First Aid Present

Lifestyle Modification এবং প্রাকৃতিক খাদ্য, পানীয়, শাকসবজি, গাছ, ডালপালা, ফল, মসলা, পাতা ও ফুল ইত্যাদির দ্বারা প্রাথমিক চিকিৎসা।

অ্যালার্জি - অতিপ্রতিক্রিয়া এবং বিষম অতিপ্রতিক্রিয়া কি? এগুলি কতটুকু মারাত্মক?

অতিপ্রতিক্রিয়া:-

অতিপ্রতিক্রিয়া বা ইংরেজি পরিভাষায় Allergy বলতে পরিবেশে অবস্থিত কতগুলি বস্তুর উপস্থিতিতে কিছু কিছু ব্যক্তির দেহের প্রতিরক্ষাতন্ত্রের অতিসংবেদনশীলতার কারণে সৃষ্ট কতগুলি তীব্র বিরূপ প্রতিক্রিয়াকে বুঝায়। এই বস্তুগুলি অধিকাংশ ব্যক্তির ক্ষেত্রে সাধারণত কোনো সমস্যা তৈরি করে না। এই বিরূপ প্রতিক্রিয়াগুলিকে একত্রে "অতিপ্রতিক্রিয়াজনিত ব্যাধি" অ্যালার্জি বলে।

অতিপ্রতিক্রিয়ার উদাহরণ হিসেবে 'হে জ্বর' অর্থাৎ সিজনাল এলার্জি, খাদ্যে অতিপ্রতিক্রিয়া, অতিপ্রতিক্রিয়াজনিত ত্বকপ্রদাহ (এটপিক ডার্মাটাইটিস), অতিপ্রতিক্রিয়াজনিত হাঁপানি ও বিষম অতিপ্রতিক্রিয়া (অ্যানাফাইল্যাক্সিস) উল্লেখযোগ্য। 

লক্ষণ ও কারণ:

লক্ষণগুলো হলো চোখ লাল হয়ে যাওয়া, চুলকানিযুক্ত ফুসকুড়ি, রাইনোরিয়া বা নাক দিয়ে অনবরত পানি পড়া, শ্বাসকষ্ট অথবা ফুলে যাওয়া ইত্যাদি।

রক্তস্ফোট, লাল ফুসকুঁড়ি বা ছুলি অতিপ্রতিক্রিয়ার একটি সাধারণ উপসর্গ।
পরাগ বা পুষ্পরেণু ও কিছু খাবার খুব সাধারণ কিছু অতিপ্রতিক্রিয়া-এলার্জি সৃষ্টি করে। ধাতবসহ অন্যান্য বস্তুও এলার্জির সমস্যা তৈরি করতে পারে। খাবার, কীটপতঙ্গের হুল ও ঔষধ তীব্র বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টির জন্য দায়ী। বংশগত ও পরিবেশগত কারণে এ সকল বিক্রিয়া বা এলার্জি সৃষ্টি হয়ে থাকে। শরীরের অনাক্রম্যতন্ত্রের এক ধরনের প্রতিরক্ষিকা (অ্যান্টিবডি) ইমিউনোগ্লোবিউলিন-ই (IgE) এক্ষেত্রে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে। এর এক অংশ অতিপ্রতিক্রিয়া-উৎপাদক বস্তুর সাথে এবং অপর অংশ মাস্ট কোষ বা ক্ষারাকর্ষী শ্বেতকণিকার (বেসোফিল) গ্রাহকের (রিসেপ্টর) সাথে বন্ধন তৈরি করে, যার ফলে উক্ত কোষসমূহ থেকে প্রদাহ সৃষ্টিকারী কতকগুলো রাসায়নিক পদার্থ (যেমন হিস্টামিন) বের হয়। আর এভাবে এলার্জি সৃষ্টি হয়।

রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা:
রোগনির্ণয় মূলত রোগের ইতিহাসের উপর নির্ভরশীল। মাঝে মাঝে চর্ম ও রক্তের কিছু পরীক্ষাও করা হয়। 
অতিপ্রতিক্রিয়া বা অ্যালার্জি চিকিৎসার মূল দিক হলো যে বস্তুটি অতিপ্রতিক্রিয়ার জন্য দায়ী তা থেকে দূরে থাকা। কর্টিকোস্টেরয়েড ও অ্যান্টিহিস্টামিন ওষুধসমূহ অতিপ্রতিক্রিয়া থেকে আরোগ্য লাভের জন্য ব্যবহার করা হয়। খুব তীব্র প্রতিক্রিয়ার ক্ষেত্রে অ্যাড্রেনালিন সূচিপ্রয়োগ করা হয়। এছাড়া কোনও কোনও ক্ষেত্রে অতিপ্রতিক্রিয়ার চিকিৎসায় অতিপ্রতিক্রিয়া-উৎপাদক অনাক্রম্য চিকিৎসা (Allergen immunotherapy অ্যালার্জেন ইমিউনোথেরাপি) ব্যবহার করা হয়। খাদ্যে অতিপ্রতিক্রিয়ার ক্ষেত্রে অনাক্রম্য চিকিৎসার (ইমিউনোথেরাপি) কার্যকারিতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

অনেক ব্যক্তিই অ্যালার্জি বা অতিপ্রতিক্রিয়া সমস্যায় ভুগে থাকেন। উন্নত বিশ্বে প্রায় ২০% ব্যক্তি অতিপ্রতিক্রিয়াজনিত নাসিকাপ্রদাহ (রাইনাইটিস) বা সর্দিতে ভুগছেন। প্রায় ৬% ব্যক্তির অন্তত একটি খাদ্যে অতিপ্রতিক্রিয়া রয়েছে। ২০% ক্ষেত্রে অ্যাটপিক ডার্মাটাইটিস হয়। দেশভেদে প্রায় ১-১৮% ব্যক্তি অ্যাজমা বা হাঁপানিতে আক্রান্ত। ০.০৫-২% ক্ষেত্রে বিষম অতিপ্রতিক্রিয়া (অ্যানাফিল্যাক্সিস) হয়। অতিপ্রতিক্রিয়ায় ভুক্তভোগী রোগীর সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে।

বিষম অতিপ্রতিক্রিয়া:-

বিষম অতিপ্রতিক্রিয়া, তীব্রগ্রাহিতা বা ইংরেজি  অ্যানাফিল্যাক্সিস (Anaphylaxis) হল একটি তাৎক্ষণিক, গুরুতর, সংকটজনক অতিপ্রতিক্রিয়া (অ্যালার্জি) যা হঠাৎ শুরু হয় এবং যা চরম পর্যায়ে মানুষের মৃত্যুও ঘটাতে পারে।

লক্ষণ ও কারণ:

বিষম অতিপ্রতিক্রিয়ার সাধারণত চুলকানিযুক্ত ফুসকুড়ি, গলা ফোলা, এবং নিম্ন রক্তচাপসহ কয়েকটি রোগ লক্ষণ আছে।

বিষম অতিপ্রতিক্রিয়ার শনাক্তকারী চিহ্ন ও উপসর্গসমূহ।
সাধারণত যেসব উপসর্গ দেখা যায় সেগুলো হল হঠাৎ ত্বকের স্ফীতি (আমবাত), চুলকানি, মুখ বা ত্বকের রক্তিমতা (রক্তিমাভা), অথবা ঠোঁট ফুলে যাওয়া। ত্বকের নিচে ফুলে গেলে (অ্যাঞ্জিওডেমা) চুলকানির পরিবর্তে ত্বকে জ্বালা অনুভূত হতে পারে। জিহ্বা অথবা গলা ২০% পর্যন্ত স্ফীত হতে পারে। অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের মধ্যে নাকে সর্দি এবং চোখ ও চোখের পাতার শ্লৈষ্মিক ঝিল্লীর স্ফীতি (কনজাঙ্কটিভা)। ত্বকও অক্সিজেনের অভাবের কারণে নীল বর্ণ (সায়ানোসিস) ধারণ করতে পারে।
বিষম অতিপ্রতিক্রিয়াতে আক্রান্ত ব্যক্তির পিঠে আমবাত ও রক্তিমাভা।
শ্বাস প্রশ্বাসের উপসর্গ এবং লক্ষণের মধ্যে রয়েছে শ্বাসকষ্ট, শ্বাস সমস্যায় নিচু শব্দে শ্বাস কার্য (শনশন শব্দ), অথবা শ্বাস সমস্যায় উচ্চ-তীক্ষ্ণ শব্দে শ্বাস কার্য (স্ট্রাইডর)। সাধারণত শ্বাসনালির নিচের অংশের পেশীর (শ্বাসনালি পেশী) কারণে বিক্ষেপের নিচু শব্দে শ্বাস হয়। উচ্চ-তীক্ষ্ণ স্বরবিশিষ্ট শ্বাস হয় উপরের শ্বাসনালি ফোলার কারণে, যা শ্বাসপ্রশ্বাসের পথ সরু করে দেয়। স্বরভঙ্গ, স্ফীতির সঙ্গে ব্যথা, বা কাশিও হতে পারে।

হৃৎপিণ্ডের নির্দিষ্ট কোষ থেকে হিস্টামাইন অবমুক্তির কারণে হৃৎপিণ্ডের রক্তবাহী নালীসমূহ হঠাৎ (করোনারি ধমনীর সঙ্কোচন) সংকুচিত হতে পারে। হৃৎপিণ্ডে এই রক্তচলাচলে ব্যাঘাতের ফলে হৃদ-কোষের মৃত্যু হতে পারে (মাইওকার্ডিয়াল ইনফার্কশন), বা হৃৎ-স্পন্দন খুব ধীর গতিতে বা খুব দ্রুত গতিতে চলতে পারে (হৃৎস্পন্দন বৈকল্য বা কার্ডিয়াক ডিসরিদোমিয়া), বা হৃৎ-স্পন্দন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ (হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ) হয়ে যেতে পারে। যেসব ব্যক্তি ইতোমধ্যেই হৃদরোগে আক্রান্ত বিষম অতিপ্রতিক্রিয়ার (অ্যানাফিল্যাক্সিস) কারণে তাদের হৃদযন্ত্রের আক্রান্ত হওয়ার বেশি ঝুঁকি থাকে। সচরাচর নিম্ন রক্ত চাপের কারণে দ্রুত হৃৎ-স্পন্দনের হার দেখা গেলেও, এ আক্রান্ত ১০% ব্যক্তির মধ্যে নিম্ন রক্ত চাপসহ ধীর হৃৎ-স্পন্দন (ব্র্যাডিকার্ডিয়া) দেখা দিতে পারে। (ধীর হৃৎ-স্পন্দন হার এবং নিম্ন রক্তচাপের মিশ্রণ বেজল্ড-জ্যারিচ ক্রিয়া হিসাবে পরিচিত)। রক্তচাপ কমে যাওয়ার কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি মস্তিষ্ক হাল্কা অনুভব করতে পারে বা চেতনা হারাতে পারে। এই নিম্ন রক্তচাপ রক্তবাহী নালীর প্রসারের ফলে হতে পারে (বণ্টক শক) অথবা হৃৎপিণ্ডের নিলয়ের ব্যর্থতাঘটিত (কার্ডিওজেনিক শক) হতে পারে। বিরল ক্ষেত্রে, খুব নিম্ন রক্তচাপ অ্যানাফিল্যাক্সিস-এর একমাত্র লক্ষণ হতে পারে।

পাকস্থলী ও অন্ত্রের উপসর্গের মধ্যে রয়েছে পেশির সঙ্কোচনজনিত পেটে ব্যথা, ডায়রিয়া, এবং বমি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি চিন্তায় বিভ্রান্ত হতে পারে, তার মূত্রথলীর নিয়ন্ত্রণও হারাতে পারে, এবং শ্রোণীতে (pelvis) জরায়ুর সংকোচন জনিত ব্যথা অনুভূত হতে পারে। মস্তিষ্কের চারপাশের রক্তনালীসমূহের বিস্তৃতির কারণে মাথাব্যথা হতে পারে। এছাড়াও আক্রান্ত ব্যক্তি উদ্বিগ্ন বোধ করতে পারে বা ধারণা করতে পারে যে সে মারা যাচ্ছে।

কারণ;

কিছু নির্দিষ্ট ধরনের শ্বেতকণিকা থেকে প্রোটিনের অবমুক্তির ফলে বিষম অতিপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এই প্রোটিনগুলি এমন পদার্থ যা কোন অতিপ্রতিক্রিয়া শুরু করতে পারে বা অতিপ্রতিক্রিয়াকে গুরুতর করতে পারে। কোন রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার বিক্রিয়ার কারণে অথবা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত নয় এমন অন্য কারণেও তাদের অবমুক্তি হতে পারে।

বহিরাগত প্রায় সকল পদার্থের প্রতি শরীরের প্রতিক্রিয়া থেকে বিষম অতিপ্রতিক্রিয়া (অ্যানাফিল্যাক্সিস) হতে পারে। সাধারণ কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে পোকামাকড়ের কামড় বা হুল থেকে বিষ, খাদ্য, এবং ঔষধ। শিশু এবং বয়োঃপ্রাপ্ত তরুণদের মধ্যে খাবার অতি সাধারণ কারণ। ঔষধ এবং পোকার কামড় ও হুল ফোটা থেকে বয়স্কদের মধ্যে এটি ঘটার প্রবণতা অতি সাধারণ। কম প্রচলিত কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে শারীরিক উপাদান, জৈব ঘটক (যেমন বীর্য), তরুক্ষীর, হরমোনের পরিবর্তন, খাদ্য সংযোজন দ্রব্য (যেমন মোনোসোডিয়াম গ্লুটামেট এবং খাদ্যের রং), এবং ঔষধ যা চামড়ায় (স্থানীয়ভাবে) প্রয়োগ করা হয়।

মৌমাছি ও বোলতার মত পোকামাকড়ের (হাইমেনোপ্টেরা) বা বড় ছাড়পোকারফুটানো হুল বা কামড়ের বিষ থেকে বিষম অতিপ্রতিক্রিয়া (অ্যানাফিল্যাক্সিস) হতে পারে। বিষ থেকে অতীতে কোন ব্যক্তির প্রতিক্রিয়া হয়ে থাকলে এবং হুলের চারিদিকে স্থানগত প্রতিক্রিয়ার চেয়ে বেশি কিছু হলে, ভবিষ্যতে তাদের বিষম অতিপ্রতিক্রিয়ার অধিক ঝুঁকি থাকে। তবে, বিষম অতিপ্রতিক্রিয়াতে যেসব লোক মারা গেছে তাদের অর্ধেকেরই পূর্ববর্তী কোনো ব্যাপক (তন্ত্র সংক্রান্ত) প্রতিক্রিয়া ছিল না।

অনেক খাবার বিষম অতিপ্রতিক্রিয়া (অ্যানাফিল্যাক্সিস) সৃষ্টি করতে পারে, এমনকি যখন প্রথমবারের জন্য সেটি খেলেও। পাশ্চাত্য সংস্কৃতিতে সবচেয়ে প্রচলিত কারণ হল বাদাম, গম, ট্রি নাট, খোলসি মাছ, মাছ, দুধ, এবং ডিম খাওয়া বা এসবের সংস্পর্শে আসা। মধ্যপ্রাচ্যে সচরাচর যে খাদ্য থেকে এটি হয় তা হল তিল। এশিয়াতে, ধান এবং ছোলা প্রায়ই বিষম অতিপ্রতিক্রিয়ার কারণ হয়। খাদ্য গ্রহণ থেকেই সাধারণত গুরুতর অবস্থা সৃষ্টি হয়।

যে কোন ঔষধ বিষম অতিপ্রতিক্রিয়া (অ্যানাফিল্যাক্সিস) ঘটাতে পারে। সবচেয়ে প্রচলিত হল β-ল্যাকটাম অ্যান্টিবায়োটিক (যেমন পেনিসিলিন) এবং তার পরে রয়েছে অ্যাসপিরিন এবং এনএসএআইডি। কোন ব্যক্তির কোনও এনএসএআইডি-তে অতিপ্রতিক্রিয়া থাকলে তিনি সাধারণত বিষম অতিপ্রতিক্রিয়াতে আক্রান্ত করে না এমন অন্য একটি এনএসএআইডি ব্যবহার করতে পারেন। বিষম অতিপ্রতিক্রিয়ার অন্যান্য সাধারণ কারণগুলির মধ্যে রয়েছে রাসায়নিক চিকিৎসা (কেমোথেরাপি), টিকা, প্রোটামিন (বীর্যে পাওয়া যায়), এবং ভেষজ ঔষধ। ভ্যানকোমাইসিন, মর্ফিন, এবং এক্স-রে ছবি উন্নত করতে ব্যবহৃত উপাদানসহ (রেডিওকনট্রাস্ট বস্তু) কোন কোন ঔষধ কলার নির্দিষ্ট কিছু কোষকে ক্ষতিগ্রস্ত করায় এগুলো হিস্টামাইন অবমুক্ত করে (মাস্ট কোষে সাইটোপ্লাজমিক দানা ক্ষরণ) বিষম অতিপ্রতিক্রিয়া ঘটায়।
সংকটজনক (ক্ষেত্রবিশেষে জীবনঘাতী) অতিপ্রতিক্রিয়া বা অ্যালার্জি।
বিষম অতিপ্রতিক্রিয়া সাধারণত কয়েক মিনিট বা ঘণ্টার ব্যবধানে বিভিন্ন উপসর্গ সৃষ্টি করে। রোগের কারণ যদি কোনও পদার্থ হয়ে থাকে যা সরাসরি রক্তধারায় (শিরাভ্যন্তরীণভাবে) শরীরে প্রবেশ করে, তবে লক্ষণগুলি গড়ে ৫ থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যে প্রদর্শিত হয়। ব্যক্তির আহার করা কোন খাদ্য রোগের কারণ হলে সেক্ষেত্রে গড়ে ২ ঘণ্টা সময় লাগে। যেসব স্থান সাধারণত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় সেগুলো হল: ত্বক (৪০-৯০%), ফুসফুস এবং শ্বাসপথ (৭০%), পাকস্থলী এবং অন্ত্র (৩০-৪৫%), হৃৎপিণ্ড এবং রক্তবাহী নালী (১০-৪৫%), এবং কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র (১০-১৫%)। সাধারণত এই প্রণালীগুলির দুই অথবা ততোধিক জড়িত থাকে।

রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা:

ব্যক্তির উপসর্গ ও লক্ষণগুলির ভিত্তিতে বিষম অতিপ্রতিক্রিয়া রোগ নির্ণয় করা হয়। এর প্রাথমিক চিকিৎসা হল এপিনেফ্রিন সূচিপ্রয়োগ (ইনজেকশন), যা কখনও কখনও অন্যান্য ওষুধের সঙ্গে প্রয়োগ করা হয়।

কারণ জানা থাকলে আর দ্রুত চিকিৎসা করা হলে ব্যক্তির সুস্থ হবার ভাল সম্ভাবনা থাকে। এমনকি কারণ অজানা হলেও, প্রতিক্রিয়া বন্ধ করার ওষুধ পাওয়া গেলে সাধারণতঃ সুস্থ হবার ভাল সম্ভাবনা থাকে। যদি মৃত্যু হয়, তবে তা হয় শ্বাসকষ্ট (সাধারণতঃ শ্বাসনালি বন্ধ হয়ে) নয়তো হৃৎ ও হৃৎ-নালীর সমস্যা বা কার্ডিওভাস্কুলার (আঘাত) কারণে। কিছু মৃত্যুর ঘটনা ঘটে কয়েক মিনিটে। যে সব বিষম অতিপ্রতিক্রিয়া বা অ্যানাফিল্যাক্সিস আক্রান্ত ব্যক্তি ব্যায়াম করে তাদের ক্ষেত্রে সাধারণতঃ ফলাফল ভাল হয়, বয়স বাড়লে কম ক্ষেত্রে গুরুতর ঘটনার সম্মুখীন হতে হয়।

বিশ্বব্যাপী প্রায় ০.০৫% মানুষের জীবনের কিছু সময়ে বিষম অতিপ্রতিক্রিয়া হয়ে থাকে। দেখা যাচ্ছে এর হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। খাদ্যজনিত বিষম অতিপ্রতিক্রিয়ার কারণে এই বৃদ্ধি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়। কমবয়সী লোক ও মহিলাদের মধ্যে এই ঝুঁকি সবচাইতে বেশি। অস্ট্রেলিয়ায় বিষম অতিপ্রতিক্রিয়াতে মৃত্যু মহিলাদের মধ্যে মূলতঃ খাদ্যের কারণে এবং পুরুষদের মধ্যে মূলতঃ পতঙ্গের কামড়ে ঘটে থাকে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বিষম অতিপ্রতিক্রিয়াতে মৃত্যু ওষুধের কারণে ঘটে।

তথ্যসূত্র: 

  • উইকিপিডিয়া।
  • Edited: Natural_Healing.

কোন মন্তব্য নেই

Popular Post

Blogger দ্বারা পরিচালিত.