First Aid Present

Lifestyle Modification এবং প্রাকৃতিক খাদ্য, পানীয়, শাকসবজি, গাছ, ডালপালা, ফল, মসলা, পাতা ও ফুল ইত্যাদির দ্বারা প্রাথমিক চিকিৎসা।

চোখের যত্নে করণীয় এবং পুষ্টি

সারাদিন বিভিন্ন কাজের কারণেই চোখ রাখতে হয় কম্পিউটার অথবা মোবাইলে। টানা ৮ থেকে ৯ ঘণ্টা কম্পিউটারের সামনে বসে থেকে কাজ করা ও ফোনে সারাদিন কথা বলা। সব মিলিয়ে চোখের সমস্যা হওয়া খুবই স্বাভাবিক। তাই এখন বেশিরভাগ মানুষই চশমা ব্যবহার করছেন। কম্পিউটার ও মোবাইল প্রতিনিয়ত ব্যবহার করলে অবশ্যই চোখের যত্ন নিতে হবে।

চলুন তবে জেনে নেই কীভাবে চোখ যত্ন রাখবেন-

১. ডিজিটাল যন্ত্রাংশে কাজের সময় লক্ষ্য রাখুন;

i) একটানা দীর্ঘক্ষণ মোবাইল বা ল্যাপটপে কাজ করবেন না। মাঝেমধ্যে চোখকে একটু বিশ্রাম দিন। আধঘণ্টা অন্তর অন্তর এক-দুই মিনিট চোখ বন্ধ রাখুন। অথবা দূরে তাকাতে পারেন। সব সময় কাছে তাকালে চোখের সিলিয়ারি পেশিতে চাপ পড়ে। দূরে তাকালে চোখ রিলাক্সড থাকবে। মিনিটখানেকের বিরতি নিয়ে আবার কাজ শুরু করুন।

ii) একটানা দীর্ঘক্ষণ মোবাইল বা ল্যাপটপ ব্যবহার করলে চোখ লাল হয়ে যাওয়া বা পানি পড়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে। একে ডাক্তারি পরিভাষায় 'ড্রাই আই সিনড্রোম' বলা হয়। একটানা মোবাইল বা ল্যাপটপের আলোয় চোখ শুস্ক হয়ে এ সমস্যা হয়। এর থেকে চোখকে রক্ষা করতে মাঝেমধ্যে দ্রুত চোখের পলক ফেলুন। ঘন ঘন চোখ খোলা বন্ধ করলে চোখের আর্দ্রতা বজায় থাকবে। তা সত্ত্বেও যদি ড্রাইনেসের সমস্যা হয়, তাহলে লুব্রিকেটিং আইড্রপ বা টিয়ারড্রপ ব্যবহার করতে পারেন, দিনে চার-পাঁচবার। বার কয়েক চোখে ঠান্ডা পানির ঝাপটা দিলেও উপকার পাবেন।

iii) সঠিক পশ্চার মেনটেন করুন। কাত হয়ে বা শুয়ে মোবাইল বা ল্যাপটপ ব্যবহার করবেন না। এতেও চোখের ওপর চাপ পড়বে।

iv) যারা কনটাক্ট লেন্স পরেন, তারা একটানা ৮ ঘণ্টার বেশি লেন্স পরে থাকবেন না। কিছুক্ষণ খুলে আবার পরতে পারেন।

v) এখন মোবাইল বা কম্পিউটার সবকিছুতেই প্রটেকটিভ স্ট্ক্রিন লেয়ার থাকে। ফলে চোখের ক্ষতির আশঙ্কাও অনেকটাই কম। তবুও অতিরিক্ত ব্রাইটনেসে কখনও কাজ করবেন না। কাজের সময় খেয়াল রাখুন চারদিক থেকে অতিরিক্ত আলো যেন আপনার কম্পিউটারে না আসে এবং চোখে যাতে না লাগে, অর্থাৎ চোখের কমফোর্ট লেভেল অনুযায়ী স্ক্রিনের ব্রাইটনেস কমিয়ে নিন বা চোখ ভালো রাখতে কম্পিউটারের আলোর সমন্বয় করে নিতে হবে। 

vi) কম্পিউটার ও মোবাইল ফোন অতিরিক্ত ব্যবহার করলে চোখের রেটিনা শুকিয়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই এই ‘আই ব্লিংকিং’ ব্যায়াম করলে চোখ ভালো থাকে।  

২. প্রতি ৩ থেকে ৪ সেকেন্ড পর পর চোখের পাতা ফেলা চোখের ছোটখাটো সমস্যার সমাধান করে। তাই ঘন ঘন চোখের পাতা ফেলুন। 

৩. একটানা কাজ করবেন না। মাঝে মাঝে চোখ বন্ধ করে চোখকে বিশ্রামও দিন। এতে দৃষ্টিশক্তি ভালো থাকে। 

৪. কাজের ফাঁকে ফাঁকে চোখকে বিশ্রাম দিন। ৩০ মিনিট পর পর কাজ বন্ধ রাখুন দুই থেকে তিন মিনিটের জন্য। এতে চোখের রক্ত সরবরাহ বাড়বে এবং চোখের পেশি সক্রিয় থাকবে।

৫. সারাক্ষণ বসে থাকবেন না। এদিক-ওদিক হেঁটে আসুন।  

৬. মাঝেমধ্যে চোখে পানির ঝাপটা দিন। সারা দিনে ১০ থেকে ১৫ বার চোখে পানির ঝাপটা দিতে পারেন। এতে চোখ ঠাণ্ডা থাকে। চোখের পানির ঝাপটা দিলে চোখ আর্দ্র হয় ও রক্ত সঞ্চালন বাড়ে। তবে একদম ঠাণ্ডা বা মাত্রাতিরিক্ত গরম পানি চোখে দেবেন না।

৭. প্রচুর পরিমাণে সবুজ শাকসবজি, বাদাম, কমলালেবু খেতে পারেন। এসব খাবার চোখের কর্নিয়া ভালো রাখে।

৮. চোখে যদি কোনো রকমের রিফ্র্যাকটিভ এরর থাকে, তা কারেকশন করে নেওয়া উচিত। চশমার পাওয়ার যদি ঠিক থাকে, তাহলে অসুবিধা নেই। তবে যদি তা না থাকে, চশমার সাহায্যে দেখতে কোনো রকম অসুবিধা হয় বা মাথা ধরার প্রবণতা লক্ষ্য করেন, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সঠিক পাওয়ারের চশমা ব্যবহার করুন।

৯. পর্যাপ্ত ঘুমাতে হবে। সারাদিনের কাজের পর অন্তত আট ঘণ্টা ঘুম জরুরি।

চোখের কিছু সাধারণ সমস্যা:

প্রশ্ন : চোখের সাধারণ সমস্যা বলতে আমরা কোনো সমস্যাগুলোকে বলে থাকি?

উত্তর : সাধারণ সমস্যা যদি আমরা ধরে থাকি, জনসাধারণের ক্ষেত্রে এক নম্বর বিষয় হলো, কম দেখা। দুই নম্বর বিষয় হলো, সাধারণ রোগ- তবে প্রচণ্ড চোখ ব্যথা, লাল চোখ- এগুলো নিয়েও আসতে পারে।

আসলে নিজে থেকেই প্রতিবছর বা দুই বছর বা পাঁচ বছর অন্তর অন্তর চিকিৎসকের কাছে সাধারণ চেকআপ করানো জরুরি। অনেক রোগ রোগী বহন করে, তবে ধীরে ধীরে এগুলো প্রকট হচ্ছে রোগী বুঝতে পারেন না। অন্য একটি রোগের কারণে যদি চিকিৎসকের কাছে যান, তখন দেখা যায় তার একটি খারাপ রোগ রয়ে গেছে, অন্য একটি রোগ ধরা পড়ছে। এই দুই তিনটা ধরনের মধ্য থেকেই আমাদের কাছে রোগীগুলো চলে আসে।

প্রশ্ন : চোখে কম দেখা মানে কী? এটি কেন হয়?

উত্তর : প্রাথমিক যে অভিযোগ তারা করে, সেটি হলো, আমি কম দেখি। একে আবার দুটো স্তরে ভাগ করা যেতে পারে। প্রথম স্তর হলো, হয়তো রোগী বলতে পারে আমি চোখে একটু কম দেখছি। আগে বিষয়টি ছিল না। আর দ্বিতীয় বিষয় হলো, যারা চল্লিশের ঊর্ধ্বে বা চল্লিশ ছুঁই ছুঁই করছে, তখন কম দেখার সমস্যা হয়। চল্লিশেই চালশে। সেই চালশেরও একটি বিষয় রয়েছে। আমাদের এসব অঞ্চলে এটি ৩৫ থেকে শুরু হয়।

পশ্চিমা বিশ্বে সাধারণত এটি ৪২ বছর থেকে শুরু হয়। তো এই ৪০ বছর বয়সী অনেক রোগী আমাদের কাছে আসে। সন্ধ্যা হলে খবরের কাগজ পড়তে অসুবিধা হয়, বই পড়তে অসুবিধা হয়। কাছের জিনিস দেখতে অসুবিধা হয়। সাধারণত এই দুটো অভিযোগ খুব বেশি থাকে। আর যারা হঠাৎ করে কম দেখতে শুরু করে যে আমি ঘুম থেকে উঠে কিছু দেখতে পারছি না। এসব লোকের ৭০ থেকে ৮০ ভাগ দৃষ্টিশক্তি হয়তো নষ্ট হয়ে গেছে।

আর ভিজুয়াল ফিল্ডের (দৃশ্য পরিসর) সমস্যাটি চিকিৎসা বিজ্ঞানে আমরা সুনির্দিষ্টভাবে বুঝি। জন সাধারণ পরিসরের বিষয়টি বোঝে না। যারা অনেক সচেতন তারা হয়তো বিষয়টি বোঝে। তবে এটি সংখ্যায় কম। অনেকে বলে, আমি বামদিক দিয়ে হাঁটতে গেলে হয়তো হোঁচট খাই। গাড়ি চালাতে গেলে সমস্যা হয়। পশ্চিমা বিশ্বে যেহেতু অনেক লোক গাড়ি চালায় তাই সেখানে এটি খুবই প্রকট। আমাদের মধ্যে এটি প্রায়ই মিস হয়।

আরেকটি বিষয় অভিযোগ করে, ‘পর্দার মতো সামনে কিছু পড়ে আছে।’ অথবা ‘হঠাৎ করে আমার একদিক ঢেকে গেল।’

প্রশ্ন : যদি ঝাপসা বা কম দেখার পরও সঠিক চিকিৎসা না নিই কী ক্ষতি হতে পারে?

উত্তর : আপনি যেটি বলেছেন, আমাদের সমাজের প্রেক্ষাপটে এটি আসলেই সত্যি কথা এবং এটি সবচেয়ে বেশি হয় মহিলাদের। বিশেষ করে যারা গ্রামে থাকে। সংসার নিয়ে তারা ব্যস্ত। এই ছোটোখাটো জিনিসগুলো তারা এড়িয়ে যায়। মনে করে, এটি বললে হয়তো মানুষ বিরক্ত হবে। এই সমস্যা হয় চশমার পাওয়ারের জন্য। আসলে সে তো চল্লিশের কাছে এসেছে। এই জিনিসগুলো তারা পরিহার করে। তবে প্রতিটি মানুষ যখন চল্লিশের কোঠায় আসবে সবারই এই সমস্যা হবে। কারো আগে শুরু হবে বা কারো পরে শুরু হবে। তবে এমনো রোগী রয়েছে, গ্রাম থেকে এসেছে এটি নিয়ে মাথা ঘামায় না।

প্রশ্ন : এই সমস্যা দীর্ঘমেয়াদি হয়ে গেলে কোনো ক্ষতি হয় কি?

উত্তর : ক্ষতি একটিই হয় পাওয়ারটা বাড়তে থাকে। তবে অন্ধত্বের দিকে তারা যাবে না।

প্রশ্ন : পাওয়ার সমন্বয় নিয়ে আপনারা বেশ বিব্রত অবস্থায় পড়েন। এ বিষয়ে আপনার পরামর্শ কী?

উত্তর : কতগুলো বিষয় কাজ করে। এক নম্বর বিষয় হলো আমরা প্রথমে যন্ত্র রোগীর চোখে বসিয়ে পাওয়ার আন্দাজ করি। মনে রাখতে হবে, এই যন্ত্র কখনো সঠিক পাওয়ার দেবে না। যন্ত্রের কাজই হচ্ছে একটি পাওয়ারের গড় মাপ দেওয়া। সেটা এক-একটি রোগীর জন্য একেক রকম হতে পারে। যে রোগীর পাওয়ার এক লাগবে যন্ত্র কখনো তাকে ১২ পাওয়ার বলবে না। সে এক, দেড় বা দুই বলতে পারে। এটি চিকিৎসকের দায়িত্ব। চিকিৎসক পরিমাপ বুঝে দেবেন। রোগী চালিয়ে নিতে পারবেন দুই চার পাঁচ বছর পর্যন্ত, এ ধরনের পাওয়ার আমরা বুঝেই দেই। 

এবার জেনে নিব চোখের পুষ্টি:

নানা ধরনের চক্ষু রোগের সঙ্গে পুষ্টি মানের সম্পর্ক প্রমাণিত। যেমন-ভিটামিন ‘এ’ চোখের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। ভিটামিন ‘এ’-এর অভাবে রাতকানা রোগ হয়। তবে আরও কিছু পুষ্টি উপাদান আছে, যা চোখের নানা রোগ প্রতিহত করে। লুটেইন হলো এক ধরনের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং ডোকোসাহেক্সায়োনিক অ্যাসিড এক ধরনের ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। দুটিই চোখের জন্য উপকারি। এগুলো বয়সজনিত ম্যাকুলার ডিজেনারেশন বা চোখের দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাওয়া প্রতিরোধ করতে পারে। লুটেইন ও ডি এইচএ উভয়েই ম্যাকুলার রঞ্জক এবং তা রেটিনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

এক গবেষণায় ৬০ থেকে ৮০ বছর বয়সি ৪৯ জন নারীর দেহে প্রতিদিন ৮০০ মিলিগ্রাম ডিএইচএ বা ১২ মিলিগ্রাম লুটেইন প্রয়োগ করা হয়েছিল। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, যাদের গ্লুটেইন প্রয়োগ করা হয়েছিল তাদের ম্যাকুলার রঞ্জকের ঘনত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে।

ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড একটি অপরিহার্য খাদ্য উপাদান। এ অ্যাসিড আমাদের শরীরের কোষ আবরণ তৈরি করে। কোষের ভেতর দিয়ে যেসব পদার্থ চলাচল করে তা নিয়ন্ত্রণ করা এবং একটি কোষ থেকে অন্য কোষের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করা এর কাজ। ফ্যাটি অ্যাসিডগুলোর মধ্যে আমাদের শরীরের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ওমেগা-৩ ও ওমেগা-৬। ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড হরমোন উৎপাদনও নিয়ন্ত্রণ করে। এটি খেলে বয়সজনিত ছানি পড়া ৭৫ শতাংশ কমে যায়।

লুটেইন ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের প্রাকৃতিক উৎসগুলোর মধ্যে আছে গাজর, ব্রকলি, সবুজ শাকসবজি, পালং শাক, লেটুস পাতা, ভুট্টা, তিলের তেল, তিসির তেল, অলিভ অয়েল, সামুদ্রিক মাছের তেল অর্থাৎ ম্যাকারেল, টুনা, স্যামন, সারডিন ইত্যাদি মাছে পাওয়া যায়। এসব খাবার ড্রাই আই ও ম্যাকুলার ডিজেনারেশন রোধে সাহায্য করে।

তথ্যসূত্র:

  • পুষ্টিবিদ, নুসরাত মৌসুমী, যুগান্তর।
  • ইত্তেফাক।
  • ডা. শেখ মাহবুব উস সোবহান, বারডেম জেনারেল হাসপাতালের চক্ষু বিজ্ঞান বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক ও পরামর্শক, এনটিভি।
  • উইকিপিডিয়া।
  • Edited: Natural_Healing.

কোন মন্তব্য নেই

Popular Post

Blogger দ্বারা পরিচালিত.