First Aid Present

Lifestyle Modification এবং প্রাকৃতিক খাদ্য, পানীয়, শাকসবজি, গাছ, ডালপালা, ফল, মসলা, পাতা ও ফুল ইত্যাদির দ্বারা প্রাথমিক চিকিৎসা।

কোন ধরনের চা তে কি কি উপকার

গ্রিক দেবী থিয়া, যার নামে ইংরেজিতে চায়ের নাম হয় টিগ্রিক দেবী থিয়া, যার নামে ইংরেজিতে চায়ের নাম হয় টি।

আড়াই বছর আগে চীনা মনীষী লাৎসে চা–কে আখ্যায়িত করেছিলেন মহৌষধ বা পরশমণি হিসেবে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় গবেষকেরাও একই মত দিয়েছেন। চায়ে থাকে ফ্ল্যাভোনয়েড নামের একধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট; যা দেহে প্রবেশ করামাত্রই বাড়ায় হৃদ্‌যন্ত্রের সক্রিয়তা। রক্তনালি সুস্থ রাখে। শরীরে দেয় তরতাজা ও উৎফুল্ল ভাব। ফলে হার্ট অ্যাটাক হওয়ার শঙ্কাও কমে যায়।

ফলমূল বা শাকসবজিতে যে পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পাওয়া যায়, চায়ে তার চেয়ে বেশি পরিমাণে রয়েছে। চা অভ্যর্থনার পানীয় হিসেবে জনপ্রিয় হলেও এর ঔষধি গুণটি সমান্তরালভাবে স্বীকৃত। হরেক রকম চায়ের রয়েছে হরেক রকম ভেষজ গুণ। ব্ল্যাক টি বা কালো চায়ে থাকে প্রচুর পরিমাণে ক্যাফেইন, পটাশিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট; যা শরীরের অবসাদ দূর করে। ফিরিয়ে আনে স্বাভাবিক প্রফুল্লতা।

চায়ে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে পটাশিয়াম ও ক্যাফেইন। শরীরে আলস্য কাটিয়ে একটা ফুর্তি ভাব আনতে পটাশিয়াম ও ক্যাফেইনের জুড়ি নেই। যাদের কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্যও পটাশিয়াম উপকারী। চায়ে রয়েছে জিংক, যা শরীর বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন। চা শুধু উদ্দীপকই নয়, এটা রক্ত জমাট বাঁধাও দূর করে। চা-পাতার সেদ্ধ পানি চুল পড়া বন্ধ করে। ২০-২৫টি কাঁচা চা-পাতা ও তুলসীপাতা একত্রে সেদ্ধ করে মাথায় মেখে ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেললে উকুন দূর হয়। তবে অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন ও গর্ভবতীদের খুব বেশি চা খাওয়া উচিত নয়।

হলুদ চা:

চায়ের সঙ্গে সামান্য পরিমাণে আদা ও হলুদ মিশিয়ে তৈরি হয় হলুদ চা। ১৫-২০ মিনিট পানিতে ফোটানোর পর ছেঁকে নিয়ে এর সঙ্গে লেবুর রস ও মধু মিশিয়ে তৈরি করা এ চা শরীরের কাটাছেঁড়া বা পোড়া ক্ষত সারাতে সাহায্য করে, যকৃৎকে বিষমুক্ত রাখে, ত্বকের ঔজ্জ্বল্যও বাড়ায়। আদা চা বমি বমি ভাব দূর করে। সর্দি, কাশি কিংবা গলাব্যথায় এ চা অব্যর্থ। হজমের সমস্যা মেটাতে কিংবা অ্যাসিডিটির বিরুদ্ধে লড়তে আদা চা সেরা। পিপারমিন্ট, ক্যামোমাইল, জিনসেং বা রোজমেরির মতো ভেষজ চা শরীরের জন্য বেশ উপকারী। এগুলো শরীরে ডি-টক্সিফিকেশনের কাজ করে। ফলে শরীরের অভ্যন্তরীণ দূষিত পদার্থ দূর হয় সহজেই। নিমেষেই শরীর ফিরে পায় হারানো সজীবতা।

পৃথিবীতে হরেক রকমের চা পাওয়া যায়: জার্মানির ‘ভাসারশ্লস হামবুর্গ' শহরের একটি রেস্তোরাঁর টি-টেস্টার ট্রিক স্ট্যুবেন বলেন, ‘‘চা এতো ধরনের হয়, বিশেষ করে সাধারণ কালো পাতার চা৷ আমরা বলি চা গাছের পণ্য, যাতে অন্য কোনো স্বাদ-গন্ধ মেশানো হয়নি৷ এ রকম ৩৮০০ রকমের চা আছে, যেমন; মাচা চা, লুং শিং চা, মু- ডান চা, মাউ ফেং চা, জেসমিন চা, দার্জিলিং চা, আসাম চা, সিলোন চা– কালো চা, সবুজ চা, সাদা চা, লাল চা, ভেষজ চা, মরিঙ্গা চা, দুধ চা ইত্যাদি। কাজেই চায়ের দুনিয়াটা বিশাল এবং তা নিয়ে বলতে ভালো লাগে৷'' উক্ত দোকানে প্রায় ৩০০ রকমের চা রাখা আছে৷ 

ইউরোপের চায়ের বাজারে সবচেয়ে নতুন আর বিলাসী চা হল জাপানের 'মাচা চা'৷ তার এক কাপ চায়ের দামই হল ৩০ ইউরো৷ মাচা চা হল গুঁড়ো সবুজ চা, বাঁশের কঞ্চির ঘুটনি দিয়ে যা ফেটানো হয়ে থাকে৷ এটি নাকি খুবই স্বাস্থ্যকর৷ বেশিরভাগ গ্রীন টি আমদানী করা হয় চীন থেকে তারপর রয়েছে জাপানের স্হান৷

চীন থেকে আমদানী লুং শিং, মু- ডান , মাউ ফেং, জেসমিন ইত্যাদি ৷ জাপান থেকে আসা চায়ের মধ্যে রয়েছে , সেনচা, বানচা, কোকাইচা আরো কত নামের চা।

আরো আছে ভারতের দার্জিলিং এ উৎপাদিত দার্জিলিং গ্রীন টি, আসাম গ্রীন টি ইত্যাদি৷ উন্নত মানের গ্রীন টি যেমন; লুং শিং এক কেজি চায়ের দাম প্রায় ১৪০ ইউরো৷ এসব হালকা রং এর সামান্য তেতো স্বাদের এই চা খাওয়ার আগে অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে চায়ের মানের দিকে৷ হতে হবে উঁচুমানের অর্গানিক চা৷ তবেই পাওয়া যাবে আশানুরূপ ফল।

মাথা ব্যথা বা শরীর ম্যাজম্যাজ করলে প্রথমেই আমাদের কিসের কথা মনে পড়ে ? ঘন দুধ আর চিনি দিয়ে তৈরি এক কাপ গরম চা , দার্জিলিং , আসাম চা বা অন্য কোন কালো চা৷ 

চা কেবল ক্লান্তি দূর করে না, পাশাপাশি এটি আমাদের ত্বককেও উজ্জ্বল করতে সহায়তা করে। চায়ে রয়েছে অনেক বেশি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমায়। শুধু তা-ই নয়, চা রক্ত জমাট বাঁধতেও বাধা দেয়। লোহা শোষণের মাত্রা কমায় এই চা। এ ছাড়া চায়ে পটাশিয়াম ও জিংক তো আছেই।

মেয়েদের জন্য বিশেষ ‘চা’-

পেট ব্যথা, মাথা ব্যথা, দাঁত ব্যথা, জ্বর জ্বর ভাব বা এ ধরণের শরীর খারাপ লাগলে তার জন্যও রয়েছে ভেষজ চা৷ বলা যায়, মানুষের শরীরের যে কোনো ধরনের ছোটখাটো সমস্যা সারাতে রয়েছে নানা প্রকারের চা৷ প্রকৃতির এই অফুরন্ত দানের মধ্যে মেয়েদের জন্য রয়েছে ‘যোগী’ চা বা ‘পাওয়ার’ চা৷ জার্মানির অনেক ফিটনেস সেন্টারে যোগব্যায়ামের পর ‘ইয়োগী’ চায়ের ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে৷

কোনটা চাই, পাতা ‘চা’ না ‘টি’ ব্যাগ?

কাজ কম এবং দামে সস্তা বলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই টি ব্যাগ ব্যবহার করেন জার্মানরা৷ আর রয়েছে বিভিন্ন ফলের ফ্লেভার দেওয়া চা, ওয়াইট বা সাদা চা, আদা চা, লেবু চা৷ তবে সৌখিন চা প্রেমিরা পাতা চা দিয়েই চা তৈরি করেন৷ বলা বাহুল্য, সে চা খেতে অবশ্যই ভালো এবং দামেও তিন চারগুণ বেশি৷ চায়ের স্বাদ বজায় রাখতে সাধারণ চিনির বদলে মেশানো হয় ব্রাউন সুগার বা ক্যান্ডি সুগার৷ আমরা যাকে মিশ্রি বলে থাকি৷

চা বানানোর রেসিপি-

চায়ের বিশেষ দোকানগুলোতে চা কেনার সময়ই একটি তথ্যপুস্তিকা সাথে দিয়ে দেওয়া হয়৷ যাতে দেয়া থাকে কোন চায়ের পাতা কতক্ষণ গরম পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে, বা গরম পানির তাপমাত্রা কত হলে চায়ের পুরো গুণাবলী বা স্বাদ থাকবে ইত্যাদি৷ চায়ের স্বাদ বা রং অনেক সময় চায়ের কাপ বা কেটলির ওপরও নির্ভর করে-এরকম পরামর্শও দেওয়া হয়ে থাকে৷ আবার কিছু কিছু দোকানে চা কেনার আগে টেস্ট করে দেখারও ব্যবস্থা রয়েছে৷

বাংলাদেশের চা-

চা আমদানী করা হয় ভারত, শ্রীলঙ্কা, চীন, ইটালি, দক্ষিণ আফ্রিকাসহ অন্যান্য অনেক দেশ থেকে৷ বাংলাদেশে ১৬৩টি চা বাগান রয়েছে৷ তার মধ্যে ১৪৮টি বাগানই শুধু সিলেটের বিভিন্ন এলাকায়৷ বাংলাদেশের চা ইংল্যান্ড, অ্যামেরিকা, জার্মানি ও অন্যান্য দেশে রপ্তানি করা হয়৷ হয়তো অতটা বিস্তৃত আকারে নয়, আর সে কারণেই হয়তো জার্মানির চায়ের দোকানে বাংলাদেশের লেবেল আটা চা কখনো চোখে পড়েনি৷

চায়ের সাথে ক্যাফেইনের সম্পর্ক:

চায়ে ক্যাফেইন এর পরিমাণ অনেক কম। ভেষজ চাতে একেবারেই ক্যাফিন নেই। অন্যান্য চাতে 50 শতাংশের কম ক্যাফেইন থাকে। সবচেয়ে বেশি ক্যাফিন থাকে কফিতে। তাই কফির পরিবর্তে ভেষজ চা সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যকর পানীয়। ভেষজ চাতে কোন ক্যালরি নেই তাই যতই চা পান করা হোক না কেন ওজন বাড়ার কোন সম্ভাবনা নেই।

চায়ের সঙ্গে গায়ের রঙের সম্পর্ক-

চা খেলে যদি বাস্তবিকই কেউ কালো হয়ে যেত, তাহলে তো ইংরেজ ও আইরিশদের গায়ের রং আগেই পাল্টে যেত। কিন্তু এমনটা তো হয়নি। দিনে ১০-১৫ কাপ খেলেও না। তাহলে? আসলে কে কালো হবে, কে ফর্সা তা অনেকাংশেই নির্ভর করে ত্বকের অন্দরে থাকা মেলানিন নামে একটি উপাদানের ওপর। আর এমন কোনো গবেষণা আজ পর্যন্ত হয়নি প্রমাণ হয়নি যে চা খেলে মেলানিনের পরিমাণ বেড়ে যায়। তাই চা খেলে কালো হয়ে যাব—এ ধারণাটাকে কতটা গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। প্রসঙ্গত, জিনগত কারণ এবং রোদে কতটা সময় কাটানো হচ্ছে, এ দুটি বিষয়ের ওপর গায়ের রং অনেকাংশেই নির্ভর করে থাকে। প্রসঙ্গত, আমাদের শরীরকে ভালো রাখতে লিকার চা এবং গ্রিন টি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

চা খেলে কি ত্বক কালো হয়?

সেই ছোট থেকেই শুনে আসছি কথাটা। প্রথমটায় বিশ্বাস হতো না। কিন্তু বড় হওয়ার পর চায়ের আড্ডায় যখন কেউ এই পানীয়টি খেতে মানা করত, সেই থেকে কথাটা যেন মাথায় পেরেকের মতো বসে গেছে। আচ্ছা, সত্যিই কি এমনটা হয়? নাকি এটা একটা ভ্রান্ত ধারণা? চলুন দেখে নেওয়া যাক। জীবনধারাবিষয়ক ওয়েবসাইট বোল্ডস্কাইয়ে জানানো হয়েছে চা খেলে মানুষ কালো হয় কি না।

হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা কমে-

একাধিক গবেষণায় এ কথা প্রমাণিত হয়েছে যে প্রতিদিন দু-তিন কাপ গ্রিন টি পান করলে হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা প্রায় ২০ শতাংশ এবং স্ট্রোকের আশঙ্কা প্রায় ৩৫ শতাংশ হ্রাস পায়। সেইসঙ্গে কমে হাই কোলেস্টেরলের মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও। গ্রিন টি পছন্দের তালিকায় থাকলে বেছে নিতে পারেন মাচা টি। এটি আসলে গুঁড়ো করা গ্রিন টি। এক কাপ মাচা টি দশ কাপ গ্রিন টি’র সমান।

চায়ে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট-

একাধিক রোগের উপসমে এই উপাদান বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। সেইসঙ্গে ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতেও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের কোনো বিকল্প হয় না বললেই চলে। প্রসঙ্গত, পরিবেশ দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ত্বক এবং শরীরকে বাঁচাতেও এই উপাদান বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। হোয়াইট টি’তে সব চেয়ে বেশি অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট আছে। কারণ এটি ব্ল্যাক বা গ্রিন টি’র চেয়ে কম প্রসেস করা হয়।

হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটায়-

হারবাল চা খাওয়ার অভ্যাস করলে ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম বা বদহজমসহ একাধিক পেটের রোগ হ্রাস পায়। তাই যাঁরা এমন কোনো রোগে ভুগছেন, তাঁরা আজ থেকেই হারবাল টি খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন, দারুণ উপকার পাবেন।

দাঁত সুন্দর হয়ে ওঠে-

জাপানে হওয়া এক গবেষণায় এ কথা প্রমাণিত হয়েছে যে লিকার চা পান করলে মুখগহ্বরে পিএইচ লেভেল বেড়ে যায়। ফলে ক্যাভিটি হওয়ার আশঙ্কা কমে। শুধু তাই নয়, আরো বেশ কিছু মুখগহ্বরের রোগ সারাতেও লিকার চা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

জাপানি গবেষকরা আরও দাবি করেছেন যে, চা পান করলে দাঁতের ক্ষয় কম হয়। কারণ যখন চা পান করা হয় তখন এটি পিএইচ এর মান বদলে দেয়। এবং দাঁতে গর্ত হতেও দেয় না এনামেল ক্ষয় হতে রক্ষা করে।

হাড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে-

একাধিক কেস স্টাডি করে দেখা গেছে, প্রতিদিন গ্রিন টি খেলে হাড় মজবুত হয়। সেইসঙ্গে এই সম্পর্কিত নানাবিধ রোগের প্রকোপও কমে। বিশেষ করে মরিঙ্গা টিতে আছে দুধের চেয়েও বেশি ক্যালসিয়াম। এছাড়াও এতে আছে আয়রন ভিটামিন এ ভিটামিন কে ইত্যাদি।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটায়-

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, লিকার চা পান করলে আমাদের শরীরে ইমিউন সেলের কর্মক্ষমতা বেড়ে যায়। ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এতটাই বেড়ে যায় যে নানাবিধ সংক্রমণের আশঙ্কা বহুলাংশে হ্রাস পায়।

ওজন নিয়ন্ত্রণ করে: 

প্রচুর পরিমাণে (ক্যালোরি মুক্ত বিশেষ করে ভেষজ) চা পান করলে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে।

ভেষজ চা তে উপকার-

ওজন কমাতে গ্রিন টির গুণের কথাও কারও অজানা নয়। তবে শুধু ওজন কামতেই নয় আটকে থাকলে চলবে না। ভেষজ চায়ের রয়েছে আরও অনেক স্বাস্থ্যগুণ। জেনে নিন ভেষজ চায়ের এমনই কিছু উপকারী তথ্য।

গ্রিন টি এবং উলঙ টি: গ্রিন টিও এখন ভীষণ জনপ্রিয়। সতেজ সবুজ পাতা রোদে শুকিয়ে তাওয়ায় সেঁকে গ্রিন টি তৈরি করা হয়। এতে এমন কিছু উপাদান আছে, যা ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়তা করে। গবেষকেরা বলেন, নিয়মিতই এই চা পান করলে মূত্রথলি, পাকস্থলীর ক্যানসারসহ সব ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। গ্রিন টিতে থাকা পলিফেনল শরীরের অক্সিডেশন বাড়ায়; যা শরীরের বাড়তি ক্যালরি ক্ষয় করে ওজন কমাতে সাহায্য করে। এটি রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ কমিয়ে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। গ্রিন টিতে ট্যানিক অ্যাসিড থাকে, যা মুখে ইনফেকশন সৃষ্টিকারী ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া নষ্ট করে দাঁতের ক্ষয়রোধে সাহায্য করে এবং মাড়ি মজবুত করে।

গ্রিন টি সামান্য ফার্মেন্ট করলে হয় উলং টি। অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়ার পর উলং চায়ের লিকার খেলে কোলেস্টেরল বাড়ার আশঙ্কা কমে। এ ছাড়া রক্তে লৌহ-কণিকার প্রাধান্য থাকলে প্রধান খাবারের পর পরই চা পান করা শ্রেয়; এতে লৌহ শোষণের মাত্রা কমে যায়। বিশেষ করে থ্যালাসেমিয়ার ক্ষেত্রে। গ্রীন টির মতো উলং চাতে থাকে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ওজন কমাতে সাহায্য করে।

এ ছাড়া শরীরের কোনো অংশ কেটে গেলে সেখানে গ্রিন টির লিকারে তুলা ভিজিয়ে লাগিয়ে দিলে রক্ত পড়া বন্ধ হয়। পোকামাকড় কামড়ানোর পর যদি ক্রমাগত চুলকাতে থাকে বা ফুলে যায়, তাহলে সেখানে ভেজা সবুজ চা-পাতা দিয়ে ঢেকে দিলে আরাম বোধ হয়।

আদা চা: যে কোনও ব্যথা কমাতে উপকারী আদা চা। গ্লাইসেমিক রেট কমিয়ে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতেও সাহায্য করে আদা চা। নিয়মিত আদা দিয়ে চা পানে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, কোলেস্টেরলের মাত্রা কম রাখা, রক্ত জমাট বাধা রোধ করে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি সহ হার্ট ভালো রাখে। সর্দি কাশির সময়টাত সামান্য আদার গুণে উপশম পাওয়া যায়। গরম চায়ের সঙ্গে আদা মিশিয়ে খেলে অনেক উপকার পাওয়া যায়। আদাতে ভিটামিন, খনিজ ও অ্যামিনো অ্যাসিড রয়েছে। এটি রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া উন্নত করে হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখে। পাশাপাশি আদার রস ধমনিতে চর্বি জমতে বাধা দেয়। ফলে প্রতিদিন আদা-চা পান করলে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকটাই কমবে।

তুলসি চা: আয়ুর্বেদে তুলসীকে ভেষজের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। বহুবিধ ব্যবহারের জন্য তুলসী পাতাকে বলা হয় ‘কুইন অব হার্ব’ বা ওষধি গাছের রানী । বহু যুগ ধরে আয়ুর্বেদিক ওষুধ হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে তুলসি। আর  এসময়ে অধিকাংশ চায়ের দোকানের পাওয়া যায় তুলসি চা।

*রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে তুলসী চাই এই গুণটি সবচেয়ে বেশি আছে।

* উচ্চ রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল কমিয়ে হূৎপিণ্ডের রক্ত সরবরাহের মাত্রা ঠিক রাখতে সাহায্য করে।

* স্তন ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণে তুলসী বিশেষ সহায়ক।

* তুলসী চা শারীরিক ও মানসিক অবসাদ দূর করে, মস্তিষ্কে অক্সিজেনের সরবরাহ বাড়িয়ে দেয়।

* লিভারের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়।

*উত্কণ্ঠায় ভোগার সমস্যায় উপকার পাবেন তুলসি চা খেলে। মস্তিষ্কের কোষ সুস্থ রাখতেও কার্যকর তুলসি।

পেপারমিন্ট চা: হজমের সমস্যা, পেটের অস্বস্তি নিমেষে দূর করতে দারুণ কার্যকর মেন্থল চা বা পেপারমিন্ট টি।

বিছুটি: নামটা শুনেই অবাক হলেন? এই পাতার কিন্তু অনেক গুণ। ক্লোরোফিলে পরিপূর্ণ হওয়ায় রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে যেমন সাহায্য করে বিছুটি চা, তেমনই এর অ্যান্টি অক্সিড্যান্ট কিডনি পরিষ্কার রাখতেও ভাল কাজ করে।

পুদিনা চা: পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোমে ভোগা মহিলাদের শরীরে টেস্টোটেরনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে পুদিনা চা বা স্পেয়ারমিন্ট টি। পুদিনা পাতা সকলের কাছেই পরিচিত। এই পাতার মূল, পাতা, কান্ডসহ সমগ্র গাছই ওষুধীগুণে পরিপূর্ণ। বর্ষাকালে সর্দি-কাশি উপসমে পুদিনা পাতার চা বেশ কার্যকরী। পুদিনা পাতা সুগন্ধি হিসাবে রান্নায় ব্যবহার করেন অনেকে। কাবাব, চাটনি, মশলায় ব্যবহার করা হয় পুদিনা পাতা। বিভিন্ন দেশে পুদিনার ব্যবহার হচ্ছে তেল তৈরিতে। পুদিনার মধ্যে থাকা মেন্থল ভীষণ উপকারী। তাই লিকার চায়ের মধ্যে পুদিনা পাতা মিশিয়ে খানিকক্ষণ ঢেকে রেখে তারপর পান করুন। ভালো উপকার পাবেন। তার আগে চায়ের পানি আদা দিয়ে ফুটিয়ে নিতে ভুলবেন না।

ল্যাভেন্ডর চা: এই ফুল শুধু দেখতেই সুন্দর তা ন, এর এসেনশিয়াল অয়েল উত্কণ্ঠা, ব্যথা, মাইগ্রেন ও স্ট্রেসের সমস্যা দূর করতে অত্যন্ত উপকারী।

ড্যানডেলিয়ন টি: এই বিশেষ মূলক অগ্ন্যাশয়, লিভার পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। অতিরিক্ত ওজনের সমস্যায় ভুগলেও খেতে পারেন ড্যানডেলিয়ন চা।

দারুচিনি চা: প্রধানত মসলা হিসেবে ব্যবহৃত দারুচিনি নামের ভেষজটির উপকার সম্বন্ধে অনেকেরই জানা নেই। এটি অত্যন্ত উচ্চমাত্রার অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ একটি উপাদান। দারুচিনি চা দেহের কোলস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। ফলে হৃদরোগের মতো মারাত্মক রোগও দূরে রাখা সম্ভব এ চা পান করে। অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টিফাংগাল ও অ্যান্টিভাইরাল গুণ রয়েছে সিনামন টি বা দারচিনি চায়ের। টাইপ টু ডায়াবেটিস, পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোমের সমস্যায় ভাল কাজ দেয় দারচিনি চা।

লেমন বাম টি: মিষ্টি লেবুর মতো সুগন্ধ এই পাতার। হজমের সমস্যা দূরে রাখার পাশাপাশি নার্ভের সমস্যা দূরে রাখে। স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে

যষ্টিমধু চা: খাদ্যনালী ও পেট পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে যষ্টিমধু চা। এলডিএল অক্সিডশন রুখে হার্টের সমস্যা দূরে রাখে, টেস্টোটেরনের সঠিক মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি ওজন কমাতেও সাহায্য করে এই চা

হলুদ চা: অবসাদ কাটাতে,ব্যথা উপশমে,ওজন কমাতে দারুণ কাজ দেয় হলুদ চা বা টারমারিক টি।

এলাচ চা : এলাচ চা হতে পারে আপনার দিন শুরু করার সবচেয়ে ভালো পানীয়। এটি শুধু হজমশক্তিই বাড়ায় না আরও কিছু গুণ রয়েছে এলাচ চায়ের। এটি মাথাব্যথা কমায়, পেটের সমস্যা দূর করে এবং দেহ ঠাণ্ডা রাখতে সহায়তা করে। এছাড়া এলাচের উপাদান দেহ থেকে দূষিত পদার্থ দূর করতে সহায়তা করে।

জাফরান চা : মূল্যবান এ মসলাটিতে রয়েছে বহু ধরনের গুণ। অনেকেই জাফরান বিভিন্ন খাবার প্রস্তুতে ব্যবহার করলেও চায়ে ব্যবহারে অভ্যস্ত নন। তবে এক কাপ চায়ে যদি সামান্য জাফরান ব্যবহার করা হয় তাহলে তা শুধু স্বাদ কিংবা সৌন্দর্যই বাড়াবে না কিছু স্বাস্থ্যগত সুবিধাও পাওয়া যাবে। জাফরানের রয়েছে ক্যান্সার প্রতিরোধী উপাদান। এছাড়া এটি হৃদরোগ প্রতিরোধ করে ও দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে সহায়তা করে।

জিরা চা : জিরা ঘুমের সমস্যা দূর করতে সহায়তা করে। এছাড়া এটি দেহ শীতল করতেও ভূমিকা রাখে। জিরা বিভিন্ন খাবার থেকে দেহের জন্য প্রয়োজনীয় আয়রন গ্রহণে সহায়তা করে। তাই চায়ে জিরার গুড়া প্রয়োগে বহু উপকার পাওয়া সম্ভব।

এক পেয়ালা ধোঁয়া ওঠা চা মনের সব ক্লান্তি দূরে সরিয়ে দেহমনকে করে তোলে চাঙ্গা৷ শুধু এনার্জি আনে না, এর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান রক্তের দূষিত কণা সাফ করে।

অশ্বগন্ধা:

অশ্বগন্ধা শরীরের ট্রেস কমতে সাহায্য করে। ট্রেস বাড়লে শরীরে কর্টিসল হরমোনের ক্ষরণ বাড়ে, যার ফলে শরীরের কোষে মেদ সঞ্চিত হয়। তাই অশ্বগন্ধা ট্রেস কমিয়ে মেদ জমতে বাধা দেয়।

লেমন টি:

লেবুতে থাকা ডাইউরেটি বৈশিষ্ট্য শরীরে জলের ওজন কমাতে সাহায্য করে লেবুর খোসায় থাকা ডি-লিমোনেন যৌগ হজমে সাহায্য করে এবং ওজন কমাতে সাহায্য করএ

কালো চা:

গবেষণায় দেখা গেছে, কালো চা স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়। তা ছাড়া এই চা নিয়মিত পান করলে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসে। হজম ঠিক থাকে, পাশাপাশি শরীর থেকে টক্সিন বেরিয়ে যায়। তবে তা হতে হবে দুধ ছাড়া। তাই এর সাথে গ্লোয়িং ত্বক পেতে ব্ল্যাক টি দিয়ে দিন শুরু করুন।

জবা ফুলের চা: 

জবা ফুলের চা অসাধারণ পুষ্টিকর পানীয়। জবা ফুলের চায়ের রঙ চুনির মতো লাল, খেতে খানিকটা টক। এ কারণে অনেকেই একে টক চাও বলে থাকেন। এটির স্বাদ অনেকটা ক্র্যানবেরি জুসের মতো। এটি ঠাণ্ডা বা গরম দুই ভাবেই খাওয়া যায়। কোনো ক্যাফিন না থাকায় শরীরের পক্ষে খুব উপকারী। দিনে একাধিক বার খেলেও কোনো খারাপ প্রভাব শরীরে পরে না। এটি উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল কমায়, হজমের সমস্যা দূর করে, লিভারের রোগ সারাতেও জবা ফুলের গুণ অনস্বীকার্য। এমনকী ক্যানসারের প্রবণতা কমাতেও দারুণ উপকারী জবা ফুলের চা। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ই, মিনারেল, অ্যান্টি অক্সিডেন্ট থাকে। এছাড়া উদ্বেগ ও উদ্দীপনা কমাতেও প্রভাব রয়েছে জবা ফুলর চায়ের।

সাদা চা:

সবচেয়ে কম প্রক্রিয়াজাতকৃত এই চা। এতে গ্রীন টি'র চাইতেও বেশী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে হজমের যেমন সাহায্য করে তেমনি ফ্যাট কোষ জমতে দেয়না। 

ক্যামোমাইল চা:

ভেষজ চা-এর মধ্যে অন্যতম ক্যামোমাইল টি। ক্যামোমাইল ফুল থেকে তৈরি হয় এই চা। এই চায়ের মধ্যে ক্ষতিকর ক্যাফিন থাকে না। ক্যামোমাইল চা পানে স্নায়ুর উত্তেজনা কম থাকে। ঘুম ভালো হয়। মূলত দুই রকমের ক্যামোমাইল চা ব্যবহার করা হয়, রোমান ও জার্মান। সুন্দর গন্ধের জন্য মুড ভাল করতেই খাওয়া হয় ক্যামোমাইল টি। তবে পেটের অস্বস্তি, আলসার, ডায়রিয়া ও বমি বমি ভাব কাটাতেও এর জুড়ি মেলা ভার। এক কাপ ক্যামোমিল চা মানসিক চাপ কমাতে সহায়তা করে। রাতের খাবারের পর এক কাপ ক্যামোমিল চা উদ্বেগ দূর করে ঘুম আনতে সহায়তা করে। ত্বকের নানা সমস্যা দূর করতেও ক্যামোমিল কার্যকর। 

তবে যে চা আপনার পছন্দের হোক না কেন, এখন সেটা পান করা আরও প্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে। কারণ, নিয়মিত গরম চা পান নতুন ভাইরাস করোনা থেকে আপনাকে অনেকাংশে সুরক্ষা দেবে। 

তথ্যসূত্র:

  • ডয়চে ভেলে।
  • এনটিভি।
  • আনন্দবাজার> সমকাল।
  • প্রথম আলো।
  • বাংলাদেশ প্রতিদিন।
  • বোল্ডস্কাই> যমুনা টিভি।
  • এনডিটিভি> এনটিভি।
  • নিউজ 18 বাংলা।
  • আনন্দবাজার।
  • Edited: Natural_Healing.

কোন মন্তব্য নেই

Popular Post

Blogger দ্বারা পরিচালিত.