First Aid Present

Lifestyle Modification এবং প্রাকৃতিক খাদ্য, পানীয়, শাকসবজি, গাছ, ডালপালা, ফল, মসলা, পাতা ও ফুল ইত্যাদির দ্বারা প্রাথমিক চিকিৎসা।

গরমে এবং শুষ্ক চোখের জন্য করণীয়

এই গরমে শরীরের অন্যান্য অঙ্গের মতো চোখেরও যত্নের প্রয়োজন। তীব্র তাপ দহন ও হাঁসফাঁস গরমে বাড়ছে চোখে অ্যালার্জির সমস্যা। চোখে অ্যালার্জির প্রধান উপসর্গগুলো হলো চোখ লাল হয়ে যাওয়া, চোখে জ্বালা অথবা চুলকানি, চোখ দিয়ে জল পড়া, অতিরিক্ত পরিমাণে পিঁচুটি, চোখ কটকট করা, চোখের পাতায় ফোলা ভাব ইত্যাদি।

আবার অনেক সময় চোখের অ্যালার্জির সঙ্গে শ্বাসজনিত সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তার মধ্যে অন্যতম নাক দিয়ে জল পড়া, হাঁচি, ঠান্ডা লেগে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট। বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে ত্বকে ফুসকুড়ি পর্যন্ত বেরোতে পারে।

এই গরমে শরীরের অন্যান্য অঙ্গের মতো চোখেরও যত্নের প্রয়োজন।
গ্রীষ্মকালে বাতাসে নানা রকম ধুলার ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণা, পরাগ বা রেণু ভেসে বেড়ায়। মূলত এ কারণেই অ্যালার্জির প্রকোপ বেড়ে যায়। অ্যালার্জেন থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকার চেষ্টা করতে হবে। সাধারণত আমাদের চারপাশে সব থেকে বেশি যেসব অ্যালার্জেন ঘুরে বেড়ায়, সেগুলো হলো ফুলের রেণু, ধূলিকণা, ঝুরো মাটি প্রভৃতি।

কড়া রোদে চোখের ক্ষতি হতে পারে। গরমের দিনে বাইরে বেরোলেই সানগ্লাস ও মাস্কে মুখ ঢাকতে হবে। সকাল ও সন্ধ্যার বাতাসে অ্যালার্জেনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। দূষণ সৃষ্টিকারী বিষয়গুলো থেকে দূরে থাকতে হবে। যেমন গাড়ির ধোঁয়া, সিগারেটের ধোঁয়া থেকে অ্যালার্জির উপসর্গ কয়েক গুণ বেড়ে যেতে পারে।

শুধু বাইরেই নয়, অন্দরেও এসব বিষয় মেনে চলতে হবে। ঘর ভালোভাবে পরিষ্কার রাখতে হবে, যাতে ধুলা না জমতে পারে। কয়েক দিন পরপর বিছানার চাদর পাল্টাতে হবে। সেই সঙ্গে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বা এসিও পরিষ্কার রাখতে হবে।

যাঁদের বাড়িতে পোষা প্রাণী রয়েছে, তাঁদের বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। পোষা প্রাণীর লোম থেকেও ছড়াতে পারে অ্যালার্জি।

যাঁরা লেন্স পরেন, তাঁদের অতিরিক্ত সতর্ক হতে হবে। কারণ, লেন্সের পৃষ্ঠতলে অ্যালার্জেন জমে, যা অ্যালার্জির উপসর্গকে আরও গুরুতর করে তুলতে পারে। গরমে লেন্সের পরিবর্তে চশমা ব্যবহার করা উচিত। যদি তা একান্তই সম্ভব না-হয়, তাহলে এমন লেন্স ব্যবহার করতে হবে, যা দিনের দিন ব্যবহার করেই ফেলে দেওয়া যায়।

চোখ চুলকালে চোখ ডলা উচিত নয়। পরিবর্তে আইস প্যাক ব্যবহার করা যেতে পারে। একটা পরিষ্কার কাপড়ে কয়েকটা বরফের টুকরা জড়িয়ে নিয়ে পাঁচ মিনিটের মতো চোখের পাতায় রাখতে হবে। এতে চুলকানি, চোখের লালচে ভাব কেটে যাবে এবং আরামও পাওয়া যাবে।

শুষ্ক চোখে করনীয়:-

চোখের ওপরে পানির একটি পাতলা স্তর থাকে। পানি, তেল, পিচ্ছিল মিউকাস এবং জীবাণুরোধী অ্যান্টিবডি দিয়ে তৈরি এই চোখের পানি। চোখের গ্রন্থি থেকে কোনো কারণে পানি নিঃসরণ কম হলে চোখ শুষ্ক হয়ে পড়ে। এ সমস্যার একাধিক কারণের মধ্যে সব চেয়ে বড় কারণ কম্পিউটার বা মোবাইল স্ক্রিনে অনেক্ষণ ধরে তাকিয়ে থাকা।

শুষ্ক চোখের সমস্যা হলে নানান অস্বস্তি, জালাপোড়া দেখা দিতে পারে। এতে আলো সহ্য করতে না পারা, ঝাপসা দেখা, লাল হওয়া কিংবা চোখের ভেতর ও বাইরে পিচ্ছিল আঠাল পদার্থ তৈরি হতে পারে। তবে কিছু সহজ ঘরোয়া উপায়ে এই সমস্যা থেকে স্বস্তি মিলতে পারে।

গরম ভাপ:

শুষ্ক চোখের ক্ষেত্রে গরম ভাপ কার্যকর। গরম ভাপ থেকে আর্দ্র তাপ শুষ্ক চোখ থেকে স্বস্তি দিতে সহায়তা করে। প্রথমে কিছুটা গরম পানি নিন। তাতে একটি পরিষ্কার কাপড় ভিজিয়ে ভালো করে পানি ঝরিয়ে নিন। তারপর ওই কাপড়টি চোখের পাতার ওপর রেখে খুব আলতো করে চাপুন, যাতে চোখের গ্রন্থিতে আটকে থাকা তেল সহজেই বেরিয়ে আসে।

চোখের পাতা ফেলা:

ঘন ঘন চোখের পাতা ফেলুন এবং কাজ করার সময়ে কিছুক্ষণের জন্য বিরতি নিন। কম্পিউটার বা ল্যাপটপে কাজ করার সময়, মোবাইল ফোন বা টেলিভিশন দেখার সময় বিরতি নেওয়ার চেষ্টা করুন। কাজের মাঝে ঘন ঘন বিরতি নেওয়া হলে, আপনার চোখের আর্দ্রতা ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করতে পারে।

মধু:

মধুতে অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি এবং অ্যান্টি-সেপটিক বৈশিষ্ট্য থাকে, যা শুষ্ক চোখের চিকিৎসার ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকরী। এটি সংক্রমণ প্রতিরোধ এবং লুব্রিকেশন বৃদ্ধি করে। শুষ্ক চোখের ক্ষেত্রে খাঁটি মধু ব্যবহার করার উপায় হলো- প্রথমে ১/২ কাপ গরম পানি ঠান্ডা করে এক টেবিল চামচ খাঁটি মধু মিশিয়ে নিন। তারপর ওই মিশ্রণে তুলা ভিজিয়ে দিনে দুই থেকে তিনবার ৫ মিনিটের জন্য চোখের ওপর রাখুন।

দই:

দই ভিটামিন-বি এবং ভিটামিন-ডি সমৃদ্ধ। তাই খাদ্যতালিকায় দই অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত করুন। প্রতিদিন এই এক কাপ দই খেতে পারলে, শুষ্ক চোখের সমস্যা থেকে মুক্তি মিলতে পারে।

শসা:

শসা, পানি এবং ভিটামিনের দুর্দান্ত উৎস। এটি ড্রাই আইজের সমস্যা দূর করতে সহায়তা করে। এর জন্য প্রথমে একটি শসাকে গোল গোল টুকরা করে কেটে নিন। তারপর ওই টুকরা চোখের পাতার ওপর কিছুক্ষণ রেখে দিন। দিনে তিনবার এই প্রক্রিয়াটি করা যেতে পারে।

গ্রিন টি:

গ্রিন টি প্রাকৃতিক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি রূপে কাজ করে এবং চোখের ইনফেকশন রোধ করতে সহায়তা করে। প্রথমে এক কাপ গরম পানিতে একটি গ্রিন টি ব্যাগ, ১০ মিনিটের জন্য ভিজিয়ে রাখুন। তারপর ঠান্ডা হলে, তাতে তুলা ভিজিয়ে ৫ মিনিটের জন্য চোখের পাতার ওপর রাখুন। এই প্রতিকারটি দিনে বেশ কয়েকবার করা যেতে পারে।

ঘুম:

পর্যপ্ত ঘুমের অভাবও শুষ্ক চোখের সমস্যার অন্যতম কারণ হতে পারে। পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম, কর্নিয়ার আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়তা করে। তাই প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন।

তথ্যসূত্র:

  • ডা. ইফতেখার মো. মুনির: অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, বাংলাদেশ আই হসপিটাল, মালিবাগ, ঢাকা, প্রথম আলো।
  • সমকাল।
  • সময় টিভি।
  • Edited: Natural_Healing.

কোন মন্তব্য নেই

Popular Post

Blogger দ্বারা পরিচালিত.