তো কারণটা যদি আমরা আইডেন্টিফাই করতে পারি, তাহলে সে ক্ষেত্রে কারণটাকে বন্ধ করতে হবে বা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। তাহলে সে ক্ষেত্রে ইমপ্রুভমেন্ট পাব।

দ্বিতীয়ত আসে কোনও কারণ না পাইলে তাহলে শুধু সাইকোলজিক্যাল। তাহলে সে ক্ষেত্রে তাঁকে স্টেপ বাই স্টেপ ট্রিটমেন্ট করতে হবে। প্রথমে রি-অ্যাসুরেন্স এবং কাউন্সেলিং খুবই ইমপরট্যান্ট। প্রয়োজনে কাপল কাউন্সেলিং বা স্বামী-স্ত্রীকে একসঙ্গে কাউন্সেলিং করানো যেতে পারে। এ ছাড়া কিছু এক্সারসাইজ আছে। ওষুধেরও ভূমিকা আছে।

কিছু মনস্তাত্ত্বিক উপাদান অস্থায়ী হতে পারে,  উদাহরণস্বরূপ, একজন ব্যক্তি প্রাথম যৌন অভিজ্ঞতার সময় PE-এর অভিজ্ঞতা থাকতে পারে, কিন্তু ব্যক্তি বড় হওয়ার সাথে সাথে আরও বেশি যৌন মিলন করছে, তারসাথে বীর্যপাত বিলম্বিত করতে সাহায্য করার কৌশলগুলি শিখেছে। কিন্তু;

ব্যক্তি বড় হওয়ার সাথে সাথে বীর্য ধরে রাখার কৌশল যেমন শিখছে একইভাবে একজন ব্যক্তির বয়স বাড়ার সাথে সাথে PE একটি সমস্যা হয়ে উঠতে পারে এবং বয়স বাড়ার সাথে সাথে একটি Erection বজায় রাখতে আরও সমস্যা হতে পারে।

PE অন্তর্নিহিত অবস্থা বা মানসিক স্বাস্থ্য উদ্বেগের কারণেও হতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে:

  • যৌন সমস্যার মধ্যে মানসিক সমস্যাও ভয়ঙ্কর গুরুত্বপূর্ণ। (PE) এটি কোন কারণে (Guilt Feel) অপরাধবোধ, (Anxiety) উদ্বেগ এবং (Desperation) হতাশার কারণে হতে পারে। 
  • দুর্বল শরীরের ইমেজ or দুর্বল আত্মসম্মান,
  • (Depression) বিষণ্ণতা, (Tension) দুশ্চিন্তা (Stress) মানসিক চাপ।
  • যৌন নির্যাতনের ইতিহাস, হয় অপরাধী হিসেবে, অথবা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে বেঁচে থাকা হিসেবে,
  • সীমিত যৌন অভিজ্ঞতা সম্পর্কে উদ্বেগ থাকা বা আগের ব্যর্থতা বার বার মনে করে, এইবারেও (বর্তমানে) মনে হয় খুব তাড়াতাড়ি বীর্যপাত হবে মর্মে দুশ্চিন্তা করা।
  • আপনার বর্তমান সম্পর্কের সমস্যা বা অসন্তোষ বিদ্যমান থাকা বা সম্পর্কে অবনতি/দাম্পত্য কলোহ।
  • সঠিক যৌন শিক্ষার অভাব যেমন প্রি ম্যারাইটাল বা বিবাহ পূর্ব কাউন্সিলিং এর অভাব, সেক্স সম্পর্কে ভুল ধারনা।
  • চাকরি-ব্যবসা জনিত কারণে দূরে থাকেন এবং অনেকদিন পরপর শারীরিক সম্পর্কের সুযোগ পাইলে দ্রুত বীর্যপাত হতে পারে।
  • অনেকেই অধিক প্রত্যাশা করে, যেমন ৩০ মিনিট বা ১ ঘন্টা ধরে বীর্য ধরে রাখবে, আসলে এ ধারণা গুলো জন্মে পর্ণগ্রাফি থেকে, কিছু পশুদের জীবনাচারণ দেখে, বা যৌন জীবন সম্বন্ধে অজ্ঞতা থেকে। এভাবে তার আকাঙ্ক্ষার প্রাপ্তি না ঘটলে, সে হীনমন্যতায় ভোগে এবং স্বাভাবিক বীর্য ধারণ ক্ষমতাকে সে ধীরে ধীরে হারিয়ে ফেলে।
শারীরিক (অন্যান্য রোগের) কারণগুলিও PE-তে একটি প্রধান ভূমিকা পালন করতে পারে। ED-এর কারণে যদি আপনার ইরেকশন বজায় রাখতে অসুবিধা হয়, তাহলে আপনি দ্রুত সহবাস করতে পারেন যাতে আপনি Erection হারানোর আগে এটি সম্পূর্ণ করতে পারেন।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এর সঠিক কারণ সম্বন্ধে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং এ বিষয়ে স্পষ্টতার অভাব রয়েছে এখনও। সময়ের সাথে সাথে পুরুষরা তাদের প্রচণ্ড উত্তেজনা কিছুটা স্থগিত করতে শেখে। নতুন যৌন সঙ্গীরা প্রায়ই অর্গাজম ও বীর্যপাত ঘটায়। কিছু যৌন পরিস্থিতি এই ধরনের অবস্থাকে ট্রিগার করতে পারে। এমনকি দীর্ঘ সময় ধরে বীর্যপাত না হওয়াটাও একটি রোগ হতে পারে।

শীঘ্রপতন কত প্রকার?

(Lifelong) জীবনব্যাপী শীঘ্রপতন: Lifelong শীঘ্রপতন হলো প্রথম সহবাসের সময় থেকে শুরু করে বর্তমান পর্যন্ত শীঘ্রপতন হলে এটাকে জীবনব্যাপী বা লং লাইফ শীঘ্রপতন বলে, এটাকে প্রাইমারি শীঘ্রপতন‌ও বলা হয়।

(Acquired) অর্জিত শীঘ্রপতন: Acquired শীঘ্রপতন হলো শুরুতে PE ছিলনা অর্থাৎ অতীতে ঠিকঠাক সহবাস চলছিল কিন্তু হঠাৎ করে বিভিন্ন কারণে PE দেখা দিয়েছে তাহলে এটাকে অর্জিত শীঘ্রপতন বলা হবে, এটাকে আবার সেকেন্ডারি শীঘ্রপতনও বলা হয়।

শীঘ্রপতনের লক্ষণগুলি কী কী?

  • যদি PE মাঝে মাঝে হয় তাহলে সাধারণত উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নয়। যদি PE ঘন ঘন হয় বা দীর্ঘ সময়ের জন্য ঘটে থাকে তবে আপনার চিকিত্সার প্রয়োজন হতে পারে।
  • যৌনমিলনের সময় প্রবেশের আগে বা প্রবেশের কয়েক সেকেন্ড পরেই বা স্ত্রীর চরম উত্তেজনা (Orgasm) হওয়ার আগেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বীর্যপাত হ‌ওয়া।  
  • সহবাসের সময় অনুপ্রবেশের পর এক মিনিটেরও বেশি সময় ধরে বীর্যপাত দেরি করতে না পারা।
  • যৌনমিলনের সময় স্ত্রীর যৌনাঙ্গে পুরুষের লিঙ্গ প্রবাসের পর থেকে ৬০-১০০ সেকেন্ডের মধ্যে যদি বীর্যপাত ঘটে।

সঙ্গিনীর শরীরে লিঙ্গ প্রবেশের পরে শীঘ্রপতনের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে বীর্যপাতের অক্ষমতা বা বীর্যপাতের ক্ষেত্রে দ্রুততা লক্ষ্য করা যায়। অর্থাৎ স্বাভাবিক (১-২ মিনিট) সময়ের আগেই বীর্যপাত। যৌন ক্রিয়াকলাপ করার পরে এবং এমনকি হস্তমৈথুনের সময়ও এই সমস্যা হতে পারে।

কখন একজন ডাক্তারের সাথে কথা বলতে হবে?

যদি PE ঘটছে বা সম্পর্কে সমস্যা সৃষ্টি করার জন্য যথেষ্ট বার ঘটেছে অথবা যখন আত্মসম্মান এ আঘাত করে আপনাকে অন্তরঙ্গ সম্পর্ক অনুসরণ করা থেকে বিরত রাখে তাহলে,

আপনি Primary Care Physician এর সাথে যোগাযোগ করতে পারেন বা একজন Urologist এর সন্ধান করতে পারেন। একজন Urologist হলেন এমন একজন ডাক্তার যিনি মূত্রতন্ত্রের স্বাস্থ্য এবং পুরুষ যৌন ফাংশনের বিশেষজ্ঞ।

আপনি যখন আপনার ডাক্তারের সাথে দেখা করবেন, তখন নিম্নলিখিত তথ্যগুলি উপলব্ধ করে যাবেন:

  • আপনি কতদিন ধরে যৌন সক্রিয় ছিলেন বা কতদিন ধরে ঠিকঠাক যৌন মিলন চলছিল?
  • কখন PE একটি উদ্বেগ (সমস্যা) হয়ে ওঠে?
  • কত ঘন ঘন PE ঘটে?
  • সহবাসের সময় এবং হস্তমৈথুন করার সময় বীর্যপাত হতে সাধারণত কতক্ষণ লাগে?
  • আপনি কি এমন কোন (সেক্সের) ওষুধ ব্যবহার করেন যা যৌন কর্মক্ষমতা প্রভাবিত (বৃদ্ধি) করতে পারে?
  • আপনি কি স্বাভাবিক বীর্যপাত সহ যৌন মিলন করেছেন? যদি তাই হয়, সেই অভিজ্ঞতাগুলি এবং সেই সময়ে যখন PE একটি সমস্যা ছিল তার মধ্যে কী পার্থক্য ছিল?

একজন Urologist বা অন্যান্য চিকিত্সকের সাথে কাজ করার পাশাপাশি, আপনাকে একজন মানসিক স্বাস্থ্য পেশাদার, যিনি যৌন কর্মহীনতায় বিশেষজ্ঞ তার সাথে Counseling করার পরামর্শ দেওয়া হলো। কারণ, শীঘ্রপতনের চিকিৎসায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এই কাউন্সেলিং। এখানে ডাক্তার রোগীর সাথে তার সমস্যা সম্পর্কে কথা বলেন। এক্ষেত্রে একজন ব্যক্তি Low Performance চাপ থেকে মুক্ত হন এবং স্ট্রেসের মোকাবিলা করার অন্যান্য উপায় খুঁজে পান। কাউন্সেলিং এবং ড্রাগ থেরাপি একসাথে করা হয়।

শীঘ্রপতনের সমস্যার সাথে কিভাবে মোকাবিলা করবেন?

কিছু ক্ষেত্রে, আপনি আপনার যৌন রুটিনে কিছু পরিবর্তন করে PE এর মোকাবিলা করতে সক্ষম হতে পারেন যেমন;

দ্বিতীয়বারে টার্গেট নেয়া: আপনাকে সহবাসের এক ঘন্টা বা তার কিছু আগে হস্তমৈথুন করার পরামর্শ দেওয়া হতে পারে, কারণ এটি আপনাকে আপনার সঙ্গীর সাথে বীর্যপাত বিলম্বিত করতে সহায়তা করতে পারে।

তবে;

উৎসে, প্রথমে হস্তমৈথুনের কথা উল্লেখ থাকলেও আমরা আপনাদেরকে হস্তমৈথনে উৎসাহিত করি না। এক্ষেত্রে আপনারা স্ত্রীর সাথে প্রথমেই মিলিত হলেন এরপর টার্গেট পূর্ণ না হলে আবার দ্বিতীয়বার মিলিত হতে পারেন, দ্বিতীয়বারে আপনার অটোমেটিক বীর্যপাত দেরিতে হবে। হস্তমৈথুন না করে এভাবেই আপনারা যৌন মিলনের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে পারেন।

Position Change করা: কোন একটা পজিশনে যদি পুরুষ নিজেকে দুর্বল মনে হয় এবং খুব দ্রুত বীর্য আসার সম্ভাবনা থাকে তাহলে তাকে অন্য পজিশনে Push করে যেতে হবে। এক্ষেত্রে যে উপড়ে থাকে তার খুব তাড়াতাড়ি বীর্য আসার সম্ভাবনা থাকে।

যৌন মিলন স্থগিত করা: আপনি সাময়িকভাবে সহবাস সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করতে পারেন এবং অন্যান্য যৌন কার্যকলাপে জড়িত হতে পারেন এবং আপনার সঙ্গীর সাথে খেলা করতে পারেন। এটি সহবাসের সময় Perform করার চাপ উপশম করতে সাহায্য করতে পারে।

Pelvic floor ব্যায়াম: কিছু পেশীর ব্যায়াম PE প্রতিরোধে সাহায্য করতে পারে। বিশেষ করে, আপনি পুরুষ হলে পেলভিক ফ্লোর ব্যায়াম থেকে উপকৃত হতে পারেন।

আপনার পেলভিক ফ্লোরের পেশীগুলি খুঁজে পেতে, মাঝামাঝি সময়ে প্রস্রাব বন্ধ করার দিকে মনোনিবেশ করুন এবং লক্ষ্য করুন পায়ুপথের চতুর্দিকে সংকোচন বা প্রসারন হবে অথবা যে ধরনের পেশীতে চাপ প্রয়োগ করলে আপনার গ্যাস পাস করা বন্ধ হয় ঠিক সেই ধরনের পেশীগুলোতেই লক্ষ্য রাখুন। এভাবে প্রসাব বন্ধ করা এবং গ্যাস পাস বন্ধ করতে গেলে যে পেশীগুলোর উপরে চাপ পড়ে ঐ পেশীগুলোকেই পেলভিক ফ্লোর পেশী বলা হয়। পেশীগুলি কোথায় আছে তা বুঝার পর আপনি Kegel Maneuvers নামে পরিচিত সেক্স বৃদ্ধির ব্যায়াম অনুশীলন করতে পারেন। আপনি দাঁড়িয়ে, বসে বা শুয়ে এগুলি করতে পারেন।

কেগেল ব্যায়ামটি করতে;

তিন/পাঁচ গণনার জন্য আপনার পেলভিক ফ্লোর পেশী সংকোচন বা শক্ত করুন। এরপর তিন/পাঁচ গণনার জন্য পেশীগুলোকে প্রসারণ বা ছেড়ে দিন বা শিথিল করুন।

পায়ুপথ এরিয়ার ব্যায়াম বা কেগেল ব্যায়াম বা পেলভিক ফ্লোর ব্যায়াম।

সারাদিন পরপর কয়েকবার পায়ুপথের চতুর্দিকের পেশীগুলোকে সংকোচন এবং প্রসারণ করুন। প্রতিদিন তিনটি করে সেট করার চেষ্টা করুন। প্রতি সেটে ১০বার করে মোট ৩০ বার সংকোচন ও প্রসারণ করুন।

কেগেল ব্যায়াম করার সময়, আপনার পেলভিক ফ্লোর পেশীর পরিবর্তে আপনার পেট বা নিতম্বের পেশী ব্যবহার না করার বিষয়ে সতর্ক থাকুন।

Pelvic floor আপনার PE-র মূলে আছে কিনা তার উপর নির্ভর করে আপনার পেশীকে (Pelvic floor ব্যায়াম এর মাধ্যমে) প্রশিক্ষণ দিতে সপ্তাহ বা মাস সময় লাগতে পারে। Pelvic floor এর বড় ধরনের ত্রুটি থাকলে ক্ষেত্র বিশেষে (ব্যায়াম করে পেলভিক ফ্লোরকে স্বাভাবিক অবস্থায় নিয়ে আসতে) একাধারে তিন থেকে ছয় মাসও লাগতে পারে।

(Decreased Sensitivity) সংবেদনশীলতা হ্রাস:  সহবাসের সময় আপনার লিঙ্গের সংবেদনশীলতা হ্রাস করাও PE কমাতে সাহায্য করতে পারে।

একটি অথবা ক্ষেত্রবিশেষে দুইটি কনডম পরা আপনার সংবেদনশীলতা হ্রাস করতে পারে যা আপনাকে বীর্যপাত দেরিতে করে আপনার উত্থান দীর্ঘস্থায়ী করতে সহায়তা করবে।

এমনকি Climax Control (উত্তেজনাপূর্ণ চরম সীমা নিয়ন্ত্রণ) এর জন্য কনডম বাজারজাত করা হয়েছে। এই কনডমগুলিতে বেনজোকেনের মতো অসাড় ওষুধ রয়েছে যা আপনার লিঙ্গের স্নায়ু প্রতিক্রিয়াকে কিছুটা নিস্তেজ করতে সহায়তা করে। অথবা;

সহবাসের 15 মিনিট আগে সরাসরি আপনার লিঙ্গে (Numbing Agents) অসাড়কারী এজেন্ট (কিছু লুব্রিকেন্ট অয়েল বা ক্রিম) প্রয়োগ করাও সহায়ক হতে পারে, তবে প্রথমে আপনার ডাক্তারের সাথে আপনার বিকল্পগুলি নিয়ে আলোচনা করুন। তারপর এই ধরনের ঔষধ প্রয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিন।

স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলুন: আপনার যদি Premature Ejaculation (PE) দেখা দেয়, তাহলে আপনার সঙ্গীর সাথে আন্তরিকভাবে পরামর্শ করুন, এটা নিয়ে সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যে যাবেন না। তাকে বলুন, যে অন্য সাধারন রোগের মত এটি একটি অসুখ। সুতরাং নির্দিষ্ট (থেরাপি, ঘরোয়া কৌশল বা ওষুধের সংমিশ্রণ) চিকিৎসা ব্যবস্থার মাধ্যমে এটি ভালো হয়ে যায়। 

কিভাবে দ্রুত বীর্যপাত (PE) বা শীঘ্রপতন প্রতিরোধ করা যাবে?

Absence of Mind System: লক্ষ্য রাখবেন, পুরুষ নিজে উত্তেজিত না হয়ে সঙ্গিনীকে কিভাবে উত্তেজিত করা যায় সে চেষ্টা করা, তার সাথে সঙ্গিনীর Erection যেন প্রশমিত না হয় সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে।পুরুষ শুরুতেই উত্তেজিত হয়ে গেলে মনকে অন্যকিছুতে সরাতে হবে। অন্য কথা ভাবতে হবে। অপ্রাসঙ্গিক, বিরক্তিকর কোনো কথা মনে মনে ভাবা যেতে পারে।

Start-and-Stop System: এই পদ্ধতির মানে হলো স্ত্রীর যৌনাঙ্গে লিঙ্গ প্রবেশের পর থেকে বীর্যপাত হওয়ার আগ পর্যন্ত একাধারে লিঙ্গ চালনা করা থেকে বিরত থাকা। 

অর্থাৎ লিঙ্গ চালনা করতে করতে যখন একটা সময় আপনার শরীরের ভিতরে শিরশিরানী ভাব আসতে থাকবে অথবা যখনই আপনার মনে হবে এই বুঝি বীর্যপাত হয়ে গেল, ঠিক তার আগ মুহূর্তেই আপনার স্ত্রীর শরীর থেকে লিঙ্গটা বের করে কিছুক্ষণ রিল্যাক্সে থাকবেন এরপর নিজেকে নিয়ন্ত্রণে মনে হলে আবার লিঙ্গ চালনা শুরু করতে পারেন। এইভাবে আপনি দুই থেকে চারবার এ পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারেন। এটি দীর্ঘকালীন যৌন আনন্দ পেতে সাহায্য করবে।

কিন্তু প্রশ্ন হলো রিলাক্সের সময় ওই মুহূর্তে ঐ অল্প সময় কিভাবে কাটাবেন?

বিশেষজ্ঞ পল্লবী বলছেন যে পুরুষের শরীর যখন রতিসুখের চূড়ান্তে পৌঁছতে থাকে, তখনই বীর্যস্খলনের সম্ভাবনা তৈরি হয়। কিন্তু এর সমাধান রয়েছে যৌনখেলার মধ্যেই। বীর্যস্খলনের মুহূর্তটিকে ইংরেজিতে বলা হয়ে থাকে Point Of No Return বা PNR। কিন্তু আদতে ফিরে যাওয়া সম্ভব।

বিশেষজ্ঞের পরামর্শ- শীঘ্রপতনের সম্ভাবনা এলে তখন আর Penetration-এ মেতে থাকা উচিৎ হবে না। এক্ষেত্রে ২-৩ মিনিটের জন্য থেমে যেতে হবে। সেই সময়টায় মন দিতে হবে নানা ধরনের Foreplay-তে। চুম্বন, আলিঙ্গন, পরস্পরের প্রশংসা, শরীরের নানা জায়গা স্পর্শের মধ্যে দিয়ে নতুন করে তৈরি করতে হবে সুখাবেশ। তা হলেই আবার বেশ কিছুক্ষণ Penetration-এর জন্য শরীর তৈরি হবে। ইচ্ছা মতো নিয়ন্ত্রণ করা যাবে বীর্যস্খলনের বিষয়টিকে।

Squeeze System: লিঙ্গ চালনা করতে করতে যখন আপনার মনে হবে যে, এই বুঝি বীর্যপাত হয়ে গেল, ঠিক তখন‌ই আপনার সঙ্গীর দ্বার/আপনি নিজেই দৃঢ়ভাবে আপনার লিঙ্গের গলায় চেপে ধরে থাকুন যতক্ষণ না আপনার Erection দুর্বল হতে শুরু করে। এভাবে কিছুক্ষণ চেপে ধরে থাকলে মনে হবে যেন বীর্য নিচের দিকে নেমে গেছে। এরপরে আপনি আবার লিঙ্গ চালনা শুরু করতে পারেন। এই পদ্ধতি আপনি দুই থেকে তিনবার করতে পারেন।

Start-and-Stop এবং Squeeze পদ্ধতি দুটি খুবই সূক্ষ্ম বিষয়। বারবার Practice করার মাধ্যমে এগুলো অর্জন করতে হবে। 

এই দুই ধরনের টেকনিক অবলম্বন করার আগে আপনাকে Gentle Push দিয়ে শুরু করতে হবে। কোনভাবেই তাড়াহুড়া করে Push করা যাবে না। শুরুতেই তাড়াহুড়া করে Push করলে খুব দ্রুতই বীর্য আসতে পারে।

এই অধ্যায়ের সবচাইতে যেটা Turning Point মনে রাখতে হবে যে, যদি বীর্য সেই রকম ভাবে একবারে এসে যায়, তাহলে কিন্তু আর আটকাতে পারবেন না, সুতরাং নিয়ম হচ্ছে পর্যাপ্ত Foreplay করার পরে স্ত্রীর Orgasm হয়ে গেলে অথবা হ‌ওয়ার উপক্রম হলে এর পরে আপনি লিঙ্গ প্রবেশ করে Gentle Push করবেন এবং বীর্য সেইরকম ভাবে আসার অনেক আগে থেকেই উপরের টেকনিক গুলি একটা একটা করে ধীরে ধীরে অবলম্বন করবেন, তাহলে আশা করা যায় নিজেদের চাহিদা মত বীর্য ধরে রাখতে পারবেন এবং সুখকর যৌন মিলন উপভোগ করতে পারবেন।

এই পদ্ধতিগুলি অবলম্বন করতে গেলে নিজের একটু কষ্ট মনে হলেও সঙ্গিনীর সুখের দিকে চিন্তা করে এটা মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করুন। মনে রাখবেন ২-৩ বারের বেশি এগুলো প্রয়োগ করবেন না তাতে হিতে বিপরীত হতে পারে। আর এটাও মনে রাখবেন যে, উপরে দেখানো পদ্ধতির মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান না হলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

যৌন সমস্যা ও তার প্রতিকার।
দ্রুত বীর্যপাত কি ভালো হয়?

অনেকে বিভিন্ন ধরনের যৌন সমস্যায় ভুগছেন। কিন্তু প্রাথমিক পর্যায়ে বুঝতে পারছেন না এবং এমন একটা সময় যাচ্ছে, যখন আসলে চিকিৎসা হলেও সেটা সারিয়ে তোলা সম্ভব হয় না অনেক ক্ষেত্রে। তাই সময় থাকতে সাবধান হতে হবে।

তথ্যসূত্র:

  • যৌন বিশেষজ্ঞ পল্লবী বার্নওয়াল, নিউজ ১৮ বাংলা।
  • ইউএস বাংলা মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হসপিটালের চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মেহরান হোসেন, এনটিভি।
  • ডা. মোঃ মুরাদ হোসেন, ডার্মাটোলজিস্ট ও এস্থেটিক সার্জন, কনসালটেন্ট, চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগ, কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল, উত্তরা, ঢাকা, Sebaghar.
  • Dr .A.M.Fariduzzaman, Consultant Psychiatrist, LifeSpring TV.
  • healthline.com
  • Start Up Bd
  • healthinside.in
  • Edited: Natural_Healing.

কোন মন্তব্য নেই

Popular Post

Blogger দ্বারা পরিচালিত.