মাথা ঘোরে কেন? এর কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা?
হঠাৎ মাথা ঘুরতে শুরু করলে কারও মনে হতে পারে, তিনি নিজেই যেন ঘুরছেন, একপাশে হেলে পড়ছেন। যতক্ষণ না মাথা ঘোরা চলে যায়। অনুভূতি যেমনই হোক না কেন, মাথা ঘোরার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে। অনেক কারণেই মাথা ঘুরতে পারে। তবে মূলত কানের ভেতরে ভেস্টিবুলোককলিয়ার নামের স্নায়ুতে সমস্যার কারণে বেশি মাথা ঘুরে থাকে।
কাজ করছেন, চট করে ঘুরে গেল মাথাটা। চেয়ার থেকে উঠতে গিয়ে বন করে ঘুরল চারপাশটা। বা শুয়ে পাশ ফিরলেন, মাথায় এমন চক্কর লাগল যে মনে হল নিমেষে পৌঁছে যাচ্ছেন সমুদ্রের তলায়। মাথা ঘোরা এমনই এক অভিজ্ঞতা। কেন হয় এমন? নিউরোটোলজিস্ট অনির্বাণ বিশ্বাস জানালেন, মাথা ঘোরা হল কোনও অসুখের উপসর্গ। বাজার-চলতি ওষুধ খেয়ে উপসর্গ চাপা দেবেন না। বরং কেন ঘুরছে, কারণ বের করা দরকার। সার্ভাইকাল স্পন্ডিলোসিস হয়েছে, বা ব্লাড প্রেসার চড়ছে, এমনটা ধরে নেবেন না।
মাথা ঘোরার রয়েছে নানা কারণ:
- বিনাইন প্যারোক্সিমাল পজিশনাল ভারটাইগো (বিপিপিভি): মাথা ঘোরা বা ভারটাইগো হলো এমন একটি অবস্থা, যেখানে মনে হয় আক্রান্ত ব্যক্তি নিজেই ঘুরছেন বা তার চারপাশ ঘুরছে। মাথা তুলতেই পারেন না অনেকে। সঙ্গে থাকে বমি বমি ভাব ও বমি। শুয়ে মাথা ঘুরলে তার পেছনে থাকে কানের সমস্যা। এটি খুব মারাত্মক নয়। চিকিৎসায় এটি পুরোপুরি ভালো হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তি হঠাৎ করে মাথা কোনো একদিকে ফেরালে বা শুধু একটি নির্দিষ্ট দিকে ফেরালে মাথা ঘোরা শুরু হয়ে যায়। আবার কানের মধ্যেকার কিছু ছোট ছোট পার্টিকল স্থানচ্যুত হলে এমনটা হয়। এর কোনও ওষুধ নেই। নিজের থেকেই এই সমস্যা ঠিক হয়ে যায়। বা maneuver (কৌশল) করে সেট করতে হয়। ২৫% মাথা ঘোরার পেছনের আছে কানের সমস্যা।
- অন্তকর্ণের প্রদাহ: সাধারণত ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার অন্তকর্ণে সংক্রমণের ফলে মাথা ঘোরা দেখা দিতে পারে। এতে হঠাৎ করেই মাথা ঘোরা শুরু হয়। এর পাশাপাশি শ্রবণশক্তি হ্রাস পেতে পারে।
- মেনিয়ার্স ডিজিজ: মাথা ঘোরার অন্যতম কারণ মিনিয়ার্স ডিজিজ। এটিও কানের একটি রোগ। তিনটি উপসর্গ থাকে একসঙ্গে। মাথা ঘোরা, কানের মধ্যে ভোঁ ভোঁ শব্দ করা ও শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া। এটি পরিচিত অসুখ। প্রায়ই পাওয়া যায়। যদিও মাথা ঘোরার আরও বেশ কিছু কারণ আছে। কানের তিনটি অংশ আছে। বহিঃকর্ণ , মধ্যকর্ণ এবং অন্তঃকর্ণ। মিনিয়ার্স ডিজিজে একদম ভেতরে অন্তঃকর্ণে সমস্যা হয়। এই রোগে আক্রান্ত হলে রোগী কিছুদিন ভাল থাকে। তারপর আবার লক্ষণ দেখা দেয়। এভাবেই চলতে থাকে। মিনিয়ার্স ডিজিজে একদিকের কানে সমস্যা হয়। মিনিয়ার্স ডিজিজে বিভিন্ন উপসর্গ থাকে। এর মধ্যে আছেঃ হঠাৎ করে মাথা ঘোরা শুরু হয়, বমি ভাব বা বমি থাকে, ভারসাম্যের সমস্যা হয়, শ্রবণশক্তি সাময়িকভাবে কমে যায়, নিস্টেগমাস থাকতে পারে। চোখ গোল বলের মতো। এর পাঁচ ভাগ থাকে ভেতরে আর এক ভাগ থাকে বাইরে। নিস্টেগমাসে অক্ষি গোলকের অস্বাভাবিক সঞ্চালন হয়। মাথার ভেতর অস্বাভাবিক শব্দ হয়। মিনিয়ার্স ডিজিজ কেন হয় বিজ্ঞানীরা আজও সব কিছু বের করতে পারেননি । তবে অন্তঃ কর্ণের পানির পরিমাণ এই রোগে বেড়ে যায়। কানের সমস্যার সাথে রোগীর অন্যান্য সমস্যাও থাকে। বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয় এই রোগ নির্ণয়ের জন্য। ইলেক্ট্রককলিওগ্রাফি পরীক্ষা করে কানের ভেতরের প্রেসার মাপা যায়। সিটি স্ক্যান এবং এমআরআই লাগে কখনো কখনো। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ওষুধ দিয়েই চিকিৎসা করা হয়। খুব কম ক্ষেত্রেই সার্জারি লাগে। এই অসুখ একবার ভাল হয় একবার খারাপের দিকে যায়। এভাবেই চলতে থাকে। ধূমপান এবং লবণ এই রোগের উপসর্গ বাড়ায়। মিনিয়ার্স ডিজিজ হলে তাই লবণ কম খেতে হবে এবং ধূমপান ছাড়তে হবে।
- অ্যাকোয়েস্টিক নিউরোমা: এটি স্নায়ুর টিউমার। এ ছাড়া সেরেবেলার রক্তক্ষরণ, মাল্টিপল স্টেরোসিস, মাথায় আঘাত, মাইগ্রেনেও হতে পারে মাথা ঘোরা।
- শুতে, বসতে গেলে, বাঁই করে মাথা ঘুরছে কয়েক সেকেন্ডের জন্য। মাথাকে তিন-চারটে বালিশের ওপর রেখে শুলে অনেক সময়ে মাথা ঘোরা নিজের থেকে কমে যায়।
- অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে, দেখছেন সব কিছু অন্ধকার হয়ে যাচ্ছে, মনে হচ্ছে পড়ে যাব। এটা হল ‘সিনকোপ’। মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন কম হয়ে এমনটা হয়।
- টেনশন, উদ্বেগ, বা মানসিক অবসাদ থেকে মাথা ঘুরতে পারে। স্ট্রেস দূর হলে উপসর্গও দূর হয়।
- ব্রেন টিউমার, মাল্টিপল স্কেলোরোসিস, বা সেরেবেলাম ব্রেনের স্ট্রোকের মতো জটিল রোগেও মাথা ঘোরে। নিশ্চিত হতে ডাক্তার দেখিয়ে নিন।
অতিরিক্ত পরিশ্রম, কিছু ওষুধ সেবন, অন্তঃকর্ণের রক্তবাহী নালির অস্বাভাবিকতা, অস্বাভাবিক দৃষ্টিগত সমস্যা। বেশি উঁচুতে উঠে নিচের দিকে তাকালে এবং চলন্ত ট্রেন বা গাড়ি থেকে প্ল্যাটফর্মের দিকে তাকালে মাথা ঘোরা। অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ; মাথার পেছন দিকে ও ঘাড়ের রক্তনালিতে বাধা বা রক্ত সরবরাহে ত্রুটি; মস্তিষ্কের নিচের দিকে টিউমার, পানি জমাট রোগ; ভাইরাসজনিত রোগ; আঘাতজনিত ইত্যাদি কারণেও মাথা ঘুরতে পারে। এ সমস্যার পাশাপাশি কানের ভেতর শোঁ শোঁ বা দপদপ শব্দ হতে পারে।
কখনো কখনো মাথার অবস্থান পরিবর্তন করলে সমস্যাটা বাড়ে-কমে। হঠাৎ করে বসা, হঠাৎ করে দাঁড়িয়ে পড়া, কাজের চাপ ইত্যাদি নানা কারণে অনেকের মাথা ঘুরে উঠতে পারে। কিছুক্ষণ বসে থাকলে তা আবার ঠিকও হয়ে যায়। তাই এ নিয়ে কেউ খুব বেশি মাথা ঘামান না। এটা ঠিক নয়। আনুষঙ্গিক সব তথ্য চিকিৎসককে জানাতে হবে।
এবার নিজেকে প্রশ্ন করুন এবং মাথা ঘোরার ধরন নির্ণয় করুন:
কীভাবে আপনার মাথা ঘোরা শুরু হয়? এটি কি হঠাৎ করে শুরু হয় এবং অল্প সময় থাকে? যদি তাই হয়, তাহলে সম্ভাব্য কারণের মধ্যে রয়েছে :-
- অতিরিক্ত পরিশ্রম,
- অন্তঃকর্ণের রক্তবাহী নালির অস্বাভাবিকতা,
- অন্তঃকর্ণের প্রদাহ,
- অস্বাভাবিক দৃষ্টিগত সমস্যা। যেমন: অতি উঁচুতে উঠে নিচের দিকে তাকালে এবং চলন্ত ট্রেন বা গাড়ি থেকে প্লাটফর্মের দিকে তাকালে মাথা ঘোরা।
আপনার মাথা ঘোরা কি দীর্ঘ সময় থাকে এবং এটি মাঝে মধ্যেই হয়? যদি উত্তর হ্যাঁ হয় এবং আপনার কাণের উপসর্গ থাকে, তাহলে মাথা ঘোরার সম্ভাব্য কারণ হলো :-
- মধ্যকানের প্রদাহ,
- মেনিয়ার্স রোগ,
- অ্যাকোয়াসটিক নিউরোমা (ভেস্টিব্যুলো ককলিয়ার নার্ভের টিউমার)।
আর যদি আপনার কানের উপসর্গ না থাকে এবং অঙ্গ বিন্যাসজনিত সমস্যা থাকে, তাহলে মাথা ঘোরার সম্ভাব্য কারণ হলো :-
- অঙ্গভঙ্গিজনিত মাথা ঘোরা,
- সার্ভাইক্যাল স্পন্ডাইলোসিস।
আবার যদি আপনার কানের উপসর্গ না থাকে এবং অঙ্গ বিন্যাসজনিত সমস্যা না থাকে, তাহলে মাথা ঘোরার সম্ভাব্য কারণ :-
- বিভিন্ন ওষুধ,
- দুশ্চিন্তা,
- ঘাড়ে আঘাত,
- কপালের একপাশে ব্যথা,
- রজঃনিবৃতি (নারীদের ক্ষেত্রে)।
আপনার মাথাব্যথা দীর্ঘ সময় এবং অবিরাম থাকলে সেই সঙ্গে আপনার কানের উপসর্গ থাকলে মাথা ঘোরার সম্ভাব্য কারণ :-
- অ্যাকোয়াসটিক নিউরোমা,
- সেরেবেলো পনটাইন অ্যাংগেল টিউমার।
আর আপনার কানের উপসর্গ না থাকলে এবং আপনি অজ্ঞান হয়ে পড়লে মাথা ঘোরার সম্ভাব্য কারণ হলো :-
আর অজ্ঞান হয়ে না পড়লে মাথা ঘোরার সম্ভাব্য কারণ হলো :-
- রক্তস্বল্পতা,
- উচ্চরক্তচাপ,
- ডায়াবেটিস,
- থাইরয়েডের অসুখ,
- মানসিক দুশ্চিন্তা।
মাথা ঘোরার চিকিৎসাধারা নির্ভর করে মাথা ঘোরার কারণের ওপর। তবে আপনার ডাক্তার সমস্যার সুনির্দিষ্ট কারণ খুঁজে না পেলে এবং আপনাকে শুধু সান্ত্বনা দিলে নিচের পরামর্শগুলো অনুসরণ করুন। এতে আপনার মাথা ঘোরা কমবে এবং আপনি অনেক ভালো অনুভব করবেন।
মাথা ঘোরার কারণ ও তার প্রতিকার নিয়ে ডিডি বাংলার প্রতিবেদনটি দেখুন...
যা করবেন না:
এ রকম আচমকা মাথা ঘুরতে থাকলে শরীরের ভারসাম্য ঠিক থাকে না। এ রকম অবস্থায় পড়ে গিয়ে আঘাত পাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই একটা অবলম্বন আঁকড়ে ধরে বসে পড়াই ভালো।
যাঁদের ‘বিনাইন পজিশনাল ভারটিগো’ নামের সমস্যাটি আছে, হঠাৎ ঘাড় বা মাথার অবস্থান পরিবর্তন করলেই তাঁদের মাথা ঘোরা শুরু হয়। এ জন্য রাতে পাশ ফিরে না শুয়ে তাঁরা চিত হয়ে একটু উঁচু বালিশে মাথা দিয়ে শোবেন। হঠাৎ করে মাথা বা ঘাড় উঁচুতে টানটান করবেন না, মাথা ঝাঁকাবেন না।
সাহসী হওয়ার চেষ্টা করবেন না: আপনার হঠাৎ মাথা ঘুরতে থাকলে আপনি যে কাজটা করছিলেন সেই কাজ করা থেকে নিজেকে বিরত রাখুন। চিৎ হয়ে শুয়ে পড়ুন। বন্ধ করুন চোখ দুটো। সহজভাবে শ্বাস নিন এবং সাহায্যের জন্য কাউকে ডাকুন।
আপনি গাড়ি চালাতে থাকলে পা ব্রেকের ওপর রাখুন এবং থেমে পড়ুন। শুয়ে পড়ুন পাশের আসনে। ভাগ্যের ওপর নিজেকে ছাড়বেন না কখনোই। আপনি দুর্ঘটনা ঘটিয়ে ফেলতে পারেন, যদি আপনার মাথা ঘোরা মারাত্মক হয়।
দুশ্চিন্তা পুষে রাখবেন না: মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা দৈনন্দিন জীবনের একটি অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এগুলো পুষে না রেখে স্বাস্থ্যকর উপায়ে তা কাটানো শিখতে হবে।
অনেক লোক তাদের ফুসফুসে চাপ নেয় এবং খুব দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে শুরু করে। এতে তাদের মাথা ঘুরতে পারে। এ রকম কখনো করবেন না। সর্বদা ধীরে নিয়মিতভাবে শ্বাস নেবেন।
ঘাড় সোজা রাখুন: বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, ঘাড় ঠিকমতো সোজা না রাখার জন্য মাথা ঘোরে। ঘাড়ে স্পনডাইলোসিসের পরিবর্তন হলে মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহকারী ধমনিগুলোর ওপর চাপ পড়তে পারে এবং এর কারণে দফায় দফায় মাথা ঘোরে। ঘাড়ের শক্তিশালী মাংসপেশি ও ঘাড়ের সুন্দর স্থিতি অবস্থা এটিকে প্রতিরোধ করতে পারে।
অতিরিক্ত পরিশ্রম নয়: আপনি অতিরিক্ত পরিশ্রম করলে মাথা ঘোরার অভিজ্ঞতা হতে পারে। কাজ করবেন পরিকল্পনা মাফিক এবং আপনার সাধ্যের মধ্যে। কখনো সীমা অতিক্রম করবেন না। আগে চিন্তা করে তারপর কাজে হাত দেবেন।
সুগারের মাত্রা কমাবেন না: কাজের চাপে একবেলার খাবার না খেলে এবং রক্তে চিনির মাত্রা কমে গেলে দ্রুত খেয়ে নিন। রক্তে চিনির মাত্রা কমে গেলে আপনার মাথা ব্যথা ও মাথা ঘোরার সমস্যা দেখা দিতে পারে।
পর্যাপ্ত পানি পান করুন: বিশেষ করে, গরমের সময় প্রচুর তরল পান করবেন। শরীরে পানির পরিমাণ কমে গেলে মাথা ঘোরার সমস্যা দেখা দেয়। তাই শরীর যাতে পানিশূন্য হয়ে না পড়ে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। শরীরকে সব সময় পানিপূর্ণ রাখবেন।
সতর্কতার সঙ্গে ওষুধ খান: অনেক ওষুধ আমরা সচরাচর গ্রহণ করে থাকি। যেমন- অ্যান্টিহিস্টামিন, অ্যান্টিবায়োটিক, উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ ও আলসারের ওষুধ। এসব ওষুধ মাথা ঘোরা উপসর্গ সৃষ্টি করতে পারে। কোনো ওষুধ গ্রহণে এমন সমস্যা হলে ডাক্তারকে জানান। তিনি ওষুধ পরিবর্তন করে দেবেন।
মাথা ঘোরা অবহেলা করবেন না: আপনার মাঝে মধ্যেই মাথা ঝিমঝিম করলে কিংবা মাথা ঘুরলে তা অবহেলা করবেন না। উপরের পরামর্শ মেনে চলুন এবং ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন। ডাক্তারকে বলুন আপনাকে পরীক্ষা করে দেখতে। আপনার কী কারণে মাথা ঘুরছে সেটি ঠিকমতো নির্ণয় করা গেলে সঠিক ও কার্যকর চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে। কার্যকর চিকিৎসার জন্য সঠিক রোগ নির্ণয় জরুরি। যখন মাথা ঘোরার নির্দিষ্ট কারণ খুঁজে পাবেন না তখন চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে মধ্যকান ও মস্তিষ্কে রক্ত প্রবাহ বাড়ায় এমন ওষুধ, যেমন 'সিনারিজিন' গ্রহণ করতে পারেন। এতে মাথা ঘোরা কমবে।
চিকিৎসকের যখন প্রয়োজন: বেশির ভাগ মাথা ঘোরাই মারাত্মক নয়। যদিও মাথা ঘোরার কারণে স্বাভাবিক কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটে। তারপরও মাথা ঘোরা দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। কারণ, মাথা ঘোরার পেছনে মারাত্মক কিছু কারণও আছে। চিকিৎসক পরীক্ষা করে দেখবেন কী কারণে মাথা ঘোরার সমস্যা দেখা দিয়েছে। মাথা ঘোরার সঙ্গে তীব্র মাথাব্যথা, একটি জিনিস দুটি দেখা, হাঁটতে সমস্যা হওয়া, কথা জড়ানো বা স্পষ্ট না হওয়া, শারীরিক দুর্বলতা দেখা দিলে দেরি না করে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিতে হবে।
মাথা ঘোরার চিকিৎসা: বিপিপিভি হলে সাধারণত ওষুধের প্রয়োজন পড়ে না। যদি সমস্যা খুব বেশি হয় তাহলে প্রোমেথাজিন ও মেকিজিন সেবন করা যেতে পারে। অবশ্যই তা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী। মাথা ঘোরা শুরু হলে এসব ওষুধ সেবন না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই ভালো। কারণ, এতে করে চিকিৎসকের পক্ষে রোগ নির্ণয় করা সহজ হয়। ওষুধ সেবন করে চিকিৎসকের কাছে গেলে রোগ নির্ণয় করতে সময় লাগে। বিপিপিভি আক্রান্তদের জন্য কিছু ফিজিওথেরাপি আছে। ভেস্টিবুলার রিহেবিলিটেশন এক্সারসাইজ, যা এপলি ম্যানুভার নামে পরিচিত। অন্তকর্ণের প্রদাহের কারণে মাথা ঘোরা হলে অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের প্রয়োজন পড়ে। মেনিয়ার্স ডিজিজে আক্রান্তদের জন্যও চিকিৎসা আছে। তবে তাদের লবণ কম খেতে হবে।
মাথা ঘোরা একটি সাধারণ সমস্যা, কিছু ক্ষেত্রে জটিলও বটে, তবে ভয় পাওয়ারও কারণ নেই আবার অবহেলারও কারণ নেই:
মাথা ঘোরা অনুভব করা কোনো মজার অভিজ্ঞতা নয়। আপনার মাথা যখন ঘোরে, মনে হয় একপাশে হেলে পড়ছেন আপনি। তখন ভর দেওয়ার জন্য আপনাকে কোনো কিছু আঁকড়ে ধরতে হয়। যতক্ষণ না মাথা ঘোরা চলে যায়, ততক্ষণ এক ভয়ঙ্কর অসুস্থতা আপনাকে গ্রাস করে থাকে। আপনার সমগ্র অস্তিত্বই যেন নড়বড়ে হয়ে যায়।
বিভিন্ন কারণে মাথা ঘুরতে পারে। শরীরের স্বাভাবিক ভারসাম্য নির্ভর করে অনেক অঙ্গের স্বাভাবিক কাজকর্মের ওপর। মস্তিষ্কের বিশেষ কেন্দ্রগুলো সঠিক সংকেত পাঠানোর কারণে চোখ, কানের ভেতরের বিভিন্ন অংশ, অস্থিসন্ধিগুলোর ঐন্দ্রিয়ক গ্রাহকগুলো, ঘাড়, মধ্য শরীর ও পায়ের মাংসপেশি ঠিকমতো কাজ করে। যদি এসব অঙ্গের কোনো একটি অথবা মস্তিষ্কের কেন্দ্রগুলোর কোনো একটি আঘাতপ্রাপ্ত হয় কিংবা স্নায়ু সংবাহী পথ বাধাপ্রাপ্ত হয়, তাহলে দুনিয়া ঘুরতে থাকে।
তবে আপনি ভয় পাবেন না, ডাক্তার শুধু আপনার লক্ষণগুলো যাচাই করে এবং আপনার ঘাড়, কান, স্নায়ুতন্ত্র, হৃৎপিণ্ড ও প্রধান রক্তনালিগুলো পরীক্ষা করে মাথা ঘোরার সম্ভাব্য কারণ খুঁজে বের করতে পারেন।
তথ্যসূত্র:
- ডা. সাহিদা সুলতানা সিমু, সমকাল।
- ডা. মো. শরিফুল ইসলাম,
- জাতীয় নিউরোসায়েন্স ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক, এম এস জহিরুল হক চৌধুরী, প্রথম আলো।
- নিউরোটোলজিস্ট, অনির্বাণ বিশ্বাস, আনন্দবাজার।
- ডা. মিজানুর রহমান কল্লোল, সহকারী অধ্যাপক, অর্থোপেডিকস ও ট্রমাটোলজি বিভাগ, ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল, এনটিভি।
- ডাঃ মোঃ ফজলুল কবির পাভেল, ইনকিলাব।
- Edited: Natural_Healing.

কোন মন্তব্য নেই