First Aid Present

Lifestyle Modification এবং প্রাকৃতিক খাদ্য, পানীয়, শাকসবজি, গাছ, ডালপালা, ফল, মসলা, পাতা ও ফুল ইত্যাদির দ্বারা প্রাথমিক চিকিৎসা।

বেল ফল এবং বেলের শরবত

শরবত হল মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ায় ফল অথবা ফুলের পাঁপড়ি থেকে প্রস্তুত একটি জনপ্রিয় পানীয়। এটি সাধারণত মিষ্টি হয় এবং ঠান্ডা পরিবেশন করা হয়। কখনও এটি ঘন অবস্থাতে পরিবেশিত হয় এবং চামচ দ্বারা খাওয়া হয় আবার কখনও জল মিশিয়ে পাতলা অবস্থাতেও পরিবেশন করা হয়ে থাকে।

বেলের শরবত- বেল একটি পুষ্টিকর এবং উপকারী ফল। বেলকে বলা হয় শ্রীফল কারণ হিন্দুদের পূজা-অর্চনায় বেলের পাতা ও ফল ব্যবহার করা হয়। হিন্দুরা বেল কাঠ পবিত্র জ্ঞান করে বিধায় কখনো বেল কাঠ পুড়িয়ে রান্না করে না।

বেলের সরবত বা বেলা পানা (ওড়িয়া ভাষা) একটি পানীয় যা তৈরি হয় পাকা বেল থেকে। বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিম বংগ ও ওড়িষ্যায় চৈত্র, বৈশাখ মাসে এবং গরমের সময়ে বেলের সরবত খুবই জনপ্রিয়।

চিত্র: পাকা বেলের শরবত।

শুধু পাকা বেলের রস এবং ঠান্ডা পানি দিয়েও শরবত তৈরি করতে পারেন, অঞ্চলভেদে বিভিন্ন প্রণালীতে বেলের সরবত তৈরি করা হয়ে থাকে তথাপি এখানে কিছু উপকরণ উল্লেখ করা হলো:

উপকরণ-১

  • পাকা বেল,
  • দুধ,
  • গোলমরিচ,
  • ছানা,
  • ১/ ৪ কাপ খোসা ছাড়িয়ে টুকরো করে কাটা কলা,
  • ১/ ২ কাপ মধু বা গুড়,
  • ১/ ২ কাপ দই,
  • এলাচ ২ টি,
  • কোরানো নারিকেল

উপকরণ-২

পাকা বেল ১টি, লাল চিনি (তাল মিছরি) ১ কাপ ও ঠান্ডা পানি ৩ গ্লাস।

প্রণালি: বেলের বিচি ফেলে মোটা চালুনিতে চেলে নিন। এবার ওপরের সব উপকরণ দিয়ে ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করুন। শরবত ঘন হলে আরও পানি মেশাতে হবে। এরপর গ্লাসে পরিবেশন করুন।

উপকারিতা এবং পুষ্টিগুণ:

বেল কাঁচা পাকা দুই অবস্থায়ই সমান উপকারী। কাঁচা-বেল ডায়রিয়া ও আমাশয় রোগে ধন্বন্তরী। অনেকে মনে করেন প্রতিদিন একটি করে বেল পাতা ঘি দিয়ে ভেজে চিনি সহ খেলে স্মৃতিশক্তির উন্নতি ঘটে। বেল কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে ও আমাশয়ে উপকার করে। আধাপাকা সিদ্ধ ফল আমাশয়ে অধিক কার্যকরী। বেলের শরবত হজমশক্তি বাড়ায় এবং তা বলবর্ধক। সান স্ট্রোকের প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে।ষ বেলের পাতার রস মধুর সাথে মিশিয়ে পান করলে চোখের ছানি ও জ্বালা উপশম হয়। পাতার রস, মধু ও গোল মরিচ এর গুঁড়া মিশিয়ে পান করলে জন্ডিস রোগ নিরাময় হয়। পেট খারাপ, আমাশয়, শিশুর স্মরণ শক্তি বাড়ানোর জন্য বেল উপকারী। বেলে প্রচুর ভিটামিন সি আছে। এই ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। বেল নিয়মিত খেলে কোলন ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা অনেকাংশে কমে যায়।

পাকা বেলের শরবত সুস্বাদু। বেলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি এবং ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও পটাসিয়ামের মত মূল্যবান পুষ্টি উপাদান। 

১০০ গ্রাম বেলের শাঁসে থাকে: জল 54.96-61.5 গ্রাম, আমিষ 1.8-2.62 গ্রাম ; স্নেহপদার্থ 0.2-0.39 গ্রাম ; শর্করা 28.11-31.8 গ্রাম ; ক্যারোটিন 55 মিলিগ্রাম ; থায়ামিন 0.13 মিলিগ্রাম ; রিবোফ্ল্যাবিন ১.১৯ মিলিগ্রাম ;নিয়াসিন ১.১ মিলিগ্রাম ; এসকর্বিক এসিড ৮ - ৬০ মিলিগ্রাম ; এবং টারটারিক এসিড ২.১১ মিলিগ্রাম।

তথ্যসূত্র:

  • উইকিপিডিয়া।
  • প্রথম আলো।
  • Edited: Natural_Healing.

কোন মন্তব্য নেই

Popular Post

Blogger দ্বারা পরিচালিত.