First Aid Present

Lifestyle Modification এবং প্রাকৃতিক খাদ্য, পানীয়, শাকসবজি, গাছ, ডালপালা, ফল, মসলা, পাতা ও ফুল ইত্যাদির দ্বারা প্রাথমিক চিকিৎসা।

পানিতে উপস্থিত TDS এবং pH এর সঠিক মাত্রা কত? এবং পানি বিশুদ্ধকরন প্রক্রিয়ার বর্ণোনা

বিশুদ্ধ পানিই জীবন, আর দূষিত পানি মরণ। মানবদেহের প্রায় ৭৫ ভাগ পানি। একজন সুস্থ মানুষের প্রতিদিন কমপক্ষে ১ দশমিক ৫ লিটার পানি পান করা উচিত। পানি মানবদেহের বিভিন্ন বায়োকেমিক্যাল বিক্রিয়া, যেমন—খাদ্য গ্রহণ, হজম, খাদ্য শোষণ ও বিপাক, বিভিন্ন উপাদান বহন, ক্ষতিকর উপাদান শরীর থেকে নির্গমন, তাপমাত্রা ও ভারসাম্য রক্ষা, এসিড-বেসের সমতা রক্ষাসহ শরীরের প্রতিটি কাজে পানির প্রয়োজন হয়।

পানি দূষিত হওয়ার কারণ কী?

ঢাকায় প্রতিদিন যে পরিমাণ পানির চাহিদা থাকে, তার প্রায় পুরোটাই সরবরাহ করে থাকে ওয়াসা। ভূগর্ভস্থ পানি বা নদী থেকে যে পানি আহরণ করা হয় সেটা দুই দফায় পরিশোধনের মাধ্যমে পুরোপুরি দুষণমুক্ত করা হয় ঠিকই তারপরও ঢাকার বাড়িগুলোয় এই বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা যায় না।

পানির অপর নাম জীবন হলেও যদি সেটা দুষিত হয় তাহলে পানিই হতে পারে মরন এবং নানা রোগের কারণ।

তার কারণ- যে পাইপ লাইনের মাধ্যমে এই পানি মানুষের বাসাবাড়িতে সরবরাহ করা হয় সেখানে লিকেজ বা পুরানো পাইপের কারণে পানি দুষিত হয়ে পড়ে। এছাড়া বাড়ির ট্যাংকগুলো নিয়মিত পরিষ্কার না করাও পানি দুষিত হয়ে পড়ার আরেকটি কারণ।

পানি সরবরাহের পাইপলাইন থেকে সবচেয়ে বেশি দুষণ হয়ে থাকে।
ঢাকাসহ সারাদেশের সরবরাহকৃত পানির মান নিয়ে সম্প্রতি এক জরিপ চালায় বিশ্বব্যাংক। তাদের প্রতিবেদন থেকে জানায় যায়, বাসাবাড়িতে যে পানি সরবরাহ হয় সেখানে এই ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ প্রায় ৮২ শতাংশ।
আবার- নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা-আবর্জনা ফেলার ব্যাপারে আমরা অত সচেতন নই। ফলে বৃষ্টি হলে সেই আবর্জনা পানিতে ধুয়ে পুকুর, নদী-নালায় চলে যায়। তোমরা যারা ঢাকায় থাকো, ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে লঞ্চে করে যাওয়ার সময় দেখেছ যে সদরঘাটের অংশে নদীর পানির রং কালো। নদীর আশপাশে থাকা কলকারখানার বর্জ্য নদীতে পড়ার কারণে প্রতিনিয়ত পানি দূষিত হচ্ছে। ফলন বাড়ানোর জন্য কৃষিজমিতে বিভিন্ন সার ও কীটনাশক ব্যবহার করা হয়। বৃষ্টি বা বন্যার পানিতে সেসব রাসায়নিক চলে যায় নদীতে। এতেও দূষিত হয় পানি।

তবে এই পানিকে চাইলে নিম্নোক্ত উপায়ে শতভাগ বিশুদ্ধ করা সম্ভব হতে পারে।

১. ফুটিয়ে: পানি বিশুদ্ধ করার সবচেয়ে পুরানো ও কার্যকর পদ্ধতির একটি হল সেটা ফুটিয়ে নেয়া। ফুটন্ত পানি হলো পানি পরিশোধনের সবচেয়ে সস্তা এবং নিরাপদ পদ্ধতি। জলের উত্স এবং বিতরণের চ্যানেলগুলি আপনার জলকে অনিরাপদ করে তুলতে পারে। উদাহরণস্বরূপ- পরজীবী এবং জীবাণু এমন জিনিস যা আপনি খালি চোখে নাও দেখতে পারেন, তবে তাদের প্রভাব জীবনের জন্য হুমকি হতে পারে।

অস্বাস্থ্যকর অণুজীব (ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও প্রটোজোয়া) বহনকারী পানি পান করার মাধ্যমে সারা বিশ্বে প্রতি বছর অনেক জীবনহানি ঘটে থাকে।

বিশেষভাবে, নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশে এ জীবনহানি উল্লেখযোগ্য মাত্রায় পরিলক্ষিত হয়। এরই সতর্কতা হিসেবে, বিশ্বের অন্যান্য নিম্নমধ্যম আয়ের দেশের মতো বাংলাদেশেও গ্রাম কিংবা শহরে বসবাসকারী বিভিন্ন শ্রেণীপেশার অনেক মানুষ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা হিসেবে খাবার পানি ফুটিয়ে পান করে থাকেন। কিন্তু এ খাবার পানি অবৈজ্ঞানিক উপায়ে ফুটানো হলে ইতিবাচক ফল নাও পাওয়া যেতে পারে। এজন্য পানি ফুটানোর সঠিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিটি আমাদের সবার জানা উচিত বলে মনে করি।

প্রকৃত বৈজ্ঞানিক তথ্যমতে, খাবার পানিকে ‘সঠিক প্রক্রিয়ায়’ এবং ‘যথেষ্ট সময় ধরে’ ফুটালে তাতে বিদ্যমান রোগজনিত ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও প্রটোজোয়া নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়, রোগজীবাণু ধ্বংস হয়ে যায়, ধাতব লবণ থিতিয়ে (তলানিতে) পড়ে ও দ্রবীভূত গ্যাস বের হয়ে যায়। মনে রাখা জরুরি, পানিকে ‘অসঠিক প্রক্রিয়ায়’ বা ‘দীর্ঘসময় ধরে’ ফুটালেও ঝুঁকি থেকে যায়। আরও একটি বিষয় পাশাপাশি উল্লেখ করা দরকার। পানির সঙ্গে যদি ক্ষতিকারক মিনারেল, কেমিক্যালস বা ফার্মাসিউটিক্যাল-জাতীয় পদার্থ বিদ্যমান থাকে, সেক্ষেত্রে পানিকে সঠিকভাবে ফুটালেও এসব ক্ষতিকর পদার্থের বিষয়ে সুরক্ষা পাওয়ার কোনো নিশ্চয়তা নেই।

পানিতে বিদ্যমান রোগজনিত ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও প্রটোজোয়া নিষ্ক্রিয় করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার্স ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা ও প্রতিবেদন অনুসারে খাবার পানি ফুটানোর জন্য নিম্নের কার্যপ্রণালী অনুসরণ করা যেতে পারে।

কীভাবে কতক্ষণ পানি ফুটাবেন?

১. প্রথমে চুলা/বার্নার জ্বালিয়ে পানিকে তাপ দেয়া শুরু করুন এবং অপেক্ষা করুন। ২. পানি পূর্ণমাত্রায় ফুটন্ত (স্বাভাবিক চাপে ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় প্রকট বুদ্বুদ্ ও বাষ্পীভবন) অর্থাৎ rolling-boiling অবস্থায় পৌঁছানোর পর থেকে অবশ্যই ১-৩ মিনিট অপেক্ষা করুন। ৩. অতঃপর চুলা নিভিয়ে দিন অথবা পানির পাত্র চুলা থেকে নামিয়ে ফেলুন। ৪. পানিকে স্বাভাবিকভাবে ঠাণ্ডা হতে দিন। তারপর পানির স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ফিরে আসলে পরে ছেঁকে পান করতে হয়। এটি পানি বিশুদ্ধকরণের সবচেয়ে সহজ প্রক্রিয়া।

উল্লেখ্য, 

i- পূর্ণমাত্রায় ফুটন্ত (স্বাভাবিক চাপে ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় প্রকট বুদ্বুদ্ ও বাষ্পীভবন) অর্থাৎ রোলিং বয়েলিং অবস্থায় পৌঁছানোর পর এক মিনিটই পানিতে বিদ্যমান রোগজনিত ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও প্রটোজোয়া নিষ্ক্রিয় করার জন্য যথেষ্ট। অতিরিক্ত সময় ধরে তাপ দিলে পাত্রের পানি ধীরে ধীরে বাষ্পীভূত হয়ে কমতে থাকবে, যা ‘ল্যাটেন্ট-হিট-লসের’ মাধ্যমে প্রচুর জ্বালানি অপচয় করে থাকে। তাছাড়া পানিতে ক্ষতিকারক মিনারেল, কেমিক্যালস বা ফার্মাসিউটিক্যাল-জাতীয় পদার্থ থাকলে পানি কমে যাওয়ার কারণে এগুলোর ঘনত্বও বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ফলে ওই ক্ষতিকারক পদার্থের ঘনমাত্রা খাবার পানির জন্য নির্দেশিত ঘনমাত্রা থেকে বেশি হয়ে যেতে পারে। সুতরাং নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে অতিরিক্ত সময় ধরে পানি ফুটানোর ক্ষতি দ্বিমাত্রিক বলা চলে।

ii- পানিকে ৬৫ বা ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় অধিকতর সময় ধরে ফুটানোর কিছু নির্দেশনা দেখতে পাওয়া যায় (যেমন-পানি ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার চেয়ে বেশি তাপমাত্রায় ৫ থেকে ২৫ মিনিট ধরে ফোটানো হলে এরমধ্যে থাকা জীবাণু, লার্ভাসহ সবই ধ্বংস হয়ে যায়) কিন্তু যথার্থ তাপমাত্রা পরিমাপক না থাকলে সাধারণ মানুষের পক্ষে পানিতে ৬৫ বা ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ঠিকমতো অর্জিত হয়েছে কিনা, তা বোঝা কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ। অপরদিকে প্রকট বুদ্বুদ্সহ পূর্ণমাত্রায় ফুটন্ত অবস্থা সঠিকভাবে চিহ্নিত করা সহজ। কাজেই পূর্ণমাত্রায় বা রোলিং বয়েলিং অবস্থায় এক মিনিট অধিকতর নির্ভরযোগ্য।

iii- পানি ফোটালে জীবাণু ও পরজীবী ধ্বংস হয় বটে, তবে সব রাসায়নিক উপাদান নষ্ট হয় না। ফোটানো পানিতে কখনো কখনো ক্যালসিয়াম কার্বনেট জাতীয় তলানি পড়ে। এর সবগুলো যে খারাপ, তা নয়। তবে খনিজ উপাদানের কারণে পানি ঘোলাটে বা অপরিচ্ছন্ন দেখালে ছেঁকে নেওয়া যেতে পারে।

iv- ফোটানো পানি আবার ফিল্টার করা প্রয়োজন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন আসে। পানি ফোটানোর মাধ্যমেই ক্ষতিকর জীবাণু দূর করা সম্ভব, তবে সন্দেহ হলে ফুটানো পানি ঠান্ডা করে ফিল্টার করা যায়। বেশির ভাগ ফিল্টার আসলে পানির স্বাদ ও গন্ধকেই উন্নত করে।

পক্ষান্তরে পানির সর্বোচ্চ বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করার জন্য ফুটানোর পরে ফিল্টার ব্যবহার করতে হবে। ফিল্টার যদি না থাকে তাহলে পানি পান করার আগে কয়েক স্তর পুর বিশিষ্ট ছাঁকনি দিয়ে তা ছেঁকে নিতে হবে।

v- করোনাভাইরাস প্রেক্ষাপটে জানা জরুরি যে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার্স ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের ৩ এপ্রিল ২০২০ তারিখের হালনাগাদ তথ্য থেকে জানা যায়, খাবার পানিতে নভেল করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব বা উপস্থিতি এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। সুতরাং পানি পরিশ্রুত (ফিল্টার) এবং জীবনমুক্তকরণ কাজে ইতোমধ্যে ব্যবহৃত প্রচলিত পদ্ধতিগুলোর যথাযথ প্রয়োগই পানিতে নভেল করোনাভাইরাস দূর বা নিষ্ক্রিয় করতে পারে বলে ধরে নেয়া যায়।

vi- যারা বেশি উঁচু জায়গায় থাকেন, তাদের উচিত নিচু জায়গায় বসবাসকারীদের চাইতে বেশি সময় ধরে পানি ফোটাতে হবে।  কারণ বেশী উচ্চতায় কম তাপমাত্রাতেই পানি ফুটতে আরম্ভ করে। বায়শূন্য স্থানে তরলের স্ফ‌ুটনাঙ্ক কম থাকে। অধিক বায়ুচাপে স্ফ‌ুটনাঙ্ক বেড়ে যায়। এজন্য পাহাড়ের ওপর পানি ফুটতে কম সময় নেই। যেমনঃ ভূপৃষ্ঠে পানির স্ফ‌ুটনাঙ্ক ১০০ ডিগ্রী সেলসিয়াস, তবে হিমালয়ের পর্বতের ওপরে এই স্ফ‌ুটনাঙ্ক মাত্র ৭১ ডিগ্রী সেলসিয়াস। পাহাড় বা পর্বতের উপর বায়ূর চাপ কম থাকায় পানির স্ফুটনাংক কমে যায় অর্থাৎ কম তাপমাত্রায় পানি ফুটতে পারে। এজন্য মাংস, মাছ, ডিম প্রভূতি দ্রুত সিদ্ধ হয় না। এগুলো সুসিদ্ধ হওয়ার জন্য যে তাপের প্রয়োজন হয় পানি তার চেয়ে কম তাপমত্রায় ফুটে বাস্পীভূত হওয়ার জন্য মাছ, মাংস সেই পর্যাপ্ত তাপ পায় না। ফলে সুউচ্চ পাহাড় বা পর্বতের চূড়ায় রান্না করা কষ্টকর হয়ে পড়ে।

  • বন্যার পানির ক্ষেত্রে- সরাসরি বন্যার পানি ফুটানোর সময় বুদবুদ ওঠার ১৫ থেকে ২০ মিনিটের পর বিশুদ্ধ হয়ে যায়। এতে সহজে পানি পান করা যায়। তবে মনে রাখবেন, পানি বেশি ফুটালে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যায় এবং বিভিন্ন ক্ষতিকর উপাদানের পরিমাণ বেড়ে যায়। (পার্কভিউ মেডিকেল কলেজের রেজিস্ট্রার ডা. রায়হান মাহমুদ বলেন, বন্যার সময়ে বিশুদ্ধ পানি পান করা অত্যন্ত জরুরি। পানি যথাসম্ভব ফুটিয়ে পান করতে হবে। অনেক সময় ফোটানো পানিতেও নানা ধরনের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া থেকে যায়। তাই পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ব্যবহার করার কোনো বিকল্প নেই)
  • পুকুরের পানিকে জীবাণুমুক্ত করতে হলে কীভাবে শোধন করতে হবে? পুকুর, খাল-বিল ও নদীর (বন্যা ও জোয়ারের) পানিতে কাদা ময়লা মিশে থাকে। পাতলা কাপড় বা ছাঁকনি দিয়ে ছেঁকে এ পানি পরিষ্কার করা যায়। অতঃপর পানিকে ফুটালে তা পুরোপুরি নিরাপদ ও জীবাণুমুক্ত হবে। আবার, নদী বা পুকুরের পানি কোনো কলস বা পাত্রে রেখে দিলে পাত্রের তলায় তলানি জমে। তখন উপরের পানি আলাদা পাত্রে ঢেলে নিয়ে পরিষ্কার পানি পাওয়া যায়। এভাবে পরিষ্কার পানি আলাদা করাকে থিতানো বলে। পাত্রের পানিতে অল্প ফিটকিরি দিলে তাড়াতাড়ি তলানি জমে এবং পানি কিছুটা জীবাণুমুক্ত হয়। এক্ষেত্রে পাত্রের উপর থেকে শোধিত পানি সংগ্রহ করে তলানির পানি ফেলে দিতে হবে।
  • তারপর সেই ফুটানো পানি ঠাণ্ডা করে ছাকনি দিয়ে ছেকে পরিষ্কার পাত্রে ঢেকে সংরক্ষণ করার পরামর্শ দিয়েছেন ওয়াটার এইডের পলিসি ও অ্যাডভোকেসি বিভাগের প্রধান আবদুল্লাহ আল মুঈদ।
  • পানি সংরক্ষণের ক্ষেত্রে প্লাস্টিকের পাত্রের পরিবর্তে কাচ অথবা স্টিলের পাত্র ব্যাবহার করার কথাও জানান তিনি।
  • সেইসঙ্গে তিনি বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন সেইসব পাত্র বা যে গ্লাসে পানি খাওয়া হচ্ছে সেটি যথাযথভাবে পরিষ্কার করা হয়েছে কিনা।
  • মিস্টার মুইদ জানান, ফোটানো পানি বেশিদিন রেখে দিলে তাতে আবারও জীবাণুর আক্রমণের আশঙ্কা থাকে—বিশেষ করে, যদি তা বেশি দিন রেখে দেওয়া হয়। তাই রোজকার পানি রোজই ফুটিয়ে নেওয়া ভালো। তবে ফোটানো পানি দুইদিনের বেশি না খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
  • রেখে দেওয়া ফোটানো পানিতে আবার জীবাণুর আক্রমণ হতে পারে—বিশেষ করে, যদি তা বেশি দিন রেখে দেওয়া হয়। তাই রোজকার পানি রোজই ফুটিয়ে নেওয়া ভালো।
  • ভ্রমণে, বনজঙ্গলে, ক্যাম্পে বা দুর্গত এলাকায় পানি বিশুদ্ধকরণ বড়ি দিয়ে পানি বিশুদ্ধ করা হয়। এই পদ্ধতি সম্পূর্ণ নিরাপদ নয়, তবে জরুরি পরিস্থিতিতে কাজ চালানো যেতে পারে।
  • বাইরে বা ভ্রমণের সময় কেনা পানির চেয়ে বাড়ি থেকে বোতলে পানি নেওয়ার চেষ্টা করুন। কাচ ও স্টিলের পাত্রে পানি সংরক্ষণ করাই সবচেয়ে ভালো।

২. Filtration (পরিস্রাবণ) এবং Reverse Osmosis ফিল্টার: পানি ফোটানোর মাধ্যমেই ক্ষতিকর জীবাণু দূর করা সম্ভব হলেও পুরোপুরি আশঙ্কামুক্ত থাকতে ফিল্টারের মাধ্যমে বিশুদ্ধ করা যেতে পারে।

তাছাড়া যাদের গ্যাসের সংকট রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে ফিল্টারে পানি বিশুদ্ধ করাই সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি।

বাজারে বিভিন্ন ধরণের ফিল্টার পাওয়া যায়। যার মধ্যে অনেকগুলো জীবাণুর পাশাপাশি পানির দুর্গন্ধ পুরোপুরি দূর করতে সক্ষম।

বাজারে মূলত দুই ধরণের ফিল্টার পাওয়া যায়। যার একটি সিরামিক ফিল্টার এবং দ্বিতীয়টি সর্বাধুনিক প্রযুক্তি সম্বলিত Reverse Osmosis ফিল্টার।

বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষ সিরামিক ফিল্টার ব্যবহার করে থাকে। তবে আমাদের পরামর্শ হচ্ছে রিভার্স অসমোসিস (Reverse Osmosis) ফিল্টার। কারণ এটি TDS স্তর বৃদ্ধির জন্য দায়ী জলে দ্রবীভূত কঠিন পদার্থগুলিকে এবং সমস্ত (organic molecules) জৈব অণু এবং ভাইরাস অপসারণ ছাড়াও, (Reverse Osmosis) বিপরীত অসমোসিস জলে উপস্থিত বেশিরভাগ উপকারী এবং অপকারী খনিজগুলিকেও সরিয়ে দেয়। (এজন্য পানিতে উপকারী মিনারেল বৃদ্ধি করার জন্য হিমালয়ান পিং সল্ট দিয়ে খেতে হয়) বিপরীত অসমোসিস monovalent ions গুলিকেও সরিয়ে দেয়, যার মানে এটি জলকে বিশুদ্ধ করে। অনেক ক্ষতিকারক খনিজ যেমন লবণ এবং সীসা অপসারণ করে, পাশাপাশি পিএইচ বাড়ায় এবং জলের ক্ষয়কারী সম্ভাবনা হ্রাস করে। ক্ষয়কারী জল বিতরণ ব্যবস্থা এবং গৃহস্থালীর জলের পাইপগুলি থেকে সীসা এবং তামাকে ছড়াতে পারে।

তবে আবদুল্লাহ আল মুঈদের মতে, এই ফিল্টার থেকে আপনি কতোটুকু বিশুদ্ধ পানি পাবেন সেটা নির্ভর করে ফিল্টারটি নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় কিনা, তার ওপরে।

এছাড়াও বিসিএসআইআর’য়ের উদ্ভাবিত রাসায়নিক পদার্থভিত্তিক ফিল্টার যা জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে স্বীকৃত এমন ফিল্টার ব্যবহারের পরামর্শ দেন।

আবার বাজারে নানা রকমের টাইমার যুক্ত পানি পরিশোধক যন্ত্র পাওয়া যায় তা ব্যবহারের মাধ্যমেও বিশুদ্ধ পানি পাওয়া যায় এটি নিরাপদ ও ঝামেলা মুক্ত বলে মত দেন বাংলাদেশ গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের গৃহব্যবস্থাপনা ও গৃহায়ন বিভাগের প্রভাষক শারমিন সুলতানা।

৩. ক্লোরিন ট্যাবলেট বা ব্লিচিং: পানির জীবাণু ধ্বংস করতে ক্লোরিন বহুল ব্যবহৃত একটি রাসায়নিক। যদি পানি ফোটানো বা ফিল্টার করার ব্যবস্থা না থাকে তাহলে পানি বিশুদ্ধিকরণ ক্লোরিন ট্যাবলেট দিয়ে পানি পরিশোধন করা যেতে পারে। তবে থাইরয়েড সমস্যায় ভুগছেন এমন ব্যক্তিদের এই পণ্যটি ব্যবহার করার আগে একজন চিকিত্সকের সাথে কথা বলা উচিত।

সাধারণত দুর্গম কোথাও ভ্রমণে গেলে অথবা দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে বা জরুরি কোন অবস্থায় ট্যাবলেটের মাধ্যমে পানি শোধন করা যেতে পারে। সাধারণত প্রতি তিন লিটার পানিতে একটি ট্যাবলেট বা ১০ লিটার পানিতে ব্লিচিং গুলিয়ে রেখে দিলে বিশুদ্ধ পানি পাওয়া যায়। এভাবে পরিশোধিত পানিতে কিছুটা গন্ধ থাকলেও সেটা পরিষ্কার স্থানে খোলা রাখলে বা পরিচ্ছন্ন কোন কাঠি দিয়ে নাড়াচাড়া করলে গন্ধটি বাতাসে মিশে যায় বলে জানান আবদুল্লাহ আল মুঈদ।

পানিতে জীবাণু থাকলে জীবাণুনাশক ব্যবহার করে তা মেরে ফেলতে হবে। এ ক্ষেত্রে জীবাণুনাশক হিসেবে ক্লোরিন গ্যাস ও ব্লিচিং পাউডার অন্যতম। এ ছাড়া কিছু পদার্থ আছে, যেগুলো পানির জীবাণু মারার কাজে ব্যবহার করা হয়। বন্যার সময় বিশুদ্ধ পানির খুবই অভাব থাকে। আর বাড়ির চারপাশের পানিতে নানা ধরনের জীবাণু থাকে। ওই অবস্থায় পানি বিশুদ্ধ করার জন্য ট্যাবলেট বা কিট দেওয়া হয়। এতে থাকে সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইড। এর মধ্যে থাকা ক্লোরিন পানিতে থাকা জীবাণুগুলো জারিত করে মেরে ফেলে। বোতলজাত পানির কারখানায়ও এ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।

শহরে যে ট্যাপের পানি পাওয়া যায় তা মূলত ব্লিচিং ও ক্লোরিন দিয়ে পরিশোধিত করা হয়। যা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই চুল পড়া ও ত্বক খসখসে হয়ে যাওয়ার জন্য দায়ী। এছাড়াও যে হাঁড়িতে পানি ফুটানো হয় তার তলায় অনেক সময় শক্ত আস্তরণ পড়তে দেখা যায় এটি ক্লোরিন ও ব্লিচিংয়ের জন্য হয়ে থাকে। 

ক্লোরিন দিয়ে পানির কার্যকরী জীবাণুমুক্ত করার জন্য, pH 8.0 এর কম হওয়া উচিত।

৪. পটাশ বা ফিটকিরি: এক কলসি পানিতে সামান্য পরিমাণ ফিটকিরি মিশিয়ে দুই থেকে তিন ঘণ্টা রেখে দিলে পানির ভেতরে থাকা ময়লাগুলো তলানিতে স্তর হয়ে জমে যায়। এক্ষেত্রে পাত্রের উপর থেকে শোধিত পানি সংগ্রহ করে তলানির পানি ফেলে দিতে হবে। অথবা পানি ছেকে নিয়ে সংরক্ষণের পরামর্শ দিয়েছেন মিস্টার মুঈদ।

২৪ লিটার পানিতে এক গ্রাম পটাশ মিশিয়ে ছয় ঘণ্টা রেখে দিলে সেই পানি বিশুদ্ধ হয়ে যায়।

৫. সৌর পদ্ধতি: যেসব প্রত্যন্ত স্থানে পরিশোধিত পানির অন্য কোনও উপায় নেই সেখানে প্রাথমিক অবস্থায় সৌর পদ্ধতিতে পানি বিশুদ্ধ করা যেতে পারে।

এ পদ্ধতিতে দুষিত পানিকে জীবাণুমুক্ত করতে কয়েকঘণ্টা তীব্র সূর্যের আলো ও তাপে রেখে দিতে হবে। এতে করে পানির সব ব্যাকটেরিয়া নষ্ট হয়ে যায়।

জরুরি অবস্থায় দূষিত পানি জনিত রোগ ঠেকাতে এই পদ্ধতি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

৬. আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি: পরিষ্কার ও স্বচ্ছ পানি জীবাণু মুক্ত করার জন্য অতিবেগুনি বিকিরণ কার্যকরী একটা পদ্ধতি। এতে করে পানির সব ধরণের ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস হয়ে যায়।

বাজারের বেশ কয়েকটি আধুনিক ফিল্টারে এই আল্ট্রাভায়োলেট পিউরিফিকেশন প্রযুক্তি রয়েছে।

তবে ঘোলা পানিতে বা রাসায়নিক-যুক্ত পানিতে এই পদ্ধতিটি খুব একটা কার্যকর নয়। তাছাড়া এই উপায়টি কিছুটা ব্যয়বহুলও।

৭. আয়োডিন: এক লিটার পানিতে দুই শতাংশ আয়োডিনের দ্রবণ মিশিয়ে কিছুক্ষণ ঢেকে রাখলেই পানি বিশুদ্ধ হয়ে যায়।

তবে এই কাজটি শুধুমাত্র দক্ষ কারও মাধ্যমে করার পরামর্শ দিয়েছেন মিস্টার মুঈদ। কেননা পানি ও আয়োডিনের মাত্রা ঠিক না থাকলে সেই পানি শরীরের ক্ষতি করতে পারে।

৮. হ্যালোজেন: তিন লিটার পানিতে একটি হ্যালোজেন ট্যাবলেট গুলিয়ে রেখে দিলে এক ঘণ্টা পর পানি বিশুদ্ধ হয়।

৯. বৃষ্টির পানি: সব পানি কিন্তু বিশুদ্ধ নয়, আবার ভূপৃষ্ঠে আমরা যেসব উৎস থেকে পানি পাই তাতে রোগ সৃষ্টিকারী নানা জীবাণু থাকতে পারে। কিন্তু বৃষ্টির পানি বিশুদ্ধ। বৃষ্টি শুরু হওয়ার ১০ মিনিট পর থেকে পরিষ্কার পাত্রে পানি সংগ্রহ করে রাখলে পানি পানের উপযোগী হয়। এক্ষেত্রে পানি সংরক্ষণ করার জন্য স্বাস্থ্যসম্মত পাত্র যেমন মাটি, কাঁচ বা স্টীলের পাত্র ব্যবহার করতে হবে এবং যথাসম্ভব সূর্যের আলো থেকে দূরে রাখতে হবে।

১০. পরিস্রাবণ: পানিতে থাকা অদ্রবণীয় ধুলাবালির কণা এবং নানা রকম ময়লা-আবর্জনার কণা থাকতে পারে। এগুলোকে পরিস্রাবণ পদ্ধতিতে বের করা হয়। পানিকে বালুর স্তরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত করলে অদ্রবণীয় কণাগুলো আটকে যায়। এ ক্ষেত্রে সূক্ষ্ম ফাঁকযুক্ত কাপড়ও ব্যবহার করা যায়। আমাদের অনেকের বাসায় ফিল্টার রয়েছে। সেখানে ছোট ছোট নুড়িপাথর কিংবা বালুকণার মতো পাথরের একটা স্তর থাকে। ওটা পরিস্রাবণের কাজ করে।

১১. Distillation বা পাতন: প্রথমে একটি পাত্রে পানি নিয়ে সেটাকে তাপ দিয়ে বাষ্পে পরিণত করা হয়। তারপর সেই বাষ্প ঘনীভূত করে বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ করা হয়। এই প্রক্রিয়াটি ওষুধ তৈরির জন্য এবং পরীক্ষাগারে পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজে ব্যবহার করা হয়। কারণ এই প্রক্রিয়ায় বিশুদ্ধ করা পানিতে অন্য কোনো পদার্থ থাকার সুযোগ নেই। এই পদ্ধতি ব্যাকটেরিয়া, জীবাণু, লবণ এবং অন্যান্য ভারী ধাতু যেমন সীসা, পারদ এবং আর্সেনিক ইত্যাদি অপসারণে কার্যকর।

তবে এটি খুব ধীর প্রক্রিয়া এবং ব্যয়বহুল। যে সমস্ত ক্ষেত্রে একেবারে অপরিশোধিত পানি ছাড়া আর কোনো উৎস থাকে না তাদের জন্য এই পদ্ধতি উপযোগী।

পাতনের জন্য আলাদা যন্ত্রপাতি পাওয়া যায়। তাছাড়া ঘরে করতে চাইলে একটা বড়ো পাত্রে পানি দিয়ে তার ভিতরে ছোটো একটা পাত্র দিতে হবে, এবং ঢাকনিটা উলটো করে বড়ো পাত্রটায় বসিয়ে দিতে হবে। তাপ দেওয়ার সময় বাষ্পীভূত পানি ঢাকনিতে লেগে তরল হয়ে ছোটো পাত্রে জমা হবে।

১২. ছাঁকন পদ্ধতি: ঘোলা পানি পরিষ্কার এবং বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের পানিতে আয়রন পরিশোধনের জন্য এ পদ্ধতি অনেক সুন্দর কার্যকরী। এই পদ্ধতিতে দরকার গকে চারটি কলস বা মাটির চারি। চারি হচ্ছে মাটির তৈরি বড় বোল বা গামলা। একটি কাঠ, বাঁশ বা লোহার স্ট্যান্ড।

চারটি কলস বা চারি উপর নিচ করে সাজাতে হয়। প্রথমে কলসে সাধারণত পানি দেওয়া হয়। দ্বিতীয় কলসে বালু ও তৃতীয় কলসে নুড়ি পাথর রাখতে হয়। বালি ও নুড়ি পাথরে পানি পরিশোধিত হয়ে চতুর্থ কলসে এসে জমা হয়। এক্ষেত্রে প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় কলসের নিচে ছোট ছোট ছিদ্র করে দিতে হবে যাতে উপর থেকে পানি ধীরে ধীরে নিচের কলসে পড়তে পারে। সাধারণত গ্রামাঞ্চলে এই পদ্ধতিতে পানি বিশুদ্ধ করা হয়। সর্বশেষ পানি ফুটিয়ে ঠান্ডা করে পান করবেন।

বিশুদ্ধ পানির অভাবে অনেককেই বাজারের বোতলজাত পানির ওপর নির্ভর করতে হয়। এক্ষেত্রে বোতলের পানিতে সঠিক মাত্রা TDS দেখে নিবেন।

পানিতে Total Dissolved Solids (TDS) কি?

পানিতে মোট দ্রবীভূত কঠিন পদার্থ (TDS) হলো- জলের নমুনায় উপস্থিত সমস্ত (organic and inorganic) জৈব এবং অজৈব পদার্থের একটি সামগ্রিক পরিমাপ। এর মধ্যে রয়েছে দ্রবীভূত জৈব যৌগ, অজৈব যৌগ, লবণ, খনিজ পদার্থ এবং আয়ন।

টিডিএস মিটার পানির পরিবাহিতা পরিমাপ parts-per-million (abbreviated as ppm, যা প্রতি লিটার পানিতে উপস্থিত দূষিত পদার্থের ভর পরিমাপের সমতুল্য (mg/L সংক্ষেপে)। টিডিএস মূলত পানিতে দ্রবীভূত কোনো কিছুর পরিমাপ যা H2O অণু নয়। যেহেতু এটি একটি দ্রাবক, যখন জল দ্রবণীয় উপাদানের মুখোমুখি হয়, তখন উপাদানটির কণাগুলি জলে শোষিত হয়, যা মোট দ্রবীভূত কঠিন পদার্থ তৈরি করে। 

মোট দ্রবীভূত কঠিন পদার্থের প্রকারভেদ:

নিম্নলিখিত তালিকায় সাধারণ মোট দ্রবীভূত কঠিন পদার্থের বিবরণ রয়েছে যা আপনার পানিতে H2O এর সাথে থাকতে পারে- variety of salts, minerals, and organic compounds, including calcium, Chloride, magnesium, potassium, zinc-দস্তা, Aluminum, copper-তামা, lead-সীসা, Arsenic, iron-লৌহ, Chlorine, Sodium, Fluoride, Carbonates, Bicarbonate, Sulfates, pesticides-কীটনাশক, Herbicide, etc.

এসব উপাদানগুলোর মধ্যে কিছু শরীরের জন্য উপকার করে আর বেশিরভাগই বিপজ্জনক বলে মনে করা হয় এবং এই কারনে খাওয়ার আগে অবশ্যই ফিল্টার করা উচিত।

মোট দ্রবীভূত কঠিন পদার্থের উৎস:

মোট দ্রবীভূত কঠিন পদার্থ প্রাকৃতিক এবং মানবসৃষ্ট উভয় উৎস থেকে আসে। টিডিএসের প্রাকৃতিক উৎসের মধ্যে রয়েছে ঝর্ণা, হ্রদ, নদী, গাছপালা এবং মাটি। এমনকি আপনার বাড়ির জল সরবরাহ, স্যানিটেশনের জন্য প্রয়োজনীয় পাইপ, ট্যাঙ্ক, সিস্টেম থেকেও। উদাহরণস্বরূপ, যখন জল একটি প্রাকৃতিক বসন্তে ভূগর্ভে প্রবাহিত হয়, তখন এটি পাথর থেকে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং পটাসিয়ামের মতো খনিজগুলি শোষণ করে।

অন্যদিকে, মানুষের ক্রিয়াকলাপের প্রভাবও পানিতে মোট দ্রবীভূত কঠিন পদার্থ তৈরি করতে পারে। কীটনাশক এবং ভেষজনাশক কৃষিকাজ থেকে আসতে পারে, সীসা আসতে পারে পুরানো প্লাম্বিং পাইপ থেকে, এবং ক্লোরিন আসতে পারে পানি শোধনাগার থেকে। 

মোট দ্রবীভূত কঠিন পদার্থকে কখনো কখনো উদ্দেশ্যমূলকভাবে পানিতে যোগ করা হয়, কারণ মুদি দোকানে বোতলজাত খনিজ পানিতে খনিজ সংযোজন থাকতে পারে।

কিভাবে TDS পরিমাপ করা হয়?

মোট দ্রবীভূত কঠিন পদার্থ (TDS) একক মিলিগ্রাম প্রতি লিটার (mg/L) দিয়ে পানির আয়তন হিসাবে পরিমাপ করা হয়, অন্যথায় অংশ প্রতি মিলিয়ন (ppm) হিসাবে পরিচিত। EPA সেকেন্ডারি পানীয় জলের নিয়ম অনুসারে, 500 পিপিএম হল আপনার পানীয় জলের জন্য প্রস্তাবিত সর্বাধিক পরিমাণ TDS। 1000 পিপিএম-এর বেশি যেকোনো পরিমাপ টিডিএসের একটি অনিরাপদ স্তর। যদি মাত্রা 2000 পিপিএম অতিক্রম করে, তাহলে (a filtration system may be unable to properly filter TDS) একটি পরিস্রাবণ সিস্টেম সঠিকভাবে টিডিএস ফিল্টার করতে অক্ষম হতে পারে।

Digital TDS meter.
একটি TDS মিটার ব্যবহার করে আপনার জল পরীক্ষা করা মোট দ্রবীভূত কঠিন পদার্থের পরিমাপ করার সবচেয়ে সহজ উপায়। উদাহরণস্বরূপ, যদি একটি টিডিএস মিটার বলে 100 পিপিএম, তার মানে হল 10 মিলিয়ন কণা থেকে 100টি (dissolved ions) দ্রবীভূত আয়ন এবং 999,900টি জলের অণু। এটি একটি নিম্ন TDS স্তর হিসাবে বিবেচিত হবে৷ যাইহোক, একটি TDS মিটার নির্দেশ করে না যে কোন ধরনের TDS উপস্থিত রয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত আপনার জলের গুণমান সম্পর্কে জানার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। তাই, আপনার জলে ঠিক কী ধরনের TDS রয়েছে তা প্রকাশ করার জন্য একটি হোম ওয়াটার টেস্ট কিট বা ল্যাবের জল বিশ্লেষণের পরামর্শ দেওয়া হয়।

টিডিএস ওয়াটার চার্ট:

পানিতে টিডিএস এর মাত্রা কত থাকতে হবে তা নিয়ে অনেক গবেষণায় রয়েছে যেমন Bureau of Indian Standards (BIS) অনুসারে, জলে টিডিএস স্তরের উচ্চ সীমা হল 500 পিপিএম। WHO দ্বারা সুপারিশকৃত টিডিএস স্তর 300 পিপিএম।

  • <50-250 পিপিএম কম (Low) : খনিজগুলির অভাব, যেমন ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং জিঙ্ক etc.
  • 300-500 পিপিএম আদর্শ (Ideal): এই স্তরটি পানীয় জলে টিডিএসের জন্য মিষ্টি স্থান। জল সম্ভবত খনিজ ধারণ করে এবং সমতল স্বাদ না.
  • 600-900 পিপিএম দুর্দান্ত নয় (Not Great): টিডিএস ফিল্টার করার জন্য একটি বিপরীত অসমোসিস সিস্টেম বিবেচনা করুন।
  • 1000-2000 পিপিএম খারাপ (Bad): এই টিডিএস স্তরে জল পান করার পরামর্শ দেওয়া হয় না।
  • >2000 অগ্রহণযোগ্য (Unacceptable): 2000 পিপিএম-এর উপরে একটি টিডিএস স্তর অনিরাপদ এবং পরিবারের ফিল্টারগুলি এই স্তরের দূষণকে সঠিকভাবে ফিল্টার করতে পারে না।

যদি আপনার টিডিএস মাত্রা 600 এর উপরে হয়, বা এমনকি 1,000 এর মধ্যেও, এটি একটি বিশাল সূচক যে আপনার জলে দ্রবীভূত উপাদানের একটি মারাত্মক সমস্যাযুক্ত স্তর রয়েছে। কিন্তু যদি আপনার পানির TDS পরিমাপ 300-500-এর মধ্যে হয়, তাহলে এটি গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হয়। 250 বা 300 এর নিচে থাকলে প্রয়োজনীয় খনিজের অভাব আছে বলে নির্দেশ করে। 1000 এর ওপরে থাকলে ব্যবহার করা নিষেধ এবং 2000 এর উপরে থাকলে তা আরো বিপদজন। অর্থাৎ 50 এর নিচে টিডিএস মাত্রা ক্ষতিকারক এবং ৫০০ এর উপরে টিডিএস এর মাত্রা ক্ষতিকারক। আর 250-500 ভালো এবং গ্রহণযোগ্য।

TDS মিটার দ্বারা কি জলের সমস্ত পদার্থ পরিমাপ করা সম্ভব?

টিডিএস পরিক্ষা আপনার জলের সামগ্রীক নিরাপত্তা পরিমাপ করে না। এটা সম্ভব যে, আপনার একটি জলের নমুনা পরীক্ষায় টিডিএস রিডিং 0 পাচ্ছেন কিন্তু তারপরেও তাতে বিষাক্ত মাত্রার (Lead) সীসার উপস্থিত থাকতে পারে। অন্যান্য সম্ভাব্য বিপজ্জনক পানীয় দূষণকারী, যেমন pharmaceuticals, pesticides, arsenic, hexavalent chromium, and VOCs প্রদর্শিত হবে না। সম্ভাব্য pathogenic viruses, cysts and protozoa একইভাবে টিডিএস রিডিংয়ে উপস্থিত হবে না। টিডিএস কঠোরভাবে জলে দ্রবীভূত কঠিন পদার্থের সাথে সম্পর্কিত, জলের সামগ্রিক make-up নয়।

লোকেরা কেন তাদের জলের টিডিএস পরিমাপ করে?

TDS হল একটি জনপ্রিয় জলের গুণমান পরিমাপ কারণ এটি সহজ, accessible এবং পাঠককে তাদের জলের make-up সম্পর্কে একটি সাধারণ ধারণা প্রদান করে। যদি TDS মিটার 2,000 ppm রিডিং দেয়, তাহলে আপনার জল দ্রবীভূত কঠিন পদার্থে ভরে যাচ্ছে, যার মধ্যে অনেকগুলি অবাঞ্ছিত দূষক হতে পারে। যদি TDS মিটার 100 এর রিডিং দেখায়, আপনি জানেন যে আপনার কলের জলে সাধারণত জৈব এবং অজৈব যৌগ কম থাকে এবং উচ্চ খনিজ উপাদানের অভাব হয়।

যাইহোক, একটি টিডিএস রিডিং একটি সাধারণ জল বিক্রয়কারী কৌশল। একটি টিডিএস মিটারের মাধ্যমে জলের গুণমানের সম্পূর্ণ ছবি দিতে পারে না। একটি আরও গভীরতার জল পরীক্ষার কিট আপনার জলে কী রয়েছে তার আরও সম্পূর্ণ চিত্র সরবরাহ করতে পারে। কিছু বিশেষ পরীক্ষা বাড়িতে করা যেতে পারে, একটি ল্যাব টেস্ট কিট আপনাকে আপনার পানিতে উপস্থিত দূষিত মাত্রার একটি সম্পূর্ণ মূল্যায়ন দেবে।

স্বাস্থ্যের উপরে প্রভাব:

পানীয় জলে উচ্চ TDS এর স্বাস্থ্যের প্রভাব- যদিও একটি উন্নত TDS স্তর আপনার জলের স্বাদকে প্রভাবিত করতে পারে, এটি সাধারণত মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয়। যাইহোক, 500 পিপিএম-এর উপরে রিডিং বিষাক্ত কণা এবং ভারী ধাতুগুলির জন্য আরও তদন্তের প্রয়োজন, এবং 1000 পিপিএম-এর উপরে রিডিং মানুষের ব্যবহারের জন্য অনিরাপদ বলে মনে করা হয়। আবার, এটা মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে যখন আপনার স্বাস্থ্যের কথা আসে, তখন আপনার পানিতে দ্রবীভূত কঠিন পদার্থের পরিমাণের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আপনার পানিতে সীসা বা কীটনাশক এবং হার্বিসাইডের মতো কোনো ক্ষতিকারক পদার্থ আছে কিনা তা নির্ধারণ করতে একটি হোম ওয়াটার টেস্ট কিট বা ল্যাব বিশ্লেষণ আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

কম TDS জল ক্ষতিকারক? না, কম টিডিএস জল ক্ষতিকর নয়। একটি নিম্ন TDS স্তর আসলে মানে আপনার উচ্চ মানের জল আছে, কিন্তু এটি একটি সমতল স্বাদ থাকতে পারে, কারণ এটি অনেক খনিজ বর্জিত পানি।

পটাসিয়াম, সোডিয়াম এবং ক্লোরাইডের উপস্থিতি পানিতে টিডিএসের মাত্রা বাড়ায়। যাইহোক, জলে উপস্থিত সীসা, নাইট্রেট, ক্যাডমিয়াম এবং আর্সেনিকের মতো বিষাক্ত আয়নগুলির উপস্থিতি বেশ কয়েকটি গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ হতে পারে। এটি শিশুদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ তারা দূষকদের প্রতি অনেক বেশি সংবেদনশীল কারণ তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে বিকশিত হয়নি। পানি যত বিশুদ্ধ হবে, সুস্বাস্থ্য‌ও তত নিশ্চিত করা যাবে।

একটি উচ্চ TDS স্তর জলের স্বাদ পরিবর্তন করে এবং এটিকে লবণাক্ত, তিক্ত বা ধাতব করে তোলে। উচ্চ TDS মাত্রাও বিষাক্ত খনিজ পদার্থের উপস্থিতি নির্দেশ করে যা স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক।

উচ্চ টিডিএস জলকে শক্ত করে, যার ফলে পাইপগুলিতে স্কেল তৈরি হয়, চুল শুকিয়ে যায় এবং পাত্রে দাগ পড়ে এবং রান্নাঘরের যন্ত্রপাতিগুলিকে অকার্যকর করে তোলে। 

উচ্চ মাত্রার আয়রন আপনার জলকে উজ্জ্বল, অস্বাভাবিক কমলা রঙে পরিণত করতে পারে, কিন্তু এর মানে এই নয় যে এই জল পান করলে অসুস্থতা দেখা দেবে।

জলের টিডিএস এর মাত্রা আগে থেকেই পরীক্ষা করলে উপরোক্ত সমস্যাগুলি থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যাবে।

PH কি?

জল হল হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেনের সংমিশ্রণ। এজন্য আপনি এটিকে H2O বলে থাকেন। জলের উৎসের pH মান হল এর অম্লতা বা ক্ষারত্বের পরিমাপ। জলের pH স্তর নির্ধারণ করে যে, এটি কতটা (acidic) অম্লীয় এবং কতটা (alkaline) ক্ষারকীয়। এর Range 0 থেকে 14 এর মধ্যে থাকে৷ একটি pH 7 নিরপেক্ষ বলে বিবেচিত হয়৷ সেই "সাত" সংখ্যাটিকে অম্লীয় এবং ক্ষারীয়ের মধ্যে নিরপেক্ষ বা ভারসাম্যপূর্ণ বলে মনে করা হয়। জল যদি pH স্কেলে 7-এর নিচে হয়, তাহলে এটি "অম্লীয়"। যদি এটি 7 এর বেশি হয় তবে এটি "ক্ষারীয়"।

pH এর কত মাত্রায় পানি খেতে হবে তা EPA নির্দেশিকা বলে যে, কলের জলের pH 6.5 থেকে 8.5 এর মধ্যে হওয়া উচিত। কারণ যখন pH মাত্রা 8.5 এর উপরে হয়, তখন জলের নমুনাকে কঠিন বলে মনে করা হয়। যখন pH মাত্রা 6.5 এর নিচে থাকে, তখন পানির নমুনাকে নরম বলে মনে করা হয়।

সাধারণভাবে, pH যত কম হবে, (শরীরের অভ্যন্তরে) ক্ষয়ের সম্ভাব্য মাত্রা তত বেশি হবে। নিয়মিত পানীয় জল 7 এর নিচে পিএইচ আপনার রক্ত ​​এবং কোষগুলিতে খুব বেশি অ্যাসিড তৈরি করে। যা অস্টিওপরোসিস থেকে ক্যান্সার পর্যন্ত সমস্ত ধরণের স্বাস্থ্য সমস্যার জন্য plain water এর (৭ মাত্রার) কম পিএইচকে দায়ী করে।

যে জল বেশি ক্ষারীয় (যে সব পানির pH ৭ মাত্রার চেয়ে বেশি) তা রক্তপ্রবাহে অ্যাসিড কমিয়ে দেয় এবং: মেটাবলিজম উন্নত করে, শক্তি বাড়ায়, বার্ধক্য ধীর করে, হজমশক্তির উন্নতি ঘটায়, হাড়ের ক্ষয় কমায়, উচ্চ-পিএইচ জলের সমর্থকরা বলছেন যে এটি ক্যান্সার কোষকে নষ্ট করার ক্ষমতাও রাখে।

এতসব উপকারের মাঝে অ্যালকালাইন বা ক্ষারীয় পানির অনুপস্থিতিতে আমাদের খুব বেশি দুশ্চিন্তায় ফেলবে না। কারণ আপনার শরীর, নিজে থেকেই আপনার pH মাত্রাকে সমানভাবে রাখতে পারে। আপনার কিডনি হল আপনার অন্তর্নির্মিত পরিস্রাবণ ব্যবস্থা। আপনার শরীরে অ্যাসিডের মাত্রা ভারসাম্য করা তাদের কাজ। যদি আপনার রক্ত ​​খুব বেশি অম্লীয় হয়ে যায়, তাহলে আপনার শরীর আরও কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃশ্বাসের মাধ্যমে তা নামিয়ে আনে। আপনার পেট মহান সমকক্ষ যা pH 7 মাত্রা বজায় রাখে। আপনার গ্যাস্ট্রিক জুস হজমকারী এনজাইম এবং হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিডের সংমিশ্রণ। আপনি যা কিছু খান এবং পান করেন তা নিরপেক্ষ করে। মূলত, আপনার পাকস্থলী ক্ষারীয় জলকে পুনরায় অম্লীয় করে তুলবে কারণ;

পাকস্থলীর তরল পদার্থের pH, যার মধ্যে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড থাকে, 1.0 থেকে 3.5 এর মধ্যে থাকে, যার গড় প্রায় 2.0 pH, এবং এমন অনেক খাবার রয়েছে যেগুলি কম pH-এরও সম্মুখীন হয়। এর মধ্যে রয়েছে লেবুর রস, যার pH 2.4 এবং ভিনেগার, যার pH 2.8। কমলার রসের পিএইচ 3.3 এবং ব্ল্যাক কফির প্রায় 5। কারণ এগুলি দুর্বল অ্যাসিড, এগুলি এসিড যুক্ত খাবার হলেও তা সেবন থেকে স্বাস্থ্যের জন্য তেমন হুমকি সৃষ্টি করে না। 

বোতলজাত যেসব পানি ক্ষারীয় বলে দাবি করা হয় সেসব জলের পিএইচ স্তর 7-এর উপরে থাকে। কিছু ক্ষেত্রে, নির্মাতারা জলের Chemical Makeup পরিবর্তন করতে একটি বিশেষ ডিভাইস ব্যবহার করে। অন্য সময়, তারা এর pH পরিবর্তন করতে জলে পুষ্টি যোগ করে।

ক্ষারীয় জল আপনার কলের জল থেকে তিক্ত বা ভিন্ন স্বাদ হতে পারে। এবং আপনার কিডনি রোগ না থাকলে, ক্ষারীয় জল কোনো গুরুতর স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করে না।

মনে রাখবেন, আপনার স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সর্বোত্তম উপায়গুলির মধ্যে একটি হল আপনি এবং আপনার পরিবার প্রতিদিন পরিষ্কার, ফিল্টারযুক্ত পানীয় জল পান করছেন তা নিশ্চিত করা। অর্থাৎ টিডিএস এবং পিএইচ এর চেয়ে পানি পরিষ্কার এবং দূষণমুক্ত রাখার প্রতি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। পানি পান করার আগে যেমন পানি বিশুদ্ধ করতে হবে এরপরে ওই পানিতে টিডিএস এবং পিএইচ এর মান গ্রহণযোগ্য পরিমাণে আছে কিনা তা চেক করে তবেই সেই পানি পান করতে হবে।

তথ্যসূত্র:

  • ড. মো. ইকবাল হোসেন, ড. মো. শাহিনুর ইসলাম, ড. শোয়েব আহমেদ : সহযোগী অধ্যাপক, কেমিকৌশল বিভাগ, বুয়েট, যুগান্তর।
  • ওয়াটার এইডের পলিসি ও অ্যাডভোকেসি বিভাগের প্রধান, আবদুল্লাহ আল মুঈদ, বিবিসি বাংলা।
  • ডা. শাকিল মাহমুদ, সহকারী অধ্যাপক, গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজ, সাভার, ঢাকা, এনটিভি।
  •  ডা. রায়হান মাহমুদ, পার্কভিউ মেডিকেল কলেজের রেজিস্ট্রার, ঢাকা পোস্ট।
  • অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী, পরিচালক, ল্যাবরেটরি সার্ভিস, বারডেম হাসপাতাল, প্রথম আলো।
  • এবিএম আখতার হোসেন সিনিয়র শিক্ষক বিএ এফ শাহীন কলেজ কুর্মিটোলা, ঢাকা, সমকাল।
  • জুবায়ের আহম্মেদ, কালের কণ্ঠ।
  • উইকিপিডিয়া।
  • বাংলাদেশ গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের গৃহব্যবস্থাপনা ও গৃহায়ন বিভাগের প্রভাষক শারমিন সুলতানা, bdnews24.com
  • kent.co.in
  • schultzsoftwater.com
  • raynewater.com
  • WebMD.com
  • safewater.org
  • corona.gov.bd
  • freshwatersystems.com
  • banglatribune
  • Edited: Natural_Healing.

কোন মন্তব্য নেই

Popular Post

Blogger দ্বারা পরিচালিত.