First Aid Present

Lifestyle Modification এবং প্রাকৃতিক খাদ্য, পানীয়, শাকসবজি, গাছ, ডালপালা, ফল, মসলা, পাতা ও ফুল ইত্যাদির দ্বারা প্রাথমিক চিকিৎসা।

এবার ডেঙ্গুর চেহারা আলাদা, তাই ঝুঁকি বেশি

আলাদা চেহারা নিয়ে এবার হাজির হয়েছে ডেঙ্গু৷ জ্বরের মাত্রা কম৷ র‌্যাশ দেখা যায় না, ব্যথাও হয় না। অনেকে বুঝতেই পারেন না যে তিনি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত। একে ‘শকড সিনড্রম ডেঙ্গু' আখ্যা দিয়ে ঝুঁকিও বেশি বলে সতর্ক করেছেন চিকিৎসকরা৷

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কমিনিউকেবল ডিজিজ শাখা থেকে চলতি বছরের ৩ থেকে ১২ মার্চ ঢাকার দুই সিটি এলাকার ৯৭টি ওয়ার্ডে একটি জরিপ চালানো হয়। জরিপে ১০০ টি জায়গার ৯৯৮টি বাড়ি থেকে পানির নমুনা সংগ্রহ করা হয়। আর সেই নমুনায় ডেঙ্গুর জন্য দায়ী এডিস মশার উচ্চমাত্রায় লার্ভা পাওয়া যায়। পরিত্যক্ত টায়ার, প্লাস্টিক ড্রাম, বালতি, নির্মানাধীন বাড়ির খোলা ট্যাঙ্ক, ফুলের টব থেকে যে পানির নমুনা নেয়া হয় সেই পানিতে এডিস মশার লার্ভা ছিলো সর্বোচ্চ। উত্তর সিটির ৮টি এবং দক্ষিণ সিটির ১৫টি ওয়ার্ডকে সর্বাধিক ডেঙ্গু প্রবণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

প্রিভেন্টিভ মেডিসিন বিবেশষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এবার শকড সিনড্রম বেশি হচ্ছে। এর আগে আমরা দেখেছি হেমোরেজিক ডেঙ্গু। 

  • শকড সিনড্রম-এ শরীরে পানি কমে যায়, তাপ বেড়ে যায়, হার্ট বিট কমে যায়, ব্লাড প্রেসার কমে যায় এবং রোগী জ্ঞান হারাতে পারে। ফুসফুস এবং পেটে পানি জমে। জ্বরের মাত্রা কম (১০১-১০২)৷ র‌্যাশ দেখা যায় না, ব্যথাও হয় না। ফলে অনেকে বুঝতেই পারেন না যে তিনি ডেঙ্গু আক্রান্ত। বা গুরুত্ব দেন না। জ্বর চলে যাওয়ার পরে প্লাটিলেট ভেঙ্গে ব্লাডপ্রেসার কমে কলাপস করে। ফলে এবার মৃত্যুর হার বেশি।''
  • হেমোরেজিক-এ রক্তক্ষরণ হয়, শরীরে র‌্যাশ ওঠে, তাপমাত্রা ১০৪ থেকে ১০৫ হয়। এটার সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষ পরিচিত। তাই সে বুঝতে পারে কি করতে হবে। 

তিনি বলেন, ‘‘আগে আমরা বলতাম তিন দিন দেখার জন্য। কিন্তু এবার যে ধরনের ডেঙ্গু তাতে কারুর সামান্য জ¦র হলেই চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। কোনো দেরি করা যাবেনা। জরের সাথে বমি ও লুজ মোশনও ঙেঙ্গুর লক্ষণ।''

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহও ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এবার ডেঙ্গু মোডিফায়েড ফর্মে এসেছে। লক্ষণ আগের মত নয়। তাপমাত্রাও বেশি থাকেনা , ১০১-১০২ ডিগ্রী। হেমোরেজিক নয়, শকড সিনড্রম । হাড়ে বা শরীরের সংযোগস্থলে ব্যথাও হয়না। ফলে অনেকেই বুঝতে পারেন না। তাই আমারো পরামর্শ অল্প বা বেশি যেকেনো মাত্রার জ্বর হলেও দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। অপেক্ষা করা চলবে না।''

তিনি বলেন, ‘‘স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যে হিসেব দিচ্ছে আর আমরা যে খোঁজ খবর পাচ্ছি তাতে প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা অনেক বেশি। আমরা একজন চিকিৎসকেরও মৃত্যুর খবর পেয়েছি। কেউ যদি দ্বিতীয় বা তৃতীয়বার আক্রান্ত হন তাদের জন্য ঝুঁকি বেশি।''

তিনি আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘‘জ্বর হলেই প্রচুর পানি ও পানীয় খাবার খেতে হবে। যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎকের কাছে যেতে হবে। জ্বরের মাত্রা যাই হোক না কেন।''

তথ্যসূত্র:

  • বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ,
  • প্রিভেন্টিভ মেডিসিন বিবেশষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী,
  • ডয়চে ভেলে।
  • Edited: Natural_Healing.

কোন মন্তব্য নেই

Popular Post

Blogger দ্বারা পরিচালিত.