ঘুমের জন্য ঔষধ নয়, ঘুম পাড়াবে ক্যামোমিল চা!
চা একটি জনপ্রিয় পানীয়। বিভিন্ন ধরনের চা খেয়ে থাকি আমরা। নানাবিধ চায়ের গুণাবালি হরেক রকম। চায়ের মধ্যে অনেক ঔষধি গুণ রয়েছে। ঔষধি গুণে সমৃদ্ধ একটি চা হচ্ছে গ্রিন টি। এই চায়ের গুণের কথা আমরা অনেকে জানি।
তবে ক্যামোমিল চায়ের কথা আমরা অনেকে জানি না। এই চায়ের আছে নানাবিধ ঔষধি গুণ। ভেষজ চা-এর মধ্যে অন্যতম ক্যামোমাইল টি। ক্যামোমাইল ফুল থেকে তৈরি হয় এই চা। এই চায়ের মধ্যে ক্ষতিকর ক্যাফিন থাকে না। মূলত দুই রকমের ক্যামোমাইল চা ব্যবহার করা হয়, রোমান ও জার্মান। ক্যামোমাইল যেহেতু ফুল থেকে তৈরি তাই এই চা খুব ভালো করে সংরক্ষণ করতে হবে। কাঁচের জারে রাখতে হবে এই চা। সেই সঙ্গে দেখা প্রয়োজন সূর্যের তাপ যাতে না লাগে। অপেক্ষাকৃত ঠাণ্ডা পরিবেশে রাখতে হবে এই চা।
নিয়মিত ক্যামোমিল চা পানে যে রোগগুলি নিয়ন্ত্রণ হয়:
১.নিদ্রাহীনতার সমস্যা আছে অনেকের। ক্যামোমিল চা খেলে ঘুম ভালো হয়। রাতে শুতে যাওয়ার আগে এই চা পান করলে স্নায়ুর উত্তেজনা কম থাকে তাই স্নায়ুর আরাম হয় এবং দ্রুত ঘুম এসে যায়। ক্যামোমিল চা স্নায়ুগুলো শান্ত করে দুশ্চিন্তা কমাতে সাহায্য করে। এতে অ্যাপিজেনিন নামক একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা মানব মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট কিছু রিসেপ্টরকে আবদ্ধ করে অনিদ্রা হ্রাস করে। গবেষণাকদের মতে, ভাল ঘুমের জন্য দিনে দুই কাপ এই চা খেতে পারেন ।
২.ফ্ল্যাভোন অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের দারুণ উৎস হচ্চে ক্যামোমিল চা। যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। এছাড়া হাড়ের সমস্যা দূর করে।
৩.শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ক্যামোমিল চা। পর্যাপ্ত ঘুমের পর মানবদেহ সাইটোকাইন নামে এক ধরনের প্রোটিন তৈরি করতে পারে, যা সংক্রমণ ও প্রদাহের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের মাধ্যমে কার্যকর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে। আপনি হয়তো জানেন, শ্বেত রক্তকণিকা (ডব্লিউবিসি) মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যখন কোনো ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাক রক্তে প্রবেশ করে, ডব্লিউবিসি সেই আক্রমণাত্মক কণাগুলো অনুসন্ধান এবং চিহ্নিত করে তা ধ্বংস করে দেয় ওই ভাইরাস থেকে রোগ হওয়ার আগেই। ক্যামোমিল চা আপনার দেহে শ্বেত রক্তকণিকার উৎপাদন বাড়িয়ে তুলতে পারে, যা ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাককে ধ্বংস করে। করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরি করতে আপনার ডায়েটে ক্যামোমিল চা যুক্ত করতে পারেন।
৪.স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য হজমশক্তি ভাল হওয়া খুবই জরুরি। যাদের হজমজনিত নানা সমস্যা যেমন-পেটে অস্বস্তি, পেটে ব্যথা, গ্যাস,বমি বমি ভাব হয় তারা নিয়মিত এই চা পান করতে পারেন।
৫. বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, ক্যামোমিল চায়ে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় এটি বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার যেমন- স্তন, ত্বক, মূত্রথলি এবং জরায়ু ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে।
আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, যারা সপ্তাহে অন্তত ২ থেকে ৬ বার ক্যামোমিল চা পান করেন তাদের থাইরয়েড ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা অন্যদের তুলনায় কম।
৬. গবেষণা বলছে, ক্যামোমিল চা পানে রক্তে শর্করার পরিমাণ্ও নিয়ন্ত্রণে থাকে। এই চায়ে থাকা অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরী উপাদান শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। বিশেষ করে খাবার গ্রহণের পর পর এটি খেলে উপকারিতা পাওয়া যায়। এ কারণে এটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী।
এর বাইরে ক্যামোমাইল চায়ের আরও গুণ আছে। ত্বকের অনেকগুলি সমস্যার সমাধানও করতে পারে এই পানীয়। ত্বক কুঁচকে যাওয়া আটকাতে পারে, নমনীয় এবং উজ্জ্বল করতে পারে।
কী ভাবে ত্বকের যত্নে ব্যবহার করবেন এই চা?
প্রথমে জল ফুটিয়ে নিন। তাতে একটি টি-ব্যাগ ডুবিয়ে রাখুন ৪-৫ মিনিট। এ বার টি-ব্যাগটি তুলে নিন। চা ঠান্ডা হতে দিন। তার পরে আধ ঘণ্টা খানেক ফ্রিজে রেখে দিন। এই চা মুখে মাখিয়ে দিন। এক ঘণ্টা এই চা মুখে মাখিয়ে রাখার পর রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে সাধারণ জল দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিন।
এই চায়ে আলফা-বাইসেবোলোল নামক উপাদান থাকে। এটি ত্বককে নমনীয় করে। ত্বকের ভাঁজ কমিয়ে দেয়।
যেভাবে ক্যামোমিল চা প্রস্তুত করবেন : ফুটন্ত পানিতে একটি টি ব্যাগ বা এক চা চামচ ক্যামোমিল চা মিশিয়ে নিন এবং চার মিনিট রাখুন। এরপর টি ব্যাগটি সরিয়ে ফেলুন। বাড়তি স্বাদের জন্য আপনি এক চামচ লেবুর রস বা এক চামচ মধু বা মিস্রি করতে পারেন।
তথ্যসূত্র:
- আনন্দবাজার।
- হেলথলাইন-) যুগান্তর।
- সমকাল।
- এনটিভি।
- ইত্তেফাক।
- Edited: Natural_Healing.


কোন মন্তব্য নেই