First Aid Present

Lifestyle Modification এবং প্রাকৃতিক খাদ্য, পানীয়, শাকসবজি, গাছ, ডালপালা, ফল, মসলা, পাতা ও ফুল ইত্যাদির দ্বারা প্রাথমিক চিকিৎসা।

Vitamin E অথবা খাদ্যপ্রাণ ই

 কার্যকারিতা: 

স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ত্বকের জন্য ভিটামিন ই সমৃদ্ধ খাবার জরুরি। শীতে ত্বকের নানা সমস্যাকে বিদায় দিতে সকালের নাশতায় ভিটামিন ই সমৃদ্ধ খাবার রাখতে পারেন।

শরীরের জন্য খুব প্রয়োজনীয় একটি ভিটামিন হলো ‘ই’। গবেষণায় দেখা গেছে ভিটামিন-ই গ্রহণ করলে হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, চোখের ছানি, মাংসপেশির ব্যথা, ঠাণ্ডা লাগা ও আন্যান্য সংক্রমণের ঝুঁকি কমে যায়। অন্য এক গবেষণায় দেখা গেছে, ভিটামিন-ই গ্রহণে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যায়। 

শরীরের কিছু কিছু ক্ষেত্রে ভিটামিন-ই গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা বেড়ে যায়। এসব হচ্ছে-

* অন্ত্রের অসুখ * লিভার বা যকৃতের অসুখ * অগ্ন্যাশয়ের অসুখ * অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পাকস্থলী অপসারণ।

যে শিশু টিনের দুধ খায় তাদের ভিটামিন-ই এর ঘাটতি হতে পারে। মূলত পলি স্যাচুরেটেড ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করলে ভিটামিন-ই এর প্রয়োজনীয়তা বেড়ে যায়।

১) অ্যাটাক্সিয়া একটি সমন্বয়ঘটিত রোগ। এটি মস্তিষ্ক, পেশী এবং স্নায়ুর ক্ষতি করে। অ্যাটাক্সিয়া এবং ডিস্প্রাক্সিয়ার মতো সমন্বয়ঘটিত রোগ প্রতিরোধে ভিটামিন ই-এর অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট অত্যন্ত কার্যকর। 

২) ভিটামিন ই একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা আমাদের শরীরের চাপকে প্রতিহত করে। এটি আলজেইমার এবং পার্কিনসনের মতো রোগও প্রতিরোধ করে।

৩) অতিরিক্ত প্রোল্যাকটিন ক্ষরণ মহিলাদের মধ্যে প্রিমেন্সট্রুয়াল সিন্ড্রোম(PMS)-এর লক্ষণ সৃষ্টি করে। ভিটামিন ই প্রোল্যাক্টিনের প্রভাবকে স্বাভাবিক করে তোলে এবং PMS-কে প্রতিরোধ করে। 

৪) উচ্চ রক্তচাপ সাধারণত কিডনির সাথে সম্পর্কিত। ভিটামিন ই-এর অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট উচ্চ রক্তচাপকে কমায় এবং শরীরে কিডনির কার্যকারিতা উন্নত করে। 

৫) গুড কোলেস্টেরল কমে গেলে বা ব্যাড কোলেস্টেরল বেড়ে গেলে শরীরের নানা রকম সমস্যা দেখা দেয়। ভিটামিন ই আমাদের শরীরে এই গুড এবং ব্যাড কোলেস্টেরলের সমতাকে বজায় রাখতে সাহায্য করে। ফলে, আমাদের শরীর সুস্থ থাকে।

৬) বয়স বাড়ার সাথে সাথেই বিভিন্ন চোখের সমস্যা দেখা যায়। ভিটামিন ই আমাদের দৃষ্টি শক্তিকে বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে। ভিটামিন ই এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এর কারণে দৃষ্টি এবং চোখের অন্যান্য রোগ প্রতিরোধ হয়।

৭) হরমোনের ক্ষরণের অসমতা আমাদের দেহে নানারকম সমস্যার সৃষ্টি করে। যেমন-দেহের ওজন কমে যাওয়া, ত্বক রুক্ষ হয়ে যাওয়া, ইউরিন ইনফেকশন, চুল পড়ে যাওয়া। এছাড়া স্নায়ু জনিত নানা সমস্যা ও হরমোনের অসম ক্ষরণের ফলে দেখা দিতে পারে। ভিটামিন ই শরীরে হরমোনের ক্ষরণকে ঠিক মতো চালনা করতে সাহায্য করে শরীরের স্বাভাবিক সুস্বাস্থ্য বজায় রাখে।

৮) ফ্যাটি লিভার এবং লিভারের প্রদাহের চিকিত্সায় ভিটামিন ই খুব কার্যকর। এটি লিভারের এনজাইমগুলির কার্যকারিতা উন্নত করে এবং এতে চর্বি জমা রোধ হয়।

৯) ভিটামিন ই তার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যের জন্য পরিচিত। তাই ভিটামিন ই শুক্রাণুর গুণমানকে উন্নত করে এবং এটি আমাদের দেহের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে এবং অসুস্থতা থেকে বাঁচাতে সহায়তা করে।

১০) ভিটামিন-ই রাসায়নিক ক্রিয়া বা অক্সিডেশনকে প্রতিহত করে, এ অক্সিডেশন শরীরে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।

১১) শরীরের স্নায়ু ও মাংসপেশির কাজ সঠিক করার জন্যও ভিটামিন-ই গুরুত্বপূর্ণ।

১২) এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে, লোহিত রক্তকণিকা গঠনে সহায়তা করে।

উৎস: 

আপনি কি পর্যাপ্ত ভিটামিন-ই গ্রহণ করছেন?

সুস্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হল সুষম এবং বৈচিত্র্যপূর্ণ খাবার খাওয়া। আপনি যদি খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে বিশেষ কোনো ভিটামিন বা মিনারেল পেতে চান তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে আপনার খাদ্য তালিকা তৈরি করে নিন। আপনি যদি মনে করেন খাবারের মাধ্যমে আপনি পর্যাপ্ত ভিটামিন বা মিনারেল পাচ্ছেন না তাহলে একটি পথ্যবিধি মেনে চলুন।

খাবার রান্না করলে এবং সংরক্ষণ করে রাখলে ভিটামিন-ই কিছুটা নষ্ট হয়। শুধু ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করলে সেটি সুন্দর খাবারের বিকল্প হতে পারে না এবং সেটি শরীরে শক্তিও উৎপন্ন করতে পারবে না। অন্যান্য খাদ্যের উপস্থিতি ছাড়া ভিটামিনগুলো নিজেরা কাজ করতে পারে না। শরীরে ভিটামিন-ই এর শোষণের জন্য কিছুটা চর্বির প্রয়োজন হয়।

আপনি পর্যাপ্ত ভিটামিন-ই পাওয়ার জন্য নিচের পরামর্শ গ্রহণ করুন-

ভিটামিন-ই সমৃদ্ধ খাবার খান : 

উদ্ভিজ্জ তেল (কর্ন, কার্পাস তুলার বীজ, সয়াবিন), ক্যানোলা বা সানফ্লাওয়ার অয়েলে রান্না করা খাবার, আমন্ড, চিনেবাদাম, ব্রকোলি, গমের ভ্রুণ, সমগ্র খাদ্যশস্য, মাছ, অ্যাভোক্যাডো, সূর্যমুখীর বীজ, এবং গাঢ় সবুজ শাকসবজি ভিটামিন-ই এর চমৎকার উৎস। আপনার দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় এসব খাবার রাখুন।

ভিটামিন-ই সাপ্লিমেন্ট খান : 

খাদ্য থেকে ১০০-৪০০ আইইউ ভিটামিন-ই পাওয়া সম্ভব হয় না। ভিটামিন-ই এর অন্যতম ভালো উৎস জলপাই তেল। অথচ প্রতি চা চামচ জলপাই তেলে থাকে প্রায় ১.৭৪ আইইউ ভিটামিন-ই। তার মানে দৈনিক ১০০ আইইউ ভিটামিন-ই পেতে আপনাকে দৈনিক খেতে হবে ৩ কাপ জলপাই তেল। সুতরাং পর্যাপ্ত ভিটামিন-ই পেতে খাবারের পাশাপাশি আপনি চিকিৎসকের পরামর্শ মতো ভিটামিন-ই সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করতে পারেন।

পালং শাক:

সবুজ এই শাক সকালের খাবারে রাখতে পারেন। সেদ্ধ করে বা কাটা পালং ডিমের সঙ্গে ভেজে খেতে পারেন। আবার স্যান্ডউইচেও পালং দিতে পারেন।

কাজু বাদাম:

৫/৬টি কাজু বাদাম সারা রাত পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে খোসা ছাড়িয়ে খেয়ে নিন। সকালে চা বা নাশতার সঙ্গে এই বাদাম খেতে পারেন।

অ্যাভাকোডা:

সকালের নাশতায় এই ফল রাখতে পারেন। অ্যাভাকোডা টোস্ট বা ডিম, মাংস, সবজির সঙ্গে রুটির ওপরে দিয়ে খেতে পারেন।

বাদাম:

সকালে রুটির সঙ্গে পিনাট বাটার খেতে পারেন। আবার অন্য খাবারের সঙ্গে ব্লেন্ড করে শেক এবং স্মুদি তৈরি করে খেতে পারেন।

সূর্যমুখীর বীজ:

ছোট এই বীজ ভিটামিন ই সমৃদ্ধ। সকালে চায়ের সঙ্গে এক মুঠো ভাজা সূর্যমুখী বীজ ভালো নাশতা হতে পারে। আবার আপনি চাইলে ওটস, সিরিয়াল, প্যানকেক বা অন্য খাবারের মধ্যে ছিটিয়ে দিয়েও খেতে পারেন এই বীজ।

অসুখ:

চুল পাতলা হয়ে যাওয়া:

প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ভিটামিন ‘ই’ থাকলে চুল ও ত্বক ভালো থাকে। ভিটামিন ‘ই’ ত্বককে তারুণ্যদীপ্ত ও স্বাস্থ্যকর রাখতে সাহায্য করে। ‘ই’-এর অভাবে চুল পড়া ও চুল পাতলা হয়ে যাওয়ার সমস্যা হয়। 

পেশির দুর্বলতা:

অনেক গবেষণায় বলা হয়, ভিটামিন ‘ই’-এর অভাবে মায়োপ্যাথি হয়। মূলত শরীরে পেশির আঁশের দুর্বলতা হলে এ সমস্যা হয়। এ কারণে শরীর দুর্বল লাগতে পারে। তাই রোজকার খাদ্যতালিকায় ভিটামিন ‘ই’ রাখা জরুরি।

ভারসাম্যহীনতা:

ভিটামিন ‘ই’-এর ঘাটতি হলে শরীরে ভারসাম্যহীন বোধ হয়। মূলত ভিটামিন ‘ই’-এর অভাবে স্নায়ুগুলোতে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বেড়ে যায়। এ কারণে এ সমস্যা হয়।

ঝাপসা দেখা:

আপনি যদি প্রায়ই ঝাপসা দেখেন, বিশেষ করে রাতে, তবে ভিটামিন ‘ই’-এর অভাবে এমনটা হতে পারে। ভিটামিন ‘ই’-এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান চোখের রেটিনাকে সুরক্ষা দেয়। এর অভাবে চোখে ঝাপসা দেখার সমস্যা হয়। এ ছাড়া এই ভিটামিনের অভাবে শরীরে হালকা রক্তশূন্যতা হতে পারে।

তথ্যসূত্র:

  • ডা. মিজানুর রহমান কল্লোল, যুগান্তর।
  • যমুনা টিভি।
  • হেলথ ডাইজেস্ট> এনটিভি।
  • বোল্ডস্কাই।
  • Edited: Natural Healing.

কোন মন্তব্য নেই

Popular Post

Blogger দ্বারা পরিচালিত.