মধুর যত গুণ
পুষ্টিগুণ ও উপাদেয়তার দিকটি বিবেচনা করে যদি আমরা খাবারের একটি তালিকা করি, সে তালিকার প্রথম সারিতেই থাকবে ‘মধু’র নাম। শত শত বছর আগে থেকেই এই প্রাকৃতিক ওষুধের গুণ মানুষ জানে। প্রাচীন গ্রিক ও মিসরীয়রা ওষুধ হিসেবে মধু খেত। ভারতের আয়ুর্বেদ ও চীনের প্রাচীন চিকিত্সাশাস্ত্রে মধুর ব্যবহার দেখা যায়।
স্বাস্থ্যসচেতন মানুষ এখন সাদা চিনি এড়িয়ে চলেন। তাই চিনির বিকল্প হিসেবে মধুর জুড়ি নেই। মধুকে প্রাকৃতিক অ্যানার্জি বুস্টার এ জন্য বলা হয়, মধু খাওয়ার সাথে সাথে ইনস্ট্যান্ট অ্যানার্জি পাওয়া যায়। এটি শরীরের জন্য উপকারী এবং নিয়মিত মধু সেবন করলে অসংখ্য রোগবালাই থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়। এটি বৈজ্ঞানিকভাবেই প্রমাণিত।
কতটুকু মধু খেতে পারবেন:
পৃথিবীতে মধু বিভিন্ন ফর্মে পাওয়া যায়। ক্রিমি মধু আছে, ড্রাই মধু আছে, পাস্তুরাইজড মধু আছে এবং র মধুও পাওয়া যায়। পাস্তুরাইজড মধু আমাদের দেশে অনেক দিন সংরক্ষণ করা সম্ভব এবং তাতে জীবাণু অনেক দিন মুক্ত থাকে। ডায়াবেটিক রোগী ছাড়া মোটামুটি যাঁরা শারীরিকভাবে সুস্থ, তাঁরা সারা দিনে এক থেকে দুই চামচ মধু খেতে পারবেন। একটানা বেশি দিন মধু খেলে স্বাস্থ্যের ক্ষতি হতে পারে। মাঝে বিরতি দিয়ে বছরের বিভিন্ন সময় মধু খাওয়া যেতে পারে।
মধুর উপাদান:
মধুতে প্রায় ৪৫টি খাদ্য উপাদান থাকে। মধু প্রাকৃতিক চিনি সমৃদ্ধ। মধু অবশ্যই রোগ প্রতিরোধে একটি কার্যকরী ওষুধ। এতে আছে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, অ্যান্টি-ভাইরাল। তবে এতে চর্বি ও প্রোটিন নেই। কিন্তু এতে প্রচুর এনার্জী রয়েছে। দেখা যাক, এনার্জি ছাড়াও আরো কি কি খনিজ এবং পুষ্টিগুণ রয়েছে। মধুতে রয়েছে ভিটামিন 'বি কমপ্লেক্স, আয়রন এবং এনজাইম এছাড়াও রয়েছে ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধকারী উপাদান। এতে থাকে খুব বেশি পরিমাণে কপার, লৌহ ও ম্যাঙ্গানিজ। এছাড়াও সামান্য পরিমাণ ক্যালসিয়াম ও পটাশিয়াম, খনিজ লবণ থেকে শুরু করে চর্বি এমনকি প্রোটিনও থাকে। মৌমাছি মধু সংগ্রহ করার সময় এতে ৪০ থেকে ৬০ পার্সেন্ট পানি থাকে কিন্তু সূর্যের তাপে মধুর চাক থেকে ধীরে ধীরে পানি কমে যায়।
ফুলের পরাগের মধুতে থাকে ২৫ থেকে ৩৭ শতাংশ গ্লুকোজ, ৩৪ থেকে ৪৩ শতাংশ ফ্রুক্টোজ, ০.৫ থেকে ৩.০ শতাংশ সুক্রোজ এবং ৫ থেকে ১২ শতাংশ মন্টোজ। আরও থাকে ২২ শতাংশ অ্যামাইনো অ্যাসিড, ২৮ শতাংশ খনিজ লবণ এবং ১১ শতাংশ এনকাইম। ১০০ গ্রাম মধুতে থাকে ২৮৮ ক্যালরি। বা অবস্থাভেদে ১০০ গ্রাম মধুতে সাধারণত ৩০৪ কিলোক্যালোরি পাওয়া যায়।
মধুর উপকারিতা:
- শক্তি প্রদায়ী : মধু ভালো শক্তি প্রদায়ী খাদ্য। তাপ ও শক্তির ভালো উৎস। মধু দেহে তাপ ও শক্তি জুগিয়ে শরীরকে সুস্থ রাখে।
- হজমে সহায়তা: এতে যে শর্করা থাকে, তা সহজেই হজম হয়। কারণ, এতে যে ডেক্সট্রিন থাকে, তা সরাসরি রক্তে প্রবেশ করে এবং তাৎক্ষণিকভাবে ক্রিয়া করে। পেটরোগা মানুষের জন্য মধু বিশেষ উপকারী। হজমের সমস্যা দূর করতে প্রতিদিন সকালে মধু খাওয়ার অভ্যাস করতে পারেন। মধু পেটের অম্লভাব কমিয়ে হজম প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে। হজমের সমস্যা দূর করার জন্য মধু খেতে চাইলে প্রতিবার ভারি খাবার খাওয়ার আগে এক চামচ মধু খেয়ে নিন। বিশেষ করে সকালে খালি পেটে এক চামচ মধু কিন্তু খুবই উপকারী। এছাড়াও এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে এক টেবিল-চামচ মধু মিশিয়ে খেলে হজম শক্তি বৃদ্ধি পাবে।
- কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে: মধুতে রয়েছে ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স। এটি ডায়রিয়া ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। মধু ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে, পেটের আলসার ভালো করে। ১ চা–চামচ খাঁটি মধু ভোরবেলা পান করলে কোষ্ঠবদ্ধতা এবং অম্লত্ব দূর হয়।
- ফুসফুসের যাবতীয় রোগ ও শ্বাসকষ্ট নিরাময়ে: বলা হয়, ফুসফুসের যাবতীয় রোগে মধু উপকারী। যদি একজন অ্যাজমা (শ্বাসকষ্ট) রোগীর নাকের কাছে মধু ধরে শ্বাস টেনে নেওয়া হয়, তাহলে সে স্বাভাবিক এবং গভীরভাবে শ্বাস টেনে নিতে পারবে। অনেকে মনে করে, এক বছরের পুরোনো মধু শ্বাসকষ্টের রোগীদের জন্য বেশ ভালো।
- অনিদ্রায়: মধু অনিদ্রার ভালো ওষুধ। রাতে শোয়ার ঘণ্টা দুয়েক আগে কুসুম গরম পানিতে মধু মিশিয়ে খেলে ভালো ঘুম হয়। অথবা, রাতে শোয়ার আগে এক গ্লাস পানির সঙ্গে দুই চা–চামচ মধু মিশিয়ে খেলে এটি গভীর ঘুম ও সম্মোহনের কাজ করে।
- যৌন দুর্বলতায়: পুরুষদের মধ্যে যাঁদের যৌন দুর্বলতা রয়েছে, তাঁরা যদি প্রতিদিন মধু ও ছোলা মিশিয়ে খান, তাহলে বেশ উপকার পাবেন।
- প্রশান্তিদায়ক পানীয়: হালকা গরম দুধের সঙ্গে মিশ্রিত মধু একটি প্রশান্তিদায়ক পানীয়।
- মুখগহ্বরের স্বাস্থ্য রক্ষায়: মুখগহ্বরের স্বাস্থ্য রক্ষায় মধু ব্যবহৃত হয়। এটা দাঁতের ওপর ব্যবহার করলে দাঁতের ক্ষয়রোধ করে। দাঁতে পাথর জমাট বাঁধা রোধ করে এবং দাঁত পড়ে যাওয়াকে বিলম্বিত করে। মধু রক্তনালিকে সম্প্রসারিত করে দাঁতের মাড়ির স্বাস্থ্য রক্ষা করে। যদি মুখের ঘায়ের জন্য গর্ত হয়, এটি সেই গর্ত ভরাট করতে সাহায্য করে এবং সেখানে পুঁজ জমতে দেয় না। মধু মিশ্রিত পানি দিয়ে গড়গড়া করলে মাড়ির প্রদাহ দূর হয়।
- পাকস্থলীর সুস্থতায়: মধু পাকস্থলীর কাজকে জোরালো করে এবং হজমের গোলমাল দূর করে। এর ব্যবহার হাইড্রোক্রলিক অ্যাসিড ক্ষরণ কমিয়ে দেয় বলে অরুচি, বমিভাব, বুকজ্বালা এগুলো দূর করা সম্ভব হয়।
- তাপ উৎপাদনে: শীতের ঠান্ডায় এটি শরীরকে গরম রাখে। এক অথবা দুই চা–চামচ মধু এক কাপ ফুটানো পানির সঙ্গে খেলে শরীর ঝরঝরে ও তাজা থাকে।
- পানিশূন্যতায়: ডায়রিয়া হলে এক লিটার পানিতে ৫০ মিলিলিটার মধু মিশিয়ে খেলে দেহে পানিশূন্যতা রোধ করা যায়।
- দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে: চোখের জন্য ভালো। গাজরের রসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে খেলে দৃষ্টিশক্তি বাড়ে।
- রূপচর্চায়: মেয়েদের রূপচর্চার ক্ষেত্রে মাস্ক হিসেবে মধুর ব্যবহার বেশ জনপ্রিয়। মুখের ত্বকের মসৃণতা বৃদ্ধির জন্যও মধু ব্যবহৃত হয়।
- ওজন কমাতে: মধুতে নেই কোনো চর্বি। পেট পরিষ্কার করে, চর্বি কমায়, ফলে ওজন কমে।
- প্রতিদিন সকালে এক গ্লাস কুসুম গরম পানির সাথে এক চামচ মধু ও লেবু মিশিয়ে খান, তাহলে সহসাই কিন্তু আপনার মেটাবলিজম বা বিপাককে বাড়িয়ে ওজন কমাতে সক্ষম হবে।
- হজমে সহায়তা: মধু প্রাকৃতিকভাবেই মিষ্টি। তাই মধু সহজে হজম হয় এবং হজমে সহায়তা করে।
- গলার স্বর: গলার স্বর সুন্দর ও মধুর করে। এটা ঘন বলে গলা ফোলা ও ব্যথায় আরামদায়ক একটি প্রলেপের মতো কাজ করে।
- তারুণ্য বজায় রাখতে: তারুণ্য বজায় রাখতে মধুর ভূমিকা অপরিহার্য। এটি অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট, যা ত্বকের রং ও ত্বক সুন্দর করে। ত্বকের ভাঁজ পড়া ও বুড়িয়ে যাওয়া রোধ করে। শরীরের সামগ্রিক শক্তি ও তারুণ্য বাড়ায়।
- হাড় ও দাঁত গঠনে: মধুর গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ ক্যালসিয়াম। ক্যালসিয়াম দাঁত, হাড়, চুলের গোড়া শক্ত রাখে, নখের ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধি করে, ভঙ্গুরতা রোধ করে।
- আমাশয় ও পেটের পীড়া নিরাময়ে: পুরোনো আমাশয় এবং পেটের পীড়া নিরাময়সহ নানাবিধ জটিল রোগের উপকার করে থাকে। এবং গ্যাস্ট্রিক-আলসারে মধু উপকারে আসে, তাই ১০০ গ্রাম কুসুম গরম পানিতে এক টেবিল-চামচ মধু মিশিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যায়।
- হাঁপানি রোধে: আধা গ্রাম গুঁড়ো করা গোলমরিচের সঙ্গে সমপরিমাণ মধু এবং আদা মেশান। দিনে অন্তত তিনবার এই মিশ্রণ খান। এটা হাঁপানি রোধে সহায়তা করে।
- উচ্চ রক্তচাপ কমায়: দুই চামচ মধুর সঙ্গে এক চামচ রসুনের রস মেশান। সকাল-সন্ধ্যা দুইবার এই মিশ্রণ খান। প্রতিনিয়ত এটার ব্যবহার উচ্চ রক্তচাপ কমায়। প্রতিদিন সকালে খাওয়ার এক ঘণ্টা আগে খাওয়া উচিত।
- রক্তশূন্যতায়: মধু রক্তের হিমোগ্লোবিন গঠনে সহায়তা করে বলে এটি রক্তশূন্যতায় বেশ ফলদায়ক। কারণ, এতে থাকে খুব বেশি পরিমাণে কপার, লৌহ ও ম্যাঙ্গানিজ। তাছাড়া মধুতে রয়েছে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স যা রক্তশূন্যতায় উপকার করে।
- রক্ত পরিষ্কারক: এক গ্লাস গরম পানির সঙ্গে এক বা দুই চামচ মধু ও এক চামচ লেবুর রস মেশান। পেট খালি করার আগে প্রতিদিন এই মিশ্রণ খান। এটা রক্ত পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। তা ছাড়া রক্তনালিগুলোও পরিষ্কার করে।
- রক্ত উৎপাদনে সহায়তা: রক্ত উৎপাদনকারী উপকরণ আয়রন রয়েছে মধুতে। আয়রন রক্তের উপাদানকে (আরবিসি, ডব্লিউবিসি, প্লাটিলেট) অধিক কার্যকর ও শক্তিশালী করে।
- হৃদ্রোগে: এক চামচ মৌরি গুঁড়োর সঙ্গে এক বা দুই চামচ মধুর মিশ্রণ হৃদ্রোগের টনিক হিসেবে কাজ করে। এটা হৃৎপেশিকে সবল করে এবং এর কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
- রোগ প্রতিরোধশক্তি বাড়ায়: মধুতে রয়েছে ভিটামিন, খনিজ, পুষ্টি এবং এনজাইম যা বিভিন্ন অসুখ বিসুখ থেকে শরীরকে রক্ষা করে। মধু শরীরের রোগ প্রতিরোধশক্তি বাড়ায় এবং শরীরের ভেতরে এবং বাইরে যেকোনো ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ প্রতিহত করার ক্ষমতাও জোগান দেয়। মধুতে আছে একধরনের ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধকারী উপাদান, যা অনাকাঙ্ক্ষিত সংক্রমণ থেকে দেহকে রক্ষা করে।
- বাচ্চাদের মনোযোগ বৃদ্ধি: মধুর যে গুণ রয়েছে, তা ওষুধের মতো কাজ করে। বিশেষ করে বাচ্চারা, যারা স্কুলে পড়ে, সকালে যদি দুধের সাথে একটু মধু দেওয়া যায় বা তাদের খাবারে মধু যুক্ত করা যায়, তাহলে বাচ্চারা অনেকক্ষণ অ্যানার্জেটিক থাকে এবং তাদের যে পড়াশোনার মনোযোগ, সেটা কিন্তু অনেক বৃদ্ধি পায়। তবে জন্মের পর অনেক বাচ্চাকে মধু খেতে দেওয়া হয়, সেটা কোনোভাবেই করা যাবে না। যদিও মধুর অনেক গুণ ও স্বাস্থ্যকর, তবে এক বছরের নিচের বাচ্চাকে কখনোই খাবারে আপনি মধু সংযোজন করবেন না। কারণ, মধুতে ক্লস্ট্রিডিয়াম বটুলিনাম নামের রেণু থাকে। বয়স্কদের অন্ত্রে এগুলো বংশবিস্তার করতে পারে না, কিন্তু খুব ছোট বাচ্চাদের পেটে বেড়ে উঠে বিষক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। (মনে রাখবেন, রসূল সা: কিন্তু জন্মের পর বাচ্চার মুখে খেজুর চিবিয়ে দিয়েছিলেন, মধু নয়)।
- ডায়াবেটিস: চিনির বিকল্প হিসেবে এই মধুর জুড়ি এ জন্যই নেই, মধুর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স চিনির চেয়ে অনেক কম, যা শরীরে চিনির তুলনায় একটু ধীরে সুগার লেভেলকে বাড়ায়। সুতরাং যাঁরা চান ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে চান, তাঁদের কিন্তু এখন থেকেই চিনির পরিবর্তে মধু খাওয়া অবশ্যই উচিত। কেন নিষেধ করা হয়? ডায়াবেটিক রোগীকে এ জন্য মানা করা হয়, যেহেতু তাঁদের ব্লাডের ইনসুলিনের অ্যাকটিভিটিস কম এবং মধু খাওয়ার পর সেই সুগারকে কন্ট্রোল করতে পারবে না। যেহেতু, মধু আল্লাহ প্রদত্ত প্রাকৃতিক ঔষধ, সুতরাং ডায়াবেটিস রোগীদের বেশি খেলে যদি সমস্যা হয়, তাহলে সামান্য হলেও খেতে পারেন।
- ব্যায়াম: যাঁরা ব্যায়াম করেন, তাঁদের পেশির বৃদ্ধিতে মধু অনেক উপকারী।
- সর্দি-কাশিতে: সর্দি-কাশি সব সময়ই হতে পারে, তবে শীতকালে বেশি হয়। এ সময় গলা খুসখুস, ব্যথাসহ আরও অনেক রকম অসুখ-বিসুখে মধু খেলে উপকার পাওয়া যায়। মধু ঠাণ্ডা-কাশিকে প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। বিশেষ করে সাইনাস ও কনজিস্টেশন পরিষ্কার করে। সর্দি-কাশিতে ব্যবহার: ১) প্রতিদিন যদি লেচু-চায়ের সঙ্গে চিনির পরিবর্তে মধু খান, তাহলে গরম বা ঠাণ্ডার প্রভাবে যে ঠাণ্ডা-কাশি লাগে, সেটা কিন্তু সহসাই প্রতিরোধ করা সম্ভব। ২) সামান্য সর্দি-কাশিতে আমরা সাধারণত তুলসীপাতার রসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে খাই। এতে উপকার পাওয়া যায়। কুসুম গরম পানিতে মধু মিশিয়ে খেলে কাশির প্রকোপ কমে। তবে এক বছরের কম বয়সী ছোট বাচ্চাদের মধু খাওয়াবেন না। কারণ, মধুতে ক্লস্ট্রিডিয়াম বটুলিনাম নামের রেণু থাকে। বয়স্কদের অন্ত্রে এগুলো বংশবিস্তার করতে পারে না, কিন্তু খুব ছোট বাচ্চাদের পেটে বেড়ে উঠে বিষক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। আর যারা অনেকদিন ধরে খুসখুসে কাশির সমস্যায় ভুগছেন, তারা প্রতিদিন এক চামচ আদার রসের সঙ্গে এক চামচ মধু মিশিয়ে খেলে দ্রুত আরোগ্য হবেন।
- ক্যান্সার: ক্যানসারের রোগীকে অনেক সময় দেখা যায় যে বিভিন্ন ফলের জুসের সাথে, তাঁদের জন্য অ্যানার্জির দরকার হয়, তখন মধু ব্যবহার করা হয়।
- ক্যলরি: ১০০ গ্রাম মধুতে থাকে ২৮৮ ক্যালরি। বা অবস্থাভদে ১০০ গ্রাম মধুতে সাধারণত ৩০৪ কিলোক্যালোরি পাওয়া যায়। যেসব রোগীর অনেক বেশি ক্যালোরির দরকার; যেমন—গর্ভবতী মায়েদের অনেক বেশি ক্যালোরি দরকার, বাচ্চাদের অনেক ইনস্ট্যান্ট অ্যানার্জি দরকার হয়, তাঁদের জন্য মধুর জুড়ি নেই।
- কাটাছেঁড়ায় ব্যবহার: শরীরের কোথাও সামান্য কাটাছেঁড়া থাকলে মধুর প্রলেপ দেওয়া যায়। মধুতে উঁচু মাত্রার জীবাণুনাশক উপাদান থাকায় সহজে সংক্রমণ রোধ করা সম্ভব হয়। মৌমাছি ফুল থেকে যে মধু সংগ্রহ করে তাতে ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ পানি থাকে। ওরা নিজেরা কিছু রস খেয়ে বাকিটা মৌচাকে জমা করে। সূর্যতাপে পরিশোধিত হয়ে মধু বিভিন্ন গুণ অর্জন করে। এর জলীয় অংশও অনেক কমে যায়। ফলে কাটাছেঁড়া স্থানে মধুর প্রলেপ দিলে প্রথমে সেখান থেকে জলীয় অংশ শুষে নেয় ও বাইরের জলীয় পদার্থ ঢুকতে দেয় না। জলীয় অংশ না থাকলে ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য জীবাণু বাঁচতে পারে না। এভাবে মধু ক্ষত সারাতে সাহায্য করে। এছাড়াও শীতে পোড়া ও কাটাছেড়া সহজে ভাল হয় না। কিন্তু মধুতে রয়েছে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান। যা ক্ষত, পোড়া ও কাটা জায়গায় ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি প্রতিরোধ করে। কোথাও পুড়ে বা কেটে গেলে ক্ষত স্থানে মধুর একটি পাতলা প্রলেপ দিয়ে দিন। ব্যথা কমবে ও দ্রুত নিরাময় হবে।
- মধুর সঙ্গে দারুচিনি: মধুর সঙ্গে দারচিনির গুঁড়ো মিশিয়ে খেলে তা রক্তনালীর সমস্যা দূর করে এবং রক্তের খারাপ কোলেস্টেরলের পরিমাণ ১০ ভাগ পর্যন্ত কমিয়ে দেয়। মধু ও দারচিনির এই মিশ্রণ নিয়মিত খেলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমে।
- শ্বাসকষ্ট: যাদের শ্বাসকষ্টের সমস্যা আছে, তারা মধু, কালিজিরা, আদা, গোলমরিচ সমপরিমাণ মিশিয়ে খেতে পারেন। এতে দ্রুত আরোগ্য লাভের সঙ্গে তাৎক্ষণিক বেশ আরাম লাগবে। আর যাদের শীতে ঠাণ্ডায় শ্বাসপ্রশ্বাসে সমস্যা হয়, তাদেরকে বলবো, চা কিংবা উষ্ণ পানির সঙ্গে মধু মিশিয়ে প্রতিদিন পান করলে উপকার পাবেন।
- ঠোঁটের যত্নে: অনেকের ঠোঁট ফেটে যায় শীতে। রাতে ঘুমের পূর্বে নিয়মিত ঠোঁটে মধুর প্রলেপ লাগালে ঠোঁটের ওপরের শুষ্ক ত্বক দূর করতে সহায়তা করে। এর ফলে ঠোঁট থাকে নরম, তখন ফেটে যাওয়ার সম্ভাবনা আর থাকে না। আবার ঠোঁটের সৌন্দর্য্যও বৃদ্ধি পায়।
তথ্যসূত্র:
- পুষ্টিবিদ, ইসরাত জাহান,
- প্রথম আলো।
- পুষ্টিবিদ, তামান্না চৌধুরী,
- এনটিভি।
- উইকিপিডিয়া এবং রিডার্স ডাইজেস্ট প্রকাশিত বই হোম রেমেডি> প্রথম আলো।
- সময় টিভি।
- যুগান্তর।
- একুশে টিভি।
- Edited: Natural_Healing.

কোন মন্তব্য নেই