First Aid Present

Lifestyle Modification এবং প্রাকৃতিক খাদ্য, পানীয়, শাকসবজি, গাছ, ডালপালা, ফল, মসলা, পাতা ও ফুল ইত্যাদির দ্বারা প্রাথমিক চিকিৎসা।

চিকুনগুনিয়া-এডিস ইজিপ্টি

এডিস অ্যালবোপিকটাস ও এডিস এজিপটি নামক মশার কামড়ে চিকুনগুনিয়া জ্বর হয়ে থাকে৷ তবে কেবল নারী এডিস মশাই এই জ্বরের জন্য দায়ী৷

মশার নাম এডিস অ্যালবোপিকটাস, রোগের নাম ‘চিকুনগুনিয়া জ্বর’।

ডেঙ্গু জ্বরের কথা আমরা কমবেশি সবাই জানি৷ চিকুনগুনিয়া জ্বর অনেকটা তার মতোই৷ নতুন এই রোগ সম্পর্কে জ্ঞান থাকা প্রয়োজন, কারণ আফ্রিকার এই জ্বর ইতিমধ্যে ঢাকায় ঢুকে পড়েছে৷

লক্ষণ:

মশার কামড় খাওয়ার পাঁচ দিন পর থেকে শরীরে এই রোগের লক্ষণ ফুটে ওঠে৷ এক্ষেত্রে মাথাব্যথা, সর্দি, বমি বমি ভাব, হাত ও পায়ের গিঁটে এবং আঙুলের গিঁটে ব্যথা, ফোসকা পড়া ও শরীর বেঁকে যেতে পারে৷ জ্বর উঠতে পারে ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত৷ থাকতে পারে ২ থেকে ১২ দিন৷ তবে সাধারণত ৩ থেকে ৭ দিন পর্যন্ত জ্বর থাকে৷ কিন্তু এর পর হাড়ের জোড়ায় ভয়াবহ ব্যথা কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে৷ কোনো কোনো ক্ষেত্রে চামড়ায় ক্ষত দেখা দিতে পারে৷ তবে আশার কথা, একবার চিকুনগুনিয়া হয়ে গেলে দ্বিতীয়বার এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা একেবারেই কমে যায়৷

ডেঙ্গু vs চিকুনগুনিয়া:

অনেকে চিকুনগুনিয়া জ্বরকে ডেঙ্গু জ্বর মনে করতে পারেন৷ কারণ এদের মধ্যে অনেক মিল রয়েছে৷ তবে ডেঙ্গুর সঙ্গে চিকুনগুনিয়ার মূল পার্থক্য হলো, এই জ্বরে হাড়ের জোড়াগুলো ফুলে যায়, ডেঙ্গু জ্বরে যেটা হয় না৷

চিকিৎসা:

রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে রোগটি শনাক্ত করা যায়৷ এখন পর্যন্ত চিকুনগুনিয়ার কোনো ভ্যাকসিন তৈরি হয়নি৷ তাই চিকুনগুনিয়া সারাতে সাধারণ জ্বরের চিকিত্সা নিলেই চলবে৷ বিশ্রাম, প্রচুর তরল খাবার ও প্যারাসিটামল সেবন করা যেতে পারে৷ তবে চিকুনগুনিয়া জ্বর প্রতিরোধে এডিস মশার প্রজনন বন্ধ করতে হবে৷

সাধারন মানুষ কিভাবে সচেতন থাকতে পারে?

ব্যক্তিগত প্রটেকশন নিতে হবে, যাতে মশা না কামড়াতে পারে৷ হাফপ্যান্ট, হাফশার্ট না পরে ফুলপ্যান্ট ফুলশার্ট পরতে হবে৷ ঘরবাড়ি পরিষ্কার রাখতে হবে৷ যেমন অনেকে ঘরে বা বারান্দায় ফুলের যে টবগুলো আছে, সেগুলো পরিষ্কার করে না৷ ফ্রিজ বা এয়ার কন্ডিশনের জমা পানিতেও মশা ডিম পাড়ে৷ নিজের আশেপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখলে কিছুটা হলেও রক্ষা পাওয়া যাবে৷

একজনের কাছ থেকে আরেকজনে কীভাবে ছড়ায় চিকুনগুনিয়া?

চিকুনগুনিয়া কোনো ছোঁয়াচে রোগ নয়, এটা মশার কামড়েই হয়৷ সুতরাং মশার কামড় থেকে বাঁচতে হবে৷ আক্রান্ত হলে ৫-৭ দিনের বেশি শরীরে এই ভাইরাস থাকে না, এর মধ্যে শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়৷ দিনে ঘুমালে মশারি টানিয়ে ঘুমানো উচিত৷ আক্রান্ত কাউকে মশা কামড়ানোর পর এই মশা অন্য কাউকে কামড়ালে ভাইরাস ছড়াতে পারে৷ তবে মশার কামড় ছাড়া অন্য কোনোভাবে এই ভাইরাস ছড়াতে পারব না৷

কিছু কিছু ক্ষেত্রে কয়েক সপ্তাহ ধরে রোগিদের ভুগতে হয়...

চিকুনগুনিয়ার মূল লক্ষণ তো জ্বর আসবে৷ আমরা ১০৪, ১০৫, ১০৬ ডিগ্রি, এমন রোগি পাচ্ছি৷ প্রচণ্ড মাথা ব্যথা, শরীর ব্যথা, মাংসপেশিতে ব্যথা৷ এছাড়া বমিভাগ, পাতলা পায়খানা, অরুচি, দুর্বলতা – এগুলো হতেই পারে৷ তিন-চার দিন পর গায়ে কিছু র‍্যাশ হয়, সেগুলোও দু-তিন দিন থাকে৷ মেজরিটির এক-দুই সপ্তাহের মধ্যে এইসব লক্ষণ ভালো হয়ে যায়৷ এদের মধ্যে ১০ শতাংশ রোগির হাড়ের জোড়ায় প্রচণ্ড ব্যথা থেকে যায়৷ এটাকে পোস্ট-চিকুনগুনিয়া আর্থ্রাইটিস বলে, স্থানীয় ভাষায় এটাকে বলে ল্যাংড়া জ্বর৷ কারো কারো ক্ষেত্রে এটা মাসের পর মাস থাকতে পারে৷

এর চিকিৎসা, বা প্রতিকার কী?

এটা যেহেতু একটা ভাইরাস, এর কোনো ‘স্পেসিফিক' চিকিৎসা নেই৷ এর চিকিৎসা হয় লক্ষণভিত্তিক৷ আমরা সাধারণত সাধারণ ব্যথানাশক ওষুধ, যেমন প্যারাসিটামল খেতে বলি৷ সেই সাথে প্রচুর পানি, শরবত এবং তরল খাবার খেতে হবে৷ স্বাভাবিক খাওয়া-দাওয়া কিন্তু চালিয়ে যেতে হবে৷ মাছ-মাংস, শাক-সবজি, ফলমূল এগুলোতে কোনো বাধা নাই৷ অনেকের ক্ষেত্রে প্যারাসিটামল ছাড়া অন্য পেইনকিলার লাগতে পারে৷ কখনও কখনও ডেঙ্গু এবং চিকুনগুনিয়ার একই রকম লক্ষণ থাকে৷ ডেঙ্গুতে সাধারণত অন্য পেইনকিলার দেয়া হয় না, তাতে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি থাকে৷ সুতরাং অন্য পেইনকিলার ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া খাওয়া যাবে না৷ ব্যথা থাকলে বরফ কুঁচি দিয়ে ঠান্ডা সেঁক দেয়া যেতে পারে, কোনক্রমেই গরম সেঁক দেয়া যাবে না৷

বয়স্ক বা শিশুদের বিশেষ কোনো সতর্কতা কি অবলম্বন করতে হবে?

সাধারণত চিকুনগুনিয়ার চিকিৎসা বাসায় বসেই নেয়া যায়৷ তবে যাঁরা অন্যান্য রোগে ভোগেন, যেমন ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি-লিভার-হার্টের রোগ, তাঁদের ঘরে বসে চিকিৎসা নেয়া ঝুঁকিপূর্ণ৷ এইসব রোগীর ক্ষেত্রে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া, প্রয়োজনে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া জরুরি৷ তাদের ক্ষেত্রে এই রোগে মৃত্যুর ঝুঁকিও থেকে যায়৷ এছাড়া গর্ভবতী নারীদের চিকুনগুনিয়া হলে সেটা মা এবং শিশুর জন্যও ক্ষতিকর৷ গর্ভবতীদেরও দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হওয়া উচিত৷

তথ্যসূত্র:

  • অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ, ডয়চে ভেলে।
  • Edited: Natural_Healing.

কোন মন্তব্য নেই

Popular Post

Blogger দ্বারা পরিচালিত.