তুলসী পাতার চা'এর গুনাগুণ
আয়ুর্বেদে তুলসীকে ভেষজের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। বহুবিধ ব্যবহারের জন্য তুলসী পাতাকে বলা হয় ‘কুইন অব হার্ব’ বা ওষধি গাছের রানী ।
![]() |
| তুলসি চায়ে লেবুর ভিটামিন সি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কাজে লাগবে। |
তুলসী পাতার চা:
সর্দি-কাশি ও জ্বরের সমস্যায় মধু আর তুলসীপাতা খুবই উপকারী। মধু আর তুলসীপাতা গলার কফ পরিষ্কার করে। সর্দি-কাশি হলে প্রতিদিন সকালে মধু ও তুলসীপাতা একসঙ্গে খেলে উপকার পাবেন।
>একবাটি জলে একমুঠো তুলসি পাতা ফুটতে দিন। টগবগ করে ফুটলে আঁচ কমিয়ে ১০ মিনিট ফোটান। এরপর এতে মেশান এক চামচ মধু আর দু-চামচ লেবুর রস। মধু দেবে এনার্জি, লেবুর ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কাজে লাগবে। আর তুলসির প্রভাবে জ্বর-সর্দি-কাশির প্রকোপ কম থাকবে। নিয়মিত খেলে প্রদাহের প্রবণতা কমবে, বাড়বে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা।
শুকনো কাশির প্রকোপ কমাতে চাইলে এতে ধনে ও আদা মিশিয়ে নিন। প্রদাহের প্রবণতাও কমবে তাতে। কীভাবে বানাবেন, দেখুন।
>এক লিটার জলে দু-চামচ আদা কুচি, চার চামচ ধনে ও একমুঠো তুলসি পাতা দিয়ে কম আঁচে ভাল করে ফোটান, যতক্ষণ না জল অর্ধেক হয়ে যায়। এবার ছেঁকে নিয়ে মধু ও লেবু মিশিয়ে খান।
>তুলসী পাতা ৬-৭টি, চা পাতা আধা চা চামচ, আদা কুচি ২ চা চামচ, মধু ৪ চা চামচ, পানি চার কাপ। এবার পানি চুলায় বসিয়ে আদা ও তুলসী পাতা দিয়ে জ্বাল দিন, পানি শুকিয়ে দু’কাপ হয়ে এলে চা পাতা দিয়ে নামিয়ে ফেলুন। কাপে ঢেলে মধু ও একটি তুলসী পাতা দিয়ে পরিবেশন করুন।
>আধা চামচ আদা কুচি, ১২-১৫টি তুলসী পাতা এবং এক চামচের চার ভাগের এক ভাগ এলাচ গুঁড়ো তিন কাপ পানিতে ১০ মিনিট ধরে ফুটিয়ে নিন। সামান্য মধু ও লেবুর রস মিশিয়ে উপভোগ করুন তুলসীর চা।
তুলসী চায়ের অসাধারণ স্বাস্থ্যগুণ:
পৃথিবীতে হরেক রকমের চায়ের প্রচলন রয়েছে। এগুলোর রয়েছে নিজস্ব উপকারিতা। আমাদের দেশে সাধারণত আদা চা, সবুজ চা, নিম চা ছাড়াও বেশ কয়েকটি চায়ের প্রচলন রয়েছে। এর মধ্যে তুলসী চাও রয়েছে। এর রয়েছে হরেক রকমের স্বাস্থ্যগুণ।
> ওজন কমানোর জন্য তো অনেক কিছু করেছেন ৷ তবুও জেদি ওজন যেন কিছুতেই আপনার সঙ্গ ছাড়তে চায় না ৷ এবার ট্রাই করুন তুলসী চা ৷ তুলসী পাতা তো আমাদের প্রায় প্রত্যেকরই বাড়ির উঠোনে বা ঘরের কোণায় টবে হয়েই থাকে ৷ তাই এই চা বানানো তেমন কষ্টকর নয় ৷ ব্যয়বহুলও নয় ৷ শুধু জানতে হবে পদ্ধতি ৷ তুলসী চা যে শুধু আপনার ওজন কমাবে তাই নয়, এই যা সর্দি, কাশি, ঠান্ডা লাগা, বদহজমের সমস্যাতেও দারুণ কাজে দেয় ৷ জেনে নিন কীভাবে তৈরি করবেন এই চা ৷
উপকরণ: ৩-৪টি তুলসী পাতা নিন ৷ ১ কাপ জল আর অর্ধেক টেবিল চামচ মধু নিন ৷
• পদ্ধতি: একটি প্যানে এক কাপ জল নিন ৷ তারমধ্যে তুলসী পাতাগুলি দিয়ে দিন ৷ এবার জল ফোটান ৷ ২-৩ মিনিট পর আঁচ থেকে নামিয়ে তা কাপে ঢালুন ৷ এবার মধু মিশিয়ে নিন।
• প্রতিদিন এই চা খেয়ে দেখুন ৷ মেদ ঝরবে ৷ শরীর হবে চাঙ্গা আর প্রাণবন্ত ৷
তুলসী গাছের পাতা, বীজ, বাকল ও শেকড় সবকিছুই অতি প্রয়োজনীয়। ঔষধিগুণের এই তুলসী বিভিন্ন রোগ সারাতে কাজ করে।
ফুসফুসের দুর্বলতা, কাশি, কুষ্ঠ, শ্বাসকষ্ট, সর্দিজ্বর, চর্মরোগ, বক্ষবেদনা ও হাঁপানি, হাম, বসন্ত, কৃমি, ঘামাচি, রক্তে চিনির পরিমাণ হ্রাস, কীটের দংশন, কানব্যথা, ব্রংকাইটিস, আমাশয় ও অজীর্ণে তুলসী দিয়ে তৈরি ওষুধ বিশেষভাবে কার্যকর।
এছাড়া মশার কামড় থেকে বাঁচতে হলে মশারি টানানো, অ্যারোসল স্প্রে করা অথবা তীব্র ধোঁয়াযুক্ত কয়েল জ্বালানোর প্রয়োজন পড়বে না। যদি তুলসী থাকে ঘরে।
১. ঠাণ্ডা-কাশি থেকে রক্ষা পেতে তুলসী পাতা ও আদার রসের সঙ্গে একটু মধু মিশিয়ে খেতে পারেন। এতে ঠাণ্ডা-কাশি ভালো হবে।
২. সকালবেলা খালি পেটে তুলসী পাতা চিবিয়ে খেলে মুখের রুচি বাড়বে।
৩. তুলসী পাতার রস খেলে দ্রুত জ্বর ভাল হয়।
৪. তুলসী পাতা গরম পানিতে সেদ্ধ করে সে পানিতে গড়গড়া করলে মুখ ও গলার রোগজীবাণু মরে, শ্লেষ্মা দূর হয় ও মুখের দুর্গন্ধও দূর হয়।
৫. তুলসী চা শারীরিক ও মানসিক অবসাদ দূর করে এবং মস্তিষ্কে অক্সিজেনের সরবরাহ বাড়ায়।
৬. মাথা ব্যথা ও শরীর ব্যথা কমাতে তুলসী খুবই উপকারী।
৭. চোখের সমস্যা দূর করতে রাতে কয়েকটি তুলসী পাতা পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। ওই পানি দিয়ে সকালবেলা চোখ ধুয়ে ফেলুন।
৮. উচ্চ রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল কমিয়ে হূৎপিণ্ডের রক্ত সরবরাহের মাত্রা ঠিক রাখতে সাহায্য করে।
৯. স্তন ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণে তুলসী বিশেষ সহায়ক।
১০. তুলসী চা শারীরিক ও মানসিক অবসাদ দূর করে, মস্তিষ্কে অক্সিজেনের সরবরাহ বাড়িয়ে দেয়।
১১. লিভারের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়।
তুলসী ও মধুর চা:
উপকরণ: চা পাতা ১ চা-চামচ অথবা টি ব্যাগ প্রতি কাপে ১টা করে, তুলসী পাতা ১০–১২টা, লেবুর রস স্বাদমতো, মধু স্বাদমতো ও পানি ৫০০ মিলিলিটার।
প্রণালি: ফুটন্ত পানিতে তুলসী পাতা দিয়ে মিনিট পাঁচেক ফুটিয়ে নিন। চা পাতা দিয়ে আরও কয়েক মিনিট ফুটিয়ে চুলা থেকে নামিয়ে ছেঁকে নিতে হবে। স্বাদমতো লেবুর রস ও মধু মিশিয়ে পান করতে হবে।
উপকরণ: পানি- ৩ কাপ, আদা কুচি- আধা চা চামচ,মধু- ৫ ফোঁটা,তুলসি পাতা- ১৫ টি,লেবুর রস- ১০ ফোঁটা,সবুজ এলাচ গুঁড়া- ১/৪ চা চামচ।
প্রস্তুত প্রণালি: চায়ের পাত্রে ৩ কাপ পানি নিন। এবার পানিতে তুলসি পাতা কুচি, আদা কুচি ও ইলাচ গুঁড়া দিয়ে দিন। ১০ মিনিট ফুটান। ছেঁকে চায়ের কাপে ঢালুন। মধু ও লেবুর রস দিয়ে নেড়ে গরম গরম পরিবেশন করুন তুলসি চা।
সর্দি-কাশি ও বাড়তি মেদ থেকে মুক্তি পেতে এখুনি খান তুলসি পাতার চা !
প্রতিদিন অন্তত দু’বার তুলসি চা খেয়ে দেখুন, উপকার পাবেন।
সর্দি-কাশিতে তো বটেই, পেটের বাড়তি মেদ ঝটপট ঝরিয়ে ফেলতেও তুলসি চা অত্যন্ত উপকারি। কিভাবে বানাবেন এই চা? জানুন সহস পদ্ধতি ।
প্রথমে একটি পাত্রে ২ কাপ জল নিয়ে মাঝারি আঁচে বসান। জল ফুটে উঠলে তাতে ৩-৪টি তুলসি পাতা দিয়ে ভাল করে ফুটিয়ে নিন।
জল কিছুটা শুকিয়ে এলে ১ কাপের মতো হলে আঁচ থেকে নামিয়ে নিন।
এ বার এর সঙ্গে আধ-চামচ মধু মিশিয়ে খান।
প্রতিদিন অন্তত দু’বার তুলসি চা খেয়ে দেখুন, উপকার পাবেন।
বাসার বারান্দায় বা ফুলের টবে অন্তত একটি তুলসী গাছ লাগাতে পারেন।
অনেকেই ওজন কমাতে নানা চেষ্টা করেন। কিন্তু বারবার চেষ্টা করে সফল না হওয়ায় হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। সেক্ষেত্রে তুলসি পাতার চা ভালো উপায় হতে পারে।
তুলসি পাতা প্রাচীনকাল থেকেই আয়ুর্বেদ চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিশেষ করে ঠাণ্ডা-কাশি নিরাময়ে তুলসি পাতার জুড়ি নেই।
তুলসি পাতা বিপাকক্রিয়া বাড়াতে সাহায্য করে। বিপাকক্রিয়া যত ভালো হবে ক্যালরিও তত ঝরবে। নিয়মিত তুলসি পাতা খেলে শরীরে জমে থাকা টক্সিন বের হয়ে যায়। তুলসি পাতায় ক্যালরি যেমন খুব কম থাকে তেমনি উচ্চ পরিমাণে পুষ্টিও পাওয়া যায়।
নিয়মিত তুলসি পাতা গ্রহণের সহজ পদ্ধতি হলো প্রতিদিন রাতে পানিতে কয়েকটি পাতা ভিজিয়ে রেখে সকালে খালি পেটে তা পান করা। এছাড়া এতে পুদিনা পাতা এবং লেবুর রসও যোগ করতে পারেন।
সব ধরনের ভেষজ পাতার মধ্যে তুলসি সেরা। যদি কাঁচা তুলসি পাতা খেতে ভালো না লাগে তাহলে ওজন কমানোর জন্য এটি দিয়ে চা বানিয়ে খেতে পারেন।
তথ্যসূত্র:
- পুষ্টিবিদ, ইসরাত জাহান, প্রথম আলো।
- দিল আফরোজ সাইদা, যুগান্তর।
- আনন্দবাজার।
- বোল্ডস্কাই।
- এনডিটিভি> যুগান্তর।
- এনডিটিভি> এনটিভি।
- যুগান্তর।
- টাইমস অব ইন্ডিয়া> ইত্তেফাক।
- Edited: Natural_Healing.

কোন মন্তব্য নেই