First Aid Present

Lifestyle Modification এবং প্রাকৃতিক খাদ্য, পানীয়, শাকসবজি, গাছ, ডালপালা, ফল, মসলা, পাতা ও ফুল ইত্যাদির দ্বারা প্রাথমিক চিকিৎসা।

শ্বাসকষ্ট কি হৃদরোগের অন্যতম লক্ষণ? নেবুলাইজার ব্যবহারের নিয়ম কি?

শ্বাসকষ্ট এমন এক ধরনের উপসর্গ যাকে আমরা সাধারণভাবে হাঁপানি বলে আখ্যায়িত করে থাকি। শ্বাসকষ্ট নানাবিধ কারণে হতে পারে। তবে কারণ ভেদে শ্বাসকষ্টের ধরন ও তীব্রতার ভিন্নতা হয়ে থাকে।


বয়স্ক ব্যক্তিদের শ্বাসকষ্টের কারণ কী? তা বিশ্লেষণ করলে এভাবে বলা যায় যে, যখন কোনো বয়স্ক ব্যক্তি শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হন তখন আমাদের সমাজে সাধারণ মানুষ প্রথমেই ভেবে থাকেন এটা নিশ্চয়ই হাঁপানি জাতীয় অসুখ।

বিশেষ করে যখন একই ধরনের শ্বাসকষ্ট প্রায়ই দেখা দিয়ে থাকে এবং যখন শ্বাসকষ্ট দীর্ঘস্থায়ী হয়। এসব রোগী সাধারণত অ্যাজমার চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ থাকার চেষ্টা করেন। অনেক চিকিৎসকই এসব রোগীকে ইনহেলার জাতীয় মেডিসিন দিয়ে থাকেন। এখানে বলে রাখা ভালো, বাজারে প্রচলিত অধিকাংশ ইনহেলারই শ্বাসকষ্টের উপসর্গ প্রশমন করে এ ধরনের মেডিসিন দ্বারা প্রস্তুত, তার মানে যে কোনো কারণেই শ্বাসকষ্ট হোক না কেন ইনহেলার ব্যবহারে কিছুটা কষ্ট লাগব হবে।

অন্যদিকে বয়স্ক ব্যক্তিদের শ্বাসকষ্টের কারণ অধিকাংশ সময়ে কিন্তু অ্যাজমা হাঁপানি নয়, বিশেষ করে যদি কারও ৩০-৪০ বছর বয়সের পর দীর্ঘস্থায়ী ঘন ঘন শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়, তবে তার ৯০ শতাংশ কারণ হিসেবে হৃদরোগকে দায়ী করা যেতে পারে।

হৃদরোগজনিত শ্বাসকষ্ট বোঝার উপায় : মধ্যবয়সের পর প্রথম শ্বাসকষ্ট শুরু হওয়া। শ্বাসকষ্টের সঙ্গে হাত-পা ফুলে যাওয়া বা শরীরে পানি আসা। ডায়াবেটিস রোগীদের শ্বাসকষ্ট হওয়া।

পরিশ্রমের সময় শ্বাসকষ্ট হওয়া এবং বিশ্রাম গ্রহণে শ্বাসকষ্ট কমে যাওয়া।

রাতে বিছানায় শুতে গেলে শ্বাসকষ্ট ও কাশির উদ্বেগ হওয়া। মধ্যরাতে শ্বাসকষ্টের জন্য ঘুম ভেঙে যাওয়া।

হার্ট অ্যাটাকের পরবর্তী সময়ে শ্বাসকষ্ট হওয়া।

অনেক দিন থেকে উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যায় ভুগছেন এমন ব্যক্তিদের শ্বাসকষ্ট হওয়া।

বাইপাস অপারেশন এর পর শ্বাসকষ্ট হওয়া। হার্টে রিং পরার পর শ্বাসকষ্ট হওয়া। হার্টের ভাল্বের সমস্যা আছে এমন রোগীদের শ্বাসকষ্ট হওয়া। শ্বাসকষ্টের সঙ্গে বুকে ব্যথা হওয়া।

দীর্ঘ সময় ধরে যে কোনোরূপ হার্টের অসুস্থতায় ভুগছেন এমন রোগীর শ্বাসকষ্ট দেখা দেওয়া। ইনহেলার ব্যবহার করে এবং অ্যাজমার চিকিৎসা গ্রহণের পরেও শ্বাসকষ্ট আরোগ্য না হওয়া। শ্বাসকষ্ট দীর্ঘস্থায়ীভাবে বিদ্যমান থাকা। বুক ধড়ফড়ের সঙ্গে শ্বাসকষ্ট হওয়া। যদি এসব লক্ষণ পরিলক্ষিত হয়, তবে মনে রাখতে হবে যে আপনার হৃদরোগ অনেক জটিল আকার ধারণ করেছে এবং এর জন্য আপনাকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করা বাঞ্ছনীয়। যদি কখনো পূর্ণ বয়স্ক ব্যক্তির হঠাৎ শ্বাসকষ্ট শুরু হয় এবং শ্বাসকষ্টের সঙ্গে বুকের ভিতর চাপ বা ব্যথা অনুভূত হয়, শরীর অত্যধিক ঘেমে যায়, তবে বুঝতে হবে যে এটা হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ। এ ক্ষেত্রে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব হাসপাতালে যেতে হবে, তা না হলে জীবন বিপন্ন হতে পারে। শ্বাসকষ্ট হৃদরোগের একটি মারাত্মক লক্ষণ, কাজেই সব ধরনের শ্বাসকষ্টকে অ্যাজমা বা হাঁপানি মনে করে টোটকা চিকিৎসা আপনার জটিলতা বৃদ্ধি করবে। যথা সময়ে হৃদরোগের সঠিক চিকিৎসায় আপনার শ্বাসকষ্ট দ্রুত লাঘব হবে এবং আপনার হৃদরোগজনিত জটিলতা দূরীভূত করবে। হৃদরোগের লক্ষণসমূহের মধ্যে বুকে ব্যথা বা চাপ অনুভূত হওয়া, শ্বাসকষ্ট হওয়া এবং বুক ধড়ফড় করা অন্যতম লক্ষণ। প্রাথমিক অবস্থায় হৃদরোগীদের শ্বাসকষ্ট নাও হতে পারে, রোগের প্রকোপ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে রোগীর শ্বাসকষ্ট বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। তাই শ্বাসকষ্ট নিয়ে আরও সতর্ক হতে হবে।

অ্যাজমা ও শ্বাসকষ্টে কখন নেবুলাইজার ব্যবহার করবেন:

অ্যাজমা ও শ্বাসকষ্টের রোগীদের ফুসফুসে ওষুধ প্রয়োগের বহুল পরিচিত যন্ত্রটির নাম নেবুলাইজার। এই যন্ত্রটি দিয়ে তরল ওষুধকে সংকুচিত করে বায়ু বা অক্সিজেন দিয়ে স্প্রে বা অ্যারোসলে রূপান্তরিত করা হয়, যা খুব সহজেই নিঃশ্বাসের সঙ্গে ফুসফুসের শ্বাসনালী ও অ্যালভিউলিতে ঢুকে শ্বাসকষ্ট দূর করে।

নেবুলাইজার কোনও ওষুধ নয়, এটি একটি বিশেষ ধরনের শ্বাস-প্রশ্বাসের ডিভাইস বা যন্ত্র যা ফুসফুসের বিভিন্ন সমস্যা, যেমন- অ্যাজমা, হাঁপানি, শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা, সিস্টিক ফাইব্রোসিস ইত্যাদিতে ব্যবহার করা হয়। তবে এর সঠিক ব্যবহার না জানা থাকলে ঠিকমতো ওষুধ প্রয়োগ করা হয় না আর ওষুধ প্রয়োগেই যদি ভুল হয় তবে অসুখ সারানো নিয়ে সন্দেহ থাকবেই। আর বেশির ভাগ মানুষ এর সঠিক যত্নও নিতে পারেন না।

নেবুলাইজার ব্যবহারে সচেতনতা প্রসঙ্গে পরামর্শ দিয়েছেন ব্র্যাক গবেষক ড. কামরান-উল-বাসেত। তিনি বলেছেন, নেবুলাইজার নিয়মিত ব্যবহার কোনও স্থায়ী সমাধান নয়। এতে রোগীর শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার সাময়িক সমাধান হয় মাত্র। দুইবারের বেশি ব্যবহারে শ্বাসকষ্ট না কমলে হাসপাতালে নিতে হবে।

অনেকেই প্রয়োজনে চিকিৎসকের কাছে গিয়ে নেবুলাইজার দেন। আবার কেউ কেউ বাসাতেই নিয়ে আসেন নেবুলাইজার মেশিন। তিন ধরনের নেবুলাইজার পাওয়া যায়। জেট, আলট্রাসাউন্ড ও মেশ বা জালের মতো নেবুলাইজার। এদের মধ্যে সবচেয়ে সহজ পদ্ধতির বলে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয় জেট নেবুলাইজার। অ্যাজমা, দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসকষ্ট ও অন্যান্য শ্বাসনালীজনিত রোগের তীব্রতা বাড়লে নেবুলাইজার দেয়ার প্রয়োজন হয়। এর কয়েকটি অংশের মধ্যে তরল ওষুধ প্লাস্টিকের টিউবের মাধ্যমে স্প্রে করে দেহে প্রবেশ করানো হয়।

নেবুলাইজারে ওষুধের মাত্রা:

নেবুলাইজ করার সময় রোগীকে আরামদায়কভাবে শোয়া অবস্থায় রাখতে হবে। নেবুলাইজারের বিভিন্ন অংশগুলো জোড়া দিয়ে ২৩ মিলি পানি, ৫-১ সালবিউটামল ও প্রয়োজনে ৫ মিলি ইপ্রাট্রোসিয়াম সলিউশান মিশিয়ে নিতে হবে। বিদ্যুৎ সুইচ অন করে মাস্ক মুখে নিয়ে রোগীকে ধীরে ও লম্বা শ্বাস নিতে হবে। ৩-৬ মিলি তরল ৫/১০ মিনিটে নেবুলাইজ করা হয়।

নেবুলাইজারের ব্যবহারের নিয়ম:

নেবুলাইজার ব্যবহারের আগে ও পরে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিতে হবে। ব্যবহারের পর নেবুলাইজারের কমপ্রেসর, টিউব, মাস্ক ও নেবুলাইজার আলাদা করে ফেলতে হবে। মাউথপিস ও নেবুলাইজার গরম পানিতে ৩০ সেকেন্ড ভিজিয়ে ধুয়ে শুকিয়ে নিতে হবে। টিউব ও কমপ্রেসর ভেতরে পরিষ্কার করা যায় না বলে বাইরের দিকটা পরিষ্কার করতে হবে। মাস্ক ছয় মাস পর পর বদলাতে হবে। ফিল্টারে ময়লা দেখা দিলেই তা বদলে ফেলতে হবে।

নেবুলাইজার ব্যবহারে কখনো কখনো অক্সিজেন দেয়ার প্রয়োজন হতে পারে। এর ব্যবহারে অনেক সময় পটাসিয়ামের মাত্রা কমে যাওয়ায় পটাসিয়াম সাপ্লিমেন্ট দিতে হতে পারে। তাই নেবুলাইজার ব্যবহারে সতর্কতা ও সচেতনতা জরুরি।

তথ্যসূত্র:

  • ডা. এম শমশের আলী, সিনিয়র কনসালটেন্ট, (কার্ডিওলজি) ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, কনসালটেন্ট, শমশের হার্ট কেয়ার এবং মুন ডায়াগনস্টিক সেন্টার, শ্যামলী, ঢাকা; বাংলাদেশ প্রতিদিন।
  • ব্র্যাক গবেষক ড. কামরান-উল-বাসেত, আরটিভি।
  • Edited: Natural_Healing.

কোন মন্তব্য নেই

Popular Post

Blogger দ্বারা পরিচালিত.