First Aid Present

Lifestyle Modification এবং প্রাকৃতিক খাদ্য, পানীয়, শাকসবজি, গাছ, ডালপালা, ফল, মসলা, পাতা ও ফুল ইত্যাদির দ্বারা প্রাথমিক চিকিৎসা।

শীতকালে শ্বাসকষ্ট কেন বাড়ে? হাঁপানি (অ্যাজমা) এরসাথে শ্বাসকষ্টের সম্পর্ক কি?

শ্বাসকষ্ট এমন একটি শারীরিক অবস্থা যখন একজন মানুষ মনে করে যে সে যথেষ্ট ভাল করে ও আরামদায়কভাবে শ্বাস নিতে পারছে না। একে ইংরেজি চিকিৎসাবৈজ্ঞানিক পরিভাষায় ডিসপ্নিয়া (Dyspnoea) বলে। শ্বাসকষ্ট পরিমাপ করার জন্য এ সংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের অনুভূতির তীব্রতা, কষ্টের তীব্রতা এবং দৈনন্দিন জীবনযাপরনে এর প্রভাব - এই তিনটি নিয়ামক বিবেচনায় গ্রহণ করতে হয়। শ্বাসকষ্টের বিভিন্ন অনুভূতির মধ্যে আছে শ্বাস নেওয়ার জন্য কাজ করতে হচ্ছে এরকম অনুভূতি, বুক চেপে আসা এবং বাতাসের জন্য আকুতি (অক্সিজেনের অভাব হয়েছে এমন অনুভূতি)

অতিরিক্ত কায়িক পরিশ্রম করলে স্বাভাবিক শ্বাসকষ্টের উপসর্গ দেখা যায়। কিন্তু যদি অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে কিংবা সামান্য পরিশ্রমেই যদি শ্বাসকষ্ট শুরু হয়, তাহলে তাকে রোগের উপসর্গ হিসেবে গণ্য করা হয়।। ৮৫% ক্ষেত্রেই শ্বাসকষ্টের পেছনে হাঁপানি রোগ (অ্যাজমা), ফুসফুস প্রদাহ (নিউমোনিয়া), হৃৎ-রক্তাভাব (কার্ডিয়াক ইস্কিমিয়া), অঙ্গগহ্বরীয় ফুসফুসীয় ব্যাধি, রক্তাধিক্যজনিক হৃৎবৈকল্য, দীর্ঘস্থায়ী অবরোধক ফুসফুসীয় ব্যাধি , অথবা মনোজাত (psychogenic সাইকোজেনিক) কোনও কারণ যেমন আতঙ্ক রোগ এবং উৎকণ্ঠা । সাধারণত পেছনের মূল কারণের চিকিৎসা করলে শ্বাসকষ্টেরও চিকিৎসা হয়।

হাঁপানি (অ্যাজমা) এরসাথে শ্বাসকষ্টের সম্পর্ক কি?

হাঁপানি একটি শ্বাসকষ্ট সংবলিত রোগ। কার্যতঃ এটি শ্বাসনালীর অসুখ। এর ইংরেজি নাম অ্যাজমা। বাংলায় হাঁপানি। যার অর্থ হাঁপান বা হাঁ-করে শ্বাস নেয়া। হাঁপানি বলতে আমরা বুঝি শ্বাসপথে বায়ু চলাচলে বাধা সৃষ্টির জন্য শ্বাসকষ্ট।

হাঁপানি হল ফুসফুসীয় শ্বাসনালীর দীর্ঘ মেয়াদি প্রদাহজনিত রোগ। এর বৈশিষ্ট্য হল রোগটি বিভিন্ন মাত্রায় ও বার বার লক্ষন দেখা দেওয়া এবং পরবর্তীতে চিকিৎসা না করলে খারাপ হতে থাকা, শ্বসনপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্থ হওয়া, এবং সহজেই বা অল্পতেই ব্রঙ্কোস্পাজম বা শ্বাসনালী সরু হয়ে যাওয়ার মত অবস্থায় চলে যাওয়া যার ফলে হাঁপানি বেড়ে যায়। 

হাঁপানি জিনগত এবং পরিবেশগত কারনে হয় বলে ধারণা করা হয়। পরিবেশগত কারনগুলোর মধ্যে আছে বায়ু দূষন এবং বাতাসে এ্যালার্জেন বা এ্যালার্জি উদ্রেককারী উপাদানের উপস্থিতি। অন্য কারনগুলো হল এসপিরিনজাতীয় ঔষধ এবং বেটা ব্লক করে এমন এমন ঔষধ সেবন করা। লক্ষনের ধরন দেখে পরিক্ষা করা হয়, তার ভিত্তিতে যে ঔষধ প্রয়োগ করা হয় তা ব্যক্তির উপর কিভাবে কাজ করছে তা দেখা হয় (দীর্ঘ মেয়াদে) এবং ফুসফুসের কার্যক্ষমতা পরীক্ষা করা হয় স্পাইরোমেট্রি। হাঁপানি কতটুকু জটিল তা বুঝার জন্য লক্ষনগুলো কত দ্রুত দেখা দেয় তা দেখা হয়, সেই সাথে এক সেকেন্ডে প্রশ্বাসের ভলিউম কতটুকু তাও যোগ করা হয় যাকে (FEV1)বলে এবং পিক ফ্লো ব্যবহার করা হয়। এটপিক এবং নন এটপিক হিসেবেও একে ভাগ করা হয় যেখানে এটপিক হল টাইপ ১ ধরনের সংবেদনশীল প্রতিক্রিয়া দেখানো।

এখন পর্যন্ত সম্পূর্ণ আরোগ্য লাভ করাতে পারে এমন কোন ঔষধ তেরী হয়নি, কিন্তু এটিকে সহজেই চিকিৎসা করে নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় রাখা যায়। উপসর্গগুলো দেখা দেবার পূর্বেই যে কারনগুলো হাঁপানির উদ্রেক করে যেমন এ্যালার্জেন, শ্বাসতন্ত্রের প্রতি হুমকি এমন পরিবেশ বা উপাদান, সেগুলো বন্ধ করতে পারলে এবং সেই সাথে কর্টিকোস্টেরয়েড গ্রহণ করলে হাঁপানির উপসর্গগুলো বন্ধ করা যায়। শুধুমাত্র কর্টিকোস্টেরয়েড দিয়ে যদি হাঁপানি নিয়ন্ত্রিত না হয়, তাহলেদীর্ঘ-মেয়াদি বেটা এগনিস্ট অথবা এন্টিলিউকোট্রিন এজেন্ট ব্যবহার করা যেতে পারে। যখন দ্রুত হাঁপানি বাড়তে থাকে তখন শ্বাসের সাথে গ্রহণ করা যেতে পারে স্বল্প মেয়াদি বেটা-২ এগনিস্ট যেমনসালবিউটেমল এবং কর্টিকোস্টেরয়েড যা দ্রুত রোগীর অবস্থা উন্নতি করে। মারাত্মক উপসর্গের ক্ষেত্রে রোগীকে শিরায় কর্টিকোস্টেরয়েড, ম্যাগনেশিয়াম সালফেট এবং হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন হতে পারে।

লক্ষণ:

আপনার যদি মাঝে মাঝেই শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, বারবার শ্বাস প্রশ্বাসের সাথে শো শো শব্দ হওয়া ও কষ্টসহকারে শ্বাস নেয়া, বুকে চাপ ধরা বা বুকের পেশি শক্ত হওয়া, শ্বাস প্রশ্বাসের স্বল্পতা বা স্বল্প মাত্রায় শ্বাস নিতে পারা (শ্বাসকষ্ট, সেই সাথে শুকনো কাশি, প্রায়শই এই কাশি একটানা অনেকক্ষণ ধরে চলে, বুকে চাপ অনুভব করা এবং খুব অল্প পরিশ্রমেই হাঁপিয়ে যাওয়া-

উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর ফুসফুস থেকে কফ তৈরি হতে পারে কিন্তু তা সহজে বের হতে চায় না। হাঁপানির মাত্রা কমে আরোগ্য লাভের সময় থুতু বেরিয়ে আসতে পারে যা দেখতে সাদা জলের মত হয় যা ইওসিনোফিল (শ্বেত রক্ত কনিকা) কারনে হয়। হাঁপানির উপসর্গ সাধারণত রাতে এবং ভোরের দিকে বেশি হতে দেখা যায়। আর কারো কারো পরিশ্রমসাধ্য কাজ যেমন ব্যায়াম, দৌড় ইত্যাদি করলে হাঁপানি বেড়ে যেতে পারে। আবার ঠান্ডা আবহাওয়াতেও কারো কারো হাঁপানি বেড়ে যায়। কিছু কিছু হাঁপানি রোগী খুব কমই উপসর্গগুলোতে ভোগেন যেখানে অন্যরা ঘন ঘন এবং লাগাতর আক্রান্ত হন।

এগুলো এক দিনে একাধিকবার হতে পারে আবার এক সপ্তাহে ধীরে ধীরে হতে পারে। ব্যক্তিভেদে হাঁপানির লক্ষনগুলো রাতে বেড়ে যেতে পারে বা ভারি কাজ বা ব্যায়াম বা খেলাধূলা করলেও বেড়ে যেতে পারে।

প্রকারভেদ:

মানবদেহে হাঁপানি তিনভাবে প্রকাশ হতে পারেঃ

-আপাত সুস্খ লোকের হঠাৎ শ্বাসকষ্ট আরম্ভ হয়ে কয়েক মিনিট বা কয়েক ঘণ্টা পরে কষ্ট উপশম এবং রোগী আবার নিজেকে সুস্খ মনে করেন।

-শ্বাসকষ্ট হঠাৎ আরম্ভ হয়ে আর কমে না; উপরন্তু বেড়ে যেতে থাকে। কোনো ওষুধে হাঁপানি কমে না। যদি এ অবস্খা বারো ঘণ্টার বেশি স্খায়ী হয়, তবে সে ধরনের হাঁপানিকে বলা হয় স্ট্যাটাস অ্যাজম্যাটিকাস বা অবিরাম তীব্র হাঁপানি।

-একশ্রেণীর রোগীর শ্বাসপথে বাতাস চলাচলে সব সময়েই অল্প বাধা থাকে। বহু দিন এ অবস্খা থাকার ফলে কষ্টের অনুভূতি কম হয় এবং রোগী অল্প কষ্ট অনুভব করেন। কোনো কারণে শ্বাসপথে বায়ু চলাচলে আরো বাধার সৃষ্টি হলে তখনই হাঁপানির কষ্ট অনুভূত হয়।

চিকিৎসা:

হাঁপানী উপশমের প্রথম ঔষধ হলো ইনহেলার। এটা দুরকমের হয়, স্বল্প মেয়াদী ও দীর্ঘ মেয়াদী। শ্বাস কষ্টের তাৎক্ষনিক উপশমের জন্য কয়েক রকম ঔষধ ইনহেলারের মাধ্যমে ব্যবহার করা হয়, যেমন, সালবুটামল, সালমেটেরোল, এবং ফোরমোটেরোল ।

হাঁপানীর আক্রমণ যেন না হয় তার জন্য ব্যবহার করা হয় স্টেরয়েড ইনহেলার। সাধারনত ফ্লুটিকাস্ন ও বুডিসোনাইড স্টেরয়েড ইনহেলার হিসাবে পাওয়া যায়। এলোপ্যাথিতে হাঁপানীর চিকিৎসায় স্টেরয়েড ইনহেলার অপরিহার্য।

উপশমকারী দীর্ঘ মেয়াদী ঔষধ ও প্রতিরোধকারী স্টেরয়েড এক সংগে একই ইনহেলারে বর্তমানে বাজারে পাওয়া যায়। তবে দীর্ঘদিন ব্যবহারে এই সকল ঔষধের কিছু না কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া পরিলক্ষিত হয়।

হাঁপানী প্রতিরোধক হিসাবে অন্য যে ঔষধটি ব্যবহার করা হয় তার নাম মন্টিলুকাষ্ট। এটি শ্বাসনালীর প্রদাহ কমিয়ে হাঁপানী আক্রমণের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়।

থিওফাইলিন- এই ঔষধটি শ্বাসনালীর মধ্যে চক্রাকারে যে মাংশপেশী থাকে, হাঁপানীর আক্রমণের সময় যা সংকুচিত হয়ে পড়ে, সেটিকে শিথিল করে দেয়, ফলে শ্বাসনালীর ভেতরের প্রসস্থতা বৃদ্ধি পায়।

মুখে খাবার স্টেরয়েড- এটি ট্যাবলেট অথবা সিরাপ আকারে পাওয়া যায়। হাঁপানীর তীব্র আক্রমণের সময় এটি কয়েকদিন ব্যবহার করতে হয় ।

শীতকালের শ্বাসকষ্ট:

শীতকাল দরজায় কড়া নাড়ছে। এরইমধ্যে কমেছে তাপমাত্রা। বাতাসের আর্দ্রতার পরিমাণও কমছে। এই সময়ে অনেকেরই শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দেয়। আর যাদের আগে থেকেই শ্বাসকষ্টের সমস্যা আছে তাদের ক্ষেত্রে আরো বেড়ে যায়।

শীতকালে শ্বাসকষ্ট বাড়ার পিছনের কয়েকটি কারণ আছে। চলুন জেনে নেওয়া যাক।

শ্বাসকষ্ট বাড়ার কারণ:

• বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ এই সময়ে অনেক কমে যায়। ফলে বাড়ে ধুলার পরিমাণ। সেগুলো ফুসফুসে ঢুকে শ্বাস প্রশ্বাসের সমস্যা বাড়ায়।

• বাতাসে ফুলের রেণুও এই সময় প্রচুর পরিমাণে ওড়ে। ফুসফুসে ঢুকে সেগুলোও অ্যালার্জির সমস্যা বাড়িয়ে দেয়। এতে করে শ্বাসকষ্ট বাড়ে।

• শীতকালে বায়ুদূষণের পরিমাণও অনেক বেড়ে যায়। এ থেকে শ্বাসকষ্ট হয়।  

সমস্যা থেকে মুক্তির উপায়:

• বাড়ির বাইরে বেরোতে হলে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করুন। বিশেষ করে যাদের শ্বাসকষ্ট রয়েছে, তারা এই সময়ে মাস্ক ব্যবহার করলে এই সমস্যা কিছুটা কমতে পারে।

• তবে শুধু বাড়ির বাইরে নয়, ঘরের ভিতরও পরিষ্কার রাখা উচিত এই সময়ে। না হলে ঘরের ধুলা-বালিও শ্বাসকষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

• ঘরের ধুলার মধ্যে বড় অংশই হলো শুষ্ক ত্বকের গুঁড়ো। শীতকালে নিয়মিত ময়শ্চারাইজার মাখলে ত্বকের শুষ্কতা কমবে। ফলে ধুলার পরিমাণও কিছুটা কমবে। শ্বাসকষ্টও বাড়বে না।

• শীতকালে অবশ্যই ধূমপানের অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে। যাদের শ্বাসকষ্টের সমস্যা আছে, তারা যদি শীতে ধূমপান করেন, তাদের ফুসফুসের উপর চাপ পড়ে। তাই ধূমপানের অভ্যাস এই সময়ে ছাড়তে হবে।

শহরে হাঁপানি কেন বেশি হচ্ছে:

হাঁপানি বংশগত হতে পারে আবার পরিবেশগত কারণেও হতে পারে। তবে ইদানীং পরিবেশগত কারণটিই বেশি দেখা যাচ্ছে বিশেষ করে শহরাঞ্চলে। শিশু এবং প্রাপ্তবয়স্ক যে কারো হাঁপানি হতে পারে।

রাজশাহী শহরের বাসিন্দা ফারহানা নাহারকে হাঁপানির জন্য ছোটবেলা থেকেই নিয়মিত ইনহেলার ও কিছু ঔষধ ব্যবহার করতে হয়। তিনি বলছেন, কিছু সময় আছে যখন তার হাঁপানির প্রবণতা অনেক বেড়ে যায়।

"যেদিন বাতাসে খুব ধুলোবালি থাকে, বিশেষ করে গরমকালে, সেই ধুলোবালি যদি নাকে যায় তাহলে সাথে সাথে হাঁচি শুরু হয়ে যায়, শ্বাসকষ্ট হয়, শ্বাসে টান উঠে যায়। তখন আমাকে ইনহেলার নিতে হয়। বদ্ধ ঘরে কয়েকদিন থাকলেও একই ধরনের সমস্যা হয়।"

পুরনো ঢাকার নারিন্দায় থাকেন নুর-ই-ফাতেমা। তার সমস্যাও ধুলোবালিতে।

তার বয়স ৪০-এর কোঠায়। তিনি বলছেন, "ঘর ঝাড়ু দিলে, বিছানা ঝাড়লে যদি খুব ধুলো থাকে অথবা ঝড় হলে আমার দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার অনুভূতি হয়, হাঁচি বেড়ে যায়। আমি যখন ঘর পরিষ্কার করি তখন সবসময় নাকমুখ কাপড় দিয়ে ঢেকে নেই।"

শহর অঞ্চল, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা এবং যেখানে নগরায়নের প্রক্রিয়া চলছে সেখানে হাঁপানি বেশি হচ্ছে বলে বলছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

অ্যাজমা ইউকে বলছে বায়ু দূষণ হাঁপানির সমস্যা বাড়িয়ে দিচ্ছে। নগরায়ন ও বায়ুদূষণ হাঁপানির জন্য যেভাবে দায়ী তা ব্যাখ্যা করছিলেন ডাঃ বেননুর।

তিনি বলছেন, "শহরে পরিবেশ দূষণ বেশি থাকে। ধুলো, ধোয়ার মতো পরিবেশ দূষণের কারণে ফুসফুসের এই রোগটি দ্রুত প্রকাশিত হয়। যাদের হাঁপানি রোগটি আছে তারা অন্যদের তুলনায় বেশি ভুগে থাকেন। যাদের কম সমস্যা রয়েছে তাদের হাঁপানি বেড়ে যেতে পারে।"

শহরে হাঁপানি বৃদ্ধির অন্য কারণগুলোর একটি ঘনবসতি। শহরে বহু মানুষকে খুব ঘিঞ্জি ঘরে বসবাস করতে হয় যা ঘরের ভেতরের পরিবেশকে স্যাঁতসেঁতে ও অস্বাস্থ্যকর করে তোলে।

ঘরের কোনায়, আসবাবের তলায় জমে থাকা ধুলো এবং সেই ধুলোয় 'ডাস্ট মাইট' নামে এক ধরনের কীট বেশি তৈরি হয়। ধুলো এবং এই কীট হাঁপানি বাড়িয়ে দেয়।

রান্না থেকে যে ধোঁয়া তৈরি হয় তাতেও ঘরের ভেতরে পরিবেশ দূষণ হয়ে থাকে। শহরে বদ্ধ ঘরে রান্নার ধোঁয়া বের হওয়ার জন্য ব্যবস্থা থাকে না, যা বিশেষ করে নারী ও শিশুদের আক্রান্ত করে।

গ্রামাঞ্চলে পরিবেশ খোলামেলা হওয়ার কারণে এসব সমস্যা কম হয়ে থাকে।

নগরীতে মানুষের জীবনযাপনে যে পরিবর্তন দেখা দেয়, যেমন টাটকা খাবারের বদলে অনেক কৃত্রিম খাবার শরীরে প্রবেশ করে। শহরে ব্যায়াম ও কায়িক পরিশ্রমও কমে যায়।

বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে দূষণের পাশাপাশি খেলাধুলার জয়গার অভাব, ঘরে বন্দি জীবন তাদের ফুসফুসের সবল বৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করে। দুর্বল ফুসফুসে হাঁপানির সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে।

সুস্থ থাকতে করনিয় কী?

এ সম্পর্কে কয়েকটি পরামর্শ দিয়েছেন ডাঃ কাজী সাইফুদ্দিন বেননুর। তিনি বলছেন, গাড়ির দূষণ রয়েছে, প্রচুর নির্মাণকাজ চলছে এমন জায়গায় গেলে মাস্ক ব্যবহার করুন।

দিনের যে সময়ে যে এলাকায় দূষণ বেশি হয় সে সময়টি বাইরে যাওয়া এড়িয়ে যেতে হবে।

ঢাকার কিছু এলাকায় সকালে অফিস যাওয়ার সময় বায়ু দূষণ অনেক বেশি হয়ে থাকে। সেই সময়টুকু এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

ঘরদোর নিয়মিত পরিষ্কার করা, ঘরে কাগজপত্র জমিয়ে না রাখা, বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা করারও পরামর্শ দিচ্ছেন ডাঃ বেননুর।

তিনি বলছেন, কিছু টিকা রয়েছে যা নিউমোনিয়া ও ইনফ্লুয়েঞ্জা প্রতিরোধে দেয়া হয়ে থাকে। সেগুলো হাঁপানি প্রতিরোধেও সাহায্য করে।

সুষ্ঠু জীবনযাপন, ভাল খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়াম, ধূমপান পরিত্যাগ-এই কয়েকটি বিষয়ও খুবই গুরুত্বপূর্ণ, বলছেন তিনি।

খোলামেলা পরিবেশ ও নির্মল বাতাসে থাকার কথা বললেও ঢাকায় এমন পরিবেশ পাওয়া খুবই মুশকিল।

ডাঃ বেননুর বলছেন, "বর্তমান প্রেক্ষাপটে কিছু বিষয় রূপকথার মতো শোনাবে কিন্তু তবুও চেষ্টা করতে হবে।"

তথ্যসূত্র:

  • কালের কণ্ঠ।
  • বিবিসি বাংলা।
  • উইকিপিডিয়া।
  • Edited: Natural_Healing.

কোন মন্তব্য নেই

Popular Post

Blogger দ্বারা পরিচালিত.