First Aid Present

Lifestyle Modification এবং প্রাকৃতিক খাদ্য, পানীয়, শাকসবজি, গাছ, ডালপালা, ফল, মসলা, পাতা ও ফুল ইত্যাদির দ্বারা প্রাথমিক চিকিৎসা।

(First Aid Box With Kit) প্রাথমিক চিকিৎসা বক্সে কি কি থাকে?

প্রাথমিক চিকিৎসার বাক্স:

যে ছোট বাক্স বা থলিতে প্রাথমিক চিকিৎসার সব ধরনের জরুরি উপকরণ মজুদ থাকে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা বাক্স বলে। ইংরেজিতে এটি First Aid Box নামে পরিচিত। বাড়িতেও কখনো কখনো ঘটে যেতে পারে দুর্ঘটনা। তাই বাড়িতে গরম পানি, আগুন, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, ধারালো জিনিস ব্যবহার ও সংরক্ষণে সতর্ক তো থাকতেই হবে, পাশাপাশি আকস্মিক দুর্ঘটনা ঘটে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসার উপকরণ হাতের কাছে থাকা ভালো। ছোট একটি বাক্সে এসব গুছিয়ে রাখতে পারেন। বাক্সটি রাখতে হবে হাতের নাগালে। তবে শিশুদের নাগাল থেকে বাঁচাতে একটু উঁচু স্থান বেছে নিন। এই বাক্স হচ্ছে অতি দরকারি জিনিস। প্রয়োজনের সময় হাতের নাগালে এটি থাকলে খুব সহজেই রোগীকে প্রাথমিকভাবে সামাল দেওয়া যায়। এতে রোগীসহ আশপাশের লোকজনের অস্থিরতাও অনেক কমে। এটি সহজেই বহনযোগ্য এবং এর উভয় দিকে First Aid Box লেখা থাকে।

যেকোনো সময় ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। তাই প্রত্যেক বাসাবাড়িতে প্রাথমিক চিকিৎসার বক্স রাখা উচিত, যেখানে থাকবে প্রয়োজনীয় উপকরণ।

দেখুন, প্রাথমিক চিকিৎসা কাকে বলে...?

আপনার যেকোনো সময় কেটে যেতে পারে। এটি আপনি কাটা জায়গায় লাগাবেন। আমরা বলি যে অয়েন্টমেন্ট আছে, ক্রিম আছে, লোশন আছে। বিটাডিন নামে পাওয়া যেতে পারে। এটি আপনার প্রয়োজনীয় মুহূর্তে কাটা জায়গায় লাগাতে পারেন। আমরা সব সময় ব্যবহার করি, স্যাভলন আছে। স্যাভলন সেখানে লাগাতে পারেন। হেক্সিসল নামে এক ধরনের সলিউশন পাওয়া যায়, আপনি সেটা রাখতে পারেন। কেটে গেলে দেখা যায় অনেক সময় গজ-ব্যান্ডেজের প্রয়োজন হতে পারে। আপনার ফার্স্ট এইড বক্সে গজ-ব্যান্ডেজ রাখতে হবে।

First Aid Kit বা প্রয়োজনীয় উপকরণ এবং এর ব্যবহার:

প্রাথমিক চিকিৎসা বাক্স স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালত, কলকারখানা, এমনকি বাসাবাড়িতে বা গাড়িতেও রাখা যায়। বাসায় ও গাড়িতে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য খুব অল্প সময়ের মধ্যে এই বাক্স থেকে প্রয়োজনের জিনিসটা তুলে নেওয়া যায়। একটি প্রাথমিক চিকিৎসা বাক্সে সাধারণত থাকে জীবাণুমুক্ত গজ কাপড়, রোলার ব্যান্ডেজ, কাঁচি ও চিমটা, হাতমোজা, লিউকোপ্লাস্ট, পচনরোধক মলম, ক্রেপ পট্টি, বার্ন ক্রিম, ব্যথার ওষুধ, অ্যান্টিহিস্টামিন, নিরাপদ পিন, থার্মোমিটার, রক্তচাপ পরীক্ষণ যন্ত্র, লেখার খাতা ইত্যাদি। লেখার খাতা থাকে জরুরি ফোন নম্বর ও মন্তব্য লেখার জন্য, বিশেষ করে ডাক্তার ও অ্যাম্বুল্যান্স নম্বর লিখে রাখা হয় এই খাতায়। ব্যথার ওষুধ হিসেবে প্যারাসিটামল, আইবুপ্রফেন, ডাইক্লোফেনাক ইত্যাদি থাকে। ব্যথার ওষুধের পাশাপাশি কিছু গ্যাস্ট্রিকের ওষুধও রাখা যায়।

  • জীবাণুমুক্ত গজ কাপড়: ক্ষত হতে রক্ত পড়া বন্ধ করে এবং বাহ্যিক জীবাণুর সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে। এটা ক্ষত হতে তরল পদার্থ শুষে নেয় ও ক্ষত স্থান নিরাপদ রাখে। এটি সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান রাখা প্রয়োজন।
  • রোলার ব্যান্ডেজ: সাধারণত ড্রেসিংকে জায়গা মতো আটকে রাখতে ও ব্যান্ডেজে চাপ দিয়ে রক্তপাত বন্ধ করতে হলে রোলার ব্যান্ডেজ ব্যবহার করা হয়।
  • তুলা বা কটন: তুলা ছোট ও বড় প্যাকেট—দুভাবেই পাওয়া যায়। নিরাপত্তার জন্য প্যাকেট তুলাই ভালো।
  • কাঁচি: ব্যান্ডেজ কাটতে এবং ক্ষতস্থানে চুল বা লোম কাটতে কাঁচির প্রয়োজন হয়।
  • চিমটা (ফরসেপ): ক্ষতে কাঁচের টুকরা, ময়লা কিমবা কাঁটা উঠাতে চিমটা ব্যবহার হয়। অনেক সময় ক্ষতে ক্ষুদ্র আঠালো ময়লা থাকে, যেগুলোকে তুলা দিয়ে মুছে ফেলা যায় না, আবার পানি দিয়েও পরিষ্কার হয় না। এ ক্ষেত্রে চিমটা কাজে আসতে পারে।
  • হাতমোজা বা সার্জিক্যাল গ্লাভস: হাত জীবাণুমুক্ত রাখতে এবং ক্ষতস্থানে হাতের প্রয়োগ করতে হাতমোজার প্রয়োজন হয়। পানি বা সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নেওয়ার কোনো দরকার নেই; যদি থাকে ডিসপোজেবল গ্লাভস। ক্ষত ময়লা হাত দিয়ে পরিষ্কার করার চেয়ে এটা পরে করা নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত।
  • লিউকোপ্লাস্ট: ব্যান্ডেজকে ক্ষতের উপর আটকাতে লিউকোপ্লাস্টের দরকার হয়।
  • ক্রেপ ব্যান্ডেজ বা পট্টি: হাড় ফেটে গেলে বা ভেঙ্গে গেলে বা কোথাও মচকে গেলে ক্রেপ ব্যান্ডেজ (এক ধরনের ভাঁজযুক্ত পট্টি) ব্যবহারে ব্যথা কমে, ফোলাও ক্রমে কমে আসে। এতে উক্ত স্থান নাড়াচাড়া কম হয় যাতে হাড় সরে যাওয়া ও ব্যথা পাওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে।
  • নিরাপদ পিন: ব্যান্ডেজ আটকাতে এবং ক্ষতের কাঁটা বা ময়লা উঠাতে প্রয়োজন হয়।
  • টর্চ: টর্চের ফার্স্ট এইড উপকরণ হিসেবে ব্যবহার বলে শেষ করা যাবে না। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ।
  • মাইক্রোপোর: এটি সাদা রঙের পাতলা একটি জিনিস, যা স্কচটেপের মতো আটকানো যায়।
  • লেখার খাতা কলম: জরুরি ফোন নম্বর ও মন্তব্য লেখার জন্য। বিশেষ করে ডাক্তর ও অ্যাম্বুলেন্স নম্বর রাখার জন্য। তাই  হাতের কাছে হাসপাতাল, ব্লাড ব্যাংক, অ্যাম্বুলেন্স বা অন্য কোন গাড়ির ড্রাইভারের নাম্বার, ডাক্তারের ফোন নম্বর রাখুন। জরুরি প্রয়োজনে দারুণ কাজে আসবে।
  • তাপমান যন্ত্র বা থার্মোমিটার: রোগীর দেহের তাপমাত্রা মাপতে ও জ্বরের পরিমাপ করতে তাপমান যন্ত্র বা থার্মোমিটার ব্যবহার হয়। এর মাধ্যমে প্রয়োজনমতো রোগির জ্বর মেপে পদক্ষেপ নিতে পারবেন।
  • (প্রেসার) রক্তচাপ পরীক্ষণ যন্ত্র বা স্ফিগমোম্যানোমিটার : রোগীর রক্তচাপ মাপতে ব্যবহার করা হয়। সম্ভব হলে রক্তচাপ পরিমাণ যন্ত্র সর্বদা প্রাথমিক চিকিৎসা বাক্সে রাখা উচিত। বিশেষ মুহূর্তে এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। একটু শিখে নিলে এটি দিয়ে সহজেই রক্তচাপ মাপা যায়। এখন ডিজিটাল যন্ত্র পাওয়া যায়, যা দিয়ে সহজেই রক্তচাপ মাপা যায়।
  • ডায়াবেটিস মাপার যন্ত্র বা গ্লুকোমিটার: যেসব রোগীর ডায়াবেটিকস এর প্রবলেম আছে তারা এটা বাড়িতে রাখতে পারেন। কারও রক্তের শর্করা কমে বা বেড়ে গিয়ে অচেতন হয়ে যেতে পারেন। সে ক্ষেত্রে এটি খুবই কার্যকর একটি উপকরণ হতে পারে।
  • পালস অক্সিমিটার: বর্তমানে এটি একটি জরুরি উপকরণ হয়ে পড়েছে। এই করোনা মহামারিতে কারও জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট হলে এটি দিয়ে সহজেই রক্তের অক্সিজেনের মাত্রা ও হৃৎস্পন্দনের মাত্রা জানা যায়।
  • ওষুধ: গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ, কিছু ব্যথানাশক ওষুধ, পেট খারাপের ওষুধ, মাথা ঘোরা, মাথাব্যথার ওষুধ, খাওয়ার স্যালাইন, বমি, জ্বরের ওষুধ ইত্যাদি বক্সে থাকলে বিশেষ মুহূর্তে খুবই কাজে লাগে। বার্ন ক্রিম, ব্যথানাশক মলম, অ্যালার্জির ওষুধও রাখা যায়। পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটও বক্সে রাখা যেতে পারেন।
  • পচনরোধক মলম: ক্ষতস্থান পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করতে জীবাণুনাশক ও পচনরোধক মলম (অ্যান্টিসেপটিক ক্রিম) ব্যবহার করা হয়। যেমন- স্যাভলন, ডেটল, হাইড্রোজেন-পার-অক্সাইড, পভিসেভ ইত্যাদি।
  • জীবাণুনাশক বা অ্যান্টিসেপটিক: স্যাভলন বা ডেটল, হেক্সিসল, পোভিডন আয়োডিন দ্রবণ—এমন নানা রকম অ্যান্টিসেপটিক বক্সে রাখতে পারেন। কিছু অ্যান্টিসেপটিক ক্রিমও পাওয়া যায়, যা অনেক উপকারী। 
  • ব্যথার ওষুধ: প্রাথমিক চিকিৎসা বাক্সে ব্যথানাশক ওষুধ থাকা খুব প্রয়োজন। যেমন- প্যারাসিটামল, আইবুপ্রফেন, ডাইক্লোফেনাক ইত্যাদি। ব্যথার ওষুধের সাথে কিছু গ্যাস্ট্রিক (পাকস্থলীর) ওষুধ রাখা ভাল।
  • অ্যান্টিহিস্টামিন: হিস্টাসিন, ফেক্সােফেনাডিন, এলাট্ট্রল, ইত্যাদি ওষুধ প্রাথমিক চিকিৎসা বাক্সে থাকা জরুরি। অ্যালার্জিজনিত প্রতিক্রিয়া, সর্দি, হাঁচি, কাশি, চুলকানি ও পোকামাকড়ের কামড়ের চিকিৎসায় কাজে লাগে।
  • দগ্ধ মলম: পোড়া জায়গার ব্যথা কমাতে এবং ঘা শুকাতে দগ্ধ মলম (বার্ন ক্রিম) ব্যবহার করা হয়। যথা- সিলভারজিন ক্রিম (সিলভার সালফাডায়াজিন ১% ক্রিম, যা শুধু বাহ্যিক ব্যবহার্য)। অ্যালোভেরা জেলও পোড়া, চুলকানি ও চামড়ায় র‌্যাশ হলে ব্যবহার করা হয়। ক্যালেন্ডুলা ও আরটিকা ইউরেন্স বার্ন ক্রিম দ্রুত ব্যথা কমায়। 
আরোও পড়তে পারেন...

আরও যা কাজে লাগে- পানি, বরফ, মাঝারি আকারের শক্ত কাঠ, চিনি বা গ্লুকোজ।

প্রতিটি বাসাবাড়িতে প্রাথমিক চিকিৎসার বাক্স রাখা জরুরি। তবে বাসার এমন স্থানে তা রাখতে হবে, যাতে প্রয়োজনের সময় যে কেউ সেটা ব্যবহার করতে পারে। খেয়াল রাখতে হবে, বাক্সের কোনো ওষুধের মেয়াদ পার হয়েছে কি না। হলে তা পাল্টে নতুন ওষুধ রাখতে হবে। পরিবারের সবাইকে এই সরঞ্জামের ব্যবহার শেখাতে হবে। 

তথ্যসূত্র:

  • ডাক্তার সাকলায়েন রাসেল, এনটিভি।
  • ডাক্তার মোঃ শরিফুল ইসলাম, এবং ডাক্তার রাফিয়া আলম, প্রথম আলো।
  • কালের কণ্ঠ।
  • বাংলাদেশ প্রতিদিন।
  • উইকিপিডিয়া।
  • Edited: Natural_Healing.

কোন মন্তব্য নেই

Popular Post

Blogger দ্বারা পরিচালিত.