প্রশ্ন উত্তর পর্বে জ্বর এবং সর্দি কাশি!
হঠাৎ করে যে কেউ জ্বরে আক্রান্ত হতে পারেন। তবে জ্বর নিজে কোনো রোগ নয়, অন্য রোগের লক্ষণ। শরীরে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়াসহ জীবাণুর আক্রমণ ঠেকাতে শরীরের নিজস্ব প্রক্রিয়ার কারণেই জ্বর আসে। সাধারণত শরীরের তাপমাত্রা ৯৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট। তাপমাত্রা ৯৮ দশমিক ৮ থেকে ১০০ দশমিক ৮ এর মধ্যে থাকলে তা মাইল্ড ফিভার বা সামান্য জ্বর হিসেবে পরিচিত। ১০৩ ডিগ্রি পর্যন্ত মডারেট বা মাঝারি জ্বর, এর ওপরে তাপমাত্রা গেলে তা হাই ফিভার বা উচ্চজ্বর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। জ্বর এলে অনেকের গলা ব্যথা, কাশি, খাবারে অরুচি, সেই সাথে শরীরে দুর্বলতা দেখা দেয়। আসুন এ সংক্রান্ত কিছু প্রশ্নের উত্তর জেনে নেই..
![]() |
| জ্বর নিজে কোনো রোগ নয়, অন্য রোগের লক্ষণ। শরীরে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়াসহ জীবাণুর আক্রমণ ঠেকাতে শরীরের নিজস্ব প্রক্রিয়ার কারণেই জ্বর আসে। |
প্রশ্ন : কোন তাপমাত্রাকে জ্বর বলা যাবে?
উত্তর : ৯৮ দশমিক ৬ ডিগ্রির বেশি যখন হবে, তখন একে জ্বর বলা হবে।
প্রশ্ন : সাধারণত কী কারণে জ্বর বা জ্বর জ্বর ভাব হতে পারে?
উত্তর : এটা ভাইরাস জাতীয় কারণে বেশি হয়। ঋতু পরিবর্তনের কারণে হলেও জ্বর থাকে, শরীর কামরায়, ব্যথা হয়, সর্দি থাকে। তিন দিনের বেশি থাকলে শরীরের ভেতর লাল লাল দানা হয়, চুলকানি হয়। এটা তো ডেঙ্গু। ডেঙ্গু রয়েছে কি না, দেখতে হবে। এটি জীবনঘাতি রোগ। রোগী হয়তো মরে যাবে না, তবে প্লাটিলেট কমে যাবে।
এর সঙ্গে জ্বর আসে, শীত লাগে। ম্যালেরিয়া হতে পারে। টাইফয়েড হতে পারে। ইউরিন ট্র্যাক্ট ইনফেকশনের কারণে সমস্যা হতে পারে। দাঁতে ব্যথা বা সাইনোসাইটিসের কারণেও জ্বর আসতে পারে, কানে সংক্রমণের কারণে জ্বর হতে পারে।
অনেক সময় দেখা যায়, রোগীর জ্বর থাকেই। রোগী বলে আমার বার বার জ্বর আসে। তিন সপ্তাহের বেশি জ্বর থাকলে একে টাইফয়েড ধারণা করা হয়। রোগী বলে, ছয় মাস ধরে আমার হালকা হালকা জ্বর থাকে, রোগী বলছে আমিতো সক্রিয় আছি। এটা হয়তো হেপাটাইটিস বি। এটা মারাত্মক।
আবার ধরুন, ৪০ বছরের নারী তার সকালে ঘুম থেকে উঠলে গাঁটে গাঁটে ব্যথা হয়, জ্বর থাকে। এটি হয়তো রিউমেটো আরথ্রাইটিস। তরুণ বয়সেও হতে পারে। এমনকি ক্যানসারেও হালকা জ্বর আসতে পারে। অটো ইমিউন রোগেও সমস্যা হয়। ভারত, বাংলাদেশে যক্ষ্মার কারণে জ্বর বেশি হয়।
প্রশ্ন : তখন কী পরীক্ষা আপনারা দেন?
উত্তর : জ্বর ১৪ দিন, ২১ দিনে না গেলে, সিটি স্ক্যান, এক্সরে তে ধরা না পড়লে ধারণা করতে হবে এটি যক্ষ্মা হয়েছে। কয়েকটি ল্যাব টেস্ট করতে হবে। কী কারণে হয়েছে, সেটি আগে নির্ণয় করতে হবে। জ্বরকে হালকা করে দেখার কোনো উপায় নেই। যখনই শরীরে কোনো সমস্যা থাকে, তখনই সেটি জ্বর হিসেবে বেড়ে যায়।
প্রশ্ন : সাধারণ জ্বর তীব্রভাবে হলে করণীয় কী?
উত্তর : এ ক্ষেত্রে আমি বলে দিই, নিজে নিজে কোনো অ্যান্টিবায়োটিক নেবেন না। সেটা খাবেন, কেবল চিকিৎসক প্রেসক্রিপশন দিলে। শুরুতে প্যারাসিটামল এবং তরল খাওয়ান। এরপর চিকিৎসকের কাছে যোগাযোগ করুন। নিজে নিজে অ্যান্টিবায়োটিক খাবেন না। চিকিৎসকের কাছে আসলে সিবিসি দেখা হয়।
প্রশ্ন : আরো কিছু কারণে তো জ্বর আসে। সেগুলো কী?
উত্তর : অনেক সময় দেখা যায় রোগী পাঁচদিন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। জ্বর সেরে গেছে। ছয় দিনের দিন হয়তো জ্বর এলো। এ ক্ষেত্রে দেখতে হবে ইনজেকশন বা আইভির জায়গাগুলো । ইউরিন ক্যাথেডার ইনফেকশন হতে পারে। নেকলাইন ইনফেকশন হতে পারে। লাল হয় একটি পাশে।
রোগী হাসপাতালে ছিল, ক্যাথেডার নিয়েছে এর কারণে সংক্রমণ হয়ে যাচ্ছে। এগুলোর ক্ষেত্রে একটু সচেতন থাকতে হবে।
প্রশ্ন: এখন ঋতু পরিবর্তনের সময়। করোনা-উপসর্গের সঙ্গে এই ঋতু পরিবর্তনের উপসর্গে পার্থক্য কতটা?
উত্তর : পার্থক্য অনেকটা। সাধারণ জ্বর ঘোরাফরা করে ১০০-১০১ ডিগ্রির মধ্যে। নিজে থেকেই এ জ্বর ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই সেরে যায়। ক্ষেত্রবিশেষে ওষুধ প্রয়োগ করতে হয়। চোখ-নাক দিয়ে জল বেরনো, গা হাত-পা ব্যথা, মাংসপেশি টেনে ধরা এগুলিই পারিপার্শ্বিক লক্ষণ। তবে করোনার সময় অনেক বেশি মাত্রায় জ্বর আসে। তার সঙ্গে স্বাদ ও গন্ধও হারিয়ে যায়। তবে এই ভাইরাসে জ্বর হলে চোখ-নাক দিয়ে জল বের হয় না।
প্রশ্ন: ঋতু পরিবর্তনে শিশুদের সর্দি কাশি জ্বর হচ্ছে। ফলে করোনার আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। এটা কেন?
উত্তর : আতঙ্ক ছড়ানোটা অবাস্তব নয়। কারণ কোভিডের প্রথম পর্য়ায়ে ভাবা হয়েছিল শিশুদের ক্ষেত্রে এই রোগের প্রকোপ হয়তো কম। কিন্তু পরে দেখা গেল যে শিশুদের মধ্যেও করোনার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। কোভিড হাসপাতালগুলির নিভৃতবাসে শিশুরাও ভর্তি হয়েছিল। ফলে সেই রোগের উপসর্গ ঋতু পরিবর্তনে দেখা দিলে আতঙ্ক তো তৈরি হবেই।
প্রশ্ন: শীতকালে কী ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে পারে?
উত্তর : শীতকালীন সময়ে সূর্যরশ্মির তীব্রতা ক্রমশ হ্রাস পায়, দিনের দৈর্ঘ্য কমতে থাকে। এই সময় ইনফ্লুয়েঞ্জা, প্যারা ইনফ্লুয়েঞ্জা, অ্যাডিনো ভাইরাস প্রভৃতির বংশবৃদ্ধি করে। এই সময়টা ভাইরাসের মহানন্দের সময়। তাই এই সময় সতর্ক থাকা অবশ্য প্রয়োজন।
প্রশ্ন: শিশুদের মধ্যে এই সময় আতঙ্ক বৃদ্ধির লক্ষণ কী কী?
উত্তর : করোনা প্রভাব ছড়িয়ে পড়তে শিশুরা অন্তর্মুখী হয়ে বহির্জগৎ থেকে বিচ্ছিন্ন। মেজাজ সপ্তমে চড়ে থাকছে। হঠাৎ শরীরে কম্পন অনুভূত হচ্ছে। এগুলিই শিশুদের অবসাদ ও আতঙ্কিত হওয়ার লক্ষ্মণ।
প্রশ্ন: অনেকের ধারণা জ্বর মানেই করোনায় আক্রান্ত। ঋতু পরিবর্তনের সময়ে যে ধারণা আরও বেশি করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। এটা কী ঠিক?
উত্তর : ঋতু পরিবর্তনের কারণে যে সব শিশু জ্বর,সর্দি কাশি নিয়ে আসছে, তাদের বাবা মায়ের মধ্যেও কোভিড আতঙ্ক গ্রাস করছে। আতঙ্কিত হবেন না। শিশুদের অনাক্রমতা বা ইমিউনিটি বাড়ানোর জন্য ফল-আনাজ, ভিটামিন ও প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার বেশি খেলে সংক্রমণ ছড়ানোর ভয় থাকবে না।
প্রশ্ন: বড়দের চেয়ে শিশুদের ক্ষেত্রে জ্বর জ্বালা এই সময় বেশি হয় কেন?
উত্তর : এই সময় শিশুদের অ্যালার্জি বেশি দেখা যাচ্ছে। এটা মূলত তিন ধরনের—ড্রাগ অ্যালার্জি, ডাস্ট অ্যালার্জি এবং ফুড অ্যালার্জি। শিশুদের ক্ষেত্রে ডাস্ট অ্যালার্জির প্রভাব বেশি। এই ধরনের অ্যালার্জি যে সব বাচ্চাদের রয়েছে,তাদের ক্ষেত্রে ঠান্ডা লেগে জ্বর হওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে। বর্তমান প্রজন্মের বাচ্চারা বেশিরভাগ সময়ে ঘরের ভেতরে থাকায় তাদের শরীরে ভিটামিন-ডি এর অভাব রয়েছে। তাই জ্বরজ্বালায় সংক্রমণের প্রবণতা বেশি।
প্রশ্ন: ঋতু পরিবর্তনের সময় প্রাথমিক সতর্কতা কী নেওয়া যেতে পারে?
উত্তর : প্রথমত দিনের বেশির ভাগ সময়টা সূর্যের আলোয় কাটালে উপকার হবে। এ ছাড়া ঘন ঘন ফ্রিজের ঠান্ডা জল পান না করা, ভোররাতে পাখা চালিয়ে না ঘুমনো, এসি না চালানো- এ সব সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।
প্রশ্ন: এই সময় জ্বর হলে কী কী ওষুধ গ্রহণ করা যেতে পারে?
উত্তর : জ্বর ভাইরাস ঘটিত একটি রোগ। ফলে তার জন্য শুধু প্যারাসিটামল ট্যাবলেটই যথেষ্ট। তবে ওষুধ না খেলেও নিজে থেকেই ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এই জ্বর সেরে যায়। বিশেষ ক্ষেত্রে প্যারাসিটামল জাতীয় ট্যাবলেট প্রয়োজন হয়। তবে যদি তাতেও জ্বর না সারে সে ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে কোভিড পরীক্ষা করা জরুরি। কোনো অবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ খাওয়া উচিত নয়।
প্রশ্ন: জ্বর মানেই কোভিড নয়?
উত্তর : না। ঋতু পরিবর্তনের সাধারণ জ্বর এবং করোনার কারণে জ্বরের মধ্যে অনেক পার্থক্য। জ্বর হলে ভয় পাওয়া বা অযথা আতঙ্কিত হওয়া উচিত নয়। মনে রাখা দরকার, মন দুর্বল হয়ে গেলে রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা কমে যায়। ভিটামিন প্রোটিন জাতীয় খাবার বেশি করে খাওয়া প্রয়োজন। শিশুদের ক্ষেত্রে বেবি ফুড, এনার্জি ড্রিঙ্ক বা ফুড সাপ্লিমেন্ট কখনও সুষম আহারের বিকল্প হতে পারে না।
প্রশ্ন: বর্ষা আসতে না আসতেই জ্বরের ধুম পড়ে গেছে। ঘরে ঘরে জ্বর। আর এক বার পড়লে নাকি হপ্তাখানেকের ধাক্কা?
উত্তর : এ বারের আবহাওয়ার জন্যই এত সব ঝামেলা। কখনও ভীষণ গরম আবার কখনও বৃষ্টির ঠান্ডা, সামলে চলতে না পারলেই মুশকিল।
প্রশ্ন: কিছু ওষুধ বলুন, যাতে জ্বর হলেও তাড়াতাড়ি রেহাই মেলে।
উত্তর : গা-হাত-পা ম্যাজম্যাজ করছে, জ্বর জ্বর ভাব লাগছে মনে হলেই প্যারাসিটামল খান। দিনে তিনটে।
প্রশ্ন: প্যারাসিটামল না খেলে হবে না?
উত্তর : জ্বর এলে এটাই সবচেয়ে নিরাপদ ওষুধ। সঙ্গে মাথা, গা-হাত-পা ব্যথা থাকলেও কমবে।
প্রশ্ন: প্যারাসিটামল খেলে তো কিছু ক্ষণের জন্য রেহাই। তার পর আবার যে কে সেই।
উত্তর : দিন তিনেক দেখুন না।
প্রশ্ন: এ দিকে তো কাজের দফারফা। জ্বর এলে কাজও করতে পারছি না।
উত্তর : জ্বর গায়ে আবার কাজ করবেন কী! বিশ্রাম নিন।
প্রশ্ন: তিন দিন বাড়িতে বসে থাকব?
উত্তর : নইলে আরও বেশি দিন থাকতে হতে পারে।
প্রশ্ন: তাই তো বলছি ভাল ওষুধ দিন, যাতে তাড়াতাড়ি জ্বর কমে।
উত্তর : প্যারাসিটামলই খাবেন। জ্বর ১০১-এর বেশি হলে ভাল করে মাথা ধুইয়ে গা মুছতে হবে। খুব বেশি জ্বর উঠলে বরফ জল দিয়ে মাথা ধোবেন। বা জলপট্টি দেবেন। রুমালের মধ্যে বরফ নিয়ে কুঁচকি, বগলের তলায় সেঁক দেবেন। যে করে হোক জ্বরটা নামাতে হবে। এতে না কমলে কিন্তু ডাক্তার দেখাতে হবে। তখন অ্যন্টিবায়োটিক খেতে হতে পারে।
প্রশ্ন: তার থেকে আগেভাগে অ্যান্টিবায়োটিক খেয়ে নিলে তো খামকা তিন দিন প্যারাসিটামল খেয়ে সময় নষ্ট করতে হয় না?
উত্তর : না। তিন দিন পর জ্বর না কমলে কিছু রক্ত পরীক্ষা করতে হবে। বুকে কফ বসলে চেষ্ট এক্স-রে করাতে হবে। বিশেষ করে বয়স্কদের। সেই রিপোর্ট দেখে তার পর ডাক্তার অ্যান্টিবায়োটিক দেবেন। নিজে নিজে অ্যান্টিবায়োটিক খাবেন না।
প্রশ্ন: কিন্তু অ্যান্টিবায়োটিক খেলে তো দুর্বল হয়ে পড়ব। তখন তো জ্বর কমলেও অফিস করা যাবে না।
উত্তর : সঙ্গে ভিটামিন খেলে এমনটা হবে না। আর খাওয়াদাওয়াটাও ভাল করে করতে হবে।
প্রশ্ন: জ্বরের মুখে সবই বিস্বাদ লাগছে। কিছুই তো খেতে ইচ্ছে করছে না।
উত্তর : এক বারে অনেকটা না খেয়ে একটু একটু করে বারে বারে খান। যা মুখে ভাল লাগে, তাই খান। তেল-মশলা না খেলেই হল।
প্রশ্ন: কাঁচা-মিঠে আম খেতে পারব?
উত্তর : খান না। অসুবিধে কী...
প্রশ্ন: জ্বরের মধ্যে! তার ওপর সর্দি?
উত্তর : কাঁচা আম, তেঁতুল এগুলি ভিটামিন-সি তে ভরপুর। জ্বরের মুখে ভালও লাগে। অরুচি কমবে। আবার সর্দিতে-ও কাজ দেবে। টক-মিষ্টি আপেলও খেতে পারেন।
প্রশ্ন: ভাত খাওয়া যাবে?
উত্তর : ভাত, রুটি, খিচুড়ি যা ইচ্ছে খেতে পারবেন। বেশি করে তরল জাতীয় খাবার খাবেন।
প্রশ্ন: সঙ্গে যদি পেটের গোলমাল থাকে?
উত্তর : সে ক্ষেত্রে অবশ্যই হাল্কা ও সহজপাচ্য খাবার (যেমন, জাউভাত, স্যুপ, ফলের রস ইত্যাদি) খেতে হবে। ডাবের জল খাবেন। এক-দুই বার বাথরুমে গেলেই বার বার নুন-জল খান। নইলে স্যালাইন। খাওয়ার পর যে কোনও হজমের ওষুধ খেতে হবে। না কমলে অ্যান্টি ডায়রিয়াল খেতে হবে। জলটা অবশ্যই ফুটিয়ে খাবেন।
প্রশ্ন: বাইরের তাপমাত্রা চল্লিশ ডিগ্রি ছাড়ালে তখন কি আর ফোটানো জল খাওয়া যায়?
উত্তর : তখন ফোটানো জল ফ্রিজে রেখে খান। তবে সর্দি-কাশি থাকলে আর ফ্রিজের জলে হাত দেবেন না।
প্রশ্ন: কাশির জন্য কী করব?
উত্তর : কাফ সিরাপ খেতে পারেন। লিভোসিট্রাজিন জাতীয় অ্যান্টি অ্যালার্জিক ট্যাবলেটও খেতে পারেন। নাক বন্ধ থাকলে নরম্যাল স্যালাইন ওয়াটার নাকে দিন। স্টিম ভেপার নিলেও কাজ হবে।
প্রশ্ন: আর গলা ব্যথার জন্য? সেই গার্গলের প্রেসক্রিপশন?
উত্তর : হ্যা। নুঁন জল দিয়ে গার্গল করলে তো খুবই ভাল। দিনে তিন বার করুন। গলা ব্যথা কমবে।
প্রশ্ন: গার্গল করতে বিচ্ছিরি লাগে। করলে বমি পায়।
উত্তর : বমির সঙ্গে কফও বেরিয়ে আসবে। না ইচ্ছে করলে গরম লিকার চা, গ্রিন টি, স্যুপ বার বার খান। গলায় আরাম লাগবে। প্যারাসিটামলেও গলা ব্যথা কমবে।
প্রশ্ন: শুনেছি বয়স্কদের ক্ষেত্রে জ্বরটা শেষমেশ নিউমোনিয়া পর্যন্তও গড়াচ্ছে?
উত্তর : আগে থেকে সাবধান না হলে হতে পারে। এ জন্য বাচ্চা বা বয়স্কদের সর্দি-কাশি হলেও যদি দেখেন কফ বেরোচ্ছে না, বুকে বসে গেছে, তবে অবশ্যই একটা চেষ্ট এক্স-রে করে ডাক্তার দেখাতে হবে।
প্রশ্ন: এই জ্বর নাকি আবার ঘুরে আসতে পারে?
উত্তর : একটু সাবধানে থাকলে আসবে না।
প্রশ্ন: কী রকম?
উত্তর : বাইরে বেরোলে মুখ মাস্ক দিয়ে ঢেকে নিন। বাড়ি এসে আগে ভাল করে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নেবেন। খুব গরম পড়লে বার বার এসি আর বাইরে করবেন না।
প্রশ্ন: মাস্ক পরে অফিস! হয় না কি?
উত্তর : জ্বরের হাত থেকে বাঁচতে হলে পরতে হবে। মেট্রো বা বাসে যাওয়ার সময় অন্তত রুমাল দিয়ে মুখটা ভাল করে ঢেকে নিন। ওড়না বা স্কার্ফ দিয়ে মুখ ঢেকে বেরোলে অসুবিধে কী?
প্রশ্ন: তা করা যায়। মুখ ঢেকে রাখলে এই বিচ্ছিরি জ্বরটা হবে না?
উত্তর : না হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। পাশাপাশি বাড়িতে পার্সোনাল হাইজিনটা খেয়াল রাখতে হবে। যার হয়েছে তার থেকে দূরে থাকতে হবে। বিশেষ করে বাচ্চা আর বয়স্কদের। বাইরের জোলো হাওয়া লাগতে দেবেন না। মাঝে মাঝে বৃষ্টি হলে দরজা-জানলা বন্ধই রাখুন। তখন আর বাড়ি ফিরে স্নান না করাই ভাল। করলেও ঈষদুষ্ণ জলে স্নান করুন।
প্রশ্ন: অফিসে তো একটানা এসির মধ্যে থাকতে হয়। তাতে অসুবিধে হবে না তো?
উত্তর : না। একটানা ঠান্ডায় থাকলে অসুবিধে হওয়ার কথা নয়। তবে আপনার যদি এসি সহ্য না হয়, তবে কান, নাক, মুখ ঢেকে রাখবেন। বার বার এসি থেকে বাইরে বেরোবেন না। ঠান্ডা-গরম করলে সমস্যা হতে পারে।
প্রশ্ন: কিন্তু বাড়িতে তো আর সেন্ট্রাল এসি নেই। তখন কী করব?
উত্তর : ঘর ঠান্ডা হয়ে গেলে এসি বন্ধ করে দেবেন। সরাসরি এসির হাওয়া গায়ে লাগাবেন না। আর যখন বেরোনোর দরকার হবে, তার কিছু ক্ষণ আগে এসি বন্ধ করে দেবেন। যাতে বাইরের সঙ্গে তাপমাত্রার পার্থক্য কমে আসে।
তথ্যসূত্র:
- মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিভাগীয় প্রধান রঞ্জন ভট্টাচার্য, ভারত,
- আনন্দবাজার।
- বাংলাদেশ প্রতিদিন।
- ডা. শরদ, বিআরবি হাসপাতালে মেডিসিন বিভাগের জেষ্ঠ্য পরামর্শক, NTV.
- Edited: Natural_Healing.

কোন মন্তব্য নেই