💚 Green 🍵 Tea_সবুজ চা
গ্রিন টি বলতে আমরা অনেকে শুধু সবুজ রঙের চা বুঝি। কিন্তু আসলে তা নয় (হালকা সবুজ রঙের)। সাধারণ চায়ের ক্ষেত্রে যেমন অনেক প্রক্রিয়াজাত করে একেক দানাদার আকার দেয়া হয়, গ্রিন টি’র ক্ষেত্রে বেশিরভাগই তা করা হয় না। এটি প্রক্রিয়াজাতকরণের ধরন সাধারণ চায়ের চেয়ে আলাদা। অনেক ক্ষেত্রে ছোট ছোট আস্ত পাতাই থেকে যায়।
চা একটি জনপ্রিয় পানীয়। হোক সেটা বন্ধুমহলে বা ঘরোয়া আড্ডায়। সারা দিনের ক্লান্তি দূর করে দিতে চায়ের জুড়ি নেই। চা যদি পানই করতে হয়, তবে গ্রিন টি কেন নয়?
(Green Tea) সবুজ চা'য়ের উপকারিতা:
চীন হলো চায়ের আদি জন্মস্থান৷ বেশিরভাগ গ্রিন টি আসে চীন থেকে৷ সবুজ চা’কে অনেক সময় জাদুর ওষুধ বলা হয়ে থাকে৷ তাই কিছু জাদুকরী উপকার নিচে দেওয়া হল:
- জাপানের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, টহোকু বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাঃ শিনিচি কুরিয়ামা বলেছেন, যারা দিনে দুই কাপের বেশি গ্রীন টি পান করেন তারা মানসিকভাবে অনেক বেশি ফিট৷ তিনি একথাও বলেছেন যে যারা শারিরিক এবং মানসিকভাবে ফিট তাদের জন্য গ্রীন টি বেশি উপকারে আসে৷ গ্রীন টি ইমিউন সিস্টেমকে আরো শক্তিশালী করে৷ তবে এই চা নিয়মিত পান করতে হবে৷
- রোগ প্রতিরোধ করে: গ্রিন টি দেহের সব রোগ প্রতিরোধে সহায়ক। এই চায়ে বিদ্যমান অত্যন্ত শক্তিশালী পলিফেনল ও ফ্লাভনয়েডের মতো অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টে পরিপূর্ণ যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। সবুজ চা দেহকোষকে ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করে, ফলে বাড়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা।
- ত্বকের যত্নে: গ্রিন টি ত্বকের বলি রেখা, রোদে পোড়াভাব কমাতে এবং ব্ল্যাক হেডস ও চোখের নিচের ডার্ক সার্কেল দূর করতে সাহায্য করে।গ্রিন টি ত্বক পরিষ্কার ও উজ্জ্বল রাখতে সাহায্য করে। নিয়মিত খেতে থাকলে ত্বক চুল সবই ভালো থাকে
- খাদ্যনালীর ক্যান্সার প্রতিরোধ করে: এতে উপস্থিত অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট বিশেষভাবে ত্বক ও খাদ্যনালির ক্যানসার প্রতিরোধে সাহায্য করে। এছাড়াও ভালো কোষগুলোর কোনো ক্ষতি না করে সার্বিকভাবে ক্যান্সারের কোষ নির্মূল করে।
- এর পাশাপাশি দাঁতের ক্ষয় রোধ, মাড়ি মজবুত করা এর নিয়মিত কাজেরই একটি।
- এটি রোগপ্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়ায়, উচ্চ রক্তচাপ, আল্সহাইমার, ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে বলে প্রচলিত।
- এ ছাড়া ক্যাটেচিন নামের একটি উপাদান থাকে এই চায়ে, যা ভিটামিন ই এবং সির থেকেও বেশি শক্তিশালী, যা শরীরে একাধিক উপকার করে।
- ঔষধি গুণযুক্ত গ্রীন টি খেতে হয় দুধ ও চিনি ছাড়া৷ এতে দেহের কিডনি, লিভার ভালো থাকে৷
- গ্রিন টি স্বাস্থ্যের জন্য বেশ উপকারি। ওয়েটলেস ড্রিঙ্কেও কথা বলতে গেলে গ্রিন টি’র নাম সবার আগে চলে আসে। শুধু সর্দি-কাশি নয়, ওজন হ্রাস থেকে রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ ও হজমে সহায়তা করে গ্রিন টি। গ্রিন টি হজমপ্রক্রিয়াকে বাড়িয়ে শরীরের অতিরিক্ত মেদ কমিয়ে ফেলতে সাহায্য করে। তাই শরীরে ফ্যাট জমে না। শুধু তা-ই নয়, এই চা নিয়মিত পান করলে শরীরের মেদ কোষে গ্লুকোজ ঢুকতে পারে না। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় উপকারী কোলেস্টেরলের পরিমাণ বাড়ায়।
- গ্রিন টি বা সবুজ চা বিপাক বৃদ্ধি করে। এতে উপস্থিত ক্যাটেচিন যা পেটের মেদ ঝরাতে জোরালো ভূমিকা পালন করে থাকে। গ্রিন টি পলিফেনল শরীরের ফ্যাট অক্সিডেশন প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করে খাবার থেকে ক্যালরি তৈরি প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। ফলে দেহে অতিরিক্ত চর্বি জমতে পারে না। এটি পান করলে মেটাবলিজমের মাত্রা বাড়িয়ে দ্রুত ফ্যাট ঝরাতে সাহায্য করে। তাই অতিরিক্ত ওজন কমাতে নিয়মিত এই চা পান করতে পারেন। একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, এটি এক দিনে ৭০ ক্যালরি পর্যন্ত ফ্যাট বার্ন করে। তার মানে নিয়মিত গ্রিন টি পানের মাধ্যমে বছরে ৭ পাউন্ড পর্যন্ত ওজন কমানো সম্ভব।
- নিয়মিত এই চা পানে শরীরে ভালোভাবে রক্ত চলাচল করে৷ পেট পরিষ্কার থাকে আর মস্তিষ্ককে রাখে সচল, গ্রিন টি স্মৃতিশক্তির উন্নতি ঘটায়৷ এই চা কেবল পিপাসাই মেটায় না দূর করে ক্লান্তি ৷
- ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে: সবুজ চা রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। খাওয়ার পরে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ে, যা প্রত্যক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করে গ্রিন টি।
- হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়: এটি শরীরের খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে হৃদ্রোগ প্রতিরোধ করে থাকে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, গ্রিন টি শরীরের প্রতিটি শিরায় কাজ করে। ফলে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক থাকে। তাই কোনো কারণে রক্তচাপে পরিবর্তন হলেও কোনো ধরনের ক্ষতি করে না। তাছাড়া গ্রিন টি রক্ত জমাট বাঁধতে দেয়া না। ফলে হার্ট অ্যাটাক হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমে যায়।
- গ্রিন টি’র ‘ক্যাটেকাইন’ নামক অ্যান্টি অক্সিডেন্ট মুখের ভেতরের বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস ধ্বংস করে।
- অন্যান্য চা পাতার মতো সবুজ চা পাতায় বিদ্যমান প্রাকৃতিক ‘থিয়ানিন’ নামের অ্যামাইনো এসিড যা দুশ্চিন্তা ও হতাশা কমাতে সাহায্য করে।
- ধারণা করা হয় প্রায় ৪ হাজার বছর আগে মাথা ব্যথার ওষুধ হিসেবে চীনে গ্রিন টি এর ব্যবহার শুরু হয়। গবেষণায় প্রমাণ মিলেছে গ্রিন টি বা সবুজ চা পানে মহিলাদের যকৃত, পাকস্থলী, স্তন, মলাশয় এবং কণ্ঠনালীর ক্যানসারের ঝুঁকি হ্রাস পায়।
- এই চা নিয়মিত পান করলে মানব দেহের ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী হয়৷ এটি শরীরে এনার্জি এবং স্ট্যামিনা ধরে রাখে। দেহের পানিশূন্যতা রোধ করতে পালন করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। নিয়মিত সবুজ চা পানে শ্বাসতন্ত্রের মাসল রিল্যাক্স হয় এবং এতে এজমার সমস্যা প্রশমিত হয়।
- নিয়মিত গ্রিন টি পানে ধমনী শিথিল হয় এবং দেহে রক্ত প্রবাহের মাত্রা ভাল থাকে। আল্ট্রা-ভিওলেট রশ্মী ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করে। শরীরের কোন স্থানে কেটে গেলে আক্রান্ত অংশে লিকার লাগালে দ্রুত রক্ত পড়া বন্ধ হয়। ক্ষতিকর পোকামাকড় কামড়ালে আক্রান্ত স্থান গ্রিন টির পাতায় মুড়ে দিলে দ্রুত আরাম অনুভূত হয়।
- গ্রিন টি ত্বককে সহজে বুড়িয়ে যেতে দেয় না। নিয়মিত সবুজ চা পানে ব্রন সমস্যা দূর হয়। সবুজ চায়ে থাকা ভিটামিন সি আমাদের সর্দি কাশি প্রতিরোধ করে। গ্রীন টি epigallocatechin-3-gallate (EGCG) এলার্জি নিরাময়ে কার্যকরী ভুমিকা পালন করে।
- সবুজ চা'র মধ্যে রয়েছে অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট, ভিটামিন এ, বি, বি৫, সি, ডি, ই, এইচ সেলেনিয়াম, ক্রোমিয়াম, জিংক, ম্যাঙ্গানিজ, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ছাড়াও বিভিন্ন মিনারেল এবং সামান্য ক্যাফেইন। তাই এটি শরীরকে চাঙ্গা করে, সুন্দর স্বাস্থ্য গঠনেও সাহায্য করে। স্বাস্হ্য ঠিক রাখতে সাহায্য তো করেই এমনকি নিয়মিত এই চা পান মানুষের আয়ু বাড়াতেও ভূমিকা রাখে৷
ওজন কেন বাড়ে:
ইদানীং ওজন নিয়ন্ত্রণে অনেকেই গ্রিন টিকে দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় রাখতে পছন্দ করেন।তবে সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষের ওজন বাড়ে প্রধানত প্রয়োজনের তুলনায় বেশি বেশি খাবার (বিশেষ করে ফ্যাট যুক্ত খাবার) গ্রহণ ও পরিশ্রমহীন জীবন যাপন করার জন্য। আর ওজন নিয়ন্ত্রণ বা কমে প্রয়োজনীয় বা তার কম ক্যালরি গ্রহণ অথবা ব্যায়াম করলে।
আসলেই কি গ্রিন টি দ্রুত ওজন কমাতে কার্যকর?
এক কাপ কফির থেকে এক কাপ গ্রিন টি পান করা বেশি স্বাস্থ্যকর। কফির তুলনায় গ্রিন টিতে ক্যাফেইন কম থাকে, তবু তা শরীরের সতেজতায় যথেষ্ট। আবার বেশি ক্যাফেইন অনেক সময় পানিশূন্য করে ফেলতে পারে। শরীরে প্রাকৃতিকভাবে তাপ উৎপন্ন হয়, যা আমাদের শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা বজায় রাখে। আর এই চা পান করলে শরীরের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে থাকে। তাপ বাড়াতে হলে শরীর থেকে ক্যালরি খরচ করতে হয়। আর ক্যালরি পোড়া মানেই তো ওজন কমাতে সাহায্য করে। গ্রিন টি শরীরের বিপাকীয় ক্ষমতা বাড়ায়। এর মধ্যে থাকা বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান এই কাজে মুখ্য ভূমিকা রাখে। গ্রিন টি একধরনের হরমোনের পরিমাণ শরীরে বাড়িয়ে তোলে, যা ওজন কমাতে সাহায্য করে।
সবুজ চা মেটাবলিসম বাড়িয়ে ফ্যাট বার্নে সহায়তা করে যা ওজন কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। যাঁরা গ্রিন টি পান করেন এবং নিয়মিত ব্যায়াম করেন, তাঁদের দ্রুত চর্বি ঝরে। আর যাঁরা ব্যায়াম করেন, কিন্তু গ্রিন টি পান করেন না, তাঁরা এই উপকার থেকে বঞ্চিত হন। আর যাঁরা গ্রিন টি পান করেন, তবে ব্যায়াম করেন না, তাদেরও চর্বি পোড়ে কিন্তু তা কম। ব্যায়াম এবং গ্রিন টি পান একসঙ্গে চালিয়ে গেলে ওজন কমবে দ্রুত হারে। তাই প্রতিদিন অল্প পরিমাণে পান করলেও সপ্তাহ বা মাস শেষে তা বড় পরিমাণই হয়।
কখন পান করবেন গ্রিন টি?
প্রথমে যে বিষয়টি ভালো ভাবে বুঝতে হবে তা হলো গ্রিন টি চা কফির চেয়ে ভালো হলেও সারাদিন যখন ইচ্ছা তখন গ্রিন টি খাওয়া যাবে না। সময়ের উপর ভিত্তি করে গ্রিন টি খাওয়ার প্রতিক্রিয়া ভিন্ন ভিন্ন হয়।
গ্রিন টি খাওয়ার উপযুক্ত সময়:
গ্রিন টি থেকে উপকার পেতে হলে সঠিক সময়ে গ্রিন টি পান করতে হবে। গ্রিন টি খাওয়ার সঠিক সময় হলো সকালে খালি পেটে এবং ব্যায়াম করার আগে। গ্রিন টির মাধ্যমে সকাল শুরু করলে পুরো দিনই আপনার মেজাজ ফুরফুরে থাকবে। গ্রিন টি বা কফি দুটোতেই ক্যাফেইন ও থিয়েনিন রয়েছে। এই দুইটির সমন্বয় মন মেজাজ দুইটিই ভালো রাখে।
তবে যাদের গ্যাসের প্রবলেম আছে তারা; সকালের নাশতার পর: সকালের নাশতায় এমন খাবার খাওয়া উচিত, যেন সারা দিন শরীর অনেক ভালো। খালি পেটে গ্রিন টি খেলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হতে পারে। সুতরাং সকালের নাশতায় স্বাস্থ্যকর কোনো খাবার খেতে হবে এবং এরপর গ্রিন টি পান করবেন।
রাতে ঘুমাতে যাওয়ার ২ ঘণ্টা আগে: রাতে বিছানায় যাওয়ার আগে গ্রিন টি ওজন কমাতে সাহায্য করবে। তবে অনেক সময় তা ঘুম নষ্ট করতে পারে, এ জন্য ঘুমানোর দুই ঘণ্টা আগেই চা পান করতে হবে। এরপরও যদি ঘুমের সমস্যা হয়, তবে তা বাদ দিতে হবে এবং দিনের অন্য সময় তা পান করতে হবে।
ব্যায়াম করার আগে: ব্যায়াম করার আধা ঘণ্টা আগে গ্রিন টি পান করলে যেমন শরীরের মেটাবলিজম বাড়বে, তেমনি কর্মদক্ষতা বাড়বে। ফলে ওজন এবং মেদ কমাতে সাহায্য করবে।
খাবার খাওয়ার পরে বা আগে কখন: অনেকেই খাবার খাওয়ার পরপরই চা পান করেন। খাবার খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই গ্রিন টি পান করা উচিত নয়। যেহেতু গ্রিন টিতে ক্যালরি ঝরে পড়ে তাই খাবার খাওয়ার কমপক্ষে ৪৫ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা পরে অথবা আগে গ্রিন টি পান করুন।
নিউট্রিশনিস্ট অঞ্জু সুদ জানাচ্ছেন,
সকালে মেটাবলিজমের মাত্রা সবচেয়ে বেশি থাকে। তাই সকালে উঠে গ্রিন টি খুবই উপকারী। আবার সন্ধেবেলা যখন আমাদের মেটাবলিজমের মাত্রা কমে যায় তখন গ্রি টি মেটাবলিজম মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে। অঞ্জুর মতে, তাই গ্রিন টি খাওয়ার সবচেয়ে উপযুক্ত সময় সকাল ১০-১১টা মধ্যে বা সন্ধেবেলা।
কখন গ্রিন টি পান করবেন না:
গ্রিন টি খাওয়ার অনুপযুক্ত সময়:
খাবারের পর আমরা অনেকেই এক কাপ গ্রিন টি খাই। কিন্তু খাওয়ার পর এবং ঘুমাতে যাওয়ার আগে গ্রিন টি শরীরে উল্টো ক্ষতি ডেকে আনে। খাওয়ার পর পর গ্রিন টি খেলে খাবারের যেসব উপাদান রয়েছে তা শরীর শোষণ করতে পারে না। ফলে প্রয়োজনীয় উপাদানের ঘাটতি থেকে যায়।
ঘুমাতে যাওয়ার আগে গ্রিন টি পান করলে যে ক্যাফেইন রয়েছে তাতে ঘুমে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ,অবসাদের মত সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে গ্রিন টিতে ক্যাফেইনের পরিমাণ চা কফির তুলনায় অনেক কম। ২৩০ মিলিগ্রাম গ্রিন টিতে ২০ থেকে ৪৫ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন রয়েছে যা চা কফির তুলনায় কম। আবার ব্র্যান্ডভেদে এক কাপ গ্রিন টি’তে ক্যাফেইন থাকে ১০০ মিলি গ্রাম। তাই একদিনে বেশি গ্রিন টি পান করা উচিত নয়।
গ্রিন টি নির্বাচন:
চা নির্বাচনে অনেকেই শুধু ভালো চা নির্বাচনের অভাবে গ্রিন টি’র স্বাদ সম্পর্কে খারাপ ধারণা পোষণ করে থাকেন।
প্রথম আলোর তথ্য মতে, চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে অবস্থিত পেডরোলো গ্রুপের হালদা ভ্যালি চা-বাগানে সবচেয়ে দামি ও উন্নত মানের ‘ড্রাগনওয়েল গ্রিন টি’ উৎপাদন করে, যুক্তরাজ্য, চীন, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের পাশাপাশি দেশেও বাজারজাত শুরু করেছে এই গ্রুপ।
ডয়চে ভেলের তথ্য মতে, চীন থেকে আসা লুং শিং, ভারত থেকে আসা দার্জিলিং মূলত খুবই ভালো।
এডিটিভি’র তথ্য মতে, টেটলি, অর্গানিক ইন্ডিয়ান, ইকো ভ্যালি, গায়া, তাজমহল এবং মিত্তাল ব্র্যান্ডের গ্রিন টি স্বাদে-মানে বেশ ভালো।
গ্রিন টি তৈরি প্রক্রিয়া:
>উপকরণ: গ্রিন টি-ব্যাগ ২টি, আদা কুচি ৪ চা চামচ, দারুচিনি ২ টুকরা, লবঙ্গ ৩-৪টি, গোলমরিচ আধা চা চামচ, লেবু ৪ টুকরা, স্টেভিয়া (চিনির বিকল্প) ১ প্যাকেট, পানি ৪-৫ কাপ।
প্রস্তুত প্রণালী:
পানিতে আদা কুচি ও সব মসলা দিয়ে ভালো করে জ্বাল দিন। পানি কমে এলে চুলা থেকে নামিয়ে টি-ব্যাগ দিয়ে কিছুক্ষণ ঢেকে রাখুন। তারপর টি-ব্যাগ সরিয়ে কাপে ঢেলে লেবুর সঙ্গে পরিবেশন করুন।
>উপকরণ এবং প্রস্তুত প্রণালী: বেছে নিন সুন্দর একটি কেটলি, ভেতরটা ফুটন্ত পানি দিয়ে ধুয়ে নিন৷ এক চা চামচ লুং শিং আর আধা চা চামচ দার্জিলিং চা মিশিয়ে কেটলিতে দিয়ে গরম পানি ঢেলে দিন (চীন থেকে আসা লুং শিং, ভারত থেকে আসা দার্জিলিং মূলত এই দুটোই সবুজ চা)৷ ২ থেকে তিন মিনিট ভিজিয়ে রেখে তুলে ফেলুন আর কেটলির চায়ে মিশিয়ে দিন কয়েক ফোটা তাজা লেবুর রস৷ মুখে দিন এক টুকরো ক্যান্ডি সুগার৷ সেই সাথে আস্তে আস্তে পান করুন এই মাত্র তৈরি করা চা৷ দেখবেন কিছুক্ষণ পর শরীরটা কেমন ঝরঝরে লাগছে৷ সেই সাথে মনটাও!
যেভাবে গ্রিন টি আরো বেশি স্বাস্থ্যকর বানানো যায়:
গ্রিন টি এমনিতেই শরীরের জন্য উপকারী। আপনি চাইলে এর গুণাগুণ আরো বাড়াতে পারেন। গ্রিন টি যে পানিতে করবেন তা অতিরিক্ত ঠান্ডা বা গরম কোনটাই হবে না। পানির তাপমাত্রা হবে ১৬০ থেকে ১৮০ ডিগ্রি। পানিতে ২ থেকে ৩ মিনিটের বেশি গ্রিন টি রাখা ভালো হবে না। ১৭৭ মিলিলিটার পানিতে ২ গ্রাম গ্রিন টি ব্যবহার করা যেতে পারে। আপনি চাইলে সাথে লেবুর রস,পুদিনা পাতা, ১ চা মধু যোগ করে নিতে পারে।
তবে একটা জিনিস খেয়াল রাখতে হবে গ্রিন টি বানিয়ে রেখে দেওয়া যাবে না। এতে করে গ্রিন টির স্বাদ তিতা হয়ে যেতে পারে।
অতিরিক্ত গ্রিন টি পান:
অতিরিক্ত সবুজ চা পানে বিভিন্ন সমস্যা হতে পারে। শরীর ডিহাইড্রেটেড হয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে পেটে সমস্যা, ডায়ারিয়া এবং অন্যান্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। অতিরিক্ত সবুজ চা পানের কিডনি এবং লিভারের উপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। অতিরিক্ত গ্রিন টি পান করলে মানব দেহে প্রয়োজনীয় লবন, পটাশিয়াম এবং মিনারেল হ্রাস পায়। তাই দৈনিক নিয়ম মেনে সবুজ চা পান করুন সুস্থ থাকুন।
লাল চা এবং সবুজ চা এদের মধ্যে কোনটি?
গ্রিন টি: লাল চায়ের তুলনায় গ্রিন টি কম জারিত হয়। এই চা ক্যাটেকিন নামক অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট সমৃদ্ধ। এই উপাদানটি হৃদ্রোগ ও ক্যানসারের মতো বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে। পাশাপাশি, এই চায়ে ক্যাফিনের পরিমাণ থাকে বেশ কম। যা স্বাস্থ্যের পক্ষে বেশ উপযোগী। দেহে অম্লত্বের পরিমাণ কমাতে, বিপাক হার বাড়াতে ও দেহ পরিশুদ্ধ করতে গ্রিন টি বেশ কার্যকর বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।
লাল চা: গ্রিন টি-র তুলনায় লাল চায়ে ক্যাটেকিন নামক অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টটির পরিমাণ অপেক্ষাকৃত কম থাকে। কিন্তু অন্যান্য অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট এতে বেশ ভাল পরিমাণে থাকে। পাশাপাশি, দেহে জলের ঘাটতি পূরণ করতেও বেশ উপযোগী লাল চা।সব মিলিয়ে দু’ধরনের চায়ের মধ্যেই রয়েছে হরেক রকম গুণ। পরিমিত পরিমাণে পান করলে দু’ধরনের চায়েই মিলতে পারে উপকার। কিন্তু সবার স্বাদ ও স্বাস্থ্য সমান নয়। তাই শরীর ও জিভের খেয়াল রেখে বেছে নিতে হবে যে কোনও এক রকমের চা।
তথ্যসুত্র:
- ডা: শরিফুল ইসলাম, প্রথম আলো।
- যুগান্তর।
- ডয়চে ভেলে।
- আনন্দবাজার।
- ইত্তেফাক।
- টাইমস অফ ইন্ডিয়া> কালের কণ্ঠ।
- সময় টিভি।
- Edited: Natural_Healing.


কোন মন্তব্য নেই