First Aid Present

Lifestyle Modification এবং প্রাকৃতিক খাদ্য, পানীয়, শাকসবজি, গাছ, ডালপালা, ফল, মসলা, পাতা ও ফুল ইত্যাদির দ্বারা প্রাথমিক চিকিৎসা।

আরামের ঘুম কেন প্রয়োজন

ঘুম:

ঘুম কি আসলেই আমাদের জন্য খুব জরুরি? ৭-৮ ঘণ্টার কম ঘুমালে কি কোনো সমস্যা হবে? এতে কি কোনো শারীরিক সমস্যা হতে পারে?

আপনি যদি নিজেকে সুস্থ রাখতে চান তবে ব্যলেন্স ডায়েট, শারীরিক ব্যয়াম যেমন প্রয়োজন, ঠিক তেমনই প্রয়োজন ঘুমের। একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন ৭ ঘণ্টার বেশি ঘুমানো উচিত। আসুন জেনে নেই ঘুম আমাদের জন্য কেন এত দরকার?

মমস্তিষ্কের সুস্বাস্থ্যের জন্য পরিমিত ঘুম:

শরীরসুস্থ রাখতে দরকার ভালো খাদ্যাভ্যাস আর পর্যাপ্ত ঘুম৷ তবে ঘুমের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে নতুন তথ্য দিচ্ছেন বিজ্ঞানীরা৷ তাঁরা বলছেন, ঘুম মানুষের মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে৷ 

সায়েন্স অ্যাডভান্সেস জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায়বিজ্ঞানীরা ৬০টিরও বেশি ঘুমের ঘটনাকে পর্যবেক্ষণ করেন৷ এ সময় তাঁরা ঘুমের সময়, ঘুমের সময় চোখের মণির নড়াচড়া, মস্তিষ্কের আকার, ঘুমন্ত ব্যক্তির শরীরের আকারসহ নানা বিষয় পর্যবেক্ষণ করেন৷ প্রাপ্ত তথ্য বলছে, মানুষের ঘুম দু' ধরনের- আরইএম ও নন-আরইএম স্লিপ৷ আরইএম স্লিপ-এর সময় চোখ বন্ধ থাকলেও চোখের মণি এদিক-ওদিক নড়াচড়া করে৷ ঐ সময় ঘুম হয় গভীর এবং স্বপ্ন হয় স্পষ্ট৷ আর নন-আরইএম ঘুমের সময় মানুষ সাধারণত স্বপ্ন দেখে না৷ আরইএম ঘুমের সময় মানুষের নতুন ধরনের স্নায়ু-যোগাযোগ তৈরি হয়৷ অর্থাৎ, নিউরন বা স্নায়ুকোষের যোগাযোগ শক্তিশালী হয়৷ এ সময় ঘুমন্ত ব্যক্তির স্মৃতিশক্তিও শক্তিশালী হয়৷ প্রতিদিন স্নায়ুর যে ক্ষতি হয়ে থাকে, ঘুমের সময় সে অংশটিরও মেরামত হয়৷ আর আড়াই বছর বয়সে ঘুম মানুষের মস্তিষ্ক গঠনের যে কাজ করে থাকে, সেখান থেকে পরিবর্তিত হয়ে স্নায়ুর মেরামতের কাজ শুরু করে৷ এটি আরইএম ও নন-আরইএম স্লিপ উভয় সময়েই হয়ে থাকে৷ গবেষকদলের প্রধান ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ভ্যান স্যাভেজ বলেন, মানুষের ঘুমের এ পরিবর্তনটি অত্যন্ত বিস্ময়কর৷ ‘‘খাবার এবং শ্বাস নেয়ার মতো ঘুমও আমাদের জন্য দরকারি৷ আমি বলবো, এটি মানুষের জীবনের একটি স্তম্ভ,’’ বলেন তিনি।

কোন ঘুমের কি উপকারিতা এবং কিভাবে পাবো?

কম ঘুম ওজন বাড়ায়:

মেজর কিছু রিসার্চে দেখা গেছে প্রতিদিন ৭ ঘণ্টার কম ঘুমালে বাচ্চা এবং বড় সবার ক্ষেত্রেই ওজন বৃদ্ধি পায়। এর একটি মূল কারণ হচ্ছে- ঘুম কম হলে আমাদের এপিটাইট বা ক্ষুধা লাগার প্রবণতা বেড়ে যায়। আমাদের ২ ধরনের হাঙ্গার হরমোন আছে।

ঘেরলিন এমন একটি হরমোন যা পাকস্থলীতে রিলিজ হয় এবং মস্তিস্কে ক্ষুধা লাগার বার্তা পাঠায়। তখন আমাদের মস্তিস্ক আমাদেরকে খাবার খেতে বলে।

আর লেপ্টিন নামক হরমোন আমাদের ক্ষুধাভাব কমিয়ে আনে। ঘুম যখন কম হয় তখন আমাদের দেহে ঘেরলিন হরমোন বেড়ে যায় এবং লেপ্টিনের পরিমাণ কমতে থাকে। ফলে আমরা অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণ করে ফেলি যা ওজন বাড়াতে পারে।

হৃদরোগের সম্ভাবনা কমায়:

হৃদরোগের একটি মূল কারণ হচ্ছে উচ্চ রক্তচাপ। Centers for Disease Control and Prevention (CDC) এর মতে প্রতিদিন রাতে পরিমিত ঘুম রক্তচাপ ঠিক রাখতে সহায়তা করে। ঘুম কম হলে আমাদের দেহ স্ট্রেস হরমোন করটিসোল-এর নিঃসরণ বাড়িয়ে দেয় যা হার্টের উপর প্রেসার ফেলে।

ডিপ্রেশন কমাতে সাহয্য করে:

মানসিক স্বাস্থ্যর সাথে ঘুমের সম্পর্ক নিয়ে অনেকগুলো গবেষণা রয়েছে। দেখা গেছে যারা ডিপ্রেশনে ভুগছেন তাদের অনেকেই পর্যাপ্ত এবং কোয়ালিটিফুল ঘুমের অভাবের কথা বলে থাকেন। এছাড়াও যারা ইনসোমেনিক তাদের মধ্যে অনেকেই ডিপ্রেশন এ ভুগতে দেখা গিয়েছে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়:

পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম আমাদের দেহে ইনফেকশন কিলার সেলগুলোকে বৃদ্ধি করে। ঘুম কম হলে এই ইনফেকশনের সাথে ফাইট করা এন্টিবডিগুলোর পরিমাণ কমতে থাকে। ঘুমের সময় আমাদের দেহ সাইটোকাইয়ানিন নামক প্রোটিন রিলিজ করে যা ইনফেকশন ও ইনফ্লেমেশন দূর করতে সাহায্য করে।

মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি বাড়ায়:

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণ সাউন্ড স্লিপ পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়াতে এবং স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।

মন ভালো রাখে:

ঘুম কম হলে অনেক সময় দেখা যায় মেজাজ খিটখিটে হয়ে থাকে বা অতিরিক্ত রাগ হয়। তাই ঘুমের সাথে মন ভালো থাকারও সম্পর্ক রয়েছে। প্রতিদিন ৫ ঘণ্টার কম ঘুম হলে মনের উপর তা প্রভাব বিস্তার করে। মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া, স্ট্রেস বেড়ে যাওয়া, অবসাদ্গ্রস্ত হয়ে যাওয়া এবং মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হয়ে যেতে পারে। এছাড়াও ঘুম পরিপূর্ণ হলে কাজে স্পৃহা আসে, কাজ করার ক্ষমতা বেড়ে যায়। তাই সবার পরিপূর্ণ ঘুম প্রয়োজন।

তথ্যসূত্র:

  • ফারিয়া ইসলাম বৃষ্টি, পুষ্টিবিদ, আন্তর্জাতিক ফেলো (নরেক-নরওয়ে), যুগান্তর।
  • গবেষকদলের প্রধান ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ভ্যান স্যাভেজ, ডয়চেভেলে প্রকাশিত- আরআর/এসিবি (রয়টার্স) এর প্রতিবেদন।
  • Dr.Jahangir Kabir, Lifestyle Modifier, Primary Care Physician, Trained in Asthma, COPD & Diabetes Trainer in icddr, B & EFH, UK joint Secretary at Bangladesh Primary Care Respiratory Society.           
  • Edited: Natural_Healing.

কোন মন্তব্য নেই

Popular Post

Blogger দ্বারা পরিচালিত.