খাঁটি মধু চেনার উপায় কি?
খাঁটি মধু চেনার উপায়:
এখন বাজারে নানা রঙের মোড়কে মধু পাওয়া যায়। বর্তমান এ সময়ে খাঁটি মধু নির্বাচন করাই সবচেয়ে কঠিন বিষয়। সুন্দরবনের খাঁটি মধুর নাম দিয়ে ভেজাল, রাসায়নিকযুক্ত উপাদান বিক্রি করাও এখন খুব স্বাভাবিক একটা ঘটনা।
মধুর ক্ষেত্রে সবচেয়ে সেরা মধু মানুকা মধু। অন্যদিকে সরিষা ফুল, লিচু, কালিজিরা, গুজি তিল কিংবা তৃষি থেকে প্রাপ্ত মধুর গুণাগুণও প্রায় মানুকা মধুর কাছাকাছি।
আসুন, জেনে নেওয়া যাক খাঁটি মধু চিনে নেওয়ার সহজ উপায় :
> খাঁটি মধু চেনার ক্ষেত্রে মধু থেকে কোনো ধরনের কটূ গন্ধ না পেলে, দীর্ঘদিন মধু রেখে দিলেও তা নষ্ট না হলে বুঝে নিন এটি খাঁটি মধু।
> প্রক্রিয়াজাত না করলে সরাসরি চাক থেকে মধু কেটে কাচের জারে রেখে দিলে কয়েক দিন পরেই এটাতে গ্যাসের সৃষ্টি হবে।
> শীতের দিনে বা ঠাণ্ডায় খাঁটি (বিশেষ করে সর্ষে ফুলের) মধু দানা বেঁধে যায়।
> মধুর স্বাদ হবে মিষ্টি, এতে কোনও ঝাঁঝালো ভাব থাকবে না।
> মধুতে কখনও কটু গন্ধ থাকবে না। খাঁটি মধুর গন্ধ হবে মিষ্টি ও আকর্ষণীয়।
> এক টুকরো সাদা কাপড়ে মধু মাখান। আধ ঘণ্টা রাখুন। তারপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। যদি দাগ থেকে যায়, বুঝবেন মধুটি খাঁটি নয়।
> একটি মোমবাতি নিয়ে সেটির সলতেটি ভালোভাবে মধুতে ডুবিয়ে নিন। এবার আগুন দিয়ে জ্বালানোর চেষ্টা করুন। যদি জ্বলে ওঠে, তাহলে বুঝবেন যে মধু খাঁটি। আর যদি না জ্বলে, বুঝবেন যে মধুতে পানি মেশানো আছে।
> বেশ কিছুদিন ঘরে রেখে দিলে মধুতে চিনি জমতেই পারে। কিন্তু যদি বয়ামসহ মধু গরম পানিতে কিছুক্ষণ রেখে দেখুন। এই চিনি গলে মধু আবার স্বাভাবিক হয়ে আসবে। কিন্তু নকল মধুর ক্ষেত্রে এটা হবে না।
> গ্লাসে বা বাটিতে খানিকটা পানি নিন। তার মধ্যে এক চামচ মধু দিন। যদি মধু পানির সঙ্গে সহজেই মিশে যায়, তাহলে বুঝবেন যে এটা অবশ্যই নকল। আসল মধুর ঘনত্ব পানির চাইতে অনেক বেশি, তাই তা সহজে মিশবে না। এমনকি নাড়া না দিলেও মধু পানিতে মিশবে না।
> উৎস থেকে খাঁটি মধু দিলে খাঁটিই পাবেন, বিশ্বস্ত কোন সৎ ব্যক্তির কাছে থেকে মধু নিলে খাঁটিই পাবেন এবং একমাত্র ল্যাব টেস্ট করলে নিশ্চিত ভাবে মধুর খাটি এবং ভেজাল নির্ণয় করা যায়।
তথ্যসূত্র:
- কালের কণ্ঠ।
- যুগান্তর।
- Edited: Natural_Healing.

কোন মন্তব্য নেই