বাংলাদেশে প্রচলিত যেসব খাবার ক্ষতিকর, এমনকি এগুলো খেয়ে আপনার মৃত্যুও হতে পারে (বিষাক্ত_খাদ্য-পর্ব-২)
বাংলাদেশের মানুষ চাল, মাছ, মাংস, শাক-সবজি মিলিয়ে কয়েক হাজার ধরনের খাবার খেয়ে থাকেন, তবে এসবের মধ্যে বেশ কিছু খাবার রয়েছে, যা অনেক সময় মানুষের শরীরের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে উঠতে পারে।
| বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেক পুষ্টিকর খাবারের ভেতরেও এমন কিছু উপাদান থাকে, যা মানব শরীরের জন্য ক্ষতিকর। |
আবার কোন কোন খাবার রয়েছে যা তাৎক্ষণিকভাবে মানুষের মৃত্যুও ঘটাতে পারে।
আবার কোন কোন খাবারের কারণে হওয়া ক্ষতি তাৎক্ষণিকভাবে বোঝা না গেলেও তা দীর্ঘমেয়াদে শরীরের ক্ষতি করে।
এসব খাবার সম্পর্কে বিবিসি বাংলা পুষ্টিবিদ ও খাদ্য বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলেছে। যেসব খাবার অবস্থাভেদে আপনার শরীরের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে, এরকম কয়েকটি খাবারের বর্ণনা তুলে ধরা হলো:
পটকা মাছ:
| জাপানের মতো অনেক দেশে পটকা মাছ অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি খাবার। |
বাংলাদেশ, চীন, জাপান, কোরিয়া-সহ বেশ কিছু দেশের মানুষের কাছে পটকা মাছ বা পাফার ফিশ বেশ জনপ্রিয় একটি মাছ। কিন্তু এই মাছটি ঠিকভাবে প্রসেস করা সম্ভব না হলে সেটি কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মানুষের মৃত্যু ঘটাতে পারে।
এর শরীরে থাকে বিষাক্ত টিউরোটক্সিন নামক উপাদান, যা সায়ানাইডের তুলনায় বহুগুণ বেশি কার্যকর।
পুষ্টিবিদ অধ্যাপক খালেদা ইসলাম বলছেন, এই মাছ খাওয়ার আগে দক্ষতার সঙ্গে মাছের শরীরের বিষাক্ত অংশটি আলাদা করে ফেলতে হবে।
তি নি বলেন, এমনিতে মাছটি হয়তো ক্ষতিকর নয়, কিন্তু বিষাক্ত অংশটি কোনওভাবে মাছের শরীরে রয়ে গেলে আর তা মানুষের পাকস্থলীতে গেলে অল্পক্ষণের মধ্যে এটা মানুষকে পক্ষাঘাতগ্রস্ত করতে পারে - এমনকি মৃত্যুও ঘটাতে পারে।
মাশরুম:
বিশ্বের অনেক দেশেই মাশরুম একটি জনপ্রিয় এবং পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ খাবার।
| প্রকৃতিতে মাশরুমের হাজার হাজার জাত রয়েছে। |
তবে প্রকৃতিতে মাশরুমের হাজার রকমের জাত রয়েছে এবং এগুলোর অনেকগুলো মানবদেহের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।
যেমন শুধু উত্তর আমেরিকায়ই মাশরুমের ১০ হাজারের বেশি প্রজাতির রয়েছে। খাবার হিসেবে গ্রহণ করলে এগুলোর ২০ শতাংশই মানুষকে অসুস্থ করে দিতে পারে, আর শতকরা এক ভাগ তাৎক্ষণিকভাবে মানুষ মেরেও ফেলতে পারে।
মাশরুমের নানা জাতের মধ্যে বাংলাদেশে ৮-১০টি জাতের চাষ হয়ে থাকে।
কিন্তু বাংলাদেশেই পাওয়া যায় মাশরুমের এমন অনেক জাত, বিশেষ করে বুনো মাশরুম, অনেক সময় শরীরের জন্য বিষাক্ত ও ক্ষতিকর বলে প্রমাণিত হতে পারে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক ড. খালেদা ইসলাম বলছেন, ''পরিচিত জাতের বাইরে অন্য মাশরুম, বিশেষ করে বুনো মাশরুম কখনোই খাওয়া উচিত নয়। কারণ মাশরুম শরীরের জন্য উপকারী হলেও সব মাশরুম উপকারী নয়। বরং অনেক মাশরুম মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।"
তিনি আরও বলেন, "বিশেষ করে ব্যাঙের ছাতা বলে পরিচিত বুনো মাশরুমে এক ধরণের ছত্রাক থাকে, যা লিভার-কিডনির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।''
খেসারি ডাল:
বাংলাদেশে মসুর ও মুগডালের পাশাপাশি অনেকের খাদ্য তালিকায় খেসারি ডালও থাকে।
| খেসারির মতো ডাল শরীরের জন্য ভালো নয় বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। |
এই রোগের লক্ষণ অনেক সময় হঠাৎ করেই দেখা দেয়। এতে করে হাঁটতে গিয়ে অসুবিধা এবং অসহ্য যন্ত্রণা হওয়া কিংবা পা অবশ হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটতে পরে।
পুষ্টিবিদ আয়েশা সিদ্দিকা বিবিসি বাংলাকে জানান, বেশিদিন ধরে খেসারির ডাল খেলে এই রোগ হতে পারে।
আলু:
আলুতে শেকড়ের জন্ম হলে সেখানে গ্লাইকোঅ্যালকালোইড নামের এক ধরণের উপাদান তৈরি হয়। বিশেষ করে দীর্ঘদিন যাবৎ আলু পড়ে থাকলে এই ধরণের উপাদানের জন্ম হয়।
| আলুতে শেকড়ের জন্ম হলে সেখানে গ্লাইকোঅ্যালকালোইড নামের এক ধরণের উপাদানের তৈরি হয়, যা বিষাক্ত। |
বারডেম হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ শামসুন্নাহার নাহিদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, এই গ্লাইকোঅ্যালকালোইড শরীরে প্রবেশ করলে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। এছাড়া ডায়ারিয়া, মাথাব্যথা, এমনকি মানুষ কোমায়ও চলে যেতে পারেন।
বলা হয়ে থাকে, কেউ কোনভাবে তিন থেকে ছয় মিলিগ্রাম পরিমান এই উপাদান খেয়ে ফেললে মৃত্যু হতে পারে।
এছাড়া আলুতে অনেক সময় সবুজ রঙের এক ধরণের পদার্থ দেখা যায়। সেটা হলো কারসিনোজেনিক নামের একটা উপাদান, যার ক্যানসারের কারণ হতে পারে। এ ধরণের আলু খাওয়া উচিত নয়।
টমেটো:
টমেটো গাছের পাতা এবং কাণ্ডে অ্যালকালাই থাকে, যা পাকস্থলীর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। কাঁচা টমেটোর ভেতর এই উপাদান থাকে বলে মনে করা হয়।
পুষ্টিবিদ শামসুন্নাহার নাহিদ বলছেন, এই কারণে ভালো করে রান্না না করে কাঁচা টমেটো খাওয়া উচিত নয়। কারণ বেশি পরিমাণে কাঁচা টমেটো খেলে যে কেউ মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন।
"কাঁচা টমেটো খেয়ে মানুষের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।''
টমেটো গাছের পাতাও কোনভাবে খাওয়া উচিত নয় বলে জানান তিনি।
কাজু বাদাম:
কাজু বাদামের দুইটি জাত রয়েছে - একটি মিষ্টি, অপরটি তিতকুটে।
| তিতা কাজুবাদামের ভেতর গ্লাইকোসাইড নামের একটি বিষাক্ত উপাদান থাকে, যা শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। |
কাঁচা অবস্থায় তেতো কাজুবাদাম খাওয়া একেবারে উচিত নয়।
বলা হয়, প্রতিটা তেতো কাজুবাদামের ভেতর ছয় মিলিগ্রাম হাইড্রোজেন সায়ানাইড থাকে। কারো শরীরে ১০০ মিলিগ্রাম হাইড্রোজেন সায়ানাইড প্রবেশ করলে তা তার মৃত্যুর জন্য যথেষ্ট হতে পারে।
আপেল:
আসলে ঠিক আপেল নয়, আপেলের বিচির ভেতর খানিকটা পরিমাণে সায়ানাইড থাকে। ফলে কারো শরীরের ভেতর যদি বেশি পরিমাণে আপেল বিচি বা বিচির নির্যাস প্রবেশ করে, তাহলে তা তাকে মেরে ফেলার মতো সায়ানাইড তৈরি করতে পারে।
আর সায়ানাইড হলো একটি মারাত্মক ধরণের বিষ।
বারডেম হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ শামসুন্নাহার নাহিদ বলেন, "অনেক সময় অনেকে আপেলের জুস তৈরি করে খান। তখন যদি অনেকগুলো বিচি-সহ আপেলের জুস করা হয়, তাহলে সেই বিচির কারণে ওই জুসে মারাত্মক বিষ তৈরি হতে পারে।''
তবে বিচি বাদ দিলে আপেলের বাকি অংশে অনেক পুষ্টি রয়েছে।
কাঁচা মধু:
মৌমাছির চাক ভাঙ্গা তাজা মধু সংগ্রহ করতে অনেকেই পছন্দ করেন।
| খাদ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাস্তুরায়িত করা হয়নি এমন কাঁচা মধু শরীরের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। |
এছাড়া এমন মধু খাওয়ার ফলে ঘোর ঘোর ভাব আসা, দুর্বল লাগা, অতিরিক্ত ঘাম হওয়া, বমি করার মতো সমস্যা তৈরি হতে পারে।
পুষ্টিবিদ শামসুন্নাহার নাহিদ বলছেন, কাঁচা মধুর ভেতর গ্রায়ানোটক্সিন নামের একটি উপাদান থাকে। এর এক চামচ পেটে গেলে হালকাভাবে এসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে। কিন্তু বেশি খাওয়া হলে সেটার ফলাফল হতে পারে মারাত্মক।
তাই বিশেষজ্ঞরা কাঁচা মধু না খেয়ে সেটা প্রক্রিয়াজাত করে খাওয়ার পরামর্শ দেন। বিশেষ করে এটা নিশ্চিত করতে হবে যে সেই মধুর ভেতর যেন মৌমাছির চাকের বা মৌমাছির কোন অংশ না থাকে।
মৃত্যু ডেকে আনার মত ক্ষতিকারক খাবার
কাসাভা:
আফ্রিকার অনেকগুলো দেশে এই খাবারটি অত্যন্ত জনপ্রিয়।
| কাসাভার পাতা ও শিকড়ে অনেক বেশি পরিমাণে সায়ানাইড থাকে। |
ড. খালেদা ইসলাম বলছেন, কাসাভা যদি ঠিকমতো প্রক্রিয়াজাত করা না হয়, তাহলে সেটা স্বাস্থ্যর জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর হতে পারে।
এর কারণ হিসেবে তিনি বলছেন যে কাসাভার পাতা ও শিকড়ে অনেক বেশি পরিমাণে সায়ানাইড থাকে। এটি একটি বিষাক্ত উপাদান, যা মানুষের শরীরে গেলে মৃত্যুর কারণ হতে পারে।
মটরশুঁটি-শিমের বিচি:
বাংলাদেশে মটরশুঁটি ও শিমের বিচি অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি খাবার। শিমের বিচি অবশ্য সারা বিশ্বেই একটি জনপ্রিয় খাবার।
কিন্তু পুষ্টিবিদ শামসুন্নাহার নাহিদ বলছেন, ''মটরশুঁটি ও শিমের মধ্যে ফাইটোহেমাগ্লুটিনিন নামের একটা পদার্থ থাকে, যা অনেকের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।
এ কারণে তিনি পরামর্শ দিচ্ছেন যে রান্নার আগে মটরশুঁটি ও শিমের বিচি অবশ্যই ১৫ মিনিটি ধরে পানিতে সেদ্ধ করে সেই পানি ফেলে দিয়ে আবারও রান্না করতে হবে।
কামরাঙ্গা:
এটি বাংলাদেশের একটি জনপ্রিয় ফল।
সাধারণ মানুষ এটি খেলে কোন সমস্যা নেই। তবে যাদের কিডনির বা স্নায়ুতন্ত্রের সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য এই ফলটি ক্ষতিকারক বলে জানাচ্ছেন পুষ্টিবিদ আয়েশা সিদ্দিকা।
কচু:
কচু বাংলাদেশে একটি সবজি এবং এর পাতা শাক হিসাবে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
পুষ্টিবিদ শামসুন্নাহার নাহিদ বলছেন, কচু গাছ যদি ছায়ায় জন্মে বা বড় হয়, তাহলে এর মধ্যে এমন একটি কম্পোনেন্ট তৈরি হয়, যা অনেকের জন্য অ্যালার্জি তৈরি করে।
ফলে কচু খেলে তাদের চুলকানি হয়, গলা ফুলে যায়। এর কারণ হলো, কচুতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অক্সালেট। অনেক সময় এতে করে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটতে পারে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক খালেদা ইসলাম বলছেন, কচু জাতীয় জিনিস খেতে হলে সঙ্গে লেবু খেতে হবে। সেটা কচুর অক্সালেটের সঙ্গে সমন্বয়ের কাজ করে বলে তিনি জানান।
ডিম:
বারডেম হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ শামসুন্নাহার নাহিদ জানান, ডিম খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো - কিন্তু কাঁচা ডিম খাওয়া, আধা সেদ্ধ ডিম খাওয়া, বা ডিমের এক পাশ পোঁচ করে খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।
| ডিম খাওয়া ভাল কি-না, এ নিয়ে বিতর্ক বহুদিনের। |
ক্যানড বা প্রসেসড ফুড:
ব্যস্ততার কারণে এখন অনেকেই ক্যানে থাকা খাবার বা প্রক্রিয়াজাত খাবার খেতে পছন্দ করেন, কারণ এগুলো অনেকটা প্রস্তুত অবস্থায় থাকে বলে সহজেই খাওয়া যায়।
তবে পুষ্টিবিদ আয়েশা সিদ্দিকা বিবিসি বাংলাকে বলেন, এ জাতীয় ক্যানড খাবার মানসম্পন্ন না হলে বা তৈরি প্রক্রিয়ায় ত্রুটি থাকলে তা ডায়রিয়া, ক্যানসার ইত্যাদির মতো সমস্যা তৈরি করতে পারে।
এছাড়া, শুটকি মাছ, শুকনো ফল ইত্যাদি খাবারে অনেক সময় সালফার ব্যবহার করা হয়, যা পেটে গেলে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
অতিরিক্ত প্রসেসড ফুড:
অতিরিক্ত মাত্রায় প্রক্রিয়াজাত করা খাবার গ্রহণে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে বলে জানিয়েছেন ফরাসী গবেষকরা।
| কেক, চিকেন নাগেট ও বড় পরিসরে উৎপাদিত রুটিকে "অতিরিক্ত প্রকিয়াজাতকৃত" খাবারের মধ্যে রেখেছেন গবেষকরা। |
অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার কোনগুলি:
•বড় পরিসরে উৎপাদিত প্যাকেটজাত রুটি।
•মিষ্টি বা মসলাযুক্ত স্ন্যাকস।
•চকলেট বার ও মিষ্টি।
•সোডা ও কোমল পানীয়।
•মিটবল, পোলট্রি ও ফিশ নাগেট।
•ইনস্ট্যান্ট নুডলস ও স্যুপ।
•ফ্রোজেন ও রেডি খাবার।
•চিনি, তেল ও চর্বি দিয়ে তৈরী খাবার।
খাদ্যাভ্যাস ক্যান্সারের ঝুঁকির অন্যতম প্রধাণ কারণ হিসেবে এরই মধ্যে প্রমাণিত হয়েছে।
ধূমপান বন্ধ করার পর ক্যান্সার প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ অথিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণ করা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে প্রক্রিয়াজাত মাংস ক্যান্সারের ঝুঁকি কিছুটা বাড়ায়।
তবে নিয়মিত প্রচুর পরিমাণে ফল, সবজি ও আঁশযুক্ত খাবার খেলে স্বল্প পরিমাণে প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণের বিষয়ে দুশ্চিন্তা করা উচিত নয়।"
ধুতরা ফুল ও ফল:
ধুতুরা গাছের সমস্ত অংশই বিষাক্ত। এতে আছে বিপজ্জনক মাত্রার Tropane Alkaloids নামক বিষ। এই গাছের বিষক্রিয়ায় মানুষ বা পশুপাখির মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। এ কারণে অনেক দেশেই ধুতুরার উৎপাদন, বিপণন ও বহন আইনত নিষিদ্ধ। বাংলাদেশে প্রতি বছর বহু লোক ধুতুরা বিষে আক্রান্ত হয়ে থাকেন। ঝোপ-ঝাড়ে বা রাস্তার ধারে অযত্নে এই গাছ বেড়ে ওঠে।
ধুতুরার বীজ থেকে চেতনানাশক পদার্থ তৈরি করা হয়। ভেষজ চিকিৎসায় এর ব্যবহার আছে। চৈনিক ভেষজ চিকিৎসা শাস্ত্রে বর্ণিত পঞ্চাশটি প্রধান উদ্ভিদের একটি এই ধুতুরা। একসময় বাংলাদেশি বিভিন্ন কবিরাজি ওষুধে এই ফলের ব্যবহার হতো। কিন্তু এটি অত্যন্ত বিষাক্ত একটি ফল এবং এর পাতাও বিষাক্ত হয়ে থাকে। বাংলাদেশে এখন অবশ্য এই গাছটি অনেকটাই দুর্লভ হয়ে উঠেছে।
তথ্যসূত্র:
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক ড. খালেদা ইসলাম, বারডেম হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ শামসুন্নাহার নাহিদ,
- পুষ্টিবিদ আয়েশা সিদ্দিকা, বিবিসি বাংলা।
- উইকিপিডিয়া।
- Edited: Natural_Healing.
কোন মন্তব্য নেই