First Aid Present

Lifestyle Modification এবং প্রাকৃতিক খাদ্য, পানীয়, শাকসবজি, গাছ, ডালপালা, ফল, মসলা, পাতা ও ফুল ইত্যাদির দ্বারা প্রাথমিক চিকিৎসা।

কানের সমস্যা ও প্রতিকার

কিভাবে কানের সমস্যা উৎপত্তি হয়:

২০১৩ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহযোগিতায় পরিচালিত এক জরিপের ফল অনুযায়ী বাংলাদেশের এক তৃতীয়াংশ মানুষ কোন না কোন ভাবে কানে কম শোনা রোগে ভুগছে।

এর মধ্যে অন্তত দশ ভাগ মানুষ হিয়ারিং এইড বা যন্ত্রের সহযোগিতা ছাড়া প্রায় অচল। আর বধিরতায় ভুগছে এক দশমিক তিন শতাংশ শিশু।

ঢাকায় বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের নাক, কান ও গলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা: কামরুল হাসান তরফদার বলছেন গর্ভবতী মায়ের ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার মতো শিশুর জন্মকালীন সমস্যা, অজ্ঞতা, প্রচলিত কিছু নিয়ম কানুন এবং শব্দ দূষণের মতো বিষয়গুলোই মূলত শ্রবণ সমস্যার জন্য দায়ী।

তিনি বলেন কিছু ক্ষেত্রে অবহেলার জন্যেও সমস্যাগুলো প্রকট হয়ে কানের অনেক ক্ষতি করে থাকে।

“অনেক সময় শিশুদের বিছানায় শুইয়ে বুকের দুধ খাওয়ান মায়েরা। এটি বিপদজনক হতে পারে। আবার অনেকে কানের ময়লা পরিস্কার করতে গিয়ে ক্ষতি করেন কানের। কান পাকলে গুরুত্ব না দিয়ে বরং নানাভাবে আরও ক্ষতি করা হয়, যা থেকে বধিরতা হতে পারে”।

মিস্টার তরফদার বলেন শহর ও গ্রাম সব জায়গাতেই শ্রবণ সম্পর্কিত সমস্যার অন্যতম বড় কারণ হলো শব্দ দূষণ।

“ধর্মীয়, রাজনৈতিক নানা কিছু, আবার কনসার্ট এগুলোতে ব্যাপকভাবে অনুষ্ঠান স্থলের বাইরেও মাইকের ব্যবহার করা হয় যেগুলো অত্যন্ত ক্ষতিকর”।

তিনি বলেন এ ধরনের নানা কারণে শ্রবণ সমস্যা দেখা দিলেও সেটিকে অবহেলা না করে সময়মত চিকিৎসা নিলেই কেবল বধিরতার আশংকা দুর করা সম্ভব হবে।

কানের সমস্যাগুলোর মধ্যে প্রধান হচ্ছে কানে ব্যথা, কান দিয়ে পুঁজ পড়া, কানে কম শোনা, মাথা ঘুরানো ইত্যাদি

অনেক সময়ই কানের সমস্যায় আমরা তেমন গুরুত্ব দেই না। কিন্তু এর পরিণতি হতে পারে বিপজ্জনক, প্রভাব পড়তে পারে মস্তিষ্কেও। করোনার এ সময়ে বাড়িতে বন্দি হয়ে প্রত্যেকেই আরও বেশি করে আঁকড়ে ধরছেন মোবাইল কিংবা ল্যাপটপ। মানসিক অবসাদ কাটাতে অনলাইন চ্যাট, গেমস বা ওয়েব সিরিজ়ের মধ্যে নিজেদের অবসর খুঁজে পেতে চাইছেন। বেশিরভাগ সময়ই হয়তো কানে থাকছে ইয়ারফোন বা হেডফোন।

ভার্চুয়াল বৈঠক, ওয়েবিনারের ফলে কানে অতিরিক্ত চাপ পড়ছে। ছোটদের ক্ষেত্রে অনলাইন ক্লাসও বড় রকমের ক্ষতি করছে বলে জানিয়েছেন ভারতের মেডিসিনের চিকিৎসক অরিন্দম বিশ্বাস।

করোনা আতংকে অনেকেই চিকিৎসকের কাছে যেতে ভয় পাচ্ছেন। এই অবহেলার কারণেও কানের সমস্যা আরও বাড়ছে। কানে ছত্রাকের সংক্রমণ বর্ষার ম্যৌসুমে একটু বাড়তে পারে, এছাড়া এখন হেডফোনের ব্যবহারও বেড়েছে; তাই কোনো ছোটখাটো সমস্যা মনে হলেও চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ সুচির মৈত্র।

তিনি বলেন, ঠান্ডা লাগলে নাকের সর্দিটা কানের দিকে চলে গিয়ে সংক্রমণ ঘটায়। বয়স্ক থেকে শিশু সকলেরই কানের সংক্রমণ হতে পারে। আবার কানের সাথে মস্তিষ্কের সরাসরি সংযোগ রয়েছে। এছাড়া সাইনাসের সমস্যা, অ্যালার্জি, মিউকাস জমে যাওয়া, এগুলো থেকেও কানে সংক্রমণ হতে পারে। সংক্রমণ হতে পারে হেডফোন থেকেও। আবার কানে ছত্রাকের সংক্রমণ বর্ষার মরসুমে একটু বাড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞ এ চিকিৎসক আরও বলেন, কানের সমস্যা হলে অনেকে বাড দিয়ে খোঁচাখুঁচি করেন যা অত্যন্ত ক্ষতিকারক। কোনো সংক্রমণ থাকলে ইয়ারড্রাম পারফোরেশন অর্থাৎ কানের পর্দা ফেটে ফুটো হয়ে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে শ্রবণশক্তি হারাতে হতে পারে। কানের সমস্যা থেকে জটিলতা বেড়ে মস্তিষ্কে প্রভাব পড়তে পারে। তাই কানে কিছু অস্বস্তি হচ্ছে মনে হলে সরাসরি চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

হেডফোন বা ইয়ারফোন থেকে সমস্যা কেন, কী খেয়াল রাখতে হবে?

• এক টানা হেডফোন ব্যবহার করা ক্ষতিকারক।

• কানে সংক্রমণ হয়েছে, এমন কারও হেডফোন অন্য জন ব্যবহার করলে তা থেকেও সংক্রমণ হতে পারে।

• নিজের ইয়ারফোনও আলাদা বাক্সে ভরে ব্যাগে বা পকেটে নিয়ে বেরতে হবে। ইয়ারফোন ব্যাগের মধ্যে ফেলে রেখে দিলে তাতে ধুলোবালি ও ব্যাকটেরিয়া বাসা বাঁধতে পারে। কানে গোঁজার সময়ে তা সহজেই কানের ভিতরে প্রবেশ করে। ফলে সংক্রমণের সম্ভাবনা থেকেই যায়।

• এক কানে সংক্রমণ থেকে সংক্রমণ ছড়াতে পারে অন্য কানেও।

• শ্রবণশক্তি কমলে প্রভাব পড়বে শরীরের ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রেও। কারণ শরীরের ভারসাম্য রক্ষার জায়গাটি কানেই রয়েছে।

• কানে ব্যথা হলে পরিষ্কার কাপড় দিয়ে হালকা সেঁক নেওয়া যেতে পারে চিকিৎসকের পরামর্শে।

• কানে জল ঢুকে গেলে অনেকেই বাড ব্যবহার করে বা আঙুল দিয়ে খুঁচিয়ে সেই কান পরিষ্কার করার চেষ্টা করেন। সেটা কিন্তু একেবারেই উচিত নয়।

• তোয়ালের মাধ্যমে যতটা জল মুছে নেওয়া যায়, মুছে নিন। বাকিটা ঠিক সময় মতো বেরিয়ে যাবে।

"কানের সমস্যা হলে অনেক সময়ই বাড দিয়ে খোঁচাখুঁচিও করেন অনেকে, সেটা অত্যন্ত ক্ষতিকারক। কোনও সংক্রমণ থাকলে ইয়ারড্রাম পারফোরেশন অর্থাৎ কানের পর্দা ফেটে ফুটো হয়ে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে শ্রবণশক্তি হারাতে হতে পারে। কানের সমস্যা থেকে জটিলতা বেড়ে মস্তিষ্কে প্রভাব পড়তে পারে। তাই কানে কিছু অস্বস্তি হচ্ছে মনে হলেই আঙুল দিয়ে খোঁচাখুঁচি ইত্যাদি একেবারেই করা যাবে না। চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।’’

ফারাংকুলোসিস:

কানের ফারাংকুলোসিস (বহিঃকর্ণের ফোড়া) সাধারণত ডায়াবেটিস রোগীদের হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে কানে প্রচণ্ড ব্যথা হয় সঙ্গে জ্বর থাকতে পারে। অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস এর প্রধান কারণ। নখ বা কটন বাড দিয়ে কান খোঁচানো অথবা পুকুর-নদীতে অপরিষ্কার পানিতে গোসল করা থেকে সাধারণত এ রোগের সূত্রপাত হয়। ছোট বা বড় অনেককেই দেখা যায় প্রায়ই কান চুলকায়। এসব রোগী হাতের কাছে যা পায় তা দিয়েই প্রায়ই কান খোঁচায়। গরম আবহাওয়া এর পেছনে অনেকাংশে দায়ী। এ চুলকানো থেকে কানের বিভিন্ন ধরনের ইনফেকশন বিশেষত বাইরের কানের লোমকূপের গোড়ায় ইনফেকশন (ফারাংকুলোসিস) হতে পারে। রাস্তায় বসা অনভিজ্ঞ লোক দিয়ে কান পরিষ্কার করা থেকেও প্রায়ই কানের ইনফেকশন, কানের পর্দা ছিঁড়ে যাওয়া এবং কানের আরও মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।

শিশুদের কানে ব্যথা:

এটি একটি সাধারণ সমস্যা। ছোট বাচ্চাদের এটি বেশি হতে দেখা যায়। খুব কম বাচ্চাই আছে যাদের জীবনে এ অভিজ্ঞতা হয় না। কানের এ ইনফেকশন থেকে সাধারণত কান পাকা রোগের সৃষ্টি হয়। ছোটদের কানের ইনফেকশনের ঠিকমতো ও পর্যাপ্ত চিকিৎসা না হলে অথবা ঘনঘন ইনফেকশন হতে থাকলে এ সময় কানের পর্দা ফেটে যেতে পারে। যদি এর সঙ্গে নাকের প্রদাহ অথবা ক্রনিক টনসিল ও এডেনয়েডের সমস্যা যোগ হয় তাহলে কানের পর্দা ফাটা ক্রনিক পর্যায়ে চলে যায়। এ রোগীদের কান দিয়ে পুঁজ-পানি পড়ে এবং কানে ব্যথা হয়। ধীরে ধীরে এরা কানে কম শুনতে শুরু করে। একপর্যায়ে এর সঙ্গে মাথা ঘুরানো যোগ হয়। কানের সমস্যার সঙ্গে মাথা ঘুরানোর যোগসূত্র আছে।

আমাদের দেশে গ্রাম-গঞ্জের মানুষ পুকুরে-নদীতে গোসল করে। নোংরা জলাশয়ের পানিতে গোসল করলে কানের এ সমস্যা আরও বেড়ে যায়।

যেভাবে বুঝবেন আপনার শিশুর কানে ব্যথা হচ্ছে-শিশু ও ছোটো বাচ্চাদের এক কানে অথবা একই সাথে দুই কানে ব্যথা হতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ইনফেকশনের জন্য ব্যথা হয়—যা অল্প কিছুদিনেই সেরে যায়। শিশুর কানে ব্যথা হচ্ছে কি না তা বোঝার কিছু উপায় হলো—

  • বাচ্চারা কান ঘষলে বা টানলে
  • আওয়াজে সাড়া না দিলে
  • শরীরের তাপমাত্রা ১০০.৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার বেশি হলে
  • খিটখিটে কিংবা খুব অস্থির হয়ে উঠলে
  • খাবার খেতে না চাইলে
  • শরীরের ভারসাম্য বা ব্যালেন্স হারিয়ে ফেললে

কলেস্টিয়েটমা:

এটি কানের একটি ক্রনিক বা দীর্ঘমেয়াদি ইনফেকশন যা কানের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোকে নষ্ট করে দেয়, কান কখনও শুকায় না, প্রায়ই কানে ব্যথা থাকে এবং কানের শ্রবণক্ষমতা দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। এক সময় এ সমস্যা অন্তঃকর্ণে (কানের ভেতরের অংশ) চলে গেলে তীব্র মাথা ঘুরা শুরু হয়। এ ইনফেকশন ব্রেনে চলে গেলে স্ট্রোক, সেরিব্রাল অ্যাবসসেস এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

গর্ভাবস্থায় কানের সমস্যা:

কানের আরেকটি সমস্যা প্রায়ই মহিলাদের হতে দেখা যায়। গর্ভাবস্থায় এ রোগ তীব্র আকার ধারণ করে। একে অটোস্ক্লেরোসিস বলে। কানের ভেতরের অংশে অবস্থিত সূক্ষ্ম হাড়গুলো শক্ত হয়ে যায় এবং কানের শ্রবণক্ষমতা কমতে থাকে। কানের ভেতর শোঁ শোঁ শব্দ হয় এবং ক্ষেত্রবিশেষে এর সঙ্গে মাথা ঘুরানো এবং বমি যোগ হতে পারে।

কানের ক্যান্সার:

কানের ভেতরে ক্যান্সার খুবই কম হয়, তাদেরই বেশি হয় যাদের অনেকদিন ধরে কান পাকা রোগ থাকে। ভেতরের কানে ইনফেকশন থেকে কানে কম শোনা, কানে শোঁ শোঁ শব্দ হওয়া বা মাথা ঘুরানো, মধ্য কর্ণের ইনফেকশন থেকে মুখ বেঁকে যাওয়া আমাদের সমাজে কম নয়।

সাবধানতা:

প্রথম কথা হচ্ছে কান চুলকাতে যাবেন না। প্রথম কথা এটা। আরেকটা হচ্ছে, হঠাৎ করে যদি কেউ কানে কম শোনে তাহলে অবশ্যই একজন নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞকে দেখাবেন। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, অনেক সময় নার্ভ ড্যামেজ হওয়ার কারণে মানুষ হঠাৎ করে শ্রবণশক্তি সম্পূর্ণ হারিয়ে ফেলতে পারে। এটার চিকিৎসা যত তাড়াতাড়ি শুরু করা যাবে, তত তাড়াতাড়ি তার এটা রিগেইন করার চান্স থাকে। কেউ যদি সাত দিন পরে যায়, তাহলে ওই ওষুধগুলো দিয়ে ফেরত পাওয়া যায় না।

ডা. ফুয়াদ মোহাম্মদ শহীদ হোসেন বলেন, কান দিয়ে আমরা শুনি এবং এটা ব্যালেন্সের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। কাজেই যদি আমাদের সে পারপাসটাই সার্ভ করতে না পারে, তাহলে সে জিনিসটা থাকা-না থাকায় কাজে আসে না। কানের অন্যান্য প্রদাহজনিত যত রোগ আছে, সেগুলোর চিকিৎসা আমরা করতে পারি আজ হোক কাল হোক, সেটা দেরি হলেও ম্যানেজেবল। কিন্তু হঠাৎ করে কানে কম শোনা, এটাকে অবশ্যই গুরুত্ব দেবেন।

কান খোঁচানো- শক্ত কোনো কিছু দিয়ে কান খোঁচানোর অভ্যাস অনেকেরই কানের মারাত্মক ক্ষতি করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কানে কোনো ধরনের ধাতব বা শক্ত কিছু ঢোকানো যাবে না। এতে করে সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

হেডফোন/ইয়ারফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার- অনেকেই কানে হেডফোন লাগিয়ে রাখে অনেকটা সময় ধরে। এতে করে কানের মারাত্মক ক্ষতি হয়। একটানা ২০-২৫ মিনিটের বেশি কানে হেডফোন লাগিয়ে রাখা একেবারেই উচিত নয়।

কান ব্যথাকে অবহেলা- কানে সংক্রমণের কারণে ব্যথা হতে পারে। আর এটি কানের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। কানের সামান্য প্রদাহ ও ইনফেকশন অবহেলা করা বড় সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। তাই কানে ব্যথা বা ইনফেকশন হলে উপযুক্ত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।

উচ্চৈঃস্বরে গান শোনা- স্পিকার বা ইয়ারফোন যা-ই হোক না কেন, অতিরিক্ত সাউন্ড দিয়ে গান শোনার অভ্যাসটি কান ও শ্রবণশক্তির জন্য ক্ষতিকর। ৮৫ ডেসিবলের বেশি শব্দ যদি কেউ প্রতিনিয়ত শুনতে থাকে, তাহলে ধীরে ধীরে তার শ্রবণশক্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে। এতে কানের পর্দার সংবেদনশীলতা নষ্ট হয়ে যায়।

বিনা প্রয়োজনে কান পরিষ্কার- অনেক সময়েই আমরা ইয়ারবাড দিয়ে কান পরিষ্কার করে থাকি। অনেকে কান চুলকাতে ম্যাচের কাঠিও ব্যবহার করে থাকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কানের ভেতরে পরিষ্কার করা একেবারেই উচিত নয়। এমনিতেই কানের ময়লা বের হয়ে যায়। কানের বেশি ভেতরে পরিষ্কার করতে যাবেন না। যদি প্রয়োজন মনে হয় তবে বিশেষজ্ঞের সহায়তা নিন। 

কী কী হলে সতর্ক হতে হবে?

  • কানে ব্যথা
  • কান কটকট করা
  • কানের ভিতরে চাপ অনুভব করা বা কান ভারী লাগলে
  • বাচ্চাদের ক্ষেত্রে কান ফুলে যাওয়া
  • কান থেকে পুঁজ
  • কানে কম শোনা 
  • কানের সমস্যার কারণে মাথা ঘুরলে

‘‘ঠান্ডা লাগলে নাকের সর্দিটা কানের দিকে চলে গিয়ে সংক্রমণ বাধায়। বড় থেকে বাচ্চা-সকলেরই কানের সংক্রমণ হতে পারে। কানের সঙ্গে মস্তিষ্কের সরাসরি সংযোগ রয়েছে। আবার সাইনাসের সমস্যা, অ্যালার্জি, মিউকাস জমে যাওয়া, এগুলি থেকেও কানে সংক্রমণ হতে পারে। সংক্রমণ হতে পারে হেডফোন থেকেও।"

কানে শুনতে সমস্যা হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

কানের খইল বা ময়লা তৈরি হলে করণীয়:

কানে খইল আটকে থাকলে যে লক্ষণগুলো দেখা দেয় তা হলো—

  • কানে শুনতে না পাওয়া
  • কানে ব্যথা হওয়া এবং কান বন্ধ হয়ে আছে বলে মনে হওয়া
  • বাইরে কোনো শব্দ না হলেও কানের ভেতর গুঞ্জন হচ্ছে বলে মনে হওয়া
  • মাথা ঘুরানো, শরীরের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা
  • বমি বমি লাগা

কানের খইল জমলে সেটিকে আমরা কানের ময়লাও বলে থাকি। এটিকে ইংরেজিতে ইয়ার ওয়াক্স বলা হয়। এটি একটি স্বাভাবিক বিষয়।

সাধারণভাবে ময়লা ভাবা হলেও কানের খইল আমাদের জন্য উপকারি। এটি কানের ভেতরের পরিবেশকে জীবাণু থেকে সুরক্ষা দেয়। এটি সাধারণত নিজ থেকেই নিয়মিতভাবে বেরিয়ে আসে।

আঙুল ও অন্য কোনো বস্তু (যেমন: কটন বাড) দিয়ে কখনোই কানের ময়লা বের করার চেষ্টা করবেন না। কারণ এতে ময়লা উল্টো কানের ভেতরে ঢুকে যায়। ফলে খইলের সমস্যা আরও বেড়ে যায় এবং ভোগান্তি পোহাতে হয়। আমাদের অনেকেরই এই অভ্যাস আছে। তাই এখন থেকে এই কাজটি একেবারেই বন্ধ করে দিতে হবে।

কানের খইল বা ময়লা বের করতে হলে মেডিকেল গ্রেড অলিভ ওয়েল ব্যবহার করবেন। এই তেল তুলনামূলক বেশি কার্যকর এবং কানের ময়লা সহজে নরম করে। ফলে সেটি আপনা-আপনি কান থেকে বেরিয়ে আসে।

যদি কানে বেশি পরিমাণে খইল জমা হয় এবং শক্ত হয়ে আটকে থাকে তাহলে কানে নানান সমস্যা দেখা দেয়। তখন ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হয়।

কানে পানি ঢুকলে করনীয়:

সাঁতারকাটা কিংবা গোসল করতে গিয়ে অনেক সময় কানে পানি ঢুকে যায়। আর একবার কানের মধ্যে পানি ঢুকলেই শুরু হয়ে যায় ভোঁ ভোঁ শব্দ। কানে আঙুল ঢুকিয়ে বা ধাক্কা দিয়ে পানি বের করার চেষ্টা করলেও সবসময় তা কাজে দেয় না। ফলে খুব অস্বস্তিকর অবস্থায় পড়তে হয়।

আর কানের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ পানি জমে থাকলে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হতে পারে, যেমন: কানে যন্ত্রণা করা, পুঁজ জমা, রক্তপাত, ইনফেকশন হওয়া ইত্যাদি। এমনকি এর থেকে আপনি বধিরও হয়ে যেতে পারেন। তবে কিছু ঘরোয়া পদ্ধতির সাহায্যে আপনার এ সমস্যার সমাধান সম্ভব। তাহলে জেনে নিন কানে পানি ঢুকে গেলে কী করবেন–

কানের লতি ধরে ঝাঁকান- এ পদ্ধতিতে খুব সহজেই কান থেকে পানি বেরিয়ে আসবে। যে কানে পানি ঢুকেছে, সেদিকে মাথা কাত করে কানের লতি ধরে আলতোভাবে টানুন কিংবা ঝাঁকান।

পাশ ফিরে শুয়ে পড়ুন- যে কানে পানি ঢুকেছে, সেদিকে পাশ ফিরে, কানের নিচে তোয়ালে রেখে কয়েক মিনিটের জন্য শুয়ে থাকুন। দেখবেন কান থেকে পানি ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসবে।

ব্লো ড্রায়ার ব্যবহার করুন- ব্লো ড্রায়ারের তাপ কানের ভেতরে থাকা পানিকে বাষ্পে পরিণত করতে সহায়তা করবে। তবে ব্লো ড্রায়ার ব্যবহার করার সময় অবশ্যই কান থেকে প্রায় এক ফুট দূরে ধরে রাখবেন এবং ড্রায়ারের লোয়েস্ট সেটিংটি ব্যবহার করবেন। কানের লতি হালকা টেনে ধরে হেয়ার ড্রায়ারের উষ্ণ বাতাস আপনার কানের ভেতরে ঢুকতে দিন। ব্লো ড্রায়ার একভাবে কানের সামনে ধরে রাখবেন না, সামনে-পেছনে সরাতে থাকবেন।

অলিভ অয়েল ব্যবহার করুন- অলিভ অয়েল কানে ইনফেকশন প্রতিরোধ করতে অত্যন্ত সহায়ক এবং কান থেকে খুব সহজেই পানি বের করে দিতে পারে। একটি পাত্রে কিছুটা অলিভ অয়েল হালকা গরম করে নিন। তারপর তাপমাত্রা পরীক্ষা করে একটি পরিষ্কার ড্রপারের সাহায্যে আক্রান্ত কানে কয়েক ফোঁটা তেল দিন। ১০ মিনিট রেখে ওই কানটিকে এক পাশে কাত করুন। দেখবেন তেল ও পানি এনক সঙ্গেই বেরিয়ে যাবে।

কানে তেল ব্যবহারের নিয়ম:

কানের ময়লা নিজ থেকেই বের হয়ে পড়ে যায়। কিন্তু যদি তা কানে আটকে থাকে এবং কান বন্ধ করে রাখে তাহলে দিনে তিন বার অথবা চার বার কানে দুই থেকে তিন ফোঁটা মেডিকেল গ্রেড অলিভ ওয়েল অথবা অ্যামন্ড ওয়েল দিন। টানা তিন থেকে পাঁচ দিন এই পদ্ধতি অনুসরণ করুন।

কানে তেল দেওয়ার সুবিধার্থে ড্রপার ব্যবহার করুন। তেল যেন সহজে কানের নালিতে প্রবেশ করে তাই কিছুক্ষণের জন্য মাথা এক পাশে কাত করে রাখুন। সকালে ঘুম থেকে উঠে ও রাতের ঘুমানোর আগে কানে তেল দিলে পদ্ধতিটি মেনে চলা সহজতর হবে। এর ফলে দুই সপ্তাহের মধ্যে ময়লা দলা হয়ে কান থেকে বেরিয়ে আসবে। তবে,

কানের পর্দায় ছিদ্র থাকলে ড্রপ ও তেল ব্যবহার করবেন না।

কানের চিকিৎসার সিস্টেম:

আধুনিক প্রযুক্তি যেমন- মাইক্রোস্কোপ, এন্ডোস্কোপ ইত্যাদির ব্যবহার অপরিহার্য। বিশেষত কানের মাইক্রোস্কোপের ব্যবহার শুরুর পর থেকে কানের রোগ নিরূপণ ও চিকিৎসা ব্যবস্থায় যুগান্তকারী উন্নতি হয়েছে। কানের বিভিন্ন অসুখ নিরূপণে মাইক্রোস্কোপের বিকল্প নেই। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটা সিটি স্ক্যান ও এমআরআইয়ের চেয়ে বেশি তথ্য প্রদান করে। সভ্য ও উন্নয়ন দেশে অপারেটিং মাইক্রোস্কোপ এবং বিভিন্ন এন্ডোস্কোপ ছাড়া কোনো নাক-কান-গলা এর ক্লিনিক চিন্তাই করা যায় না।

কানের আধুনিক শল্যচিকিৎসা দিয়ে অনেক জটিল রোগের নিরাময় করা সম্ভব। এক্ষেত্রে মাইক্রোস্কোপ ব্যবহারের বিকল্প নেই। কানের পর্দা লাগনো টিমপানোপ্লাস্টি মাইক্রোসার্জারি দিয়ে এমনকি অজ্ঞান না করেই করা সম্ভব।

এছাড়াও কানের সমস্যা সমাধানে আকু প্রেসার করতে পারেন...

তথ্যসূত্র:

  • অধ্যাপক ডা. জাহির আল-আমিন, নাক, কান ও গলা রোগ বিশেষজ্ঞ ও সার্জন, সিনিয়র কনসালটেন্ট, ইমপাল্স হাসপাতাল, ঢাকা, যুগান্তর।
  • ডা: কামরুল হাসান তরফদার, নাক, কান ও গলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল, ঢাকা, বিবিসি বাংলা।
  • মেডিসিনের চিকিৎসক অরিন্দম বিশ্বাস, এবং নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ, সুচির মৈত্র, নয়া দিগন্ত> আনন্দবাজার।
  • ডা. মালিহা তাসনিম, মেডিকেল রাইটার, সহায় হেল্থ।
  • সময় টিভি।
  • Edited: Natural_Healing.

কোন মন্তব্য নেই

Popular Post

Blogger দ্বারা পরিচালিত.