First Aid Present

Lifestyle Modification এবং প্রাকৃতিক খাদ্য, পানীয়, শাকসবজি, গাছ, ডালপালা, ফল, মসলা, পাতা ও ফুল ইত্যাদির দ্বারা প্রাথমিক চিকিৎসা।

কোন কোন পাত্র রান্নার জন্য সবচেয়ে বেশি নিরাপদ?

স্বাস্থ্য ও পুষ্টির কথা মাথায় রাখলে, ঘরে রান্না করে খাওয়ার কোনও বিকল্প নেই, কিন্তু রান্না–খাওয়ার কাজে কোন ধরনের বাসন ব্যবহার করছেন, সেটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ভুল বাসনে, ভুলভাবে রান্না করলে বাসন থেকে কিছু উপাদান এসে মিশে খাবারকে বিষাক্ত করে দিতে পারে। দেখা দিতে পারে বিভিন্ন অসুখ। কাজেই আসুন, দেখে নেওয়া যাক, আমরা সচরাচর যে সব পাত্রে রান্না করি বা খাই, তা কতটা নিরাপদ।

স্টিল, মাটি, লোহা এবং সিরামিকের পাত্র সবচেয়ে বেশি নিরাপদ
অ্যালুমিনিয়াম: কথায় বলে না, কু-পাত্রে দান। অ্যালুমিনিয়ামের ক্ষেত্রে কথাটা একদম ঠিকঠাকভাবে খাটে। কারণ অ্যালুমিনিয়ামের পাত্রে রান্না করার পর সেই খাবার থেকে যে পরিমাণ বিষ শরীরে ঢোকে, তা থেকে দীর্ঘমেয়াদি অসুখ হওয়াটাই স্বাভাবিক। এমনকি এই বিষ ধীরে ধীরে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়। প্রত্যেক বাড়িতেই কম-বেশি অ্যালুমিনিয়ামের পাত্রেই রান্না করা হয়ে থাকে। এই পাত্রগুলিতে তেমন ভালো কোটিং থাকে না। বেশিরভাগ পাত্রে তো থাকেই না। ফলে রান্না করার সময় পাত্র থেকে অ্যালুমিনিয়ামের অংশ খাবারে মিশতে থাকে। লক্ষ্য করে থাকবেন, বেশ কিছু দিন ব্যবহার করার ফলে অ্যালুমিনিয়ামের পাত্র ক্ষয়ে যায়, বা নীচের দিকে ফুটো হয়ে যায়। রান্না করার সময় হাতা-খুন্তি নাড়ানোর জন্য ওই অ্যালুমিনিয়ামের বেশিরভাগটাই খাবারের সঙ্গে মিশে যায়। পরে তা আমাদের শরীরে প্রবেশ করে। আর সব থেকে খারাপ যেটা তা হল, এই অ্যালুমিনিয়াম আমাদের শরীরে বাসা বেঁধে থেকে যায়। সহজে তা বের করা যায় না। চিকিৎসকদের মতে, অ্যালুমিনিয়ামের মধ্যে মিশে থাকে ক্ষতিকারক আয়ন। মূলত এটাই শরীরের পক্ষে মারাত্মক খারাপ। কী করে এই আয়ন? এই আয়ন ব্রেন বা মস্তিষ্কের পক্ষে অত্যন্ত খারাপ। দীর্ঘ দিন ধরে এই আয়ন ব্রেনের সূক্ষ টিস্যুগুলোর ক্ষতি করতে থাকে। এর ফলে ডেমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রংশ হওয়ার রোগ হয়। অ্যালঝাইমার্স হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণও এই আয়ন। দীর্ঘ দিন ধরে এই সব পাত্রে রান্না করা খাবার খেলে সাধারণের তুলনায় বেশি ক্লান্তি লাগতে পারে। সময়-অসময়ে ঘুম পাওয়া এর অন্যতম লক্ষ্মণ। এমনটা হলে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়াই ভালো। হাঁড়েরও ভীষণ ক্ষতি করে এই আয়ন। এর ফলে অস্টিও পোরোসিস হয়। এ জন্যই বিশেষত মহিলাদের হাঁড়ে ক্ষয় বেশি হয়। অল্প আঘাতে ভেঙেও যেতে পারে। এখানেই শেষ নয়, দীর্ঘ দিন ধরে অ্যালুমিনিয়ামের পাত্রে রান্না করা খাবার খেলে বৃহদ্রান্ত্র বা লার্জ ইন্টেস্টাইন, কিডনি এবং রক্ত কনিকার বারোটা বাজায়। এই জিনিসই পরে ক্যান্সারের দিকে মোড় নিতে পারে।  
  গ্রামের মানুষ যেগুলিকে সিলভর হিসেবে চিনে থাকে।

অক্সিডাইজ করা থাকলে এতে রান্না করা যায়। অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলে গরম খাবার রাখলে বা এতে জড়িয়ে রান্না করলে কিন্তু সে খাবার দূষিত হতে পারে। খাবারে লেবু, টমেটো বা ভিনিগারের মতো টক কিছু মেশানো থাকলে তো বিশেষ করে। কম বয়সে অ্যালঝাইমার্স বা স্মৃতিভ্রম ও পার্কিনসন্স ডিজিজ দেখা দেওয়ার মূলে এই ধাতুটির ভূমিকা রয়েছে। ‘খাবার প্যাক করার কাজে অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলের বদলে পার্চমেন্ট কাগজ ব্যবহার করুন। আর রান্নায় ফয়েলের মতো সুবিধা পেতে কাচের পাত্রে তেল ব্রাশ করে নিন।’ জানিয়েছেন পুষ্টিবিদ বিজয়া আগরওয়াল।

ইস্পাত বা স্টেইনলেস স্টিল: তামা কিংবা অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি বাসনের তুলনায় স্টেইনলেস স্টিলের তৈজসপত্র স্বাস্থ্যের পক্ষে কম ঝুঁকিপূর্ণ। স্টিলের অভ্যন্তর ভাগ অ্যালুমিনিয়াম কিংবা তামা দিয়েই তৈরি হলেও এর ওপরে পুরু আস্তরণ থাকে স্টিল বা দস্তার, যার কারণে অ্যালুমিনিয়াম অথবা তামা আস্তরণ ভেদ করে খাবার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না। তাপ সুপরিবাহী বলেই তামা ও অ্যালুমিনিয়াম এতে ব্যবহার করা হয়।

ভাল মানের স্টিল দেখতে ভাল, কাজেও ভাল৷ এই ধরনের বাসন থেকে কোনও ক্ষতিকর ধাতু খাবারে এসে মেশে না৷ যদিও আয়রন, ক্রোমিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ মিশলে বরং ভাল, কারণ আমাদের শরীরে এদের প্রয়োজনীয়তা আছে৷

কিছু স্টিলের পাত্রে অ্যালুমিনিয়াম বা তামার প্রলেপ দেওয়া থাকে৷ কখনও আবার পাত্রের নীচে থাকে তামার প্রলেপ৷ অনেকক্ষণ তাপ ধরে রাখার জন্যই এসব করা হয় সচরাচর৷ তবে স্টিলের দুটি স্তরের মাঝে স্যান্ডুইচের মতো করে দেওয়া থাকে বলে, প্রবল ঘষাঘষিতে উপরের স্তর উঠে না গেলে কোনও ক্ষতি হয় না৷

নন–স্টিক প্যান: ১৯৪৬ সালে টেফলন কোটিংয়ের হাত ধরে সে প্রথম আসে বাজারে। তারপর একে একে সিলভারস্টোন, টেফাল, অ্যানোলন, সার্কুলন, সেফালন ও আরও অনেকে আসতে থাকে। মূলত অ্যালুমিনিয়মের সঙ্গে বিভিন্ন উপায়ে এদের জুড়ে এ সব বাসন বানানো হয়। সাম্প্রতিক গবেষণা থেকে জানা গিয়েছে এই সব উপাদানের সঙ্গে বন্ধ্যাত্ব, পড়াশোনার দক্ষতা কমে যাওয়া ও ওজন বাড়ার একটা যোগ আছে। কাজেই রান্নায় একটু বেশি তেল লাগলেও নিয়মিত নন–স্টিক প্যান ব্যবহার না করে নিরাপদ স্টেইনলেস স্টিলের পাত্রে রান্না করুন। লোহার পাত্রে করতে পারলে তা স্বাস্থ্যের জন্য আরও ভাল।


আধুনিক রান্নাঘরে ননস্টিক প্যান বহুল ব্যবহৃত একটি উপাদান। ডিম ভাজা থেকে শুরু করে যেকোনো তরকারি রান্নার ক্ষেত্রে আমরা এই ধরনের জিনিসপত্র ব্যবহার করি। এসব পাত্রে যেমন দ্রুত রান্না করা যায়, তেমন পরিস্কারও করা যায় ঝামেলাহীনভাবে। সাধারণত এসব কারণে গৃহিণীদের কাছে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ননস্টিক’র পাত্র। ফলে বিক্রিও হচ্ছে বেশ। ক্রেতারা বলছেন, দেখতে সুন্দর, দ্রুত রান্না ও পরিস্কার করা যায় বলে এমন পাত্র ব্যবহার করেন তারা।

তবে আপাতদৃষ্টিতে দেখতে আকর্ষণীয় এসব পাত্রে রান্না কতোটা স্বাস্থ্যসম্মত তা অনেকেরই অজানা। গবেষণায় দেখা গেছে, ননস্টিক পাত্রে রান্না শরীরের জন্য ক্ষতিকর। এ ধরণের পাত্র পারফ্লুরোকট্যানয়িক নামে এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ দিয়ে আবৃত থাকে। তাই ননস্টিক পাত্রে রান্না করা খাবার খেলে মানবদেহের ক্ষতি হতে পারে। আপনি কি জানেন ননস্টিক আবরণ টিউমারসহ বিভিন্ন ধরনের রোগ তৈরি করতে পারে?

ননস্টিক দিয়ে তৈরি রান্না করার জিনিসপত্রে যে ধরনের রাসায়নিক উপাদান থাকে সেগুলো রান্নার সময় খাবারের মধ্যে চলে যায়। রান্নার সময় তাপ এসব জিনিসপত্র থেকে বিষাক্ত পদার্থ নির্গত করে, যা খাবারকে বিষাক্ত করে তোলে। তাই বিশেষজ্ঞরা বলেন, ননস্টিক পাত্রে রান্না করলে কম তাপে রান্না করা ভালো। 

তবে শুধু যে ননস্টিক পাত্র থেকেই আপনার স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারে, তা কিন্তু নয়। রান্নার আরো অনেক জিনিস থেকেই এই ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। রান্নার জিনিসপত্র বা যেসব পাত্রে আমরা খাবার রাখি, সেগুলোর কারণেও অনেক সময় খাবার অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠতে পারে। কড়াই, থালাবাটির ওপর দেওয়া প্রলেপ এবং সেসব পাত্র তৈরির জন্য যে রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হয় সেগুলো বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। 

ননস্টিক প্যানে রান্না করা শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকর। ননস্টিক প্যান পারফ্লুরোকট্যানয়িক নামক একটি অম্লীয় উপাদান দিয়ে আবৃত থাকে। যখন প্যানকে তাপ দেওয়া হয়, উপাদানটি খাবারের মধ্যে চলে যায়। আর এই খাবার খেলে শরীরে সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এর কারণে অনেক সময় টিউমারও হতে পারে।  

নিরাপদ বিকল্প লোহার পাত্র: ননস্টিক প্যানের চেয়ে লোহার পাত্র ব্যবহার করা নিরাপদ। এর স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি কম থাকে। লোহার তৈরি তৈজসপত্র এখনো টিকে আছে কোথাও কোথাও। লোহা দিয়ে তৈরি বলে এর উপরিভাগ রান্নার জন্য বেশ সুবিধাজনক। স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর নয়।

লোহার পাত্র দেখতে খুব একটা ভাল হয় না৷ তার উপর এতে রান্না করলে খাবার অনেক সময় কালো হয়ে যায়৷ টমেটো, লেবুর রস বা ভিনিগার দিয়ে করলে তো আর কথাই নেই৷ কিন্তু এসব না ভেবে যদি লোহার কড়াই ব্যবহার করেন, কড়াই থেকে লোহা খাবারে মিশে পুষ্টি বাড়িয়ে দেবে৷ তবে হ্যাঁ, পলিসাইথিমিয়া নামে বেশি রক্ত থাকার অসুখ বা থ্যালাসেমিয়া রোগ থাকলে নিয়মিত ব্যবহারে সমস্যা হতে পারে৷

খাওয়া-দাওয়ার বেলায় সবারই মনোযোগ থাকে খাবার সামগ্রি ও মশলার দিকে। স্বাস্থ্য ঠিক থাকে এ রকম চিন্তা মাথায় রেখেই খাবার বাছাই করা হয়। কিন্তু যেসব পাত্রে খাবার রান্না হচ্ছে, এ পাত্রের উপাদান মিশে গিয়ে খাবার দূষিত হতে পারে। তা থেকে আপনার স্বাস্থ্যহানীও হতে পারে। খাবার রান্নার পাত্র সুস্বাস্থ্য়ের একটি মাপকাঠিও বটে।

প্লাস্টিক: প্লাস্টিক পাত্রে জল ও খাবার রাখলে এমনিতেই বিপিএ নামের ক্ষতিকর রাসায়নিক তাতে মিশে যায়। আর গরম করলে তো কথাই নেই। টমেটো–ভিনিগার–লেবু রস বা নুন–তেল–ঘি–মাখনস্ খাবার প্লাস্টিক পাত্রে রাখলে বন্ধ্যাত্ব, হৃদ্‌রোগ, ব্রেনের কিছু অসুখ ও ক্যান্সারের আশঙ্কা বেড়ে যায়। ওজন বাড়ার আশঙ্কাও থাকে।

প্লাস্টিক কনটেইনার মাইক্রোওয়েভ ওভেনে দিয়ে কিছু গরম করে খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এটি খাদ্যদ্রব্যকে বিষাক্ত করে দেয়। এর মধ্যে বিসফোনেলে (বিপিএ) নামক একটি উপাদান রয়েছে। এটি হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই প্লাস্টিক কনটেইনারের মধ্যে খাবার তাপ দেওয়া এবং সংরক্ষণ করা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। 

প্লাস্টিকের তৈরি একবার ব্যবহারের উপযোগী বোতল কিংবা অন্যান্য জিনিস বারবার ব্যবহার করা উচিত নয়। প্লাস্টিকের পণ্য কেনার আগে মানের দিকটি পরীক্ষা করে কিনুন, এবং নিশ্চিত হয়ে নিন তা ‘ফুড গ্রেড’ উপকরণ দিয়ে তৈরি কি না। যেসব প্লাস্টিক ‘ফুড-গ্রেড’ নয়, আলট্রা ভায়োলেট রশ্মি কিংবা মাইক্রোওয়েভ রশ্মির কারণে তাপের সংস্পর্শে এলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হয় ডাই-অক্সেন। এটি স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থা এই ডাই-অক্সেনকে মানবদেহের কারসিনোজেন উপাদান হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যেগুলো ক্যানসার সৃষ্টির জন্য দায়ী।

অধ্যাপক মো. নূরনবী বিশেষভাবে জোর দিয়ে বলেন, শিশুদের খাবার রাখা বা পরিবেশনে প্লাস্টিক কিংবা মেলামিনের পাত্র, চামচ ইত্যাদি ব্যবহার না করাই ভালো। তার চেয়ে বরং কাচের পাত্রে রাখুন। কারণ, কাচের বাসনকোসনের কোনো ক্ষতিকর প্রভাব নেই।

মেলামাইন: প্লাস্টিকের চেয়ে অনেক ভাল। তবে এতে খাবার গরম করা বা রান্না না করাই ভাল, যতই তা মাইক্রোওভেন প্রুভ্ড বলা হোক না কেন। কারণ গলে না গেলেও এ থেকে সামান্য পরিমাণে বিষাক্ত পদার্থ বেরিয়ে খাবারে মিশতে পারে৷ মাইক্রোওয়েভ আভেন বা ডিশ ওয়াশারের তাপেও একই ব্যাপার ঘটতে পারে, যতই তা মাইক্রোওভেন-টেকসই বলা হোক না কেন৷

সিরামিক বা চীনামাটি: পৃথিবীর সবচাইতে নিরাপদ কুকওয়্যার সেট হল কাচের তৈরি বা সিরামিকের পাত্র। যদিও সব জায়গাতে কাচের তৈরি রান্নার পাত্র সহজলভ্য নয় আর কিছুটা ভঙ্গুর বলে অনেকেই এই ধরণের পাত্রে রান্না করতে ইচ্ছুক নন। তবে,সুস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করলে আপনাকে কাচের তৈরি পাত্রের প্রতি ভরসা রাখতেই হবে।যেভাবে খুশি ব্যবহার করা যায়। আগুন–গরম খাবার যেমন খাওয়া যায়, এতে রান্না করলেও ক্ষতি নেই। মাইক্রোওভেন, ডিশ ওয়াশার বা ব্রয়লারের তাপেও সে ঠিকঠাক থাকে। দেখতেও সুন্দর। তবে, সিরামিক বা কাচের পাত্রে যেকোন ধরণের ফাটল দেখা দিলে তা ব্যবহার বাদ দিতে হবে। আর মেলামাইনের তুলনায় দাম একটু বেশি।

চিনা সিরামক স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ। সিরামিকের তৈরি কাপ, প্লেট ইত্যাদি জিনিসগুলো স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ নয়। আপনি মাইক্রোওয়েভ ওভেনে সিরামিক কাপে চাও বানাতে পারেন।

সিরামিকের তৈরি বাসনপত্র সবদিক থেকে স্বাস্থ্যসম্মত। এতে চকচকে ভাব আনার জন্য সিসার প্রলেপন থাকলেও তা খাবার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না।

বোন চায়না ও পোর্সেলিন: ডিনার সেট হিসেবে অনবদ্য। মাইক্রোওভেনে খাবার গরম করতেও ব্যবহার করতে পারেন। পোর্সেলিন দেখতে ভাল, টেকসই, নিরাপদ। মাইক্রোওভেন, সাধারণ ওভেন বা ডিশ ওয়াশারে ব্যবহার করতে পারেন আরামসে। তবে অনেক পোর্সেলিনের বাসনে সৌন্দর্যের খাতিরে বিভিন্ন ধাতু দিয়ে একটু ডিজাইন করা থাকে। সেক্ষেত্রে কিন্তু তা আর মাইক্রোওভেনে ব্যবহার করা যাবে না।

মাটি বা পাথরের বাসন: আগেকার দিনে মাটির হাড়িতে ভাত রান্না করার চল ছিল। জল রাখা হত মাটির কলসি বা কুঁজোতে। পাথরের বাসনে খেতেন কেউ কেউ। ঠাকুরের নৈবেদ্য দেওয়া হত পাথরের বাসনেই। আজকাল অনেকে শখ করে এ সব ব্যবহার করেন। ক্ষতি কিছু নেই। তবে বাসনের রূপ–গুণ অক্ষুণ্ণ রাখতে চাইলে তাকে মাইক্রোওভেন থেকে দূরে রাখবেন।

কপার বা তামা: কপার ও নিকেলের পাত্র শরীরের জন্য ক্ষতিকর। যখন কপার ও নিকেলের পাত্রে তাপ দেওয়া হয়, সেখান থেকে এক ধরনের বিষাক্ত পদার্থ উৎপন্ন হয়। এটি খাবারে প্রবেশ করে এবং আপনার স্বাস্থ্যকে ঝুঁকির মুখে ফেলে।এজেন্সি ফর টক্সিক সাবস্ট্যান্স ও ডিজিজ রেজিস্ট্রি (এটিএসডিআর)–এর প্রায়োরিটি টক্সিন তালিকার বেশ উঁচুতেই রয়েছে তামার নাম। অর্থাৎ শরীরে এর পরিমাণ খুব বেড়ে গেলে, ঝামেলা আছে। উল্টো দিকে আবার সুস্বাস্থ্যের জন্য এর প্রয়োজন আছে। ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্স–এর ডায়াটারি রেফারেন্স ইনটেক্স–এর মতে পূর্ণবয়ষ্ক মানুষের দিনে ৯০০ মাইক্রোগ্রামের মতো তামা দরকার। আর তার পরিমাণ ১০,০০০ মাইক্রোগ্রাম বা ১০ মিলিগ্রামের চেয়ে বেড়ে না গেলে কোনও ক্ষতি নেই। কাজেই এই সব বাসনপত্রে রান্না করলে কী খেলে ক্ষতি নেই।

নিরাপদ বিকল্প মরিচা রোধক ইস্পাত: কপারের পাত্র ব্যবহার না করে এর বিকল্প হিসেবে প্রলেপযুক্ত ইস্পাত ব্যবহার করতে পারেন। তবে নিশ্চিত হতে হবে এটি নিকেল মুক্ত কি না এই বিষয়ে। তবে প্রলেপযুক্ত ইস্পাতের পাত্রে রান্না করার সময় কম তাপে রান্না করবেন।     

মেলামিন: মেলামিন রেজিন তৈরি হয় ইউরিয়া ও ফরমালডিহাইডের মিশ্রণে। তাপের অনুপস্থিতিতে এই মেলামিন রেজিন অপরিবর্তিত থাকে। ওভেনে মেলামিনের জিনিস কখনোই দেওয়া যাবে না, তাপের সংস্পর্শে মেলামিন রেজিনের রাসায়নিক উপাদানগুলো আলাদা হয়ে পড়ে, যা বিষাক্ততার জন্য দায়ী।

লেড: লেডের তৈরি জিনিসপত্র স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। চকচকে করার জন্য রান্না করার জিনিসপত্রে অনেক সময় লেড ব্যবহার করা হয়। তাই এসব বিষয়ে সচেতন থাকা প্রয়োজন।

কাটিং বোর্ড: ছুড়ি দিয়ে সবজি কাটতে হলে চাই কাটিং বোর্ড। পরিষ্কার রাখার সুবিধার জন্য আমরা সচরাচর প্লাস্টিকের বোর্ড ব্যবহার করি। ‘ভাল করে পরিষ্কার না করলে কিছু দিন পরই এর খাঁজে খাঁজে ই–কোলি সালমোনেলা জাতীয় জটিল জীবাণুর বাড়–বৃদ্ধি হয়। তা সবজিতে মেশে। রান্নার তাপে তারা সব সময় মরে না। ফলে খাবারের মাধ্যমে অন্ত্রে বাসা বাঁধলে জটিল পেটের গোলমাল হওয়ার আশঙ্কা থাকে। কাজেই কাঠের বা রবারের কাটিং বোর্ড ব্যবহার করা ভাল, যেখানে এ সব জীবাণু জন্মাতে পারে না।’ জানালেন পুষ্টিবিদ প্রিয়াঙ্কা মিশ্র।

এছাড়াও যেই চাকু-বটি দিয়ে মাছ-মাংস কাটবেন, সেই চাকু-বটি দিয়ে সবজি বা ছালাদ কাটা যাবে না, সালাদ-তরকারি কাটার জন্য আলাদা চাকু-বটি প্রয়োজন। কারণ মাছ মাংসের রক্ত এবং জীবাণু সবজি ও সালাদের ভিতরে প্রবেশ করতে পারে। যেহেতু মাছ-মাংস একটু বেশি হিট দিতে হয়, তাতে সেই জীবাণু মরে যেতে পারে। কিন্তু মাছ-মাংস কাটার পরে সেই জীবাণু সমৃদ্ধ চাকু-বটি দিয়ে (গরম পানি ও জীবাণু নাশক ব্যবহার করে পরিষ্কার না করে) আবার সালাদ-তরকারি কাটলে, জীবাণু সালাদ-তরকারির ভিতরে ঢুকে যেতে পারে। সালাদ তো হিট দেয়ার প্রয়োজন নেই, আর শাকসবজি অল্প হিটেই খেতে হয়, আর জীবাণু এই অল্প হিটে মরে না।

তথ্যসূত্র:

  • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মো. নূরনবী, প্রথম আলো।
  • পুষ্টিবিদ প্রিয়াঙ্কা মিশ্র, আনন্দবাজার।
  • বোল্ডস্কাই> এনটিভি।
  • কালের কণ্ঠ।
  • আরটিভি।
  • একুশে টিভি।
  • Edited: Natural_Healing.

1 টি মন্তব্য:

Popular Post

Blogger দ্বারা পরিচালিত.