First Aid Present

Lifestyle Modification এবং প্রাকৃতিক খাদ্য, পানীয়, শাকসবজি, গাছ, ডালপালা, ফল, মসলা, পাতা ও ফুল ইত্যাদির দ্বারা প্রাথমিক চিকিৎসা।

(Bleeding) রক্তক্ষরণ বা কেটে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা কিভাবে করবেন?

(Bleeding) রক্তক্ষরণ বা রক্তহ্রাস হচ্ছে একটি অবস্থা যখন রক্তবাহিকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ফলে রক্ত সংবহন তন্ত্র থেকে বেরিয়ে যেতে থাকে। রক্তক্ষরণ শরীরের অভ্যন্তরে বা বাহ্যিকভাবে হতে পারে। প্রাকৃতিকভাবে যেসকল অঙ্গের মাধ্যমে বাহ্যিক রক্তরক্ষরণ হয়ে থাকে তার মধ্যে আছে মুখ, নাক, কান, মূত্রনালী, যোনি, বা পায়ু। এছাড়াও ত্বকের কোনো অংশ কেটে গেলে বা জখম হলেও বাহ্যিক রক্তক্ষরণ হতে পারে। শরীরের রক্তের পরিমাণ মাত্রাতিরিক্তভাবে কমে যাওয়াকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় হাইপোভলেমিয়া এবং অতিরিক্ত রক্ষক্ষরণের ফলে মৃত্যু হলে তাকে এক্সস্যাংগুইনেশন হিসেবে অভিহিত করা হয়। সাধারণত একজন সুস্থ মানুষ শরীরের ১০–১৫% রক্ত হ্রাস হলেও কোনো রকম গুরুতর শারীরিক জটিলতা ছাড়াই কাটিয়ে উঠতে পারে। তুলনামূলকভাবে রক্ত দানের ক্ষেত্রে সাধারণত শরীরের ৮–১০% রক্ত হ্রাস পায়। রক্তক্ষরণ বন্ধ বা হ্রাস করার শারীরিক প্রক্রিয়া হেমোস্ট্যাসিস নামে পরিচিত এবং এটি প্রাথমিক চিকিৎসা ও শল্যচিকিৎসার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে এবং যুদ্ধের সময় আহতদের ক্ষতস্থান বন্ধ করতে সায়ানোএক্রিলেট আঠা আবিষ্কার করা হয়েছিলো, এবং সর্বপ্রথম ভিয়েতনাম যুদ্ধে তা ব্যবহৃত হয়েছিলো। বর্তমানে ছোটখাট রক্তক্ষরণের চিকিৎসায় ত্বকের উপরে রক্তক্ষরণ বন্ধ করার প্রয়োজনে এ ধরনের আঠার চিকিৎসীয় সংস্করণ ব্যবহার করা হয়।

কেটে যাওয়ার পর মূল করণীয় হলো রক্তপাত বন্ধ করা এবং সংক্রমণ যাতে না হয় সেদিকে লক্ষ রাখা।
জেনে নিন, হঠাৎ কেটে গেলে কী করবেন.....,

ধারালো অস্ত্রের আঘাতে যেকোন সময় কেটে যেতে পারে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ। আর বাড়িতে বাচ্চারা থাকলে তো কোনো কথা নেই। আবার রান্নাঘরে বা অন্য কোনো কাজ করতে গেলে ধারালো কিছুতে হঠাৎ হাত-পা কেটে যেতে পারে। নিত্যদিনের সমস্যা এটি। 

তাহলে কাটা-ছড়ার ক্ষেত্রে কতটা গুরুত্ব দেবেন? কী কী কথা মাথায় রাখবেন?

আঘাতের ধরন:

আঘাতেরও ধরন রয়েছে। মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অরুণাংশু তালুকদার বলছেন, ‘‘আঘাতকে ভাগ করা যায় দু’ভাবে— অ্যাক্সিডেন্টাল বা দুর্ঘটনাবশত এবং ইনটেনশনাল বা ইচ্ছাকৃত। ইনটেনশনাল আঘাতের মধ্যে পড়ে যে কোনও রকম ল্যাপ্রোস্কোপিক অপারেশন। অ্যাপেন্ডিসাইটিস, গল ব্লাডার জাতীয় অপারেশন করতে গেলে ছোট ছোট ফুটো করা হয়। সেলাই থেকেও ক্ষত তৈরি হতে পারে।’’ প্রথমে দেখতে হবে ক্ষতর ধরন।

প্রাথমিক চিন্তা:

আঘাতের ধরন ছাড়াও তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে আরও কিছু বিষয়।

ঘটনার স্থান: প্রথমে দেখতে হবে, কেটে-ছড়ে যাওয়ার ঘটনা কোথায় ঘটেছে? রাস্তায় ধুলো-বালির মাঝে না কি বাড়িতে পরিষ্কার জায়গায়?

কাটার অংশ: কেটেছে কোথায়? অর্থাৎ শরীরের কোন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে? মুখ, গাল বা নরম কোনও জায়গায় না কি হাতের তালু কিংবা পায়ের তলায়? দেখতে হবে তা-ও।

কতটা গভীর: কাটা সামান্য না কি বেশ গভীর পর্যন্ত গড়িয়েছে? বিচার্য সেটিও। গভীর কাটা চামড়া, মাংস, ফ্যাট ভেদ করে হাড় অবধি পৌঁছেছে কি না, জানা দরকার।

কার ক্ষত: প্রতিটি ক্ষতই গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। কিন্তু কোন বয়সের মানুষের ক্ষত বা তার কোনও শারীরিক রোগের ইতিহাস আছে কি না— সেটা গুরুত্বপূর্ণ। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে গুরুত্ব আলাদা। যাঁদের ডায়াবিটিস, এইচআইভি, কিডনি ফেলিয়োর বা রক্তে সমস্যা আছে, তাঁদের চিকিৎসা হবে অন্য রকম। বয়স বেড়ে গেলেও ক্ষতর চিকিৎসা হবে আলাদা। প্রবীণদের সমস্ত ধরনের ওষুধ দেওয়া সম্ভব নয়।

১. প্রথমে কাটা অংশটি পরিষ্কার করতে হবে: সব চেয়ে আগে ক্ষতস্থান ভালো করে ধুয়ে ফেলতে হবে যাতে কোনো রকম ইনফেকশন না হয়। কেটে গেলে ঠান্ডা অথবা ঈষদুষ্ণ পানি দিয়ে ক্ষতস্থান ধুয়ে ফেলুন। কাটা অংশটা পরিষ্কার করতে কোনো মৃদু সাবান বা ক্লিনজার ব্যবহার করুন। ক্ষতস্থান থেকে প্রথমেই ধুলো-ময়লা ধুয়ে ফেলতে হবে, না হলে ইনফেকশন হয়ে যেতে পারে। অনেকেই নানা সুগন্ধী সাবান দিয়ে জায়গাটা পরিষ্কার করেন। সেটা না করে বরং ব্যবহার করুন অ্যান্টি ব্যাকটিরিয়াল সাবান। এরপর চেষ্টা করুন রক্ত পড়া বন্ধ করতে। 

২. রক্ত বন্ধ করার উপায়....,

  • কেটে রক্তপাত হতে থাকলে পরিষ্কার কাপড় বা গজ-ব্যান্ডেজ দিয়ে ক্ষতস্থানে এক থেকে দুই মিনিট চেপে ধরে রাখলে রক্তপাত বন্ধ হয়ে যাবে। এক টুকরো বরফ পেঁচিয়েও ধরে রাখতে পারেন। 
  • কাপড় বা গজ-ব্যান্ডেজ না পেলে কাটাস্থানটি তালু দিয়ে কিংবা দুআঙ্গুল দিয়ে চিমটির মতো করে চেপে ধরবেন। তবে হাত, কাপড় বা ব্যান্ডেজ অবশ্যই পরিচ্ছন্ন ও জীবাণুমুক্ত হতে হবে। না হলে কাটা স্থানে ইনফেকশন হতে পারে।
  • গাঢ় হয়ে কাটলে ক্ষতস্থানের মুখে চিনি লাগিয়ে নিন। চিনির দানা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে।
  • রক্ত বন্ধ করার জন্য স্যাভলন জাতীয় অথবা দূর্বাঘাস পেস্ট করে লাগিয়ে দিন।
  • রক্ত বন্ধ করার জন্য কাটা স্থানে কফি পাউডার বা হলুদের গুঁড়া লাগিয়ে দিন অথবা ব্যবহৃত টি ব্যাগ অথবা নতুন টি ব্যাগ ঠান্ডা পানিতে ভিজিয়ে লাগিয়ে রাখুন। কিছুক্ষণের মধ্যে রক্তপাত বন্ধ হয়ে যাবে। এবং কাঁটা জায়গায় ঠান্ডা ধরণের অনুভূতি দেবে।
  • তরল পদার্থের ধর্ম উপর থেকে নিচ দিকে প্রবাহিত হওয়া তাই কাটা জায়গাটা উঁচু করে রাখুন, সম্ভব হলে হার্ট বা বুকের উপরে উঁচু করে ধরুন। এতে সেই স্থানের রক্তচাপ কমে গিয়ে রক্ত পড়াও কমে যাবে। 
  • এ সময়ে একটি পরিষ্কার কাপড় কিংবা জীবাণুমুক্ত গজ দিয়ে প্যাড তৈরি করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কাটা স্থানের ওপর সেটা চেপে ধরতে হবে।
  • ক্ষতস্থানটি নাড়াচাড়া করা যাবে না। প্যাডটি রক্তে ভিজে গেলে তা না খুলে বরং তার ওপরে আরো গজ তুলা পেঁচিয়ে ব্যান্ডেজ করে দিন।
  • রক্ত বন্ধ হয়েছে কি না তা বারবার খুলে দেখবেন না। রক্ত বন্ধ হওয়ার জন্য একটানা পরিষ্কার হাত বা কাপড় দিয়ে চাপ দিয়ে রাখতে হবেে, কাটা অংশটি নড়াচড়া করানো যাবে না।

৩. রক্ত বন্ধ হয়ে গেলে পরিষ্কার পানি অথবা হেক্সিসল অথবা ভায়োডিন দিয়ে তুলা ভিজিয়ে জায়গাটা মুছে দিতে হবে। সাবান বা আয়োডিন ও আয়োডিনজাত অ্যান্টিসেপটিক অনেক সময় জ্বালা করে।

৪. ধোয়া হয়ে গেলে পাতলা স্তরে অ্যান্টিসেপটিক বা অ্যান্টিবায়োটিক মলম দিয়ে ঢেকে দিন। নিওমাইসিন বা এ জাতীয় মলম সব সময় বাড়িতে প্রাথমিক চিকিৎসাসামগ্রী হিসেবে থাকা উচিত। পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার করলে ক্ষত দ্রুত সেরে যেতে পারে। ক্ষতস্থান পেট্রোলিয়াম জেলি লাগিয়ে রাখলে ভবিষ্যতে দাগ পড়া থেকেও রেহাই পাওয়া যায়। তারপর একটা পরিষ্কার গজ বা ব্যান্ডেজ জড়িয়ে রেখে দেবেন। এর ফলে বাইরের ধুলোবালির হাত থেকে ক্ষতস্থান সুরক্ষিত থাকবে। 

৫. ছিলে যাওয়া ত্বকে মধু লাগালে তা ব্যাথা কমাতে সাহায্য করে। তাছাড়া ইনফেকশন সৃষ্টিকারী ব্যাক্টেরিয়া দমনেও মধু বেশ কার্যকর। গবেষকরা জানান, দোকানের অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল ক্রিম বা মলমের তুলনায় মধু বেশি কার্যকর। তবে এক্ষেত্রে খাঁটি মধু ব্যবহার করতে হবে, কারণ রান্না করার ফলে মধুর উপকারী এনজাইম নষ্ট হয়ে যায়।

৬. কি ধরনের সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে....,

  • কেটে গেলে রক্তপাত হতে থাকে। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন অনেকেই। তাই মাথা ঠাণ্ডা রাখুন, পরিস্থিতি সামাল দিন।
  • রক্তপাত হলে অনেকেই সঙ্গে সঙ্গে পানির ট্যাপে রক্ত ধুয়ে ফেলেন। আবার অনেকে বিষাক্ত মনে করে রক্ত চেপে ফেলে দিন। এতে করে রক্তক্ষরণ বেশিক্ষণ ধরে চলতে থাকে। রক্তপাত বন্ধ হওয়ার জন্য রক্তের মধ্যেই রক্ততঞ্চন ফ্যাক্টর থাকে। ধুয়ে ফেললে তা কমে যায়। রক্তপাত বন্ধ করার জন্য রক্তের উপাদানগুলো মিলে জমাট রক্ত তৈরি করে। এ জমাট রক্ত চেপে ফেলে দিলে আবার শুরু হবে রক্তপাত। 
  • গ্রামে অনেকে কাটা স্থানে মাকড়সার জাল, গোবর, হাঁড়ির কালি, টুথপেস্ট লেপে দেন। এটা ইনফেকশন ডেকে আনা ছাড়া আর কিছুই নয়।
  • কাটাছেঁড়ায় তুলো দেওয়া আমাদের অভ্যাস।  তবে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান বলে, কাটাছেঁড়ায় তুলো দিলে, তুলোর আঁশ ত্বকে আটকে যায়, এতে ঘটতে পারে বড় বিপদ। ক্ষতস্থানে তুলো দিলে তুলোর রোঁয়া আটকে যায়। অনেক সময়ই ক্ষতস্থান থেকে এগুলো আলাদা করা যায় না। চিকিৎসকদের দাবি, ওই রোঁয়া থেকে ইনফেকশনের সম্ভাবনা তৈরি হয়। কারণ, বেশিরভাগ সময়ই দেখা যায়, খোলা জায়গায় রাখা থাকে তুলো। যা ব্যবহার করার পর তার মুখও ঢাকা থাকে না। সেই নোংরা তুলো ক্ষতস্থানে দিলেই বিপদ। ইনফেকশনের সম্ভাবনা। আর তাই রক্ত মুছতে তুলোর বদলে সার্জিক্যাল গজ ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।
  • সাধারণ গজ ব্যান্ডেজ বা স্টিকারযুক্ত ব্যান্ডেজ, যা-ই হোক, প্রতিদিন অন্তত একবার তা পরিবর্তন করতে হবে। 
  • হালকা কাটাছেঁড়া নিয়ে বাইরে বেরতে হলে তা ব্যান্ডেজে ঢেকে রাখুন। কিন্তু বাড়িতে থাকাকালীন কিছুটা সময় মলম বা ওষুধ লাগিয়ে খোলা হাওয়ায় রাখুন ক্ষতস্থান। এতে ক্ষত শুকোবে তাড়াতাড়ি।
  • রোজকার জীবনে কাটা-ছড়া নতুন কিছু নয়। কখনও পড়ে গিয়ে, কখনও বা অন্য দুর্ঘটনায় কেটে বা ছড়ে যায়। কিন্তু তাকে তেমন ভাবে আমল দেওয়া হয় না। ফলে অনেক সময়েই সেই কাটা পরিণত হতে পারে ক্ষততে। তা থেকে গ্যাংগ্রিন, এমনকি অঙ্গাংশ বাদ দেওয়ার মতো বড় ক্ষতি হওয়ার ভয়ও অমূলক নয়। তা হলে কাটা-ছড়ার ক্ষেত্রে কতটা গুরুত্ব দেবেন? কী কী কথা মাথায় রাখবেন? অনেক সময়েই মানুষ সাধারণ কাটায় গুরুত্ব দেন না। যেমন মাছ কাটতে গিয়ে কাঁটা ফুটে যাওয়া। প্রাথমিক ভাবে মনে হতেই পারে, রক্ত বন্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু কাঁটার অংশ ভিতরে থেকে যেতে পারে। আবার বাঁশের চোঁচ ফুটলে অনেক সময়ে ব্যথা না করলে মনে হয় যে, সেরে গিয়েছে বা চোঁচ বেরিয়ে গিয়েছে। আদতে তা নয়। এমনও দেখা গিয়েছে যে, মাংস কিনতে গিয়ে মুরগির পালক ফুটেছিল কারও। তা বেরিয়েও গিয়েছিল। কিন্তু সেই আঘাতে আমল না দেওয়ায় পরে তা-ই পরিণত হয়েছে ইনফেকশনে। কাঁকর, কাঁটা, চোঁচ জাতীয় ‘ফরেন বডি’ই পরে ভয়ঙ্কর হয়ে দাঁড়ায়। আবার অনেকেরই কড়া পড়ে যাওয়া বা কর্নের সমস্যা থাকে। কর্ন ক্যাপ ব্যবহার করার পরে চামড়া নরম হয়ে গেলে হাত দিয়ে খুঁটে তুলে ফেলে ক্ষত সৃষ্টি করেন অনেকে। তা থেকেও হতে পারে ইনফেকশন। 
সামান্য কাটা-ছড়া বা ক্ষত পরে ধারণ করতে পারে এমন আকার, যা থেকে বড় ক্ষতি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তাই যত সামান্য কাটাই হোক না কেন, তাকে অবহেলা করবেন না।

৭. কখন ডাক্তারের কাছে যেতে হবে.....,

  • যদি কাটা জায়গাটা ফুলে যায় ও লাল দেখায়, ব্যথা বেড়ে যায় বা ভিজে যেতে থাকে, জ্বর আসে, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
  • ২০-৩০ মিনিট চেপে রাখার পরও রক্ত বন্ধ না হলে ক্ষত ছয় মিলিমিটার পুরু হলে সেলাই লাগতে পারে। সে ক্ষেত্রে জরুরি বিভাগে চলে যান।
  • কেটে গেলে কীসে কাটছে, তাতে নজর রাখুন। লোহা বা জং ধরা ধারালো কিছুতে কাটলে চিকিৎসকের পরামর্শের সঙ্গে অবশ্যই সংক্রমণরোধী ইঞ্জেকশন নিন।লোহা বা ধাতব বস্তু, নোংরা বস্তু ইত্যাদি থেকে ক্ষত তৈরি হলে এক ডোজ টিটেনাস ইনজেকশন নিয়ে নিন। নোংরা বস্তু দিয়ে কাটলে অ্যান্টিবায়োটিকও খেতে হতে পারে। 
  • ডায়াবিটিস থাকলে অনেক সময় ক্ষত শুকোতে দেরি হয়, তাই রক্তে শর্করা মেপে নিন। কিন্তু ডায়াবিটিসে আক্রান্ত নন এমন কারও দীর্ঘ দিন ক্ষত না শুকোলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। কেটে যাওয়ার পর রক্তপাত বন্ধ না হলে, ক্ষতে জ্বালা দেখা দিলে চিকিৎসককে জানান।
  • ক্ষতস্থান লাল হয়ে গেলে বা চুলকালে সেটা ইনফেকশনের লক্ষণ হতে পারে। কোনো রকম সমস্যা দেখা দিলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন। নোংরা বা জং ধরা কিছুতে কাটলে অবশ্যই টিটেনাস নেবেন। আপনি নিজে নিশ্চিত না থাকলে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে নেবেন। ১০ বছরের মধ্যে টিটেনাস টিকা না দেওয়া থাকলে পরিষ্কার ক্ষতেও একটা বুস্টার ডোজ নেওয়া ভালো। কিন্তু ক্ষতস্থান নোংরা বা পুরোনো মরচে ধরা অপরিষ্কার কিছু দিয়ে কেটে গেলে পাঁচ বছরের মধ্যে টিটেনাস না দেওয়া থাকলে অবশ্যই বুস্টার নিয়ে নিন।
  • ক্ষতস্থান গভীর হলে বাড়িতে প্রাথমিক চিকিত্‍সা করে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।

—কেটে-ছিঁড়ে গেলে রক্তপাত হওয়াটা স্বাভাবিক। কিন্তু ফিনকি দিয়ে রক্ত ছুটলে বুঝতে হবে যে রক্তনালি কেটে গেছে, এটি সহজে বন্ধ নাও হতে পারে। আবার রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়ায় কোনো সমস্যা থাকলে, যেমন: যকৃতের রোগ, হিমোফিলিয়া, ডেঙ্গু ইত্যাদি কিংবা দীর্ঘদিন ধরে অ্যাসপিরিন খাচ্ছেন, এমন রোগীর রক্তপাত সহজে বন্ধ নাও হতে পারে।

—ছোটখাটো কাটা-ছেঁড়ায় কেবল ত্বক ও ত্বকের নিচের কিছু কলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিন্তু গভীর ক্ষতের ক্ষেত্রে চর্বি, মাংস, এমনকি হাড়ের কাছ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এসব ক্ষেত্রে সেলাই লাগতে পারে।

—কোনো রোগী কাটা-ছেঁড়ার পর হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়তে পারেন। সাধারণত রক্ত দেখে বা ব্যথায় বা ভয়ে স্নায়ুতন্ত্রে সমস্যা হলে এমনটি হয়।

—অতিরিক্ত ও অব্যাহত রক্তক্ষরণের ফলে নাড়ির স্পন্দন মৃদু ও ক্ষীণ হয়ে আসতে পারে, রক্তচাপ কমে যেতে পারে, হাত পা ঠান্ডা হয়ে আসতে পারে। এর মানে রোগীর জীবন বিপন্ন হয়ে আসছে, তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া উচিত।

—লোহায় কেটে গেলেই যে টিটেনাস নিতে হবে— এই ধারণা রয়েছে অনেকের। জন্মের পরেই সাধারণত তিনটি টিটেনাসের কোর্স নেওয়া হয়। এর পরে প্রাথমিক ভাবে দশ বছর অন্তর ও পরে পাঁচ বছর অন্তর টিটেনাস নেওয়ার দরকার পড়ে। ডা. অরুণাংশু তালুকদার বলছেন, ‘‘২০১৯-এ কেউ টিটেনাস নিয়ে থাকলে ২০২৩ পর্যন্ত টিটেনাস না নিলেও চলে। ওই সময়ের মধ্যে কেটে গেলেও টিটেনাস নেওয়ার কোনও যৌক্তিকতা নেই।’’ তবে বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসকেরা অ্যান্টি টিটেনাস সেরাম দিয়ে থাকেন। সেটা চিকিৎসকের বিচার্য।

—কেটে গেলে মারকিউরোক্রোম বা বাজারচলতি অ্যান্টি-সেপটিক ক্রিম লাগান অনেকে। কিন্তু সব অ্যান্টি-সেপটিক ক্রিমই সমান কাজ করে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। তবে মারকিউরোক্রোম বা বিটাডাইনের মতো ওষুধে থাকে কম মানের অ্যান্টি-সেপটিক কোশেন্ট। অনেকেরই মারকিউরোক্রোমে অ্যালার্জি থাকে। সে ক্ষেত্রে ওই ওষুধ ব্যবহার না করাই ভাল। আবার ছোট কাটা হলে ব্যান্ড-এড লাগানো যেতে পারে। খেয়াল রাখা জরুরি, ব্যান্ড-এডের আঠালো অংশ যেন ক্ষতর উপর দিয়ে না যায়। তা থেকেও হতে পারে ইনফেকশন।

Bleeding Treatment in Video...






আরও দেখতে পারেন... বিভিন্ন দুর্ঘটনায় ব্যবহৃত বিভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতি ।

প্রাথমিক চিকিৎসায় ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ।

তথ্যসূত্র: 

  • মায়ো ক্লিনিক, ইমার্জেন্সি মেডিসিন> প্রথম আলো।
  • কালের কণ্ঠ।
  • আনন্দবাজার> একুশে টিভি।
  • ডা. সজল আশফাক, সহযোগী অধ্যাপক, হলিফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ, এনটিভি।
  • Zee News Indea.
  • ডা. হুমায়ুন কবীর হিমু, সমকাল।
  • সময় টিভি।
  • যুগান্তর।
  • bdnews24.
  • উইকিপিডিয়া।
  • ডা. মহিউদ্দিন কাউসার, সার্জারি বিভাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, প্রথম আলো।
  • মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অরুণাংশু তালুকদার, আনন্দবাজার।
  • Edited: Natural_Healing.

কোন মন্তব্য নেই

Popular Post

Blogger দ্বারা পরিচালিত.