First Aid Present

Lifestyle Modification এবং প্রাকৃতিক খাদ্য, পানীয়, শাকসবজি, গাছ, ডালপালা, ফল, মসলা, পাতা ও ফুল ইত্যাদির দ্বারা প্রাথমিক চিকিৎসা।

যৌন অক্ষমতা: শারীরিক নাকি মানসিক বুঝবেন যেভাবে

বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে, দোকানে, বাসে, রাস্তাঘাটে যতো রকমের পোস্টার ও লিফলেট চোখে পড়ে তার মধ্যে সেক্স সমস্যা, সেক্সের চিকিৎসার ঔষধ ও চিকিৎসার নাম সম্বলিত পোস্টারই বেশি। আর এই সুযোগে বিভিন্ন আপত্তিকর ও উত্তেজক লেখা পড়ে উঠতি বয়সের ছেলে-মেয়েদের মধ্যে প্রবল কৌতুহল তৈরি হয়। যার ফলে অনেকে নিজের যৌন ক্ষমতা যাচাই করতে প্রবল আগ্রহের সাথে বিভিন্ন হোটলে, বান্ধবীর সাথে অথবা পাড়ায় গিয়ে পরীক্ষা করে, আর তখনই বিপত্তি বাঁধে। নানা ধরনের টেনশন, বিভিন্ন ধরনের নেগেটিভ চিন্তা, লিঙ্গের সাইজ নিয়ে, ক্ষমতা নিয়ে, শক্তি নিয়ে, বিয়ে নিয়ে, বাচ্চা হওয়া নিয়ে, বউ থাকবে কিনা, বউয়ের সামনে লজ্জা পেতে হবে কিনা...সোজাকথা অনেক ছেলে বলেই ফেলে আমি বিয়ে করতে পারবো কি না?

- বিভিন্ন ধরনের পর্নোগ্রাফি,

- যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট,

- নেশা দ্রব্য যেমন: ফেনসিডিল, ইয়াবা, গাঁজা, হেরোইন, মদ, সিগারেট ইত্যাদি,

- সেক্স সম্পর্কে অজ্ঞতা,

- বন্ধুদের কাছ থেকে সেক্স সংক্রান্ত ভুল তথ্য জানা,

- হাটে-বাজারে মাইকিং করে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান,

- শিক্ষা কারিকুলামে কোন সেক্স এডুকেশন না থাকা,

- কিছু Obsessed ধরনের ছেলে-মেয়েদের মধ্যে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়,

- নিজের পুরুষত্ব যাচাই করতে পাড়ায় গিয়ে ভয়ের কারণে, ঠিকমতো পরিবেশ না থাকার কারণে প্রথম প্রথম সমস্যা দেখা যায়, এ কারণেই আগেই বীর্যপাত হয়, আর তখনই ভাবতে থাকে আমি বোধহয় ব্যর্থ পুরুষ।

লক্ষণ:

- রোগীদের অভিযোগ থাকে প্রস্রাব দিয়ে ক্যালসিয়াম যায়, ধাতু যায়, শরীর ক্ষয় হয়ে যায়।

- কেউ কেউ হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যায়, ফিট হয়ে যায়, বার বার মুর্ছা যায়। পরে ইতিহাস নিয়ে জানা যায় যে, তার মাথায় সব সময় লিঙ্গ/সেক্স নিয়ে বিভিন্ন চিন্তা কাজ করছে। 

কারণ

- রোগীদের ধারণা বয়ঃসন্ধিকালে হস্তমৈথন করায় শরীর থেকে সমস্ত শক্তি বের হযে যায়, কর্মক্ষমতা কমে যায়, শরীর ভেঙ্গে যায়। 

- আবার কারো মধ্যে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা যেমন: পেট ব্যথা, মাথা ব্যথা, তলপেটে ব্যথা, প্রস্রাবে জ্বালা-পোড়া ইত্যাদি থাকে।

- এই সেক্স সমস্যা নিয়ে বিভিন্ন ফকির কবিরাজ এই ডাক্তার ঐ ডাক্তার দেখায়ে ঘুরে বেড়ায়ে সর্বসান্ত হয়েছে।  

- সেক্সের সমস্যার কারণে অনেকে Obsession এর মতো হয়ে যায়।  

- এই ভ্রান্ত ধারণা নিয়ে তারা ভাবতে থাকেন, আমি তো ব্যর্থ, আমার দ্বারা কিছু হবে না। বিয়ে করলে মনে হয় স্ত্রী থাকবে না ইত্যাদি।

- কেউ কেউ Mis Sex যৌন সংক্রামক রোগ নিয়ে আসে।

- লিঙ্গ ছোট-বড়, আগা চিকন গোড়া মোটা, এই রকম হাজারো উদ্ভট চিন্তা মাথায় আসতে থাকে।

- নাইট প্রেসার (স্বপ্নদোষ) নিয়ে থাকে হরেক রকম নেগেটিভ চিন্তা। বীর্য যাতে নষ্ট না হয় এই ভয়ে বাবা-মা ছেলেকে অকালে বিয়ে করিয়ে দেন।

- অনেকে Anxiety তে ভোগেন, চুপচাপ থাকে, থম মেরে বসে থাকে কোন কথা বলে না, কাজ করে না, ঘুম হয় না সব কিছুতেই নেগেটিভ চিন্তা; ভবিষ্যত নিয়ে, সংসার নিয়ে, ধীরে ধীরে বিষণ্নতার দিকে ধাবিত হয় এবং আত্মহত্যার প্রবণতা তৈরি হয়।

যদি কোন যুবকের সেক্স নিয়ে, বিয়ে নিয়ে মানসিক অস্থিরতা থাকে তাহলে Psychiatrist বা মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে চিকিৎসা নিয়ে বিয়ে করা উচিত।

যৌন দুর্বলতা: শারীরিক নাকি মানসিক রোগ।

এবার একটি পরীক্ষার মাধ্যমে দেখা যাক ব্যাপারটি শারীরিক নাকি মানসিক?

একজন পুরুষের যৌন জীবনে অক্ষমতার কারণ মানসিক, নাকি শারীরিক সেটা বোঝার খুব সহজ এক উপায় বের করেছেন ৩ চিকিৎসক৷ পন্থাটা সহজ: ঘুমাতে যাওয়ার আগে পুরুষাঙ্গে রিংয়ের মতো করে ডাক টিকিট জড়িয়ে নিন৷ সকালেই পেয়ে যাবেন উত্তর৷

নিজের উদ্ভাবন বড় অনুষ্ঠানে তুলে ধরতে বিশেষ পছন্দ করেন জন বেরি৷ একজন পুরুষের পুরুষাঙ্গ ঠিকভাবে কাজ করছে কিনা তা যাচাইয়ের এক সহজ উপায় জানেন তিনি৷

এজন্য যা করতে হবে, তা হচ্ছে, পুরুষাঙ্গে রিংয়ের মতো করে ডাকটিকিট জড়াতে হবে এবং কিছুটা কল্পনাশক্তি লাগবে৷ 

সেই ১৯৭৯ সালে বেরি তাঁর দুই সহকর্মী, ব্রুস ব্ল্যাঙ্ক এবং মাইকেল বোইলিয়ুকে নিয়ে এই পন্থা উদ্ভাবন করেছিলেন৷ আর সেই উদ্ভাবনের প্রায় চল্লিশ বছর পর তাঁরা রিপ্রোডাক্টিভ মেডিসিনে আইজি নোবেল পুরস্কার জয় করেছেন৷ এটি একটি প্যারোডি নোবেল পুরস্কার, যা এমন উদ্ভাবনকে স্বীকৃতি দেয়, যার কথা শুনলে মানুষ ‘প্রথমে হাসবে, তারপরে ভাববে'৷

বেরি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমাদের এই পরীক্ষার উদ্দেশ্য হচ্ছে ঘুমন্ত অবস্থায় একজন মানুষের লিঙ্গউত্থান ঘটে কিনা তা যাচাই করা৷ একজন স্বাভাবিক পুরুষের ঘুমন্ত অবস্থায় ১ থেকে ৫ বার লিঙ্গউত্থান ঘটে৷ আর এটা তিনি যখন স্বপ্ন দেখেন, তখন ঘটে৷ সেই স্বপ্ন যে যৌনউদ্দীপক হতে হবে এমন কোনো কথা নেই৷''

চিত্র ডাকটিকিট: একটি ডাক টিকিট একটি দেশের পরিচয় বহন করে। উপরে চারটি ডাক টিকিট একত্রে দেখানো হয়েছে।
সকালে ঘুম থেকে উঠে যদি দেখা যায়, ডাকটিকিটগুলো ছিঁড়ে যায়নি, অর্থাৎ আগের মতোই আছে, তাহলে বুঝতে হবে কোনো শারীরিক সমস্যার কারণে সেই ব্যক্তির যৌন অক্ষমতা রয়েছে৷ বেরি বলেন, ‘‘সেই ব্যক্তির হয়ত ডায়াবেটিস, বা ধমনীতে (artery/vein/vessel) সমস্যা আছে৷''

{ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীর যৌন সমস্যা হয়। ডায়াবেটিসে বিভিন্ন অংশ আক্রান্ত হয়। যৌনাঙ্গ ডায়াবেটিসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই এ বিষয়ে সবারই ধারণা থাকা উচিত। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকলে অনেক জটিলতা এড়ানো যায়। তবে যদি কেউ স্বেচ্ছাচারী জীবনযাপন করে তার জন্য সমস্যা। নিয়ন্ত্রণে থাকলে যৌন সমস্যা তেমন একটা দেখা যায় না। কিন্তু ডায়াবেটিস যদি নিয়ন্ত্রণে না থাকে তবে এক সময় অনিবার্যভাবেই দেখা দিবে যৌন সমস্যা।
ডায়াবেটিস রোগীর পুরুষাঙ্গের উত্থান জনিত সমস্যা হয়। এর সাথে প্রস্রাব পায়খানাতেও সমস্যা হয়। স্নায়ুতন্ত্র (nervous system) ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলেই এমন হয়। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না থাকলে রক্তে সুগার বাড়ে। সে সময় একধরনের এনজাইম গ্লুকোজকে সরবিটলে পরিণত করে। সরবিটল স্ষেনায়ুকোষে জমা হয়। ধ্বংস করে ফেলে স্নায়ুকোষ । ফলে যৌন সমস্যা দেখা দেয়। মহিলা ডায়াবেটিস রোগীরা প্রস্রাবে এবং যোনীতে সংক্রমনে কষ্ট পান। তবে ডায়াবেটিস ভাল নিয়ন্ত্রণে থাকলে এ ধরনের সমস্যা কম হয়। মহিলা ডায়াবেটিসের রোগী যৌন উত্তেজনা তেমন অনুভব করেন না। এরা চরমপুলক লাভেও ব্যর্থ হয়। মেলামেশার সময় যৌনাঙ্গ সঠিক ভাবে পিচ্ছিলও হয় না।
ডায়াবেটিক রোগীর যদি যৌন সমস্যা হয় তবে অভিজ্ঞ এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট এর শরনাপন্ন হতে হবে। তাঁর নির্দেশত চলতে হবে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতেই হবে। যৌন সমস্যার ওষুধ তখনই ভাল কাজ করবে যখন ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ থাকবে। এ বিষয়টা রোগীর প্রথমেই বুঝতে হবে। তাহলেই ডায়াবেটিস জনিত যৌন সমস্যা অনেকটাই কেটে যাবে}

কিন্তু, যদি দেখা যায়, ঘুমন্ত অবস্থায় একজন মানুষের লিঙ্গউত্থান ঘটে, কিন্তু যৌন সম্ভোগের সময় তেমনটা ঘটে না, তাহলে বুঝতে হবে সমস্যাটা আসলে মানসিক৷ অর্থাৎ ডাকটিকিট পরীক্ষা সমস্যার কারণ বুঝতে সহায়ক৷ এই পরীক্ষা করতে একটি পুরুষাঙ্গের জন্য চারটি পর্যন্ত ডাকটিকিট দরকার হতে পারে৷ আর সেগুলো (হালকা) আঠা দিয়ে অবশ্যই আটকে দিতে হবে৷

ঘুমের মাঝে লিঙ্গ শক্ত হয় না কেন?

তথ্যসূত্র:

  • ডাক্তার জন বেরি, ডয়চে ভেলে (DW).
  • ডা. মা. দেলোয়ার হোসেন, সহকারী অধ্যাপক, আনোয়ার খান মেডিকেল কলেজ, ধানমণ্ডি, বাংলাদেশ প্রতিদিন।
  • ডাক্তার ফেরদৌস এবং ডাক্তার নাসরিন কাদের,USA.
  • দৈনিক ইনকিলাব।
  • মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, ডা: মোঃ রাইসুল ইসলাম পরাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, হেলথ কেয়ার বাংলা।
  • Edited: Natural_Healing.

কোন মন্তব্য নেই

Popular Post

Blogger দ্বারা পরিচালিত.