দাঁত ও মাড়ির ব্যথা, রক্ত ঝরা এবং ক্ষয় রোগ এবং পরিত্রাণের উপায়
দাঁত দিয়ে রক্ত পড়ে কেন? এড়াতে কী করবেন?
দাঁতের গোড়া বা মাড়ি থেকে রক্তপাত হওয়া খুবই স্বাভাবিক একটি রোগ। দাঁতের গোড়া দিয়ে কারও কারও থেমে থেমে রক্ত যায়। দাঁতের প্রাথমিক সমস্যার মধ্যে এটি একটি। আমরা যে খাবারগুলো খাই সেখান থেকে খাদ্যকণা দাঁতের গোড়ায় জমে যায়, নিয়ম মেনে দাঁত ব্রাশ না করলে দাঁত ও মাড়ির মাঝখানে এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া এবং পরবর্তীকালে পাথর বা ক্যালকুলাস পরিণত হয়ে একটা লেয়ার তৈরি করে। সেখান থেকেই মূলত মাড়ির যে নরম অংশটি, সেখানে প্রদাহ হয়ে যায়, ফুলে যায়। তখন ব্রাশ করলে সহজে রক্ত পড়ে। এটা হয় দাঁত পরিষ্কারের অবহেলা থেকে। এটাই বেশি হয়ে থাকে। আর খুব কম ক্ষেত্রে হয়ে থাকে সিস্টেমিক কারণে। যারা দাঁত ভালোভাবে ব্রাশ করে রাখছে, কিন্তু দেখা যায় মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়ে। এর সংখ্যা খুবই কম। যেমন যাদের রক্তে কোনও রোগ রয়েছে, যেমন সিভিয়ার এনিমিয়া হতে পারে।
ব্লাড ক্যানসারের রোগীদেরও মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়তে পারে। এ ছাড়া কিছু ভিটামিন-মিনারেলের ঘাটতি হলে হতে পারে। যেমন ভিটামিন সি-র ঘাটতি হলে মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়তে পারে। এ ছাড়া অনেক কারণ রয়েছে। যেমন লিভারের রোগ রয়েছে। আমরা জানি, লিভারে রক্ত জমাট বাঁধার যে উপাদান, সেটা লিভার তৈরি করে। লং টাইম যাদের লিভারে রোগ রয়েছে, তাদের মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়তে পারে। যারা বিভিন্ন ওষুধ খায়, বিশেষ করে যারা রক্ত পাতলা করার ওষুধ খায়, তাদের অনেক সময় মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়তে পারে।
ডেন্টাল ফ্লস ব্যবহার করলে এবং মাউথওয়াশ ব্যবহার করলেই পাথর জন্ম নিতে পারে না। আর না করার কারণে এখানে ব্যাকটেরিয়া জন্ম নেয়, ইনফ্লামেশন হয়। রক্ত প্রবাহের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় ক্ষত স্থানে। মাড়ি থেকে ধীরে ধীরে রক্ত বের হতে থাকে। তখন ব্রাশ করলেও রক্ত পড়ে।
অনেক ক্ষেত্রে আমরা ভুল করে জোরে জোরে দাঁত ব্রাশ করি। তখন ব্রাশের ঘষা খেয়েও রক্ত পড়ে।
মূলত খাদ্যকণা জমে যাওয়ার ফলে পাথর জমে, যেটাকে ডাক্তারের ভাষায় ক্যালকুলাস বলা হয়। এটাকে যদি আমরাই স্কেলিং করি, পরিষ্কার করি; তাহলেই সমস্যার সমাধান মিলবে। ছয় মাস পরপর স্কেলিং করা দরকার। আর বছরে অন্তত একবার ডেন্টাল সার্জনের পরামর্শ নিতে হবে।
ব্যক্তির সৌন্দর্যের অনেকখানি নির্ভর করে সুন্দর হাসির ওপর। আর সুন্দর হাসি নির্ভর করে সুস্থ ও সুন্দর দাঁতের ওপর। সৌন্দর্য ছাড়া শারীরিক সুস্থতার জন্যও দরকার সুস্থ দাঁত। শুধু সঠিক সময়ের সঠিক যত্ন ও পরিচর্যাই পারে সুস্থ দাঁতের নিশ্চয়তা দিতে। সময়মতো দাঁতের যত্ন নেবেন না, আর বলবেন, দাঁত হলুদ হয়ে গেছে, মাড়ি ফুলে গেছে, দাঁতে প্রচণ্ড ব্যথা কিংবা বয়স হয়েছে! দাঁত তো পড়বেই। মনে রাখবেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে দাঁত নড়ার বা পড়ার কোনো সম্পর্ক নেই। সম্পর্ক সঠিক পরিচর্যার সঙ্গে। সঠিক পরিচর্যার অভাবে দাঁতের স্বাস্থ্য সমস্যা প্রাথমিকভাবে হালকা ব্যথা থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে তীব্র ব্যথায় রূপ নেয়।দাঁতের ব্যথা কেন হয় এবং এড়াতে কী করবেন?
খাবারের পর দাঁতের ফাঁকে খাদ্যকণা জমে। বিশেষ করে আঠালো, শর্করা ও মিষ্টিজাতীয় খাবার হলে তো কথাই নেই। এসব খাদ্যকণা মুখের মধ্যে থাকা নানা ব্যাকটেরিয়া বা ওরাল ফ্লোরার আবাস ও বংশবৃদ্ধির জন্য উপযুক্ত স্থান। নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে এই খাদ্যকণায় পচন ধরে এবং লেকটিক অ্যাসিড নামের একধরনের অ্যাসিড নির্গত হয়। এ সময় মুখে দুর্গন্ধ হয় এবং দীর্ঘমেয়াদি অ্যাসিড ধীরে ধীরে দাঁতের এনামেল এবং আরও পরে ডেন্টিনকে ক্ষয় করে, যাকে আমরা বলি দাঁতক্ষয় বা ডেন্টালক্যারিজ। এভাবে দাঁত ক্ষয় হয়ে দাঁতের মধ্যে গর্ত বা ক্যাভিটি তৈরি হয়, যেখানে সহজেই ময়লা ও খাদ্যকণা জমে সংক্রমণ ও ক্ষয় আরও দ্রুত হয়। এ ক্ষয়প্রক্রিয়া যখন দাঁতের মজ্জা বা পাল্প পর্যন্ত পৌঁছায়, তখন দাঁতের পাল্পে একধরনের প্রদাহ তৈরি হয় এবং তীব্র ব্যথা ও শিরশির অনুভূতি শুরু হয়। চিকিৎসাশাস্ত্রের পরিভাষায় একে আমরা ‘পাল্পাইটিস’ বলি।
- সাপ্পোরো ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক স্পিনা লুনা বিশ্বাস বলেন, ইনফেকশন বা প্রদাহ বাড়তে থাকলে পেরিয়াপিক্যাল ইনফেকশন, পরবর্তীকালে পেরিয়াপিক্যাল অ্যাবসেস, পেরিয়াপিক্যাল গ্র্যানিওলোমা এবং পেরিয়াপিক্যাল সিস্ট তৈরি হয়। পেরিয়াপিক্যাল ইনফেকশন ও অ্যাবসেস একুইট কন্ডিশন হওয়ায় ব্যথা খুব তীব্র হয়। অন্যদিকে পেরিয়াপিক্যাল অ্যাবসেস ও সিস্ট মোটামুটি ক্রনিক বা দীর্ঘমেয়াদি হওয়ায় ব্যথা তত তীব্র না হলেও সারাক্ষণ একটা ভারী ব্যথা অনুভূত হয়। এ ইনফেকশন যদি কোনো একপর্যায়ে চোয়ালের হাড়ে পৌঁছায়, তখন অস্টিওমায়লাইটিস হয় এবং ব্যথা অনুভূত হয়।
- আপনি যদি রাগ, টেনশন বা ভয় অথবা অতিরিক্ত মনোযোগের কারণে দাঁত কিড়মিড় করেন বা ঘষাঘষি করেন স্বজ্ঞানে বা অজান্তে তবে এ ক্ষেত্রে ক্রমান্বয়ে একটা সময় পরে দাঁতে ব্যথা হতে পারে আবার ক্ষয়ও হতে পারে। মাঝে মাঝে দাঁত লুজ হয়ে যেতে পারে। আমাদের জীবনের চলার পথে আমরা মানসিক চাপ অনুভব করি। মানসিক চাপের কারণে ঘুমের মধ্যে কেউ কেউ দাঁত কিড়মিড় করে থাকে। এটি হয়ে থাকে ঘুমের অচলাবস্থা, দাঁতের বাইট ঠিকভাবে না থাকলে, দাঁত না থাকলে বা মিসিং টুথ এর কারণে এ ধরণের অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মোতাবেক নাইট গার্ড এ ধরণের ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে পারে।
- বাহ্যিক কোনো আঘাতের কারণে দাঁত ভেঙে গিয়ে কিংবা রুট ক্যানেল চিকিৎসার জন্যও গর্ত হতে পারে এবং সেখানে খাদ্যকণা জমে সংক্রমণ হয়ে তীব্র ব্যথা হতে পারে। আবার এসব কারণে যদি অ্যাপেক্স নার্ভ ইনজুরি বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাতেও তীব্র ব্যথা হতে পারে।
- কোনো ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার ইনফেকশন বা আঘাতের কারণে যদি চোয়ালের ট্রাইজেমিনাল নার্ভ আক্রান্ত হয়, তবে ট্রাইজেমিনাল নিউরালজিয়া হয় এবং তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়।
- তা ছাড়া অতিরিক্ত মানসিক চাপ এবং আয়রন ও বি-কমপ্লেক্সের দীর্ঘমেয়াদি ঘাটতিতে মুখ গহ্বর ও দাঁতের মাড়ি সংক্রমিত হয়ে অ্যাবথাস আলসার হয়, যা তীব্র ব্যথার উদ্রেক করতে পারে।
- আপনি বার বার মাউথ ওয়াস ব্যবহার করলে দাঁত পরিষ্কার হতে পারে। কিন্তু এতে করে আপনার দাঁত সংবেদনশীল হতে পারে। কিছু কিছু মাউথ ওয়াসে এসিড বিদ্যমান যা দাঁতের ডেন্টিনকে ক্ষতিগ্রস্থ করতে পারে, যা আপনার দাঁতের মধ্যবর্তী লেয়ার। উপরের মাড়ির পিছনের দাঁতের ব্যথা অনেক সময় সাইনাসের সংক্রমণের কারণে হতে পারে। কারণ আপনার দাঁত ন্যাসাল প্যাসেজের খুবই নিকটে থাকে।
- দাঁত সাদা করার জন্য আমরা বিøচিং করে থাকি। বিøচিং করার দুই থেকে তিন দিন পর দাঁত শির শির করতে পারে। শুধু তাই নয় মাড়িও জ্বালাপোড়া করতে পারে। তাই এ সব বিষয়ে সাবধান হতে হবে। মাড়ি সরে যাওয়া বা গাম রিছেসনের কারণে দাঁত শির শির করতে পারে।
- শরীরের উপরের অংশের ব্যথা হার্ট এ্যাটাকের লক্ষন হতে পারে। আপনি আপনার কাঁধ, চোয়াল এবং দাঁতে ডিসকমফোর্ট বা অস্বস্তি অনুভব করতে পারেন। এর সাথে পালপিটেশন, বমি বমি ভাব, বুকে ব্যথা, সর্টনেস অব ব্রেথও দেখা দিবে। মাঝে মাঝে হার্টের ব্যথার কারণে আপনি আপনার দাঁতে ব্যথা অনুভব করতে পারেন। আবার দাঁতে ব্যথার কারণে বুকে ব্যথা অনুভব করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে আপনাকে অধিক সচেতন হতে হবে।
- আমরা যে খাবার খাই তা যদি বেশি এসিডিক হয় তা এনামেলের ক্ষয় করে। এ ছাড়া সুগার ক্যান্ডি, কফি, সাইট্রাস ফল দাঁতের ক্ষতি করতে পারে যদি প্রয়োজনের অতিরিক্ত কেউ খেয়ে ফেলে।
- আপনি যদি পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান না করেন তাহলে আপনার দাঁতের সমস্যা দেখা দিবে। পানিতে ফ্লোরাইড থাকে যা আপনার দাঁতকে মজবুত ও শক্তিশালী করে। পানি পান করার ফলে দাঁতের ফাকে জমে থাকা খাদ্য কনা পরিষ্কার হয়ে যায়।
- গর্ভবতী মায়েদের ক্ষেত্রে জিনজিভাইটিস বা মাড়ির প্রদাহ দেখা দিতে পারে। আপনার দাঁতের ক্যারিজ বা দন্তক্ষয়ের সম্ভাবনাও বেশি থাকে। সুতরাং এ ক্ষেত্রে দাঁতের অতিরিক্ত যতœ নিতে হবে এবং ডেন্টাল চেকআপ স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশি করতে হবে। টেম্পেরোম্যান্ডিবুলার জয়েন্ট নিচের চোয়ালকে মাথার খুলি বা স্কাল এর সাথে সংযুক্ত করে রাখে। যখন টেম্পেরোম্যান্ডিবুলার জয়েন্ট ইনজুরি বা আঘাত, আর্থাইটিস বা অন্য কোনো কারণে স্বাভাবিক কাজ করছে না তখন চিবানোর সময় ব্যথা এবং আপনার চোয়ালেও ব্যথা হতে পারে। ট্রাইজেমিনাল নিউরালজিয়ার কারণে দাঁতে ব্যথা হতে পারে। নার্ভে ক্রনিক পেইন বা ব্যথা হতে পারে। দাঁত ব্রাশ করার সময়, খাবার সময় এবং পান করার সময় প্রায়ই ব্যথা হতে পারে।
- তাই দাঁতে ব্যথা করলেই সব সময় সেটি দাঁতের কারণে হবে এমন কোনো কথা নেই। উপরের দাঁতে দন্তক্ষয় থাকলে অনেক সময় নিচের দাঁতে ব্যথা হয়। আবার নিচের দাঁতে দন্তক্ষয় থাকলে উপরের দাঁতে ব্যথা হতে পারে। দাঁতে ব্যথার এ ধরণের সারপ্রাইজিং কারণ আমাদের সামনে যে কোনো সময় চলে আসতে পারে। এ সব ক্ষেত্রে সচেতন না হলে অনেক সময় ভুল দাঁতে চিকিৎসা বা অন্য কোন ভুল চিকিৎসা হতে পারে এবং এতে রোগী মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হবে।
- কাজেই সুস্থ দাঁতের জন্য বা দাঁতের ব্যথা এড়ানোর জন্য নিয়মিত ব্রাশ করার পাশাপাশি ফ্লস বা সুতা দিয়ে প্রতিটি দাঁতের ফাঁকের খাদ্যকণাগুলো বের করে ফেলুন। এতে যেমন মুখে দুর্গন্ধ হবে না, তেমনি দাঁতের ক্ষয়ও এড়ানো যাবে। প্রতিদিন সকালে নাস্তার পর ও রাতে খাবার খাওয়ার পর দুবার সঠিকভাবে দুই মিনিট ধরে দাঁত ব্রাশ করতে হবে।
- প্রতিদিন অন্ততপক্ষে একবার জীবাণুনাশক মাউথওয়াশ দিয়ে অথবা এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে এক চিমটি লবণ মিশিয়ে মুখ কুলিকুচি করুন। এতে দাঁতের ক্ষয় ও মাড়ির রোগ বেশির ভাগই প্রতিরোধ করা যায়। বাঁকা দাঁতে বেশি ময়লা জমে। তাই সময় নিয়ে (দুই থেকে তিন মিনিট) দাঁত ব্রাশ করুন এবং প্রতিবার খাবার খাওয়ার পর পানি দিয়ে কুলিকুচি করুন।
দাঁতের ক্ষয়রোগ কেন হয়, এড়াতে কী করবেন?
দন্তক্ষয় হচ্ছে ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি অ্যাসিডের মাধ্যমে দাঁতের ক্ষয়। দাঁতের ক্ষয় একটি রোগ। মেডিকেলের ভাষায় এটিকে ক্যারিজ বলা হয়। এক্ষেত্রে আপনার দাঁতে ব্যথা হচ্ছে কি না, ঠান্ডা-গরম পানি পানে শিরশির করে কি না এসব বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দাঁতের ক্ষয় ঠেকানোর আগে কী পরিমাণ ক্ষয় হয়েছে তা দেখা জরুরি। ইংরেজিতে এটা ডেন্টাল ক্যারিস বা ক্যাভিটিস নামে পরিচিত। দন্তক্ষয় হলুদ থেকে কালো বিভিন্ন বর্ণের হতে পারে। দাঁতের ব্যথা বা খেতে সমস্যা হওয়া এর অন্যতম লক্ষণগুলোর অন্তর্ভুক্ত। দন্তক্ষয়ের ফলে সৃষ্ট জটিলতাগুলোর মধ্যে রয়েছে দাঁতের আশেপাশের টিস্যুতে প্রদাহ হওয়ায়, দাঁত হারানো, এবং সংক্রমণ বা মাংসপিণ্ড তৈরি হওয়া।
ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে সৃষ্ট অ্যাসিড (মূলত ল্যাকটিক অ্যাসিড) দাঁতের কঠিন অংশগুলো (অ্যানামেল, ডেন্টিন ও সিমেন্টাম) বিগলিত করার ফল দন্তক্ষয় হয়। দাঁতে লেগে থাকা খাদ্যকণা বা চিনি যখন ব্যাকটেরিয়া শক্তি উৎপাদনের উদ্দেশ্যে রাসায়নিকভাবে ভেঙে ফেলে তখন এই অ্যাসিড উৎপন্ন হয়। খাদ্যে থাকা মনোস্যাকারাইড হচ্ছে এই ব্যাকটেরিয়ার প্রাথমিক শক্তির উৎস আর এজন্য যেসকল খাবারে মনোস্যাকারাইড (গ্লুকোজ জাতীয় খাবার) বেশি তা দন্তক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ায়। যদি খনিজের ভাঙ্গনের পরিমাণ, লালা বা এ জাতীয় উপাদানের মাধ্যমে দাঁতের উপরের এই খনিজ আবরণ তৈরির পরিমাণের চেয়ে বেশি হয় তখন দন্তক্ষয় শুরু হয়। এজন্য যেসকল রোগ বা ওষুধের প্রভাবে লালা তৈরির পরিমাণ হ্রাস পায় সেগুলো দন্তক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ার জন্য দায়ী। লালা তৈরি হ্রাস করে এমন রোগগুলোর মধ্যে আছে ডায়াবেটিস ও শোগ্রেন সিনড্রোম। তাছাড়া এন্টিহিস্টামিন ও বিষন্নতারোধী ওষুধগুলোও লালার উৎপাদন হ্রাসে ভূমিকা রাখে। রোগ ও ওষুধ ছাড়া দারিদ্রতা, দাঁত না মাজা বা দাঁতের যত্ন না নেওয়া, এবং মাড়ির পেছনে সরে যাওয়ার মাধ্যমে দাঁতের গোড়া প্রকাশিত হওয়াও দন্তক্ষয়ের ঝুঁকি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।
প্রশ্ন : সাধারণত কী কী কারণে দাঁতের ক্ষয়রোগ হতে পারে?
উত্তর : বিভিন্ন কারণে দাঁত ক্ষয় হয়। প্রথমত বলব সঠিকভাবে দাঁত ব্রাশ না করার কারণে দাঁত ক্ষয় হয়ে যাচ্ছে। মজার বিষয় হলো আমরা দাঁত ব্রাশ করি একে যত্নে রাখার জন্য। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, ভুলভাবে ব্রাশ করার কারণে দাঁত ক্ষয় হয়ে যাচ্ছে। ব্রাশ করার উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়ে উল্টো দাঁত ক্ষয় হয়ে যাচ্ছে। দেখা যায়, অনেকে দীর্ঘ সময় ধরে শক্ত ধরনের ব্রাশ ব্যবহার করছে। ব্রাশ করার সময় হয়তো খসখস শব্দ করছে, আমরা অনেক দূর থেকে সেই শব্দ শুনতে পাচ্ছি। এই যে সে সঠিক উপায়ে ব্রাশ করতে পারছে না এ কারণে তার দাঁত ক্ষয় হয়ে যাচ্ছে।
আবার দেখা যায়, অভ্যাসগত কারণে অনেকে দাঁত দিয়ে হাতের নখ কাটছে। সে ক্ষেত্রেও দাঁত ক্ষয় হয়ে যায়। আবার দেখা যায়, সুতো দাঁত দিয়ে কাটে, এতে দাঁত ক্ষয় হয়ে যায়। আবার দেখা যায়, ঘুমের মধ্যেও অনেকের দাঁত কামড়ানোর অভ্যাস থাকে, এই বদঅভ্যাসগুলোর কারণেও অনেকের দাঁত ক্ষয় হয়ে যায়। মানুষ পান-সুপারি, জর্দা ইত্যাদি খায়। অথবা শক্ত কোনো খাবার ইচ্ছামতো চিবিয়ে খায়, এ ক্ষেত্রেও দাঁত ক্ষয় হয়।
এ ছাড়া বিভিন্ন খাদ্য খাওয়ার ফলে রাসায়নিক জিনিসের কারণে দাতের ক্ষয় হয়। যেমন : বিভিন্ন ফল, জুস ইত্যাদি। আবার দাঁতের এবরেশনের কারণে সমস্যা হচ্ছে। দাঁতের ফাঁকে খাদ্যকণা জমে থাকলে, এটি যদি আমরা বের করতে না পারি সে ক্ষেত্রে পরবর্তী কালে এটি ধীরে ধীরে পাথর হয়ে যাচ্ছে, সে ক্ষেত্রেও দাঁত ক্ষয় হয়ে যায়।
প্রশ্ন : প্রধান যে দাঁত ক্ষয়ের কারণ, যেটাকে ‘ডেন্টাল ক্যারিজ’ বলছি— এর প্রধান কারণগুলো কী?
উত্তর : ভুলভাবে ব্রাশের কারণেও এখানে সমস্যা হয়। আরেকটি বিষয় হলো, আমরা যে খাবার খাচ্ছি এতে কার্বোহাইড্রেট বা সুগার থাকে। যদি খাবার আটকে থাকে এবং একে বের না করা হয় এখানে ব্যাকটেরিয়া আক্রমণ করবে।
আমরা যদি দাঁতের গঠন চিন্তা করি, প্রথম এনামেল, এরপর ডেনটিন। তাহলে এখানে প্রথমে এনামেল ক্ষয় হয়ে যাচ্ছে। দ্বিতীয়ত, ডেনটিন ক্ষয় হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে ক্যারিজ হচ্ছে।
প্রশ্ন : প্রথমে যখন এনামেল ক্ষয় হয়ে যাচ্ছে— তখন এটি কীভাবে প্রকাশ পায়?
উত্তর : দেখা যায় আমাদের ক্লিনিকে যখন অনেক রোগী আসে তারা অভিযোগ করে ছোটবেলায় দাঁত অনেক সাদা ছিল তবে এখন হলুদ হয়ে যাচ্ছে। আমরা জানি এনামেলের রং সাদা । ঠিক এনামেলের নিচের যে অংশটুকু রয়েছে এটা হলুদ। এনামেল যখন ক্ষয় হয়ে যাচ্ছে ধীরে ধীরে ডেনটিন বের হচ্ছে। তখন স্বাভাবিক ভাবেই হলুদ রং বের হয়ে আসছে। রোগী তখন মনে করে হয়তো আমি দাঁত ঠিকমতো ব্রাশ করছি না বলে হলুদ হয়ে যাচ্ছে। তখন রোগী আরো জোরে দাঁত ব্রাশ করা শুরু করে দেয়। তখন আরো ক্ষয় হয়ে যায়। আরো হলুদ হয়ে যায়। যখনই ধীরে ধীরে হলুদ হয়ে যাচ্ছে, এর কারণ এনামেল ক্ষয় হয়ে যাচ্ছে এবং পরবর্তীকালে অনেক রোগী অভিযোগ করে আমার দাঁত শির শির করছে। যেহেতু ডেনটিনে স্পর্শকাতরতা তৈরি করছে। যেহেতু এটার নিচে পাল্প বা মজ্জা রয়ে গেছে তাই এই সমস্যা হয়।
প্রশ্ন : শুরুতে কী দেখলে বোঝা যাবে দাঁতের ক্ষয় হয়েছে?
উত্তর : যে কেউ বলল, আমার দাঁতে খাবার আটকে থাকছে। সে জানতে পারছে না কালো দাগ রয়েছে। অনেক সময় এসে বলে, আমার দাঁত কালো হয়ে যাচ্ছে। অথবা বলল, আমার এখানে খাবার আটকে যাচ্ছে। সে সময় দেখা যায় ওখানে একটা গর্ত রয়ে গেছে। অর্থাৎ ক্যারিজ বা ক্যাভিটি হয়ে গেছে।
প্রশ্ন : যখন এই গর্তটা এনামেল, ডেনটিন ভেদ করে পাল্পে পৌঁছে যায় তখন কী হয়?
উত্তর : তখন রোগী ভীষণ রকম দাঁত ব্যথা অনুভব করে। তখন আর উপায় না দেখে দাঁতের চিকিৎসকের কাছে তারা চলে আসে। তবে তখন না এসে আরো আগেই চিকিৎসকের কাছে আসা উচিত ছিল। এতে তাদের জন্য ভালো হতো। কারণ শুরুতে এলে শুধু ফিলিং করে দিলেই চলত।
প্রশ্ন : এই শুরু বলতে আপনি কী বোঝাচ্ছেন?
উত্তর : দাঁতে ব্যথা হচ্ছে না, কেবল খাবার আটকে থাকছে- এই সময়ে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত। সে ক্ষেত্রে আমরা একটি ফিলিং করে দেই।
প্রশ্ন : রাসায়নিক কারণে বা দাঁতে দাঁত ঘষা লেগে যে ক্ষয় হয় এ ক্ষেত্রে আপনাদের পরামর্শ কী থাকে?
উত্তর : ঘুমের মধ্যে যার দাঁত কামড়ানোর অভ্যাস আছে তাদের এটা পরিত্যাগ করতে হবে। একদিনে সে পারবে না। সে ক্ষেত্রে রিটেইনার নামক এক ধরনের ডিভাইস কিনতে পাওয়া যায় যেটা সে রাতে ঘুমের মধ্যে দিয়ে ঘুমাবে। এটা ধীরে ধীরে বাদ দিতে দিতে দেখা যাবে দাঁত কামড়ানোর অভ্যাস সে ত্যাগ করতে পারছে।
প্রশ্ন : যাদের ইতিমধ্যেই ক্ষয় শুরু হয়েছে— তাদের ক্ষেত্রে আপনাদের কী পরামর্শ?
উত্তর : সেক্ষেত্রে পুরোপুরি ঠিক করা সম্ভব না। সে ক্ষেত্রে কৃত্রিম কাজ করতে হবে। দেখতে হবে কোন অবস্থায় আছে। যদি এনামেল ক্ষয় হয়ে যায় সে ক্ষেত্রে তেমন কিছু হবে না। আর যদি ডেনটিন ক্ষয় হয়ে যায় অবশ্যই চিকিৎসা করতে হবে। আর শক্ত খাবার কমিয়ে খাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। পান সুপারি খাওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করা উচিত।
প্রশ্ন : ব্যথা শুরু হওয়ার পর রোগী যখন আপনাদের কাছে আসে সে ক্ষেত্রে আপনারা কী পরামর্শ দেন?
উত্তর : সে ক্ষেত্রে রুট ক্যানেল চিকিৎসা ছাড়া আর উপায় নেই। মজ্জা বা পাল্পে গিয়ে যখন লেগে যায় সে ক্ষেত্রে আর ফিলিংয়ে কাজ হবে না। পাল্পকে পুরোপুরি বের করে ফেলতে হবে।
প্রশ্ন : রুট ক্যানেল চিকিৎসার প্রতি অনেকের ভয় কাজ করে। এটা কেন?
উত্তর : অনেকের মধ্যে ভয় কাজ করে। তারা মনে করে এতে অনেক ব্যথা পাবে। বা ছোট ছোট যন্ত্র মুখে দিয়ে কীভাবে এটা ঠিক করবে?– এর জন্য একটি মানসিক সমস্যা থেকে যায়।
প্রশ্ন : রুট ক্যানেল করার পর দাঁতকে যেন ভালো করে রাখা যায় সেটির জন্য আপনারা কিছু করেন কী?
উত্তর : সেক্ষেত্রে বলা হয়, রুট ক্যানেল করার পরার ক্যাপ বা ক্রাউন পড়ে নিতে হবে। এ ছাড়া এই দাঁতটা যেকোনো সময় ভেঙে যেতে পারে। না হলে খাওয়ার সময় চাপ দিত পারবে না।
প্রশ্ন : দাঁতের ক্ষয় রোগ যেন না হয়, সে ক্ষেত্রে প্রতিরোধের জন্য কী করণীয়?
উত্তর : প্রতিরোধের প্রথম কথা হলো সঠিক উপায়ে নিয়মিত সকালের নাস্তার পর ও রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে দাঁত পরিষ্কার বা দাঁত ব্রাশ করতে হবে। নরম টুথব্রাশ নিয়ে, গুণতগত মানের পেস্ট নিয়ে দাঁত ব্রাশ করতে হবে। এক থেকে দুই মিনিট ব্রাশ করতে হবে। সঠিক উপায়ে ব্রাশ করার বিষয়টি জানতে হবে।
দ্বিতীয়ত, দাঁতের ফাঁকের ময়লা পরিষ্কার করতে হবে। নাইলন নামে একটি সুতো আছে, যেটি ডেন্টাল ফ্লস নামে চিকিৎসা বিজ্ঞানে পরিচিত। এটা দিয়ে ময়লা পরিষ্কার করতে হবে। জিহ্বা পরিষ্কার করতে হবে। মাউথ ওয়াশ ব্যবহার করতে পারে। আর সুতা কাটা বা নখ দাঁত দিয়ে কাটার অভ্যাসগুলো পরিত্যাগ করতে হবে।
চিনিযুক্ত খাবার কম গ্রহণ করা, কিছু পরিমাণ ফ্লোরাইড গ্রহণ করা প্রয়োজন। দন্তক্ষয় রোধে প্রতিদিন দুই বার দাঁত মাজা ও দিনে একবার ফ্লস করার পরামর্শ প্রদান করা হয়। পানি, লবণ, বা টুথপেস্ট থেকে ফ্লোরাইড পাওয়া যেতে পারে। মায়ের দন্তক্ষয়ের চিকিৎসা প্রদানের মাধ্যমে সন্তানের দন্তক্ষয়ের ঝুঁকি কমানো সম্ভব, কারণ এর ফলে মা থেকে সন্তানের মধ্যে সুনির্দিষ্ট ব্যাকটেরিয়ার ছড়িয়ে যাওয়া পরিমাণ হ্রাস করা সম্ভব। নিয়মিত পরীক্ষার মাধ্যমে দন্তক্ষয় আগে থেকে নির্ণয় করা সম্ভব। ক্ষয়ের তীব্রতার উপর ভিত্তি করে আক্রান্ত দাঁতকে রক্ষা করতে বিভিন্ন রকমের চিকিৎসা প্রদান করা যেতে পারে বা দাঁত ফেলে দেওয়ারও প্রয়োজন পড়তে পারে। এখন পর্যন্ত দাঁতে কোনো অংশ বড়ো পরিমাণে পুনরায় বৃদ্ধি করার প্রক্রিয়া নেই। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে দন্তক্ষয়ের চিকিৎসা পাওয়ার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। দন্তক্ষয়ের ফলে সৃষ্ট ব্যাথা রোধে প্যারাসিটামল বা ইবুপ্রোফেন গ্রহণ করা যেতে পারে।
এছাড়াও দাঁতে গর্ত দেখা দেওয়া মাত্র দেরি না করে শূন্য জায়গাটা ভর্তি বা ফিলিং করে নেওয়া উচিত। ডেন্টাল ক্যারিজ যদি ধীরে ধীরে ডেন্টিন থেকে আরও গভীরে অর্থাৎ পাল্প চেম্বার পর্যন্ত চলে যায়, তবে ব্যথার তীব্রতা বেড়ে যায়। চিকিৎসা ব্যবস্থাও জটিল হয়ে পড়ে।
ভাঙা দাঁতকে আজকাল ফিলিং ম্যাটেরিয়াল বা লাইটকিউর দিয়ে সুন্দরভাবে পূরণ করা যায়, যা দেখতে অবিকল স্বাভাবিক রঙের হয়। রুট ক্যানেল চিকিৎসা করা দাঁতে ক্রাউন বা মুকুট বসাতে দেরি করা উচিত নয়।
ডেন্টাল ক্যারিজ প্রতিরোধে ব্যালেন্সড ফ্লোরাইড টুথপেস্ট দিয়ে প্রতিদিন দুই বেলা দাঁত ব্রাশ করতে হবে। তাছাড়া এমন টুথপেস্ট ব্যবহার করতে হবে যা এনামেল রিপেয়ার করে। চিনিযুক্ত পানীয় বা আঠালো খাবার, অযুক্ত খাবার, কফি ইত্যাদি এড়িয়ে চলতে হবে বা খাওয়ার পর কুলি করে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে।
প্রশ্ন : আপনি বলছিলেন প্রাথমিক পর্যায়ে ক্ষয় রোগ প্রতিরোধ করা গেলে ভালো। এর জন্য কয় দিন পর্যন্ত দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে?
উত্তর : এই সমস্যা হোক বা না হোক, বছরে দুবার অর্থাৎ ছয় মাস পর পর চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত। তাহলে শুরুর দিকে সমস্যা জেনে গেলে সে আর ভুগবে না।
প্রশ্ন : স্কেলিং সম্বন্ধে অনেকের একটি ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে। এটি করলে দাঁত ক্ষয় রোগ বেশি হয়। এই বিষয়ে বলুন?
উত্তর : আসলে নিয়ম হলো, বছরে একবার সাধারণ স্কেলিং করা। দেখা যায়, কেউ ৩০ বা ৪০ বছর পর হঠাৎ স্কেলিং করতে আসল। দেখা গেল তার দাঁতে ক্যালকুলাস বা পাথর দিয়ে ভর্তি। দাঁত এবং মাড়ির সংযোগ স্থলে ক্যালকুলাস লেগে থাকে। যখন পাথরটি ভেতরে ঢুকে যায় দাঁত থেকে মাড়িটা আলাদা হয়ে যায়। আমার কাছে যখন আসবে তখন পাথর ফেলে দিতে হবে স্বাভাবিকভাবে। তখন হয়তো দাঁত এবং মাড়ি আলাদা হয়ে যায়। আসলে এই যে অনেক বছর পর এলো এই কারণে সমস্যা হয়। আসলে ১৫ বছর বয়সের পর থেকেই চেকআপে আসা উচিত। তাহলে এই ধরনের সমস্যা আর হবে না।
তথ্যসূত্র:
- সাপ্পোরো ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক স্পিনা লুনা বিশ্বাস,
- ডা. মো. ফজলে রাব্বী খান,
- প্রথম আলো।
- ডাঃ মোঃ ফারুক হোসেন, মুখ ও দন্তরোগ বিশেষজ্ঞ, দৈনিক ইনকিলাব।
- রাজ ডেন্টাল সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা ডা. মো. আসাফুজ্জোহা রাজ,
- সহকারী অধ্যাপক ডা. মাহমুদ আলম, ইউনিভার্সিটি ডেন্টাল কলেজ হাসপাতাল, এনটিভি।
- বারডেম জেনারেল হাসপাতাল ও ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজের দন্ত বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. অরূপ রতন চৌধুরী, যুগান্তর।
- আরটিভি।
- উইকিপিডিয়া।
- Edited: Natural_Healing.

কোন মন্তব্য নেই