First Aid Present

Lifestyle Modification এবং প্রাকৃতিক খাদ্য, পানীয়, শাকসবজি, গাছ, ডালপালা, ফল, মসলা, পাতা ও ফুল ইত্যাদির দ্বারা প্রাথমিক চিকিৎসা।

ভয়াবহ সব মশাবাহিত রোগ

বিশ্বের সবচেয়ে ছোট ও বিপদজনক হত্যাকারী বলা যায় কোন প্রাণীকে? এক কথায় জবাব – মশা৷ মশা ধারাবাবিহভাবে কী আতঙ্ক ছড়িয়ে যাচ্ছে! ম্যালেরিয়া থেকে শুরু করে কতগুলো রোগের জীবাণুবাহী মশা এই বিশ্বে উড়ে বেড়াচ্ছে ভেবে দেখুন৷

বিভিন্ন মসার পরিচিতি এবং লাইভ সচিত্র:





Mosquito life cycle.

ভয়াবহ সব মশাবাহিত রোগ-

ম্যালেরিয়া:

মশাবাহী রোগের মধ্যে ম্যালেরিয়া সবচেয়ে বেশি পরিচিত৷ মশাবাহিত জীবানুতে সংক্রমিত হয়ে অন্তত ১০ লক্ষ মানুষ মারা যায় প্রতিবছর৷ জীবাণু বহনকারী মশার কথা বলতে গেলে সবার আগে আসবে ‘অ্যানোফিলিস মশার' কথা৷ 

ডেঙ্গু:

এডিস ইজিপ্টাই নামের মশার কামড়ে আক্রান্ত হলে শরীরে ব্যাথা হয়, লাল গুটি দেখা দেয়, মাংসপেশী ও হাড়ের জোড়াতেও ব্যাথা হয়৷ চূড়ান্ত পর্যায়ে গেলে রক্তক্ষরণে মৃত্যুও হতে পারে৷ প্রথমবারের ধাক্কা সামলে উঠলেই যে মুক্তি তা কিন্তু নয়৷ ডেঙ্গু রোগে কেউ দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হলে তা প্রথমবারের চেয়েও মারাত্মক হতে পারে৷

জিকা:

এডিস ইজিপ্টাই, টাইগার মস্কিউটো এবং এডিস আলবোপিকটাস জিকা ভাইরাস ছড়ায়৷ ২০১৫ সালে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ে এই রোগ৷ জিকার আক্রমণে ব্রাজিলে অসংখ্য শিশু মাইক্রোসিফেলি নামের ভয়াবহ প্রতিবন্ধিত্ব নিয়ে জন্মায়৷

ওয়েস্ট নাইল ফিভার:

বয়স্ক লোক বা দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার মানুষের ক্ষেত্রে এই রোগ ভয়াবহ ক্ষতি বয়ে আনতে পারে৷ এর ফলে মেনিনজাইটিস ও মায়োকার্ডিটিস হতে পারে৷ অন্যান্য মশাবাহী রোগের মতো কাঁপুনি, ঠান্ডা লাগা, জ্বর, মাথা ব্যাথা, ঝিমুনি এবং ব়্যাশ দেখা দিতে পারে৷ এর কোনো ওষুধ এখনো আবিষ্কার হয়নি৷

চিকুনগুনিয়া:

ডেঙ্গু জ্বরের কথা আমরা কমবেশি সবাই জানি৷ চিকুনগুনিয়া জ্বর অনেকটা তার মতোই৷ নতুন এই রোগ সম্পর্কে জ্ঞান থাকা প্রয়োজন, কারণ আফ্রিকার এই জ্বর ইতিমধ্যে ঢাকায় ঢুকে পড়েছে৷

নিলের জ্বর:

এক ধরণের জ্বর আছে যার নাম, ‘ওয়েস্ট নিল ফিভার' বা পশ্চিম নিলের জ্বর৷ এই জ্বর হয় কুলেক্স মশার কারণে৷ তবে কুলেক্স মশা প্রথমে কোনো পাখিকে কামড়ায়৷ তারপর মানুষকে কামড়ালেই মহাবিপদ৷ মশাবাহিত জীবাণুর কারণে লিম্ফ্যাটিক ফিলারিয়াসিসও হতে পারে৷ নীরবে এই জীবাণু দেহে আশ্রয় নিলে এবং দীর্ঘদিন চিকিৎসা না করলে এই রোগের কারণে মৃত্যুও হতে পারে৷

পিতজ্বর:

জাপানি এনসেফেলাইটিসও খুব ভয়ংকর এক মশা৷ এদের কারণে হয় পিতজ্বর৷ প্রতিবছর সারা বিশ্বে অন্তত ২ লাখ মানুষের পিতজ্বর হয় এবং টিকা না দিলে কমপক্ষে ৩০ হাজার মানুষ মারা যায়৷

লাইশম্যানিয়াসিস:

গর্ভবতী নারী মশাদের কামড়ে এই রোগ ছড়ায়৷ ৩০ ধরনের ভিন্ন প্রজাতির লাইশম্যানিয়াসিস জীবাণু রয়েছে৷ এর মধ্যে ১০টি মানবদেহে রোগ ছড়ায়৷ প্রাথমিক পর্যায়ে জ্বর ও মাথা ব্যাথা দেখা দেয়৷ কিছু কিছু ক্ষেত্রে স্কিন আলসার হয়ে ক্ষত সৃষ্টি হয়৷ তবে দ্রুত ডাক্তার না দেখালে যকৃত, বৃক্কসহ বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ অঙ্গে তা ছড়িয়ে পড়তে পারে৷ চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুও ডেকে আনতে পারে লাইশম্যানিয়াসিস৷

সিন্ডবিস:

কুলেক্স নামের নিশাচর মশা এই রোগের ভাইরাস বহন করে৷ মূলত আফ্রিকায় পাওয়া গেলেও সম্প্রতি ইউরোপের বিভিন্ন স্থানে মানবশরীরে এই জীবাণুর অস্তিত্ব পেয়েছেন৷ এই মশার কামড়ে তীব্র জ্বর ও মস্তিষ্কে প্রদাহ দেখা দেয়৷ আরো ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন হাড়ের সংযোগেও প্রদাহের সৃষ্টি হয়৷ কয়েক সপ্তাহ পর এ রোগ এমনিতেই সেরে যায়৷ এর কোনো ওষুধ নেই৷

ইয়েলো ফিভার:

টাইগার মশা এবং এডিস প্রজাতির আরো কিছু মশার মাধ্যমে ইয়েলো ফিভার ছড়ায়৷ সাধারণভাবে একে ফ্লাভিবাইরাসও বলা হয়ে থাকে৷ আফ্রিকার ৩৪টি এবং দক্ষিণ ও মধ্য অ্যামেরিকার ১৩টি দেশে ইয়েলো ফিভারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি৷ শুরুতে জ্বর এলেও পরে তা বমি, এবং একসময় মেনিনজাইটিসে রূপ নেয়৷ গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যঙ্গ আক্রান্ত হওয়া, এমনকিসম্পূর্ণ নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও বেড়ে যায়।

তথ্যসূত্র: 

  • ডয়চে ভেলে।
  • Edited: Natural_Healing.

কোন মন্তব্য নেই

Popular Post

Blogger দ্বারা পরিচালিত.