First Aid Present

Lifestyle Modification এবং প্রাকৃতিক খাদ্য, পানীয়, শাকসবজি, গাছ, ডালপালা, ফল, মসলা, পাতা ও ফুল ইত্যাদির দ্বারা প্রাথমিক চিকিৎসা।

ঘুষঘুষে জ্বর-মাথাব্যথা, সর্দি-কাশি? এন্টিবায়োটিক না খেয়ে সহজ ও ঘরোয়া উপায়ে মোকাবিলা করুন

আবহাওয়া বা ঋতু পরিবর্তনের এই সময়টা আমাদের শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক! এই আবহাওয়া পরিবর্তনের সময় ভাইরাল জ্বরে আক্রান্ত হওয়া বিচিত্র কিছু নয়। ঘুষঘুষে জ্বর, সর্দি-কাশি, বুকে কফ জমা লেগেই থাকে। ডাক্তারের দ্বারস্থ হলেই কড়া কড়া অ্যান্টিবায়োটিক! ফল ? শরীর ক্লান্ত, খিদে নেই, কাজ করার এনার্জি খতম! জ্বর কমাতে অ্যান্টিবায়োটিক খেতেই পারেন। কিন্তু, এটাও মনে রাখা উচিত ঘন ঘন অ্যান্টিবায়োটিক স্বাস্থ্যের পক্ষে আদৌ ভালো নয়। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। তাই প্রাকৃতিক দাওয়াইয়ে ভরসা রাখুন। তাতে ভাইরাল জ্বরও কমবে, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকিও থাকবে না। কাজেই, প্রথমেই অ্যান্টিবায়োটিক না খেয়ে ঘরোয়া উপায়ে জ্বর, সর্দি-কাশির মোকাবিলা করুন। নীচে তেমনই কিছু প্রাকৃতিক দাওয়াই দেওয়া হল-

মধু তুলসীপাতা- I-) সর্দি-কাশি ও জ্বরের সমস্যায় মধু আর তুলসীপাতা খুবই উপকারী। মধু আর তুলসীপাতা গলার কফ পরিষ্কার করে। সর্দি-কাশি হলে প্রতিদিন সকালে মধু ও তুলসীপাতা একসঙ্গে খেলে উপকার পাবেন। 

II-) এক চা চামচ জিরা এবং ৪-৬টা তুলসীপাতা এক গ্লাস পানিতে নিয়ে সিদ্ধ করে সেখান থেকে প্রতিদিন দুইবার এক চা চামচ খেতে পারেন।

III-) জ্বর, সর্দি, গলা ব্যথা, ব্রঙ্কাইটিস, ম্যালেরিয়া এবং আরও অনেক রোগের উপশমকারী উপাদান হিসেবে তুলসী পাতার রস বেশ উপকারী। এতে অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টিবায়োটিক এবং আরও অনেক উপাদান রয়েছে। ৮ থেকে ১০টি তুলসী পাতা ভালো করে জলে ধুয়ে নিন। তারপর গরম জলে বেশ কিছুক্ষণ ধরে পাতাগুলো ফোটান। সেই ফোটানো জল এক কাপ করে রোজ খান।

IV-) ভাইরাল জ্বরে তুলসীপাতা অত্যন্ত কার্যকরী প্রাকৃতিক দাওয়াই। তার কারণ এই তুলসী পাতায় রয়েছে নানা-অ্যান্টি-ব্যাক্টেরিয়াল উপাদান। অ্যান্টিবায়োটিক ছাড়াও জার্মিডিক্যাল ও ফাংগিসিডালের উপস্থিতির কারণে ভাইরাল জ্বরে তুলসী পাতার জুরি নেই।

গোটা কুড়ি তাজা তুলসীপাতা জোগাড় করে ভালোভাবে ধুয়ে নিন। এক লিটার পানীয় জলে তুলসী পাতাগুলো দিয়ে হাফ চামচ লবঙ্গগুঁড়ো মেশান। এ বার এই মিশ্রণটিকে ফোটাতে হবে। এক লিটার জল কমে হাফ লিটার হয়ে এলে, আঁচ থেকে নামিয়ে নিন। জ্বর অবস্থায় দু-ঘণ্টা ছাড়া ছাড়া এই মিশ্রণটি এককাপ করে খান। উপকার পাবেন।

রসুন: বলা হয় রসুনের থেকে ভালো ওষুধ আর হয় না। রসুনের গুণাগুণ অনেক। ভাইরাল ফিভার, ঠাণ্ডা লাগার মতো অসুখের প্রতিরোধ করতে রসুন খুব উপকারী। শুধু ঠান্ডা লাগাই নয়, উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ কোলেস্টেরল, হার্ট অ্যাটাক এবং স্টোক প্রতিরোধেও রসুন খুব কাজে দেয়। ৫ থেকে ৬ কোয়া রসুন থেঁতো করে নিন। তারপর সেটা শুধু খেতে পারেন কিংবা স্যুপের সঙ্গে মিশিয়েও খেতে পারেন।

আদা চা- I-) সর্দি-কাশি, জ্বর, গলাব্যথা, ও মাথাব্যথায় প্রতিদিন পান করুন আদা চা। ফুটন্ত পানিতে চিনি দিয়ে ফোটান। চিনি মিশে গেলে চা দিয়ে ফোটাতে হবে। এর পর এতে দিন আদার কুচি। কিছুক্ষণ পর ছেঁকে নিয়ে পান করুন। স্বাদ বাড়াতে মেশাতে পারেন পাতিলেবুর রস। এটি চায়ের ভিটামিন সি যোগ করে।

II-) গরম পানিতে লেবুর সঙ্গে মিশিয়ে আদা কুচি খেতে পারেন। এটি ব্যাকটেরিয়াজনিত ইনফেকশনের সঙ্গে লড়াই করে। ফলে জ্বর কমে যেতে পারে।

III-) রসুনের মতোই আদাও খুবই উপকারী একটি ঘরোয়া উপাদান। অনেক রকমের রোগ প্রতিরোধ করতে আদা খুব উপকারী। জ্বর কমাতে এক কাপ আদার রসে মধু মিশিয়ে খান। সঙ্গে সঙ্গেই ফল পাবেন।

IV-) ভাইরাল জ্বরে শুকনো আদাও উপকারী স্বাস্থ্যের গুণাগুণের বিচারে আদাকে বলা হয় পাওয়ারহাউস। অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট হিসেবে কাজ করে। প্রদাহ ও বেদনানাশক গুণও রয়েছে আদায়। দেখা গিয়েছে ভাইরাল জ্বর আদা কমাতেও ভালো কাজ দেয়। আয়ুর্বেদশাস্ত্রে মধুর সঙ্গে আদা মিশিয়ে খাওয়ার পরামর্শ রয়েছে।

দুটো মাঝারি মাপের শুকনো আদার টুকরো কুচিয়ে এককাপ জলে দিন। মিশ্রণটি ফুটিয়ে নিয়ে ঠান্ডা হতে দিন। ঠান্ডা হলে ছেঁকে নিন। দিনে তিন থেকে চার বার এই মিশ্রণটি খেলে ভাইরাল জ্বরে উপকার পাবেন।

হলুদ- হলুদে রয়েছে কারকুমিন যা বুক থেকে কফ, শ্লেষ্মা দূর করে বুকের ব্যথা কমায়। এর অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান গলা ব্যথা, বুকের ব্যথা দূর করে। এক গ্লাস হালকা গরম জলে এক চিমটি হলুদের গুঁড়ো মিশিয়ে প্রতিদিন কুলকুচি করুন। আরাম পাবেন। এছাড়া এক গ্লাস দুধে অর্ধেক চা চামচ হলুদগুঁড়ো মিশিয়ে ফোটান । ২ চা চামচ মধু ও সামান্য গোলমরিচের গুঁড়ো মিশিয়ে মিশ্রণটি দিনে ২-৩বার খান, উপকার পাবেন।

লেবু এবং মধু- লেবু জলে ১ চা-চামচ মধু মিশিয়ে খান। মধু শ্বাসযন্ত্রের ব্যাকটিরিয়া ধ্বংস করে, বুক থেকে কফ দূর করে গলা পরিষ্কার রাখে। এছাড়াও সকাল বেলা হালকা গরম পানির সাথে লেবু এবং মধু মিশিয়ে খান এত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।

চালের সুজি- জ্বরের সময় আরেকটি উপকারী খাবার হলো চালের সুজি, সঙ্গে সামান্য আদাকুচি ও সিদ্ধ করা সবজি।

টমেটো ও গাজরের স্যুপ- জ্বরের রোগীর জন্য আরেকটি উপকারী খাবার হলো টমেটো ও গাজরের স্যুপ। 

গরম জলের ভাপ- ফুটন্ত গরম জলে মেন্থল মিশিয়ে নিন। এবার মাথার উপর টাওয়েল চাপা দিয়ে বড় দম নিয়ে গরম জলের ভাপ নিন। দিনে ২ বার অন্তত ১০ মিনিট করে এরকম করুন। বুকে জমে থাকা কফ খুব সহজেই বেরিয়ে আসবে।

নুন জল- বুকে জমা কফ দূর করতে, দিনে দু-তিনবার উষ্ণ গরম নুন জল দিয়ে গার্গল করুন। আরাম পাবেন। নুন শ্বাসযন্ত্র থেকে কফ দূর করতে সাহায্য করে।

পেঁয়াজ- সমপরিমাণে পেঁয়াজের রস, লেবুর রস, মধু এবং জল একসঙ্গে মিশিয়ে ফুটিয়ে নিন। এই মিশ্রণটা হালকা ঠাণ্ডা করে দিনে ৩-৪বার খান। এছাড়া কাঁচা পেঁয়াজও চিবিয়ে খেতে পারেন। সর্দি-কাশি পালাবে!

জিরা- I-) জিরা পেটের গ্যাস, বমি, পায়খানা, রক্তবিকার প্রভৃতিতে অত্যন্ত ফলপ্রদ। জ্বর হলে ৫০ গ্রাম জিরা আখের গুড়ের মধ্যে ভালো করে মিশিয়ে ১০ গ্রাম করে পাঁচটি বড়ি তৈরি করতে হবে। দিনে তিনবার এর একটি করে বড়ি খেলে ঘাম দিয়ে জ্বর সেরে যাবে।

II-) জ্বরের সময় এক চা চামচ জিরা এবং ৪-৬টা তুলসীপাতা এক গ্লাস পানিতে নিয়ে সিদ্ধ করে সেখান থেকে প্রতিদিন দুইবার এক চা চামচ খেতে পারেন। 

ধনে বীজ- বিভিন্ন রান্নায় আমরা ধনে বীজ হামেশাই ব্যবহার করে থাকি। যে কোনও রান্নায় আলাদা স্বাদ যোগ করে এটি। ধনে বীজে নানা ধরনের ভিটামিন ছাড়াও আপনি পাবেন ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস, যার কাজ হল শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলা। এ ছাড়াও নানা অ্যান্টিবায়োটিক যৌগ ও উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন উদ্বায়ী তেলের উপস্থিতির কারণে ভাইরাল জ্বর বা ইনফেকশন কমাতে ধনে বীজ খুবই ভালো কাজ দেয়।

এক গেলাস জলে এক চামচ ধনে বীজ মিশিয়ে ভালো করে ফোটান। এর পর মিশ্রণটিকে কিছুটা ঠান্ডা হতে দিন। ঠান্ডা হলে অল্প দুধ ও চিনি মিশিয়ে ভাইরাল জ্বর আক্রান্ত ব্যক্তিকে চায়ের মতো করে খেতে দিন। দিনে কয়েক বার এই ধনে-চা খেলে ভাইরাল জ্বর কমবে।

কিশমিশ- কিশমিশে আছে ভিটামিন-সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করে।

চেরি: রাতের খাবারের পর চেরি ফল খেলে ঘুম ভালো হয়। তা ছাড়া মাথাব্যথা ও মাইগ্রেনের ব্যথা কমাতেও এই ফল সাহায্য করে। চেরিতে থাকা মেলাটোনিন রক্ত চলাচলে সহায়তা করে।

গোলমরিচ ও লবঙ্গ- নরম ভাত, খিচুড়ি অথবা আলু সিদ্ধর সঙ্গে একটু গোলমরিচ ও লবঙ্গ মিশিয়ে খেলে জ্বরে উপকার হবে।

দারুচিনি- গলা ব্যথা, ঠাণ্ডা লাগা, কফ সারাতে দারুচিনি খুবই উপকারী। এতে অ্যান্টি ফাংগাল, অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি ভাইরাল উপাদান রয়েছে। এক চামচ দারুচিনির গুঁড়ো মধুর সঙ্গে মিশিয়ে তিন দিন দুই থেকে তিন বার খান।

তথ্যসূত্র:

  • নিউজ 18 বাংলা।
  • কালের কণ্ঠ।
  • যুগান্তর।
  • স্বাস্থ্য বিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথ জার্নাল থেকে বাংলাদেশ প্রতিদিন।
  • সমকাল।
  • এই সময়।
  • Edited: Natural_Healing.

কোন মন্তব্য নেই

Popular Post

Blogger দ্বারা পরিচালিত.