First Aid Present

Lifestyle Modification এবং প্রাকৃতিক খাদ্য, পানীয়, শাকসবজি, গাছ, ডালপালা, ফল, মসলা, পাতা ও ফুল ইত্যাদির দ্বারা প্রাথমিক চিকিৎসা।

বিভিন্ন প্রকার ভেষজ (Herbal Tea) চা:

এখন তো বাজারে বিভিন্ন ধরনের চা পাওয়া যায়। বেশিরভাগ মানুষই চা পানের মাধ্যমেই দিন শুরু করে। সকালে ঘুমের আমেজ কাটাতে এবং এনার্জি বৃদ্ধির জন্য অনেকেই চা পান করে থাকেন। মনে রাখবেন, হারবাল চা-তে কখনো দুধ মিশাবেন না। তবে আপনি যে চা-ই খান না কেন, তা একটি উদ্ভিদ থেকেই আসে, যার বৈজ্ঞানিক নাম ক্যামেলিয়া সাইনেসিস। বিশ্বে হাজারো ধরনের চা পাওয়া যায়। কোন স্থানে জন্মাচ্ছে, বছরের কোন সময়টাতে তোলা হচ্ছে আর প্রক্রিয়াজাত করার পদ্ধতিগত ভিন্নতার ওপর নির্ভর করে সেই চা কেমন হবে। প্রতিটি এলাকার চায়ের আছে তার নিজস্ব স্বাদ ও গন্ধ। স্বাস্থ্যগত উপকারিতাও একেক ধরনের হয়ে থাকে।

ভেষজ (Herbal Tea) চা:

এটা একমাত্র চা, যেখানে ক্যামেলিয়া পরিবারের উদ্ভিদের কোনো পাতা থাকে না। এই ধরনের চা আবার তিন রকমের হয়-রুইবস টি, মেট টি ও ভেষজ উপাদানের মিশ্রণ। 

তৃতীয়টাতে খাঁটি ভেষজ উপাদান। এখানে ক্যামেলিয়া পরিবারের পাতা ছাড়া, শুধুমাত্র (অন্যান্য মসলাজাতীয় এবং ঔষধিয় ফুল, ফল, পাতা ইত্যাদি) ফুল ও ফলের মিশ্রণ থাকে।

এখানে আমরা ভেষজ উপাদানে তৈরিকৃত চা এবং কিছু অন্যান্য চা নিয়ে আলোচনা করব:-

ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসাবিজ্ঞান আয়ুর্বেদে বিভিন্ন রকমের ফ্লু বা শ্বাসযন্ত্রের রোগ নিরাময় পদ্ধতির উল্লেখ করা আছে। তাই করোনাভাইরাস প্রতিরোধ, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও নিরাময়ে আয়ুর্বেদ বা ভেষজ উপাদান বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারবে বলে মনে করছেন অনেক চিকিৎসক। এরই মধ্যে চীন, ভারত ও শ্রীলঙ্কা ভেষজ উপাদান ব্যবহার ও নির্দেশনা অনুসরণ করে করোনা নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগী হয়েছে। ভালো ফলাফলও পেয়েছে তারা।

বিষয়টি মাথায় রেখেই আয়ুর্বেদ অ্যান্ড ন্যাচারোপ্যাথি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ পরামর্শ দিচ্ছে সারা দিন উষ্ণ গরম পানি পান করার। পাশাপাশি তুলসী, দারুচিনি, আদা ও গোলমরিচ মিশ্রিত ভেষজ চা প্রতিদিন কয়েকবার পান করার কথাও তারা বলছে। এতে করোনাভাইরাস প্রতিরোধ করা সহজ হতে পারে।

যেমন, কালিজিরা, মধু, তুলসি পাতা, আদা এবং গরম মসলার বিভিন্ন উপকরণ বুক, ফুসফুস এবং কণ্ঠনালীর নানা রকম উপসর্গের ক্ষেত্রে দেশীয় টোটকা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে দীর্ঘকাল ধরে। হারবাল পানীয় এ সময়ের মহামারি করোনা প্রতিরোধের ক্ষেত্রে অবিশ্বাস্য ভূমিকা রাখতে পারে। সংক্রমণ থেকে বাঁচতে শরীরে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে হবে। রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দৃঢ় হলে ভাইরাসবাহিত অসুস্থতা থেকে নিরাপদ থাকা যায়। নানা রকম ভেষজ চা বাজারে পাওয়া যায়। তবে সে সবের চেয়ে ঘরোয়া টাটকা উপাদান দিয়ে নিজে বানিয়ে নিলে বেশি উপকার পাওয়া যায়। 

সব চা কী সবাই খেতে পারেন? কোন চা কখন খাবেন? কীভাবে পান করা উচিত ভেষজ চা? কয়েকটা উদাহরণ রইল।

তুলসী পাতার চা:

সর্দি-কাশি ও জ্বরের সমস্যায় মধু আর তুলসীপাতা খুবই উপকারী। মধু আর তুলসীপাতা গলার কফ পরিষ্কার করে। সর্দি-কাশি হলে প্রতিদিন সকালে মধু ও তুলসীপাতা একসঙ্গে খেলে উপকার পাবেন। 

তুলসি চায়ে লেবুর ভিটামিন সি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কাজে লাগবে।

>উপকরণ: কয়েকটি তুলসী পাতা, এক চামচ মধু, দুই চামচ লেবুর রস।

প্রস্তুত প্রণালী: 

একবাটি জলে একমুঠো তুলসি পাতা ফুটতে দিন। টগবগ করে ফুটলে আঁচ কমিয়ে ১০ মিনিট ফোটান। এরপর এতে মেশান এক চামচ মধু আর দু-চামচ লেবুর রস। মধু দেবে এনার্জি, লেবুর ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কাজে লাগবে। আর তুলসির প্রভাবে জ্বর-সর্দি-কাশির প্রকোপ কম থাকবে। নিয়মিত খেলে প্রদাহের প্রবণতা কমবে, বাড়বে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা।

শুকনো কাশির প্রকোপ কমাতে চাইলে এতে ধনে ও আদা মিশিয়ে নিন। প্রদাহের প্রবণতাও কমবে তাতে।

মশলা চা:

শুধু শীতকালে বা বড়দিনের সময় বাজারে আসে মশলা চা৷ যাতে মেশানো থাকে আদা, এলাচ, দারুচিনি, লং, তেজপাতা জাতীয় গরম মশলা৷ বড়দিনের সময়টাতে বা প্রচণ্ড শীতে জার্মানদের কাছে এই চায়ের বেশ চাহিদা- যা নাকি শরীর গরম রাখতে খানিকটা সাহায্য করে৷

>উপকরণ: চা পাতা আধা চা চামচ, আদা কুচি ৩ চা চামচ, দারুচিনি ২ টুকরা, লবঙ্গ ৫-৬টি, গোলমরিচ আধা চা চামচ, এলাচ ৪-৫টি, পানি ৪ কাপ।

প্রস্তুত প্রণালী:

পানির সঙ্গে সব মসলা দিয়ে জ্বাল দিন। পানি জ্বাল দিয়ে ২ কাপ পরিমাণ হয়ে এলে চা পাতা দিয়ে নামিয়ে ফেলুন। তারপর কাপে ঢেলে পরিবেশন করুন। 

>উপকরণ: সবুজ এলাচ- ৫টি, দারুচিনি- ১ টুকরা, চিনি- স্বাদ মতো, দুধ- ১ কাপ, গোলমরিচ- ১টি, লবঙ্গ- ৪টি, চা পাতা- ২ চা চামচ, আদা গুঁড়া- ১ চা চামচ, আদা- মিহি করে কাটা কয়েক টুকরা।

প্রস্তুত প্রণালি:

এলাচের খোসা ফেলে ভেতরের মসলা বের করে নিন। সব মসলা একসঙ্গে গুঁড়া করে ফেলুন মিহি করে। প্যানে ৪ কাপ পানি গরম করে চা পাতা দিন। চাইলে আধা চা চামচ গ্রিন টি পাতাও দিতে পারেন ব্ল্যাক চায়ের সঙ্গে। গুঁড়া করে রাখা মসলা ও চিনি দিন। দুধ ও আদা গুঁড়া দিয়ে জ্বাল দিতে থাকুন। নামানোর আগে আদা কুচি দিয়ে মৃদু জ্বালে রেখে দিন কয়েক মিনিট। পরিবেশন করুন গরম গরম। 

>উপকরণ: পানি ২ কাপ, এলাচি ২টি, দারুচিনি ২ টুকরা, তেজপাতা ১টি, লবঙ্গ ২-৩টি, চা-পাতা ১ চা-চামচ, চিনি ২ চা-চামচ।

প্রস্তুত প্রণালি: 

এলাচি, দারুচিনি, তেজপাতা, লবঙ্গ দিয়ে পানি ভালোভাবে ফোটান। চা-পাতা দিয়ে কয়েক মিনিট পর ছেঁকে নিন। চিনি মিশিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন।

>উপকরণ: দুধ ৩ কাপ, পানি দেড় কাপ, চা–পাতা ৪ চা-চামচ, লেমন গ্রাস ৩টা, চিনি ৪ চা-চামচ, আদাকুচি ২ চা-চামচ, এলাচির খোসা ৩টি, দারুচিনিগুঁড়া ১ চা-চামচ (ঐচ্ছিক) ও মৌরি ১ চা-চামচ (ঐচ্ছিক)।

প্রস্তুত প্রণালি: 

পাত্রে দুধ, পানি, এলাচির খোসা, লেমন গ্রাস, আদা, চিনি, মৌরি ও দারুচিনি মিলিয়ে বলক তুলে নিতে হবে। বলক এলে চা–পাতা দিয়ে ২ থেকে ৩ মিনিট নেড়ে জ্বাল দিতে হবে। এবার চুলা বন্ধ করে ২–৩ মিনিট ঢেকে রাখুন। পরে ছেঁকে গরম-গরম পরিবেশন করুন। এই ভাবে ইফতারের পর এক কাপ মসলা চা দূর করে দেবে সারা দিনের ক্লান্তি

গ্রিন টি:

চীন হলো চায়ের আদি জন্মস্থান৷ বেশিরভাগ গ্রিন টি আসে চীন থেকে৷ জার্মানরা গ্রিন টি বা সবুজ চা বেশ পছন্দ করেন, যাতে রয়েছে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, যা শরীরের জন্য প্রয়োজন৷ সবুজ চা’কে অনেক সময় জাদুর ওষুধ বলা হয়ে থাকে৷ যা নিয়মিত পান করলে ক্যানসার, আল্সহাইমার, ব্লাড প্রেশার, ডায়েবেটিস এর মতো কঠিন অসুখকে দূরে রাখতে সাহায্য করে৷

>উপকরণ: গ্রিন টি-ব্যাগ ২টি, আদা কুচি ৪ চা চামচ, দারুচিনি ২ টুকরা, লবঙ্গ ৩-৪টি, গোলমরিচ আধা চা চামচ, লেবু ৪ টুকরা, স্টেভিয়া (চিনির বিকল্প) ১ প্যাকেট, পানি ৪-৫ কাপ।

প্রস্তুত প্রণালীঃ: পানিতে আদা কুচি ও সব মসলা দিয়ে ভালো করে জ্বাল দিন। পানি কমে এলে চুলা থেকে নামিয়ে টি-ব্যাগ দিয়ে কিছুক্ষণ ঢেকে রাখুন। তারপর টি-ব্যাগ সরিয়ে কাপে ঢেলে লেবুর সঙ্গে পরিবেশন করুন।

ব্ল্যাক টি:

বেশির ভাগ মানুষ এই চা পান করে। ফুটন্ত পানিতে চা–পাতা দিয়ে কড়া করে বানানো হয়। 

>উপকরণ: এক কাপ জল, আধা চামচ চা পাতা, লেবুর রস নিন। 

প্রস্তুত প্রণালী:

জল গরম করে, এতে চা পাতা দিন। এই চায়ে চিনি ব্যবহার করবেন না। জল ফুটতে শুরু করলে, এটি ছেঁকে তাতে লেবুর রস মিশিয়ে নিন।

কালিজিরা চা:

>উপকরণ: গ্রিন টি-ব্যাগ ২টি, কালিজিরা দুই চা চামচ, লেবু ৪ টুকরা ও মধু ২ চা চামচ।

প্রস্তুত প্রণালী: 

পানিতে কালিজিরা দিয়ে জ্বাল দিন। পানি শুকিয়ে অর্ধেক হয়ে এলে চুলা থেকে নামিয়ে তাতে গ্রিন টি-ব্যাগ দিয়ে কিছুক্ষণ রেখে লেবু-মধু দিয়ে কাপে ঢেলে পরিবেশন করুন।

দারুচিনি চা:

দারুচিনি, গোলমরিচ, লেবুর রস ও মধু দিয়ে বানাতে পারেন ভেষজ চা। দারুচিনির কুমারিন, গোলমরিচের পিপারিন প্রদাহের প্রবণতা কমাবে, বাড়াবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। লেবুর ভিটামিন সি-এর কাজও তাই। সঙ্গে যুক্ত হবে মধুর এনার্জি। বেশ খানিকক্ষণ চাঙ্গা থাকার অব্যর্থ পানীয়। তবে কুমারিন বেশি খাওয়া ঠিক না। লিভারের ক্ষতি হতে পারে। আবার সুগার কমাতে পারে বলে যাঁর ডায়াবিটিসের ওষুধ চলছে, তিনি বুঝেশুনে খাবেন।

>উপকরণ: এক চামচ দারুচিনির গুড়ো, সিকি চামচ গোলমরিচ গুড়ো, এক চামচ লেবুর রস ও এক চামচ মধু।

প্রস্তুত প্রণালী:

এক কাপ ফুটন্ত জলের মধ্যে সবকটা মসলা ঢেলে দিয়ে ভাল করে মিশিয়ে ছেঁকে নিন। 

>উপকরণ: ২০১২ সালে জাপানের এক জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা মতে, দারুচিনি শরীরের ভেতরে জমা মেদ ধীরে ধীরে গলিয়ে দিতে পারে। তবে কেবল দারুচিনি খেলেই হবে না। শরীরচর্চা, ব্যালেন্সড ডায়েট এবং পর্যাপ্ত ঘুমও কিন্তু খুব জরুরি সুস্থতার জন্য। জেনে নিন দারুচিনি চা কীভাবে বানাবেন। দারুচিনি, মধু, এবং লেবু নিয়ে নিন।

প্রস্তুত প্রণালীঃ: 

কাপ পানিতে ১টি বড় স্টিকের দারুচিনি ফুটিয়ে নিন। সুগন্ধ বের হওয়া শুরু করলে নামিয়ে ছেঁকে কাপে নিয়ে নিন। পান করার আগে ১ চা চামচ মধু ও লেবুর রস মিশিয়ে নিন। তৈরি আপনার স্বাস্থ্যকর দারুচিনি চা! চাইলে দারুচিনির পাশাপাশি আদা, এলাচ ও গোলমরিচও দিতে পারেন চায়ে। 

অশ্বগন্ধা চা:

এতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি প্রদাহের প্রবণতা কমবে। অশ্বগন্ধার জীবাণুনাশক গুণও আছে। কমবে মানসিক চাপ-অবসাদ ও বয়সজনিত ক্ষয়-ক্ষতির হার। ইন্ডিয়ান জার্নাল অফ সাইকলোজিকাল মেডিসিনে প্রকাশিত এক প্রবন্ধে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন এই চা খেলে খুব সহজে সতেজ ও ফুরফুরে হওয়া যায়।

>রোজ সকালে বা বিকেলে এক কাপ অশ্বগন্ধার চা খেতে পারেন। এক কাপ ফুটন্ত জলে এক চা-চামচ অশ্বগন্ধা মূলের গুড়ো দিয়ে ঢাকা দিয়ে রাখুন মিনিট ১০-১৫। ছেঁকে লেবুর রস ও মধু দিয়ে খান। 

>দুধ চা-এর ভক্ত হলে জলের বদলে ফুটন্ত দুধে অশ্বগন্ধার গুঁড়ো মিশিয়েও চা বানাতে পারেন। তাতে এলাচ বা আদা মেশালেও কোনও বাধা নেই। তবে চিনির বদলে মধু মেশালে উপকার মিলবে বেশি।

আদা চা:

>সর্দি-কাশি, জ্বর, গলাব্যথা, ও মাথাব্যথায় প্রতিদিন পান করুন আদা চা। ফুটন্ত পানিতে চিনি দিয়ে ফোটান। চিনি মিশে গেলে চা দিয়ে ফোটাতে হবে। এর পর এতে দিন আদার কুচি। কিছুক্ষণ পর ছেঁকে নিয়ে পান করুন। স্বাদ বাড়াতে মেশাতে পারেন পাতিলেবুর রস। এটি চায়ের ভিটামিন সি যোগ করে।

>এক চা-চামচ আদা কুচি, দুটো লবঙ্গ, এক ইঞ্চি দারুচিনি থেঁতো করে দু-কাপ জল দিয়ে ফোটান। তাতে দিন ৩ ইঞ্চি কমলালেবুর খোসা। কম আঁচে ফোটান ১৫ মিনিট। দেড় চামচ মধু মিশিয়ে খান। জ্বর-সর্দি-গলা ব্যথা, সবের আরাম হবে।

হলুদ চা:

হলুদ রক্তপ্রবাহকে সতেজ ও উন্নত করে, যা যকৃতের সুস্থতার জন্য সহায়ক। হলুদ যেকোনো সংক্রমণকে প্রতিহত করে। শরীরের কোনো কাটা বা পোড়া ক্ষত স্থানে হলুদ লাগিয়ে দিলে দ্রুত ক্ষত পূরণ হয়ে যায়।

>উপকরণ:

এক কাপ পানি, আধা চা-চামচ হলুদগুঁড়া, ১ চা-চামচ মধু (স্বাদের জন্য)।

প্রস্তুত প্রণালি:

এক কাপ হালকা গরম পানিতে পরিমাণমতো হলুদগুঁড়া ও মধু ভালোমতো মিশিয়ে নিলেই হয়ে যাবে হলুদ চা। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এই চা পান করার অভ্যাস করলে অনেক ভালো ফল পাওয়া যাবে।

>উপকরণ এবং প্রস্তুত প্রণালী: আধ চামচ কাঁচা হলুদ বাটা ও সিকি চামচ গোলমরিচের গুঁড়োতে ফুটন্ত জল মেশান। এতে মেশান একটা গোটা লেবুর রস আর দেড় চামচ মধু। সকাল-বিকেল খেলে ইমিউনিটি নিয়ে আর ভাবতে হবে না।

পুদিনা পাতার চা:

পুদিনা পাতা সকলের কাছেই পরিচিত। এই পাতার মূল, পাতা, কান্ডসহ সমগ্র গাছই ওষুধীগুণে পরিপূর্ণ। বর্ষাকালে সর্দি-কাশি উপসমে পুদিনা পাতার চা বেশ কার্যকরী। পুদিনা পাতা সুগন্ধি হিসাবে রান্নায় ব্যবহার করেন অনেকে। কাবাব, চাটনি, মশলায় ব্যবহার করা হয় পুদিনা পাতা। বিভিন্ন দেশে পুদিনার ব্যবহার হচ্ছে তেল তৈরিতে। পুদিনার মধ্যে থাকা মেন্থল ভীষণ উপকারী। তাই লিকার চায়ের মধ্যে পুদিনা পাতা মিশিয়ে খানিকক্ষণ ঢেকে রেখে তারপর পান করুন। ভালো উপকার পাবেন। তার আগে চায়ের পানি আদা দিয়ে ফুটিয়ে নিতে ভুলবেন না।

>উপকরণ: পানি ৩ কাপ, চা-পাতা ১ চা-চামচ, পুদিনাকুচি ২ টেবিল চামচ, লবঙ্গ ২-৩টি, মধু ২ টেবিল চামচ, লেমন জেস্ট ১ চা-চামচ (লেবুর খোসার কুচি)।

প্রস্তুত প্রণালি: 

লবঙ্গ, পুদিনা, লেমন জেস্ট দিয়ে পানি ফোটান। ফুটে উঠলে চা-পাতা দিন। চায়ের লিকার ছেকে মধু মিশিয়ে পুদিনাকুচি দিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন।

>উপকরণ: দুধ এক কাপ, পানি দেড় কাপ, চা পাতা দুই চা চামচ, চিনি তিন চা চামচ ও পুদিনা পাতা পাঁচ-ছয়টি।

প্রস্তুত প্রণালী:

প্রথমে একটি প্যানে পানি গরম করে তাতে চায়ের পাতা, পুতিনা পাতা ও চিনি একসঙ্গে মিশিয়ে গরম করুন। এবার এতে দুধ দিয়ে মাঝারি আঁচে জাল দিন। পাঁচ মিনিট পর যখন পুদিনা পাতার ঘ্রাণ বের হবে, তখন চুলা থেকে নামিয়ে চায়ের কাপে ছেঁকে নিন। ব্যস, তৈরি হয়ে গেল ভিন্ন স্বাদের পুদিনা পাতার দুধ চা। 

>ফুটন্ত জলে মেশান রোজমেরি। তাতে দিন ১০-১২টা পুদিনা পাতা। দেওয়ার আগে একটু কুচি কুচি কেটে নেবেন যাতে গন্ধটা পুরোপুরি বেরোয়। ১৫ মিনিট ঢাকা দিয়ে রাখুন। তৈরি পুদিনা চা।

>পুদিনা পাতার চা পান করলে ত্বক ফ্রেশ থাকে। স্ট্রেস কমাতে এবং গ্লোয়িং ত্বকের জন্য আপনি পুদিনা পাতার চা পান করতে পারেন। কয়েকটা পুদিনা পাতা, আধা চা চামচ গোলমরিচ, আধা চা চামচ বিটনুন, দুই কাপ জল নিন। অল্প আঁচে জল গরম করুন। এতে পুদিনা পাতা, গোলমরিচ এবং বিট লবণ দিন। কিছুক্ষণ ফোটান। তারপরে এটি ছেঁকে পান করতে পারেন।

হলুদ, আদা ও মধু চা:

১. হলুদে থাকা পর্যাপ্ত পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি উপাদান ত্বক ও পাকস্থলী সুস্থ রাখে। এ ছাড়া রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাকে দৃঢ় করতেও কাজ করে।

২. পেটের সমস্যায় আদা উপকারী। আদার অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি গুণ ঠাণ্ডা ও বন্ধ নাকের সমস্যা কমায়।

৩. কাশি ও কফের সমস্যায় মধু খেতে পারেন। মধুতে থাকা পর্যাপ্ত পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ফ্রি-রেডিক্যালের বিরুদ্ধে কাজ করে। মধুর অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিভাইরাল ঠাণ্ডাজনিত সমস্যার প্রকোপ কমায়।

যেভাবে তৈরি করবেন হলুদ-মধুর হারবাল চা; কাঁচাহলুদ ও আদা পানিতে ফুটিয়ে ছেঁকে নিন। এতে মধু মিশিয়ে পান করুন।

কালোজিরা ও গোলমরিচের চা:

উপকরণ: চা পাতা ২ চা-চামচ, কালোজিরা আধা চা-চামচ, আস্ত গোলমরিচ আধা চা-চামচ, আদাকুচি এক চা-চামচের তিন ভাগের এক ভাগ, চিনি বা মধু স্বাদমতো ও পানি ৫০০ মিলিলিটার।

প্রস্তুত প্রণালি: 

পানি ফুটিয়ে চা, কালোজিরা, আস্ত গোলমরিচ আর আদাকুচি দিয়ে ৫/৭ মিনিট ফুটিয়ে নিন। এবার চুলা থেকে নামিয়ে নিতে হবে। কাপের ওপরে ছাঁকনি রেখে তাতে চা পাতা দিয়ে তার ওপরে ফুটন্ত কালোজিরা, গোলমরিচ ও আদা জ্বাল দেওয়া পানি ধীরে ধীরে ঢেলে ছেঁকে নিয়ে চিনি বা মধু মিশিয়ে নিয়ে গরম থাকা অবস্থাতেই পান করুন।

মাল্টা ও মরিচের চা:

উপকরণ: চা পাতা আধা চা-চামচ, মাল্টা ১টি, কাঁচা মরিচ ১টি, চিনি বা চিনির বিকল্প স্বাদমতো ও পানি ৫০০ মিলিলিটার।

প্রস্তুত প্রণালি: 

পাত্রে পানি ফুটিয়ে তাতে চা পাতা ও কাঁচা মরিচকুচি দিয়ে ৫/৬ মিনিট ফুটিয়ে নিন। চুলা থেকে নামিয়ে ছেঁকে নিয়ে তাতে স্বাদমতো চিনি (কিংবা চিনির বিকল্প), মাল্টার রস ও পাতলা গোল করে কাটা মাল্টা দিয়ে দিন। চামচ দিয়ে চিনি ও মাল্টার রস মিশিয়ে গরম গরম পরিবেশন করতে হবে। ঝাল খেতে না চাইলে কাঁচা মরিচ বাদ দিয়ে শুধু মাল্টা চা-ও তৈরি করা যেতে পারে।

লবঙ্গ চা:

উপকরণ: চা পাতা আধা চা-চামচ, লবঙ্গ ১৫টি, চিনি বা মধু স্বাদমতো ও পানি ৭০০ মিলিলিটার।

প্রস্তুত প্রণালীঃ 

পাত্রে পানি দিয়ে চুলায় জ্বাল দিন। পানি ফুটে উঠলে তাতে লবঙ্গ দিয়ে মাঝারি আঁচে ১০ মিনিট ফোটাতে হবে। নির্দিষ্ট সময় পর চা পাতা দিয়ে আরও ৭–৮ মিনিট জ্বাল দিয়ে নামিয়ে নিন। ছাঁকনি দিয়ে ছেঁকে কাপে বা মগে নিয়ে স্বাদমতো চিনি বা মধু মিশিয়ে গরম গরম পান করতে হবে।

গুড়ের চা:

উপকরণ: চা পাতা ৩ চা-চামচ, গুঁড়া দুধ ৩ টেবিল চামচ, খেজুরের গুড় স্বাদমতো, আস্ত এলাচি ৩টি ও পানি ৭৫০ মিলিলিটার।

প্রস্তুত প্রণালি: 

পাত্রে পানি হালকা গরম করে তাতে দুধ গুলিয়ে দিয়ে জ্বাল দিতে হবে। সেই সঙ্গে এলাচিও দিয়ে দিন। দুধ ভালোমতো ফুটে উঠে একটু ঘন হলে চা পাতা দিয়ে আরও বেশ কিছুক্ষণ ফোটাতে হবে। চায়ের সুন্দর রং আর সুঘ্রাণ বের হলে তাতে স্বাদমতো পাতলা করে কোরানো গুড় বা বাসায় ঝোলা গুড় মিশিয়ে দিন। চুলা থেকে নামিয়ে ছেঁকে নিয়ে পরিবেশন করতে হবে।

এলাচি চা:


উপকরণ: এলাচি ৪টি, গুঁড়া দুধ ২ টেবিল চামচ, চিনি ৪ চা-চামচ (স্বাদমতো), চা-পাতা ৪-৫ চা-চামচ, পানি ৪ কাপ, তরল দুধ আধা কাপ।

প্রস্তুত প্রণালি: 

পানিতে এলাচি দিয়ে চুলায় ফোটান। ভালোভাবে ফুটে উঠলে চা-পাতা দিন। তরল দুধের সঙ্গে চিনি ও গুঁড়া দুধ মিশিয়ে জ্বাল দিন। গরম লিকার ছেঁকে এতে ঢালুন। কাপে ঢেলে গরম গরম পরিবেশন করুন।

জাফরানি মালাই চা:

উপকরণ: তরল দুধ ৩ কাপ, পানি দেড় কাপ, জাফরান কোয়ার্টার চামচ, বাটার বিস্কুটের গুঁড়া ১ চা-চামচ, চা-পাতা ৪ চা-চামচ, চিনি ৪ চা-চামচ (স্বাদমতো), ডিমের কুসুম ১টি, দুধের সর অথবা মালাই ২ টেবিল চামচ।

প্রস্তুত প্রণালি: 

পানি ভালোভাবে ফুটে উঠলে চা-পাতা দিয়ে কড়া লিকার তৈরি করুন। দুধের সঙ্গে জাফরান মিশিয়ে জ্বাল দিন। ডিমের কুসুম দিয়ে ভালোভাবে ফেটান, চিনি-বিস্কুটের গুঁড়া মেশান। এবার চায়ের কড়া লিকার ঢেলে জ্বাল দিন। চায়ের কাপে মালাই দিয়ে একটু ওপর থেকে চা ঢালুন, যেন ফেনা তৈরি হয়।

আদা-লেবুর নোনতা চা:

উপকরণ: পানি ৪ কাপ, আদাকুচি দেড় টেবিল চামচ, লেবুর রস ২ চা-চামচ, লেমন জেস্ট ১ চা-চামচ, লবণ আধা চা-চামচ, চা-পাতা ১ চা-চামচ।

প্রস্তুত প্রণালি: 

আদাকুচি দিয়ে পানি ভালোভাবে ফোটান। চা-পাতা ও লেমন জেস্ট দিন। চা ছেঁকে লবণ ও লেবুর রস মেশান। সর্দি-কাশির জন্য এই চা অনেক উপকারী।

মেথি চা:

উপকরণ: এক চা-চামচ মেথি গুঁড়ো করে নিন।

প্রস্তুত প্রণালীঃ

এক কাপ ফুটন্ত গরম পানিতে ওই গুঁড়ো মিশিয়ে দিন। এক চা-চামচ মধু মেশাতে পারেন। চাইলে চা পাতা বা তুলসী পাতাও মেশানো যেতে পারে এতে। 

সব উপকরণ দিয়ে মিনিট তিনেক ভিজিয়ে রাখুন। ছেঁকে নিয়ে গরমাগরম চুমুক দিন।

জবা ফুলের চা:

জবা ফুলের চা অসাধারণ পুষ্টিকর পানীয়। জবা ফুলের চায়ের রঙ চুনির মতো লাল, খেতে খানিকটা টক। এ কারণে অনেকেই একে টক চাও বলে থাকেন। এটির স্বাদ অনেকটা ক্র্যানবেরি জুসের মতো। এটি ঠাণ্ডা বা গরম দুই ভাবেই খাওয়া যায়। 

উপকরণ: যেকোনো ভালো ব্র্যান্ডের গ্রিন টি, লাল জবা ফুল ৩–৪টি, আদাকুচি, লেবুর রস, চিনি/ বিকল্প হিসেবে জিরো ক্যালরি ট্যাবলেট।

প্রস্তুত প্রণালি:

প্রথমে জবা ফুলগুলো থেকে পাপড়ি ছাড়িয়ে পানি দিয়ে ভালমতো ধুয়ে পরিষ্কার করে নিতে হবে। এবার একটি পাত্রে ১.৫ কাপ পানি ফুটিয়ে নিতে হবে। পানি ফুটে উঠলে এর মাঝে ফুলের পাপড়িগুলো দিয়ে দিতে হবে। কিছুক্ষণের মধ্যেই পাপড়িগুলো রং ছাড়বে। পানি গাঢ় রং ধারণ করলে ছেকে একটি কাপে নিয়ে নিতে হবে।

কাপের ফুলের রসের সঙ্গে এবার লেবুর রস যোগ করলে সঙ্গে সঙ্গে রং পরিবর্তন হয়ে উজ্জ্বল লাল বর্ণ ধারণ করবে। উজ্জ্বল লাল না হওয়া পর্যন্ত লেবুর রস যোগ করতে থাকতে হবে। এবার কয়েক টুকরা আদাকুচি, ১ চা–চামচ চিনি বা পরিমাণমতো জিরোক্যাল যোগ করে নেড়ে দিতে হবে।

১টি গ্রিন টি ব্যাগ যোগ করে ভালোমতো নেড়ে দিলেই তৈরি হয়ে গেল হিবিসকাস টি বা জবা ফুলের চা।

এর সঙ্গে বরফকুচি যোগ করে আইস টি হিসেবেও খাওয়া যায়।

ওলং টি:

এর উচ্চারণটা আসলে উ লং টি। চীনের রেস্তোরাঁগুলোতে বেশি চলে এই চা। গোটা চীনে দারুণ জনপ্রিয়। 

এই চা অর্ধেক গাজন করেই প্রস্তুত করা হয়। অর্থাৎ, প্রস্তুত প্রণালির ভিত্তিতে কালো চা আর সবুজ চায়ের মাঝখানে এর অবস্থান। সবুজ চায়ের মতো এর আছে বহুমুখী গুণ। বিশেষ করে চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়ার পর ওলং চায়ের লিকার পান করলে কোলেস্টেরল বাড়ার আশঙ্কা প্রায় থাকে না বললেই চলে। ওলং চা বাংলাদেশে পাওয়া যায়, তবে কিছুটা অপ্রতুল, দামও একটু বেশি।

ব্লুমিং টি:

ব্লুমিং টি নামে এক ধরনের চা। অনেকে এটিকে ফুটন্ত ফুলের চা–ও বলে থাকে। আসলে এই চা বানানোর সময় ফুল যেন ফুটে যায়। এতে অনেক সময়ই নানা ধরনের ফ্লেভার জুড়ে দেওয়া হয়। অনেকে রোমান্টিক চা বলে থাকেন ব্লুমিং টিকে।

হোয়াইট টি:

এটাকে সবচেয়ে খাঁটি চা বলা হয়। অন্য সব চায়ের থেকে সবচেয়ে কম প্রক্রিয়াজাত করা হয়। সাদা চায়ের রং একেবারে হালকা এবং গন্ধও অনেক কম। মূলত এই চায়ের প্রাকৃতিক গন্ধ, স্বাদ ও মিষ্টতা উপভোগ করা হয়। সবথেকে কম প্রসেসড হোয়াইট টি। তাই গ্রিন টি থেকে সবচেয়ে বেশি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে এই চা'তে। এই চা হজমে যেমন সাহায্য করে তেমনি শরীরে ফ্যাট কোষ জমতে বাধা দেয়।

ক্যামোমাইল টি: 

ভেষজ চা-এর মধ্যে অন্যতম ক্যামোমাইল টি। ক্যামোমাইল ফুল থেকে তৈরি হয় এই চা। এই চায়ের মধ্যে ক্ষতিকর ক্যাফিন থাকে না। ক্যামোমাইল চা পানে স্নায়ুর উত্তেজনা কম থাকে। ঘুম ভালো হয়।

মূলত দুই রকমের ক্যামোমাইল চা ব্যবহার করা হয়, রোমান ও জার্মান। তবে যারা গর্ভবতী, তাদের এই চা এড়িয়ে চলতে পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ক্যামোমাইল যেহেতু ফুল থেকে তৈরি তাই এই চা খুব ভালো করে সংরক্ষণ করতে হবে। কাঁচের জারে রাখতে হবে এই চা। সেই সঙ্গে দেখা প্রয়োজন সূর্যের তাপ যাতে না লাগে। অপেক্ষাকৃত ঠাণ্ডা পরিবেশে রাখতে হবে এই চা।

তথ্যসূত্রঃ

  • আনন্দবাজার।
  • বোল্ডস্কাই।
  • প্রথম আলো।
  • এনডিটিভি> যুগান্তর।
  • এনডিটিভি> এনটিভি।
  • ডয়চে ভেলে।
  • যুগান্তর।
  • ইত্তেফাক।
  • সময় টিভি।
  • Edited: Natural_Healing.

কোন মন্তব্য নেই

Popular Post

Blogger দ্বারা পরিচালিত.