চুল পড়া যখন চিন্তার কারণ! যেভাবে চুল পড়া বন্ধ করবেন?
চুল পড়া খুব সাধারণ একটি সমস্যা। নারী-পুরুষ উভয়ই এ সমস্যা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় ভোগে। তবে অল্পমাত্রার চুল পড়া স্বাভাবিক। মাত্রাতিরিক্ত চুল পড়লে এবং বিষয়টি টাকের পর্যায়ে চলে গেলে চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন। প্রথমেই জানা প্রয়োজন, বিশেষজ্ঞদের মতে, সারাদিন কয়েকটি চুল পড়া স্বাভাবিক। কিন্তু অতিরিক্ত চুল পড়ার সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি (৫০ থেকে ১০০টি চুল পড়া স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ার অংশ)। চুল আঁচড়ানোর সময় চিরুনিতে চুল দেখেই আঁতকে ওঠার কোনো দরকার নেই। চুল প্রতি মাসে আধা ইঞ্চি করে বড় হয়। স্বাভাবিকভাবে একটি চুল দুই থেকে চার বছর পর্যন্ত বড় হতে থাকে। এরপর বৃদ্ধি কমে যায়। সাধারণত সবার ক্ষেত্রেই খুশকি বড় সমস্যা।
![]() |
| পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত যত্নও নিতে হবে চুলের। |
কী কারণ:
চুলের প্রধান সমস্যা অকালে চুল পড়ে যাওয়া। তরুণ-তরুণীরা এ নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন। যুবক বয়সে এর প্রধান কারণ অ্যান্ড্রোজেনিক অ্যালোপেসিয়া বা টাক। এটি জেনেটিক কারণে হয়ে থাকে। চুলপড়ার ৮০-৯০ ভাগ কারণ অ্যান্ড্রোজেনিক অ্যালোপেসিয়া
চুল পড়ার আরেকটি কারণ অটো ইমিউন ডিজিজ, অ্যালোপেসিয়াও তার মধ্যে একটি। এন্টিজেন অ্যান্টিবডির রিঅ্যাকশনে চুল পড়ে যায়। মেয়েদের জরায়ুতে টিউমার বা সিস্ট হলে চুল পড়ে। চুলের মাথার ত্বকে ফাংগাস ইনফেকশন থেকে চুল পড়ে যায়। বয়সকালেও চুল পড়ে যায়। আবার অনেক সময় কষ্টকর বা ক্রাশ ডায়েটের কারণেও চুল ঝরে পড়তে পারে। এছাড়া অ্যান্ড্রোজেন হরমোনের কারণেও চুল পড়ে।
অ্যালোপেশিয়া: যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা এনএইচএস বলছে, সাধারণভাবে মাথার চুল পড়ে যাওয়াকে চিকিৎসা শাস্ত্রের ভাষায় অ্যালোপেশিয়া বলে। সত্তর বছর বয়সী নারীদের অন্তত ৪০ শতাংশ এ রোগে ভোগেন যাতে দেখা যায় তাদের মাথার সামনের অংশের চুল পাতলা হয়ে গেছে।
এনএইচএস বলছে, দৈনিক যে হারে চুল পড়া স্বাভাবিক, তার চেয়ে বেশি চুল পড়ে গেলে এবং একই অনুপাতে নতুন চুল না গজালে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, তাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় অ্যালোপেশিয়া বলা হয়।
দৈনিক ৫০-১০০টি চুল পড়া স্বাভাবিক বলে বর্ণনা করছে এনএইচএস। কিন্তু চুল পড়ার পর নতুন চুল না গজালে মাথার বিভিন্ন জায়গায় বা সম্পূর্ণভাবে টাক পড়ে যেতে পারে। সেটিও এ রোগের কারণেই হয়। এই মূহুর্তে বিশ্বে প্রায় ১৪ কোটিরও বেশি মানুষের অ্যালোপেশিয়া অর্থাৎ পূর্ণ অথবা আংশিক টাক রয়েছে।
কী দেখলে বুঝবেন অ্যালোপেশিয়া হয়েছে?
সাধারণত মাথার চুল পড়তে শুরু করে একটা নির্দিষ্ট বয়সের পরে। এক্ষেত্রে একেকজনের একেক সময়ে সেটি শুরু হয়। চুল পড়ার ধরনও হয় প্রত্যেকের ক্ষেত্রে আলাদা, কারও বেশি, কারও কম। কিন্তু অ্যালোপেশিয়া হলে স্বাস্থ্যবান লোকের মাথা বা শরীরের চুল হঠাৎ পড়ে যেতে শুরু করে এবং ধারাবাহিকভাবে পড়তে থাকে। কখনো একটি নির্দিষ্ট জায়গার চুল পড়ে, কখনো আবার পুরো মাথা থেকে সব চুল পড়ে যায়। কখনো বা ভুরু বা চোখের পাপড়িসহ সারা শরীরের লোমও পড়ে যায়। যেকোন বয়সের নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই এ রোগের শিকার হতে পারেন, এমনকি শিশুদেরও হতে পারে।
বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালের কনসালটেন্ট ডা. ফারজানা আখতার বলছেন, অ্যালোপেশিয়া বিভিন্ন ধরন আছে। সে কারণে ভিন্ন ভিন্ন উপসর্গ দেয়া দেয়, একেকজনের জন্য সেটি একেক রকম হতে পারে।
তিনি বলেন, হঠাৎ যদি লক্ষ্য করেন তার চিরুনি ভর্তি করে অস্বাভাবিকভাবে চুল পড়তে শুরু করেছে, বিছানা-বালিশ ভরে যাচ্ছে ঝরে যাওয়া চুলে, মাথায় এক বা একাধিক জায়গায় এক সেন্টিমিটার থেকে পাঁচ সেন্টিমিটার এলাকার চুল একসাথে খালি হয়ে গেছে, কিংবা মাথার সামনের অংশ দ্রুত খালি হচ্ছে - তাহলে তার চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।
![]() |
| অ্যালোপেশিয়া হলে মাথার বিভিন্ন দিকে বিভিন্নভাবে চুল পড়া শুরু হয়। |
কেন হয় এ রোগ?
নানা কারণে চুল পড়ে যাওয়ার সমস্যা হতে পারে। চুল পড়ার সমস্যা কখনো সাময়িক ব্যাপার হতে পারে, আবার কখনো স্থায়ী টাকও হয়ে যেতে পারে। কেউ কেউ বংশগতভাবে টাক মাথার হন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চুল পড়া একটি স্বাভাবিক শারীরিক প্রতিক্রিয়া, ফলে স্বাভাবিক চুল পড়ার হার দেখে উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত।
ডা. ফারজানা আখতার বলছেন, কখনো অত্যধিক চুল পড়া হতে পারে অন্য কোন শারীরিক অসুস্থতার লক্ষণ, অর্থাৎ শরীরে কোন ঘাটতির কারণে চুল পড়া শুরু হতে পারে। দীর্ঘদিন কোন রোগে ভুগলেও তা হতে পারে। যেসব কারণে চুল পড়তে পারে তার মধ্যে রয়েছেঃ
- অসুস্থতা বা দীর্ঘমেয়াদী রোগভোগ,
- মানসিক চাপ,
- ওজন হ্রাস,
- আয়রনের ঘাটতি,
- ভিটামিন বি এবং ডি এর অভাব,
- কোভিডে আক্রান্ত হওয়া,
- প্রোটিনের অভাব,
- মাথায় খুশকি,
- মানসিক অবসাদ ও বিষাদ,
- ক্যান্সারের চিকিৎসা,
- কোন কারণ ছাড়াও পড়তে পারে চুল।
- প্রতি পাঁচ জন অ্যালোপেশিয়া রোগীর মধ্যে একজনের পরিবারের অন্য সদস্যের এই সমস্যা আছে,
- এটি হঠাৎ করে শুরু হয়, কখনো একেবারে কয়েকদিনের মধ্যে,
- যাদের অল্প বা হাতে গোনা কয়েকটি জায়গার চুল পড়ে যাচ্ছে, কখনো হঠাৎ করেই সে জায়গায় চুল গজাতে শুরু করতে পারে,
- চুল পড়ার স্থায়ী এবং দ্রুত কোন সমাধান নেই।
হরমোন: অ্যান্ড্রোজেনিক হরমোন নারীর চুল পড়া ও পুরুষের টাকের সবচেয়ে বড় কারণ। এই হরমোন সাধারণত পুরুষের শরীরে বেশি পরিমাণে থাকে। যাদের শরীরে এই হরমোনের প্রভাব বেশি, তাদেরই বেশি করে চুল পড়ে। নারীর মেনোপজের সময় ও পরে অ্যান্ড্রোজেনিক হরমোন আনুপাতিক হারে বেড়ে যায়। তখন হঠাৎ চুল বেশি করে পড়তে শুরু করে। এ ক্ষেত্রে খুব বেশি করণীয় থাকে না। তবে সমস্যা বেশি মনে করলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন।
অ্যান্ড্রোজেনিক হরমোন ছাড়াও থাইরয়েড হরমোনের মাত্রা কম বা বেশি হলে, গর্ভাবস্থায় এবং বাচ্চার জন্মের পর মায়ের শরীরে হরমোনের ভারসাম্য পরিবর্তিত হয় বলে তখন চুল বেশি পড়ে। গর্ভাবস্থায় ও স্তন দানকালে হরমোনের একটিভিটি বেড়ে যায় বলে এ সময়ও চুল পড়ে যায়। হরমোনের এ পরিবর্তন আবার আগের অবস্থায় ফিরে গেলে পুনরায় চুল গজায়।
ছত্রাক: ছত্রাকের সংক্রমণ বা খুশকি হলো চুল পড়ার অন্যতম কারণ। তাই চুল ভেজা রাখা যাবে না। প্রয়োজনে ছত্রাকরোধী শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হবে। ছত্রাকরোধী শ্যাম্পু ব্যবহারকালে অন্য শ্যাম্পু ব্যবহারের কোনো প্রয়োজন নেই। শ্যাম্পু সপ্তাহে কয়বার বা কত দিন ব্যবহার করতে হবে, তা নির্ভর করে খুশকির তীব্রতার ওপর। ওষুধও খেতে হতে পারে। সংক্রমণ ভালো হয়ে গেলে চুল আবার গজায়।
পুষ্টির অভাব: শরীরের পুষ্টির ওপর চুলের স্বাস্থ্য নির্ভর করে। দৈনিক খাদ্যতালিকায় প্রোটিন, শর্করা, চর্বি, খনিজ ও ভিটামিন পরিমিত পরিমাণে না থাকলে চুল পড়ে যায়। এ ছাড়া শরীরে দীর্ঘদিন কোনো একটি উপাদানের অভাবে চুল পড়ে যায়। আবার যাঁরা না খেয়ে অতিরিক্ত ডায়েট করেন, তাঁদেরও পুষ্টিহীনতা হয়ে চুল অতিরিক্ত পড়তে পারে। তাঁদের প্রত্যেকের উচিত নিয়মিত সুষম খাবার খাওয়া।
মানসিক দুশ্চিন্তা: দুশ্চিন্তায় ভুগলে বা মানসিক সমস্যা থাকলে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি চুল পড়তে পারে। তবে এ চুল পড়া সাময়িক এবং পুনরায় চুল গজায়। দীর্ঘদিন মানসিক দুশ্চিন্তায় থাকলে বা দুশ্চিন্তা কাটিয়ে উঠতে না পারলে অনেক বেশি চুল পড়ে যেতে পারে।
Covid -19: করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর বেশি বেশি চুল পড়তে পারে। তবে এটা সাময়িক। পুষ্টিকর খাবার, পর্যাপ্ত পানীয় পান করলে ধীরে ধীরে এই চুল পড়া স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
কেমোথেরাপি: ক্যানসার চিকিৎসায় কেমোথেরাপি দেওয়ার পর চুল উঠে যায়। কেমোথেরাপির প্রথম ডোজ দেওয়ার দু-তিন সপ্তাহ পর চুল পড়ে এবং সর্বশেষ ডোজের তিন থেকে চার মাস পর পুনরায় চুল গজানো শুরু হয়।
বিশেষ কোনো স্টাইল: চুলের বিশেষ কোনো স্টাইলের জন্য যদি দীর্ঘদিন খুব টেনে চুল বাঁধা হয় বা টাইট করে খোঁপা বা ব্যান্ড করা হয়, তবে এ ধরনের চুল পড়া শুরু হতে পারে। খুব বেশি পরিমাণে চুল রঙিন করার প্রসাধন, চুল সোজা করা বা ক্রমাগত রিবন্ডিং করলে চুল পড়ার হার বেড়ে যায়। কিছু ক্ষেত্রে আবার চুল ওঠে, কিংবা অনেক সময় হেয়ার ফলিকলের স্থায়ী ক্ষতি হয়ে গেলে চুল আবার না-ও গজাতে পারে।
বিশেষ কিছু অসুখে: কিছু অসুখে, যেমন অ্যানিমিয়া, টাইফয়েড, জন্ডিস, ম্যালেরিয়া, ডায়াবেটিস ইত্যাদিতে চুল পড়ে যেতে পারে। অনেক সময় অসুখ ভালো হওয়ার পরও চুল আর আগের অবস্থায় ফেরে না। তাই অসুখের সঠিক চিকিৎসা করাতে হবে।
এছাড়াও ধুলাবালু, বায়ুদূষণ ও আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণেও চুল পড়ার হার বেড়ে যায়।
কারণ বুঝে যেভাবে চুল পড়া বন্ধ করবেন?
মাথা থেকে রোজই কিছু-না-কিছু চুল ঝরে। আবার স্বাভাবিক নিয়মে তা পূরণ হয়ে যায়। কিন্তু সেটা একটু বাড়তি হলেই দুশ্চিন্তা ও হতাশার দিকে নিয়ে যেতে পারে। ক্লিনিকগুলোতে ত্বক বিশেষজ্ঞরা দেখছেন, মানুষের নিয়মিত উদ্বেগগুলোর একটি হচ্ছে এই অতিরিক্ত চুল পড়া। সমস্যাটি উত্তরণে বিশেষজ্ঞদের দ্বারস্থ হওয়ার মাত্রা গত কয়েক বছরে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। কেন বাড়তি চুল ঝরছে? কেন এভাবে চুল ঝরছে, তা জানাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। চুল কোষের নিজস্ব একটি জীবনচক্র আছে। এটির বৃদ্ধির পর্ব, স্থায়িত্ব ও পরবর্তী সময়ে ঝরে যাওয়া। কিন্তু কখনও কখনও সেই জীবনচক্র বিঘ্নিত হতে পারে। মানসিক চাপ, নিম্নমানের জীবনযাত্রা, সুষম খাবারের অভাব, ঠিক সময়ে না-ঘুমানো কিংবা অপর্যাপ্ত ঘুমেও চুল পড়ে যেতে পারে। এ ছাড়া হরমোনের ভারসাম্যহীনতা ও প্রচুর ভ্রমণ চুল কোষের জীবনচক্র সমস্যা তৈরি করতে পারে। বড় একটা সময় ধরে চুল ঝরলে তাতে দীর্ঘস্থায়ী চুল খোয়াতে হবে। আর চুল ঝরা তীব্রতর হলে স্বল্প সময়ে চুল হারাতে হতে পারে। এমনটা নিয়মিত ঘটলে মাথা খালি হয়ে টাক পড়ে যাবে। ভিটামিন বি১২, ভিটামিন ডি৩ ও আয়রনের ঘাটতি কিংবা রক্তশূন্যতা, হরমোন ভারসাম্যহীনতা বা ইনসুলিন নিরোধক, পিসিওএস (পলিসিসটিক ওভারিয়ান সিনড্রম, থাইরয়েড ঘাটতি কিংবা মানসিক চাপ বৃদ্ধি ও সেই সময়টা পার হওয়ার পরে, রোগাক্রান্ত হওয়া কিংবা গর্ভাবস্থার পরে) চুল ঝরে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে এ অবস্থা থেকে বাঁচতে পরীক্ষা করতে হবে। এ সব ঘাটতি ও ভারসাম্যহীনতা দূর করার পরে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মাথায় রাখতে হবে। বাদাম, খেজুর, ডুমুর, শস্যবীজ, রঙিন শাক-সবজি, সবুজ-হলুদ-কমলা-লাল রঙের একটি করে ফল খাদ্যতালিকায় অবশ্যই থাকতে হবে। এ ছাড়া একবাটি দই, ডিম, মাংস, পনির ও দুধের মতো ভারসাম্যপূর্ণ প্রোটিন রাখা যেতে পারে। কাজের চাপ ও ব্যস্ততায় অনেক ক্ষেত্রে সুষম খাদ্যতালিকা বজায় রাখা অসম্ভব হয়ে পড়ে। সে ক্ষেত্রে পুষ্টিবিদের কাছে যেতে হবে। তার পরামর্শে একটি খাদ্যপরিকল্পনা বানিয়ে সেই মোতাবেক চলতে হবে। কী খেতে হবে, কী পরিমাণ ও কখন– চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে– তা জেনে নিতে হবে। এই খাদ্যপরিকল্পনা চুল গজানো ও বাড়াতে সহায়ক হতে পারে, চুল পাতলা হয়ে যাওয়া থেকে সুরক্ষা দিতে পারে ও নতুন করে গজিয়ে মাথার চুল আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারে। একইভাবে ঘুমও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষ করে রাত ১২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত সময়টা– যখন শরীর সেরে ওঠে ও আরোগ্য লাভ করে। রক্তসঞ্চালন বাড়াতে শরীরচর্চা করা যেতে পারে। এতে প্রতিটি কোষ সমানভাবে অক্সিজেন পাবে। বিশেষ করে পিসিওএস (পলিসিসটিক ওভারিস), হরমোন ভারসাম্যহীনতা ও থাইরয়েড সমস্যায় গ্লাইসেমিক সূচক কম রাখতে গেলে ব্যায়ামের বিকল্প নেই। কোনো খাবার রক্তে শর্করা কতটা বাড়াতে পারে, এই সূচক তার নির্ধারক। কী উচিত, কী উচিত না চুল পড়া বন্ধে এরপর জানতে হবে, কী করা উচিত ও কী উচিত না। মাথা কখনোই গরম পানিতে ধোয়া কিংবা ঘষা-মাজা করা যাবে না। তেল দিয়ে মালিশ করতে হবে, এতে চুল চকচকে ঔজ্জ্বল্য ফিরে পাবে। কিন্তু সেটা অতিরিক্ত করা যাবে না। চুল পড়া বন্ধে বা চুলের যত্নে অবশ্যই নিয়মিত তেল ব্যবহার করতে হবে। এ ক্ষেত্রে নারকেলের তেল ব্যবহার করতে পারেন। চুল মসৃণ ও স্বাস্থ্যবান করে তুলতে নারকেলের তেলের জুড়ি মেলা ভার। নারকেলের তেলের অ্যান্টি–ব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য চুলকে ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাকের আক্রমণ থেকে রক্ষা করে।
এফডিএ অনুমোদিত মিনোক্সিডিল লোশন প্রতিদিন ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।
পিআরপি থেরাপি চুল পড়া রোধে কিংবা নতুন চুল গজানোর আধুনিক কার্যকরী পদ্ধতি। এতে রোগীর কাজ না হলে হেয়ার ট্রান্সপ্লান্টেশন করা হয়।
বাড়তি শ্যাম্পুর ব্যবহারও চুল হারানোর কারণ হতে পারে। চুল ধুইতে হবে ডিটারজেন্টমুক্ত শ্যাম্পু দিয়ে। চুল ধুতে রাসায়নিক উপাদানযুক্ত শ্যাম্পু পরিহার করে প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি শ্যাম্পু ব্যবহার এবং শ্যাম্পু করার পর অবশ্যই কন্ডিশনার ব্যবহার করতে হবে। চুল ঝরা শুরু হলে সেলুনে গিয়ে মালিশ কিংবা স্পার মতো ভারী বিষয়গুলো এড়িয়ে চলতে হবে। চুল পড়া বন্ধ হওয়ার পরই কেরাটিন কিংবা সিস্টাইন জটিলতার চিকিৎসা করা যাবে। আজকের দিনে অহরহ সালফেটমুক্ত শ্যাম্পু উৎপাদন হচ্ছে। এটি মাথার ত্বকে কম প্রদাহ সৃষ্টি করে। আর অতিরিক্ত চুল পড়া বন্ধ করতেও সহায়ক এই শ্যাম্পু। গোসলের পর চুলের গোড়া নরম হয়ে যায়, এ সময় জোরে চাপ দিয়ে চুল মুছলে কিংবা আঁচড়ালে চুল পড়া ও ভেঙে যাওয়ার হার অনেকাংশে বেড়ে যায়। অনেকেই চুল শুকাতে হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করেন। ড্রায়ারের গরম বাতাস চুলের জন্য ক্ষতিকর। চুলে গরম বাতাস বা কোনো ধরনের তাপ নেওয়া যাবে না, এতে চুল পড়া বেড়ে যাবে।
প্রতিদিন চুল ধোবেন না। প্রতিদিন চুলে পানি লাগাবেন না। দুই দিন পর একদিন চুল ধুয়ে ফেলুন শ্যাম্পু দিয়ে। স্ট্রেস কমাতে হবে। সম্পর্ক, চাকরি বা আর্থিক বিষয়ে স্ট্রেস, চুলের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। স্ট্রেস কমাতে পারলে চুল সুস্থ হয়ে উঠবে। এর জন্য ইয়োগা বা মেডিটেশন করে দেখতে পারেন।
- প্রথমে চুল পড়ার কারণ বের করতে হবে। জানতে হবে, এটা কি চিকিৎসা, জিনগত, হরমোন নাকি অসুস্থতা পরবর্তী কারণে ঘটছে। এরপর সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
- দ্বিতীয়ত, স্বাস্থ্যকর ও শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনে অভ্যস্ততা গড়তে হবে।
- তৃতীয়ত, খাবার ও চুলের ভিটামিন অবশ্যই সুষম হতে হবে।
- চতুর্থ, নতুন চুল গজাতে মাইনক্সিডিল লোশন ব্যবহার করা লাগতে পারে। রোজ রাতে আঙুলের ডগা দিয়ে মাথার তালু হালকা মালিশ করতে হবে।
- পঞ্চম, চুলের সঠিক পণ্যটি ব্যবহার করতে হবে। যাচ্ছে-তাই জিনিস এড়িয়ে চলতে হবে।
- ষষ্ঠ, চুল পড়া শুরু হওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে ত্বক বিশেষজ্ঞের কাছে যেতে হবে। তার পরামর্শমাফিক চলতে হবে। তবেই স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে চুল।
কেন চুল পড়ছে, এটি জানতে হলে প্রথমেই জানতে হবে আপনি কী খাচ্ছেন?
অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস চুল পড়ার অন্যতম কারণ। নিয়মিত পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে, পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করতে হবে, ডিম, দুধ, সামুদ্রিক মাছ ও ভিটামিন-ই যুক্ত খাবার চুলের জন্য খুবই উপকারি। প্রচুর পরিমাণে প্রোটিনসমৃদ্ধ ও আঁশজাতীয় খাবার খেতে হবে। শাকসবজি ও তাজা ফল খান প্রতিদিন। ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডযুক্ত খাবার রাখুন। অ্যাভোকাডো, ডিম, গাজর এগুলো থেকে পাবেন এই উপাদান। ভিটামিন সি এবং বায়োটিনের মতো কিছু ভিটামিন চুলের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করে। এই ভিটামিন খাবার থেকেও নিতে পারেন বা ভিটামিন ট্যাবলেট খেতে পারেন। খেতে পারেন লেবু জাতীয় ফল, ব্রকোলি এবং পালং শাক। এতে চুল উঠা বন্ধ হবে। চুল পড়া রোধে মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া এবং দুশ্চিন্তামুক্ত থাকা জরুরি। যেকোনো ওষুধ গ্রহণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। তবেই চুল পড়া রোধ বা কমানো সম্ভব। শরীর সুষম খাবার না পেলে ফিডব্যাক কখনোই ভালো দেবে না; বরং তৈরি হতে পারে হরমোনাল ইমব্যালেন্স। তাই চুল সুস্থ রাখতে চাইলে সুস্থ থাকতে হবে ভেতর থেকে।
অতিরিক্ত চুল পড়া বন্ধের ঘরোয়া সমাধান:
চুল কেরাটিন নামে একরকম প্রোটিন দিয়ে তৈরি ও ৯৭ শতাংশ প্রোটিন ও ৩ শতাংশ পানি রয়েছে। চুলের যেটুকু আমরা দেখি, সেটি মৃত কোষ। নানা কারণেই চুলে সমস্যা দেখা দেয়। এই সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়ার আগে চুল পড়ার কারণ জানতে হবে, তারপর সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে হবে।
নিয়মিত চুল পরিষ্কার করুন: কেমিক্যাল ছাড়া যেকোনও মাইল্ড শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। নোংরা জমে খুশকির সমস্যাও দূর হবে এক্ষেত্রে।
ভেজা চুল চিরুনি দিয়ে না আঁচড়ানোই উচিত। চুলের বিশেষ যত্ন নিতে কাঠের চিরুনি ব্যবহার করুন।
অতিরিক্ত চুল পড়ার সমস্যা থাকলে সপ্তাহে একদিন রোজমেরি ওয়েল দিয়ে ম্যাসাজ করুন। দুই ঘণ্টা রেখে তারপর শ্যাম্পু ব্যবহার করুন।
শরীর ভিতর থেকে হাইড্রেটেড রাখুন: ভিতর থেকে সুস্থ থাকলে, ত্বক, চুলের বহু সমস্যার সমাধান হয়। দিনে ৩ লিটার পানি খাওয়ার অভ্যাস করুন।
ডায়েট এবং এক্সারসাইজের উপরেও জোর দিন। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখুন ফল, সবজি, প্রোটিন জাতীয় খাবার। নিয়মিত এক্সারসাইজ করুন। এর ফলে স্ট্রেস কমবে এবং চুল পড়াও বন্ধ হবে।
বাজারচলতি প্রোডাক্টের বদলে, ঘরোয়া পদ্ধতিতে তৈরি হেয়ার প্যাক ব্যবহার করুন। এর ফলে চুল আরও ঘন, উজ্জ্বল দেখাবে যেমন;
আলুর রস: চুলের সাধারণ সমস্যায় ব্যবহার করতে পারেন আলুর রসের হেয়ার প্যাক। এতে চুল কমবে, চুল দ্রুত বাড়বে, পাশাপাশি ঝলমলে ও মজবুত হবে। আর চুল পড়া বন্ধ করতেও আলুর রস ভালো কাজ করে।
আসুন জেনে নিই যেভাবে ব্যবহার করবেন আলুর রস-
- আলুর রস চুলের গোড়ায় লাগিয়ে কিছুক্ষণ ম্যাসাজ করে অপেক্ষা করুন। আধা ঘণ্টা পর কুসুম গরম পানি ও শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
- অর্ধেকটি আলু রস করে ২ টেবিল চামচ নারকেল তেল মিশিয়ে চুলের গোড়ায় ম্যাসাজ করুন। ৩০ মিনিট পর মাইল্ড শ্যাম্পু ব্যবহার করে ধুয়ে ফেলুন।
- একটি আলু ও একটি পেঁয়াজ রস করে একসঙ্গে মেশান। মিশ্রণটি চুলের গোড়ায় লাগিয়ে রাখুন। ২০ মিনিট পর ভেষজ শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
- ৩টি আলু রস করে একটি ডিমের কুসুম ও ১ চা চামচ মধু দিয়ে মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি চুলের আগা থেকে গোড়া পর্যন্ত লাগিয়ে রাখুন। ৪০ মিনিট পর ভেষজ শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে নিন।
পেঁয়াজের রস: চুল পড়া বন্ধে পেঁয়াজের রস দারুণ কাজ করে। শুধু চুল পড়া বন্ধ হবে, তাই নয় নতুন চুল গজাবেও। গোসলের এক ঘণ্টা আগে পেঁয়াজের রস চুলের গোঁড়ায় ঘষে ঘষে লাগান। এরপর ভেষজ শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
মেহেদী, ডিমের সাদা অংশ ও টকদই: মেহেদীর নির্যাস চুলের জন্য অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর, ডিম মাথার ত্বকে সঠিক পুষ্টি যোগাতে সহায়তা করে এবং টকদই চুল ও মাথার ত্বক ময়েশ্চারাইজ করে চুল পড়া বন্ধের সহায়তা করে। এক্ষেত্রে মেহেদী পাতা বাটা বা গুঁড়ো চুলের ঘনত্ব ও লম্বা অনুযায়ী নিন। এতে মেশাম একটি ডিমের সাদা অংশ এবং দুই টেবিল চামচ টকদই। যদি চুল অনেক শুষ্ক হয় তাহলে ভিটামিন ই ক্যাপস্যুল দিয়ে ভালো করে হেয়ার প্যাক তৈরি করে নিন। এই প্যাকটি চুলের গোঁড়া থেকে আগা পর্যন্ত ভালো করে লাগিয়ে নিন এবং প্রায় দুই ঘণ্টা পর চুল ভালো করে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিন। এই পদ্ধতিটি সপ্তাহে মাত্র একবার ব্যবহার করলেই চুল পড়া অনেকাংশে কমে যাবে।
অলিভ অয়েল, মধু ও দারুচিনি: পাঁচ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল, এক চামচ দারুচিনি গুঁড়ো এবং তিন টেবিল চামচ মধু ব্যবহার করে আপনি একটি হেয়ার মাস্ক তৈরি করতে পারেন। অলিভ অয়েল ও মধু একসাথে গরম করে নিন। এতে দারুচিনি গুঁড়ো দিয়ে মিহি পেস্ট তৈরি করে নিন। এই মাস্ক মাথার তালুতে এবং চুলের গোড়ায় মাসাজ করে নিন। বাকি থাকলে তা চুলে মাখিয়ে নিন। এভাবে রাখুন ৪০ মিনিট। এরপর হালকা শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
অ্যাপল সাইডার ভিনেগার: চুল, ত্বক ও স্বাস্থ্যের উপকারে দারুণ একটি উপকরণ অ্যাপল সাইডার ভিনেগার। এতে প্রচুর পরিমাণে অ্যাসিটিক এসিড থাকে। এক কাপ পানির সাথে ২-৪ টেবিল চামচ অ্যাপল সাইডার ভিনেগার মিশিয়ে তা দিয়ে চুল ধুয়ে নিন। এরপর চুলে শ্যাম্পু করে ফেলুন। এতে চুল পড়া কমে যাবে।
আমলকী: চুলের গোঁড়ায় আমলকীর তেল ঘষে ঘষে লাগান। আধা ঘণ্টা রাখুন; তারপর শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
মেথি: আধা কাপ মেথি সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। সকালে বেটে চুলে লাগান। ১ ঘণ্টা পর মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
ডিমের কুসুম: ডিমের কুসুম ভালো করে ফেটিয়ে নিন। চুলের গোঁড়ায় গোঁড়ায় তা লাগান। এরপর ৩০ মিনিট অপেক্ষা করে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
নারকেল তেল: নারকেল তেল সামান্য গরম করে চুলের গোঁড়ায় ম্যাসাজ করুন। ১ ঘণ্টা রেখে ধুয়ে ফেলুন।
এসেনশিয়াল অয়েল: টি ট্রি অয়েল, ল্যাভেন্ডার অয়েল বা রোজমেরি অয়েল ব্যবহার করুন নিয়মিত। শ্যাম্পু অথবা হেয়ার প্যাকের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা মিশিয়ে ব্যবহার করুন এসব এসেনশিয়াল অয়েল।
হট অয়েল ট্রিটমেন্ট: কয়েক ধরনের তেল একসঙ্গে মিশিয়ে গরম করে নিন। কুসুম গরম তেল চুলে ম্যাসাজ করুন। একটি তোয়ালে গরম পানিতে ডুবিয়ে নিংড়ে নিন। চুল জড়িয়ে রাখুন গরম তোয়ালে দিয়ে। ১৫ মিনিট পর তোয়ালে খুলে ১০ মিনিট অপেক্ষা করুন। চুল ধুয়ে ফেলুন ভেষজ শ্যাম্পু দিয়ে।
চুল পড়া ও তার সমাধান নিয়ে বিভিন্ন ডাক্তারের পরামর্শ দেখুন....
ডাক্তার - জাহাঙ্গীর কবীর এর পরামর্শ.
ডাক্তার তাসনিম যারা এর পরামর্শ. ২য় পরামর্শ
অধ্যাপক ডা. লে. কর্নেল মো. আব্দুল ওয়াহাবের পরামর্শ.
ডাক্তার মোঃ ইব্রাহিম এর পরামর্শ.
ডাক্তার জাহেদ পারভেজ এবং ডাক্তার জিনাত মেরাজের পরামর্শ.
ডাক্তার রেজা বিন জায়েদের পরামর্শ.
ডাক্তার আসিফুজ্জামান এর পরামর্শ.
ডাক্তার এস এম বখতিয়ার কামালের পরামর্শ. ২য় পরামর্শ
ডাক্তার জাহেদ পারভেজ এর পরামর্শ.
ডাক্তার এস এম বখতিয়ার কামাল এবং ডাক্তার তাওহিদা রহমান ইরিন এর পরামর্শ.
তথ্যসূত্র:
- অধ্যাপক ডা. মাসুদা খাতুন, চর্ম ও যৌনরোগ বিভাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, প্রথম আলো।
- ডা. নাদিয়া রুম্মান, প্রধান নির্বাহী (সিইও), অ্যাসথেটিক ডার্মাটোলজি অ্যান্ড লেজার কনসালটেন্ট, ড. এন অ্যাসথেটিকস, এবং
- আল-রাজী হাসপাতালের ত্বক ও যৌনব্যাধি বিশেষজ্ঞ ডা. দিদারুল আহসান, যুগান্তর।
- বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালের কনসালটেন্ট ডা. ফারজানা আখতার, বিবিসি বাংলা।
- টাইমস অব ইন্ডিয়া।
- সময় টিভি।
- একুশে টিভি।
- বাংলাদেশ প্রতিদিন।
- Edited: Natural_Healing.


কোন মন্তব্য নেই