Vitamin D অথবা খাদ্যপ্রাণ ডি
কার্যকারিতা:
ফ্যাট সলিউবল বা চর্বিতে দ্রবণীয়৷ ইহা এমন এক প্রকার ভিটামিন যা সূর্যালোক এর উপস্থিতিতে মানবদেহের চর্মে উৎপন্ন হয়।
- ভিটামিন ডি অস্থি ও দাঁতের কাঠামো গঠন করে।
- রক্ত প্রবাহে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস এর মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।
- মানবদেহের হাড় তৈরিতে সাহায্য করে৷
- দাঁত ও হাড় মজবুত করার জন্য খুবই উপকারী।
- যেহেতু ভিটামিন-ডি একটি ফ্যাট সলিউবল সিকুস্টারয়েড, তাই এর কাজ হচ্ছে দেহের অন্ত্র (ইনটেসটাইন) থেকে ক্যালসিয়ামকে শোষণ করা।
- এটি আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম এবং ফসফরাসকেও দ্রবীভূত করে।
- প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
উৎস:
![]() |
| শরীরে ভিটামিন ডি এবং ক্যালসিয়াম একত্রে কাজ করে! |
মাছ: বিভিন্ন মাছে রয়েছে ভিটামিন ডি। বিশেষ করে চর্বিযুক্ত মাছ যেমন: স্যালমন, সারদিনস, টুনা, ম্যাককেরেলে পাবেন ভিটামিন ডি। দৈনিক ভিটামিন ডির চাহিদার ৫০ শতাংশ পূরণ হতে পারে একটি টুনা মাছের স্যান্ডউইচ বা তিন আউন্স ওজনের একটি স্যালমান মাছের টুকরো থেকে।
মাশরুম: মাশরুমের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে আমরা অনেকেই জানি। এই মাশরুমে রয়েছে ভিটামিন ডি। পরটোবেললো মাশরুম সূর্যের আলোয় বড় হয়, এর মধ্যে রয়েছে ভিটামিন ডি। তাই নিয়মিত মাশরুম খেতে পারেন।
কমলার জুস: ভিটামিন ডির জন্য ভালো ব্র্যান্ডের জুসও খেতে পারেন। তবে খাওয়ার আগে প্যাকেটের গায়ে দেখে নিন, কী কী উপাদান দিয়ে তৈরি।
ডিম: ডিমে অল্প পরিমাণ ভিটামিন ডি রয়েছে। যাদের উচ্চ রক্তচাপ এবং উচ্চ কোলেস্টেরলে ভুগছেন তাদের ডিমের কুসুম খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক হতে হবে।
গরুর মাংস: গরুর যকৃত বা লিভারে রয়েছে ভিটামিন ডি।
এছাড়া ভিটামিন ডি-র মূল উৎস হল সূর্যরশ্মি৷ এক্ষেত্রে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত রোদ্রে থাকতে পারলে ভালো ফল পাওয়া যায়, খালি গায়ে থাকতে না পারলেও অন্তত হাত-পা খুলে রোদ্রে থাকা দরকার। যেকোনো ভাবে শরীরের রোদ পৌছিলে ভিটামিন ডি উৎপন্ন হবে। তবে কালো এবং মোটা চামড়াতে কম উৎপন্ন হয়।
অসুখ:
- ভিটামিন ডি এর অভাবে হাড়ের ক্ষয় এবং গঠনগত ত্রুটি দেখা দেয়।
- ভিটামিন ডি ও ক্যালসিয়াম এর অভাবে শিশুদের দেহের হাড় নরম হয়ে যায়, ঠিকমতো বৃদ্ধি পায় না এবং হাড় বাঁকা হয়ে যায়।
- এর অভাবে বাচ্চাদের পা বাঁকা বা রিকেট রোগ হয়।
- পায়ের হাড় ধনুকের মত বেঁকে যায় এবং দেহের চাপে অন্যান্য হাড়গুলোও বেঁকে যায়।
- হাত ও পায়ের অস্থিসন্ধি বা গিট ফুলে যায়।
- বুকের হাড় বা পাজরের হাড় বেঁকে যায়।
- হাড় নরম হয়ে আলঝেইমার রোগ হতে পারে।
- যাঁদের দেহে ভিটামিন-ডি’র অভাব রয়েছে, তাঁদের অ্যাজমার সমস্যা হতে পারে।
- এছাড়া প্রেগন্যান্সির সময় হবু মা অস্টিও ম্যালেশিয়া বা হাড় ভঙ্গুর হওয়ার রোগে ভোগেন৷
- পেশিতে ব্যথা, হাই প্রেশার হরমোনের সমস্যায় ভোগার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়াও কোমরে ব্যথা, সারাদিন ক্লান্তি বোধ এগুলিও লেগেই থাকে।
- বড়দের হাড় ক্ষয় বা অস্টিওমেলেশিয়া রোগ হয়।
- অস্টিওম্যালেশিয়া এর লক্ষণসমূহ:
- অন্ত্রে ক্যালসিয়াম শোষণে বিঘ্ন ঘটে।
- ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস এর সঞ্চয় কমতে থাকে।
- থাইরয়েড গ্রন্থির কাজের পরির্বতন ঘটে।
- অস্থি দূর্বল ও কাঠিন্য কমে যায় ফলে হালকা আঘাতে অস্থি ভেঙে যাওয়ার সম্ভবনা অনেক বেশি।
- প্রতিরোধ:
- উপযুক্ত পরিমাণে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন “ডি” যুক্ত খাবার গ্রহণ করা।
প্রতিরোধে পরামর্শ: করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে ভিটামিন 'ডি' জাতীয় খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদরা। তবে আমরা অনেকেই জানি না যে কীভাবে ভিটামিন 'ডি' গ্রহণ করবো। তাই শিশুকে ভিটামিন “ডি” সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ানো। শিশুকে কিছুক্ষণের জন্য সূর্যের নরম আলোয় বিশেষ করে সকাল ও বিকাল বেলা খেলাধুলা করতে দেওয়া।
তথ্যসূত্র:
- কালের কণ্ঠ।
- উইকিপিডিয়া।
- Edited Natural Healing.
.jpg)
কোন মন্তব্য নেই