লেবু ফল এবং লেবুর শরবত
লেবু গাছের উপবৃত্তাকার হলুদ ফলটি সারা বিশ্বে রান্নার কাজ এবং রান্নার কাজ ছাড়াও বিভিন্ন উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়; মূলত এটির রসের জন্য। এটির রস রান্না ও পরিষ্কারের উভয় কাজেই ব্যবহার করা হয়। লেবুর শাঁস এবং খোসাও রান্না এবং বেকিংয়ে ব্যবহৃত হয়। লেবুর রসে প্রায় ২.২ পিএইচ এর প্রায় ৫% থেকে ৬% সাইট্রিক অ্যাসিড, যার কারণে এটি টক স্বাদযুক্ত হয়। লেবুর রস টক স্বাদযুক্ত হওয়ায় এটিকে পানীয় এবং খাবার, যেমন লেবুর শরবত এবং 'লেবু মেরিংয়ে পাইয়ের' মূল উপাদান হিসাবে ব্যবহার করা হয়।চট্টগ্রাম অঞ্চলে লেবুকে "হঁজি" বলে। নোয়াখালীতে লেবুকে "কাগজী" বলে।
গরমে পান করতে পারেন লেবুর শরবত। আসুন জেনে নেই কীভাবে তৈরি করবেন লেবুর শরবত। শুধু লেবুর রস এবং পানি দিয়ে এই শরবতটি তৈরি করতে পারেন তথাপি কিছু উপকরণ নিম্নে উল্লেখ করা হলো-
উপকরণ:
পুদিনা পাতা এক কাপ, লেবু দুই টেবিল চামচ, বিট লবণ আধা চা চামচ, ভাজা জিরা গুঁড়া আধা চা চামচ, লাল চিনি তিন টেবিল চামচ।
প্রস্তুত প্রণালি:
একটি ব্লেন্ডারে সব উপকরণ দিয়ে ভালো করে ব্লেন্ড করে নিন। এবার পরিবেশন গ্লাসে তিনটি বরফ দিয়ে দিন।
এখন একটি ছাঁকনি দিয়ে গ্লাসের অর্ধেক পরিমাণ পুদিনা-লেবুর জুস দিয়ে দিন। বাকি অর্ধেক পানি দিয়ে হালকা হাতে নেড়ে দিয়ে পরিবেশন করুন।
লেবুর পুষ্টিগুণ এবং উপকারিতা:
পুষ্টি এবং ফাইটোকেমিক্যালস:
লেবু ভিটামিন সি এর সমৃদ্ধ উৎস, যা ১০০ গ্রাম রেফারেন্স পরিমাণে (টেবিলে) দৈনিক প্রয়োজনীয়তার ৬৪% সরবরাহ করে। অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানগুলি পরিমাণে কম থাকে।
লেবুতে পলিফেনলস, টের্পেনস এবং ট্যানিন সহ অসংখ্য ফাইটোকেমিক্যাল রয়েছে। লেবুর রসে বাতাবিলেবুর রসের চেয়ে কিছুটা বেশি সাইট্রিক অ্যাসিড থাকে (প্রায় ৪৭ গ্রাম/লিটার)। লেবুর রসে জাম্বুরার রসের প্রায় দ্বিগুণ এবং কমলার রসের প্রায় পাঁচগুণ বেশি সাইট্রিক এসিড পাওয়া যায়।
শরবত:-
এক গ্লাস পানি এবং একটা অর্ধেক লেবু। এই দুটি উপাদানের সহযোগে বানানো শরবত রাত দিন খেলেই দেখবেন ডাক্তারের চেম্বারের ঠিকানা আপনি একেবারে ভুল গেছেন। কেননা একাধিক স্টাডিতে দেখা গেছে, নিয়মিত লেবু পানি খাওয়া শুরু করলে ছোট-বড় কোনও রোগই ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না। সেই সঙ্গে মেলে আরও অনেক উপকার। যেমন ধরুন-
লেবুর শরবত পানিশূন্যতা পূরণ, ক্লান্তি দূর করা ও ছোট-বড় রোগ প্রতিরোধ করবে।
লেবু শরবত লিভারে উপস্থিত ক্ষতিকর টক্সিক উপাদান বের করে। ফলে লিভারের যে কোনও ধরনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা যায় কমে।
লেবুতে রয়েছে ভিটামিন সি, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ম্যাগনেসিয়াম। যা দেহের ভেতরে পুষ্টির ঘাটতি দূর করে।
ক্ষত সারায়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, হজমে সাহায্য করে, ত্বক পরিষ্কারক, ওজন কমাতে, লিভার পরিষ্কার করে লেবুর শরবত। তবে লেবুর শরবত খেতে হলে অবশ্যই চিনি ছাড়া পান করা ভালো।
নিম্ন আরও কিছু উপকারিতা উল্লেখ করা হলো..
- লিভারের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে: একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত লেবু পানি খেলে লিভারে উপস্থিত ক্ষতিকর টক্সিক উপাদানেরা বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়। ফলে লিভারের কোনও ধরনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা যায় কমে।
- পুষ্টির ঘাটতি দূর হয়: লেবু পানির ভেতরে যে কেবল ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট মজুত থাকে, তা নয়, সেই সঙ্গে উপস্থিত থাকে পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ম্যাগনেসিয়াম এবং আরও কত কী, যা দেহের ভেতরে পুষ্টির ঘাটতি দূর করে শরীরকে শক্তপোক্ত রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।
- দেহের ভেতরে পি এইচ লেভেল ঠিক থাকে: ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে লেবু পানি খেলে দেহের ভেতরে পি এইচ লেভেলের ভারসাম্য ঠিক থাকে। ফলে ভেতর এবং বাইরে থেকে শরীর এতটাই চাঙ্গা হয়ে ওঠে যে দেহের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পেতে সময় লাগে না।
- টিবি রোগের চিকিৎসায় কাজে আসে: সম্প্রতি প্রকাশিত একটি গবেষণা পত্রে এমনটা দাবি করা হয়েছে, টিবি রোগের চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত ওষুধের সঙ্গে লেবুর মতো ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল যদি খাওয়া যায়, তাহলে ওষুধের কর্মক্ষমতা মারাত্মক বৃদ্ধি পায়। ফলে রোগের প্রকোপ কমতে সময়ই লাগে না।
- রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটে: বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন লেবু পানি খাওয়া শুরু করলে দেহের বেতরে ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে, যার প্রভাবে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এত মাত্রায় শক্তিশালী হয়ে ওঠে যে ছোট-বড় কোনও রোগই ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না।
- ত্বকের সৌন্দর্য বাড়ে: হাজারো বিউটি প্রডাক্ট যা করে উঠতে পারেনি, তা লেবু পানি নিমেষে করে ফেলতে পারে। আসলে এই পানীয়তে উপস্থিত বেশ কিছু উপাদান ত্বকের হারিয়ে যাওয়া ঔজ্জ্বল্য ফিরিয়ে আনে। সেইসঙ্গে ত্বকের বয়স কমানোর পাশাপাশি ব্ল্যাক হেডস এবং বলিরেখা কমাতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। যারা বেশি ভিটামিন সি গ্রহণ করেন তাদের ত্বক শুষ্ক হওয়া ও ভাঁজ পড়ার ঝুঁকিতে থাকার সম্ভাবনা অনেক কম। তাই লেবু ত্বকে ব্যবহার করতে পারেন। লেবু ব্যবহারে চেহারায় বয়সের ছাপ কমবে। প্রসঙ্গত, গরমকালে ত্বককে ঠাণ্ডা এবং ঘামমুক্ত রাখতে লেবুর পানি দিয়ে বারে বারে মুখটা ধুতে পারেন, দেখবেন উপকার পাবেন।
- ওজন হ্রাস পায়: নিয়মিত লেবু পানি খেলে শরীরে জমে থাকা অতিরিক্তি মেদ ঝরে যেতে একেবারেই সময় লাগে না। কারণ লেবুর বেতরে উপস্থিত পেকটিন নামক একটি উপাদান, শরীরে প্রবেশ করার পর অনেকক্ষণ পর্যন্ত পেট ভরিয়ে রাখে। ফলে বারে বারে খাবার খাওয়ার ইচ্ছা চলে যায়। আর যেমনটা আপনাদের সবারই জানা আছে, কম মাত্রায় খাবার খেলে স্বাভাবিকভাবেই শরীরে কম মাত্রায় ক্যালরির প্রবেশ ঘটে। ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার কোনও সুযোগই পায় না।
- এনার্জির ঘাটতি দূর হয়: ঘুম থেকে উঠে চা বা কফি না খেয়ে প্রতিদিন এক গ্লাস করে লেবুর পানি খাওয়ার চেষ্টা করুন। এমনটা করলে দেখবেন শরীর চনমনে হয়ে উটতে সময়ই লাগবে না। আসলে লেবুর ভেতরে থাকা একাধিক উপকারি উপাদান শরীরে প্রবেশ করার পর এমন খেল দেখায় যে সকাল সকাল শরীর এবং মস্তিষ্ক চাঙ্গা হয়ে উঠতে একেবারেই সময় লাগে না।
- শ্বাস কষ্টের মতো সমস্যা কমে: যারা অ্যাস্থেমা বা কোনও ধরনের রেসপিরেটরি প্রবলেমে ভুগছেন তারা যত শীঘ্র সম্ভব রোজের ডায়েটে লেবুর পানিকে অন্তর্ভুক্ত করুন। দেখবেন কেমন ফল পান! আসলে এই পানীয়টি শ্বাস-প্রশ্বাস জনিত একাধির জটিলতাকে কমিয়ে ফেলতে দারুন কাজে আসে।
- স্ট্রেস এবং অবসাদের থেকে মুক্তি মেলে: একাধিক গবেষণায় একথা প্রমাণিত হয়েছে, নিয়মিত লেবুর পানি খেলে স্ট্রেস একেবারে কমে যায়। সেই সঙ্গে অবসাদের প্রকোপও কমে। আসলে লেবু পানিতে উপস্থিত বেশ কিছু উপাদান শরীরে প্রবেশ করা মাত্র বিশেষ কিছু হরমোনের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়। যে কারণে এমন সব সমস্যা নিমেষে কমে যেতে শুরু করে।
- রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে: লেবু পানিতে থাকে প্রচুর মাত্রায় পটাশিয়াম, যা রক্তচাপকে স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই তো এমন রোগে যারা বহু দিন ধরে ভুগছেন তারা প্রতিদিন সকাল-বিকাল লেবু পানি খাওয়া শুরু করুন, দেখবেন দারুন ফল পাবেন। তবে এমনটা করার আগে একবার চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নিতে ভুলবেন না যেন।
- পেটের স্বাস্থ্যের প্রকোপ কমে: যারা বদ হজম, কনস্টিপেশন, বারংবার পেট খারাপসহ নানাবিধ পেটের রোগে ভুগে থাকেন তারা প্রতিদিন সকালে হালকা গরম পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে খাওয়া শুরু করুন। এমনটা করলে স্টমাক অ্যাসিডের ক্ষরণ ঠিক মতো হতে শুরু করবে। ফলে রোগের প্রকোপ তো কমবেই, সেই সঙ্গে শরীরে জমে থাকা ক্ষতিকর উপাদান বা টক্সিনও বেরিয়ে যাবে।
- মুখ গহ্বরের নানা রোগ নিমেষে সেরে যায়: মাড়ি থেকে রক্ত পাত এবং দাঁতে যন্ত্রণা হওয়ার মতো সমস্যা হলেও এক গ্লাস লেবুর শরবতের এই ঘরোয়া পদ্ধতিটিকে কাজে লাগাতে পারেন। দেখবেন দারুন উপকার পাবেন।
- শ্বাস-প্রশ্বাসের দুর্গন্ধ দূর করে: হাতের দুর্গন্ধ দূর করতে কখনও লেবু নিয়ে হাতের তালুতে ডলে দেখেছেন? দুর্দান্ত কাজ করে। লেবু দিয়ে ঠিক একই কৌশল ব্যবহার করে দুর্গন্ধযুক্ত শ্বাস-প্রশ্বাসও দূর করা সম্ভব। মুখের দুর্গন্ধ বলতে শুধু সাধারণ দুর্গন্ধ নয়, বিভিন্ন খাবারের তীক্ষ্ন গন্ধও এই কাতারে পড়বে যেমন: আদা, পেঁয়াজ কিংবা মাছের গন্ধ! খাওয়া-দাওয়ার পর এক গ্লাস লেবু পানি পান করলে আপনার শ্বাস-প্রশ্বাস থেকে মিষ্টি ঘ্রাণ বেরোবে। এছাড়া লেবু পানি মুখের ভেতরকার শুষ্কতা দূর করে থাকে। এই শুষ্কতার কারণে ব্যাক্টেরিয়া বেড়ে যায় এবং দুর্গন্ধ বের হয়। রমজান মাসে রোজাদার মুখ থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়ার জন্য দায়ী মুখের ভেতরটা শুষ্ক হয়ে যাওয়া।
- সংক্রমণের প্রকোপ কমে: লেবুতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল প্রপাটিজ। তাই তো লেবু পানি যে কোনও ধরনের সংক্রমণ, বিশেষত গলার সংক্রমণ কমাতে দারুনভাবে সাহায়তা করে থাকে। এক্ষেত্রে লেবু পানি দিয়ে গার্গেল করলেই উপকার পাওয়া যায়।
- কর্মশক্তি বাড়ায় লেবু: লেবুর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম থাকে। যা কর্ম উদ্যমী এবং চাঙ্গা করে তুলতে সহযোগিতা করে, যা রমজান মাসে খুবই প্রয়োজন।
- কিডনিতে পাথর হওয়া ঠেকায়: লেবুতে থাকা সাইট্রিক এসিড কিডনিতে সাদা পাথর হওয়া প্রতিরোধ করে। ইউডাব্লিউ হেলথের মতে, বেশি করে সিট্রিক এসিড গ্রহণ করলে নতুন করে সাদা পাথর জন্মাবার ঝুঁকি কমে যায়। লেবু পানি পান করার ফলে মানবদেহে শুধুমাত্র সিট্রিক এসিড-ই যোগান পায় না, সেইসাথে পর্যাপ্ত পানিও সরবরাহ থাকে। যার ফলে কিডনিতে পাথর হওয়া প্রতিরোধ করা যায়।
- লেবুতে রয়েছে বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানের সমারোহ, যা শরীরকে বিভিন্ন ক্যান্সারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সাহায্য করে। নিয়মিত লেবু খাদ্য তালিকায় রেখে আমরা ক্যান্সারের হাত থেকে রক্ষা পেতে পারি।
- লেবুতে থাকা ভিটামিন 'সি' দেহের হরমোনকে সক্রিয় রাখে ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে।
লেবুর শরবতে কি তলপেটের মেদ কমে?
লেবুর শরবত খেলে তলপেটের মেদ বা চর্বি কমে- এটি প্রচলিত একটি ভ্রান্ত ধারণা। আবার কেউ কেউ আরো একধাপ বাড়িয়ে বলেন, কুসুম গরমপানির লেবুর শরবত খেলে তলপেটের চর্বি গলে যায়। এ প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহর কথা হচ্ছে, ‘এসব ধারণার বৈজ্ঞানিক কোনো ভিত্তি নেই। লেবুতে থাকে সাইট্রিক এসিড, যার সঙ্গে পেটের চর্বি গলে যাওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই। ব্যায়াম ছাড়া এই চর্বি কমানো সম্ভব নয়। এ ছাড়া চর্বিযুক্ত খাবার কম গ্রহণ করার মধ্যদিয়ে তলপেটে অতিরিক্ত চর্বি জমা প্রতিরোধ করা যেতে পারে। তাই লেবুর শরবতের সাথে তলপেটের চর্বি ঝড়িয়ে ফেলার কোনো সম্পর্ক নেই।’
‘তবে এ ধরনের শরবত চিনি ছাড়া খেলে পাকস্থলী ভরে থাকে এবং ক্ষুধা থাকে না। এতে অন্য খাবার গ্রহণের পরিমাণ কমে যায়। তবে লেবুর শরবত চর্বি না কমালেও শরীরের ভিটামিন সির চাহিদা মেটায়।’
লেবু রন্ধনসম্পর্কীয় ব্যবহার:-লেবুর রস, বহিরাবরণ এবং খোসা বিভিন্ন ধরণের খাবার ও পানীয়তে ব্যবহৃত হয়। মারমালেড, লেবু দই এবং লেবু লিকার তৈরি করতে লেবুর সব অংশ ব্যবহৃত হয়। লেবু টুকরা এবং লেবুর খোসা খাবার এবং পানীয়ের গার্নিশ হিসাবে ব্যবহৃত হয়। লেবুর খোসার উপরের অংশ বা ফলের খোসার উপরের অংশ ঝাঁঝরি করে পাওয়া অংশ বেকড করা পণ্য, পুডিং, ভাত এবং অন্যান্য খাবারের স্বাদ যোগ করতে ব্যবহৃত হয়।
রস:-
লেবুর রস শরবত, কোমল পানীয় এবং ককটেল তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এটি মাছ মেরিনেড করার জন্য ব্যবহৃত হয়,এটির অ্যাসিড মাছের অ্যামাইনো যৌগগুলোকে অনুদ্বায়ী অ্যামোনিয়াম লবণে রূপান্তর করার মাধ্যমে নিরপেক্ষ করে। এটির অ্যাসিড মাংসের শক্ত কোলাজেন ফাইবারকে আংশিক হাইড্রোলাইজ করে এটিকে কোমল করে তোলে। যুক্তরাজ্যে, বিশেষত শ্রোভ মঙ্গলবারে, প্যানকেকে প্রায়শই লেবুর রস ব্যবহার করা হয়,
লেবুর রস কিছু নির্দিষ্ট খাবার যেগুলো কেটে রাখলে বাতাসের অক্সিজেনের সঙ্গে রাসায়নিকভাবে যুক্ত হয় এবং বাদামী হয়ে যায় (এনজাইমেটিক ব্রাউনিং ) সেগুলোর ক্ষেত্রে স্বল্প-মেয়াদী প্রিজারভেটিভ হিসেবেও ব্যবহৃত হয় যেমন: আপেল, কলা এবং অ্যাভোকাডো। কারণ এর অ্যাসিড এনজাইমগুলোর কার্যকারিতা নষ্ট করে।
খোসা:-
মরোক্কোতে লেবুগুলি বয়াম বা নুনের পিপায় সংরক্ষণ করা হয়। লবণ খোসা ভেদ করে, সেটাকে নরম করে এবং তাদের ঠিক রাখে করে যাতে তারা প্রায় অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থায়ী হয়। [১৯] সংরক্ষিত লেবুগুলো বিভিন্ন ধরণের খাবারে ব্যবহৃত হয়। সিসিলিয়ান, ইতালিয়ান, গ্রীক এবং ফরাসি খাবারগুলিতেও সংরক্ষণ করা লেবু পাওয়া যেতে পারে।
পেকটিন তৈরিতেও খোসা ব্যবহার করা যেতে পারে।পেকটিন হল একধরনের পলিস্যাকারাইড যা জেলিং এজেন্ট এবং স্ট্যাবিলাইজার হিসাবে খাবার বা অন্যান্য পণ্যে ব্যবহৃত হয়।
তেল:-
লেবুর খোসার তেলযুক্ত কোষ থেকে লেবুর তেল বের করা হয়। একটি মেশিনে কোষগুলিকে ভাঙা হয় এবং সব তেল বের করে আনতে পানির স্প্রে ব্যবহার করা হয় । সেন্ট্রিফিউগেশন এর মাধ্যমে তেল জলের মিশ্রণটি ফিল্টার করে তেল আলাদা করা হয়।
পাতা:-
লেবু গাছের পাতা চা তৈরি করতে এবং রান্না করা মাংস ও সামুদ্রিক খাবার প্রস্তুত করতে ব্যবহৃত হয়।
অন্যান্য ব্যবহার:-
শিল্প:
গাঁজন- ভিত্তিক প্রক্রিয়াগুলো উন্নত হওয়ার আগে লেবু সাইট্রিক অ্যাসিডের প্রাথমিক বাণিজ্যিক উৎস ছিল।
সুগন্ধ:-
লেবুর তেল অ্যারোমাথেরাপিতে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। লেবুর তেলের সুগন্ধ মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে না, তবে উদ্বেগ মুক্ত করতে অবদান রাখতে পারে।
অন্যান্য:-
এমন একটি শিক্ষামূলক বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায রয়েছে যেখানে একটি লেবুতে তড়িৎদ্বার সংযুক্ত করে সেটিকে বিদ্যুত উৎপাদন করার জন্য ব্যাটারি হিসাবে ব্যবহার করা হয়। যদিও খুব কম শক্তি উৎপন্ন হয়,তবে বেশ কয়েকটি লেবু ব্যাটারি হিসেবে কাজ করে একটি ছোট ডিজিটাল ঘড়িকে চালু রাখতে পারে। এই পরীক্ষাগুলো অন্যান্য ফল এবং শাকসবজির ক্ষেত্রেও কাজ করে।
তাপ প্রদান করে লেবুর রসকে সাধারণ অদৃশ্য কালি হিসাবে ব্যবহার করা যেতে পারে।
লেবুর রস চুলের স্বর্ণাভ রঙ বাড়াতে ব্যবহার করা যায়। আর্দ্রতাযুক্ত চুল সূর্যের আলোতে প্রকাশিত হওয়ার পর এটি প্রাকৃতিকভাবে রঙটি লক্ষণীয় করে তোলে। সাইট্রিক অ্যাসিড ব্লিচ হিসাবে কাজ করার কারণে এটি ঘটে।
তথ্যসূত্র:
- ডা. সজল আশফাক, সহযোগী অধ্যাপক, নাক কান গলা বিভাগ, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল,
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ,
- এনটিভি।
- যুগান্তর।
- বোল্ড স্কাই> একুশে টিভি।
- দৈনিক ইনকিলাব।
- উইকিপিডিয়া।
- এনডিটিভি> rtv.
- ডা নাফিসা আবেদীন, সমকাল।
- Edited: Natural_Healing.





কোন মন্তব্য নেই