Vitamin C অথবা খাদ্যপ্রাণ সি
কার্যকারিতা:
ভিটামিন সি পানিতে দ্রবণীয়৷ গবেষণায় দেখা গেছে,
- সারা শরীরের টিস্যুগুলোর বৃদ্ধি এবং মেরামতের জন্য ভিটামিন সি প্রয়োজনীয়। ভিটামিন সি ক্ষত নিরাময়ে ও স্বাস্থ্যকর হাড়, দাঁত, রক্ত, ত্বক এবং তরুণাস্থির মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ করতে সহায়তা করে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে ভিটামিন সি দেহে ফ্রি র্যাডিকেলগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করে। যা নির্দিষ্ট ক্যান্সার এবং হৃদরোগ প্রতিরোধ বা বিলম্বিত করতে এবং স্বাস্থ্যকর বার্ধক্য প্রচার করতে সহায়তা করে।
- এটি দেহের ক্ষতিকর পদার্থ থেকে রক্ষা করে। বিশেষ করে চোখের লেন্স, কোষের ভেতরকার নিউক্লিয়াস, ত্বক ও হাড়ের কোলাজেনকে সুরক্ষা দেয় ভিটামিন সি।
- মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য রক্ষা বা রক্তের লৌহ শোষণেও ভিটামিন সির ভূমিকা রয়েছে। মস্তিষ্কের নিউরোট্রান্সমিটারের চলাচল ও তথ্য আদান-প্রদানে এটি ভূমিকা রাখে।
- এটি শরীরের বিভিন্ন টিস্যু ভালো রাখতে সাহায্য করে। শরীরের রোগ সেরে ওঠার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে সাহায্য করে। এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
- খাবার থেকে প্রাপ্ত ভিটামিন সি অস্টিওআর্থারাইটিসে আক্রান্তদের মধ্যে তরুণাস্থির ক্ষতির ঝুঁকি হ্রাস করে বলে মনে করা হয়।
- কাটা-ছেঁড়া বা অস্ত্রোপচারের পর ভিটামিন সি বেশি করে খাওয়া উচিত, এতে ঘা দ্রুত শুকায়।
- ঠান্ডা-সর্দি বা জ্বরেও এটি দ্রুত সারাতে সাহায্য করে।
উৎস:
নিচের ছকে প্রতি ১০০ গ্রামে কত (mg) মিলিগ্রাম ভিটামিন সি পাওয়া যায় তার নির্দেশিকা এবং এখানে শুধু ৫০ মিলিগ্রাম এর উপরের ছক দেয়া হলো,
সবজি: কাঁকরোল (৯৯), উচ্ছে (৯৬), করলা (৯১), কাঁচা আম (৯০), ফুলকপি (৭৩), শজনে (৭০), ওলকপি (৫৩)।শাক: শজনেপাতা (২২০ মিলিগ্রাম), নটেশাক (১৭৯), ধনেপাতা (১৩৫), ডাটাশাক (৮৩), গাজরপাতা (৭৯), করলাশাক (৭৮), বিটশাক (৭০), মুলাশাক (৬৯), পুঁইশাক (৬৪), কালো কচুশাক (৬৩), ছোলাশাক (৬১), শর্ষেশাক (৬০), বরবটিপাতা (৫৭), পাটশাক (৫৪), মেথিশাক (৫২)।
ফল: আমলকি (৪৬৩ মিলিগ্রাম), পেয়ারা (২২৮), করমচা (১৩৫), জাম্বুরা (১০৫), আমড়া (৯২), ব্রকলি (৮৯), ডেউয়া (৬৬), কাগজি লেবু (৬৩), পাকা পেঁপে (৬২), কালোজাম (৬০), স্ট্রবেরি (৫৮), মাল্টা (৫৪), বরই (৫১), মুসাম্বি (৫০)।
এ ছাড়া কিছু মসলাজাতীয় উদ্ভিদ যেমন: কাঁচা মরিচ (লাল মরিচ) (১২৫), পেয়াজ, গোলমরিচ,পুদিনাপাতা বা পার্সলেপাতা ভিটামিন সির ভালো উৎস।
কিছু প্রাণীজ খাদ্য যেমন কলিজা, মাকটাক (তিমির চামড়া), ঝিনুক, মস্তিষ্ক, সুষুম্নাকাণ্ড ইত্যাদি।
সবচেয়ে বেশি ভিটামিন সি রয়েছে আমাজন জঙ্গলের কামু কামু বেরিতে। এরপর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পরিমাণ ভিটামিন সি রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার বিলিগোট পামে, আর তৃতীয় সর্বোচ্চ পরিমাণ রয়েছে হিমালয় পর্বতাঞ্চলের গোজি বেরিতে।
অসুখ:
- ভিটামিন সি এর অভাবে অ্যানিমিয়া ও স্কার্ভি রোগ হয়৷
- যাদের শরীরে ভিটামিন-সি-এর অভাব রয়েছে, তাদের খুব সহজে শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে। শরীরে শক্তি কমে যায়, অবসন্ন হয়ে পড়েন।
- শরীরে ভিটামিন-সি-এর ঘাটতি হলে বিরক্তিভাব দেখা দেয়। মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়।
- যাদের শরীরে ভিটামিন-সি-এর ঘাটতি হয়, তাদের হঠাৎ করে ওজন কমে যেতে পারে।
- ভিটামিন-সি-এর অভাব হলে গিঁটে ব্যথা বা পেশিতে ব্যথার সমস্যা হয়।
- ভিটামিন-সি-এর অভাব হলে দেহে কালশিটে দাগ পড়ে।
- ভিটামিন-সি দাঁত ও মাড়ির স্বাস্থ্যকে ভালো রাখে। এর ঘাটতি দেখা দিলে এসব অংশে সমস্যা হতে পারে।
- ত্বক ও চুল শুষ্ক হয়ে যাওয়াও ভিটামিন-সি-এর ঘাটতির লক্ষণ।
- ভিটামিন-সি-এর ঘাটতি হলে শরীরে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যায়।
তথ্যসূত্র:
- কালের কণ্ঠ।
- উইকিপিডিয়া।
- প্রথম আলো।
- আরটিভি।
- Edited: Natural Healing.
.jpeg)
কোন মন্তব্য নেই