মাইগ্রেন কি? মাইগ্রেন কেন হয়?
মাথাব্যথা নিয়ে প্রচলিত কথাটা অনেকের জানা, মাথা থাকলে মাথাব্যথা থাকবেই! জীবনে মাথাব্যথা হয়নি, এমন মানুষ বিরল। ৯৫ শতাংশের ক্ষেত্রে মাথাব্যথার কারণ প্রাথমিক পর্যায়ের, যার মধ্যে মাইগ্রেন অন্যতম। সারা বিশ্বে প্রায় ১৫ শতাংশ মানুষের মাথাব্যথা মাইগ্রেনজনিত। শিক্ষা ও কর্মস্থলে অনুপস্থিতি এবং কর্মক্ষমতা হ্রাসের জন্যও মাইগ্রেন অনেকাংশে দায়ী।
![]() |
| যেসব নারীরা মাইগ্রেনের সমস্যায় ভোগেন পরবর্তীকালে তাদের মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণ এবং হার্ট এটাকের সমস্যার ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় বেশি। |
মাইগ্রেন কী?
মাইগ্রেন বিশেষ ধরনের দীর্ঘমেয়াদি মাথাব্যথা। গ্রিক ‘হেমিক্রেনিয়া’ শব্দ থেকে এর উৎপত্তি, যার অর্থ আধকপালি ব্যথা। মাথার যেকোনো এক পাশ থেকে শুরু হয়ে অনেক সময় পুরো মাথায় ব্যথা করে। এতে মাথার দুপাশেও ব্যথা হতে পারে। এ ছাড়া ব্যথার সঙ্গে অন্যান্য স্নায়বিক উপসর্গ থাকতে পারে। এতে মস্তিষ্কে স্বাভাবিক রক্তপ্রবাহ ব্যাহত হয়। মস্তিষ্কের বহিরাবরণে যে ধমনিগুলো আছে, সেগুলো মাথাব্যথার শুরুতে স্ফীত হয়ে যায়। মাথাব্যথার সঙ্গে বমি এবং বমি বমি ভাব রোগীর দৃষ্টিবিভ্রম হতে পারে।
রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক এম এস জহিরুল হক চৌধুরী বলেন, সব মাথাব্যথাই মাইগ্রেন নয়। দৃষ্টিস্বল্পতা, মস্তিষ্কের টিউমার, মাথায় অন্য সমস্যার কারণে মাথাব্যথা হতে পারে। মাইগ্রেন একধরনের প্রাইমারি হেডেক, যা নিয়মিত চিকিৎসার মাধ্যমে নিরাময় সম্ভব। চিকিৎসকের অধীনে এবং নিয়মিত চেকআপের মাধ্যমে এ রোগের চিকিৎসা করা উচিত। মাইগ্রেনের ব্যথা চোখের কোনো সমস্যার জন্য হয় না।
কাদের বেশি হয়?
মাইগ্রেন সাধারণত বংশগত ও পরিবেশগত কারণে হয়ে থাকে। ১৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সে এ রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি। বয়ঃসন্ধিকালের পর পুরুষের চেয়ে নারীদের আক্রান্ত হওয়ার হার তিন গুণ। বিশেষত মাসিকের সময় এটি বাড়ে। অনেক সময় শিশুরা বা বয়স্ক লোকজনও এতে আক্রান্ত হতে পারেন। যদিও বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাইগ্রেনের প্রকোপ কমে যায়।
নারীরা কেন মাইগ্রেনে বেশি ভোগেন?
পুরুষের তুলনায় নারীদের মাইগ্রেনজনিত মাথাব্যথার সমস্যা প্রায় চারগুণ বেশি। বিশেষজ্ঞরা এর নানা কারণ পেয়েছেন। তবে ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নাল সম্প্রতি একটি উদ্বেগজনক তথ্য দিয়েছে। সেটা হলো, যেসব নারী মাইগ্রেনে ভুগছেন, পরবর্তী সময় তাঁদের মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় বেশি।
মাসের বিভিন্ন সময় নারীদের রক্তে নানা হরমোনের ওঠানামা মাইগ্রেনের জন্য কিছুটা দায়ী। গবেষণা তথ্য অনুযায়ী, মাসিক হওয়ার প্রথম দুই দিন মাইগ্রেনে ভোগার আশঙ্কা বেড়ে যায়। ৫০ শতাংশ মাইগ্রেন হয় মাসিকের সময় বা ঠিক আগে। তখন রক্তে ইস্ট্রোজেন প্রজেস্টেরন হরমোনের হঠাৎ নিম্নগামিতা এ জন্য দায়ী। জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি খেলে মাইগ্রেন বাড়ে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক আছে। মেনোপজ বা রজঃনিবৃত্তির পর মাইগ্রেনের ব্যথা অনেকটাই কমে যায়। এ রকম ঘটে সাধারণত ২৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সী নারীদের। এ ছাড়া যেসব কারণকে দায়ী করা হয়, সেগুলো হলো: মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা, অনিদ্রা, কোনো একবেলার খাবার বাদ দেওয়া, হঠাৎ আবহাওয়ার পরিবর্তন, অতিরিক্ত কফি ইত্যাদি। কিছু খাবারও এর জন্য দায়ী, যেমন: ফাস্ট ফুড, কৃত্রিম চিনি, টাইরামিন সমৃদ্ধ খাবার ইত্যাদি।
মাইগ্রেন প্রতিরোধ করতে আগে দায়ী কারণগুলো বের করুন। মাথাব্যথার দিনগুলো ক্যালেন্ডারে দাগ দিন, তার আগের ২৪ ঘণ্টায় কী খেয়েছেন, কী করছেন, ভেবে দেখুন, মাসিকের দিনগুলোর সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন। দিনের ঠিক কোন সময়টায় ব্যথা শুরু হয়েছিল, মনে করে দেখুন। কারণগুলোকে এড়িয়ে চলতে শিখুন। ভালো ঘুম ও নিয়মিত খাদ্যাভ্যাস রপ্ত করুন। সচল থাকুন, নিয়মিত ব্যায়াম করুন। অ্যালকোহল, কফি, চকলেট, ফাস্ট ফুড এড়িয়ে চলুন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করুন।
কী কী কারণে মাইগ্রেনের ব্যথা শুরু হতে পারে?
মাইগ্রেনের প্রকৃত কারণ এখনো জানা যায়নি। তবে ধারণা করা হয়, সেরোটোনিন ও সিজিআরপি নামের রাসায়নিকের প্রভাবে মস্তিষ্কের বহিরাবরণের রক্তনালির অস্বাভাবিক প্রসারণ ঘটে এবং সংলগ্ন ট্রাইজেমিনাল নার্ভ উদ্দীপ্ত হয়। এর ফলে মাথাব্যথা শুরু হয়।
- অনিদ্রা, অতিরিক্ত ঘুম বা ঘুমের সময় পরিবর্তন।
- অতিরিক্ত শারীরিক ও মানসিক চাপ।
- দীর্ঘ ভ্রমণ, আবহাওয়ার পরিবর্তন।
- অতি উজ্জ্বল আলো, উচ্চ শব্দ, তীব্র সুগন্ধি।
- দীর্ঘ সময় টেলিভিশন দেখা, কম্পিউটার বা মুঠোফোন ব্যবহার।
- চকলেট, পনির, কফি, অ্যালকোহল, টেস্টিং সল্ট অতিমাত্রায় গ্রহণ।
- অনিয়মিত আহার, কোষ্ঠকাঠিন্য।
- জন্মবিরতিকরণ পিল ও নাইট্রেট-জাতীয় ওষুধ সেবন ইত্যাদি।
- এটি নারীদের বেশি হয় বিশেষ করে মাসিকের সময়।
- বংশগত এবং পরিবেশগত কারণেও মাইগ্রেন হতে পারে।
- দৃষ্টিস্বল্পতা, মস্তিষ্কের টিউমার, এবং মাথার অন্য কোন সমস্যার কারণেও হতে পারে।
- শিক্ষা ও কর্মস্থলে অনুপস্থিতি এবং কর্মক্ষমতা হ্রাসের জন্যও মাইগ্রেন অনেকাংশে দায়ী।
লক্ষণ/যেভাবে বুঝবেন মাইগ্রেন হয়েছে:
মাইগ্রেন রোগীদের মাথাব্যথার কিছু সুনির্দিষ্ট লক্ষণ থাকে। দুই-তৃতীয়াংশ রোগীর ক্ষেত্রে নিচের লক্ষণগুলো পাওয়া যায়, যা ‘কমন মাইগ্রেন’ নামে পরিচিত।
- সাধারণত আধকপালি মাথাব্যথা হয়। মাথার যেকোনো এক পাশ থেকে শুরু হয়ে অনেক সময় পুরো মাথায় ব্যথা করে। এতে মাথার দুপাশেও ব্যথা হতে পারে। এ ছাড়া ব্যথার সঙ্গে অন্যান্য স্নায়বিক উপসর্গ থাকতে পারে।
- মাথা দপদপ করা।
- মাঝারি থেকে তীব্র মাথাব্যথা।
- বারবার মাথাব্যথা হওয়া।
- বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
- আলো বা শব্দ সহ্য করতে না পারা।
- পরিশ্রমে ব্যথা বেড়ে যাওয়া।
- ব্যথার স্থায়িত্বকাল ৪ থেকে ৭২ ঘণ্টা।
- চোখের পেছনে ব্যথার অনুভূতি তৈরি হতে পারে। কখনো কখনো অতিরিক্ত শব্দ ও আলোয় ব্যথা বেড়ে যেতে পারে।
এক-তৃতীয়াংশ রোগীর এসব বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মাইগ্রেনের কিছু পূর্বলক্ষণ থাকতে পারে। ব্যথা শুরুর আগে রোগীর দৃষ্টিবিভ্রম বা চোখের সামনে আলোর ঝলকানি হতে পারে। কখনো কখনো মুখে বা হাতে-পায়ে ঝিমঝিম অনুভূতি অথবা কথা বলতে অসুবিধা হয়, যা ‘ক্ল্যাসিক্যাল মাইগ্রেন’ নামে পরিচিত। অতিরিক্ত হাই তোলা, কোনো কাজে মনোযোগ নষ্ট হওয়া, বিরক্তিবোধ করা ইত্যাদি উপসর্গ মাথাব্যথা শুরুর আগেও হতে পারে।
এর বাইরেও মাইগ্রেন রোগীদের বিরল কিছু উপসর্গ পরিলক্ষিত হতে পারে; যেমন মাথাব্যথা চলাকালে দৃষ্টিশক্তি লোপ পাওয়া (রেটিনাল মাইগ্রেন), মাথা ঘোরানো ও ভারসাম্যহীনতা (ব্যাসিলার মাইগ্রেন), শরীরের এক পাশ অবশ হয়ে যাওয়া (হেমিপ্লেজিক মাইগ্রেন), শিশুদের ক্ষেত্রে প্রায়শই পেটব্যথা ও বমি করা (অ্যাবডোমিনাল মাইগ্রেন) ইত্যাদি।
পরীক্ষা-নিরীক্ষা কতটুকু প্রয়োজনীয়?
সাধারণত বিশেষ কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হয় না। সঠিক বিস্তারিত ইতিহাস এবং শারীরিক লক্ষণ বিশ্লেষণ করেই মাইগ্রেন শনাক্ত করা যায়। তবে যদি মাথাব্যথার ধরন হঠাৎ পরিবর্তিত হয় অথবা সব সময় মাথার একই স্থানে ব্যথা হয় কিংবা মারাত্মক কোনো স্নায়বিক উপসর্গ, যেমন অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, খিঁচুনি বা হাত-পা অবশ হয়ে যাওয়া ইত্যাদি দেখা যায়, সে ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা, যেমন মাথার সিটি স্ক্যান বা এমআরআই করে জটিলতা আছে কি না, তা যাচাই করতে হবে।
মাইগ্রেনের চিকিৎসা কী?
মাইগ্রেনের চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদি এবং রোগীর অবস্থা অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন হয়। জীবনযাপনের ধরন পরিবর্তন ও নিয়মিত ওষুধ সেবন রোগ নিরাময় ও নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মূলত দুই ধরনের ওষুধ ব্যবহার করা হয়; ব্যথানাশক ও প্রতিরোধক। মাথাব্যথা শুরু হলে প্যারাসিটামল, এসপিরিন, ডাইক্লোফেনাক, আইবুপ্রোফেন-জাতীয় ওষুধ সেবন করা যেতে পারে। বমিভাব কমানোর জন্য মেটোক্লোপ্রামাইড, ডমপেরিডন-জাতীয় ওষুধ কার্যকর। এতেও মাথাব্যথা না কমলে চিকিৎসকের পরামর্শে নানা ওষুধ সেবন করা যাবে। এসব ওষুধের নানা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে, তাই পরামর্শ ছাড়া গ্রহণ করবেন না। যাঁদের বারবার মাথাব্যথার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়, তাঁদের জন্য প্রতিরোধকারী কিছু ওষুধ আছে। দীর্ঘমেয়াদি মাইগ্রেন রোগী, যাঁদের ক্ষেত্রে ওষুধ কম কার্যকর, তাঁরা মেডিটেশন, যোগব্যায়াম, আকুপাংচার ইত্যাদিতে উপকার পেতে পারেন। এ ছাড়া বোটুলিনাম টক্সিন, সিজিআরপি মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি ও ‘সেফালি’ নামক ডিভাইস মাইগ্রেন চিকিৎসায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
মাইগ্রেন প্রতিরোধে/মাইগ্রেন থেকে রেহাই পাওয়ার কিছু উপায়:
যেসব কারণে মাইগ্রেন ব্যথা শুরু হয়, সেগুলো শনাক্ত করুন ও এড়িয়ে চলুন। প্রয়োজনে মাথাব্যথার লক্ষণ উল্লেখসহ একটি ডায়েরিতে লিপিবদ্ধ করুন।
- প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ও পরিমিতভাবে আহার করবেন ও ঘুমাবেন।
- তীব্র অথবা কম আলোতে কাজ করবেন না। কড়া রোদ ও তীব্র ঠান্ডা পরিহার করুন।
- উচ্চ শব্দ ও কোলাহলপূর্ণ পরিবেশ এড়িয়ে চলুন।
- অনেক সময় ধরে কম্পিউটার, টিভি বা মুঠোফোন ব্যবহার করবেন না।
- প্রতিদিন নিয়মিত হালকা ব্যায়ামের অভ্যাস করুন।
- বেশি বেশি পানি পান করুন (বিশেষ করে বমি হয়ে থাকলে)। সবুজ ও হলুদ শাকসবজি, আলু, খেজুর, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি-সমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত খান।
- মাথাব্যথা শুরু হলে অন্ধকার ও নীরব কোনো কক্ষে বিশ্রাম নিন এবং প্রয়োজনে মাথায় বরফের প্যাক বা ঠান্ডা কাপড় জড়িয়ে রাখুন।
যেসব খাবার মাইগ্রেনের সমস্যা প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে:
- ম্যাগনেশিয়ামসমৃদ্ধ খাবার। যেমন ঢেঁকি ছাঁটা চালের ভাত, আলু ও বার্লি মাইগ্রেন প্রতিরোধক।
- বিভিন্ন ফল, বিশেষ করে খেজুর ও ডুমুর ব্যথা উপশম করে।
- সবুজ, হলুদ ও কমলা রঙের শাকসবজি নিয়মিত খেলে উপকার হয়।
- ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি মাইগ্রেন প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। তিল, আটা ও বিট ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম রয়েছে।
- আদার টুকরো বা রস দিনে দুবার জিঞ্চার পাউডার পানিতে মিশিয়ে খেতে পারেন।
কী ধরনের খাবার এড়িয়ে চলবেন:
- চা, কফি ও কোমলপানীয়, চকলেট, আইসক্রিম।
- গম জাতীয় খাবার, যেমন রুটি, পাস্তা, ব্রেড ইত্যাদি।
- আপেল, কলা ও চিনাবাদাম।
- দই, দুধ, মাখন।
- পেঁয়াজ।
- টমেটো ও টক জাতীয় ফল খাবেন না।
তবে ব্যক্তিভেদে ভিন্ন ভিন্ন খাবারে সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই সবচেয়ে ভালো হয় একটা ডায়েরি রাখা। যাতে আপনি নোট করে রাখতে পারেন কোন কোন খাবার ও কোন কোন পারিপার্শ্বিক ঘটনায় ব্যথা বাড়ছে বা কমছে। এ রকম এক সপ্তাহ নোট করলে আপনি নিজেই নিজের সমাধান পেয়ে যাবেন। তবে ব্যথা বেশি হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
আইসব্যাগ:
বাজারে নানা আকারের অনেক আইসব্যাগ কিনতে পাওয়া যায়। একটি আইসব্যাগে বরফ ভরে নিয়ে তা মাথার ওপরে অর্থাৎ ঠিক মাথার তালুতে খানিকক্ষণ ধরে রাখুন। দেখবেন মাথাব্যথা উপশম হচ্ছে। তবে যাদের হুটহাট ঠাণ্ডা লেগে যাওয়ার প্রবণতা আছে তারা এ পদ্ধতি পালন করবেন না।
বরফ প্রদাহ দূর করতে সাহায্য করবে। পাশাপাশি এটি ব্যথা উপশম করবে।
বরফের প্যাক ঘাড়ে দিন। এতে মাইগ্রেনের ব্যথা অনেকটা উপশম হবে।
এ ছাড়া একটি ধোয়া তোয়ালে বা কাপড়ের টুকরো বরফঠান্ডা পানিতে ভেজান। এটি মাথায় পাঁচ মিনিট রাখুন। দিনে কয়েকবার এটি করতে পারেন। তবে যাদের ঠান্ডার সমস্যার রয়েছে তারা এটি না করলেই ভালো।
শেষ কথা:
মাইগ্রেন একধরনের স্নায়ুরোগ, যা সঠিক চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপনের মাধ্যমে নিরাময় করা সম্ভব। তবে মনে রাখতে হবে, সব মাথাব্যথাই মাইগ্রেন নয়। দৃষ্টিস্বল্পতা, সাইনোসাইটিস, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ কিংবা টিউমারের জন্যও মাথাব্যথা হতে পারে। সে জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
তথ্যসূত্র:
- ডা. মোহাম্মদ সেলিম শাহী,
- রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক এম এস জহিরুল হক চৌধুরী,
- ডা. মৌসুমী মরিয়ম সুলতানা, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, ইব্রাহিম জেনারেল হাসপাতাল,
- প্রথম আলো।
- স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট টপটেন হোম রেমিডি,
- Edited: Natural_Healing.

কোন মন্তব্য নেই