Food (খাদ্য) এবং Nutrition (পুষ্টি) কাকে বলে? বিস্তারিত বিষ্ফোরণ।
Food (খাদ্য) কাকে বলে?
আমরা যে সব বস্তু আহার করি তাকে আহার্য সামগ্রী বলে। কিন্তু সকল আহার্য সামগ্রীই খাদ্য নয়। যেমন, থোড় সেলুলোজ দিয়ে গঠিত হওয়ায় আমাদের পরিপাক নালীতে পাচিত হয় না। ফলে এটি পুষ্টি সহায়ক নয়।
সুতরাং সেই সব আহার্য সামগ্রীকেই খাদ্য বলা যাবে, যা দেহের পুষ্টি ও বৃদ্ধি সহায়ক, ক্ষয়পূরন, ও তাপশক্তি উৎপাদনে সহায়তা করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি তথা পুষ্টিসাধন করে।যেমন ভাত খেলে ভাতের শর্করা দেহে শক্তি উৎপাদন করে, মাছ মাংশ খেলে তার প্রোটিন দেহের বৃদ্ধি ও ক্ষয় পূরন করে তাই এগুলো খাদ্য।
খাদ্যের উপাদান :
খাদ্যকে ছ'টি উপাদানে ভাগ করা যায়, যথা-
কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা বা শ্বেতসার- এ ধরনের খাদ্য শক্তি উৎপাদন করে।
আমিষ বা প্রোটিন- ক্ষয়পূরণ, বৃদ্ধি সাধন ও দেহ গঠনের কাজ করে।
স্নেহপদার্থ বা ফ্যাট বা চর্বি- যা তাপ ও শক্তি উৎপাদন করে।
ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ- রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়ায় উদ্দীপনা যোগায়।
মিনারেল বা খনিজ লবণ- বিভিন্ন জৈবিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়।
জল- এটি সরাসরি পুষ্টি উপাদান না হলেও দেহে পানির সমতা রক্ষা করে এবং কোষের গুণাবলী নিয়ন্ত্রণ করে, এবং কোষ অঙ্গাণু সমূহকে ধারণ এবং কোষের সমতা রক্ষা করে।
এর মধ্যে-
খাদ্যের মুখ্য উপাদান:
Carbohydrate/শ্বেতসার বা শর্করা:- (উৎস-চাল, গম, ভুট্টা, চিড়া, মুড়ি, চিনি, আলু, মূল জাতীয় খাদ্য)
Protein/আমিষ:- (উৎস-মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ডাল, সীমের বীচি, কাঁঠালের বীচি, বাদাম ইত্যাদি)
Fat/স্নেহ জাতীয় খাদ্য:- (উৎস্য-তেল, ঘি, মাখন, চর্বি ইত্যাদি)
এই তিনটি থেকেই মূলত দৈনিক ক্যালরির চাহিদা পূর্ণ হয়।
খাদ্যের গৌন উপাদান:
Vitamin/খাদ্যপ্রাণ: (উৎস-রঙ্গিন শাক-সবজি, ফল, ডিম, দুধ, কলিজা ইত্যাদি)।
Mineral/খনিজ উপাদান: (উৎস-ছোট চিংড়ি, ছোট মাছের কাঁটা, ঢেঁড়স, কচুশাক ইত্যাদি)।
জীবদেহে খাদ্যের কার্যকারিতা অনুযায়ী খাদ্য কে দু'ভাগে ভাগ করা হয়, যেমন-
দেহ-পরিপোষক খাদ্য: যে সব খাদ্য দেহের গঠন, বৃদ্ধি ও শক্তি উৎপাদনে সহায়কারী, তাদের দেহ-পরিপোষক খাদ্য বলে। যেমন : শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট, আমিষ বা প্রোটিন এবং স্নেহপদার্থ বা ফ্যাট বা লিপিড।
দেহ-সংরক্ষক খাদ্য: যে সব খাদ্য দেহকে রোগ সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করে, শক্তি উৎপাদনে সহায়ক নয়, তাদের দেহ-সংরক্ষক খাদ্য বলে। যেমন : খাদ্যপ্রাণ বা ভিটামিন, খনিজ পদার্থ বা মিনারালস।
খাদ্য উত্স:
বেশিরভাগ খাবারের উদ্ভব হয় উদ্ভিদ থেকে। কিছু খাবার সরাসরি উদ্ভিদ থেকে পাওয়া যায়; এমনকি প্রাণীরা যেগুলি খাদ্য উত্স হিসাবে আমরা ব্যবহার করি তাদেরও গাছপালা থেকে প্রাপ্ত খাবার খাইয়ে বড় করা হয়। সিরিয়াল (একপ্রকার ঘাস বা ফল বা খাদ্যশস্য থেকে প্রক্রিয়াজাত খাবার বা কার্বোহাইড্রেট যুক্ত খাবার) নামক শস্যটি হ'ল একটি প্রধান খাদ্য যা অন্য যে কোনও ফসলের চেয়ে বিশ্বজুড়ে বেশি খাদ্যশক্তি সরবরাহ করে। বিশ্বব্যাপী সমস্ত শস্য উৎপাদনের ৮৭ ভাগ জুড়ে আছে ভুট্টা, গম এবং চাল (তাদের বিভিন্ন জাত মিলিয়ে)। বিশ্বব্যাপী উৎপাদিত বেশিরভাগ শস্য প্রাণিসম্পদগুলিকে বৃদ্ধি করতে খাওয়ানো হয়।
প্রাণী বা উদ্ভিদ উত্স নয় এমন উৎস থেকে প্রাপ্ত কিছু খাবারের মধ্যে বিভিন্ন ভোজ্য ছত্রাক, বিশেষত মাশরুম অন্তর্ভুক্ত । খামিরযুক্ত এবং আচারযুক্ত খাবার যেমন খামিরযুক্ত রুটি, অ্যালকোহলযুক্ত পানীয়, পনির, আচার, কম্বুচা এবং দই তৈরিতে ছত্রাক এবং ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করা হয়। আর একটি উদাহরণ হল নীল-সবুজ শেত্তলা যেমন স্পিরুলিনা। অ জৈবজাতীয় পদার্থ যেমন লবণ, বেকিং সোডা এবং টারটার ক্রিম ব্যবহার করে কোনও উপাদান সংরক্ষণ বা রাসায়নিকভাবে পরিবর্তিত করতে ব্যবহৃত হয়।
উদ্ভিদ:
অনেক গাছপালা এবং উদ্ভিদের অংশ খাদ্য হিসাবে খাওয়া হয় এবং প্রায় ২,০০০ উদ্ভিদ প্রজাতি খাদ্যের জন্য চাষ করা হয়। এই উদ্ভিদগুলোর বিভিন্ন প্রজাতির বিভিন্ন স্বতন্ত্র জাত রয়েছে ।
মানুষ সহ অন্যান্য প্রাণীর জন্য গাছের বীজ হ'ল খাবারের একটি উত্স, কারণ এগুলিতে ওমেগা ফ্যাটগুলির মতো অনেক স্বাস্থ্যকর ফ্যাট সহ উদ্ভিদের প্রাথমিক বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি থাকে। আসলে, মানুষের ভোজ্য বেশিরভাগ খাদ্যই বীজভিত্তিক। ভোজ্য বীজের মধ্যে সিরিয়াল ( ভুট্টা, গম, চাল, এট সিটিরা ), বীচি জাতীয় ( মটরশুটি, মটরশুটি, মসুর ডাল, ইত্যাদি) এবং বাদাম রয়েছে । তেলবীজগুলিকে প্রায়শই সমৃদ্ধ তেল উৎপাদন করতে পিষে নেওয়া হয় যেমন সূর্যমুখী, ফ্ল্যাকসিড, রেপসিড ( ক্যানোলা তেলসহ), তিল ইত্যাদি।
বীজগুলিতে সাধারণত অসম্পৃক্ত চর্বি বেশি থাকে এবং পরিমিত স্বাস্থ্যকর খাদ্য হিসাবে বিবেচিত হয়। তবে, সমস্ত বীজই ভোজ্য নয়। বড় বীজ, যেমন লেবু থেকে পাওয়া বীজ দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে, অন্যদিকে চেরি এবং আপেলের বীজগুলিতে সায়ানাইড থাকে যা কেবলমাত্র বৃহত পরিমাণে খাওয়া হলে তা বিষক্রিয়া তৈরি করতে পারে।
ফল হল গাছের পূর্নাঙ্গ পাকাপোক্ত ডিম্বাশয়, যার মধ্যে বীজ আছে। অনেক উদ্ভিদ ও প্রাণী আছে বিবর্তিত যেমন সাবেক ফলের থেকে পরেরটি আকর্ষণীয় খাদ্য উৎস, কারণ প্রাণী যে ফল খেতে পারে তা বহন করে রেচন বীজ দূরে। ফলস্বরূপ, বেশিরভাগ খাদ্যাভ্যাসের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ হল ফল। টমেটো, কুমড়ো এবং বেগুনের মতো কিছু বোটানিকাল ফল সবজি হিসাবে খাওয়া হয়।
শাকসবজি দ্বিতীয় ধরণের উদ্ভিদজ খাদ্য উৎস যা সাধারণত খাদ্য হিসাবে খাওয়া হয়। এর মধ্যে আছে শিকড় জাতীয় শাকসবজি ( আলু এবং গাজর ), স্তরজাতীয় ( পেঁয়াজ পরিবার), গাছের পাতা জাতীয় ( শাক এবং লেটুস ), ডাঁটা জাতীয় শাকসবজি ( বাঁশের কাণ্ড এবং শতমূলী), এবং পুষ্পবিন্যাস শাকসবজি ( গ্লোব আর্টিচোক এবং ব্রোকলি এবং অন্যান্য শাকসবজি যেমন বাঁধাকপি বা ফুলকপি)।
প্রাণী:
উৎপাদিত প্রাণীসম্পদ তাদের দিয়ে তৈরি করা পণ্যে প্রত্যক্ষ বা অপ্রত্যক্ষভাবে হিসাবে ব্যবহৃত হয়। প্রাণীর কাছ থেকে নেওয়া মাংস হল প্রত্যক্ষ পণ্যের উদাহরণ, যা পেশী সিস্টেমগুলি বা অঙ্গগুলি ( অফাল ) থেকে আসে।
প্রাণীদের দ্বারা উৎপাদিত খাদ্য পণ্যগুলির মধ্যে স্তন্যপায়ী গ্রন্থিগুলির দ্বারা উৎপাদিত দুধও রয়েছে, যা অনেক সংস্কৃতিতে ডুবিয়ে বা ডেইরি প্রক্রিয়াজাত করতে ব্যবহৃত হয় যেমন পনির, মাখন ইত্যাদি। এছাড়াও, পাখি এবং অন্যান্য প্রাণী যারা ডিম দেয় তা প্রায়শই খাওয়া যায় এবং মৌমাছিরা মধু উৎপাদন করে (ফুল থেকে একটি আহরিত অমৃত) যা অনেক সংস্কৃতিতে একটি জনপ্রিয় মিষ্টি খাদ্য।
Nutrition (পুষ্টি) কাকে বলে?
খাদ্যের মূল উপাদান হলো পুষ্টি। আমরা যে খাদ্য খাই সেখান থেকে আমাদের দেহ সিদ্ধান্ত নেয় যে এর কোন অংশটি কি পরিমান গ্রহণ করবে। যেমন আপনি জেনে থাকবেন যে, খাদ্য খাওয়ার পর খাদ্য হজম হওয়ার পর তা দুটি অংশে ভাগ হয়ে যায়। একটি প্রয়োজনীয় বা সার অংশ অপরটি অপ্রয়োজনীয়' যা দেহ বর্জন করে। পরিপাকতন্ত্র খাদ্য হজম হওয়ার পর দেহের সার অংশটি শোষণ করে নেয় যা থেকে আমরা কাজ করার শক্তি পাই, শরীরে নতুন টিস্যু বা কোষ তৈরি হয়, দেহের ক্ষয়পূরণ হয় ইত্যাদি। পুষ্টির বিভিন্ন উপাদান চলমান বায়োকেমিক্যাল প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত হয় যা আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি সহ শারীরিক বৃদ্ধি সাধন করে।
-) দেহের প্রয়োজনীয় চাহিদা যেমন শক্তি উৎপাদন, বৃদ্ধিসাধন, ক্ষয়পূরন, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য পরিবেশ থেকে যে খাদ্যবস্তু গ্রহন, পরিপাক, শোষন ও আত্তীকরনের মাধ্যমে পূরন হয় তাকে পুষ্টি বলে। পুষ্টিসাধন বলতে বোঝায় খাদ্য গ্রহন করে তা পরিপাক, পরিশোষন ও আত্তীকরনের মাধ্যমে দেহের ক্ষয়পূরণ কর সহ প্রয়োজনীয় সকল চাহদা মেটানো। সহজ কথায়, খাদ্য হজমের পর দেহ খাদ্যের যে সার অংশটুকু শোষণ করে তাই পুষ্টি। অর্থ্যাৎ দেহ সুস্থ ও সবল রাখার প্রক্রিয়াকে পুষ্টি বলে৷
খাদ্য এবং পুষ্টির মধ্যে পার্থক্য কি?
তাই খাদ্যবস্তু ও পুষ্টি এক নয়। যদিও পুষ্টি খাদ্যের সাথেই জড়িত। যেমন, এমন কোন বস্তু খেলেন যার উপাদান দেহের কোন কাজে আসেনা। তাহলে সেই খাদ্য পূষ্টি নয়। এই খাদ্য শুধুমাত্র সাময়িক খুদা নিবারন করতে পারে।
আবার খাদ্যের যেসকল জৈব অজৈব উপাদান দেহে জীবনীশক্তির যোগান দেয় তাকে nutrients বা পরিপোষক উপাদান বলে। যেমন গ্লূকোজ, খনিজ লবন, ভিটামিনস। পুষ্টিকর খাদ্য পরিপাক হয়ে এই উপাদানে পরিণত হয়। এই উপাদান দেহে আর পরিপাকের প্রয়োজন হয়না।
কিভাবে আমরা পুষ্টি পেয়ে থাকি?
যে প্রক্রিয়ায় খাদ্য খাওয়ার পরে পরিপাক হয় এবং জটিল খাদ্য উপাদানগুলো ভেঙে সরল উপাদানে পরিণত হয়ে দেহে শোষিত হয়, তাকেই পুষ্টি বলে। সবারই প্রতিদিন প্রয়োজনীয় সকল উপাদানের সাথে সুষম পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ করা জরুরি। কারণ পুষ্টিকর খাদ্য দেহে তাপ উৎপাদন, রোগ প্রতিরোধ ও রক্ষণাবেক্ষণ করে।
উদ্ভিদের পুষ্টি:
স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শরীরবৃত্তীয় কাজ ও প্রজননের জন্য উদ্ভিদ মাটি ও পরিবেশ থেকে যেসব পুষ্টি উপাদান গ্রহণ করে তাই উদ্ভিদ পুষ্টি। এর পুষ্টির উৎস হলো –
বায়ুমন্ডল
পানি
মাটি
এর ধরণ দুইটি,
ম্যাক্রোউপাদান
মাইক্রোউপাদান
ম্যাক্রোউপাদান ১০ টি। যথা- N, K, P, Mg, C, H, O, Fe এবং S.
আর মাইক্রোউপাদান ৬ টি। যথা- Zn, Mn, Mo,B, Cu, এবং Cl.
এর অভাবজনিত রোগ হলো – ক্লোরোসিস, পাতার শীর্ষ ও কিনারা হলুদ রং ধারণ, ডাইব্যাক, পাতা বিবর্ণ হওয়া, কচি পাতায় ক্লোরোসিস এবং পাতা বিকৃতি হয়।
উদ্ভিদের বৃদ্ধির জন্য মোট ২০টি অপরিহার্য বা উপকারী খনিজ পদার্থ আছে।
এই তিনটি উপাদান বাতাস এবং জলে পাওয়া যায়।
কার্বন (C)
হাইড্রোজেন (H)
অক্সিজেন (O)
এই ৬টি পুষ্টিদায়ক পদার্থ উদ্ভিদের বৃদ্ধির জন্য প্রচুর পরিমাণে লাগে।
নাইট্রোজেন (N)
ফসফরাস (P)
পটাসিয়াম (K)
ক্যালসিয়াম (Ca)
ম্যাগনেসিয়াম (Mg)
সালফার (S) বা গন্ধক
এ ছাড়াও কিছু পুষ্টিদায়ক পদার্থ সামান্য পরিমাণে প্রয়োজন হয়। এ ধরনের উপাদানগুলির মধ্যে যেগুলি অপরিহার্য, সেগুলি হল– বোরন (B), ক্লোরিন (Cl), কপার (Cu) বা তামা, আয়রন (Fe) বা লোহা, ম্যাঙ্গানিজ (Mn), সোডিয়াম (Na), জিঙ্ক (Zn) বা দস্তা, মলিবডেনাম (Mo) ও নিকেল (Ni)। অন্যান্য উপকারী উপাদানগুলি হল সিলিকন (Si) ও কোবাল্ট (Co)।
প্রাণীর পুষ্টি:
পুষ্টির উপাদান প্রধানত : দুটি যথা-
১- ম্যাক্রো নিউট্রিয়েন্ট (যে নিউট্রিয়েন্ট আকারে বড়): (কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও ফ্যাট)
২- মাইক্রো নিউট্রিয়েন্ট (যে নিউট্রিয়েন্ট আকারে ছোট): (ভিটামিন ও মিনারেলস)।
আমাদের দেশে এখন ম্যাক্রো নিউট্রিয়েন্টের আর অভাব নেই। আমাদের দেশে এখন মাইক্রো নিউট্রিয়েন্টের যথেষ্ট অভাব রয়েছে। আর মাইক্রো নিউট্রিয়েন্টের উৎস হচ্ছে শাকসবজি। তাই দৈনন্দিন জীবনে প্রতিদিনই আমাদের পর্যাপ্ত পরিমাণ শাকসবজি ও ফলমূল খাওয়া দরকার। এখানে উল্লেখ্য যে, শাকসবজি ও ফলমূল ফরমালিন আছে বলেই অনেকে সেগুলো কম খেয়ে থাকেন। কিন্তু আমি (প্রফেসর ড. মোঃ আব্দুল আলীম) এখানে তাদেরকে নিশ্চিত করে বলতে চাই শাকসবজি ও ফলমূলে ফরমালিন দেওয়া হয় না বা ফরমালিন শাকসবজি ও ফলমূলের উপর কোনোভাবে কাজ করে না। তাই, এটি একটি ভুল ধারণা। পর্যাপ্ত পরিমাণ শাকসবজি ও ফলমূল খেতে হবে যা আমাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ করে থাকে। করোনাকালীন সময়ে ডবিøউএইচও এবং ডাক্তারদের নির্দেশনা অনুসারে পর্যাপ্ত পরিমাণ প্রোটিন, ভিটামিন এ, ভিটামিন ডি ও ভিটামিন সি খাওয়া দরকার। এই নিউট্রিয়েন্টগুলো আমাদের করোনাসহ অন্যান্য রোগ ব্যাধির হাত থেকে নিরাপদ রাখবে।
উদ্ভিদ ও প্রাণীর পুষ্টির পর্যায়ক্রম (Phase of Nutrition):
উদ্ভিদের পুষ্টির পর্যায়:
উদ্ভিদের পুষ্টি দুটি পর্যায়ে ঘটে— 1. সংশ্লেষ (Synthesis) 2. আত্তীকরণ (Assimilation) । উদ্ভিদের এইরকম পুষ্টিকে হলোফাইট (Holophytic) পুষ্টি বলে ।
প্রাণীর পুষ্টির পর্যায়:
প্রাণীর পুষ্টি পাঁচটি পর্যায়ে ঘটে— 1. খাদ্যগ্রহণ (Ingestion), 2. খাদ্য পরিপাক (Digestion), 3. শোষণ (Absorption), 4. আত্তীকরণ (Assimilation) এবং 5. বহিষ্করণ (Egestion) । প্রাণীদের এইরকম পুষ্টিকে হলোজোয়িক (Holozoic) পুষ্টি বলে ।
পুষ্টির প্রয়োজনীয়তা:
১৷ বৃদ্ধি, গঠন ও ক্ষয়পূরণ:- পুষ্টির ফলে জীব দেহে বৃদ্ধি, গঠন ও ক্ষয়পূরণ সম্ভব ।
২৷ শক্তি অর্জন:- পুষ্টির মূল উৎস হল খাদ্য । খাদ্যের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে শক্তি সঞ্চিত থাকে । সুতরাং শক্তি অর্জনের জন্য পুষ্টির গুরুত্ব অপরিসীম ।
৩৷ শারীরবৃত্তীয় কার্য পরিচালনা:- পুষ্টির মাধ্যমে স্থৈতিক শক্তি ব্যবহারযোগ্য শক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে জীবদেহে নানাবিধ শারীরবৃত্তীয় কার্যপ্রণালী সম্পান্ন হয় ।
৪৷ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি:- পুষ্টির মাধ্যমে জীবদেহে রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় ।
৫। ভবিষ্যতের জন্য খাদ্য সঞ্চয়:- পুষ্টির মাধ্যমেই জীবদেহের কোশে ভবিষ্যতের জন্য খাদ্য সঞ্চিত হয় ।
৬। তাপ উত্পাদন:- প্রাণীদেহে তাপ উত্পাদন ও সংরক্ষণেও পুষ্টির গুরুত্ব আছে ।
পুষ্টি ছাড়া দেহ কাজ করতে অক্ষম। পর্যাপ্ত পুষ্টি দেহকে বাড়িয়ে তোলে এবং বৃদ্ধি ও মেরামতের জন্য পুষ্ট করে তোলে। একারণে প্রতিদিন খাদ্য তালিকায় নির্দিষ্ট পরিমাণ ভিটামিন ও খনিজ সমৃদ্ধ খাবার রাখা উচিত। শরীরের সঠিক পুষ্টি সরবরাহের জন্য সঠিক উপাদানগুলো অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। যেমন – শর্করা, প্রোটিন, ফ্যাট, ভিটামিন, খনিজ এবং পানি।
পুষ্টি, বিপাক ও পরিপাক (Nutrition, Digestion and Metabolism):
Metabolism (বিপাক/বিক্রিয়া): রাসায়নিক প্রক্রিয়া যা জীবন বজায় রাখার জন্য একটি জীবন্ত জীবের মধ্যে ঘটে। অর্থাৎ দেহমধ্যে সজীব উত্পাদনের রাসায়নিক পরিবর্তন।
Digestion (পরিপাক/হজম/পাচন/জারন): যান্ত্রিক এবং এনজাইমেটিক ক্রিয়া দ্বারা খাদ্যকে এমন পদার্থে পরিণত করার প্রক্রিয়া যা শরীর এটাকে প্রয়োজনুপাতে ব্যবহার করতে পারে।
খাদ্যের বিপাক এবং পরিপাক পদ্ধতিঃ
আমরা প্রত্যহ ভাত, চিঁড়ে, মুড়ি, রুটি ইত্যাদি কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্য গ্রহন করি। এই কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্য পৌষ্টিক নালীর বিভিন্ন অঙ্গে বিভিন্ন উৎসেচকের দ্বারা কি ভাবে পাচিত হয় তা ছকের সাহায্যে দেখানো হল।
মুখবিবরঃ খাদ্য প্রথমে মুখবিবরে লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত টায়ালিনের মাধ্যমে শ্বেতসার মলটোজে ও মলটেজের মাধ্যমে মলটোজ গ্লুকোজে পরিনত হয়। এর পর খাদ্য গ্রাসনালীতে আসে।
গ্রাসনালীর পরিপাকঃ গ্রাসনালীতে খাদ্যের কোনো পরিপাক হয় না। এর পর খাদ্য পাকস্থলীতে প্রবেশ করে।
পাকস্থলীর পরিপাকঃ পাকস্থলীতে অক্সিনটিক গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত HCl খাদ্যকে আম্লিক করে। এর পর খাদ্য ডিওডেনামে আসে।
ডিওডেনামের পরিপাকঃ খাদ্য বস্তু ডিওডেনামে প্রবেশ করে অগ্ন্যাশয় থেকে নিঃসৃত অ্যামাইলেজ শ্বেতসারকে মলটোজে ও মলটোজকে মলটেজ ও গ্লুকোজে পরিনত করে। এর পর খাদ্য ইলিয়ামে আসে।
ইলিয়ামে পরিপাকঃ খাদ্য ইলিয়ামে প্রবেশ করে আন্ত্রিক গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত সুক্রেজ এর মাধ্যমে সুক্রোজ গ্লুকোজ+ফুকটোজ=ল্যাকটোজে পরিনত হয়। আন্ত্রিক গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত ল্যাকটেজের মাধ্যমে ল্যাকটোজ গ্লুকোজ ও গ্যালাকটোজে পরিনত হয়।
বৃহদন্তের পরিপাকঃ শেষে অপাচ্য খাদ্য কণা বৃহদন্তে জমা হতে থাকে।
গ্লুকোজ ইলিয়ামের অন্তগ্রাত্রে অবস্থিত ভিলাই কর্তিক শোষিত হয়।
অবশেষে অপাচ্য খাদ্যাংশ বৃহদন্তে সাময়িকভাবে জমা থাকে।
তথ্যসূত্র:
- প্রফেসর ড. মোঃ আব্দুল আলীম, সদস্য (খাদ্য শিল্প), বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, ais.gov.bd।
- উইকিপিডিয়া।
- bengalstudents.com
- bishra.com
- noproblembd.com
- bdhelper24.com
- proshikkhon.net
- Edited: Natural Healing.
কোন মন্তব্য নেই