থাইরয়েড কি? কেন হয় এবং প্রতিকার কি?
থাইরয়েড কি এবং এটি আমাদের শরীরে কি কি কাজ করে?
থাইরয়েড হলো গলার দুই পাশে থাকা একটি বিশেষ গ্রন্থি। আমাদের গলার সামনের দিকে প্রজাপতি আকৃতির গ্রন্থিটির নাম থাইরয়েড। মানুষের বৃদ্ধি, বিকাশ, শারীরবৃত্তিক আর বিপাকীয় নানা ক্রিয়া-প্রক্রিয়া সাধন করার জন্য এই গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত থাইরয়েড হরমোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বর্তমানে থাইরয়েড গ্রন্থির নানা সমস্যা বিশ্বে অন্যতম হরমোনজনিত সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত। হরমোনজনিত রোগের ক্ষেত্রে ডায়াবেটিসের পরই এর অবস্থান। মূলত নারীরাই এই সমস্যায় বেশি ভুগে থাকেন।
এই গ্রন্থির কাজ হল- আমাদের শরীরের কিছু অত্যাবশ্যকীয় হরমোন (থাইরয়েড হরমোন) উৎপাদন করা। শরীরের জন্য এ থাইরয়েড হরমোনের একটি নির্দিষ্ট মাত্রা আছে। নির্দিষ্ট মাত্রার থেকে কম বা বেশি হরমোন উৎপাদিত হলেই শরীরের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করে।
থাইরয়েড হরমোন কম উৎপন্ন হলে বলা হয় হাইপোথাইরয়েডিসম এবং বেশি উৎপন্ন হলে বলা হয় হাইপারথাইরয়েডিসম।
থাইরয়েড হরমোনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে স্নায়ুর পরিপক্বতা। এজন্য গর্ভাবস্থায় থাইরয়েড হরমোনের স্বল্পতায় গর্ভের বাচ্চা বুদ্ধিদীপ্ত হয় না। যেসব উদ্দীপনায় বিপাক ক্রিয়া বেড়ে যায় যেমন-যৌবনপ্রাপ্তি, গর্ভাবস্থা, শরীরবৃত্তীয় কোনো চাপ-ইত্যাদি কারণে থাইরয়েড গ্লান্ডের আকারগত বা কার্যকারিতায় পরিবর্তন হতে পারে।
থাইরয়েডের আরও কাজ হল হরমোন সিক্রেট করা যা শরীরের কাজকে পরিবর্তন ও নিয়ন্ত্রণ করে। বর্তমানে থাইরয়েড গ্রন্থির নানা সমস্যা বিশ্বে অন্যতম হরমোনজনিত সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত।
''থাইরয়েড সমস্যা নিয়ে ডাক্তার মজিবুর রহমান এবং ডাক্তার জাহাঙ্গীর কবীরের আলোচনা গুলি শুনুন ''
থাইরয়েড সমস্যার কারণ:
থাইরয়েড বিশেষজ্ঞ ডা. একেএম ফজলুল বারী থাইরয়েডের সমস্যা কেন হয় এ সম্পর্কে বলেন, বাংলাদেশে মূলত থাইরয়েড রোগ হওয়ার কারণ চারটি।
- প্রথম কারণ হলো, বাংলাদেশে আয়োডিনের অভাব রয়েছে। আয়োডিনের অভাবের জন্য সাধারণত থাইরয়েডের সমস্যাগুলো হয়। তার ভিতর সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো গয়টার। গলার নিচের দিকে ফুলে যাওয়াকে গয়টার বলে। এই গয়টার একটি বড় সমস্যা আমাদের দেশে, সেই সাথে বাচ্চারা আয়োডিনের অভাবে ত্রুটিপূর্ণভাবে জন্মগ্রহণ করে থাকে এবং বামনত্ব রোগ বরণ করে, মানসিক, শারিরীক বিকাশ ঘটেনা।
- দ্বিতীয় কারণ হলো জেনেটিক অর্থাৎ যদি মা, বাবা, দাদার থাকে অথবা পূর্বপুরুষের থাকে সেই ক্ষেত্রে জেনেটিক লিংকে থাইরয়েডের সমস্যা হতে পারে।
- তৃতীয়ত থাইরয়েডের চিকিৎসার জন্য যদি কেউ রেডিও আয়োডিন খেয়ে থাকে তাহলে থাইরয়েডের সমস্যা হতে পারে।
- চতুর্থত যদি গলার সার্জারী হয়ে থাকে সে ক্ষেত্রেও থাইরয়েডের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
এই চারটিই মূলত আমাদের দেশে থাইরয়েডের সমস্যার জন্য মূল কারণ'।
থাইরয়েডের বিভিন্ন সমস্যা ও লক্ষণ:
থাইরয়েডের সাধারণত চার ধরনের সমস্যা হয়-
- প্রথম কারণ প্রদাহ, অর্থাৎ থাইরয়েড গ্ল্যান্ডে যদি কোন ইনফেকশন হয়।
- দ্বিতীয় হলো, থাইরয়েড হরমনের স্বল্পতা।
- তৃতীয়ত হলো, থাইরয়েড হরমন যদি অতিরিক্ত নিঃসরণ হয়।
- চতুর্থত থাইরয়েড টিউমার বা ক্যান্সার।
থাইরয়েড হরমনের যে প্রদাহ এটা সাধারণত কোন ইনফেকশনের জন্য হতে পারে অথবা কোন ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাস দিয়েও হতে পারে। থাইরয়েড প্রদাহ হলে হঠাৎ করেই থাইরয়েড গ্ল্যান্ডে অনেক ব্যথা হবে, গলার ভিতর ব্যথা হবে হঠাৎ করে শরীরে কাঁপুনি দেখা দিবে, চিমর দেখা দিবে এবং হঠাৎ শরীর প্রচুর ঘেমে যাবে। সে ব্যপারটা বুঝতে পারবেনা যে তার সাথে কি হচ্ছে, মনে হবে যে হার্ট অ্যাটাক হচ্ছে। এটা হচ্ছে থাইরয়েড প্রদাহের মূল উপসর্গ।
One The Other Hand;
থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে মূলত দুধরনের সমস্যা দেখা যায়-গঠনগত ও কার্যগত। এটা বিভিন্ন উপায়ে প্রকাশ পেতে পারে। গঠনগত সমস্যায় থাইরয়েড গ্রন্থি ফুলে যায় যেটাকে গয়টার বা গলগণ্ড বলা হয়; এছাড়া থাইরয়েড গ্লান্ডে গোটা বা নডিউল এবং ক্যান্সার হতে পারে।
থাইরয়েড গ্রন্থিতে প্রদাহ হলে তাকে বলা হয় থাইরয়েডাইটিস। এ ছাড়া থাইরয়েড গ্রন্থিতে ক্যানসার বা টিউমারও হয়।
কার্যগত সমস্যা দুই রকমের হয়ে থাকে, যা হলো থাইরয়েড গ্লান্ডের অতিরিক্ত কার্যকারিতা বা হাইপারথায়রয়েডিজম এবং কার্যকারিতা হ্রাস বা হাইপোথায়রয়েডিজম। এছাড়া থাইরয়েড গ্লান্ডের প্রদাহ বা থাইরয়ডাইটিস হতে পারে। হাইপারথাইরয়ডিজম রোগে থাইরয়েড গ্লান্ড বেশি মাত্রায় সক্রিয় হয়ে পড়ে। থাইরয়েড গ্লান্ডের অতিরিক্ত কার্যকারিতার ফলে প্রচণ্ড গরম লাগা, হাত পা ঘামা, পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা, খাওয়ার রুচি স্বাভাবিক বা বেড়ে যাওয়ার পরও ওজন কমে যাওয়া, ঘন ঘন পায়খানা হওয়া ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিতে পারে।
হাইপোথায়রয়ডিজমের: থাইরয়েড গ্রন্থিতে নানা ধরনের সমস্যা হতে পারে। যদি এই গ্রন্থি থেকে থাইরক্সিন হরমোন তৈরিতে ঘাটতি দেখা দেয়, তবে সেটি হাইপোথাইরয়েডিজম। এটি থাইরয়েডের সবচেয়ে পরিচিত সমস্যা। নারীদের ক্ষেত্রে এটি পুরুষদের তুলনায় প্রায় আট গুণ বেশি হয়ে থাকে। প্রতি সাত জনের মধ্যে পাঁচ জন নারী এই সমস্যায় ভোগে। এই সমস্যাকে ক্রনিক অটোইমিউন থাইরোডাইটিস বলে হরমোনের ঘাটতি হওয়ার কারণ, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই অটোইমিউন বা ইমিউন ব্যবস্থার গোলমালের কারণে থাইরয়েড কোষ বিনষ্ট হয়ে এটি হয়। এ ছাড়া কিছু ওষুধ, থাইরয়েডের অস্ত্রোপচার, বিকিরণ (রেডিয়েশন), প্রদাহ ইত্যাদি কারণে হাইপোথাইরয়েডিজম হতে পারে।
হাইপো থাইরোয়েড হলে রোগী হঠাৎ করে মুটিয়ে যাবে, গলার স্বর পরিবর্তন হবে, অবসাদগ্রস্ত হওয়া, ত্বক খসখসে হয়ে যায়, ক্ষুধা মন্দা বা কোষ্ঠকাঠিন্য, চুল পড়া, ওজন বেড়ে যাওয়া, স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া, শীত শীত ভাব, কোষ্ঠকাঠিন্য, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া, মানসিক দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হওয়া, রক্তচাপ বাড়া, সেই সাথে মাসিকে পরিবর্তন আসবে অর্থাৎ তার মাসিক বেশি হতে পারে আবার কমও হতে পারে এবং সে খুব বেশি দুর্বল হয়ে যাবে, সাথে সাথে তার কর্মক্ষমতা ধীর হয়ে যাবে। ঘুম প্রচুর হবে কিন্তু তার ঘুমের পরিপূর্ণতা হবেনা। তার চুল পড়ে যেতে থাকবে এবং চামড়া ফ্যাকাশে হয়ে যেতে থাকবে আর সঙ্গে সঙ্গে এ্যালার্জির সমস্যা বেড়ে যাবে। যৌন চাহিদা কমে যাবে। বন্ধ্যত্ব সমস্যা হতে পারে। গর্ভধারণকালে গর্ভপাত হতে পারে। আর শিশুদের যদি হাইপোথাইরয়েডিজম হয়ে থাকে, বিশেষ করে জন্মগতভাবে যদি শিশুর এই সমস্যা হয় তাহলে ঐ শিশু স্বাভাবিকের চেয়ে কম নড়াচড়া করবে, তার চামড়া ফ্যাকাশে হবে এবং ঐ শিশু মুটিয়ে যাবে সাথে তার কোষ্ঠকাঠিন্যও হবে। এই ব্যপার গুলো দেখা গেলে ঐ শিশুর রক্ত পরিক্ষা করা জরুরি। কনজেনিটাল হাইপোথাইরয়ডিজমে শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ হয় না।
হাইপারথাইরয়ডিজম: আবার কখনো কখনো গ্রন্থি থেকে থাইরক্সিন হরমোন অতিরিক্ত পরিমাণে নিঃসৃত হতে পারে। এর নাম হাইপারথাইরয়েডিজম। এই রোগের কারণও প্রধানত অটোইমিউন, যাকে গ্রেভস ডিজিজও বলা হয়।
থাইরয়েড হরমন যদি বেড়ে যায় সেই ক্ষেত্রে যদি হাইপার থাইরয়েডিজম দেখা দেয়, সে ক্ষেত্রে তার হার্টবিট বেড়ে যাবে, সে খাবে অনেক কিন্তু শুকিয়ে যাবে। দ্বিতীয়ত তার পতলা পায়খানা হবে। তৃতীয়ত তার চিমরের সাথে সাথে হার্টবিট বেশি থাকার কারণে দৈনন্দিন কাজে তার সমস্যা হবে, তার শারিরীক দূর্বলতা দেখা দিবে এবং মানসিক দূর্বলতা দেখা দিবে। সে সাথে তার কর্মক্ষমতা কমে যাবে এবং ভবিষ্যতে সে যদি চিকিৎসার আওতায় না আসে তাহলে তার চোখ বড় হয়ে যাবে। আর চোখ যদি বড় হয়ে যায় চোখগুলো বের হয়ে যেতে থাকবে ফলে সে আর চোখ বন্ধ করতে পরবেনা এবং বাতাশ যাওয়ার কারণে সেখানে ইনফেকশন হওয়ার সাথে সাথে আলসার হবে এবং একসময় সে অন্ধত্ববরণ করবে।
থাইরয়েড ক্যান্সার: থাইরয়েড গ্রন্থির কোনো অংশের কোষসংখ্যা অনিয়ন্ত্রিতভাবে বৃদ্ধি পেলে তাকে থায়রয়েড ক্যান্সার বলে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে থাইরয়েড গ্রন্থি বা এর অংশবিশেষ ফুলে ওঠা মানেই ক্যান্সার নয়। থাইরয়েড ক্যান্সারে যে লক্ষণগুলো দেখা দিতে পারে- গলার সম্মুখভাগে ফুলে ওঠা। ফোলা অংশটি বেশ শক্ত হওয়া। একটি বা একাধিক টিউমার হতে পারে। উভয় পাশে টিউমার হতে পারে, আশপাশের লিঙ্ক নোডগুলো ফুলে উঠতে পারে। ওজন কমে যায়। খাওয়ার রুচি কমে যেতে পারে। গলার স্বর মোটা বা ফ্যাসফেসে হতে পারে। তবে থাইরয়েড নোডিউল বা ক্যান্সার ছাড়াও গলার সামনে ফুলে উঠতে পারে। শ্বাসনালির ওপর চাপ সৃষ্টির ফলে শ্বাসকষ্ট হতে পারে।
থাইরয়েড ক্যান্সারের রোগী সংখ্যায় একেবারে কম নয়। যত রকমের ক্যান্সার হয় তার দুই থেকে তিন শতাংশ হয় থাইরয়েড ক্যান্সার। ক্যন্সারের মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ হচ্ছে থাইরয়েড ক্যন্সার। এটা হচ্ছে একমাত্র ক্যন্সার যা ঠিক সময়ে চিকিৎসা গ্রহন করলে পুরোপুরি ভালো হয়ে যায়। তাই ক্যান্সার শনাক্ত হলে বা ক্যান্সার আছে এমন সন্দেহ হলে অতিদ্রুত নাক, কান ও গলা বিশেষজ্ঞ বা থাইরয়েড অপারেশনে পারদর্শী কোনো সার্জনের কাছে যেতে হবে।
গলগণ্ড: গলগণ্ড বা গয়টার মানে থাইরয়েড গ্রন্থি ফুলে যাওয়া বা বড় হয়ে যাওয়া, যা গলার সামনে দৃশ্যমান হয়ে ওঠে ও হাত দিলে বোঝা যায়। হাইপোথাইরয়েডিজম, হাইপারথাইরয়েডিজম, থাইরয়েডাইটিস বা ক্যানসার—যেকোনোটিতেই থাইরয়েড ফুলতে পারে। আবার সাধারণ গলগণ্ডে থাইরয়েড কেবল ফোলাই থাকে কিন্তু এর কার্যক্রম ব্যাহত হয় না। এ ক্ষেত্রে কোনো চিকিৎসা না করলেও চলে।
থাইরয়েড গ্রন্থি ঠিকঠাক কাজ করছে কিনা বুঝবেন কিভাবে?
উপরের এতসব লক্ষণের মাঝেও নিচের এই লক্ষণের প্রতি বিশেষ নজর দিতে হবে, যাতে প্রতিমান হবে যে থাইরয়েড গ্রন্থি ঠিকমতো কাজ করছে কিনা-
১) ওজন বেড়ে বা কমে যাওয়া: স্বাস্থ্যকর রুটিন মেনে চলা সত্ত্বেও অনেকটা ওজন বেড়ে যাওয়া বা কমে যাওয়া। থাইরক্সিন বিপাকে সাহায্য করে। এই হরমোনের মাত্রা বেড়ে গেলে ওজন কমে যায়। মাত্রা কমে গেলে ওজন বেড়ে যায়।
২) শ্বাস নিতে সমস্যা: তেমন কোনও কারণ ছাড়াই যদি আপনার শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা হয় বুঝবেন থাইরয়েড গ্রন্থির সমস্যাও এর কারণ হতে পারে।
৩) খাবার গিলতে অসুবিধা: থাইরয়েড গ্রন্থির অবস্থান গলায়। এই গ্রন্থি বেড়ে গেলে খাদ্যনালীতে চাপ পড়তে পারে। অনেক সময় তা খাওয়ার সময়ও সমস্যা তৈরি করে।
৪) গলায়, ঘাড়ে যন্ত্রণা: ঘাড়ে, গলায় যন্ত্রণা তো হামেশাই হয়ে থাকে। অনেক সময়ই তা থাইরয়েডের জন্য হতে পারে। তাই অবহেলা করা উচিত নয়।
৫) গয়টার: থাইরয়েড গ্রন্থি বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে গয়টার হয়। গলা ফুলে যায়।
৬) ক্লান্তি: থাইরয়েডের সব থেকে সাধারণ লক্ষণ হচ্ছে ক্লান্তি। থাইরয়েড হরমোন মূলত শরীরে শক্তি জোগান দেয়। অনেকেই আছেন যাঁরা থেকে থেকেই ক্লান্ত হয়ে পড়েন বা অতিরিক্ত ক্লান্ত হয়ে পড়েন। কোনও কাজে এনার্জি পান না। এটাও কিন্তু থাইরয়েড হরমোনের হেরফেরের কারণে হতে পারে।
৭) অবসাদ: বিনা কারণে রেগে যাওয়া কিংবা চুপচাপ হয়ে বসে থাকা বা কোনও কিছুই ভাল না লাগলে জানবেন সেই পুরুষ বা মহিলাটি অবসাদে ভুগছেন। এর জন্য দায়ী থাকতে পারে থাইরয়েডও।
৮) অতিরিক্ত ঠান্ডা লাগা: বেশি শীত না পড়লেও যদি আপনার খুব সহজেই ঠান্ডা লাগে, তার মানে আপনার শরীর যথেষ্ট পরিমাণে ক্যালরি ঝরাচ্ছে না। বরং আপনার শরীর ক্যালরি সঞ্চয় করে রাখছে। যা থাইরয়েড হওয়ার লক্ষণ হিসেবে ধরা যেতে পারে। যাঁদের ঠান্ডা বেশি লাগে বা যাঁরা ঠান্ডা কিছুই খেতে পারেন না, অবহেলা না করে তাঁরা অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
৯) ঋতুচক্রে সমস্যা: থাইরয়েড গ্রন্থি ঠিকঠাক কাজ না করলে তার প্রভাব কিন্তু মেয়েদের উপরেই বেশি পড়ে। সমস্যা দেখা দেয় ঋতুচক্রেও।
১০) চুল পড়া: থাইরয়েডের সমস্যা হলে আপনার চুল ঝরা বেড়ে যেতে পারে। চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে যাওয়ার জন্য অনেক ক্ষেত্রেই থাইরয়েডজনিত সমস্যা দায়ী। এই চুল পড়া কোন একটা স্থানে সীমাবদ্ধ থাকবে না, সারা মাথার চুলই পড়ে হালকা হয়ে যাবে। হরমোনের তারতাম্য অনেকদিন স্থায়ী হলেই কেবল চুল পড়তে পারে। অল্প দিনের সমস্যায় এটি হবে না। অত্যধিক পরিমাণ চুল পড়তে শুরু করলে ঘনঘন হেয়ারপ্যাক না লাগিয়ে চিকিৎসকের কাছে যাওয়াই উচিত।
১১) হজমে গোলমাল: খাবার ঠিক হজম হয় না। শরীরের বিপাকের মাত্রা যদি কমে যায় বা বেড়ে যায়, তার সঙ্গে আপনার শরীরের ক্যালরি বা ফ্যাটের মাত্রার হেরফের হওয়া খুবই স্বাভাবিক, যার ছাপ আপনার ওজনে পড়তে বাধ্য।
১২) পেশি এবং জয়েন্টে দুর্বলতা ও যন্ত্রনা: বিপাকের সমস্যার কারণে আপনার পেশির এবং জয়েন্টের শক্তির ক্ষয় হতে পারে। যার ফলে আপনার পেশি বা জয়েন্ট দুর্বল হয়ে যেতেই পারে।
১৩) মনোযোগ দিতে না পারা এবং ভুলে যাওয়া: থাইরয়েডের সমস্যায় ভুগছেন এমন অনেকেই মানসিক ক্লান্তির কথা বলেন। মনোযোগ দিতে না পারা, বা সহজেই কোন কথা ভুলে যাওয়া, এগুলি থাইরয়েডের ক্ষেত্রে অত্যন্ত পরিচিত লক্ষণ।
একেক বয়সে উপসর্গ একেক রকম:
হাইপোথাইরয়েডিজম একেক বয়সে একেক রকমের উপসর্গ ও জটিলতা তৈরি করে। অনেক সময় উল্লেখযোগ্য কোনো উপসর্গ না থাকার কারণে এটি শনাক্তের বাইরে থেকে যায়। ফলে পরবর্তী সময়ে নানা ধরনের জটিলতা সৃষ্টি করে।
নবজাতকের হাইপোথাইরয়েডিজম হলে দৈহিক ও মস্তিষ্কের গঠন ও বিকাশ ব্যাহত হয়। নানা রকম শারীরিক জটিলতার পাশাপাশি বুদ্ধিপ্রতিবন্ধিতাও হতে পারে। কিশোর বয়সের কিছু আগে বা কিছু পরে অনেকেরই হাইপোথাইরয়েডিজম ধরা পড়ে। এদের ক্ষেত্রেও বিকাশজনিত সমস্যা, যেমন খর্বতা, কৈশোরপ্রাপ্তিতে বিলম্ব, কিশোরীদের মাসিকের সমস্যা, মানসিক ধীরতা, পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়া ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়। শিশু-কিশোরদের স্থূলতার পেছনেও এর প্রভাব থাকতে পারে। এই বয়সে এ ধরনের অনেক উপসর্গকেই আমলে নেওয়া হয় না, আর সেই কিশোর-কিশোরী পরবর্তী সময়ে নানা জটিলতায় পড়ে, লেখাপড়া ও পেশাজীবনেও পিছিয়ে যেতে পারে। তাই অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে।
প্রজননক্ষম নারীদের হাইপোথাইরয়েডিজমের হার ও জটিলতা বেশি। এর ফলে হঠাৎ ওজন বাড়তে থাকা, অনিয়মিত মাসিক বা দীর্ঘদিন অতিরিক্ত মাসিক, সন্তান ধারণে অক্ষমতা, চুল ও ত্বকের সমস্যা, কোষ্ঠকাঠিন্য, শীত শীত ভাব বা জ্বর জ্বর লাগা, ক্লান্তি, অবসাদ, মনোযোগ কমে যাওয়া বা কাজকর্মে ধীর হয়ে যাওয়া ইত্যাদি নানা সমস্যা দেখা দেয়। কখনো দেখা যায়, মাসিকের সমস্যা বা সন্তান ধারণের জন্য নানা রকমের চিকিৎসা করা হচ্ছে কিন্তু থাইরয়েড হরমোনই পরীক্ষা করা হয়নি। এ অবস্থায় গর্ভধারণ করার পর গর্ভপাত হয়ে যাওয়ার প্রবণতা থাকে। আবার গর্ভস্থ সন্তানের মস্তিষ্কের বিকাশ ব্যাহত হয়। ফলে এর একটা সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব রয়ে যায়। তাই এ বয়সী নারীদের থাইরয়েডের রোগ সম্পর্কে ব্যাপক সচেতনতা দরকার।
বয়স্কদের সাধারণত স্থূলতা, শুষ্ক ত্বক, স্মৃতিভ্রংশ, হৃৎস্পন্দন জটিলতা, পা ফুলে যাওয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য ইত্যাদি উপসর্গ থাকে।
যথাযথ সময়ে হাইপোথাইরয়েডিজমের চিকিৎসা না করা হলে এর কারণে ওজন বৃদ্ধি, হৃদ্রোগ, রক্তের চর্বি বাড়া, হৃৎস্পন্দনের সমস্যা, বারবার গর্ভপাত, বন্ধ্যত্ব ইত্যাদি নানা জটিলতা হতে পারে।
উল্টো দিকে হাইপারথাইরয়েডিজমে ওজন কমা, গরম লাগা, অতিরিক্ত ঘাম, পাতলা পায়খানা, দ্রুত হৃৎস্পন্দনের মতো উপসর্গ প্রকট হয়ে ওঠায় এটি হাইপোথাইরয়েডিজমের তুলনায় আগে শনাক্ত করা সম্ভব হয়। প্রদাহ বা থাইরয়েডাইটিস হলে থাইরয়েড ফুলে যাওয়ার সঙ্গে ব্যথাও করে।
গলার কাছে কালচে ছোপ পড়েছে? এই দাগ হতে পারে জটিল রোগের উপসর্গ:
![]() |
| গলার কাছে কালো দাগ হতেই পারে থাইরয়েডের লক্ষণ এবং ঋতুস্রাব অনিয়মিত হলে সাবধান হন। |
থাইরয়েডের সমস্যা এখন ঘরে ঘরে। এটি ঘাড়ের কাছে অবস্থিত এমন একটি গ্রন্থি, যা থেকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ হরমোন ক্ষরিত হয়। তাই থাইরয়েডের সমস্যা দেখা দিলে শরীরে বিগড়ে যায় সেই হরমোনের ভারসাম্য, দেখা দিতে পারে একাধিক রোগ। অনেক সময়ে অল্প থাকতে বোঝা যায় না রোগের উপসর্গ। আর রোগ চিনতে যেটুকু দেরি, তাতেই নষ্ট হয় অনেকটা গুরুত্বপূর্ণ সময়।
১) অল্পতেই হাপিয়ে ওঠেন? ক্লান্তি থাইরয়েডের একটি লক্ষণ। যদি অল্প কাজেই ক্লান্ত লাগে, তবে সতর্ক হওয়া জরুরি।
২) হঠাৎ অতিরিক্ত রোগা বা মোটা হয়ে যাচ্ছেন কি? তা হলেও কিন্তু সতর্ক হতে হবে। এটি থাইরয়েড হরমোনের মাত্রা ওঠা-নামা করার আর একটি গুরুত্বপূর্ণ সঙ্কেত।
৩) গলার কাছে কালো দাগ হয়ে যাচ্ছে? এই লক্ষণ কিন্তু প্রায়ই আমরা অবহেলা করি। কিন্তু থাইরয়েডের মাত্রায় গোলমাল হলেই এই দাগ পড়তে থাকে।
৪) ঘুম হয় না? ঠিক সময়ে ঘুম আসে না? তার পর সময় মতো ঘুম ভাঙতেও চায় না? তবেও এক বার থাইরয়েড পরীক্ষা করানো দরকার।
৫) উদ্বেগ এবং অবসাদ হঠাৎ বাড়তে শুরু করলেও সাবধান হওয়া দরকার। থাইরয়েড হরমোনের মাত্রার ওঠা-নামার সঙ্গে এর সরাসরি যোগ রয়েছে।
৬) মহিলাদের ক্ষেত্রে আর একটি বিষয়ও আছে। ঋতুস্রাব সময় মতো হচ্ছে কি না, খেয়াল রাখা জরুরি।
৭) সবাই আরামে বসে আছেন, অথচ আপনার প্রচণ্ড শীত করছে কিংবা গরমে দরদর করে ঘামছেন। হঠাৎ হঠাৎ এমনটা হলে সতর্ক হতে হবে।
যেসব খাবার খাবেন:
সল্ট সাপ্লিমেন্ট অর্থাৎ আয়োডিনযুক্ত খাবার খেতে বলি। টমেটো অবশ্যই খোশা সহ বেশি বেশি খেতে হবে, দুধ খাবে সেই সাথে চিংড়ি মাছ এবং শাক সব্জি খেতে হবে এবং অবশ্যই বেশি বেশি সামুদ্রিক মাাছ খেতে হবে কারণ এগুলোতে প্রচুর পরিমাণ আয়োডিন থাকে।
সবুজ শাকসবজি: সুস্থ থাকতে হলে প্রতিদিনের খাবার রেসিপিতে সবুজ শাকসবজি রাখুন। সবুজ শাকসবজিতে রয়েছে ভিটামিন ও ক্লোরোফিলের মতো দুটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এই দুটি উপাদান শরীরের কার্যকারিতা বাড়ায় ও শরীর থেকে ক্ষতিকর উপাদান বের করে দিয়ে থাইরয়েডের কার্যক্রম ধরে রাখে। এছাড়া থাইরয়েডের দুর্বলভাব দূরে করে শক্তি বাড়াতে সহায়তা করে।
সামুদ্রিক সবজি: আয়োডিন সমৃদ্ধ সামুদ্রিক সবজিতে রয়েছে প্রাকৃতিক খনিজ উপাদান। এসব সবজি থায়রয়েড গ্রন্থির কার্যকারিতা বাড়ানো, শরীরে থাইরক্সিন অত্যাবশ্যক এবং এটা গঠনে আয়োডিন সাহায্য করে।
প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার: দেহ সুস্থ রাখতে প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবারের জুড়ি নেই। থায়রয়েড গ্রন্থির কার্যকারিতা বাড়াতে দই খাওয়া যেতে পারে। দইয়ে আছে আয়োডিন এবং প্রোবায়োটিক যা থাইরয়েডের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে রাখে। এছাড়া ডিম, জিংক থাইরয়েডের কার্যকারিতার ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
থায়রয়েড সুস্থ রাখতে যেসব খাবার খাবেন না:
কিছু খাবার রয়েছে যা কখনোই খাবেন না। এসব খাবার এড়িয়ে চলছে ভালো থাকবে আপনার থায়রয়েড। গ্লুটেইন, শষ্য-জাতীয় খাবার যা আঁশ সমৃদ্ধ, চিনি ও কড়া ভাজা খাবার ও সয়া-ধর্মী খাবার একদমই খাবেন না।
কিছু খাবার শরীরের আয়োডিনকে নষ্ট করে। এগুলো হলো বাঁধা কপি, ফুলকপি, ব্রোকলি, সয়াবিন ও পালং শাক।
পর্যবেক্ষণ জরুরি:
উপসর্গ দেখা দিলে বা অনেক সময় উপসর্গ ছাড়াই রুটিন পরীক্ষা হিসেবে রক্তে ফ্রি থাইরক্সিন এবং টিএসএইচ (থাইরয়েড-স্টিমুলেটিং হরমোন) পরীক্ষা করে রোগ শনাক্ত করা হয়। এর বাইরে থাইরয়েডের নানা অ্যান্টিবডি, গলার আলট্রাসনোগ্রাফি, দরকার হলে রেডিও-আয়োডিন আপটেক পরীক্ষাও করতে হতে পারে। ক্যানসার সন্দেহ করলে সুই দিয়ে গলা থেকে টিস্যু নিয়ে বা সার্জারি করে বায়োপসি করার দরকার হতে পারে।
তবে রোগ শনাক্ত করার পর চিকিৎসা শুরু করা হলে নিয়মিত বিরতিতে চিকিৎসকের পরামর্শে বারবার এই হরমোন পরীক্ষা করে ওষুধের মাত্রা ঠিক করে নিতে হয়। হাইপোথাইরয়েডিজমের ওষুধ হলো ঘাটতিতে থাকা থাইরক্সিন হরমোন রিপ্লেসমেন্ট—এটি সাধারণত সারা জীবন খেয়ে যেতে হয়, তবে বারবার পরীক্ষা করে মাত্রা ঠিক করার প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে কেউ সন্তান চাইলে বা গর্ভধারণ করলে ঘন ঘন টেস্ট করা দরকার।
গলগণ্ড হলেই যে থাইরয়েড কেটে ফেলে দিতে হবে, তা কিন্তু নয়। খুব অল্প কিছু ক্ষেত্রেই থাইরয়েড অস্ত্রোপচার দরকার হয়। ক্যানসার সন্দেহ করা হলে, গ্রন্থি অতিরিক্ত বড় হয়ে যাওয়ার কারণে চাপ সৃষ্টি করলে বা সীমিত কিছু ক্ষেত্রে হাইপারথাইরয়েডিজমে ওষুধ কাজ না করলে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
কখন চিকিৎসা প্রয়োজন:
থাইরয়েড হরমোনের ঘাটতি যা সাধারণত আয়োডিনের অভাব থেকে হয়। থাইরয়েড হরমোনে অতিরিক্ত নিঃসরণের ফলে গ্রন্থির আকার বৃদ্ধি পায়। থাইরয়েড গ্রন্থির টিউমার ও ক্যান্সার।
থাইরয়েডের চিকিৎসা পদ্ধতি:
থাইরয়েডের চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পর্কে ডা. একেএম ফজলুল বারী বলেন, থাইরয়েডের চিকিৎসা যেকোন চিকিৎসার চেয়ে অনেক সহজ। যদিও হাইপো থাইরয়েডে সারা জীবন ওষধ খেতে হয় অথবা হাইপার থাইরয়েডে টিউমার অ্যাবলেশান করলে আবার তা হাইপো হয়ে যায় সে জন্য দেখা যায় দুই ক্ষেত্রে লম্বা সময় চিকিৎসা নিতে হয়। তবুও এর খরচ খুব কম। প্রতিদিন মাত্র একটা বা দু’টা ওষধ খেলেই সুস্থ থাকা যায়, যার মূল্য এক থেকে দুই টাকা মাত্র। সেইসাথে ফুড সাপ্লিমেন্ট তো নেয়াই যায়।
থাইরয়েড রোগীদের ক্যালসিয়ামের অভাব হয়, ইউরিক এসিড বেড়ে যাওয়া সহ কিছু ভিটামিন্স মিনারেলের অভাব হয়, বিশেষ করে রক্ত কমে যেতে পারে এজন্য কিছু শাক সবজি যদি খাবারের সাথে রাখা যায় এটাও একটা চিকিৎসার অংশ। আর থাইরয়েড রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি অবশ্যই খুবই সস্তা এবং সারা জীবন নেওয়ার মত। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে আপনার প্রয়োজন মত ওষুধ খেয়ে নিবেন। আর প্রেগনেন্সির ক্ষেত্রে টেবলেটের পরিমাণ একটু বেশি প্রয়োজন হয়। এটা সবসময় খেয়াল রাখতে হবে। এই টেবলেটগুলো খুবই সহজলব্য গ্রাম থেকে শুরু করে সব জায়গায় সহজেই পাওয়া যায়। কারণ এই টেবলেটগুলো আমাদের দেশেই তৈরি হয়।
থাইরয়েড ক্যন্সারের চিকিৎসা:
থাইরয়েড ক্যন্সারের চিকিৎসা সম্পর্কে ডা. একেএম ফজলুল বারী বলেন, থাইরয়েড ক্যান্সারের কিছু চ্যালেন্জ রয়েছে। প্রথমত ডায়াগনোসিস। ডায়াগনোসিসে এখন অনেক উন্নত প্রযুক্তি এসেছে বিশেষ করে আল্ট্রাসাউন্ড যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে। এই আল্ট্রাসাউন্ডে নডিউল দেখে বলতে পারি থাইরয়েড ক্যন্সার হয়েছে কিনা বা কোন পর্যায়ে রয়েছে। এবং থাইরয়েড নির্ণয়ের আরেকটি পদ্ধতি হচ্ছে এলাস্টোস্ক্যান। অর্থাৎ ক্যান্সার নির্ণয়ে আল্ট্রাসাউন্ড। এটার মাধ্যমে রং দেখে টিস্যু এ্যালাস্টিসিটি আলাদা করে আমরা বলতে পারি এতে ক্যান্সার আছে না নেই। আরেকটি মাধ্যম হচ্ছে এফএনএসি। এফএনএসি করার আগে অবশ্যই এলাস্টোস্ক্যান করা উচিত কারণ এফএনএসি একটা নডিওল থেকেই করা যায়, কিন্তু এলাস্টোস্ক্যান যদি পাঁচটা নডিওলে থাকে কোনটা ভালো আছে কোনটা মন্দ আছে সেটা আলাদা করা যায়। এবং এতে কোন সুঁই ফোটানো হয় না, এতে কোন রক্তপাত নেই।
থাইরয়েড ক্যান্সারে কখনোই কোন ক্যামোথেরাপিতে কাজ হবে না। থাইরয়েড গ্ল্যান্ডের যে টিস্যুটিতে ক্যান্সার হয়েছে শুধু সেটা ফেলে দিতে হবে কারণ পুরো গ্ল্যান্ড ফেলে দেওয়া সম্ভব নয়। এ জন্য অপারেশনের পর রোগীদের নিওক্লিয়ার মেডিসিন সেন্টারে আসতে হবে পোস্টঅপারেটিভ রেডিও অ্যাব্লেশান করার জন্য। আর পোস্টঅপারেটিভ রেডিও অ্যাব্লেশান শুধু নিওক্লিয়ার মেডিসিন সেন্টারেই হয়ে থাকে।
থাইরয়েড ক্যান্সারের আরেকটি চিকিৎসা হচ্ছে সুই দিয়ে টিউমার অ্যাবলেট করা, সুই দিয়ে আমরা টিউমার কেটে ফেলি এবং এই টিউমার বার্ণ করে দেই। এটা ক্যান্সার হতে পারে আবার সাধারণ টিউমারও হতে পারে। এটাকে বলা হয় মাইক্রোওয়েব রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি এব্লেসন।
এবার প্রশ্ন উত্তরের মাধ্যমে থাইরয়েডকে আরোও ভালোভাবে জানার চেষ্টা করি:
প্রশ্ন : থাইরয়েড গ্রন্থি কী? এর অবস্থান কোথায় এবং এটি এত গুরুত্বপূর্ণ কেন?
উত্তর : থাইরয়েড গ্রন্থি একটি এনড্রোক্রাইন গ্ল্যান্ড। এটা মানুষের গলার সামনে অবস্থিত। এখান থেকে থাইরয়েড হরোমন তৈরি হয়। এই হরমোন শরীরের সব (In the process of excretion) রেচন প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে।
বাচ্চাদের ক্ষেত্রে শারীরিক ও মানসিক বিকাশে বিশেষ ভূমিকা রাখে। থাইরয়েড গ্রন্থি ঠিকমতো কাজ না করলে শারীরিক এবং মানসিক বৃদ্ধি ব্যহত হয়। একজন শিশু যদি ছোট বেলা থেকে এর অভাবে ভোগে তাহলে সে প্রতিবন্ধী হয়ে বড় হবে। যদি তাকে চিকিৎসা দেওয়া না হয়। সে বুদ্ধি ও শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়ে যাবে।
প্রশ্ন : থাইরয়েড গ্রন্থির সাধারণত কী ধরনের সমস্যা হতে পারে?
উত্তর : জন্মগতভাবেই যদি বাচ্চার থাইরয়েড গ্রন্থি তৈরি না হয়, অথবা ভুলভাবে তৈরি হয়, ঠিক মতো বৃদ্ধি না পায়, অথবা তৈরি হলেও ঠিকমতো কাজ না করে, তাহলে থাইরয়েড হরমোন তৈরি হবে না। সে ক্ষেত্রে বাচ্চার শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ব্যহত হবে।
আর বড়দের ক্ষেত্রে থাইরয়ড গ্রন্থির বিভিন্ন রকম রোগ হতে পারে। থাইরয়েড যে হরমোন তৈরি করছে এটি একটি স্বাভাবিক মাত্রার মধ্যে থাকবে। তবে যদি স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে কম তৈরি হয়, একে বলা হয় হাইপোথাইরয়েডিজম। এতে বিভিন্ন রকম অসুবিধা হয়। আবার যদি বেশি তৈরি হয়, বলা হয় হাইপার থাইরয়েডিজম। সেখানে আবার নানা রকম সমস্যা হবে। এটি হচ্ছে কাজঘটিত সমস্যা।
এ ছাড়া যে সমস্যা হতে পারে, থাইরয়েড গ্রন্থি নিজেই বড় হয়ে যেতে পারে। যাকে আমরা বলি গলগণ্ড। এখানে থাইরয়েড গ্রন্থি বড় হয়ে যায়। এটি বিভিন্নভাবে বড় হতে পারে, বিভিন্ন কারণে বড় হতে পারে। আয়োডিনের অভাব আছে এমন এলাকায় যারা বাস করে তাদের হতে পারে বা যারা কম খায় তাদের হতে পারে। সে ক্ষেত্রে আয়োডিন ডেফিসিয়েন্সি গয়েটার বা এনডিমিক গয়েটার হয়। গ্রন্থিটি সমানভাবে বড় হয়ে যেতে পারে।
আয়োডিন যেহেতু হরমোন তৈরির বিশেষ একটি উপাদান। আয়োডিন যদি কম থাকে গ্রন্থি চেষ্টা করবে শরীরের হরমোনকে স্বাভাবিক রাখতে। সেই ক্ষেত্রে সে আস্তে আস্তে বড় হয়ে যাবে। যাকে হাইপারট্রোফি বলা হয়। গ্রন্থি বড় হয়ে যাবে। তবে হরমোন স্বাভাবিকভাবে বের করার চেষ্টা করবে। করতে করতে এক সময় আর স্বাভাবিকভাবে তৈরি করতে পারবে না। সেক্ষেত্রে হাইপোথাইরয়েডিজম হয়ে যাবে। যদি লবণের মাধ্যমে আয়োডিন থাকার কারণে আমাদের দেশে এই রোগ অনেকটা কমে গেছে।
প্রশ্ন : এ ছাড়া আর কী সমস্যা হতে পারে?
উত্তর : থাইরয়েড গ্রন্থিতে টিউমার হতে পারে। যেটাকে নডিউল বলা হয়। সিঙ্গেল (একটি) নডিউল হতে পারে, মাল্টিপল (অনেক) নডিউল হতে পারে। সিঙ্গেল নডিউল হলে একটি কারণে হয়। যেমন ফলিকুলার এডিনোমা। এটি বেনাইন ধরনের। সিস্ট হতে পারে। কলোয়েড গয়েটার হতে পারে। এগুলো সবই ক্যানসার তৈরিকারী নয়। তবে অনেক সময় ক্যানসার পর্যন্ত হতে পারে। যাকে সাধারণত থাইরয়েড ক্যানসার বলা হয়।
প্রশ্ন : একজন মানুষের হাইপোথাইরয়েডিজম হলে কী ধরনের সমস্যা হতে পারে? আর হাইপার হলেই বা কী ধরনের সমস্যা হবে?
উত্তর : যেহেতু থাইরয়েড হরমোন আমাদের শরীরের বিপাকে সাহায্য করে এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে কাজকর্ম করতে সাহায্য করে, সেজন্য যখন থাইরয়েড হরমোন কম থাকবে বা হাইপোথাইরয়েডিজম হবে, সে ক্ষেত্রে সব কাজকর্ম ধীর গতির হয়ে যাবে। ধীর গতির হয়ে গেলে রোগী দুর্বল হবে। রোগীর ওজন বেড়ে যাবে। কোষ্টকাঠিন্য হবে। পালস রেট কমে যাবে। সহজেই তার শীত লাগবে। যদি হাইপো হয়, কাজ কমে যায় তাহলে এই ধরনের সমস্যা থাকবে।
আর যদি কাজ বেড়ে যায়, যেটা হাইপার থাইরয়েডিজম সেখানে থাইরয়েড গ্রন্থি বেশি বেশি কাজ করবে, সব পদ্ধতির কাজগুলো বেড়ে যাবে। রোগী তখন অস্থির হয়ে যাবে। তার পালস রেট বেড়ে যাবে। পালপিটেশন হবে, হাত কাঁপবে। তার বাউয়েল মুভমেন্ট বেড়ে যাবে। বারেবারে পায়খানা হবে। আর তার ওজন কমে যাবে তবে ক্ষুধা বেশি থাকবে। গরম লাগবে, অস্থির ও দুর্বল লাগবে
প্রশ্ন : এই রোগ নির্ণয়ের জন্য নিউক্লিয়ার মেডিসিনের কাজ কী?
উত্তর : নিউক্লিয়ার মেডিসিনে থাইরয়েডের যেসব পরীক্ষা করে থাকি, তার মধ্যে প্রথম হলো থাইরয়েডের হরমোন। টিথ্রি, টিফোর, ফ্রি টিথ্রি, থ্রিটিফোর এবং থাইরয়েড হরমোন নিয়ন্ত্রণ করে টিএসএইচ- এই হরমোনগুলোর আমরা করে থাকি।
এ ছাড়া নির্দিষ্ট পরিমাণ তেজস্ক্রিয় আয়োডিন রোগীকে খাওয়ানোর পরে, নির্দিষ্ট সময় পরে কত শতাংশ আপটেক হচ্ছে থাইরয়েড গ্রন্থিতে এটি দেখি। দেখে আমরা বলতে পারি এর কার্যকারিতা কম, না কি বেশি। যেমন : হাইপার থাইরয়েডিজমে আপটেকটা বেড়ে যাবে। হাইপো থাইরয়েডিজমে কমে যাবে।
তারপর আমরা থাইরয়েডের স্ক্যান করি। এখানে নির্দিষ্ট পরিমাণ তেজস্ক্রিয় আয়োডিন আমরা রোগীকে দেই। মুখে দেই, কিছু ইনজেকশনের মাধ্যমে দেই। এটি দেওয়ার নির্দিষ্ট সময় পরে আমরা গামা ক্যামেরা দিয়ে স্ক্যান করি। গামা ক্যামেরা হলো এমন একটি ক্যামেরা যে গামা-রে নিতে পারে। যেহেতু আমরা তেজস্ক্রিয় আইসোটো রোগীকে রেডিয়েশন দিয়েছি, এখান থেকে গামা-রে নির্গত হচ্ছে।
এখন এই গামা ক্যামেরা গামা-রে-কে তুলে নেবে। করে পরবর্তীকালে ছবি হিসেবে আমাদের দেবে। এখন স্ক্যানের মাধ্যমে আমরা দেখব থাইরয়েড গ্রন্থিটা বড় কি না। তার অবস্থানটা ঠিক আছে কি না। তার কার্যক্রম ঠিক আছে কি না।
আর যদি কোনো নডিউল থাকে, এর কার্যকারিতা কেমন সেটি দেখব। অর্থাৎ নিডিউলটা কাজ করছে, নাকি কাজ করছে না। এই সব কিছুই আমরা এর মাধ্যমে দেখতে পারব।
প্রশ্ন : আপনারা যেসব পরীক্ষা করে থাকেন এগুলো তো প্যাথলোজিতেও করা হয়। তাহলে প্যাথলোজির সাথে নিউক্লিয়ার মেডিসিনের এই পরীক্ষাগুলোর পার্থক্য কী?
উত্তর : প্যাথলোজিতে যেটা হচ্ছে সেটাও ভালো। আমাদেরটা নিজস্বতা হলো এখানে আমরা রেডিওআইসোটোপ ব্যবহার করে পরীক্ষা করি।
প্রশ্ন : তাতে লাভ কী হচ্ছে?
উত্তর : এটি খুব স্পর্শকাতর। আমরা আয়োডিন ওয়ান টুয়েন্টিফাইভ ব্যবহার করি। অনেক পর্যায় আছে এই পরীক্ষায়। এরপর আমরা যেই ফলাফল পাই, সেটি অনেক স্পর্শকাতর ফলাফল এবং নির্ভল ফলাফল। নিউক্লিয়ার মেডিসিনের মাধ্যমে এর পরীক্ষা হলে এটি নির্ভুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
প্রশ্ন : এই ক্ষেত্রে আপনি বলছিলেন যে তেজস্ক্রিয় পদার্থ দেন। তেজস্ক্রিয় নাম শুনলেই তো আমাদের ভয় ভয় লাগে। এতে কোনো ক্ষতি হতে পারে কি?
উত্তর : আমরা যে পরিমাণ তেজস্ক্রিয় পদার্থ ব্যবহার করি, এটি পরিমাণে খুবই কম। যদি বলি যে, থাইরেড স্ক্যানে আমরা যেটুকু তেজস্ক্রিয় পদার্থ ব্যবহার করছি সেটি খুবই কম। এতে ক্ষতির কোনো আশঙ্কা নেই।
প্রশ্ন : হাইপোথাইরয়েডিজম বা হাইপার থাইরয়েডিজমের বেলায় কী চিকিৎসার ক্ষেত্রে নিউক্লিয়ার মেডিসিনের কোনো প্রভাব রয়েছে?
উত্তর : হাইপোথাইরয়েডিজমে চিকিৎসা হলো থাইরয়েড হরমোন এবং এই চিকিৎসা যেকেউই করতে পারে। একজন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, একজন এন্ড্রোক্রাইনোলজিস্ট এবং একজন নিউক্লিয়ার মেডিসিন বিশেষজ্ঞ। এটা সবাই করতে পারে। এখানে নিউক্লিয়ার মেডিসিনের আলাদা করে কোনো ভূমিকা নেই। তবে যখন হাইপার থাইরয়েডিজমের বিষয়টি আসে, সেখানে নিউক্লিয়ার মেডিসিনের একটি বড় ভূমিকা রয়েছে।
হাইপার থাইরয়েডিজম বিভিন্ন রকমের হয়, হাইপার থাইরয়েডিজমের চিকিৎসা হচ্ছে অ্যান্টিথাইরয়েড ওষুধ। যেটি থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যকারিতাকে কমিয়ে দেবে। ওষুধের পাশাপাশি সার্জারি করা যেতে পারে। যেহেতু গ্রন্থিটি বেশি কাজ করছে, তাই কিছু অংশ কেটে কার্যকারিতা কমিয়ে দেওয়া যেতে পারে এবং রেডিও আয়োডিন থেরাপি, আমরা নিউক্লিয়ার মেডিসিনে ব্যবহার করি। এর ভূমিকা খুবই ভালো। যখন অ্যান্টি থাইরয়েড ওষুধ ব্যবহার করা হয়, এটি বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেড় থেকে দুই বছর ব্যবহার করা হয়। তার পর এই ওষুধ তাকে বন্ধ করে দিতে হবে। রোগী যদি স্বাভাবিক থাকে, খুব ভালো কথা, তবে যদি আবারও হয় এই ওষুধ দিয়ে তাকে চিকিৎসা করার কোনো সুযোগ নেই। রেডিও অ্যাকটিভ আয়োডিন দিয়ে হাইপার থাইরয়েডিজমের ভালো চিকিৎসা হয়।
নিজেই থাইরয়েডকে জানুন:
২৫ মে অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশেও পালিত হয়েছে বিশ্ব থাইরয়েড দিবস। থাইরয়েড সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরি করা প্রয়োজন কারণ আগামী প্রজন্মের মেধা, প্রতিভার বিকাশে বর্তমানের মানুষদের, বিশেষ করে মেয়েদের থাইরয়েডের সুস্থতা দরকার। থাইরয়েডের সমস্যার নানামুখী উপসর্গ ও জটিলতার জন্য অনেক সময়ই রোগ শনাক্ত হতে দেরি হয়। প্রজননক্ষম নারীদের সন্তান নেওয়ার আগে আর গর্ভাবস্থায় তাই কোনো উপসর্গ না থাকলেও থাইরয়েড পরীক্ষা করতে হবে।
আপনার হৃদয় ভাল আছে কি না, সে খবর তো রাখেন। কিন্তু ‘সাইলেন্ট কিলার’ ৫ সেন্টিমিটারের এই গ্রন্থিটির খবর কি আপনি রাখেন? প্রজাপতি আকারের এই ছোট্ট থাইরয়েড গ্রন্থির ক্ষমতা কিন্তু অপরিসীম। বিপাক থেকে বৃদ্ধি সবেতেই এর প্রভাব রয়েছে। আর থাইরয়েড হরমোনের সামান্য এদিক-ওদিকও ডেকে আনতে পারে মারাত্মক রোগ। তাই সুস্থ ও সুন্দর জীবনের জন্য নিজের থাইরয়েডকে জানুন, এর উপসর্গ ও জটিলতা সম্পর্কে সচেতন হোন।
তথ্যসূত্র:
- থাইরয়েড বিশেষজ্ঞ ডা. একেএম ফজলুল বারী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, একুশে টিভি।
- ডা. শাহজাদা সেলিম, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক, হরমোন ও ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ, যুগান্তর।
- অধ্যাপক ডা. মো. ফারুক পাঠান, সভাপতি, বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটি এবং অধ্যাপক, এন্ডোক্রাইনলজি ও মেটাবলিজম বিভাগ, বারডেম জেনারেল হাসপাতাল, ঢাকা, প্রথম আলো।
- ডা. নুরুন নাহার, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সাইন্সেন থাইরয়েড বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, এনটিভি।
- ডাঃ মোঃ ফজলুল কবির পাভেল, দৈনিক ইনকিলাব।
- Dr.Jahangir Kabir, Lifestyle Modifier, Primary Care Physician, Trained in Asthma, COPD & Diabetes Trainer in icddr, B & EFH, UK joint Secretary at Bangladesh Primary Care Respiratory Society.
- ডাক্তার মুজিবুর রহমান এম. ডি কার্ডিয়লজিস্ট, ফাউন্ডার ভেন্টেজ ন্যাচারাল হেল্থ সেন্টার, থাইল্যান্ড।
- আনন্দবাজার।
- উইকিপিডিয়া।
- Edited: Natural_Healing


কোন মন্তব্য নেই