(Basic First Aid Procedures) বিভিন্ন দুর্ঘটনায় কিভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা করবেন?
যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটে যেতেই পারে। এ ক্ষেত্রে চটজলদি চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া সম্ভবপর হয় না। এমতাবস্থায় প্রাথমিক চিকিৎসা আহত ব্যক্তিকে সাময়িক আরাম প্রদান করে তার জীবন রক্ষা করে। প্রাথমিক চিকিৎসা যে কোনো আহত ব্যক্তিকে অনেক বড় বিপদের হাত থেকে উদ্ধার করার অন্যতম সহায়ক উপায়। তাই যে কোনো বড় বিপদ এড়াতে প্রাথমিক চিকিৎসার জ্ঞান থাকা অপরিহার্য। দুর্ঘটনা ছোট ও বড় যে কোনো ধরনের হতে পারে। মাংসপেশিতে চাপ লাগা, নখ কাটতে গিয়ে দেবে যাওয়া, চোখে কিছু পড়া, হাতে গরম ভাপ লাগা ইত্যাদি ছোট আঘাতের পাশাপাশি অজ্ঞান হওয়া, তড়িতাহত হওয়া, পানিতে ডোবা ইত্যদি বড় ধরনের দুর্ঘটনাও ঘটে থাকে। এ সময় ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নাও হতে পারে। যদি প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে জ্ঞান না থাকে তবে আহত ব্যক্তি অতিমাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কিন্তু যদি প্রাথমিক চিকিৎসার সহায়তা নেয়া যায় তবে প্রাথমিকভাবে আহত ব্যক্তিকে সাময়িক আরাম প্রদান করা যায় এবং বিপদও অনেকাংশে দূর করা সম্ভব হয়। যদি প্রাথমিক চিকিৎসা জ্ঞান না থাকে তবে আহত ব্যক্তির প্রাণহানি ঘটারও আশংকা থাকে যে কোনো দুর্ঘটনায়। তাই যে কোনো দুর্ঘটনার পর আরও কোনো বড় বিপদ যেন না আসে তা প্রতিহত করতে প্রাথমিক চিকিৎসার জ্ঞান অপরিহার্য। তাই বলা যায়, প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে জ্ঞান আমাদের অনেক বড় বিপদ থেকে রক্ষা করে।
| যেকোনো দুর্ঘটনায় ছোটখাটো ক্ষতি বা মৃত্যুর আশঙ্কা থেকে নিজেকে রক্ষার জন্য সব সময় প্রস্তুত থাকুন। |
- হঠাৎ কেটে গেলে: ছোট ও অগভীর স্থান থেকে রক্তপাত তেমন হয় না। রক্তপাত হলে ক্ষতস্থানটি চাপ দিয়ে ধরে রাখুন। আক্রান্ত স্থানটি এমনভাবে রাখুন, যেন তা হৃৎপিণ্ডের অবস্থান থেকে একটু উঁচুতে থাকে। বেশি নড়াচড়া করলে রক্তপাত বাড়তে পারে। রক্তপাত বন্ধ হলে পরিষ্কার তুলা বা গজের সাহায্যে অ্যান্টিসেপটিক ক্রিম বা দ্রবণ দিয়ে ক্ষতস্থান পরিষ্কার করে নিন। এরপর ব্যান্ডেজ করে রাখুন। ক্ষতস্থান খোলা রাখা ঝুঁকিপূর্ণ। এক্ষেত্রে বিভিন্ন আকারের আঠাযুক্ত ব্যান্ডেজ রাখুন। বেশি রক্তপাত হলে বা ফিনকি দিয়ে রক্ত পড়লে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।রক্তপাত বন্ধ করতে টেপ ও গজ কাপড় দুটোই প্রয়োজন। দুটো মিলিয়ে বড় ব্যান্ডেজ তৈরি করতে হয়। তাই দুটোই রাখুন। রক্তপাত বন্ধের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে কিছু না পেলে দূর্বাঘাস পেষ্ট করে লাগিয়ে নিন। মৃদু ব্যথা সারানোর ওষুধ শুধু প্রাথমিক চিকিৎসার বাক্সে নয়, দৈনন্দিন ব্যবহার্য ব্যাগে রাখাও জরুরি। তবে সামান্য ব্যথাতেই টপ করে ওষুধ খাওয়াও ঠিক নয়। Bleeding বা রক্তপাত সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে......
- কারেন্টের শকড বা তড়িতাহত হলে: বিদ্যুৎ প্রবাহ রয়েছে এমন কোনো খোলা তারের সংস্পর্শে এলে যে কোন ব্যক্তির দেহে বিদুৎতায়ন হয়ে অনেক আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে থাকেন। একেই বলে শক খাওয়া। যে কারণে সেই ব্যক্তি আহত কিংবা বড় কোনো বৈদ্যুতিক শক খেলে তার মৃত্যুও হতে পারে। এরকম ঘটনা আমরা মাঝে মধ্যেই দেখি। এ ঘটনাগুলো সংঘটিত হওয়ার প্রধান কারণ অবহেলা অথবা অসাবধানতা। অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী মিতু। তার বান্ধবী রিফাকে নিয়ে ছাদে যায়। রিফা একটি তার দেখে তা পা দিয়ে সরাতে যায়। ফলে সে তড়িতাহত হয়। মিতু দৌড়ে গিয়ে একটি লাঠি এনে রিফাকে জোরে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয় এবং প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কিছুটা সুস্থ করে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যায়। বিদ্যুৎস্পৃষ্টদের জন্য করণীয় বেশকিছু বিষয় আছে। তড়িতাহত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বৈদ্যুতিক মেইন সুইচ বন্ধ করে দিতে হবে। কোনো কারণে সুইচ বন্ধ করতে না পারলে মিতুর পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে। অর্থাৎ শুকনা কাঠ বা বাঁশ দিয়ে রিফার মতো তড়িতাহতকে ধাক্কা দিতে হবে। এরপর হাতে রবারের দস্তানা এবং পায়ে রবারের স্যান্ডেল পরিধান করে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ব্যক্তিকে উদ্ধার করতে হবে। শ্বাসক্রিয়া চলছে কি না তা পরীক্ষা করতে হবে। যদি না চলে তবে মুখে মুখ লাগিয়ে কৃত্রিমভাবে শ্বাসক্রিয়া চালাতে হবে। এরপর বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ব্যক্তিকে কাঠের ওপর শুইয়ে দিয়ে (তেল) মালিশ করে তার রক্ত চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে। এভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান শেষে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে। উক্ত ঘটনায় মিতুকেও এসব পদ্ধতি অবলম্বন শেষে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে দেখা যায়। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ব্যক্তির জন্য এগুলোই করণীয়। (Electric shock) electrostatic সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে....
- উত্তাপে দুর্ঘটনা: ত্বকে গরম পানি পড়লে, কোনো কিছুর ছ্যাঁকা বা গরম ভাপ লাগলে আক্রান্ত স্থানটি কলের পানির নিচে রাখুন অন্তত আধা ঘণ্টা। পরিষ্কার কাপড় দিয়ে মুছে টুথপেস্ট লাগিয়ে দিন। আর ডাক্তারি বার্ন ক্রিম থাকলে আরও ভালো। এরপর মলম বেশ পুরু করে লাগিয়ে রাখুন আক্রান্ত স্থানে। অনাক্রান্ত চামড়ায় এ মলম লাগাবেন না। এভাবে সারা দিনে দু-তিনবার মলম লাগিয়ে রাখুন। তবে গোসলের সময় মলমের স্তর ধুয়ে ফেলে সাবান পানি দিয়ে পরিষ্কার করতে ভুলবেন না।
- হঠাৎ আঘাত: হঠাৎ ব্যথা পেলে আক্রান্ত স্থান বরফ বা ঠান্ডা পানির বোতল দিয়ে চেপে ধরতে পারেন। তবে এগুলো সরাসরি প্রয়োগ করবেন না, পরিষ্কার কাপড়ে পেঁচিয়ে নিয়ে ব্যবহার করুন। পানি মুছে স্থানটিতে বাম বা পেইন রিলিফ স্প্রে করে ক্রেপ ব্যান্ডেজ বেঁধে দিন। এরপর প্যারাসিটামল ওষুধ সেবন করতে পারেন।
- হঠাৎ হাতে-পায়ে আঘাত পেলে কী হয়: আঘাতপ্রাপ্ত জায়গা ফুলে যায়, প্রচণ্ড ব্যথা হয়, ওই অংশটি লাল হয়ে যায় এবং গরম থাকে। এটা হয় কোনো দুর্ঘটনায় আঘাত পেলে, খেলাধুলার সময় আঘাত পেলে, মাংসপেশিতে হঠাৎ টান লাগলে কিংবা পা পিছলে পড়ে গেলে। আর এসব কারণে সফট টিস্যু ইনজুরি হয়। আঘাতের তীব্রতা বেশি হলে হাড় ভেঙে যেতে পারে। হাড় ভেঙে গেছে সন্দেহ হলে অবশ্যই এক্স-রে করাতে হবে এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসা নিতে হবে। এমন আঘাতে কী করবেন; আক্রান্ত জায়গায় বরফ ব্যবহার করতে হবে ১৫-২০ মিনিট ধরে। ভিজা গামছার ভেতর বরফ নিয়ে আক্রান্ত অংশে মুড়িয়ে দিন। যদি বেশি ঠান্ডা লাগে, ৩ মিনিট পর উঠিয়ে ফেলুন। শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে আবার ১২-১৪ মিনিট ধরে পেঁচিয়ে রাখুন। আক্রান্ত অংশ ফুলে গেলে ক্রেব ব্যান্ডেজ দিয়ে পেঁচিয়ে রাখুন, যাতে আর ফুলতে না পারে। আক্রান্ত অংশ বালিশ বা অন্য কিছু দিয়ে উঁচু করে রাখুন, যাতে হৃৎপিণ্ড বরাবর থাকে। এই অবস্থায় হালকা ব্যায়াম, হালকা মালিশ, আলট্রাসাউন্ড থেরাপি ব্যথা কমাতে সাহায্য করবে। রোগীকে ৬-৭ দিন পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হয়। লক্ষ রাখতে হবে রোগী আবার যেন আঘাত না পায়। ব্যথা ভালো না হলে চিকিৎসকের পরামর্শে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসাসহ অন্য চিকিৎসা নিতে হবে।
- ভোঁতা আঘাত পেলে: কম ধারালো বস্তু দিয়ে আঘাত পেলে সেই স্থানটি ফুলে যায়, ব্যথা হয়, লাল বা কালো হয়, নড়াচড়ায় অসুবিধা হয়। অনেক সময় আঘাতের কারণে নার্ভ ইনজুরি হয়। এটি কিন্তু মারাত্মক একটি সমস্যা। করণীয়; আঘাতের স্থানে কোনো কিছু মালিশ না করা। প্রথম অবস্থায় ঠাণ্ডা বা বরফ দেওয়া।আঘাতের অংশকে বিশ্রামে রাখা। প্রচুর পানি পান করা। স্বল্পমাত্রায় ব্যথানাশক ওষুধের ব্যবহার করা। বুকে বা মাথায় অথবা পেটে আঘাত পেলে অনতিবিলম্বে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।
- ছিলে গেলে: হাত-পায়ের চামড়া ছিলে যায়নি এমন লোক কম পাওয়া যাবে। রাস্তাঘাট বা খেলার মাঠে পড়ে গিয়ে বা যানবাহনের দুর্ঘটনায় প্রায়ই এমনটি ঘটে। ছিলে গেলে সাধারণত চামড়া উঠে বা ছিঁড়ে যায়। তবে খুব বেশি গভীর হয় না। ময়লা বা ধুলাবালি আটকানো থাকে। অল্প অল্প রক্তপাত হতে পারে, বিশেষ করে প্রেসার পয়েন্ট বা হাড়ের ওপরের অংশে। করণীয়; প্রথমে নরমাল স্যালাইন দিয়ে পরিষ্কার করা ভালো। তবে নরমাল স্যালাইন না থাকলে ট্যাপের ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ছিলে যাওয়া স্থানটি পরিষ্কার করে ভালো কোনো অ্যান্টিসেপটিক সলিউশন লাগাতে হবে। ছিলে যাওয়ার স্থানটি খুব বেশি গভীর না হলে অ্যান্টিসেপটিক সলিউশন ক্রিম দিনে তিন-চারবার লাগানো যেতে পারে। আর গভীরতা বেশি হলে প্রথম এক-দুই দিন ড্রেসিং দিয়ে ঢেকে রাখা ভালো। তবে কখনোই ড্রেসিং বেশিদিন দেওয়া ঠিক নয়। এ জাতীয় সমস্যা খোলা রেখে চিকিৎসা করাই ভালো। অনেক সময় ক্ষতের গভীরে চামড়ার নিচে রক্ত জমাট বাঁধে, যা ড্রেসিং তৈরির মাধ্যমে চামড়ার পচন ধরায়। সে ক্ষেত্রে ছোট করে কেটে রক্ত বের করে দেওয়া ভালো।টিটেনাসের টিকা নেওয়া না থাকলে তা নিয়ে নেওয়া উচিত।
- সুচ বা পিনজাতীয় আঘাত: সাধারণত যাঁরা সেলাইয়ের কাজ করেন, তাঁদের এ ধরনের আঘাত বেশি হয়, যাকে বলে নিডল স্টিক ইনজুরি। আঘাতটি অতিসামান্য হলেও একে অবহেলা করা উচিত নয়। ছোট সমস্যা অনেক সময় জটিল আকার ধারণ করে। বিশেষ করে যাঁদের ডায়াবেটিস রয়েছে, তাঁদের জন্য নিডল স্টিক ইনজুরি মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। করণীয়; প্রথমে চাপ দিয়ে রক্ত বের করে দিন।ভালো কোনো অ্যান্টিসেপটিক সল্যুশন দিয়ে ড্রেসিং করান। প্রয়োজনে টিটেনাসের টিকা নিন। প্রথম তিন-চার দিন লক্ষ রাখুন, আক্রান্ত স্থানটি লাল হয়ে ফুলে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
- শারীরিক অসুস্থতায় (জ্বর): জ্বর অনুভব হলে প্রথমেই জ্বর মেপে নিন। তাপমাত্রা কত পেলেন এবং তা কোন সময়ে মেপেছেন, এ তথ্যগুলো লিখে রাখাই সবচেয়ে ভালো; পরবর্তী সময়ে কাজে লাগতে পারে। হালকা গরম পানি দিয়ে শরীর-মাথা মুছে নিন। সম্ভব হলে হালকা গরম পানিতে গোসল করে নিন। এসবের পরও জ্বর না কমলে প্যারাসিটামল ওষুধ সেবন করুন।
- মৌমাছি বা কোন বিষাক্ত প্রাণী হুল ফোটালে: হুল ফুটলে প্রথমেই তা বের করে নিন। হুল চোখে দেখা না গেলে একটি লম্বা চুলের দুই মাথা টান করে ধরে আক্রান্ত স্থানে কয়েকবার ঘষা দিন এভাবে হুল উঠে যেতে পারে। আক্রান্ত স্থানটি সাবান পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। এরপর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে যে কোনো অ্যান্টিসেপটিক লোশন লাগিয়ে দিন।
- কোমরে ব্যথা পেলে: কোমরে ব্যথা পাওয়ার পর হাঁচি অথবা কাশি দিতে গিয়ে কোমরে ব্যথা লাগবে। কোমরের ব্যথা পায়ে ছড়িয়ে যায় এবং অনেক সময় ব্যথা শুধু পায়েই অনুভূত হয়, কোমরে না–ও হতে পারে। হাঁটলে বা কাজ করলে ব্যথা বেড়ে যায়, রাতে ঘুমেরও ব্যাঘাত হতে পারে। অনেক সময় রোগী পায়ে ঝিনঝিন, অবশ ভাব ও দুর্বলতা অনুভব করেন। কোনো কোনো রোগীর কোমর একদিকে বেঁকে যায় এবং চিত হয়ে শুয়ে পা উঁচু করলে তার ব্যথা অনুভূত হবে। এই অবস্থায় ভারী জিনিস তোলা নিষেধ এবং শারীরিক ব্যায়াম অবশ্যই বন্ধ থাকবে। তবে কোমরের ব্যথার জন্য আলাদা কিছু ব্যায়াম রয়েছে এগুলো করলে অনেক সময় ওষুধের চেয়ে বেশি কাজ করে। এই ব্যায়াম গুলো শিখতে আপনারা ইউটিউবে "ফিটনেস ট্রেইনার খসরু পারভেজের কোমর ব্যথার ব্যায়াম" লিখে সার্চ করে এর সবগুলো পর্ব দেখে নিন। এরকম আঘাতের ব্যথার কারণ বের করে যদি সঠিক চিকিৎসা করা যায়, তাহলে ব্যথা তাড়াতাড়ি কমে যাবে।
- চোখের কর্নিয়ায় আঘাত লাগলে: অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় আঘাত লাগার পরে চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়ে নিজের মত করে ঘরে অনেক কিছুই করে থাকেন। এতে চোখের অনেক বড় ক্ষতি হতে পারে। অনেক সময় দেখা যায়, নখের আঁচড়, নখ কাটার সময় তা ছিটকে চোখে লাগতে পারে, কলম বা পেনসিলের খোঁচাও লাগতে পারে। যা কিছুই হোক না কেন আপনার চোখে কোনো সমস্যা দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। যেভাবে বুঝবেন চোখে সমস্যা; ১. কর্নিয়ায় আঘাত লাগলে চোখে ব্যথা ও আলোর দিকে তাকাতে পারবেন না। ২. পানি ঝরা ও চোখ লাল হওয়া। ৩. জ্বালাপোড়া ও ভেতরে কিছু আছে বলে অনুভূতি হতে পারে। ৪. চোখ বুজতে বা পলক ফেলতে গেলে ব্যথা বাড়ে। ৫. কর্নিয়ায় আঘাত মারাত্মক হলে আপনি চোখ বুজতেই পারবেন না। কী করবেন; ১. কর্নিয়ায় আঘাত লাগলে অবশ্যই সঙ্গে সঙ্গে প্রচুর পানি দিয়ে চোখ ধুয়ে ফেলুন। ২. এরপর চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। ৩. অ্যান্টিবায়োটিক মলম দিয়ে প্যাড ও ব্যান্ডেজের সাহায্যে চোখকে বিশ্রাম দিন। ৪. চোখে আঘাত লাগলে নিজে থেকে কোনো ওষুধ ব্যবহার করা যাবে না। সতর্কতা; ধুলাবালি বা ক্ষুদ্র কণা ওড়ে (যেমন নির্মাণকাজ) এমন জায়গায় রোদচশমা পরতে হবে।
আরোও পড়ুন...
প্রাথমিক চিকিৎসা ABC এবং CPR কি...
তথ্যসূত্র:
- ডাক্তার রাফিয়া আলম, প্রথম আলো।
- হুমায়রা বেগম, সিনিয়র শিক্ষক, লিটল স্টারস প্রিপারেটরি স্কুল, পল্লবী, ঢাকা, যুগান্তর।
- ফ্রাইডে ডেস্ক> বাংলাদেশ প্রতিদিন।
- ডা: শরিফুল ইসলাম, প্রথম আলো।
- বসুন্ধারা আই হাসপাতালের রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক ও পরামর্শক অধ্যাপক ডা. সালেহ আহমেদ, যুগান্তর।
- অধ্যাপক ডা. কাজী শামিমুজ্জামান : জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের (পঙ্গু হাসপাতাল), প্রথম আলো।
- অধ্যাপক ডা. আমজাদ হোসেন, বিভাগীয় প্রধান, অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগ, ল্যাবএইড স্পেশালাইজড হাসপাতাল, কালের কণ্ঠ।
- Edited: Natural_Healing.
কোন মন্তব্য নেই