লবণ কতটা খাবেন?
লবণ বা নুন হলো খাদ্যে ব্যবহৃত এক প্রকারের দানাদার পদার্থ যার মূল উপাদান হলো সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl)। খনিজ লবণ হল অজৈব খাদ্য উপাদন। এরা শক্তি সরবরাহ করে না। খনিজ লবণ জীব দেহের স্বাভাবিক পুষ্টির অভাব পূরণ করে। জীব দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য খনিজ লবণের প্রয়োজন। রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বৃদ্ধি ও তৈরি করতে খনিজ লবণ অত্যন্ত প্রয়োজন।
| প্রতিদিন আমরা যেসব খাদ্য খাই, সেখান থেকে চিনি এবং লবণ অটোমেটিক তৈরি হয়, তাই অতিরিক্ত বাড়তি লবণ খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে, চিনির ক্ষেত্রেও একই কথা। |
মানুষের খাদ্যে বিভিন্ন ধরণের লবণ ব্যবহার করা হয়। যেমন অপরিশোধিত সৈন্ধব লবণ (sea salt), পরিশোধিত খাবার লবণ, আয়োডিনযুক্ত লবণ, ইত্যাদি। লবণ দেখতে দানাদার, সাদাটে বর্ণের। সমূদ্রের পানি থেকে অথবা খনি থেকে লবণ আহরণ করা হয়।
লবনের উপকারিতা এবং অপকারিতা:
লবণ বা সোডিয়াম ক্লোরাইড শরীরের জন্য একটি জরুরি যৌগ। সোডিয়াম স্নায়ু ও পেশির কাজের জন্য অপরিহার্য এবং শরীরের তরল নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি শরীরের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখে।
শরীরে লবণের ঘাটতি হলে কিছু লক্ষণ প্রকাশ পায়। যার মধ্যে শরীরে পানির পরিমাণ কমে যাওয়া বা মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে যাওয়া, মাথা ব্যাথা, দুর্বলতা, পেশীতে টান অনুভুত হওয়া, হার্ট বিট অনিয়মিত ও অস্বস্তি বোধ, বমি হওয়া বা বমি ভাব, বিভ্রান্তি, অবসাদ, খিঁচুনি। সোডিয়ামের পরিমাণ অনেক বেশি পরিমাণে কমে গেলে অনেক সময় আক্রান্ত ব্যক্তি অচেতন বা কোমায় চলে যেতে পারেন।
খাবার লবণের পরিমাণ কত?
আমাদের শরীরে প্রতিদিন প্রায় ৩ গ্রামের মতো লবণ প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে ১ গ্রাম থেকে দেড় গ্রাম স্বাভাবিক খাবার থেকেই আসে।
দ্য আমেরিকান হার্ট এসোসিয়েশন ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, একজন সুস্থ ব্যক্তির দৈনিক ২৩০০ মিলিগ্রামের বেশি সোডিয়াম খাওয়া উচিত নয়। ১ চা চামচ (৫ গ্রাম) লবণ থেকে প্রায় ২০০০ মিলিগ্রাম সোডিয়াম পাওয়া যায়।
গবেষকেরা বলেন, দৈনিক ৫ গ্রামের কম লবণ গ্রহণ রক্তচাপ এবং কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ, স্ট্রোক, করোনারি হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমায়। রান্না ও খাবারের সঙ্গে মেশানো কাঁচা—সবটা মিলিয়ে প্রাপ্তবয়স্কদের দিনে ৬ গ্রামের বেশি লবণ খাওয়া উচিত নয়। এই পরিমাণ লবণ প্রায় এক চা–চামচের সমান।
থাইরয়েড গ্রন্থি সঠিকভাবে কাজ করার জন্য শরীরে খনিজ আয়োডিন প্রয়োজন। বিভিন্ন ধরনের খাবারে আয়োডিন পাওয়া যায়। বেশির ভাগ লবণেও এখন আয়োডিন যুক্ত করা হয়। এগুলোকে আয়োডিনযুক্ত লবণ বলে। এই লবণে আয়োডিনের মান অক্ষুণ্ন রাখতে শুকনো কাচের বয়ামে লবণ সংরক্ষণ করতে হবে।
যেভাবে লবণের পরিমাণ কমাতে পারেন:
কিছু কৌশল অবলম্বন করলে খুব সহজেই খাবারে লবণের পরিমাণ কমানো যায়। যেমন—
- প্রক্রিয়াজাত যেসব খাবারে লবণ বেশি থাকে, সেগুলো এড়াতে হবে।
- বাংলাদেশে প্রায় সবারই খাবারে লবণের পরিমাণ একটু বেশিই থাকে। যেমন ভর্তা, শুঁটকি, আচার, সালাদ ইত্যাদিতে প্রচুর লবণ দেওয়া হয়; কিন্তু উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদ্রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসকেরা কম লবণ খেতে নির্দেশ করেন।
- খাবার সুস্বাদু করতে লবণের পরিবর্তে ভিনেগার, অরিগেনো, রোজমেরি ও রসুনের গুঁড়া ব্যবহার করুন।
- রেস্তোরাঁর খাবারগুলো টাটকা রাখতে উচ্চ পরিমাণে সোডিয়াম ব্যবহার করা হয়। কাজেই এ ধরনের খাবার যতটা সম্ভব এড়াতে হবে। বিশেষ করে যেসব খাবারে টেস্টিং সল্ট, সয়া সস, ওয়েস্টার সস, কেচাপ ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়, সেগুলো এড়াতে হবে।
- চামচ মেপে লবণ খাওয়া সম্ভব নয়। তাই লবণ গ্রহণ দৈনিক ৬ গ্রামে সীমিত রাখতে কাঁচা লবণ খাওয়া একেবারেই বাদ দিন। এমনকি সালাদ ও ফলে লবণ দেওয়া বন্ধ করতে হবে। লবণ ভেজেও খাওয়া চলবে না।
তথ্যসূত্র:
- লাজিনা ইসলাম চৌধুরী, পুষ্টিবিদ পিপলস হাসপাতাল, খিলগাঁও, ঢাকা, প্রথম আলো।
- উইকিপিডিয়া।
- book9.wordpress.com
- Edited: Natural Healing.
কোন মন্তব্য নেই