First Aid Present

Lifestyle Modification এবং প্রাকৃতিক খাদ্য, পানীয়, শাকসবজি, গাছ, ডালপালা, ফল, মসলা, পাতা ও ফুল ইত্যাদির দ্বারা প্রাথমিক চিকিৎসা।

ডেঙ্গু জ্বর সম্পর্কে ১০টি তথ্য জেনে নিন

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ অতীতে যে কোন সময়ের তুলনায় বেশি। স্বাভাবিকভাবেই ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে মানুষের মাঝে প্রবল উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সাদা-কালো দেখতে সুন্দর এডিস মশা, ডেঙ্গু জীবাণু বহন করে ।

১. ডেঙ্গুর লক্ষণগুলো কী?

সাধারণভাবে ডেঙ্গুর লক্ষণ হচ্ছে জ্বর। ১০১- ১০৫ ডিগ্রি পর্যন্ত তাপমাত্রা থাকতে পারে। জ্বর একটানা থাকতে পারে, আবার ঘাম দিয়ে জ্বর ছেড়ে দেবার পর আবারো জ্বর আসতে পারে। এর সাথে শরীরে ব্যথা, মাথাব্যথা, চেখের পেছনে ব্যথা, মাংসপেশী ও হাড়ে প্রচণ্ড ব্যথা হতে পারে এবং চামড়ায় লালচে দাগ (র‍্যাশ) হতে পারে। তবে এগুলো না থাকলেও ডেঙ্গু হতে পারে।

তবে হেমোরোজিক ডেঙ্গুজ্বর কিংবা শক সিনড্রোম হলে দাঁতের মাড়ি, নাক, মুখ ও পায়ুপথে রক্ত আসতে পারে৷ তখন আর দেরি না করে রোগীকে হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দিয়েছে সরকারের আইইডিসিআর প্রতিষ্ঠানটি৷

২. জ্বর হলেই কি চিন্তিত হবেন?

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক এবিএম আবদুল্লাহৌ বলছেন, এখন যেহেতু ডেঙ্গুর সময়, সেজন্য জ্বর হল অবহেলা করা উচিত নয়। জ্বরে আক্রান্ত হলেই সাথে-সাথে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন অধ্যাপক আবদুল্লাহ।

তিনি বলছেন, ''ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে যারা মারা গেছেন, তারা জ্বরকে অবহেলা করেছেন। জ্বরের সাথে যদি সর্দি- কাশি, প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া কিংবা অন্য কোন বিষয় জড়িত থাকে তাহলে সেটি ডেঙ্গু না হয়ে অন্যকিছু হতে পারে। তবে জ্বর হলেই সচেতন থাকতে হবে।''

আইইডিসিআর বলছে, দ্বিতীয় দফায় ডেঙ্গু আক্রান্তরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে৷ তাই জ্বর হলে সঙ্গে সঙ্গেই হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি৷

সংস্থাটির পরিচালক আরো বলেন, যেসব রোগীরা কিডনি, হার্ট, ডায়াবেটিস বা ক্যান্সারের মতো রোগে ভুগছেন কিংবা ছোটো বাচ্চা, বয়স্ক মানুষ, গর্ভবতী নারীরা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে জটিলতা তৈরি হতে পারে৷ 

ডেঙ্গু মোকাবেলায় সচেতনতাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন আইইডিসিআর পরিচালক৷ যেখানে পানি জমে সেখানে বিশেষ দৃষ্টি রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি৷ ছাদে, ফ্রিজের নিচে, ফুলের টবে, এসিতে--কোথাও যেন জমে থাকা পানি পাঁচদিনের বেশি না থাকে সেই পরামর্শ দিয়েছেন তিনি৷ বলেন, মশার কামড় থেকে নিজেকে রক্ষা করে চলাটা হবে নিজেকে নিরাপদ রাখার সবচেয়ে বড় কৌশল৷ এ ব্যবস্থায় চিকিৎসকরা বলেছেন, রোগীকে মশারির ভেতরে বিশ্রামে রাখতে হবে।

‘‘ডেঙ্গুর কোনো চিকিৎসা নেই‘‘ জানিয়ে আইইডিসিআর পরিচালক বলেন, ‘‘এটা একটা ভাইরাল ফিভার৷ যদি প্রপার সাপোর্টিভ থেরাপি দিতে পারেন, পুষ্টি, বিশ্রাম, প্রচুর পরিমাণে তরল জাতীয় খাবার দেয়া যায় রোগী সুস্থ হবে৷'' 

৩. বিশ্রামে থাকতে হবে-

সরকারের কমিউনিক্যাবল ডিজিজ কন্ট্রোল বা সংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণ বিভাগের অন্যতম পরিচালক ড. সানিয়া তাহমিনা বলেন, ''জ্বর হলে বিশ্রামে থাকতে হবে। তিনি পরামর্শ দিচ্ছেন, জ্বর নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করা উচিত নয়। একজন ব্যক্তি সাধারণত প্রতিদিন যেসব পরিশ্রমের কাজ করে, সেগুলো না করাই ভালো। পরিপূর্ণ বিশ্রাম প্রয়োজন।''

‘‘ডেঙ্গুর কোনো চিকিৎসা নেই‘‘ জানিয়ে আইইডিসিআর পরিচালক বলেন, ‘‘এটা একটা ভাইরাল ফিভার৷ যদি প্রপার সাপোর্টিভ থেরাপি দিতে পারেন, পুষ্টি, বিশ্রাম, প্রচুর পরিমাণে তরল জাতীয় খাবার দেয়া যায় রোগী সুস্থ হবে৷'' 

তিনি জানান, ‘‘ডেঙ্গু সেলফ লিমিটিং ডিজিজ৷ একটা সার্টেন পিরিয়ড পরে এটা কন্ট্রোল হয়ে যাবে৷‘‘

৪. কী খাবেন?

প্রচুর পরিমাণে তরল জাতীয় খাবার গ্রহণ করতে হবে। যেমন - ডাবের পানি, লেবুর শরবত, ফলের জুস এবং খাবার স্যালাইন গ্রহণ করা যেতে পারে। এমন নয় যে প্রচুর পরিমাণে পানি খেতে হবে, পানি জাতীয় খাবার গ্রহণ করতে হবে।

পেঁপে পাতার রস বা নারিকেল তেল কি আসলেই ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে কার্যকর?

বাংলাদেশে ব্যাপক আকারে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে গত কয়েকদিন ধরে বাংলাদেশের সামাজিক মাধ্যমে ডেঙ্গুর কিছু প্রাকৃতিক সমাধানের কথা ছড়িয়ে পড়েছে - যার মধ্যে একটি হলো পেঁপে পাতার রস।

বলা হচ্ছে, পেঁপে পাতার রসের সাথে আরো কিছু উপাদান যোগ করে একটি নির্দিষ্ট সময় বিরতিতে পান করলে ডেঙ্গু থেকে দ্রুত আরোগ্য লাভ করা সম্ভব। কিন্তু আসলেই কি পেঁপে পাতার রস ডেঙ্গু প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে? ঢাকা মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান বলেন, পেঁপে পাতার রস যে ডেঙ্গু নিরসনে ভূমিকা রাখে, এই দাবির কোন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

"ডেঙ্গু নিরসনে পেঁপে পাতার রসের ভূমিকার পরীক্ষা পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় হয়েছে, কিন্তু পুরোপুরি প্রমাণিত হয়নি যে এটি ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে কার্যকর।"

পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু পরীক্ষা হলেও বৈজ্ঞানিক নীতি অনুসরণ করে কোনো ধরণের 'র‍্যান্ডমাইজড কন্ট্রোলড ট্রায়াল'-এর মাধ্যমে এটি প্রমাণিত হয়নি বলে জানান মি. মুজিবুর রহমান।

"কোন ওষুধের কার্যকারিতা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হলে র‍্যান্ডমাইজড কন্ট্রোলড ট্রায়াল হতে হবে। এছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না যে ঐ ওষুধটি কোন একটি নির্দিষ্ট রোগের বিরুদ্ধে কার্যকর।"

মি. রহমান বলেন, বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত হওয়ার আগ পর্যন্ত ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে পেঁপে পাতার রসের কার্যকারিতার বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। তবে পৃথিবীর কয়েকটি দেশে ডেঙ্গু রোগীকে পেঁপে পাতার রস খাওয়ানোর উপদেশ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা। ২০১৭ সালে ভারতে ৪০০ জন ডেঙ্গু রোগীর ওপর পরিচালিত একটি গবেষণায় উঠে আসে যে পেঁপে পাতার রস খাওয়া রোগীদের রক্তকণিকার পরিমাণ অন্য রোগীদের তুলনায় অপেক্ষাকৃত বেশি বেড়েছে এবং তাদের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও অপেক্ষাকৃত কম। খবরটি তখন 'টাইমস অফ ইন্ডিয়া'তে প্রকাশিত হয়েছিল। এছাড়া পেঁপে পাতার রস খাওয়ানো ডেঙ্গু রোগীদের মধ্যে রক্ত নেয়ার প্রয়োজনীতার হারও কম হিসেবে পরিলক্ষিত হয়। ডেঙ্গুর তীব্রতা নিয়ন্ত্রণে রাখতে রোগীদের নির্দিষ্ট পরিমাণে পেঁপে পাতার রস খাওয়ার উপদেশ দেয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিনের ওয়েবসাইটে।

নারিকেল তেল মাখলে কি আসলেই মশা কামড়ায় না?

পেঁপে পাতার রস খাওয়ার পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধ গত কিছুদিন ধরে বাংলাদেশে সামাজিক মাধ্যমে আরেকটি বিষয় নিয়েও আলোচনা হচ্ছে - সেটি হলো পায়ে নারিকেল তেল মাখা।

নারিকেল তেল মশা তাড়ায় এবং তেল পায়ে মাখলে মশার কামড় থেকে বাঁচা সম্ভব - এই দাবির সাথে পুরোপুরি একমত প্রকাশ করেননি শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ব বিভাগের অধ্যাপক তাহমিনা আখতার।

"মশা যেহেতু চামড়া ভেদ করে রক্ত পান করে, তাই চামড়ার ওপর ঘন যেকোন ধরণের তেলই মশাকে কিছুটা প্রতিহত করতে পারে বলে আমি মনে করি।"

তবে এক্ষেত্রে নারিকেল তেলের সাথে কীটনাশক জাতীয় কোন দ্রব্য মিশিয়ে নিলে আরো বেশি কার্যকর হবে বলে মনে করেন মিজ. আখতার।

"ন্যাপথলিন বা কর্পূরের গুড়া বেশ ভাল কীটনাশক। নারিকেল তেলের সাথে কর্পূরের গুড়া মিশালে মশা নিবারনে তা আরো বেশি কার্যকর হতে পারে।"

এছাড়া কড়া গন্ধ থাকায় নারিকেল তেলের বদলে সরিষার তেলও মশা দূরে থাকতে কার্যকর হতে পারে।

৫. যেসব ঔষধ খাওয়া উচিত নয়-

অধ্যাপক তাহমিনা বলেন, ''ডেঙ্গু জ্বর হলে প্যারাসিটামল খাওয়া যাবে। স্বাভাবিক ওজনের একজন প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তি প্রতিদিন সর্বোচ্চ চারটি প্যারাসিটামল খেতে পারবে।''

চিকিৎসকরা বলছেন, প্যারাসিটামলের সর্বোচ্চ ডোজ হচ্ছে প্রতিদিন চার গ্রাম। কিন্তু কোন ব্যক্তির যদি লিভার, হার্ট এবং কিডনি সংক্রান্ত জটিলতা থাকে, তাহলে প্যারাসিটামল সেবনের আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে গায়ে ব্যথার জন্য অ্যাসপিরিন জাতীয় ঔষধ খাওয়া যাবে না। ডেঙ্গুর সময় অ্যাসপিরিন জাতীয় ঔষধ গ্রহণ করলে রক্তক্ষরণ হতে পারে।

৬. প্ল্যাটিলেট বা রক্তকণিকা নিয়ে চিন্তিত?

ডেঙ্গু জ্বরের ক্ষেত্রে প্ল্যাটিলেট বা রক্তকণিকা এখন আর মূল ফ্যাক্টর নয় বলে উল্লেখ করেন অধ্যাপক তাহমিনা।

তিনি বলেন, ''প্ল্যাটিলেট কাউন্ট নিয়ে উদ্বিগ্ন হবার কোন প্রয়োজন নেই। বিষয়টি চিকিৎসকের উপর ছেড়ে দেয়াই ভালো।'' সাধারণত একজন মানুষের রক্তে প্ল্যাটিলেট কাউন্ট থাকে দেড়-লাখ থেকে সাড়ে চার-লাখ পর্যন্ত।

৭. ডেঙ্গু হলেই কি হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়?

ডেঙ্গু জ্বরের তিনটি ভাগ রয়েছে।

এ ভাগগুলো হচ্ছে - 'এ', 'বি' এবং 'সি'।

  •  'এ', ক্যাটাগরির রোগীরা নরমাল থাকে। তাদের শুধু জ্বর থাকে। অধিকাংশ ডেঙ্গু রোগী 'এ' ক্যাটাগরির। তাদের হাসপাতালে ভর্তি হবার কোন প্রয়োজন নেই। 
  • 'বি' ক্যাটাগরির ডেঙ্গু রোগীদের সবই স্বাভাবিক থাকে, কিন্তু শরীরে কিছু লক্ষণ প্রকাশ পায়। যেমন তার পেটে ব্যথা হতে পারে, বমি হতে পারে প্রচুর কিংবা সে কিছুই খেতে পারছে না।অনেক সময় দেখা যায়, দুইদিন জ্বরের পরে শরীর ঠাণ্ডা হয়ে যায়। এক্ষেত্রে হাসপাতাল ভর্তি হওয়াই ভালো।
  • 'সি' ক্যাটাগরির ডেঙ্গু জ্বর সবচেয়ে খারাপ। কিছু-কিছু ক্ষেত্রে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা আইসিইউ'র প্রয়োজন হতে পারে। 

এছাড়া চিকিৎসকেরা আরো এক প্রকারের (ডি') কথা বলে থাকেন।

৮. ডেঙ্গুর জ্বরের সময়কাল-

সাধারণত জুলাই থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ থাকে। কারণ এ সময়টিতে এডিস মশার বিস্তার ঘটে। কিন্তু এবার দেখা যাচ্ছে ডেঙ্গু জ্বরের সময়কাল আরো এগিয়ে এসেছে। এখন জুন মাস থেকেই ডেঙ্গু জ্বরের সময় শুরু হয়ে যাচ্ছে।

চিকিৎসকরা বলছেন, এডিস মশার মাধ্যমে ভাইরাসজনিত এ রোগটি ছড়ায়৷ এপ্রিল থেকে জুন মাসে রোগটির প্রকোপ বাড়ে৷ আর সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর–এই দুই মাসে আক্রান্ত হবার ঝুঁকি আরো বেড়ে যায়৷

৯. এডিস মশা কখন কামড়ায়-

ডেঙ্গু জ্বরের জন্য দায়ী এডিস মশা কখনো অন্ধকারে কামড়ায় না। সাধারণত সকালের দিকে এবং সন্ধ্যার কিছু আগে এডিস মশা তৎপর হয়ে উঠে।

১০. পানি জমিয়ে না রাখা-

ঢাকার একটি এলাকায় জমে থাকা পানিতে মশার বসতি।

অধ্যাপক আবদুল্লাহ বলছেন, ''এডিস মশা 'ভদ্র মশা' হিসেবে পরিচিত। এসব মশা সুন্দর-সুন্দর ঘরবাড়িতে বাস করে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এডিস মশা সাধারণত ডিম পাড়ে স্বচ্ছ পানিতে। কোথাও যাতে পানি তিন থেকে পাঁচদিনের বেশি জমা না থাকে। এ পানি যে কোন জায়গায় জমতে পারে। বাড়ির ছাদে কিংবা বারান্দার ফুলের টবে, নির্মাণাধীন ভবনের বিভিন্ন পয়েন্টে, ফ্রিজের নিচে, ফুলের টবে, এসিতে, রাস্তার পাশে পড়ে থাকা টায়ার কিংবা অন্যান্য পাত্রে জমে থাকা পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করে।

চিকিৎসকদের দাবি, রাজধানী জুড়ে চলছে নির্মাণকাজ৷ এসব স্থানে জমে থাকা পানিতে মশা ডিম পাড়ে। এসব এলাকাগুলোতে এডিস মশার প্রকোপ বেশি৷

ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাবের কারণ ব্যাখ্যায় আইইডিসিআর এর পরিচালক মীরজাদি সাবরিনা ফ্লোরা বলেন, বাংলাদেশের মতো গ্রীষ্মপ্রধান দেশগুলোতে ডেঙ্গুর প্রভাব সবচেয়ে বেশি৷ এতে জলবায়ু পরিবর্তনেরও একটা বড় ভূমিকা আছে বলে মনে করেন তিনি৷

তিনি বলেন, দেশে এখন মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে না৷ বৃষ্টি হচ্ছে থেমে থেমে৷ যা মশার প্রজননে অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে৷

দক্ষিণ এশিয়াতে কেন ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি সেই প্রশ্ন করলে ডা. এম মোরশেদ জামান মিয়া জানান যে, শীত প্রধান দেশের চেয়ে নিরক্ষীয় এলাকাতেই এই এডিস মশা জন্মায় বেশি৷ তাই আমাদের দেশে ডেঙ্গু রোগের প্রকোপ দেখা যায়৷

সাধারণত নোংরা ও ময়লা পানিতেই মশার জন্ম হয়৷ কিন্তু এডিস মশা এই ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম৷ ডা. জামান মিয়া জানান, পরিষ্কার পানিতেই এডিস মশার জন্ম হয়৷ এছাড়া আক্রান্ত ব্যক্তির মাধ্যমেও এই ডেঙ্গু রোগটি অন্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে৷

আক্রান্ত ব্যক্তিকে সময়মত ডেঙ্গুর চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হলে আর কোনো বিপদ হয় না৷ তবে এই ক্ষেত্রে দেরি হয়ে গেলে রোগী মারা যায়৷

তথ্যসূত্র: 

  • সংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণ বিভাগের অন্যতম পরিচালক ড. সানিয়া তাহমিনা,
  • বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক এবিএম আবদুল্লাহ,
  • শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ব বিভাগের অধ্যাপক তাহমিনা আখতার,
  • ঢাকা মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান,
  • বিবিসি বাংলা।
  • ডয়চে ভেলে।
  • Edited: Natural_Healing.

কোন মন্তব্য নেই

Popular Post

Blogger দ্বারা পরিচালিত.