First Aid Present

Lifestyle Modification এবং প্রাকৃতিক খাদ্য, পানীয়, শাকসবজি, গাছ, ডালপালা, ফল, মসলা, পাতা ও ফুল ইত্যাদির দ্বারা প্রাথমিক চিকিৎসা।

কোন চিনি ভালো- লাল/বাদামী নাকি সাদা চিনি?

চিনি এক প্রকার সুমিষ্ট পদার্থ যা গাছ বা ফলের রস থেকে প্রস্তুত করা হয়। ভারতবর্ষে সাধারণত আখ বা ইক্ষুর রস থেকে চিনি তৈরি করা হয়। এছাড়া বীট এবং ম্যাপল চিনির অন্য দুটি প্রধান বনজ উৎস। চিনির রাসায়নিক নাম সুক্রোজ।

কেমিক্যাল যুক্ত সাদা চিনির পরিবর্তে বাদামি চিনি গ্রহণ করুন।

স্বাস্থ্য সচেতন ক্রেতার নজর এখন আখের চিনিতে। লালচে রঙের এই চিনি স্বাস্থ্যকর হওয়া সত্ত্বেও এতদিন ভুল ধারণা থেকে এড়িয়ে চলা হতো। খোঁজ করা হতো বিট থেকে উৎপাদিত ঝকঝকে, মিহি দানার সাদা চিনি। তবে এ প্রবণতা পুরোপুরি দূর না হলেও ভোক্তার রুচিবোধ দিনদিন বদলে যাচ্ছে। তাদের কাছে কদর বাড়তে শুরু করেছে অবহেলিত সেই লালচে বা বাদামি রঙের চিনির।

দেশে এই আখের চিনি সরবরাহকারী রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান হচ্ছে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প কর্পোরেশন (বিএসএফআইসি) আওতাভুক্ত ১৬টি চিনিকল। আর বিটনির্ভর আমদানিকৃত ও পরিশোধিত চিনি সরবরাহ দিচ্ছে গুটিকয়েক বেসরকারি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। তবে রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলে উৎপাদিত চিনির চাহিদা সাম্প্রতিক সময়ে বাড়লেও এখনও সার্বিকভাবে বেসরকারি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোই ক্রেতার চাহিদার সিংহভাগ পূরণ করছে। পাশাপাশি ক্রেতা আকৃষ্টে আকর্ষণীয় মোড়ক, প্রচারণা, জনবল, বিক্রয়কেন্দ্র সবকিছুই বেশি এসব প্রতিষ্ঠানের। অপরদিকে প্রচারণা কম থাকায় এবং সার্বিকভাবে উৎপাদন ও বিক্রয়কেন্দ্র কম হওয়ায় আখের চিনিতে বাড়তি চাহিদা তৈরি হওয়ার বিষয়টি আড়ালেই থেকে যাচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএসএফআইসি চেয়ারম্যান একেএম দেলোয়ার হোসেন যুগান্তরকে বলেন, সময় বদলেছে। ক্রেতা-ভোক্তারা সচেতন হচ্ছে। তারা ক্ষতিকর বিটনির্ভর চিনির পরিবর্তে আখের চিনিতে ঝুঁকে পড়ছে। এতে রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলোয় উৎপাদিত চিনির ওপর চাপও বাড়ছে। একই সঙ্গে ক্রেতার এই বাড়তি চাপ সামাল দিতে আমরাও সেভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছি। সারা দেশে নিজস্ব বিক্রয়কেন্দ্র বাড়ানো হচ্ছে। এ ছাড়া ক্রেতার বাড়তি চাহিদার দিকে নজর দিয়ে বিভিন্ন সুপারশপগুলোও এখন লাল চিনি বিক্রি করছে। বাজারে বড় বড় মুদি দোকানগুলোতেও যাতে সারা বছর এই চিনি বিক্রি হয় সেজন্য তাদের সঙ্গে বিএসএফআইসির কথাবার্তা হয়েছে। ফলে ইতিমধ্যে বাজারগুলোয় লাল চিনি পাওয়া যাচ্ছে। চাহিদা বাড়ায় আমাদের বিক্রয় কর্মীরা নিজস্ব পরিবহনে বড় বড় দোকানে চিনি পৌঁছে দিচ্ছে।

পুষ্টি তথ্য:

গুড়সহ বাদামী চিনির পুষ্টি তথ্য-


বাদামি চিনিতে গুড়ের হাইড্রোস্কোপিক প্রকৃতির কারনে পণ্যটি প্রাকৃতিকভাবে আর্দ্র থাকে এবং প্রায়ই "নরম" লেবেলযুক্ত হয়।
দানাদার সাদা চিনির পুষ্টি তথ্য:
সাদা চিনি কেমিক্যাল যুক্ত ছোট দানার ঝরঝরে আকৃতির হয়।
কোন চিনি ভালো- মোটা দানার বাদামী চিনি নাকি ছোট দানার ঝরঝরে সাদা চিনি।

লাল চিনি কেন এত গুরুত্বপূর্ণ:

বিএসএফআইসি চেয়ারম্যান বলেন, আখনির্ভর লাল চিনিতে স্বাস্থ্য ঝুঁকি নেই। কিন্তু বিটনির্ভর সাদা চিনিতে স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে, যা প্রমাণিত। তা ছাড়া এক কেজি বিটনির্ভর সাদা চিনির তুলনায় এককেজি আখের চিনিতে অনেক বেশি মিষ্টতা পাওয়া যায়। যে কোনো ক্রেতা বাজার থেকে সমমানের চিনি কিনে নিয়ে সমপরিমাণ পানিতে মিশিয়ে মিষ্টি পরীক্ষা করলেই তার প্রমাণ পাওয়া যাবে।

অন্যদিকে শিল্প-কারখানা রিফাইনিং (পরিশোধিত) পদ্ধতিতে চিনি তৈরির সময় ভিটামিন, মিনারেল, প্রোটিন, এনজাইম এবং অন্যান্য উপকারী পুষ্টি উপাদান দূর হয়ে যায়। এ চিনি মানবদেহের জন্য খুবই ক্ষতিকর। বিদেশ থেকে আমদানিকৃত চিনি তৈরিতে সবসময় আখ ব্যবহার করা হয় না। আখের বিকল্প উপাদান দিয়েও চিনি তৈরি হয়। এই চিনিতে মিষ্টতা আনতে বাড়তি রাসায়নিক মেশানো হয়। আর পরিশোধন প্রক্রিয়ায় চিনিতে যুক্ত হয় আরও ক্ষতিকর নানা উপাদান। পরিষ্কার বা সাদা করার জন্য ব্যবহার করা হয় ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান সালফার, হাড়ের গুঁড়া।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ খাদ্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ইন্সটিটিউটের পরীক্ষায় দেখা গেছে, আমদানি করা পরিশোধিত এবং দেশে উৎপাদিত পরিশোধিত চিনি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। আখ থেকে উৎপাদিত দেশি চিনিতে ক্যালসিয়ামের মাত্রা ১৬০ দশমিক ৩২, যা পরিশোধিত চিনিতে ১ দশমিক ৫৬ থেকে ২ দশমিক ৬৫ ভাগ। পটাশিয়াম দেশি চিনিতে ১৪২ দশমিক ৯ ভাগ, পরিশোধিত চিনিতে শূন্য দশমিক ৩২ থেকে শূন্য দশমিক ৩৫ ভাগ। ফসফরাস দেশি চিনিতে ২ দশমিক ৫ থেকে ১০ দশমিক ৭৯ ভাগ আর পরিশোধিত চিনিতে ২ দশমিক ৩৫ ভাগ। আয়রন দেশি চিনিতে শূন্য দশমিক ৪২ থেকে ৬ ভাগ আর পরিশোধিত চিনিতে শূন্য দশমিক ৪৭ ভাগ। ম্যাগনেশিয়াম দেশি চিনিতে শূন্য দশমিক ১৫ থেকে ৩ দশমিক ৮৬ ভাগ আর পরিশোধিত চিনিতে শূন্য দশমিক ৬৬ থেকে ১ দশমিক ২১ ভাগ। সোডিয়াম দেশি চিনিতে শূন্য দশমিক ৬ ভাগ, আর পরিশোধিত চিনিতে শূন্য দশমিক ২ ভাগ।

বাজার থেকে ভেজাল ও ক্ষতিকর রাসায়নিক মিশ্রিত চিনি না কিনে ভালো চিনি কেনার অভ্যাস সহজেই গড়ে তোলা যায়। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করে ঝকঝকে সাদা চিনি। ঝরঝরে মিহি দানার এই চিনি আকর্ষণীয় প্যাকেটে বাজারজাত করার কারণে ক্রেতাদের বেশি টানে। অন্যদিকে দেশে তৈরি আখের চিনি স্বাস্থ্যকর হলেও এটি দেখতে লালচে, এর আর্দ্রতা বেশি। অনেক সময় ক্রেতারা এই চিনি কিনতে আগ্রহ দেখান না। কিন্তু দেশীয় চিনিকলে উৎপাদিত চিনি তুলনামূলকভাবে নিরাপদ এবং শিশু খাদ্য হিসেবে উপযোগী। এসব কারণে বিশেষজ্ঞরা এখন দেশে উৎপাদিত বাদামি-লালচে চিনি খাবার পরামর্শ দিচ্ছেন। বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প কর্পোরেশন প্যাকেটজাত করে বিক্রি করতেও শুরু করেছে এই চিনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, খাবারে যেকোনো ধরনের চিনি এড়াতে পারলে ভালো। সাদা চিনি খেলে ডায়াবেটিস, হার্ট অ্যাটাক, লিভার বিকলসহ নানা ধরনের শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে; কিন্তু লাল চিনি স্বাস্থ্যের জন্য অপেক্ষাকৃত ভালো। কারখানায় পরিশোধন করে সাদা চিনি তৈরির সময় ভিটামিন, মিনারেল, প্রোটিন, এনজাইম ও অন্যান্য উপকারী পুষ্টি উপাদান দূর হয়ে যায়। এ ছাড়া বিদেশ থেকে আনা চিনিতে আখের (সুগারকেন) বিকল্প উপাদানও (সুগার বিট) ব্যবহার করা হয়। মিষ্টির পরিমাণ বাড়াতে সাদা চিনিতে রাসায়নিক মেশানো হয়। বিপরীতে লাল চিনি সরাসরি আখ থেকে তৈরি। তাই লাল চিনি অনেক উপকারী। তার পরও আমাদের দেশের মানুষ সাদা চিনির দিকেই ঝোঁকে। ফলে, ব্যবসায়ীরা দোকানে লাল চিনি রাখতে চান না। এ কারণে বড় সমস্যায় পড়ে দেশের চিনিকলগুলো। বাজারে লাল চিনি তেমন বিক্রি না হওয়ায় ঠিকভাবে বেতন পাচ্ছেন না চিনিকলের শ্রমিক-কর্মচারীরা। শারীরিক উপকারের দিক বিবেচনায় রাখার পাশাপাশি লাল চিনির উৎপাদন অব্যাহত রাখতে ক্রেতাদের লাল চিনি কেনায় আগ্রহ বাড়ানো উচিত।

পুষ্টিবিদ শওকত আরা সাঈদা বলেন,

সাদা চিনি খাওয়া একেবারেই বাদ দিন। লাল চিনি সাদা চিনির থেকে কম ক্ষতিকর। এ ছাড়া মিষ্টি ফল, ফলের সালাদ বা কাস্টার্ড ভালো সমাধান। খেজুর, মধু, গুড়, কিশমিশ খেয়েও কিন্তু মিষ্টির মোহ কমাতে পারেন, যা ততটা ক্ষতিকরও নয়।

তবে কৃত্রিম চিনি কোনোভাবেই খাওয়া যাবে না। সে ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক চিনি, যেমন স্টিভা নামের একধরনের পাতা খেতে পারেন, যা চিনির স্বাদ দেবে কিন্তু চিনির মতো ক্ষতিকর নয়।

অনেক সময়ে গর্ভকালে বা মানসিক অবস্থার কারণে চিনির প্রতি ভালো লাগা তৈরি হয়।

মন খারাপ হলে অনেকেই চিনি বা মিষ্টিজাতীয় খাবার খাওয়া শুরু করেন। মন ভালো রাখতে এটি অনেকের কাছে প্রচলিত উপায়। কিন্তু ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউন্সেলিং সাইকোলজিস্ট এ্যানি বাড়ৈ বলেন, মন খারাপ হলে মিষ্টি খাওয়া কোনো সমাধান নয়। মিষ্টি আমাদের শারীরিক শক্তি এনে দেয়, অনেক ক্ষেত্রে মনে হয় তা মন ভালো করছে। এটি খুবই অস্থায়ী অনুভূতি, যা সাময়িক ভালো লাগা দিতে পারে। উল্টো এতে শারীরিক ক্ষতি হয় মারাত্মক। মনের স্বাস্থ্যের জন্যও ভালো নয়।

কেমিক্যাল ছাড়াই সনাতন পদ্ধতিতে তৈরি হচ্ছে লাল চিনি।

তথ্যসূত্র:

  • 'পারসোনা হেলথের' প্রধান পুষ্টিবিদ শওকত আরা সাঈদা,
  • ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউন্সেলিং সাইকোলজিস্ট এ্যানি বাড়ৈ, প্রথম আলো।
  • উইকিপিডিয়া।
  • যুগান্তর।
  • আরিফুল ইসলাম, শিক্ষার্থী, বিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বন্দর কলেজ, কালের কণ্ঠ।
  • সময় টিভি।
  • পুষ্টিবিদ আয়েশা সিদ্দিকা, বাংলা টিভি।
  • Edited: Natural_Healing.

কোন মন্তব্য নেই

Popular Post

Blogger দ্বারা পরিচালিত.