অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক এলার্জি কি? প্রশ্ন উত্তরে একটি ঘরোয়া সমাধান
ত্বকের উপরিভাগের মতো অভ্যন্তরীণ অঙ্গেও অ্যালার্জি হতে পারে। সময়মতো সজাগ না হলে অ্যালার্জি থেকে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
বিষয়টির সঙ্গে কম-বেশি সকলেই পরিচিত। তবে যাঁরা ভুক্তভোগী, তাঁরা জানেন, কতটা মারাত্মক হতে পারে অ্যালার্জি! এটি একটি রোগ, আবার অন্য রোগের উপসর্গও বটে। ত্বকের উপরে অ্যালার্জি হলে তা চিনে নেওয়া সহজ। কিন্তু খাদ্যনালি, শ্বাসনালি বা চোখের মতো স্পর্শকাতর জায়গায় হলে, তা থেকে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। অ্যালার্জির উৎস খুঁজে বার করা চিকিৎসকদের কাছে একটি চ্যালেঞ্জিং কাজ। কারণ অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘকালীন অনুসন্ধানের পরেও নিশ্চিত হওয়া যায় না, কী থেকে রোগীর অ্যালার্জি হচ্ছে। অ্যালার্জির উৎস নির্ণয় করা গেলেই পরবর্তী চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব। চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সন্দীপন ধরের মতে, ‘‘ত্বকের উপরিভাগে যে অ্যালার্জি হয়, তার শতকরা ৭০ শতাংশ ক্ষেত্রে এগ্জ়িমা বা শুষ্ক ত্বকের সমস্যা। ২০ শতাংশ আর্টিকেরিয়া অ্যালার্জি বা আমবাত, ১০ শতাংশ হল কনট্যাক্ট অ্যালার্জি বা কোনও কিছুর সংস্পর্শে আসার কারণে অ্যালার্জি।’’৭০ শতাংশ-এগ্জিমা বা অ্যাটোপিক ডার্মাটাইটিস:
কারও এগ্জিমা হয়েছে মানেই বুঝতে হবে, তার ত্বক খুব বেশি পরিমাণে শুষ্ক। ডা. ধরের মতে, ‘‘ষাট শতাংশ এগ্জিমা হয় দু’বছরের কমবয়সি শিশুদের। আশি শতাংশ পাঁচ বছরের কম বয়সের শিশুদের। বাকি কুড়ি শতাংশের মধ্যে দশ শতাংশ কুড়ি বছরের কমবয়সিদের। এবং অন্য দশ শতাংশ ৩০-৩৫ বছরের ঊর্ধ্বে। তাই চল্লিশ বছর বয়সি কোনও ব্যক্তি প্রথম বার এগ্জিমার উপসর্গ নিয়ে আসছেন, এটা বিরল ঘটনা।’’
এগ্জিমার উপসর্গ: শুষ্ক ত্বকে চুলকানি থাকবে। শীতকালে সমস্যা বাড়বে। চুলকাতে চুলকাতে চামড়া ফুলে যাবে। তা থেকে রস নির্গত বা সিক্রেশন হতে পারে। মাথায় খুশকি থাকে। আসলে এটি ডিফিউজ়ড স্কেলিং অব দ্য স্ক্যাল্প। হাঁচি, শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ থাকবে। একটু হাওয়া লাগলে বা তাপমাত্রার পরিবর্তন হলেই নাগাড়ে পনেরো-সতেরোটি হাঁচি হওয়াকে বলা হয় অ্যালার্জিক রাইনাইটিস।
অ্যাটোপিক ট্রায়াড: এগ্জ়িমা, অ্যাজ়মা এবং অ্যালার্জিক রাইনাইটিস—এই ত্রিশঙ্কুকে বলা হয় অ্যাটোপিক ট্রায়াড।
মিথ: অনেক ক্ষেত্রে এমন ধারণা রয়েছে যে, এগ্জ়িমা নির্মূল হলে অ্যাজ়মার সমস্যা বাড়বে। আদতে এটি ভুল। এগজ়িমা এবং অ্যাজ়মা একই মুদ্রার দু’টি পিঠ। যে কোনও একটি অ্যালার্জি যে কোনও সময়ে উদ্দীপিত হতে পারে। সে কারণেই দেখা যায়, এগ্্জ়িমা সেরে ওঠার পরে হয়তো অ্যাজ়মার সমস্যা বাড়ছে।
অ্যাটোপিক মার্চ: এই তিনটি রোগ ক্রমান্বয়ে দেখা দেয়। ডা. ধরের কথায়, ‘‘সাধারণত একেবারে কম বয়সে হয় এগ্জ়িমা। সাত-বারো বছরের মধ্যে দেখা দেয় ব্রঙ্কিয়াল অ্যাজ়মা। সেটি বড় বয়সে থাকলে তখন ফুসফুস বিশেষজ্ঞকে দেখাতে হবে। আর অ্যালার্জিক রাইনাইটিস সাধারণত ১৮-২০ বছরের মধ্যে হয়।’’
২০ শতাংশ-আর্টিকেরিয়া অ্যালার্জি বা আমবাত:
চুলকে চুলকে ফুলে ওঠার অ্যালার্জিকে সাধারণ ভাবে আমবাত বলা হয়। এর সঙ্গে শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দিতে পারে। একে বলা হয় অ্যাঞ্জিয়ো ইডিমা। ল্যারিংক্সে ইডিমা হলে তাকে বলা হয় ল্যারেঞ্জিয়াল ইডিমা। খেতে গিয়ে গলায় খাবার আটকে যায়। শ্বাসকষ্ট এত সাংঘাতিক আকার ধারণ করে যে, রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি পর্যন্ত করাতে হয়। এটি অবশ্য আপৎকালীন একটি অবস্থা।
অনেকের ক্ষেত্রে কয়েক মাস বা কয়েক বছর পর্যন্ত আমবাত থাকতে পারে। তখন এটিকে বলা হয় ক্রনিক আর্টিকেরিয়া অ্যালার্জি। প্রাথমিক ভাবে মনে করা হয়েছিল, এর নেপথ্যে বিভিন্ন ধরনের খাবারের ভূমিকা রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, রেস্তরাঁর খাবার বা বাইরের কেনা খাবারে অনেক বেশি পরিমাণে প্রিজ়ার্ভেটিভ, কালারিং এজেন্ট থাকে, যা থেকে অ্যালার্জি হতে পারে।
ওরাল ফুড চ্যালেঞ্জ: কোনও বিশেষ খাবার থেকে অ্যালার্জি হচ্ছে কি না, তা বোঝার জন্য প্রথমেই রক্তপরীক্ষা বা অন্য কোনও পরীক্ষা করাতে বারণ করছেন চিকিৎসকেরা। কারণ সেই পরীক্ষার ফল পুরোপুরি নির্ভরযোগ্য নয়। তার পরিবর্তে ওরাল ফুড চ্যালেঞ্জ করে দেখতে পারেন। কোনও খাবার খেয়ে যদি অ্যালার্জি হয়, তবে দিনকয়েকের বিরতি নিন। আবার সেই খাবার খেয়ে দেখুন। বারতিনেক এমন করার পরে, যদি প্রতি বারই অ্যালার্জি হয়, তখন টেস্ট করান।
চিকিৎসা: এই ধরনের অ্যালার্জির ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টি-হিস্টামিন দেওয়া হয়। বাড়াবাড়ি হলে স্টেরয়েড দেওয়া হয়।
১০ শতাংশ-কনট্যাক্ট অ্যালার্জি:
কয়েকটি বিশেষ ধরনের মেটাল, হাতঘড়ির ব্যান্ড, নেলপলিশ, আইলাইনার, সিগারেটের ছাই, কোনও বিশেষ ফুলের রেণু—ইত্যাদি থেকেও অ্যালার্জি হতে পারে। সাধারণত গরমকালে ঘাম বেশি হয়। ঘামের সোডিয়াম ক্লোরাইডের সঙ্গে রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে গরমকালে এই ধরনের অ্যালার্জি বেশি দেখা যায়। এ ক্ষেত্রে অ্যালার্জির কারণ খুঁজে বার করাই এর চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ।
উপরে আলোচিত সব ধরনের অ্যালার্জি ত্বকের উপরিভাগে হয়, যা দৃশ্যমান। এর বাইরেও কিছু অ্যালার্জি রয়েছে।
অন্য অ্যালার্জি:
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. অরুণাংশু তালুকদারের মতে, ‘‘বেশ কিছু ইমিউনোলজিক্যাল ডিজ়িজ়ের প্রাথমিক উপসর্গ হিসেবে অ্যালার্জি দেখা যায়। আরও পরীক্ষা করার পরে প্রকৃত রোগের সন্ধান পাওয়া যায়।’’ ভারতের মতো নাতিশীতোষ্ণ দেশে ফাঙ্গাস এবং কৃমির কারণে অ্যালার্জি খুব বেশি পরিমাণে দেখা যায়।
বোলতা, মৌমাছি, সামুদ্রিক মাছের কামড়ে শ্বাসনালির ভিতরে এমন ভাবে ফুলে যায়, যে চিকিৎসার আগেই মৃত্যু পর্যন্ত হয়। চোখের কনজাংটিভাইটিস এক ধরনের অ্যালার্জি। ডা. তালুকদারের কথায়, ‘‘অভ্যন্তরীণ অঙ্গে অ্যালার্জির চেয়ে ত্বকের উপরে অ্যালার্জি কম ক্ষতিকর। কারণ এতে জীবনহানির সম্ভাবনা কম।’’
ছোট শিশুদের কলিক পেনের নেপথ্যে রয়েছে এক ধরনের অ্যালার্জিজনিত প্রতিক্রিয়া। ‘‘প্রথম যখন শিশুকে কোনও খাবার (ভাত, প্রাণিজ প্রোটিন) খাওয়ানো হয়, তখন তার শরীরে এক ধরনের প্রতিরোধ দেখা যায়। কারণ তার শরীর ওই খাদ্যের সঙ্গে অভ্যস্ত নয়। ধীরে ধীরে শরীর ওই খাবারের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়,’’ বললেন ডা. তালুকদার।
চোখ, মুখের ভিতর, শ্বাসনালির ভিতরে অ্যালার্জি হলে সেইমতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নিরিখে ভারতে অ্যালার্জির হার এগারো শতাংশ। ডা. ধরের মতে, ‘‘অ্যালার্জি সংক্রান্ত গবেষণা এখনও অবধি সবচেয়ে বেশি করেছেন জার্মানরা। তাঁদের অনুসন্ধানে দেখা গিয়েছে প্রকৃতির সান্নিধ্যে যারা বেশি থেকেছে, তাদের মধ্যে অ্যালার্জি হওয়ার সম্ভাবনা কমেছে। এটিকে বলা হয় হাইজিন হাইপোথিসিস।’’
অ্যালার্জি অবহেলা করার নয়। অ্যালার্জির কারণ চিহ্নিত করা গেলে, তা থেকে দূরে থাকাই বাঞ্ছনীয়।
এবার প্রশ্ন উত্তর পর্ব:
প্রশ্ন :এই সময়ে হাঁচি, কাশি, এলার্জিজনিত রোগব্যাধির প্রকোপ বেড়ে যায় এর কারণ কী?
উত্তর : এ সময় অনেক দিন ধরে বৃষ্টি না হওয়ায় আবহাওয়ায় দূষণ শুরু হয়। কারণ শীতের প্রায় শেষে বাতাসে অনেক ধুলাবালি থাকে। এই ধুলাবালির সঙ্গে এলার্জেন মিশে থাকে। এই সময় এলার্জি হওয়ার বিভিন্ন উপাদান আমাদের শ্বাসনালির ভেতর ঢুকে যায় বা আমাদের ত্বকের ওপর বসে পড়ে। মোটকথা, বাতাসে আর্দ্রতা কম থাকার ফলে এলার্জির প্রকোপ বেড়ে যায়।
প্রশ্ন : হাঁচি, কাশির সঙ্গে এলার্জির এই সম্পর্ক কেন? কীভাবে ত্বকে বিভিন্ন উপসর্গের মাধ্যমে এটি প্রকাশ পায়?
উত্তর : আসলে হাঁচি, কাশি উপসর্গ মাত্র। এসব কিছুই এলার্জি সংক্রান্ত রোগ। আবার সব হাঁচি যে এলার্জি সংক্রান্ত তা-ও নয়। এ সময় সকালের দিকে অনেক হাঁচি হতে পারে। নাক দিয়ে হঠাৎ করে পানি পড়ে এবং কাশি হয়ে থাকে। অনেকের ত্বকে অযথাই চুলকানি শুরু হয়। এগুলো সবকিছুর উৎস একই, কেবল উপসর্গ ভিন্ন।
এই এলার্জি যখন নাকে যায় তখন নাকের ঝিল্লির ওপর বসে প্রতিক্রিয়া শুরু করে তখন হাঁচি শুরু হয়। যখন গলায় যায় তখন কাশি হয় এবং যখন ত্বকে এলার্জি হয় তখন এটি চুলকানি আকারে প্রকাশ পায়।
প্রশ্ন :এলার্জেন আসলে কোন কোন ক্ষেত্রের ওপর ( ফেক্টরের) নির্ভর করে। সবার ক্ষেত্রে তো একই রকম হয় না। সেটি কীভাবে বোঝা যাবে?
উত্তর : অতিসংবেদনশীলতা এলার্জির মূল কারণ। তবে এটি ব্যক্তি বিশেষে ভিন্ন রকম হয়। তবে এলার্জি শুধু যে এই সংবেদনশীলতার ওপর নির্ভর করে তা নয়।
এ ছাড়া আরো কারণ আছে। যেমন : আবহাওয়ায় কত পরিমাণ এলার্জির উপাদানগুলো ছড়িয়ে আছে তার ওপরও এই সমস্যা নির্ভর করে। আবহাওয়ায় এলার্জির উপাদান যত বাড়তে থাকে এই রোগের প্রকোপও তত বাড়তে থাকে।একটি শহরে যত বেশি দূষণ হবে মানুষ তত এলার্জির সমস্যায় ভুগবে।
তা ছাড়া আমাদের অনেক খাদ্যের উপাদানের মধ্যেও এলার্জেন আছে। অনেক খাদ্যের উপাদান এই এলার্জির জন্য দায়ী। তবে এটি ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন রকম হয়ে থাকে।
প্রশ্ন :এলার্জিজনিত কারণে ত্বকের সমস্যা হলে সেটি বোঝার উপায় কী?
উত্তর : এলার্জির কারণে ত্বকের সমস্যা হলে হঠাৎ ত্বক লাল চাকার মতো ফুলে উঠে। এর সাথে অতিরিক্ত চুলকানি হয়। অনেক জায়গায় একত্রে হতে পারে বা নিদির্ষ্ট জায়গায়ও হতে পারে। তবে এই সমস্যা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না। সাধারণত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এটা চলে যায়। ২৪ ঘণ্টার পর আবার ফিরে এসে ভিন্ন জায়গায় চুলকানি হয়।
বেশি কাশি হলে গলা বসে যেতে পারে। কাশতে কাশতে অনেক সময় ফেরিনজাইটিস হয়ে যায়। ফেরিনজাইটিস হলে গলা ব্যথার সমস্যা হয়।
প্রশ্ন : অনেক সময় ঠাণ্ডার কারণে এলার্জি, ধুলার কারণে এলার্জি এই বিষয়গুলো শুনে থাকি। এই বিষয়গুলো কী? হাঁচি,কাশির সঙ্গে এগুলোর কী সম্পর্ক রয়েছে?
উত্তর : এতক্ষণ যা আলোচনা হচ্ছিল সেগুলোর মধ্যে ধুলাবালি, বায়ু দূষণ সেগুলো সবই ছিল। কিন্তু আরো কিছু এলার্জি যেমন ঠাণ্ডা জনিত এলার্জি আছে, যেগুলো শীত হয় বা শীতের পর পর হয়। এ সময় শীত চলে গেছে ভেবে মানুষ অতটা গরম কাপড় পরে না। ফলে ঠাণ্ডা জনিত এলার্জি হয়।
অনেক ক্ষেত্রে আবার গরমের সময় গরম জনিত এলার্জি দেখা যায়। অতিরিক্ত গরম হলে ঘাম হয় শরীরে। ঘাম যদি তাড়াতাড়ি না শুকায় তাহলে একই ধরনের এলার্জি হয়। এ ক্ষেত্রেও রোগের উপসর্গ একই থাকে।
প্রশ্ন : খাবার থেকে অনেক সময় এলার্জি হয়। কোন ধরনের খাবারে এ ধরনের সমস্যা হয়?
উত্তর : অনেকেই ভাবে খাবারের এলার্জি কেবল নির্দিষ্ট খাবারেই হয়। সাধারণত ভাবা হয়, গরুর মাংস, ইলিশ মাছ, চিংড়ি মাছ- এসব খাবার খেলে এলার্জি হয়। তবে এগুলো সঠিক নয়। ব্যক্তি বিশেষে নিদির্ষ্ট একটি খাবারে এলার্জির সমস্যা থাকতে পারে।এতগুলো উপাদানের ফলে সাধারণত একজন মানুষের এলার্জির সমস্যা হয় না।
পেশাগত অভিজ্ঞতায় দেখেছি, ইলিশ মাছ সরাসরি এলার্জির জন্য দায়ী নয়। তবে চিংড়ি মাছে এলার্জি হতে পারে। খোসা জাতীয় মাছ যেটাকে ইংরেজিতে শেল ফিস বলে এসবে সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
দুধে এলার্জি থাকে। বিশেষ করে গরুর দুধে। যখন গরুকে কোনো কারণে চিকিৎসা দিতে হয় তখন যে দুধ পাওয়া যায় সেখান থেকে এলার্জি হতে পারে। চিকিৎসা বলতে বোঝানো হচ্ছে, যদি গরুটিকে পেনিসিলন জাতীয় এন্টি বায়োটিক দিতে হয় তখন এটির প্রভাব দুধে চলে আসে। যাদের এলার্জি আছে তারা ওই দুধ খেলে তার এলার্জির সমস্যা হতে পারে।
এ ছাড়া লাল জাতীয় সবজি খেলে এলার্জির সমস্যা হতে পারে। যেমন : গাজর, মিষ্টি কুমড়া, টমেটো- এ ধরনের রঙিন সবজিতে এলার্জির সমস্যা থাকে। তাই ব্যক্তি বিশেষে কোন খাবারে এলার্জির সমস্যা হচ্ছে সেটি জানতে হবে এবং সেভাবেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ মতো চলতে হবে।
প্রশ্ন: এলার্জি প্রতিরোধে সাবান ব্যবহার করা যাবে কিনা?
উত্তর: গ্লিসারিনযুক্ত যে সোপগুলো আছে, বডিওয়াশ আছে, আমরা এগুলো বলি বা সিরামাইডযুক্ত যে সাবান, বডি ওয়াশ বা লোশন পাওয়া যায়, সেগুলো ব্যবহার করতে বলি। তো বাচ্চাকে অল্প সময়ে গোসল করিয়ে ভালোভাবে মুছিয়ে কিন্তু বাচ্চাকে লোশন দিতে হবে গায়ে। লোশন দিয়ে তাকে ফুল স্লিভ ড্রেস পরতে হবে। এটা হলো বাচ্চাদের ক্ষেত্রে। বড়দের বেলায়... বড়রা সাধারণত গোসল করে, বডিতে লোশন দেওয়ার দরকার নেই এবং বড় বা বাচ্চাদের অলিভ অয়েল মেখে গোসল করতে গেলে তার স্কিন থেকে তেল কম বের হয়ে যাবে। তার স্কিন খুব সহজে হাইড্রেটেড থাকবে বা অলিভ অয়েল মেখে বা নারকেল তেল মেখেও গোসল করতে পারে। যাদের স্কিন অনেক বেশি ড্রাই, তারাঁও কিন্তু এলার্জিতে অনেক বেশি ভোগেন।
প্রশ্ন: শীতকালে ইচিং (চুলকানি) হলে কি করব?
উত্তর: শীতকালে দেখা যায় ইচিংয়ের পরিমাণ অনেকটা বেড়ে যায়, বেড়ে যাওয়ার একটা কারণ হচ্ছে ড্রাই স্কিন। ড্রাইনেসের জন্য স্কিন চুলকায়। এই ইচিংয়ের জন্য ময়েশ্চারাইজ করতে হবে দু-তিন বার। গোসলের পরে এক বার, রাতে এক বার, পারলে যদি আরেক বার করতে পারে, সেটাও ভালো। একমাত্র ময়েশ্চারাইজিং এই ড্রাই স্কিনটাকে প্রিভেন্ট করতে পারে। আর একটা হচ্ছে যাদের সারা বছরই অল্পস্বল্প থাকে, শীতকাল এলে বেড়ে যায়।
এলার্জি নিরাময়ে নিন একটি ঘরোয়া উপায়:
এলার্জির সঙ্গে আমরা কম-বেশি সবাই পরিচিত। এলার্জির কারণে যখন-তখন অস্বস্তিতে ভোগেন অনেকেই। এলার্জি শুধু চুলকানি নয়, হাঁচি-কাশি কিংবা হাঁপানিও এলার্জির মধ্যে পড়ে। এর সমস্যা যে কতোটা ভয়ঙ্কর, তা শুধু ভুক্তভোগীরাই জানেন।
এলার্জির কারণে অনেকে খাদ্যতালিকা থেকে বাদ রাখেন প্রিয় খাবারদাবার। যেমন- গরুর দুধ, হাঁসের ডিম ডিম, ইলিশ, চিংড়ি, পুঁটি, বোয়াল, বেগুন, কচু, গরুর মাংস, হাঁসের মাংস ইত্যাদি। কারণ এলার্জির কারণে অনেকের ত্বক চুলকাতে থাকে এবং সঙ্গে সঙ্গে চাকা হয়ে লাল হয়ে যায়। কারও চোখ চুলকায়, এ থেকে পানি পড়া ও চোখ লাল হয়ে ফুলে ওঠে।
চর্মরোগ, হাঁপানি ও নাক দিয়ে পানি পড়া বা হাঁচির সমস্যাও হয় এলার্জির কারণে। তাই থেকে মুক্তি পেতে অনেকে নিয়মিত ওষুধ খেয়ে থাকেন। তবে ওষুধ ছাড়াও এলার্জি দূর করা সম্ভব। নিম পাতার মিশ্রণে এক মাসের মধ্যে সহজ উপায়ে এলার্জিকে চিরবিদায় করা যায়! এবার জেনে নিন।।
১) ১ কেজি নিম পাতা ভালো করে রোদে শুকিয়ে নিন।
২) শুকনো নিম পাতা পাটায় পিষে গুড়ো করুন এবং সেই গুড়ো ভালো একটি কাঁচের পাত্রে ভরে রাখুন।
৩) এবার ইসব গুলের ভুষি কিনুন। ১ চা চামচের তিন ভাগের এক ভাগ নিম পাতার গুড়ো ও এক চা চামচ ভুষি ১ গ্লাস পানিতে আধা ঘন্টা ভিজিয়ে রাখুন।
৪) আধা ঘন্টা পর চামচ দিয়ে ভালো করে নাড়–ন।
৫) প্রতি দিন সকালে খালি পেটে, দুপুরে ভরা পেটে এবং রাত্রে শোয়ার আগে খেয়ে ফেলুন। ২১ দিন একটানা খেতে হবে।
৬) কার্যকারীতা শুরু হতে ১ মাস লেগে যেতে পারে। দেখবেন ভালো হয়ে যাবে এবং এরপর থেকে এলার্জির জন্য যা যা খেতে পারতেন না যেমন- হাঁসের ডিম, বেগুন, গরুর মাংস-দুধ, চিংড়ি সহ অন্যান্য খাবারও বেশ মজা করেই খেতে পারবেন।
চিকিৎসাঃ-
তবে অনেক দিন ধরে চুলকানি এবং এলার্জির সমস্যায় ভুগতে থাকলে অভিজ্ঞ এবং নিবন্ধনকৃত ডাক্তারের পরামর্শ মত কিছুদিন ট্রিটমেন্ট নিতে পারেন, আশা করি আপনার এলার্জির সমস্যা দূর হয়ে যাবে।
তথ্যসূত্র:
- চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সন্দীপন ধর,
- মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. অরুণাংশু তালুকদার,
- আনন্দবাজার।
- বারডেম হাসপাতালের চর্মরোগ বিভাগের বিভাগীয়প্রধান ডাক্তার রেজা বিন জায়েদ,
- পুষ্টিবিদ নুসরাত জাহান দীপা,
- এনটিভি।
- একুশে টিভি।
- দৈনিক ইনকিলাব।
- Edited: Natural_Healing.

কোন মন্তব্য নেই