First Aid Present

Lifestyle Modification এবং প্রাকৃতিক খাদ্য, পানীয়, শাকসবজি, গাছ, ডালপালা, ফল, মসলা, পাতা ও ফুল ইত্যাদির দ্বারা প্রাথমিক চিকিৎসা।

সমস্ত মানসিক রোগের মূল হলো Anxiety Disorder- প্রচন্ডউদ্বেগ মূলক ব্যাধি বা Anxious হ‌ওয়া এবং তার প্রতিকার

উদ্বেগ প্রত্যেককে বিভিন্ন উপায়ে প্রভাবিত করে। কখনও কখনও ভয় এবং আতঙ্কের অনুভূতিগুলি দূরে যায় না বা সময়ের সাথে আরও খারাপ হয়।  

Anxiety/Anxious- অতি উদ্বেগ বা দুশ্চিন্তা প্রত্যেক মানুষেরই আছে এবং থাকবে দুশ্চিন্তাহীন মানুষ বলে কিছু নেই দুনিয়াতে। প্রতিটা কাজের পেছনে যেমন একটু একটু দুশ্চিন্তা থাকে, না থাকলে কাজের সফলতা আসে না, তেমনি দুশ্চিন্তা যদি মাত্রা লেভেলে ছাড়িয়ে যায় তাহলে কাজের ফলাফল‌ও ভালো হয় না তাই, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে সেই Anxiety- দুশ্চিন্তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সেটিকে জীবনের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে হবে। কখনোই যেন এটি জীবনকে প্রভাবিত না করতে পারে। যদি এই দুশ্চিন্তা তার জীবনকে প্রভাবিত করে, তার সাফল্যের পথকে বাধাগ্রস্ত করে, তার কাজগুলোকে প্রভাবিত করে জীবনের বাধা হয়ে দাঁড়ায় তখন সে দুশ্চিন্তাকে মানসিক সমস্যা বা মনের রোগ বলে অভিহিত করা হয়। এই মনের রোগটাই হচ্ছে Tress- মনের চাপ বা Tension- দুশ্চিন্তা বা Anxiety Disorder-অতি উদ্বেগ বা উৎকণ্ঠা। এবং যখন এই Disorder হয় তখন একটি নয় অনেকগুলো রোগ‌ই শরীরে বাসা বাঁধে।

বাস্তবতাকে মানার চেষ্টা করুন, মনটাকে স্থির এবং শান্ত করুন, সব সময়ই নেগেটিভ বা না মূলক কথা বা কাজ থেকে দূরে থেকে হাঁ মূলক কথা বা কাজ করুন এবং পজেটিভ থাকুন। নিজের মনের উপরে নিয়ন্ত্রণ আনার চেষ্টা করুন।
এখানে, আপনি উদ্বেগ সম্পর্কে শিখতে পারেন, এটি কাকে প্রভাবিত করে এবং কীভাবে এটি পরিচালনা করতে হয়:

প্রশ্ন: Anxious- অ্যাংশাস- বিতৃষ্ণা বা ঘৃণা ভরা আতঙ্ক কি?

উত্তর: সাধারণত একটি আসন্ন ঘটনা বা অনিশ্চিত ফলাফল সহ কিছু সম্পর্কে উদ্বেগ, অস্বস্তি বা নার্ভাসনেস বা স্নায়বিক দুর্বলাবস্থা বা স্নায়ুচাপজনিত ভয় অনুভব করা।

প্রশ্ন: What is Anxiety- উদ্বেগ কি?

উত্তর: উদ্বেগ হল (Stress) মানসিক চাপের প্রতি আপনার শরীরের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। এটি কী হতে চলেছে সে সম্পর্কে ভয় বা শঙ্কার অনুভূতি। উদাহরণস্বরূপ, একটি চাকরির ইন্টারভিউতে যাওয়া বা স্কুলের প্রথম দিনে একটি বক্তৃতা দেওয়া কিছু লোককে ভয় এবং নার্ভাস বোধ করতে পারে।

কিন্তু যদি আপনার উদ্বেগের অনুভূতি চরম হয়, কমপক্ষে 6 মাস স্থায়ী হয় এবং আপনার জীবনে হস্তক্ষেপ করে, তাহলে আপনার উদ্বেগজনিত ব্যাধি থাকতে পারে।

প্রশ্ন: উদ্বিগ্ন হওয়ার সমস্যা বা ‘Anxiety Disorder’ বিষয়টি কী?

উত্তর: অতিরিক্ত উদ্বেগের সমস্যাকে অ্যাংজাইটি ডিজঅর্ডার বলা হয়। উদ্বেগমূলক ব্যাধি হল এক শ্রেণীর মানসিক ব্যাধি যার বৈশিষ্ট্য হল উদ্বেগ ও ভয়ের গুরুত্বপূর্ণ অনুভূতি। উদ্বেগ হল ভবিষ্যতের ঘটনাগুলির বিষয়ে দুশ্চিন্তা আর ভয় হল বর্তমান ঘটনাগুলির ওপরে প্রতিক্রিয়া।

সাধারণ ভাবে বলা চলে, উদ্বিগ্ন হওয়ার সমস্যা বা ‘অ্যাংজ়াইটি ডিসঅর্ডার’ জাতীয় রোগে রোগী অকারণে অত্যধিক চিন্তা করেন ও বিভিন্ন বিষয়ে অহেতুক ভয় পান। নানা রকম ভাবে এই ভয়ের বহিঃপ্রকাশ দেখা দিতে পারে। 

সাধারণ উদ্বেগমূলক ব্যাধি, সুনির্দিষ্ট ভীতি, সামাজিক উদ্বেগমূলক ব্যাধি, আলাদা হওয়ার উদ্বেগমূলক ব্যাধি, খোলা জায়গার প্রবল ভীতি, আতঙ্কজনিত ব্যাধি, ও সিলেক্টিভ মিউটিজম সহ অনেকগুলি উদ্বেগমূলক ব্যাধি আছে।

  • এই জাতীয় সমস্যা দেখা দিলে কেউ ভিড় জায়গায় যেতে ভয় পান। 
  • অনেকে আবার বদ্ধ জায়গায় থাকতে ভয় পান। 
  • কেউ কেউ অনেক লোকজনের সামনে কথা বলতে বা কোনও কাজ করতে ভয় পান। 
  • কেউ আবার বিশেষ কোনও জায়গায় যেমন, উঁচু জায়গা, জল, অন্ধকার ইত্যাদিকে ভয় পেতে শুরু করেন। 
  • অনেকে জীবজন্তুকে দেখে বা রক্ত দেখে বা বিশেষ কোনও ব্যাপারে ভয় পান। 
  • এই রোগের কারণে অনেকে জীবনে প্রায় সব পরিস্থিতিতেই অকারণে ভয় পান। 

একটি নতুন জায়গায় চলে যাওয়া, একটি নতুন কাজ শুরু করা বা একটি পরীক্ষা দেওয়ার বিষয়ে উদ্বিগ্ন বোধ করা স্বাভাবিক। এই ধরনের উদ্বেগ অপ্রীতিকর, তবে এটি আপনাকে আরও কঠোর পরিশ্রম করতে এবং আরও ভাল কাজ করতে অনুপ্রাণিত করতে পারে। সাধারণ উদ্বেগ এমন একটি অনুভূতি যা আসে এবং যায় কিন্তু আপনার দৈনন্দিন জীবনে হস্তক্ষেপ করে না। 

কিন্তু উদ্বেগজনিত ব্যাধির ক্ষেত্রে, ভয়ের অনুভূতি সর্বদা আপনার সাথে থাকতে পারে। এটি তীব্র এবং কখনও কখনও দুর্বল। এই ধরনের উদ্বেগের কারণে আপনি যা উপভোগ করেন তা করা বন্ধ করে দিতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, এটি আপনাকে লিফটে প্রবেশ করতে, রাস্তা পার হতে বা এমনকি চরম ক্ষেত্রে আপনার বাড়ি ছেড়ে যেতে বাধা দিতে পারে। যদি চিকিত্সা না করা হয় তবে উদ্বেগ আরও খারাপ হতে থাকবে। উদ্বেগজনিত ব্যাধি হল আবেগজনিত ব্যাধির সবচেয়ে সাধারণ রূপ এবং যে কাউকে প্রভাবিত করতে পারে। কিন্তু, আমেরিকান সাইকিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশনের মতে, পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের মধ্যে উদ্বেগজনিত ব্যাধি নির্ণয়ের সম্ভাবনা বেশি।

প্রশ্ন: Anxiety Disorder উদ্বেগ মূলক ব্যাধির লক্ষণ গুলো কি কি?

উত্তর: উদ্বেগ একটি স্বাভাবিক আবেগ। এটি আপনার মস্তিষ্কের মানসিক চাপের প্রতি প্রতিক্রিয়া দেখানোর এবং সামনের সম্ভাব্য বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করার উপায়। উদাহরণস্বরূপ, কর্মক্ষেত্রে কোনো সমস্যার সম্মুখীন হলে, পরীক্ষা দেওয়ার আগে বা কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আপনি উদ্বিগ্ন হতে পারেন। মাঝে মাঝে উদ্বেগ ঠিক আছে। কিন্তু উদ্বেগজনিত ব্যাধি ভিন্ন। এগুলি মানসিক রোগের একটি গ্রুপ যা ক্রমাগত এবং অপ্রতিরোধ্য উদ্বেগ এবং ভয় সৃষ্টি করে। অত্যধিক উদ্বেগ আপনাকে কাজ, স্কুল, পারিবারিক মেলামেশা এবং অন্যান্য সামাজিক পরিস্থিতি এড়াতে পারে যা আপনার লক্ষণগুলিকে ট্রিগার বা খারাপ করতে পারে। 

  1. উদ্বিগ্ন চিন্তা বা বিশ্বাস যা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন,
  2. আতঙ্কিত বস্তু বা স্থানগুলি তীব্রভাবে বা আবেশের সাথে এড়িয়ে চলা,
  3. একটি সমস্যা সম্পর্কে বারবার চিন্তা করা এবং থামাতে অক্ষম (গুজব),
  4. আতঙ্ক, ভয় এবং অস্বস্তি,
  5. আতঙ্ক, ধ্বংস বা বিপদের অনুভূতি,
  6. মনোযোগ দিতে সমস্যা,
  7. ঘুমিয়ে পড়তে অসুবিধা,
  8. স্থির হয়ে থাকতে না পারা,
  9. ঠাণ্ডা, অসাড়, বা হাত বা পা ঝিমঝিম করা,
  10. নিঃশ্বাসের দুর্বলতা, স্বাভাবিকের চেয়ে দ্রুত এবং আরও দ্রুত শ্বাস নেওয়া (হাইপারভেন্টিলেশন)
  11. ক্লান্তি,
  12. বিরক্তি,
  13. অব্যক্ত ব্যথা এবং যন্ত্রণা,
  14. সাধারণ ভাবে দেখা যায়, ভয়ের কারণে হাত-পা কাঁপতে থাকা, 
  15. বুক ধড়ফড় করা বা দ্রুত হৃৎস্পন্দ,
  16. গলা, মুখ শুকিয়ে যাওয়া, 
  17. অস্থিরতা,
  18. দুশ্চিন্তা,
  19. বেশি ঘাম হওয়া,
  20. বার বার প্রস্রাব পাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেওয়া।
  21. অনেকের ক্ষেত্রে অত্যধিক ভয়ের কারণে বুক ধড়ফড় করার পাশাপাশি, শ্বাসকষ্টও হতে পারে। পাশাপাশি, মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব, নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছি এমন মনে হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা যায়। 
  22. অনেকে এই পরিস্থিতিতে মৃত্যুভয়েও ভীত হয়ে পড়েন।
What is Anxiety Disorder.

বিশ্বের প্রায় ২০-৩০ শতাংশ মানুষ জীবনে কোনও না কোনও সময়ে এই সমস্যার শিকার হন। কিসের ফলস্বরূপ লক্ষণগুলি দেখা দেয় সেই অনুযায়ী ব্যাধিটির পার্থক্য হয়। মানুষের প্রায়ই একাধিক উদ্বেগমূলক ব্যাধি হয়।

প্রশ্ন: উদ্বিগ্ন হওয়ার সমস্যা বা ‘অ্যাংজ়াইটি ডিসঅর্ডার’ কেন হয়?

উত্তর: উদ্বেগজনিত ব্যাধির (Causes) কারণ এবং (Risk Factors) ঝুঁকির কারণ গবেষকরা ঠিক জানেন না কী উদ্বেগজনিত ব্যাধি নিয়ে আসে। জিনিসগুলির একটি জটিল মিশ্রণ কে পায় এবং না পায় তার ক্ষেত্রে একটি ভূমিকা পালন করে।

Causes;

উদ্বেগমূলক ব্যাধিগুলির কারণ হল জিনগত ও পরিবেশগত কারণগুলির একটি সংমিশ্রণ। 

জেনেটিক্স- পরিবারে কাহারো উদ্বেগজনিত ব্যাধি থাকলে তা পরবর্তী প্রজন্মের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। এছাড়া দারিদ্রতা উদ্বেগের অন্যতম কারণ।

মস্তিষ্কের রসায়ন- কিছু গবেষণা পরামর্শ দেয় যে, উদ্বেগজনিত ব্যাধিগুলি মস্তিষ্কের ত্রুটিপূর্ণ সার্কিটের সাথে যুক্ত হতে পারে যা ভয় এবং আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করে। আমাদের মস্তিষ্কের মধ্যে কিছু রাসায়নিকের পরিমাণে তারতম্য ঘটলে এই সমস্যা দেখা যায়। এ ক্ষেত্রে ‘সেরোটোনিন’ ও ‘গাবা’ নামের দু’টি রাসায়নিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। এ ছাড়া, মস্তিষ্কের একটি বিশেষ জায়গা, ‘লিম্বিক সিস্টেম’ এই রোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

পরিবেশগত চাপ- এটি চাপপূর্ণ ঘটনাগুলিকে বোঝায় যা আপনি দেখেছেন বা জীবনযাপন করেছেন। জীবনের ঘটনাগুলি প্রায়ই উদ্বেগজনিত ব্যাধিগুলির সাথে যুক্ত থাকে, শৈশবকালের নির্যাতন, অপব্যবহার এবং অবহেলা, প্রিয়জনের মৃত্যু, বা আক্রমণ করা বা সহিংসতা দেখা, জীবনের বড় ধরনের এক্সিডেন্ট বা শকড ইত্যাদি।

ড্রাগ প্রত্যাহার বা অপব্যবহার- কিছু ওষুধ কিছু উদ্বেগের উপসর্গ লুকাতে বা কমাতে ব্যবহার করা যেতে পারে। উদ্বেগজনিত ব্যাধি প্রায়শই অ্যালকোহল এবং পদার্থ ব্যবহারের সাথে হাত মিলিয়ে যায়।

চিকিৎসাবিদ্যা শর্ত- কিছু হার্ট, ফুসফুস এবং থাইরয়েড অবস্থা উদ্বেগজনিত রোগের মতো উপসর্গ সৃষ্টি করতে পারে বা উদ্বেগের লক্ষণগুলিকে আরও খারাপ করে তুলতে পারে। উদ্বেগ সম্পর্কে আপনার ডাক্তারের সাথে কথা বলার সময় অন্যান্য চিকিৎসা শর্তগুলি বাতিল করার জন্য একটি সম্পূর্ণ শারীরিক পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।

Risk Factors;

উদ্বেগজনিত ব্যাধির ঝুঁকির কারণ,

কিছু জিনিস আপনাকে উদ্বেগজনিত ব্যাধি হওয়ার সম্ভাবনাও বাড়িয়ে তোলে। এগুলোকে রিস্ক ফ্যাক্টর বলা হয়। কিছু ঝুঁকির কারণ যা আপনি পরিবর্তন করতে পারবেন না, আবার কিছু করতে পারেন।

উদ্বেগজনিত ব্যাধিগুলির ঝুঁকির কারণগুলির মধ্যে রয়েছে:

মানসিক স্বাস্থ্য ব্যাধির ইতিহাস- হতাশার মতো আরেকটি মানসিক স্বাস্থ্য ব্যাধি থাকা আপনার উদ্বেগজনিত ব্যাধির ঝুঁকি বাড়ায়।

শৈশবে যৌন নির্যাতন- শৈশবকালে মানসিক, শারীরিক এবং যৌন নির্যাতন বা অবহেলা পরবর্তী জীবনে উদ্বেগজনিত ব্যাধিগুলির সাথে যুক্ত।

ট্রমা- একটি আঘাতমূলক ঘটনার মধ্য দিয়ে জীবনযাপন পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার (PTSD) এর ঝুঁকি বাড়ায়, যা প্যানিক অ্যাটাকের কারণ হতে পারে।

নেতিবাচক জীবনের ঘটনা- স্ট্রেসফুল বা নেতিবাচক জীবনের ঘটনা, যেমন শৈশবকালে পিতামাতা হারানো, অথবা নিজে হারিয়ে যাওয়া অথবা ঘনিষ্ঠ কোন একজনকে হারানো, উদ্বেগজনিত ব্যাধির ঝুঁকি বাড়ায়।

গুরুতর অসুস্থতা বা দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্যের অবস্থা- আপনার স্বাস্থ্য বা প্রিয়জনের স্বাস্থ্য সম্পর্কে ক্রমাগত উদ্বেগ, বা অসুস্থ কারোর যত্ন নেওয়া আপনাকে অভিভূত এবং উদ্বিগ্ন বোধ করাতে পারে।

পদার্থ অপব্যবহার- অ্যালকোহল এবং অবৈধ ওষুধের ব্যবহার আপনাকে উদ্বেগজনিত ব্যাধি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি করে তোলে। কিছু লোক উদ্বেগের উপসর্গগুলি লুকাতে বা সহজ করতে এই পদার্থগুলি ব্যবহার করে।

ছোটবেলায় লাজুক হওয়া- শৈশবকালে অপরিচিত ব্যক্তি এবং স্থান থেকে লজ্জা এবং প্রত্যাহার, কিশোর এবং প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে সামাজিক উদ্বেগের সাথে যুক্ত।

কম আত্মসম্মান- নিজের সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা সামাজিক উদ্বেগজনিত ব্যাধির দিকে পরিচালিত করতে পারে। যেমন আমি মনে হয় অন্যের থেকে কম আনস্মার্ট, আমি মনে হয় পারব না, আমি কাজটি করতে যাব না, আমি এটা নিব না, আমি কাউকে কিছু দিব না, আমি এসব খাব না, শেষ পর্যন্ত আমার দ্বারা কিছুই হবে না ইত্যাদি নেতিবাচক ধারণা মহান উদ্বেগের কারণ।

প্রশ্ন: কত রকমের ‘অ্যাংজ়াইটি ডিসঅর্ডার’ দেখা যায়?

উত্তর: ‘অ্যাংজ়াইটি ডিসঅর্ডার’ অনেক রকমের হতে পারে। যেমন, 

  • Generalized Anxiety Disorder,
  • Panic Disorder,
  • Phobic Disorder বা Phobia,
  • Obsessive-Compulsive Disorder বা OCD ইত্যাদি, ইত্যাদি।

প্রশ্ন: ‘জেনারেলাইজ়ড অ্যাংজ়াইটি ডিসঅর্ডার’ বা সাধারণ উদ্বেগ ব্যাধি- রোগটি কী?

উত্তর: অ্যাংজাইটি ডিজঅর্ডারে যদি জেনারালাইজড অ্যাংজাইটি হয়, তাহলে দেখা যাবে প্রতিটা ছোট ছোট ক্ষেত্রে সে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছে, সেটি কাজের ক্ষেত্রে হোক, বাসার ক্ষেত্রে হোক, খুঁটিনাটি যেকোনো বিষয়ে সে উদ্বিগ্ন হয়ে রয়েছেন। আপনি সামান্য বা কোন কারণ ছাড়াই অতিরিক্ত, অবাস্তব উদ্বেগ এবং উত্তেজনা অনুভব করেন। যেমন একজন মা তার সন্তানকে স্কুলে পাঠিয়ে যদি এমন চিন্তা করে যে, সে ঠিকমতো স্কুলে পৌঁছিল কিনা, ঠিকমতো ক্লাস করছে কিনা, সময় মত টিফিন খাচ্ছে কিনা ইত্যাদি চিন্তা করে তাহলে এটা মোটেই অস্বাভাবিক নয়, কিন্তু যদি কোন মা সন্তানকে স্কুলে পাঠিয়ে তার কিছুক্ষণ পরে সন্তানের পিছনে পিছনে চলে যান এবং সেখানে গেট দিয়ে দেখার চেষ্টা করেন তার সন্তান সেখানে আছে কিনা। একটু পরপরই জিজ্ঞেস করেন তার সন্তান টিফিন খেয়েছে কিনা, একটু পরপরই জানার চেষ্টা করেন সে ক্লাসে ঠিকমতো বসে আছে কিনা, খেলাধুলা করতে কোথাও ব্যথা পেল কিনা সবকিছু নিয়ে যেন তার দুশ্চিন্তার শেষ নেই এটিই মূলত জেনারেলাইজ়ড অ্যাংজ়াইটি ডিসঅর্ডার।

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি সমাজের প্রায় সব ক্ষেত্রেই ও জীবনের প্রায় সব বিষয়েই অযথা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। এর সঙ্গে সঙ্গে মনোযোগের অভাব, খিটখিটে মেজাজ, মাথা ব্যথা, অনিদ্রা, গলায় কিছু আটকে থাকার অনুভূতি, বমি ভাব দেখা যেতে পারে।

প্রশ্ন: ‘প্যানিক ডিসঅর্ডার’ বা আকস্মিক ভয়/অহেতুক আতঙ্ক আক্রমণ- কী?

উত্তর: এর মানে হল আপনি অপ্রত্যাশিত সময়ে পুনরাবৃত্তি (পর্যায়ক্রমে বা বারবার ঘটতে থাকা ঘটনা) আতঙ্কের আক্রমণ অনুভব করেন। আপনি হঠাৎ, তীব্র ভয় অনুভব করেন যা প্যানিক অ্যাটাক নিয়ে আসে। প্যানিক অ্যাটাকের সময় আপনি ঘামে ফেটে যেতে পারেন, বুকে ব্যথা হতে পারে এবং হৃদস্পন্দন (ধড়ফড়) হতে পারে। কখনও কখনও আপনার মনে হতে পারে আপনি শ্বাসরোধ করছেন বা হার্ট অ্যাটাক করছেন। 

আমার মনে হয় শরীর দিন দিন খারাপ হয়ে যাবে। আমার মনে হয় খারাপ একটি রোগ ধরা পড়বে। অনেক সময় মৃত্যু চিন্তা চলে আসে। কিংবা যেকোনো সময় মারা যাবো। এই জাতীয় সমস্যায় কোনও কারণ ছাড়াই হঠাৎ করে রোগীর বুক ধড়ফড় করা, হাত-পা কাঁপা, বেশি করে ঘাম হওয়া, শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, বমি ভাব, মাথা ঘোরা ইত্যাদি সমস্যা সৃষ্টি হয়। সে মুহূর্তে রোগীর মনে হয়, তিনি যেন এখনই মারা যাবেন। এই ঘটনাকে বলা হয় ‘প্যানিক অ্যাটাক’। কারণ, কোন পরিস্থিতিতে বা কোন সময়ে এই ঘটনা ঘটবে তা রোগী বুঝে উঠতে পারেন না, তাই সর্বদাই রোগীর মনে ‘এই বুঝি আবার ওই রকম হল’ জাতীয় ভয়ের সঞ্চার হয়।

এই যে বিষয়গুলো সেগুলো বর্তমানকে নিয়ে না বা অতীতকে নিয়ে না। যেটা হয়নি, সেটাই আগে ভেবে ফেলছি। অতিরিক্ত ভেবে ফেলছি। এবং নেতিবাচকভাবে ভাবছি। ইতিবাচকভাবে ভাবলে তো এগিয়ে নিবে। তবে এটা নেতিবাচকভাবে নিচ্ছে। তখনই চিকিৎসার প্রয়োজন। 

এটির লক্ষণের সাথে কিন্তু হৃদরোগের লক্ষণের মিল পাওয়া যায় কিন্তু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর যদি জানা যায় তার হৃদরোগের কোন লক্ষণ না পাওয়া যায় তাহলে বুঝতে হবে তার প্যানি কাটা হয়েছে।

প্রশ্ন: ‘Phobia’ বিতৃষ্ণা বা ঘৃণাভরা আতঙ্ক কী?

উত্তর: ‘ফোবিয়া’ কথাটির অর্থ হল কোনও কোনও বিশেষ জায়গা বা বিষয় নিয়ে মাত্রাতিরিক্ত ভয়। অর্থাৎ ভয়ের কারণটা রোগীর জানা। তাই এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি ওই বিশেষ জায়গাগুলি এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেন। যেমন ছোট্ট একটি তেলাপোকা বা ছোট্ট একটি মাকরসা সে আমার কোন ক্ষতি করবে না কিন্তু তাকেই যদি আমি ভয় পাই। এটি মূলত টিনেজ এবং মহিলাদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।

অহেতুক ভয়. Phobia: Irrational Fear and Avoidance! 
কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ফোবিয়া হল ‘এগোরা ফোবিয়া’, ‘সোশ্যাল ফোবিয়া’ 'এক্সাম ফোবিয়', 'নির্দিষ্ট আতঙ্ক', ইত্যাদি।

প্রশ্ন: ‘Agoraphobia’ বা ভিতরের ভয়ের ব্যাধি কী?

উত্তর: খোলা বা জনাকীর্ণ জায়গায় প্রবেশের চরম বা অযৌক্তিক ভয়, নিজের বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার, বা এমন জায়গায় থাকার যেখান থেকে পালানো কঠিন। এটি একটি নির্দিষ্ট বস্তু, পরিস্থিতি বা কার্যকলাপের অত্যধিক ভয়। 

আপনার এমন একটি জায়গায় থাকার তীব্র ভয় রয়েছে যেখানে জরুরী অবস্থা ঘটলে পালানো বা সাহায্য পাওয়া কঠিন বলে মনে হয়। উদাহরণস্বরূপ, বিমানে, পাবলিক ট্রান্সপোর্টে বা ভিড়ের সাথে লাইনে দাঁড়ানোর সময় আপনি আতঙ্কিত বা উদ্বিগ্ন বোধ করতে পারেন।

সাধারণত এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি একা একা কোনও ভিড় জায়গায়, বাড়ি থেকে দূরে কোথাও গেলে বা একা কোথাও বেরলে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার মুখোমুখি হন। এ ক্ষেত্রে তাঁর বুক ধড়ফড় করে, হাত-পা কাঁপতে থাকে, ঘাম হতে থাকে, গলা শুকিয়ে যায়, শ্বাসকষ্ট হয়। পাশাপাশি বুকে ব্যথা, বমি ভাব, পেটে ব্যথা, মাথা ঘোরা, আচমকা ঠান্ডা বা গরম লাগা, কানে ঝিঁঝিঁ ধারার অনুভূতি, পরিবেশ থেকে নিজে আলাদা হয়ে যাওয়ার অনুভূতি ইত্যাদি দেখা দিতে পারে। এই সমস্যাগুলি রোগীর জীবনযাত্রাকে এমন ভাবে প্রভাবিত করে যে রোগী ওই স্থানগুলি এড়িয়ে চলতে থাকেন এবং ক্রমশ গৃহবন্দি হয়ে পড়েন। ঠিক মতো চিকিৎসা না করলে প্রাণঘাতী রোগ না হয়েও কোনও অসুখ কী ভাবে আমাদের জীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলতে পারে তার অন্যতম উদাহরণ হল এই রোগ। অনেক সময়ে এর সঙ্গে নানা উদ্বিগ্ন হওয়ার সমস্যাও জড়িয়ে থাকে। উপযুক্ত চিকিৎসায় এই রোগ সহজেই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

প্রশ্ন: ‘Social Phobia’ সামাজিক উদ্বেগ ব্যাধি কী?

উত্তর: এটিকে সামাজিক ফোবিয়াও বলা হয়। সামাজিক পরিস্থিতিতে অন্যদের দ্বারা (নিজের কথা বা কাজের) বিচার করার একটি চরম ভয়। অন্যরা আপনাকে বিচার করছে বা বিব্রত বা উপহাস করছে তা নিয়ে আপনি আবেশে উদ্বিগ্ন। এই জাতীয় ‘ফোবিয়া’-তে ভিন্ন সামাজিক পরিস্থিতি, নতুন জায়গায় গেলে, অচেনা লোকজনের সঙ্গে কথা বলতে গেলে, স্টেজে উঠে কিছু বলতে গেলে, অনেকের সামনে কিছু বলতে বা উপস্থাপন করতে গেলে রোগী অহেতুক অতিরিক্ত উদ্বিগ্ন হন।

প্রশ্ন: 'Exam Phobia' বা পরীক্ষা ভীতি কি?

উত্তর: ঠিক পরীক্ষার সময় তার দুশ্চিন্তা বাড়ছে বা উদ্বেগ বাড়ছে। হয়তো তার প্রস্তুতি অনেক ভালো- সেটি থেকে সমস্যা হতে পারে। আবার হয়তো ভালো নয়- সেটি থেকেও হতে পারে। এখানে অবস্থার চেয়ে সে যেভাবে চিন্তা করছে, এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। সে খুব নেতিবাচকভাবে দেখে। ভাবে, আমি মনে হয় পারবো না। সাধারণত ভবিষৎ নিয়ে যদি দুশ্চিন্তা করা হয়, তাহলে এমন হতে পারে। যেমন পরীক্ষা সামনে, সে ভাবছে আমি মনে হয় পারবো না। 

প্রশ্ন: 'Specific Phobias' নির্দিষ্ট আতঙ্ক কি?

উত্তর: আপনি একটি নির্দিষ্ট বস্তু বা পরিস্থিতির তীব্র ভয় অনুভব করেন, যেমন উচ্চতা বা উড়ন্ত। ভয় যা উপযুক্ত (যতটুকু ভয় পাওয়ার উপযুক্ত) তার বাইরে যায় এবং আপনাকে সাধারণ পরিস্থিতির বাহিরে নিয়ে যাবে।

আরো রয়েছে, ক্লাসটু ফোবিয়া। যেমন বদ্ধ জায়গায় তিনি ভয় পান, যদি এখান থেকে সে বের না হতে পারে। লিফটে উঠতে তিনি ভয় পান, যদি লিফটের দরজা বন্ধ হয়ে আর না খুলে অথবা মাঝ পথে যদি কারেন্ট চলে গিয়ে লিফট আটকে থাকে, ইত্যাদি।

আমরা যদি উপরে (উচু বিল্ডিং এর ছাদে বা পাহাড়ের চূড়ায় বা টাওয়ারের মাথায় ইত্যাদিতে) উঠে নিচের দিকে তাকিয়ে যদি আমরা ভয় পাই সেটাও কিন্তু এক ধরনের ফোবিয়া।

প্রশ্ন: ওসিডি অ্যাংজাইটি ডিজঅর্ডার বা ‘অবসেসিভ-কমপালসিভ ডিসঅর্ডার’ বা শুচি বায়ুগ্রস্ততা কী?

উত্তর: আমাদের দেশের প্রায় এক থেকে দুই শতাংশ মানুষ এই রোগের শিকার। এই রোগে রোগীর মনে বারবার এমন কিছু অযৌক্তিক চিন্তা, ইচ্ছা আসে বা কিছু ছবি ভেসে ওঠে— যেগুলি রোগীকে কষ্ট দেয়। একটি জিনিস বার বার চিন্তা হচ্ছে। সেই চিন্তাগুলো অনেকটা যুক্তিহীন। তিনি বোঝেন এগুলোর ভিত্তি নেই, তবে থামাতে পারেন না। যখন হয়, ভীষণ অস্বস্তিবোধ করেন। কিন্তু অনেক চেষ্টা সত্ত্বেও সেই চিন্তাগুলিকে আটকানো যায় না। অনেক সময়ে এই চিন্তার বশবর্তী হয়ে অনিচ্ছা সত্ত্বেও রোগীকে কিছু কাজ বারবার করতে হয়— যেমন বারবার হাত ধোওয়া বা স্নান করা (একে আমরা অনেক সময় বাংলায় শুচিবাই রোগ বলি), দরজায় ঠিকমতো তালা দেওয়া হয়েছে কি না তা বারবার পরখ করে দেখা, বার বার একটি জিনিস চেক করা। কিংবা মনে করছেন এই বিষয়টা বার বার গণনা করলে আমার মাথা থেকে চলে যাবে, ইত্যাদি। 

শুচি-বায়ুগ্রস্তের আরো স্পষ্ট উদাহরণ হল; একজন ব্যক্তি বারবার তার হাত ধুচ্ছেন কারণ তার মনে হচ্ছে একবার বা দুইবার ধুয়ে তার হাতের জীবাণু যাচ্ছে না। এরপর হাত ধোয়া শেষে যে কলটি আছে সেটি বন্ধ করে তার মনে হলো এই কলে তো আবার জীবাণু ছিল, এরপর বিভিন্নভাবে কলটি খুলে তিনি আবার হাত ধুইলেন, এরপর একটি টাওয়ালে হাতটি মুছে তার মনে হলো এই টাওয়ালে তো আবার জীবাণু ছিল, তার মানে নিশ্চয়ই আমাকে আবার হাত ধুতে হবে, ফলে তিনি আবার হাতটি ধুলেন, হাত ধুয়ে তিনি যখন ওয়াশরুমের দরজা দিয়ে বের হলেন, তখন তার মনে হলো দরজায় তো জীবণু ছিল, ফলে তিনি আবার হাত ধুইলেন, এবং এইভাবে মোটামুটি হাতটাকে তার শূন্যে রেখে যখন সে রুমে প্রবেশ করলো, তখন তার মনে হতে পারে বাতাসে তো কিছু জীবন আছে, ফলে তিনি আবার হাত ধোয়ার জন্য প্রস্তুত হলেন, শুচিবায়ুগ্রস্থ রোগীদের মনগুলি এভাবেই চক্রাকারে ঘুরতে থাকে।

এছাড়াও আরও নির্দিষ্ট কিছু Disorder রয়েছে যেমন;

Separation Anxiety Disorder- বিচ্ছেদ উদ্বেগ ব্যাধি: এর মানে আপনার বাড়ি বা আপনার প্রিয়জনদের থেকে দূরে থাকার ভয় আছে। ছোট বাচ্চারা একমাত্র নয় যারা প্রিয়জন চলে গেলে ভয় বা উদ্বিগ্ন বোধ করে। যে কেউ বিচ্ছেদ উদ্বেগ ব্যাধি পেতে পারে। যদি আপনি তা করেন, আপনি খুব উদ্বিগ্ন বা ভীত বোধ করবেন যখন আপনার কাছাকাছি থাকা একজন ব্যক্তি আপনার দৃষ্টি ছেড়ে চলে যাবেন। তখন  আপনি সবসময় চিন্তা করবেন যে আপনার প্রিয়জনের সাথে খারাপ কিছু ঘটতে পারে।

Selective Mutism- নির্বাচনী নীরবতা: এটি এমন এক ধরনের সামাজিক উদ্বেগ যেখানে অল্পবয়সী বাচ্চারা যারা তাদের পরিবারের সাথে সাধারণত কথা বলে তারা জনসমক্ষে কথা বলে না, যেমন স্কুলে, বা কেউ কিছু জিজ্ঞেস করলে।

Obsessive-Compulsive Disorder-তীব্র মানসিক চাপ বা অত্যধিক আচ্ছন্নকারী বাধ্যতামূলক ব্যাধি: এর অর্থ হলো আপনার পুনরাবৃত্তিমূলক অযৌক্তিক চিন্তাভাবনা রয়েছে যা আপনাকে নির্দিষ্ট, পুনরাবৃত্তিমূলক আচরণ করতে পরিচালিত করে। যেমন; একজন ব্যক্তি কোন কারণে হুমকির সম্মুখীন হয়েছেন, তার জীবনে বড় ধরনের কোন দুর্ঘটনার মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন, কোন একটি জায়গায় তিনি ব্যর্থ হয়েছেন বা কোন দুর্ঘটনার মুখোমুখি পরেছেন তখন তাৎক্ষণিকভাবে তার মনের মধ্যে একটি সমস্যা তৈরি হবে, সেটিকে আমরা বলি তীব্র মানসিক চাপ। এই দুর্ঘটনা যদি তাৎক্ষণিকভাবে হয় তাহলে এটাকে আমরা বলি Acute বা তীব্র, আর যদি দুর্ঘটনা হওয়ার বেশ কিছুদিন পর সেই স্মৃতি যদি তার মনে পড়ে ভয়ের উদ্যোগ সৃষ্টি করে তখন তাকে আমরা বলি, Post-Traumatic Stress Disorder (PTSD) বা আঘাত পরবর্তী মানসিক সমস্যা। এটি একটি বেদনাদায়ক অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনার পরের উদ্বেগ।

Chronic Obstructive Pulmonary Disease (COPD) দীর্ঘস্থায়ী রোগ: ডায়াবেটিসের মতো অবস্থার ব্যবস্থাপনার ফলে উদ্বেগের লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

Chronic Pain- দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা: যাদের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার ব্যাধি রয়েছে তাদের মধ্যে উদ্বেগ প্রায়ই পাওয়া যায়।

Medication Induced Anxiety Disorder- ওষুধ-প্ররোচিত উদ্বেগজনিত ব্যাধি: নির্দিষ্ট ওষুধ বা অবৈধ ওষুধের ব্যবহার, বা নির্দিষ্ট ওষুধ থেকে প্রত্যাহার, উদ্বেগজনিত ব্যাধির কিছু লক্ষণকে ট্রিগার করতে পারে।

Illness Anxiety Disorder- অসুস্থতা উদ্বেগ ব্যাধি। এটি আপনার স্বাস্থ্য সম্পর্কে উদ্বেগ (পূর্বে Hypochondria নামে পরিচিত)। 

Major Depressive Disorders- প্রধান বিষণ্নতাজনিত ব্যাধি: হতাশা এবং উদ্বেগের মধ্যে একটি শক্তিশালী সম্পর্ক বিদ্যমান।

Inflammatory Conditions- প্রদাহজনক অবস্থা: উদ্বেগ দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ এবং বাতের মতো রোগের কারণ হতে পারে।

Substance Use Disorders- পদার্থ/বিভিন্ন দ্রব্যের ব্যবহারের ব্যাধি: উদ্বেগযুক্ত অনেক লোক তাদের লক্ষণগুলি পরিচালনা/নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করার জন্য (self-medicate) নিজে নিজেই-ঔষধের চেষ্টা করতে পারে।

প্রশ্ন: কিভাবে (Managing Anxiety Disorder Symptoms) উদ্বেগজনিত ব্যাধিগুলির লক্ষণ নিয়ন্ত্রণ করব?

উত্তর: নিচের এই টিপস গুলো আপনাকে আপনার উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ বা কমাতে সাহায্য করতে পারে:

  • আপনার ব্যাধি সম্পর্কে জানুন- আপনি যত বেশি জানবেন, উপসর্গ এবং বাধাগুলি পরিচালনা করার জন্য আপনি তত ভালভাবে প্রস্তুত হবেন। আপনার ডাক্তারকে আপনার কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে ভয় পাবেন না। মনে রাখবেন, আপনি আপনার স্বাস্থ্যসেবা দলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
  • আপনার চিকিত্সার পরিকল্পনায় লেগে থাকুন- হঠাৎ আপনার ওষুধ বন্ধ করা অপ্রীতিকর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে এবং এমনকি উদ্বেগের লক্ষণগুলিকেও ট্রিগার করতে পারে। সুতরাং ঔষধ ছাড়ার কাজটি সাবধানে করুন।
  • কফি, চা, কোলা, এনার্জি ড্রিংকস এবং চকোলেটের মতো ক্যাফেইনযুক্ত খাবার এবং পানীয় কমিয়ে দিন। ক্যাফিন একটি মেজাজ পরিবর্তনকারী ওষুধ, এবং এটি উদ্বেগজনিত রোগের লক্ষণগুলিকে আরও খারাপ করে তুলতে পারে।
  • অ্যালকোহল এবং বিনোদনমূলক রাস্তার ওষুধ ব্যবহার করবেন না। (Substance abuse) দ্রব্য/পদার্থের অপব্যবহার আপনার উদ্বেগজনিত রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
  • সঠিক খাবার খান এবং ব্যায়াম করুন- জগিং এবং বাইক চালানোর মতো দ্রুত অ্যারোবিক ব্যায়াম মস্তিষ্কের রাসায়নিক মুক্ত করতে সাহায্য করে যা মানসিক চাপ কমায় এবং আপনার মেজাজ উন্নত করে।
  • ভালো ঘুমের ব্যবস্থা করুন- ঘুমের সমস্যা এবং উদ্বেগজনিত ব্যাধি প্রায়শই একসাথে যায়। ভালো বিশ্রাম নেওয়াকে অগ্রাধিকার দিন। একটি আরামদায়ক শোবার সময় রুটিন অনুসরণ করুন। আপনার যদি এখনও ঘুমের সমস্যা হয় তবে আপনার ডাক্তারের সাথে কথা বলুন।
  • (Learn to relax) শিথিল করতে শিখুন। anxiety disorder এর চিকিৎসার জন্য Stress management  হলো গুরুত্বপূর্ণ অংশ। (meditation) ধ্যান, বা (mindfulness)  মননশীলতার মতো জিনিসগুলি আপনাকে একটি চাপপূর্ণ দিনের পরে শান্ত হতে সাহায্য করতে পারে এবং আপনার চিকিত্সাকে আরও ভাল করে তুলতে পারে।
  • (Keep a journal) একটি  দৈনিক হিসাব বই রাখুন-  দিন শেষ হওয়ার আগে আপনার চিন্তাভাবনাগুলি লিখে রাখলে আপনাকে শিথিল করতে সাহায্য করতে পারে যাতে আপনি সারা রাত উদ্বিগ্ন চিন্তাভাবনা না করতে পারেন অর্থাৎ tossing and turning না করতে পারেন।
  • (Manage your negative thoughts) আপনার নেতিবাচক চিন্তা পরিচালনা করুন-  উদ্বেগজনক চিন্তার পরিবর্তে ইতিবাচক চিন্তা ভাবনা উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করতে পারে। আপনার যদি নির্দিষ্ট ধরণের উদ্বেগ থাকে তবে এটি চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। Cognitive behavioral therapy  আপনাকে শেখাতে পারে কীভাবে আপনার চিন্তাভাবনা পুনর্নির্দেশ করতে হয়।
  • ভালো বন্ধুদের সাথে মিলিত হন- ব্যক্তিগতভাবে হোক, ফোনে হোক বা কম্পিউটারে, সামাজিক সংযোগগুলি মানুষকে উন্নতি করতে এবং সুস্থ থাকতে সাহায্য করে৷ যাদের বন্ধুদের একটি ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠী আছে যারা তাদের সাথে সমর্থন করে এবং তাদের সাথে চ্যাট করে তাদের সামাজিক উদ্বেগের মাত্রা কম থাকে।
  • any over-the-counter ওষুধ বা ভেষজের মাধ্যমে প্রতিকার গ্রহণ করার আগে আপনার ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টকে জিজ্ঞাসা করুন। অনেকেই রাসায়নিকভাবে প্রস্তুত থাকে যা উদ্বেগের লক্ষণগুলিকে আরও খারাপ করে তুলতে পারে।

প্রশ্ন: ‘অ্যাংজ়াইটি ডিসঅর্ডার’-এর চিকিৎসা কী?

উত্তর: যদি সমস্যা এমন হয় যে তা স্বাভাবিক জীবনযাপন ও কাজকর্মকে বাধা (hamper) এবং  বিপর্যস্ত (upside-down) ওলটপালট করে তুলছে, যেমন তার জীবন যাত্রার মান হঠাৎ চেঞ্জ হবে, ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করবে না, তার রুচির পরিবর্তন হবে, ঠিকমতো ঘুমাবে না অল্প ঘুম সে জেগে যাচ্ছে, হঠাৎ করে সে ঘুম থেকে উঠে পায়চারি করছে, কাজে মনোযোগ না থাকার কারণে ভূল হচ্ছে, নেগেটিভ কথা বেশি বলছে, মেজাজ খিটখিটে হওয়া বা অল্পতেই রেগে যাওয়া, অল্পতেই বিরক্ত হওয়া, কোন শব্দ সহ্য না হওয়া, আলোর তীব্রতা সহ্য না হওয়া, খুঁটিনাটি বিষয়ে এলোমেলো দেখলে সে বিরক্ত হওয়া যেমন বাচ্চারা খেললে সেটাতে সে বিরক্ত হচ্ছে কারণ তিনি নিজে ভিতরে খুব অস্থির ফিল করছে যার কারণে আশেপাশের বিষয়গুলি তাকে খুব নাড়া দিচ্ছে এবং সে ওই বিষয়গুলো নিতে পারছে না, সে খুব DisComfortable Feel করছে, চোখে মুখে তার বাস্তব অবস্থা ফুটে উঠছে; 

তাহলে তার চিকিৎসার প্রয়োজন। সে ক্ষেত্রে (Psychiatry) মনোচিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। অ্যান্টি ডিপ্রেসেন্ট, অ্যান্টি অ্যাংজ়াইটি জাতীয় ওষুধ ব্যবহৃত হয়। Lifestyle Changes, Counselling, Medications এই তিনটি একই সাথে চালিয়ে গেলে খুব ভালো ফলাফল পাওয়া যায়।

এ ছাড়া (Anxiety) উদ্বেগ কমানোর জন্য Relaxation (শিথিলকরণ/উদ্বেগমুক্ত হওয়া/মনের ভার হালকা করা) (Therapy) চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যবহার করা হয় যেমন;

Mindfulness Relaxation- একটি মানসিক অবস্থা বর্তমান মুহুর্তে একজনের সচেতনতাকে ফোকাস করে অর্জিত হয়, যখন একজনের অনুভূতি, চিন্তাভাবনা এবং শারীরিক সংবেদনগুলিকে শান্তভাবে স্বীকার করে এবং গ্রহণ করে, একটি থেরাপিউটিক কৌশল হিসাবে ব্যবহৃত হয়। যার মাধ্যমে Anxiety দূর করা যায়।

Breathing Relaxation- Deep Breathing Techniques- শ্বাস প্রশ্বাসের শিথিলতার মাধ্যমে Anxiety দূরীকরণ।

Imaginal Relaxation- ধ্যান বা কাল্পনিক শিথিলকরণের মাধ্যমে Anxiety দূরীকরণ।

Progressive Muscle Relaxation- প্রগতিশীল পেশী শিথিলকরণের মাধ্যমে Anxiety দূরীকরণ।

Community Behavior Therapy- সাধারণ মনোভাব, আগ্রহ এবং লক্ষ্য ভাগ করে নেওয়ার ফলে অন্যদের সাথে বসবাসের অনুভূতির মাধ্যমে Anxiety দূরীকরণ।

Cognitive behavioral therapy (CBT): জ্ঞানীয় আচরণগত থেরাপি: এই সাধারণ ধরণের সাইকোথেরাপি আপনাকে শেখায় কীভাবে নেতিবাচক, বা আতঙ্ক সৃষ্টিকারী, চিন্তাভাবনা এবং আচরণগুলিকে ইতিবাচকগুলিতে পরিণত করতে হয়। আপনি উদ্বেগ ছাড়াই ভয়ঙ্কর বা উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে সাবধানে যোগাযোগ করার এবং পরিচালনা করার উপায়গুলি শিখবেন। কিছু জায়গা পারিবারিক CBT সেশন অফার করে।

উপরের পদ্ধতি গুলোকে Psychotherapy বলা হয় Psychotherapy হলো মানসিক অসুস্থতা, মানসিক অশান্তি এবং অস্বাভাবিক আচরণের অধ্যয়ন এবং চিকিত্সা। 

Psychotherapy এমন এক ধরনের কাউন্সেলিং যা আপনাকে জানতে সাহায্য করে কিভাবে আপনার আবেগ আপনার আচরণকে প্রভাবিত করে। একে কখনও কখনও টক থেরাপি বলা হয়। একজন প্রশিক্ষিত মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ আপনার চিন্তাভাবনা এবং অনুভূতিগুলি সম্পর্কে আপনার কথা শোনেন এবং কথা বলেন এবং সেগুলি বোঝার এবং পরিচালনা করার উপায় এবং আপনার উদ্বেগ ব্যাধির পরামর্শ দেন।

                     

দুশ্চিন্তা দূর করার উপায় | Overcome Anxiety.
Anxiety এমন একটি রোগ, যে রোগী নিজেই বুঝতে পারে যে তার Anxiety Disorder রয়েছে, এটি হচ্ছে Anxiety এর সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ অংশ যে এটিকে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বড় বড় মানসিক সমস্যা থেকে আলাদা করে। আমরা জানি যে, ২ ধরনের মানসিক সমস্যা রয়েছে একটি হচ্ছে Neurosis (মৃদ মানসিক সমস্যা বা স্নায়বিক ক্রিয়া) আরেকটা হচ্ছে Psychosis (এটি একটি গুরুতর মানসিক ব্যাধি যাতে চিন্তাভাবনা এবং আবেগ এতটাই প্রতিবন্ধী হয় যে বাহ্যিক বাস্তবতার সাথে যোগাযোগ হারিয়ে যায়)। আর Anxiety Disorder হলো Neurosis বা মৃদু মানুষিক সমস্যা তাই;
যাদের মধ্যে Anxiety Disorder রয়েছে তাদের ভয় পাওয়ার কোন কারণ নেই, ব্যক্তি নিজেই তার জীবন যাত্রার মান পরিবর্তন করে, কিছু উপদেশ অনুসরণ করে এখান থেকে উপকারিতা লাভ করতে পারবে, শুধু কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের সাহায্যের প্রয়োজন হয়।

উদ্বেগজনিত ব্যাধি নির্ণয় যদি আপনার লক্ষণ থাকে, আপনার ডাক্তার আপনাকে পরীক্ষা করবেন এবং আপনার চিকিৎসা ইতিহাস সম্পর্কে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করবেন। তারা আপনার উপসর্গের কারণ হতে পারে এমন অন্যান্য স্বাস্থ্যের অবস্থা বাতিল করার জন্য পরীক্ষা চালাতে পারে। অর্থাৎ যেহেতু Anxiety Disorder এর লক্ষণের সাথে শরীরের অন্যান্য রোগের লক্ষণের মিলে রয়েছে সুতরাং শরীরের অন্যান্য রোগ এবং Anxiety Disorder এর লক্ষণের মধ্যে পার্থক্য করার জন্য পরীক্ষা চালাতে পারে। কোনো কোনো ল্যাব পরীক্ষা বিশেষভাবে উদ্বেগজনিত ব্যাধি নির্ণয় করতে পারে না। যদি আপনার ডাক্তার আপনার অনুভূতির কোনো শারীরিক কারণ খুঁজে না পান, তাহলে তারা আপনাকে একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, মনোবিজ্ঞানী বা অন্য কোনো মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠাতে পারেন। আপনার উদ্বেগজনিত ব্যাধি আছে কিনা তা খুঁজে বের করতে সেই ডাক্তাররা আপনাকে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করবে এবং সরঞ্জাম এবং পরীক্ষা ব্যবহার করবে।
আপনার চিকিত্সকরা বিবেচনা করবেন যে আপনার লক্ষণগুলি কতক্ষণ ধরে রয়েছে এবং আপনাকে নির্ণয় করার সময় সেগুলি কতটা তীব্র। আপনার উদ্বেগ বাড়িতে, কর্মক্ষেত্রে বা স্কুলে দৈনন্দিন কাজগুলি উপভোগ করা বা সম্পূর্ণ করা কঠিন করে তোলে কিনা তা আপনার ডাক্তার বা পরামর্শদাতাদের জানানো গুরুত্বপূর্ণ।

তথ্যসূত্র:

  • ডাক্তার সেলিনা ফাতেমা বিন্তে শহীদ, সহকারী অধ্যাপক, মনোরোগ বিদ্যা বিভাগ, শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, এনটিভি।
  • ডাক্তার হেলাল উদ্দিন আহমেদ, সহযোগী অধ্যাপক, চাইল্ড এডোলেসেন্ড এন্ড ফ্যামিলি, সাইকিয়াট্রি, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ঢাকা, নাগরিক টিভি।
  • মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, ডাক্তার রাইসুল ইসলাম পরাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, হেলথ কেয়ার বাংলা।
  • আনন্দবাজার।
  • healthline.com
  • WebMD.com
  • Wikipedia.
  • Edited: Natural_Healing.

কোন মন্তব্য নেই

Popular Post

Blogger দ্বারা পরিচালিত.