First Aid Present

Lifestyle Modification এবং প্রাকৃতিক খাদ্য, পানীয়, শাকসবজি, গাছ, ডালপালা, ফল, মসলা, পাতা ও ফুল ইত্যাদির দ্বারা প্রাথমিক চিকিৎসা।

খাদ্যে এলার্জি সহ আরো অন্যান্য এলার্জির কারণ এবং প্রতিকার

এলার্জি হচ্ছে ইমিউন সিস্টেমের একটা দীর্ঘস্থায়ী অবস্থা যা পরিবেশের কোনো এলার্জেনের কারণে শরীরে হাইপারসেনসিটিভিটি দেখায় কিংবা অপ্রত্যাশিত প্রতিক্রিয়া দেখায়।

সাধারণত গরুর দুধ, চিনাবাদাম, ডিম, শেলফিশ, মাছ, গাছ বাদাম, সয়া, গম, চাল এবং ফল এর দ্বারা খাদ্যে এলার্জি হতে পারে। সাধারণ এলার্জি দেশের উপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়। খাদ্যে এলার্জি খাদ্য থেকে তৈরি হওয়া এক অস্বাভাবিক ইমিউন প্রতিক্রিয়া । এলার্জি প্রতিক্রিয়া লক্ষণগুলি হালকা থেকে গুরুতর হতে পারে। এতে চুলকানি, জিহ্বা ফুলে ওঠা, বমি, ডায়রিয়া, হাইভ, শ্বাসকষ্ট বা রক্তচাপ কম হয়ে যেতে পারে। এটা সাধারণত এক্সপোজারের কয়েক মিনিট থেকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ঘটে। যখন লক্ষণগুলি গুরুতর হয়, তখন তাকে অনাফিল্যাক্সিস বলা হয়। খাদ্যে অসহিষ্ণুতা এবং খাদ্যে বিষাক্ততা পৃথক অবস্থা এবং সেগুলো ইমিউন প্রতিক্রিয়া দ্বারা সৃষ্টি হয় না।

এলার্জি-অতি প্রতিক্রিয়া কি? যেসব এলার্জির কারণে মৃত্যু সংঘটিত হয়...

এলার্জেন: যদি কোনো বস্তু বা উপাদান কোনো মানুষের শরীরে হাইপারসেনসিটিভ রিয়েক্ট দেখায় সেসব বস্ত বা উপাদন সমূহ সেসব মানুষের জন্য এলার্জেন।

এলার্জির লক্ষণ গুলো:

খাদ্য এলার্জিগুলি সাধারণত দ্রুত শুরু হয় (সেকেন্ড থেকে এক ঘণ্টা পর্যন্ত) এবং এতে অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে:

  • ফুসকুড়ি, 
  • hives, আমবাত, ছুলী, ছত্রাক, রক্তবর্ণ দদ্রুজাতীয় ক্ষুদ্র চিহ্ন চর্মরোগবিশেষ,
  • মুখ, ঠোঁট, জিহ্বা, গলা, চোখ, ত্বক, বা অন্যান্য এলাকায় চুলকানি, 
  • ঠোঁট, জিহ্বা, চোখের পাপড়ি, বা পুরো মুখ ফুলে যাওয়া ( angioedema ), 
  • খাবার গিলতে সমস্যা,
  • সর্দি কিংবা নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া,
  • কর্কশ কণ্ঠ,
  • হুইসিং (শ্বাসের সময় বাঁশির মোট শব্দ) এবং / অথবা শ্বাসকষ্ট,
  • ডায়রিয়া, পেট ব্যথা, এবং / অথবা পেট কামড়ানো,
  • মাথা হাল্কা হয়ে যাওয়া,অজ্ঞান হয়ে যাওয়া,
  • বমি বমি ভাব, বমি করা, 
  • অবশ্য কিছু কিছু ক্ষেত্রে লক্ষণগুলি প্রকাশ পেতে কয় ঘণ্টা দেরিও হতে পারে। লক্ষণ পরিবর্তিত হতে পারে। প্রতিক্রিয়া শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্যের পরিমাণেও ভিন্ন হয়।
  • এলার্জি সংক্রান্ত গুরুতর বিপদ শুরু হতে পারে যখন শ্বাসযন্ত্র বা রক্ত সঞ্চালন প্রভাবিত হয়। শ্বাস এর সময় বাঁশির মতো শব্দ বা নীল হয়ে যাওয়া দেখে এটার নির্দেশ পাওয়া যেতে পারে। রক্ত সঞ্চালন কম হয়ে গেলে পালস দুর্বল হয়ে যায়, চামড়া সাদা হয়ে যায় এবং আক্রান্ত ব্যক্তি অজ্ঞান হয়ে যেতে পারেন। 

এলার্জিক রিয়েকশন: কোন অ্যালার্জেন শরীরের সংস্পর্শে এলে শরীরে যেসব অপ্রত্যাশিত প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায় তাকে এলার্জিক রিঅ্যাকশন বলে। আবার এটাকে হাইপেরসেন্সিটিভিটি রিয়েকশনও বলা হয়। হাইপারসেনসিটিভিটি রিঅ্যাকশন কে চার ভাগে ভাগ করা যায়, তবে চার প্রকারের মধ্যে টাইপ-১ হাইপারসেনসিটিভিটি নিয়ে এখানে আলোচনা করবো।

কোন অ্যালার্জেন দ্বারা শরীরের যেসব হাইপারসেনসিটিভিটি রিয়েকশন দেখা দেয় তাকে টাইপ-১ হাইপারসেনসিটিভিটি রিঅ্যাকশন বলা হয়। এলার্জি হিসেবে স্বাভাবিকভাবে আমরা যা বুঝে থাকি তা মূলত টাইপ ওয়ান হাইপারসেনসিটিভিটি রিঅ্যাকশনকে বোঝায়।

এলার্জিক গুরুতর রিয়েকশন:

অ্যালার্জিক রিঅ্যাকশন এর একটি গুরুতর ঘটনা হল যখন শ্বাসতন্ত্র এবং রক্ত সংবহনতন্ত্র আক্রান্ত হয়, একে অ্যানফিল্যাক্সিস বলা হয়। যখন রক্তচাপ কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ গুলো প্রকাশ পায় তখন তখন ব্যক্তিটিকে এনাফিল্যাক্টিক শক -এ আক্রান্ত বলে মনে করা হয়। যখন IgE অ্যান্টিবডি জড়িত থাকে এবং শরীরের যে অংশ খাদ্যের সাথে সরাসরি যোগাযোগে থাকে না -সে সকল অংশ আক্রান্ত হয় এবং উপসর্গ দেখায় তখন অ্যানাফিল্যাক্সিস ঘটে। যাদের চিনাবাদাম, গাছ বাদাম কিংবা সামুদ্রিক খাবারে এলার্জি আছে তাদের অ্যানফিল্যাক্সিস হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে।

এলার্জিক সাধারণ রিয়েকশন বা প্রতিক্রিয়া সমূহ:

এলার্জিক রাইনাইটিস: অনেক সময় দেখা যায়, বৃষ্টিতে ভিজলে, পুকুরে গোসল করলে, ধুলোবালিতে গেলে, একটু ঠান্ডা লাগলে বা কোনো ঠান্ডা পানীয় পান করলে কারো কারো সর্দি কাশি শুরু হয়। আবার একই কাজগুলো অন্যরা করলে তাদের কিছুই হয় না। তাহলে বোঝা গেল বৃষ্টির পানি, ধুলোবালি , পুকুরের পানি বা ঠান্ডা জলীয় বস্তু কারো জন্য অ্যালার্জেন হিসেবে কাজ করে আর কারো কারো জন্য এটা স্বাভাবিক হিসেবে থাকে। এই স্বাভাবিক বস্তুগুলো যাদের জন্য অ্যালার্জেন হিসেবে কাজ করে তাদের সর্দি কাশি শুরু হয়ে যায় তাকে এলার্জিক রাইনাইটিস বলা হয়।

এলার্জিক রাইনাইটিস হলে সাধারণত শ্বাসযন্ত্রের মিউকাস মেমব্রেন সমূহ আক্রান্ত হয় এবং হিস্টামিনের প্রভাবে সেখান থেকে প্রচুর পরিমাণ মিউকাস তৈরি হয়। শ্বাসযন্ত্রে লুউকোট্রিন নামক এক প্রকার পদার্থ তৈরি হয় যা কাশি তৈরিতে শ্বাসযন্ত্র কে উত্তেজিত করে। তাহলে আমরা বুঝতে পারলাম, নাক দিয়ে পানি পড়া তথা সর্দি কাশি, সঙ্গে হালকা গায়ে গায়ে জ্বর থাকা এসবকিছু অ্যালার্জিক রাইনাইটিসের কারণে হয়ে থাকতে পারে। অনেক সময় রাইনো ভাইরাস এলার্জি হিসেবে কাজ করে।

এলার্জিক কনজাংটিভাইটিস বা চোখের এলার্জি: এলার্জিক কনজাংটিভাইটিস মূলত চোখের একটি এলার্জি জনিত রোগ। এসময় চোখ লাল হয়ে থাকে। চোখ থেকে পানি পড়ে, ব্যথা করে। ৬ থেকে ১২ বছরের বাচ্চাদের ক্ষেত্রে এটা বেশি দেখা দেয়। যাদের শরীর কোনো নির্দিষ্ট অ্যালার্জেনের প্রতি অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া দেখায় তাদের অ্যালার্জিক রাইনাইটিসের মত এলার্জিক কনজাংটিভাইটিস হতে পারে।

কিছু বাচ্চাদের দেখা যায়, পুকুরে গোসল করলে বা খেলাধুলা করলে কিংবা বাহিরে চলাফেরা করলে তাদের চোখ লাল হয়ে যায় চোখ থেকে পানি পড়ে এবং ব্যথা করে চোখ চুলকায়। এগুলো মূলত এলার্জিক কনজাংটিভাইটিস এর কারণে হয়ে থাকে।

ফুড অ্যালার্জি: অনেকে গোশত বা বেগুন বা বাইরের খাবারে শরীরে চুলকানি শুরু হয়ে যায়। বমি বমি ভাব হয়। এগুলো মূলত এলার্জির কারণে হয়ে থাকে। তাদের শরীর ওই সমস্ত খাবারের জন্য উপযোগী না এবং ঐ সমস্ত খাবার গুলো যদিও অন্যদের জন্য স্বাভাবিক তবে তাদের জন্য অ্যালার্জেন হিসেবে কাজ করে। তাই তারা যখন ওই খাবারগুলো খায় তখন সারা শরীর চুলকাতে থাকে এবং লাল হয়ে যায়। তাহলে বুঝতে হবে গোশত তার জন্য অ্যালার্জেন।

যদিও সংবেদনশীলতা মাত্রা বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন রকম হতে পারে, সাধারনত দুধ, ডিম, চিনাবাদাম, গাছ বাদাম, সামুদ্রিক খাবার, শেলফিশ, সয়াবিন এবং গমের এলার্জি পাওয়া যায়। এগুলোকে প্রায়ই একসাথে "বৃহৎ আট" হিসেবে উল্লেখ করা হয়। বীজের অ্যালার্জি - বিশেষত তিলে - অনেক দেশে বাড়ছে বলে মনে হচ্ছে। বিশেষ অঞ্চলে বিশেষ এলার্জির একটি উদাহরণ হল ভাতের এলার্জি যেটা পূর্ব এশিয়ার একটি খাবারের একটি বড় অংশ।

সবচেয়ে সাধারণ খাদ্য এলার্জিগুলির মধ্যে একটি হচ্ছে চিনাবাদাম সংবেদনশীলতা, যা বীজ পরিবারের সদস্য। চিনাবাদাম এলার্জি গুরুতর হতে পারে কিন্তু বড় হবার সাথে সাথে অনেক শিশুর এটা দূর হয়ে যায়। কাশু, ব্রাজিল বাদাম, হজেলন, ম্যাকডামিয়াম বাদাম, পেকান, পিস্তাশিও, পাইন বাদাম, নারকেল এবং আখরোটও কতগুলো সাধারণ অ্যালার্জেন। ভুক্তভোগী একটি কিংবা বিভিন্ন ধরনের গাছ বাদমে সংবেদনশীল হতে পারে। এছাড়াও, বীজ যেমন, তিল এবং পপি বীজ তেলে প্রোটিন থাকে, যা এলার্জি প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। 

এক গবেষণায় দেখা গেছে যে বিশ্বের শিশুদের মধ্যে খাবারের মাধ্যমে অ্যালার্জিতে আক্রান্ত হওয়ার হার আগের তুলনায় অনেক বেড়ে গেছে। গত অগাস্টে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় ছয় বছরের এক মেয়ে দুগ্ধজাত খাবারের অ্যালার্জিতে মারা যায়। এছাড়া সম্প্রতি তিল এবং চিনাবাদাম খাওয়ার কারণে দুই ব্রিটিশ শিশুর মৃত্যুর খবর বিষয়টিকে নতুন করে সামনে আনে।

প্রতি ৫০ জন বাচ্চার একজনের ডিমে এলার্জি থাকতে পারে কিন্তু তা পাঁচ বছর বয়সের মধ্যেই ঠিক হয়ে যায়। সাধারণত, ডিমের কুসুম এর চাইতে ডিমের সাদা অংশের প্রোটিনে বেশি সংবেদনশীলতা থাকে।

আরও কিছু সাধারণ এলার্জেন হল গরু, ছাগল বা ভেড়ার দুধ এবং অনেক ভুক্তভোগী দুগ্ধজাতীয় খাদ্য যেমন পনির সহ্য করতে পারে না। দুধের এলার্জিযুক্ত শিশুদের একটি ছোট অংশ, প্রায় ১০% এর গরুর মাংসের প্রতিক্রিয়া থাকতে পারে। গরুর মাংসে সামান্য পরিমাণ প্রোটিন থাকে যা গরুর দুধেও থাকে।

সামুদ্রিক খাবার অ্যালার্জেনের অন্যতম একটি উৎস; মানুষ মাছ, ক্রাস্তেসিয়ান, বা শেলফিশ -এ পাওয়া প্রোটিনে এলার্জিক হতে পারে।

অন্যান্য যে সকল খাবারে এলার্জিক প্রোটিন থাকতে পারে যেমন সয়া, গম, ফল, শাকসবজি, ভুট্টা, মসলা, কৃত্রিম এবং প্রাকৃতিক রং, এবং বিভিন্ন রাসায়নিক।

বিভিন্ন খাবারে থাকা পেরুর বালসাম, "শীর্ষ পাঁচ" অ্যালার্জির একটি যা চর্মরোগ ক্লিনিকে প্যাচ টেস্ট সাধারণত সংবেদনশীলতা দেখায়।

ড্রাগ অ্যালার্জি: কিছু মানুষের ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, তারা কোনো এন্টিবায়োটিক গ্রহণ করার পরে তাদের শরীর চুলকাতে চুলকাতে লাল হয়ে যায়। তাহলে বুঝে নিতে হবে ওই এন্টিবায়োটিকের প্রতিও তার হাইপারসেনসিটিভিটি রয়েছে এবং ওই এন্টিবায়োটিক তার জন্য অ্যালার্জেন হিসেবে কাজ করছে। যদি কারো এমন হয়ে থাকে তাহলে সে ওই এন্টিবায়োটিক পরিবর্তন করে অন্য এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করতে হবে। কোনো মেডিসিন ব্যবহারের ফলে যদি কোন হাইপেরসেন্সিটিভিটি রিয়েকশন শুরু হয় তবে সে প্রকার এলার্জিকে ড্রাগ এলার্জি বলা হয়ে থাকে।

এনাফাইলেক্টিক রিএকশন: এনাফাইলেকটিক রিঅ্যাকশন হচ্ছে এক প্রকার ইমারজেন্সি এলার্জিক কন্ডিশন। মনে করুণ কারো শরীরে একটি কীটপতঙ্গের সংস্পর্শ লেগেছে অথবা কোনো ছোট মশা কিংবা অন্যান্য কীটপতঙ্গ কামড় দিয়েছে এর কিছুক্ষণ পরে দেখা গেল তার শরীররে লাল লাল চাকা হয়ে গেছে। শরীর প্রচণ্ড চুলকায়। সারা শরীর ব্যথা করছে। এই অবস্থা গুলোকে এনাফাইলেক্ট্রিক রিঅ্যাকশন বলে। যাদের শরীর হাইপারসেনসিটিভ তাদের ক্ষেত্রে মশার কামড়ে কিংবা ছারপোকার কামড়ে এনাফাইলেকটিক রিঅ্যাকশন দেখা দিতে পারে।

এটপিক একজিমা: একপ্রকার এলার্জিক স্কিন কন্ডিশন। যা এলার্জিক রিয়েকশন এর কারণে হয়ে থাকে।

এলার্জি সৃষ্টির অন্যতম কারণগুলি:

অ্যালার্জি হওয়া না হওয়া সাধারণত আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ওপর নির্ভর করে। শরীরের এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিনিয়ত পরিবেশের নানা উপাদানের বিরুদ্ধে লড়াই করে যাচ্ছে। যেটা খুবই স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া। শরীরের এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বলা হয় অ্যালার্জেন। এই অ্যালার্জেন যদি কখনও সংক্রমিত হয় তাহলে নানা ধরণের অ্যালার্জির উপসর্গ দেখা দেয়। যেমন: ত্বকের লাল রঙ ধারণ, চামড়ায় লাল চাকা চাকা হয়ে যাওয়া, বা শরীরের কোন অঙ্গ ফুলে ওঠা। সবচেয়ে গুরুতর ক্ষেত্রে - বমি, ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট কিংবা অ্যানফিল্যাকটিক শক দেখা দিতে পারে। যেসব মানুষের মধ্যে অ্যালপিক সিনড্রোম থাকে, খাদ্যের অ্যালার্জিগুলি তাদের মধ্যে আরও সহজেই বিকাশ ঘটায়।

এলার্জি সৃষ্টির কারণগুলি হতে পারে পারিবারিক এলার্জির ইতিহাস, ভিটামিন ডি-এর অভাব, স্থূলতা এবং উন্নত স্বাস্থ্যবিধি এবং পরিচ্ছন্নতা জ্ঞানের অভাব। জরিপে দেখা গেছে, অভিবাসীদের নিজ দেশের তুলনায় গৃহীত দেশে হাঁপানি ও খাদ্য অ্যালার্জিতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি থাকে। পরিবেশগত পার্থক্যের কারণেই এমনটা হয়ে থাকে।এছাড়া দূষণ, খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এবং রোগজীবাণুর সংস্পর্শে কম আসাকেও অ্যালার্জির হার বেড়ে যাওয়ার বড় কারণ বলে ধরা হয়।

অ্যালার্জিগুলি ঘটে যখন শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থার অংশ ইমিউনোগ্লোবুলিন ই (IgE), খাদ্য অণুর সাথে সংযুক্ত হয়। খাদ্যের প্রোটিনই মূলত মূল সমস্যা। এটি হিস্টামাইনের মতো প্রদাহজনক রাসায়নিক পদার্থগুলি মুক্ত করে। রোগ নির্ণয় সাধারণত একটি চিকিৎসা ইতিহাস, খাদ্য বাছাই, ত্বক বিদ্ধ করে পরীক্ষা, নির্দিষ্ট খাদ্যের IgE অ্যান্টিবডিগুলির জন্য রক্ত পরীক্ষা, বা মৌখিক খাদ্য চ্যালেঞ্জের ভিত্তিতে হয়।

চিকিৎসা: প্রথমে জেনে রাখা ভালো, এলার্জির স্থায়ী কোনো চিকিৎসা নেই। কারণ এটার সম্পর্ক ইমিউন সিস্টেমের সঙ্গে। তাই যাদের যেসব বস্তু বা খাবারে এলার্জি রয়েছে তা পরিহার করে চলাই ভাল। আর অনিয়ন্ত্রিত চলাফেরার কারণে যাদের এলার্জিক উপসর্গগুলো দেখা দেয় তারা মেডিসিন দিয়ে নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেন। 

বাচ্চাদের কিছু খাদ্যে এলার্জি বয়সের সাথে সাথে সমাধান হয়ে যায় যেমন দুধ, ডিম এবং সয়া; অন্যদিকে কিছু কিছু যেমন বাদাম এবং সেলফিশ এর সমাধান সাধারণত হয় না।

বর্তমান বিশ্বে খাদ্য অ্যালার্জির কোন প্রতিকার নেই। এটি পুরোপুরি নির্ভর করে খাদ্যাভ্যাসের নিয়ন্ত্রণের ওপরে। যার অন্যতম শর্ত হল সংবেদনশীল খাবারগুলো এড়িয়ে যাওয়া। এক্ষেত্রে প্রতিটি খাবারের সঠিক লেবেলিং বেশ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন গবেষকরা।

যদি আক্রান্ত হয়েই যান তাহলে জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসা নেয়াকেও তারা গুরুত্ব দিয়েছেন। তবে প্রাথমিকভাবে অ্যালার্জি সংক্রমণ নির্ণয় করা একটি চ্যালেঞ্জ।

কেউ কোন বিশেষ ধরণের খাদ্যে অ্যালার্জিক কিনা এটা বুঝতে হলে তাকে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে সেই খাবারটি ধীরে ধীরে বেশি পরিমাণে খেয়ে পরীক্ষা করতে হবে। তবে, এই পদ্ধতি শিশুদের জন্য বিরক্তিকর এবং ঝুঁকিপূর্ণ।

অনেক সময় এমন হয়েছে যে, পরীক্ষায় একটি খাবারে শিশুর অ্যালার্জি সংক্রমণের প্রমাণ মিলেছে। অথচ ওই শিশুর হয়তো এমন কোন সমস্যাই নেই।

তাই অ্যালার্জি সংক্রমণ আছে কিনা তা বুঝতে কিংস কলেজের গবেষকরা বিকল্প হিসেবে রক্ত পরীক্ষার কথা বলেছেন। তাদের উদ্ভাবিত এই পন্থায় নির্ভুল ফলাফল পাওয়া যায় বলে জানা গেছে।

তবে পরীক্ষায় যদি সঠিক ফলাফলও পাওয়ায় তাও ট্রিগার ফুড বা বিভিন্ন সংমিশ্রিত খাবার চাইলেও সবসময় এড়িয়ে চলাটা কঠিন। আর এসব খাবার খেলে যেকোনো সময় অ্যালার্জিতে আক্রান্ত হওয়ারও ঝুঁকি থাকে।

অ্যালার্জি ইমিউনোথেরাপি -এই পরীক্ষার মাধ্যমে অ্যালার্জিক পদার্থের অল্প পরিমাণে সরবরাহ করা হয় - যা রোগীদের সংবেদনশীলতা কমিয়ে দেয়ার পাশাপাশি অকস্মাৎ আক্রান্ত হওয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা বাড়ায়।

মেডিকেশন: এলার্জিতে যেহেতু হিস্টামিন প্রচুর রিলিজ হয় তাই এলার্জি নিয়ন্ত্রণ রাখতে হলে হিস্টামিন নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে আর সে জন্য এলার্জিক কন্ডিশনে এন্টিহিস্টামিন হচ্ছে এলার্জির মূল চিকিৎসা। 

তবে অবশ্যই এলার্জির চিকিৎসায় চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যাতিত কোন চিকিৎসা নেয়া কিংবা অল্টারনেটিভ চিকিৎসা নেয়া বিপদজনক হতে পারে। যে কোনো শারীরিক সমস্যায় নিকটস্থ চিকিৎসক কিংবা সরাসরি হাসপাতালে যোগাযোগ করাই সবচেয়ে ভাল।

প্রতিরোধমূলক মেডিটেশন:

আমাদের শরীর ঠিক যে প্রক্রিয়ায় অ্যালার্জির সঙ্গে মোকাবিলা করে ঠিক একইভাবে এটি পরজীবী সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করে। তাই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি বাড়ানোর প্রতি নজর দিতে হবে।

এক্ষেত্রে ভিটামিন ডি আমাদের ইমিউন সিস্টেমকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। যার কারণে শরীরের অ্যালার্জি প্রতিরোধের ক্ষমতা বেড়ে যায়।

একটি নতুন, "ডুয়েল অ্যালার্জেন এক্সপোজার" তত্ত্ব দিয়েও অ্যালার্জি প্রতিরোধ করা যায়।

এই তত্ত্ব বলছে যে খাদ্য অ্যালার্জিতে শিকার হওয়া না হওয়া নির্ভর করে ওই খাবার গ্রহণের সময়, পরিমাণ এবং ফর্ম অফ এক্সপোজার বা কিভাবে অ্যালার্জিক আক্রমণ হয় তার ওপর।

শিশুকে দুধ পান করানোর সময় মা যদি নিজে সব ধরণের খাবার খেয়ে থাকেন তাহলে এর ফলাফল বেশ ভাল হয়। এতে মা ও শিশুর অ্যালার্জি সংক্রমণের হার কমে যায়।

এছাড়া শিশুদের একদম অল্প বয়স থেকেই অ্যালার্জি সংবেদনশীল খাবার খাওয়ানোর অভ্যাস করলে তাদের এই সমস্যায় ভোগার আশঙ্কা থাকেনা।

লন্ডন কিংস কলেজের গবেষকরা এ নিয়ে পাঁচ বছরের শিশুদের ওপর জরিপ চালায়। সেখানে দেখা গেছে যে, যারা ছোট থেকেই নিয়মিত চিনাবাদাম খায় তাদের এই বাদামে অ্যালার্জির হার ৮০ শতাংশ কমে যায়। অর্থাৎ ছোটবেলা থেকে যেসব খাবারে শিশুদের এলার্জি থাকে সেসব খাবার ধীরে ধীরে খাওয়ানোর অভ্যাস করলে ওই খাবারে এলার্জির পরিমাণ শিশুর শরীরে ধীরে ধীরে কমতে থাকে।

তথ্যসূত্র:

  • লেখক: ডা. ইসমাইল আজহারি, চিকিৎসক, ঢাকা কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সিইও, সেন্টার ফর ক্লিনিক্যাল এক্সিলেন্স অ্যান্ড রিসার্চ, ঢাকা, যুগান্তর।
  • উইকিপিডিয়া।
  • লন্ডন কিংস কলেজের গবেষকরা, বিবিসি বাংলা।
  • Edited: Natural_Healing.

কোন মন্তব্য নেই

Popular Post

Blogger দ্বারা পরিচালিত.