First Aid Present

Lifestyle Modification এবং প্রাকৃতিক খাদ্য, পানীয়, শাকসবজি, গাছ, ডালপালা, ফল, মসলা, পাতা ও ফুল ইত্যাদির দ্বারা প্রাথমিক চিকিৎসা।

৬০ সেকেন্ডে মাথাব্যথা দূর!

মাথাব্যথা বেশ যন্ত্রণার একটি বিষয়। প্রতিদিনের যে সমস্যাটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে তার নাম মাথাব্যথা।

ছোট-বড় প্রায় সবাই নানা কারণে বিভিন্ন সময়ে মাথাব্যথায় আক্রান্ত হয়ে পড়েন। অনেকেই আবার ভুগে থাকেন মাইগ্রেনের সমস্যায়।

এ ধরনের ব্যথা হঠাৎই শুরু হয়ে যায় এবং ৩-৪ দিন পর্যন্ত টানা ব্যথা চলতে থাকে।

ব্যথা দূর করার জন্য অনেকেই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে থাকেন, অনেকে আবার ব্যথানাশক ওষুধ খেয়ে থাকেন। তবে ওই ওষুধগুলির পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া থাকতে পারে। কিন্তু আপনি জানেন কি? খুব সহজে কিছু প্রাকৃতিক উপায়ে এ মাথাব্যথার সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

মাথা ব্যথার কারণ:

কাজের চাপে ক্লান্ত হওয়ার কারণে বিশ্রাম না নেয়ার ফলে অনেক সময় মাথাব্যথা হয়ে থাকে। ঘুমের ঘাটতির কারণে মাথা ধরলে অবশ্যই ঘুমাতে হবে। অতিরিক্ত আলোর কারণে অনেক সময় মাথাব্যথা হয়ে থাকে। তাই মাথা যন্ত্রণা করলে ঘরের আলো কমিয়ে দিন। শরীরে পানিশূন্যতা হলেও মাথাব্যথা হয়ে থাকে। এছাড়াও দুশ্চিন্তা এবং মাইগ্রেনের কারণে মাথাব্যথা হয়ে থাকে। 

তবে আর দেরি কেন? আসুন জানি কীভাবে মুক্ত হবেন এই ব্যথা থেকে। লাইফস্টাইল ওয়েবসাইট বোল্ডস্কাই জানিয়েছে এ পদ্ধতির কথা।

মাথাব্যথা থেকে উপশম লাভের উপায়:

মাথা ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে অনেকেই ওষুধ সেবন করেন। তবে ওষুধ সেবনের আগে কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি আছে, যেগুলো পালন করলে মাথা ব্যথা থেকে কিছুটা মুক্তি পাওয়া যাবে।

স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট টপটেন হোম রেমিডি জানিয়েছে দ্রুত মাথা ব্যথা থেকে রেহাই পাওয়ার কিছু ঘরোয়া উপায়।

আকুপ্রেশার:

বহুবছর ধরে মাথা ব্যথা দূর করতে অনেকেই আকুপ্রেশার পদ্ধতি ব্যবহার করে আসছেন। এই ছোট্ট ঘরোয়া পদ্ধতিটি আপনাকে এক মিনিটের মধ্যে মাথা ব্যথা সারাতে সাহায্য করবে। মাথা ব্যাথা দূর করার প্রাথমিক, নিরাপদ এবং বিজ্ঞান সম্মত উপায় এটি। তবে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে আপনাকে।

  • বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি এবং তর্জনির মাঝখানের অংশে অন্য হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি ও তর্জনি দিয়ে চাপ দিন এবং ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ম্যাসাজ করুন। একই ভাবে ডান হাতেও করুন। বিশেষজ্ঞরা বলেন, আশা করা যায় এতে এক মিনিটেই মাথা ব্যথা সারবে।
  • রগের দুটো পাশ ও ঘাড়ের কাছে যদি খানিক ক্ষণের জন্য আঙুলের ডগা দিয়ে ম্যাসাজ করেন, তবে আরাম পাবেন ও ক্লান্তি দূর হবে। ক্লান্তির কারণে মাথা ধরলে এই ম্যাসাজ খুব কাজে দেয়।

পানি পান করুন:

একচুমুক পানি পানও আপনাকে এক মিনিটের মধ্যে মাথা ব্যথা সারাতে কাজে দেবে। যখন আমাদের শরীর আর্দ্র হতে থাকে তখন ব্যথা ধীরে ধীরে কমে।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শরীরে পানির অভাবে মাথা ব্যাথা করে থাকে। মাথা ব্যাথা শুরু হলে প্রথমেই ১ গ্লাস পানি পান করুন। এরপর ধীরে ধীরে, অল্প অল্প করে পানি পান করতে থাকুন। এই সময়ে অন্য কোনো পানীয় পান করবেন না। তরমুজ: মাথা ব্যথার একটি বড় কারণ হল ডিহাইড্রেশন। তাই, জল পান করা বা জল সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ আপনাকে এই সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে। তরমুজে ৯২ শতাংশ জল রয়েছে, যা আপনাকে পুনরায় হাইড্রেট করে তুলতে পারে। এটিতে পটাসিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম জাতীয় পুষ্টি রয়েছে, যা মাথা ব্যথা কমানোর ক্ষেত্রে বেশ কার্যকর।

লবঙ্গ:

কিছু লবঙ্গ তাওয়ার মধ্যে গরম করে নিন। গরম লবঙ্গ একটি রুমালের মধ্যে নিন। এক মিনিট এর ঘ্রাণ নিন এবং দেখুন মাথা ব্যথা চলে গেছে।

লবণযুক্ত আপেল:

ব্যথা যদি বেশি হয় তবে এই ঘরোয়া পদ্ধতিটি চেষ্টা করে দেখতে পারেন। এক টুকরো আপেল চিবুতে পারেন তবে এতে একটু লবণ ছিটিয়ে নেবেন। এটা দ্রুত ব্যথা মুক্ত করতে সাহায্য করবে। 

আদা, আদা চা এবং কফি:

আদা একটু বাজে গন্ধের হলেও পদ্ধতিটি খুব কাজের। মাথাব্যথা উপশমে আদার জুড়ি নেই। কারণ আদায় রয়েছে ‘প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন সিনথেসিস’ যা অ্যাসপিরিন যা ব্যথানাশক ওষুধে ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও আদার অ্যান্টিইনফ্লামেটরি উপাদান মাথা ব্যথা কমাতে ভূমিকা রাখে। আদার উপকারী উপাদান সমূহ রক্ত প্রবাহ ঠিক রেখে মাথাব্যথায় দ্রুত আরাম দেয়, আদা মাথার রক্তনালির প্রদাহ কমাতে সাহায্য করবে। এতে মাথা ব্যথা কমবে। তাই;

  • মাথাব্যথা শুরু হলে সামান্য আদা ছিলে নিয়ে চিবানো শুরু করুন। এতে মাথাব্যথা দ্রুত উপশম হবে।
  • এক কাপ পানি ফুটিয়ে এতে আদা সামান্য ছেঁচে নিয়ে ফুটিয়ে নিয়ে সামান্য মধু দিয়ে পান করতে পারেন আদা চা। এতেও মাথাব্যথা দ্রুত দূর হবে।
  • খেতে পারেন চা-কফি। চা বা কফিতে উপস্থিত ক্যাফিন মাথা যন্ত্রণা কমাতে ভালো কাজ করে। আর কালো চায়ে আদা-লবঙ্গ ও মধু মিশিয়ে খেলে মাথা যন্ত্রণায় আরাম পাওয়া যায়।
  • সমপরিমাণ আদার রস ও লেবুর রস মিশিয়ে খান। মাথা ব্যথা থাকলে দিনে দুই থেকে তিনবার এটি খেতে পারেন।
  • এক চা চামচ শুকনো আদা গুঁড়ো, দুই টেবিল চামচ পানির মধ্যে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এটি কয়েক মিনিটের জন্য কপালে লাগিয়ে রাখুন। এতে ব্যথা কমবে। 
  • এ ছাড়া আদা গুঁড়ো বা কাঁচা আদা সিদ্ধ করতে পারেন। এবার এই সিদ্ধ পানিতে ভাপ নিন।
  • এ ছাড়া ম্যথা ব্যথা দূর করতে দুই টুকরো আদার ক্যান্ডিও চিবুতে পারেন।

লেবু :

ঝটপট মাথাব্যথা সারিয়ে তুলতে লেবুর তুলনা হয়না। ব্যথা শুরু হওয়ার সাথে সাথে আপনি যদি গরম পানির সাথে লেবু মিশিয়ে খান তাহলে মাথাব্যথা দ্রুত কমে আসবে। আপনি যদি লেবু পেস্ট করে কপালে লাগান তাতেও মাথা ব্যথা কমবে আর সাথে খেতে পারেন এক কাপ লেবু চা।

২ থেকে ৩ টি লেবুর খোসা কেটে আলাদা করে নিন। তারপর লেবুর খোসা বেটে ঘন পেস্টের মতো তৈরি করে বামের মতো কপালে লাগান। এতে আপনার ব্যাথা দূর হয়ে যাবে। 

তেল:

আঙুলের ডগায় অ্যাসেনশিয়াল অয়েল লাগিয়ে কপালে আর রগে ম্যাসাজ করুন। ল্যাভেন্ডার বা পিপারমিন্টের মতো কোনো সুগন্ধি ফ্লেভারের তেল দিয়ে ম্যাসাজ করলে মাথার যন্ত্রণা অনেকটা কমে।

আইসব্যাগ:

বাজারে নানা আকারের অনেক আইসব্যাগ কিনতে পাওয়া যায়। একটি আইসব্যাগে বরফ ভরে নিয়ে তা মাথার ওপরে অর্থাৎ ঠিক মাথার তালুতে খানিকক্ষণ ধরে রাখুন। দেখবেন মাথাব্যথা উপশম হচ্ছে। তবে যাদের হুটহাট ঠাণ্ডা লেগে যাওয়ার প্রবণতা আছে তারা এ পদ্ধতি পালন করবেন না।

বরফ প্রদাহ দূর করতে সাহায্য করবে। পাশাপাশি এটি ব্যথা উপশম করবে।

বরফের প্যাক ঘাড়ে দিন। এতে মাইগ্রেনের ব্যথা অনেকটা উপশম হবে।

এ ছাড়া একটি ধোয়া তোয়ালে বা কাপড়ের টুকরো বরফঠান্ডা পানিতে ভেজান। এটি মাথায় পাঁচ মিনিট রাখুন। দিনে কয়েকবার এটি করতে পারেন। তবে যাদের ঠান্ডার সমস্যার রয়েছে তারা এটি না করলেই ভালো।

মিষ্টি কুমড়ার বিচি খান:

মিষ্টি কুমড়ার বিচি ভেজে খেলে মাথাব্যথার সমস্যা থেকে দ্রুত মুক্তি পাওয়া সম্ভব। কারণ মিষ্টি কুমড়ার বিচিতে হয়েছে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম সালফেট যা মাথাব্যথা উপশমে কাজ করে থাকে।

কাঠবাদাম খাওয়ার অভ্যাস রাখুন:

অনেক সময় আবহাওয়া, ধুলোবালির কারণে মাথাব্যথা শুরু হয়ে যায়, আবার অনেক সময় মানসিক চাপের কারণেও মাথাব্যথা শুরু হয়। এসব ধরনের ব্যথা কমানোর জন্য একমুঠো বা দুইমুঠো কাঠবাদাম চিবিয়ে খান। কাঠবাদামে রয়েছে ‘স্যালিসিন’ যা ম্যথাব্যথা উপশমে কাজ করে রবং দ্রুত ব্যথা নিরাময় করে।

পান পাতা:

পান পাতার প্রাকৃতিক মাথা ঠাণ্ডাকারী উপাদান মুহূর্তেই মাথা ব্যথা সারিয়ে তুলতে কার্যকারী অবদান রাখে। মাথাব্যথা সারাতে ঘরোয়া চিকিৎসা হিসেবে তাজা দেখে তিন থেকে চারটি পান পাতা নিয়ে মোলায়েম করে ছেঁচে কপালে লাগিয়ে রাখুন। আধা ঘণ্টার মধ্যে এটি আপনাকে মাথা ব্যথা থেকে মুক্তি দেবে।

পুদিনা পাতা:

পুদিনা পাতায় রয়েছে ম্যানথল ও ম্যানথন। এই উপাদানগুলো মাথা ব্যথা দূর করার জন্য খুব উপকারী।

এক মুঠো পুদিনা পাতা নিন। পাতা থেকে রস বের করুন। এই রস কপালে মাখুন।

এ ছাড়া পুদিনার চাও খেতে পারেন।

গ্রিন টি:

গ্রিন টী এর অ্যান্টিইনফ্লেমেশন এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান খুব দ্রুত মাথাব্যথার হাত থেকে মুক্তি দেয়। এই চা পান করার মাধ্যমে অল্প সময়ের মাধ্যে আপনার মাথা ব্যাথা দূর হয়ে যাবে। 

মেন্থল:

মাইগ্রেনের ব্যথা দূর করতে আদর্শ হচ্ছে মেন্থল। মাথা ব্যাথা দূর করতে অনেক আগে থেকেই মেন্থল ব্যবহার করা হয়। 

দই: ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণও আপনাকে তীব্র মাথাব্যথা থেকে মুক্তি দিতে পারে। ক্যালসিয়ামের অভাব হলে মস্তিষ্ক সঠিকভাবে কাজ করে না। দইতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে রাইবোফ্লাভিন, যা বি ভিটামিন কমপ্লেক্সের একটি অংশ। এটি মাথা ব্যথা কমানোর ক্ষেত্রে কার্যকর, পাশাপাশি এটি অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্যও ভাল।

পালং শাক: সবুজ শাকসব্জি যেমন - পালং শাকে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম থাকে, যা মাথা ব্যথা হ্রাস করতে পারে। এক কাপ শাকের মধ্যে ২৪ মিলিগ্রাম ম্যাগনেসিয়াম থাকে। এছাড়াও গবেষণা অনুযায়ী, নিয়মিত ম্যাগনেসিয়াম সেবন করলে মাইগ্রেন হওয়ার আশঙ্কা ৪১.২ শতাংশ কমাতে পারে।

কার্বোহাইড্রেট: কম কার্বোহাইড্রেট গ্রহণও মাথা ব্যথার কারণ হতে পারে। লো-কার্ব গ্রহণের ফলে শরীরে গ্লাইকোজেন হ্রাস পেতে থাকে, যা মস্তিষ্কের শক্তির প্রধান উৎস। তাই, কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার গ্রহণ মাথা ব্যথা প্রশমিত করে এবং মুডও ঠিক করতে পারে।

মাছ তৈলযুক্ত: (পাঙ্গাস, ইলিশ ইত্যাদি) তৈলাক্ত মাছ খেলে এতে থাকা ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন বি৬ ও বি১২ মাথা ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।

কলা: কলাও মাথা ব্যথা কমাতে দারুণ কার্যকর। এতেও রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম। এছাড়া কলা খেলে তৎক্ষণাৎ শরীর এনার্জিতে ভরে ওঠে।

মনোযোগ দিয়ে (ইসলামিক তিলাওয়াত এবং গান) শুনুন:

মন ভালো করার পাশাপাশি মাথাব্যথা উপশমে সব চেয়ে ভালো কাজ হচ্ছে গান শোনা। ‘জার্নাল অফ পেইন’ গবেষণাপত্রে প্রকাশ হয় গান শোনা প্রায় ১৭% ব্যথা কমিয়ে দিতে সহায়তা করে। কারণ গান মনোযোগ দিয়ে শোনার সময় আমাদের লক্ষ্য মাথাব্যথা থেকে সরে যায় যা আমাদের মাথাব্যথার কথা অনেক সময় ভুলিয়ে দেয়। এতে করেই সেরে উঠে মাথাব্যথা।

হাসি খুশি মন:

অনেকেই হয় তো বিশ্বাস করবেন না, তবে মনকে যদি ইতিবাচক এবং ভালো বিষয়ের দিকে নিয়ে যান তবে মাথা ব্যথা ৬০ সেকেন্ডেই দূর হবে। চেষ্টা করেই দেখুন না! 

মাথা ব্যথার কার্যকর উপায় হলো মনকে ইতিবাচক ও পজিটিভ দিকে ডাইভার্ট করা। চোখ বন্ধ করে ভাবতে হবে, কোনো মাথা ব্যথাই নেই। এতে মাথা ব্যথা দূর হয়।

তথ্যসূত্র:

  • ডা. আলমগীর মতি, যুগান্তর।
  • মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. হাবিবুর রহমান, কালের কন্ঠ।
  • স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট 'টপটেন হোম রেমিডি', NTV.
  • স্বাস্থ্য বিষয়ক ওয়েবসাইট 'বোল্ড স্কাই'.
  • বাংলাদেশ প্রতিদিন।
  • নিউজ১৮ > একুশে টিভি।
  • Edited: Natural_Healing.

কোন মন্তব্য নেই

Popular Post

Blogger দ্বারা পরিচালিত.