Vitamin A অথবা খাদ্যপ্রাণ এ
Vitamin A- আমাদের শরীর গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। প্রতিদিন প্রাপ্ত বয়স্ক একজন পুরুষের 900 মাইক্রো গ্রাম এবং প্রাপ্ত বয়স্ক একজন নারীর 700 মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন প্রয়োজন। পুরুষ এবং মহিলাদের ভিটামিন এ-এর উর্ধ্বসীমা 3000 মাইক্রো গ্রাম পর্যন্ত।
(1 Gram has =10, 00,000 micrograms)
কার্যকারিতা: এটি fat-soluble বা চর্বিতে দ্রবণীয়৷ ভিটামিন এ একটি হালকা হলুদ বর্ণের প্রাথমিক অ্যালকোহল। এটি ক্যারোটিন থেকে উদ্ভূত হয়।
- ত্বকের উৎপত্তি ও রক্ষণাবেক্ষণ ত্বকের অত্যধিক শুষ্কতা রোধ করে।
- নাকের শ্লেষ্মা ঝিল্লীর নিঃসরণ কমে যাওয়া, হাড়, দাঁত, দৃষ্টি পুনরুৎপাদন ক্ষমতার উপর এই ভিটামিনের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রভাব রয়েছে।
- রাতকানা রোগ অন্যতম প্রাচীন একটি রোগ, ভিটামিন এ-'র অভাবে এই রোগটি হয়ে থাকে। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে শিশুদের অন্ধ হয়ে যাওয়ার পেছনেও এই ভিটামিনের অভাব কাজ করে।
- ব্যাক্টিরিয়ার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হওয়া, অশ্রু গ্রন্থির অকার্যকারিতা এবং তার ফলে চোখের শুষ্কতা, ইত্যাদি প্রতিরোধে কার্যকর।
- ভিটামিন ‘এ’ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
- ভিটামিন ‘এ’ চোখের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়।
- শরীরের বিকাশে ভিটামিন ‘এ’ র ভূমিকা আছে।
- বাহ্যিক আবরণের (কোষ, ত্বক, দাঁত, চুল ও অস্থির) গঠনের জন্য ভিটামিন ‘এ’ জরুরী।
- এটি দেহের টিস্যু গঠণে সহায়তা করে।
- ভিটামিন ‘এ’ নানা রকমের সংক্রামক রোগ থেকে শরীরকে রক্ষা করে থাকে।
- শরীরে প্রাপ্ত লৌহের স্বাভাবিক ব্যবহারের ঘাটতি হয় না ভিটামিন ‘এ’ শরীরে থাকলে। ফলে রক্ত স্বল্পতা দেখা দেয়না। শরীর সুস্থ্য থাকে।
- ভিটামিন ‘এ’ বার্ধক্য রোধ করতে সহায়ক।
- ত্বকের শুষ্কতা বা বলিরেখা ভিটামিন ‘এ’ র দ্বারা থাকে না। ত্বক সতেজ রাখে।
- টিউমার ও ক্যান্সার থেকে রক্ষা করে ভিটামিন ‘এ’।
- লিভার ভালো রাখে।
শিশু মৃত্যু হ্রাসে ভিটামিন এ:
বিশ্বস্বাস্থ্যসংস্থা ডাব্লিএইচও’র তথ্য অনুযায়ী প্রায় ১৯ কোটি (১৯০ মিলিয়ন) শিশু ভিটামিন-এর অভাবে নানা অসুখ বিসুখ, যেমন রাতকানা রোগ, রক্তাল্পতা ইত্যাদিতে আক্রান্ত হচ্ছে৷ দুর্বল হয়ে পড়ছে তাদের রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা৷
৯ মাস থেকে ৪ বছরের শিশুদের মধ্যে ভিটামিন ‘এ’ জনিত রোগ বেশি দেখা যায়। ভিটামিন ‘এ’ র অভাবে ক্যারটম্যালেসিয়া রোগ দেখা দেয়। ভিটামিন ‘এ’ সঠিক মাত্রায় শিশুর শরীরের না থাকলে মেসেলস ও ডায়রিয়া জাতীয় অসুখ দেখা দেয়। ভিটামিন এ'র অভাবে হাম ও ফুসফুসের সংক্রমণের মত রোগ ব্যাধিও সহজেই বাসা বাঁধতে পারে৷ বিশেষ করে বাচ্চারাই এসব রোগের কবলে পড়ে৷ এ কারণে বেশ কিছু উন্নয়নশীল দেশে কয়েক দশক ধরে শিশুদের জন্য ভিটামিন-এ সরবরাহের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে৷
দরিদ্র দেশের শিশুদের প্রথম কয়েকটা বছরই বেশ বিপজ্জনক৷ ৮০ লক্ষ শিশু পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই মৃত্যুবরণ করে৷ সোমালিয়া থেকে বাংলাদেশ, পাকিস্তান সব দেশেই প্রায় একই রকম অবস্থা৷
রোগ প্রতিরোধ করার জন্য প্রতিদিনের চাহিদা অনুযায়ী ভিটামিন ‘এ’যুক্ত খাবার গ্রহণ করতে হবে। গর্ভাবস্থায় ও স্তনদানের সময় মাকে পরিমান মতো ভিটামিন ‘এ’ যুক্ত খাবার গ্রহণ করতে গ্রহণ করতে হবে । যাতে গর্ভের শিশুটির ভিটামিন এর ঘাটতি না হয়। সেই সাথে শিশুর বাড়ন্ত বয়সে ও প্রাপ্ত বয়সে প্রয়োজন অনুযায়ী এ ভিটামিন গ্রহণ করতে হবে।
ডা. জুলফিকার ভুট্টা মনে করেন, এই ভিটামিন বাচ্চাদের রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা বাড়ায় এবং সংক্রামক ব্যাধিকে সহজেই মোকাবেলা করতে পারে৷
তাঁর ভাষায়, ‘‘আমাদের বিশ্লেষণে লক্ষ্য করেছি যে, ভিটামিন- এ মৃত্যুর ঝুঁকিই শুধু কমায় না, এটি ডায়রিয়া, মেসেলস ও হামের মত রোগকেও প্রতিরোধ করে৷ পাঁচ বছরের কমবয়সী শিশুদের এক পঞ্চমাংশ মারা যায় ডায়রিয়ায়৷ এই ধরনের রোগে মৃত্যু কমাতে ভিটামিন যে কতটা জরুরি তা সহজেই বোঝা যায়৷''
মায়ের বুকের হলুদ দুধ, শাকসবজি, ফলমূল শিশুদের খাওয়ানো উচিত। এছাড়া ভিটামিন ‘এ’ কম থাকলে শিশুকে পামতেল খাওয়ানো যেতে পারে।
অসুখ:
- প্রথমত চোখের নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিয়ে থাকে ভিটামিন ‘এ’ এর অভাবে যেমন: চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে যায়, অল্প আলোতে দেখতে কষ্ট হয় বা ভুল দেখে সেই সাথে রাতকানা রোগ দেখা দেয়, চোখে শুষ্কতা দেখা দিয়ে থাকে, অনেক সময় চোখের কর্নিয়াতে ইনফেকশন হয়ে থাকে। ফলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে যায়, চোখের কোণায় বিটট্স স্পট পরে অর্থাৎ চোখে দাগ পরে যায়।
- ভিটামিন ‘এ’ শরীরে কম থাকলে শরীরে প্রাপ্ত লৌহের স্বাভাবিক ব্যবহারে ঘাটতি ঘটে। ফলে রক্ত স্বল্পতা দেখা দেয়। যার থেকে অ্যানিমিয়া হবার সম্ভাবনা থেকে যায়।
- ত্বকেও বিভিন্ন ধরনের সমস্যা যেমন: চামরায় গুটি উঠা, খসখসে ত্বক, জীবানু আক্রমণ করা, চুলকানী ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয় এই ভিটামিন এর অভাবে। ভিটামিন ‘এ’ র অভাব হলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়। কম বয়সে মুখে বলিরেখা দেখা দেয়। বার্ধক্য জনিত সমস্যা তৈরি হয়।
- ক্যারাটো ম্যালেশিয়া এবং ড্রাই কর্নিয়া হয়৷ এবং রোগপ্রতিরোধক্ষমতা হ্রাস হতে পারে। মানুষের শরীরে টিউমার বা স্কিন ক্যান্সার হয় ভিটামিন ‘এ’ র অভাবে। মূলত এইডস ও স্তন ক্যান্সার হয়। তাছাড়া নিশ্বাসের সমস্যা, ভ্রুনের সমস্যা, চুল পরার সমস্যা হয়ে থাকে ভিটামিন’এ’ এর অভাবে।
- ‘এ’-এর অভাবে শিশুদের রাতকানা, অন্ধত্বসহ চোখের বিভিন্ন রোগ দেখা দেয়। শুধু তাই নয়, তাদের রক্তশূন্যতা দেখা দেওয়াসহ মৃত্যুও ঘটতে পারে।
ভিটামিন 'এ' যে খাদ্য গুলিতে রয়েছে:-
আমরা সাধারণত যে খাবার খেয়ে থাকি তার থেকেই ভিটামিন ‘এ’ র চাহিদা অনেকটা পূর্ণ হয়ে যায়। বাকি ভিটামিন ‘এ’ জাতীয় খাবার খেয়ে ঘাটতি পূরণ করা হয়।
ভিটামিন ‘এ’ মূলত ক্যারোটিন থেকে তৈরি হয়। ভিটামিন ‘এ’ তৈরির উৎস দুটি।
১.উদ্ভিদজাত ২. প্রাণীজাত
উপরিউক্ত দুইটি ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে মানব দেহে ভিটামিন এ তৈরি হতে পারে।
একটি হল- ক্যারোটিন থেকে উৎপাদন: উদ্ভিদজাত উৎস হলো:
গাজর, ফুলকপি, লাউ, পালং শাক, মিষ্টি আলু, লাল শাক, সহ সব রকমের সবুজ এবং হলুদ শাকসবজি, রঙিন ফলমূল, সাধারণত যে শাকসবজি বা ফলের রঙ যত গাঢ় হয় তাতে ভিটামিন ‘এ’ র পরিমান তত বেশি হয়। এছাড়া মিষ্টি কুমড়ো, পাকা পেঁপে, ব্রকোলি, রাঙা আলু, চিজ, আম, পনির, মটরশুঁটি, টমেটো, বাটার, কমলা ও অন্যান্য সব্জি, ফল ইত্যাদিতে খাবার থেকে ভিটামিন ‘এ’ বা ক্যারোটিন পাওয়া যায়।
- গাজর: অতি পরিচিত সবজি গাজরে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন 'এ' থাকে। বিশেষজ্ঞদের বলেন, দৈনিক প্রয়োজনীয় ভিটামিন 'এ'-এর প্রায় ৩৩৪ শতাংশ পর্যন্ত মেটাতে পারে মাত্র এক কাপ গাজর।
- মেথি ও পালং শাক: মেথি এবং পালং শাকে প্রচুর ভিটামিন 'এ' থাকে। ভিটামিনের অভাব মেটাতে প্রতিদিনের খাবারে এগুলো রাখা যেতে পারে।
- ডিমের কুসুম: ডিমের কুসুমে প্রচুর ভিটামিন 'ডি' ও ভিটামিন 'এ' থাকে। তাই সুস্বাস্থ্য পেতে এবং ত্বককে সুন্দর করতে প্রতিদিন পরিমিত ডিম খেতে হবে।
- মিষ্টি কুমড়া: মিষ্টি কুমড়ায় থাকা আলফা ক্যারোটিন শরীরে গিয়ে ভিটামিন 'এ'-তে পরিণত হয়। গবেষণামতে, প্রতি ১০০ গ্রাম কুমড়া থেকে প্রায় ২১০০ মাইক্রো গ্রাম ভিটামিন 'এ' উৎপাদন হতে পারে।
- টমেটো: টমেটোতে প্রচুর ভিটামিন 'এ' ও ভিটামিন 'সি' থাকে। এটি রান্না করে, সালাদ বানিয়ে অথবা সস, চাটনি বা স্যুপ বানিয়ে—এমনকি কাঁচাও খাওয়া যেতে পারে।
- ব্রকোলি: ব্রকোলিতে বিপুল পরিমাণে ভিটামিন 'এ'সহ অন্যান্য ভিটামিন এবং খনিজ থাকে। এটি খাদ্যতালিকায় রাখলে অনেকটাই ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতি পূরণ হতে পারে।
- ভিটামিন A2 এটি ভিটামিন এ-এর একটি বিশেষ রুপ যা মাছের যকৃত থেকে পাওয়া যায়।
অন্যটি হল- তৃণভোজী প্রাণী কর্তৃক উৎপাদন: তৃণভোজী প্রাণী কর্তৃক। প্রস্তুতকৃত ভিটামিন এ সরাসরি গ্রহণ করা। প্রাণীজ উপায়ে ভিটামিন এ যা থেকে পাওয় যায় তা হল:
দুধ, ঘি, মাখন, পনির, ডিমের কুসুম, কলিজা এবং মাছের লিভার বা যকৃতের তেল। আরোও প্রাণীজাত উৎস হলো মূলত মাংসাশী প্রাণী ( হাঙর, কড, হ্যলিবাট ইত্যাদি মাছের যকৃৎ )। মাছের তেল বা তেলযুক্ত মাছ। কর্ড লিভার অয়েল ইত্যাদি।
তথ্যসূত্র:
- পুষ্টিবিদ, তাসনিম আশিক, নর্দান ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হসপাতাল, কালের কণ্ঠ।
- বোল্ডস্কাই> যুগান্তর।
- ETV.
- Socratic Q&A.
- ডয়চে ভেলে।
- উইকিপিডিয়া।
- Edited: Natural Healing.

কোন মন্তব্য নেই