First Aid Present

Lifestyle Modification এবং প্রাকৃতিক খাদ্য, পানীয়, শাকসবজি, গাছ, ডালপালা, ফল, মসলা, পাতা ও ফুল ইত্যাদির দ্বারা প্রাথমিক চিকিৎসা।

বাংলাদেশের মানুষ কেন এত ভাত খায়?

যেসব কারণে বাংলাদেশের মানুষ ভাত বেশি খায়:

পুষ্টিবিদ সৈয়দা শারমিন আক্তার বলছেন, একটি এলাকার মানুষের প্রধান খাবার কি হবে তা নির্ভর করে ওই অঞ্চলের আবহাওয়াগত কারণে যে খাদ্য বেশি উৎপাদন হয় তার উপর।

বাংলাদেশের আবহাওয়া অনুযায়ী ধান থেকে উৎপাদিত ভাত বেশি বেশি খেয়ে থাকেন
"আবহাওয়া ও ভৌগলিক বৈশিষ্ট্যের কারণে বাংলাদেশ ঐতিহাসিকভাবেই ধান চাষের জন্য খুব উৎকৃষ্ট জায়গা। পুরো বাংলাদেশ জুড়ে ধান চাষ হয়। সারা বছর জুড়ে নানা জাতের ধান হয়। তাই বাংলাদেশের মানুষ ভাত বেশি খাবে সেটাই স্বাভাবিক।"

ধান চাষের জন্য বাংলাদেশ উৎকৃষ্ট জায়গা।

তিনি বলছেন, একসময় পুরোটাই কৃষিভিত্তিক বাংলাদেশে খাবারের অভ্যাস কৃষকের দ্বারাই তৈরি হয়েছে।

তার ভাষায়, "কৃষকেরা কাজে যাওয়ার আগে দেখবেন সকালে ভরপেট ভাত বা পান্তা ভাত খায়। তাকে সারাদিন রোদে বৃষ্টিতে কাজ করতে হয়। ভাত শরীরে প্রচুর এনার্জি দেয়। বেশিক্ষণ পেট ভরা থাকে। গরমে শরীর ঠাণ্ডা রাখে। ভাতকে বলা হয় 'সুপার ফুড'। যারা প্রচুর কায়িক পরিশ্রম করে তাদের ভাত দরকার হয়।"

চালের প্রতিটি অংশ ব্যবহারযোগ্য। চাল দিয়ে ভাত ছাড়াও খিচুড়ি, বিরিয়ানি, পোলাও, পায়েস, ক্ষীর এরকম নানাবিধ খাবার তৈরি করা যায়।

চালের গুড়া দিয়ে হরেকরকম পিঠা তৈরি করা যায়। এমন বৈচিত্র্য বেশিরভাগ খাদ্য দ্রব্যের নেই।

দারিদ্র এবং ভাত:

বাংলাদেশে এখন ধানের পাশাপাশি প্রচুর সবজি, রবি শস্য উৎপাদন হয়, মাছ চাষ হয়। দেশে প্রচুর মুরগির খামার রয়েছে। বাণিজ্যিকভাবে মাংস বিক্রির জন্য খামারে গরু লালনপালন করা হয়।

কিন্তু তারপরও দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশে এখনও দুই কোটি ১০ লাখ মানুষ অর্থাৎ প্রতি আটজনের মধ্যে একজনের পুষ্টিকর খাবার জোগাড়ের ক্ষমতা নেই।

জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি এবং বাংলাদেশ সরকারের করা এক যৌথ সমীক্ষায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।

বাংলাদেশে প্রতি আটজনের মধ্যে একজনের পুষ্টিকর খাবার জোগাড়ের ক্ষমতা নেই।

অর্থনীতিবিদ নাজনীন আহমেদ বলছেন, বাংলাদেশের মানুষ কেন বেশি ভাত খায় এর সাথে অবশ্যই দারিদ্রের সম্পর্ক রয়েছে।

"বেশি কম খাওয়াটা বিষয় নয়। যে জিনিসটা সবচেয়ে সহজে কাছেই পাওয়া যায়, অল্প খরচে বেশি পরিমাণে পাওয়া যায় সেটিই মানুষ খাবে। ভাত বাংলাদেশে সবচেয়ে সহজলভ্য খাবার। সেজন্যেই এখানকার মানুষ এটা খায়। আর্থিক সঙ্গতি না থাকার কারণে পুষ্টিকর সুসম খাদ্য খাওয়ার সামর্থ্য সবার থাকে না। পেট ভরার জন্য বিকল্প খাবার যদি সে কিনতে পারতো তাহলে সে নিশ্চয়ই খেত।"

তিনি বলছেন, গ্রামে টাকা থাকলেও অনেক সময় পুষ্টিকর খাবার পাওয়া সহজ নয়। কারণ তা বেশি দামে বিক্রির জন্য শহরে চলে আসে।

তার ভাষায়, যেকোনো একটি খাবারের উপরে নির্ভরশীলতা হয়ে গেলে দাম যদি অনেক বেড়েও যায় তবুও অভ্যাসগত কারণে সেই খাবারটিই মানুষ কেনে। চালের ক্ষেত্রে সেটি হয়েছে।

বাংলাদেশে সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাবে অনেক খাবার নষ্ট হয়। তাছাড়া বাংলাদেশে যাদের সামর্থ্য রয়েছে তাদের পরিবারে প্রচুর খাবার অপচয় হয়।

ভাতের বিকল্প তৈরি করতে হলে সঠিকভাবে সংরক্ষণ এবং অপচয় রোধের উপর জোর দিয়েছেন নাজনীন আহমেদ।

বেশি দামে বিক্রির জন্য গ্রাম থেকে বেশিরভাগ পন্য শহরে চলে আসে।

ভাতের যত গুন:

বিবিসি গুড ফুড সম্প্রতি ভাতের গুনাগুণ নিয়ে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেছে। যাতে পুষ্টিবিদ কেরি টরেন্স লিখেছেন, সাদা চালের ভাত শরীরের হজম ব্যবস্থার জন্য উপকারী।

সাদা ভাতে যে শর্করা থাকে তা ভাল হজম উপযোগী। সঠিকভাবে রান্না করা হলে এতে দরকারি ফাইবার বা আঁশ জাতীয় উপাদান ভাল পরিমাণে পাওয়া যায়। পাকস্থলীর জন্য সাদা ভাত কোন সমস্যা তৈরি করে না।

কেরি টরেন্স লিখেছেন, খেলোয়াড়েরা প্রায়শই ব্যায়ামের পর সাদা চালের ভাত খেয়ে থাকেন।

কারণ সাদা ভাতে গ্লাইকোজেন নামের একটি উপাদান রয়েছে যা শরীরে শর্করা সংরক্ষণ করে, গ্লুকোজ তৈরি করে।

তাই শারীরিক পরিশ্রমের পর সাদা ভাত খেলে দ্রুত এনার্জি বা কর্মশক্তি তৈরি হয়।

লাল চালের ভাত ওজন কমাতে সাহায্য করতে পারে। কারণ এটির এনার্জি বা কর্মশক্তি তৈরির প্রক্রিয়া সাদা ভাতের চেয়ে ধীর গতির। লাল চাল রক্তে চিনি কমাতে সাহায্য করে।

গবেষণায় দেখা গেছে লাল চাল হৃদযন্ত্রের সমস্যা, কিছু ক্যান্সার বিশেষ করে পাকস্থলী ও অগ্নাশয়ের ক্যান্সার এবং টাইপ-টু ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়। অপরিশোধিত চাল সবচেয়ে বেশি পুষ্টিকর।

সৈয়দা শারমিন আক্তার বলছেন, সাধারণ ভাতের তুলনায় পান্তাভাতের পুষ্টিগুণ অনেক বেশি।

পানিতে ভিজিয়ে রাখার পর ভাতে আয়রন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম, জিংক, ফসফরাস, ভিটামিন-বি ইত্যাদি পুষ্টিকর খনিজ পদার্থের পরিমাণ বেড়ে যায়। অন্যদিকে শর্করা কমে যায়।

হয়ত এসব কারণেই বাংলাদেশের কৃষক, শ্রমিকেরা ভাত বেশি খায়।

ভাত শরীরে প্রচুর এনার্জি দেয়।

অতিরিক্ত কোনও কিছুই ভাল নয়:

ভাত খাওয়ার কোন ক্ষতিকারক দিক না থাকলেও অতিরিক্ত কোনও কিছুই ভাল নয়।

ভাত বেশি খেলে, শরীরের জন্য দরকারি অন্যান্য ধরনের খাবার কম খেলে বা না খেলে শরীরে নানা ধরনের সমস্যা হয়। মূল সমস্যা অপুষ্টি যা বাংলাদেশে উচ্চহারের রয়েছে।

সৈয়দা শারমিন আক্তার বলছেন, অতিরিক্ত ভাত খেলে খাবার হজম হতে সময় লাগে, শরীরের ওজন বৃদ্ধি পায়।

অতিরিক্ত ভাত শরীরে আয়রন উৎপাদনে বাধা সৃষ্টি করে। অতিরিক্ত ভাত রক্তে চিনির পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের জন্য তাই ভাত সীমিত হওয়া উচিৎ।

বেশি ভাত খেয়ে মোটা হয়ে যাচ্ছেন বলে অনেকে বলে থাকেন।

সৈয়দা শারমিন আক্তার বলছেন, "অতিরিক্ত ভাত খেলাম কিন্তু সারাদিন কিছু করলাম না তাহলে শরীরে শর্করা ক্ষয় হবে না। দেখবেন কৃষক, রিকশাওয়ালা, শ্রমিক এরা প্রচুর ভাত খায় কিন্তু এদের পেটানো শরীর হয়ে থাকে। কারণ তারা কায়িক পরিশ্রম করে। অতএব ভাতের কোন দোষ নেই। দোষটা আপনার, আমার।" 

তথ্যসূত্র:

  • পুষ্টিবিদ সৈয়দা শারমিন আক্তার, এবং অর্থনীতিবিদ নাজনীন আহমেদ, বিবিসি বাংলা।
  • Edited: Natural_Healing.

কোন মন্তব্য নেই

Popular Post

Blogger দ্বারা পরিচালিত.