First Aid Present

Lifestyle Modification এবং প্রাকৃতিক খাদ্য, পানীয়, শাকসবজি, গাছ, ডালপালা, ফল, মসলা, পাতা ও ফুল ইত্যাদির দ্বারা প্রাথমিক চিকিৎসা।

মেনোপজ: নারীত্ব, যৌনতা, আবেগ, শারীরিক জটিলতা, রজঃনিবৃত্তির প্রভাব নিয়ে যত কথা

মেনোপজ, বাঙলায় যাকে বলে রজঃনিবৃত্তি, অর্থাৎ নারীদের একটি বয়সের পর পুরোপুরি মাসিক ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়া। পৃথিবীর সকল নারীর জীবনে একটি বয়সে এসে এটি ঘটে কিন্তু বাংলাদেশে শব্দটি নিয়ে সহসা আলোচনা হতে দেখা যায় না।

মেনোপজ নারীর শরীরে প্রচুর পরিবর্তন নিয়ে আসে। সঠিক যত্ন না নিলে অনেক স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

মেনোপজের ফলে নারীর শরীরে ইস্ট্রোজেন নামের একটি হরমোন কমে যায়। ফলে নানান জটিলতা দেখা দেয় কিন্তু বাংলাদেশে নারীরা মেনোপজের প্রভাব নিয়ে কথা বলেন না, এর জন্য কোন প্রস্তুতি নেন না এবং নীরবে মানিয়ে নেন। 
মেনোপজ নিয়ে কয়েকজন নারীর ভাবনা:

ঢাকার একটি আবাসিক এলাকায় ফ্ল্যাটের দরজা খুলে শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন ঘরের গৃহকর্ত্রী। বসতে বলে চায়ের জোগাড় করতে গেলেন। মেনোপজের মতো একটি বিষয় নিয়ে কথা বলতে কিছুটা অস্বস্তি বোধ করছিলেন। দুই ছেলে মেয়ে চারপাশে আছে কিনা একটু নজর বুলিয়ে নিলেন। দুই ছেলেমেয়ে যার যার ঘরে গান শুনছে দেখে একটু আশ্বস্ত হলেন। কিন্তু আসল কথায় এলে মেনোপজ সম্পর্কে খুব বেশি ধারণা দিতে পারলেন না ৪৫ বছর বয়সী এই নারী। তিনি জানালেন, “না আমি আসলে কোন প্রস্তুতি নেই নাই বা এরকম কিছু সম্পর্কে আসলে খুব একটা জানিও না”। কেউ কি কখনো বিষয়টি বিষয়টা সম্পর্কে তথ্য দিয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “হ্যাঁ আমি শুনছি মাসিকটা বন্ধ হয়ে যায়। তখন কিছু শারীরিক সমস্যা হয়। আমাদের বড় বোন ও ভাবিদের কাছে শুনেছি”।

বিশ্বব্যাপী সকল নারীর একটি বয়সের বাস্তবতা হচ্ছে মেনোপজ বা রজঃনিবৃত্তি। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশিত ব্রিটিশ মেডিকেল বুলেটিন বলছে, বয়স অনুপাতে গড়ে একজন নারীর জীবনের এক-তৃতীয়াংশ সময় মেনোপজের মধ্য দিয়ে কাটে। যার একদম প্রাথমিক লক্ষণ খুব গরম লাগা।

মনোপজের ফলে হঠাৎ করে খুব গরম লাগে। মুখ লাল হয়ে যায়, ঘেমে যায়।
সেই অনুভূতিকে গুরুত্ব দেননি এমন একজন মহিলা বলছিলেন, “আমার মাঝেমাঝে হঠাৎ যখন খুব গরম লাগতো, একদম মনে হত যে শরীর জলে যাচ্ছে, ভাবতাম কিরে এত গরম লাগে কেন? এরকম হচ্ছে কেন? আবার হঠাৎ মেজাজ খুব খিটখিট লাগতো। বুঝতাম না প্রথমে, পাত্তাও দেই নাই।”

গরম ও খিটখিটে মেজাজের চেয়েও অনেক বেশি প্রভাবিত হয়েছে এই নারীর শরীর। অস্টিওপোরোসিসের কারণে তার মেরুদণ্ড বাঁকা হয়ে গেছে। হাড় ক্ষয়ে যাওয়ার কিছু লক্ষণ আগেই বুঝেছিলেন কিন্তু মনোপজের পর তা বেশ জটিল আকার ধারণ করে।

তিনি বলছেন, “আমার বয়স এখন ৫৫। আমার মাসিক বন্ধ হইছে ৫০ বছরের দিকে। ফ্যামিলিতে মেয়েমানুষ যারা ছিল তারা সবাই আমার চেয়ে বয়সে ছোট। কারোর সাথে যে কথা বলবো সেটাও পারি নাই”।

ডাক্তারের কাছে যখন গেছি, আমাকে বলছে, "আমার অনেকগুলো বাচ্চা হইছে তাই এমনিতেই হাড় দুর্বল। কিন্তু মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সমস্যাটা অনেক বেড়ে গেছে। মাসিক বন্ধ হওয়ার সাথে এরও যে সম্পর্ক আছে তাতো বুঝি নাই।”

আবার মাসিক পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়া অনেক নারীর কাছে বরং স্বস্তির একটি বিষয়। চা খেতে খেতে কথা হচ্ছিল ঢাকার আবাসিক এলাকায় সেই দুই সন্তানের জননীর সাথে।

“এটা বন্ধ হয়ে গেলে মনে হয় আমার ভালই লাগবে। আমার আর ছেলে মেয়ের দরকার নেই। এটা (মাসিক) আমার কাছে একটা ঝামেলা লাগে।”, কথাগুলো বলে তিনি বেদম হাসতে লাগলেন।

কেন এত গরম লাগে?

ইস্ট্রোজেন হরমোনের অভাবে এরকম অনুভূতি হয়। এটি মানুষের ব্রেইন বা মস্তিষ্কের সাথে সম্পৃক্ত।

সাধারণত তাপমাত্রার পরিবর্তন হলে শরীর সেটির সাথে খাপ খাইয়ে নেয়। কিন্তু যখন ইস্ট্রোজেন হরমোন কমে যায়, মানবদেহের থার্মোস্টেট বা তাপমাত্রা বোধের বিষয়টি এলোমেলো বা দুর্বল হয়ে যায়। ফলে, অনেক সময় মস্তিষ্ক মনে করে শরীরে অতিমাত্রায় গরম লাগছে।

ইস্ট্রোজেন হরমোনের কারণে মানুষের মুড বা মেজাজের উপরেও প্রভাব পড়ে। এই হরমোনের পরিমাণ কমে গেলে দুশ্চিন্তা বাড়তে পারে ও মনমরা ভাব হতে পারে।

এছাড়া ইস্ট্রোজেন হরমোনের অভাব ত্বকের উপরও প্রভাব ফেলে। ত্বক শুষ্ক হয়ে যায় এবং মনে হয় যেন ত্বকের নিচে পোকা-মাকড় হাঁটাহাঁটি করছে।

ইস্ট্রোজেন হরমোনের সাথে অন্য আরও হরমোন সম্পৃক্ত। যেমন প্রোজেস্টেরোন ও টেস্টোস্টেরোন। তবে, ইস্ট্রোজেন হরমোনের মতন এগুলোর প্রভাব এতোটা তীব্র নয়।

মেনোপজ হলে নারীর শরীরে যা ঘটে:

বাংলাদেশ মেনোপজ সোসাইটির তথ্যমতে এদেশে নারীদের মনোপজের গড় বয়স ৫১ বছর।

মেনোপজের বয়স প্রতিটি নারীর ক্ষেত্রে ভিন্ন। মেনোপজের প্রক্রিয়াটি কয়েক বছর ধরে ধীরে ধীরে ঘটে।

সাধারণত ৪৫ থেকে ৫৫ বছর বয়সের মধ্যে নারীদের মেনোপজ হয়ে থাকে। অনেক সময় এই বয়সের মধ্যে থেমে থেমে কয়েক মাস পরপর ঋতুস্রাব হতে পারে।

অনেক সময় কোন অস্ত্রোপচারের কারণে যদি কোনও নারীর দুটো ওভারি অথবা জরায়ু ফেলে দিতে হয় তাহলেও হঠাৎ মেনোপজ হয়ে যায়।

তবে একটানা ১২ মাস যখন ঋতুস্রাব বন্ধ থাকে, তখন সেটিকে চিকিৎসকেরা মেনোপজ বলে থাকেন। মেনোপজের সময় আকস্মিকভাবে আগুনের হল্কার মতন শরীরে গরম অনুভূত হওয়া, রাতের বেলায় ঘাম হওয়া, ঘুম না হওয়া, দুশ্চিন্তা হওয়া, মনমরা ভাব এবং যৌনতায় বা মিলনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলার ঘটনা অতি সাধারণ। এছাড়া মূত্রথলিতে সমস্যা এবং যোনিপথ শুষ্ক হয়ে যাওয়ার ঘটনাও খুব স্বাভাবিক। 

আর ইস্ট্রোজেন হরমোনের উৎপাদন যখন শরীরে একেবার বন্ধ হয়ে যায় এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়ে নারীদের হাড় ও হৃদপিণ্ডের উপরে।

তবে যদি থেরাপির মাধ্যমে এই হরমোন প্রতিস্থাপন করা যায় এবং শরীরে এই ইস্ট্রোজেন হরমোনের পরিমাণ ঠিক রাখা যায় তাহলে শরীরে এর নেতিবাচক প্রভাব কিছু কমানো সম্ভব।

বাংলাদেশ মেনোপজ সোসাইটির সাংগঠনিক সম্পাদক গুলশান আরা বলছেন, মেনোপজের ফলে নারীর শরীরে যে পরিবর্তনগুলো হয় তার পেছনে মূল কারণ ইস্ট্রোজেন নামের একটি হরমোন। যা নারীর শরীরের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলছেন, “ইস্ট্রোজেন নারীদের নানাভাবে প্রটেকশন দেয়। যেমন নারীর মেনোপজের আগে পুরুষের চেয়ে হার্ট ডিজিজ কম হয় এবং ইস্ট্রোজেনের জন্যেই। কিন্তু যখনই তার মেনোপজ হয় তখন কিন্তু নারী ও পুরুষ হার্ট ডিজিজের সমান সমান রিস্কে থাকে। ইস্ট্রোজেন হরমোন নারীর প্রজনন গ্রন্থিকে তো প্রোটেকশন দেয়ই, ইস্ট্রোজেন নারীর মানসিক স্বাস্থ্যেও প্রভাব ফেলে। তাছাড়া ইস্ট্রোজেন নারীর হাড়ের জন্য ভাল। ইস্ট্রোজেন হরমোন নারীর শরীরে আরও অনেক কাজ করে।”

গুলশান আরা বলছেন, তার কাছে মেনোপজ নিয়ে কথা বলতে আসেন এমন নারীর সংখ্যা খুবই বিরল।

মেনোপজের ফলে ইস্ট্রোজেন হরোমন কমে যাওয়ায় নারীর শরীরে আর কি ঘটে সে সম্পর্কে আরো বিস্তারিত ধারনা দিলেন তিনি।

“মেনোপজের কারণে ইস্ট্রোজেন হরমোন কমে গেলে সবচেয়ে প্রথমে যেটা ঘটে সেটা হল হটফ্লাস। দিনের মধ্যে কয়েকবার হঠাৎ করে খুব গরম লাগে। মুখ লাল হয়ে যায়, ঘেমে যায়। এছাড়া অনেক কিছু ভুলে যাওয়া, খুব ছোটখাটো বিষয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে কেঁদে ফেলা।

অনেকে প্রস্রাব ধরে রাখতে পারে না, একটু হাঁচি কাশি দিলে প্রস্রাব পড়ে যায়। যোনিপথ শুকিয়ে যায়, জ্বালা-পোড়া হয়। আর ইস্ট্রোজেন না থাকার আর একটা দীর্ঘমেয়াদি এফেক্ট হল অস্টিওপোরোসিস।”

অস্টিওপোরোসিস:

এটি মেনোপজ পরবর্তী সবচেয়ে জটিল সমস্যাগুলোর একটি। এটি হাড়ের ক্ষয়জনিত একটি রোগ।

মেনোপজ পরবর্তী সময়ে নারীরা অস্টিওপোরোসিসের বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। পুরুষের চেয়ে নারীর হাড়ের পুরুত্ব কম।

ইস্ট্রোজেন তাকে এ থেকে নিরাপত্তা দেয়। কিন্তু শরীরে মেনোপজের পর ইস্ট্রোজেন হরমোনের নিরাপত্তা কমে যায়।

এর কোন উপসর্গ থাকে না কিন্তু খুব অল্পতেই হাড় ভেঙে যেতে পারে।

নারীর শরীরে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম এবং কায়িক পরিশ্রমের অভ্যাস না থাকলে মেনোপজ পরবর্তী সময়ে অস্টিওপোরোসিস জটিল আকার ধারণ করতে পারে।

এছাড়া ঘুম না হওয়া, উদ্বেগ, মনমরা ভাব এবং যৌন মিলনে আগ্রহ কমে যাওয়া মেনোপজ পরবর্তী কয়েকটি অভিজ্ঞতা।

সকল নারীর অভিজ্ঞতা অবশ্য একরকম নয়।

মেনোপজের পর ইস্ট্রোজেন হরমোন শরীরে আর পুনরুৎপাদন হয় না। ফলে, মেনোপজের পর ইস্ট্রোজেন হরমোনের অভাব নিয়েই জীবনের বাকিটা সময় কাটাতে হয়
বাংলাদেশে নারীরা মেনোপজ নিয়ে কেন নীরব থাকেন?

মাসিক শুরু হলে যেমন নারীর শরীরে আমূল পরিবর্তন ঘটে, সেটি বন্ধ হয়ে গেলেও বদলে যায় অনেক কিছু।

চিকিৎসকেরা বলেন মেনোপজের জন্য আগেভাগে একজন নারীর প্রস্তুতি দরকার।

কিন্তু বাংলাদেশে নারীদের মেনোপজের প্রভাব নিয়ে কথা বলতে যেমন দেখা যায় না, এর জন্য কোন প্রস্তুতিও তারা নেন না এবং কোন সমস্যা হলে নীরবেই তা সহ্য করেন।

বাংলাদেশে মেনোপজ বিষয়ে অনেক নারীর জ্ঞান বেশ সীমিত বলে মনে হয়।

মেনোপজ মানে মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়া এর বাইরে তেমন কোন তথ্য তাদের জানা নেই।

আর চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার ক্ষেত্রে নারীরা সাধারণত স্বামী অথবা পরিবারের অন্য কোন সদস্যের উপর নির্ভরশীল।

অন্য কোন শারীরিক সমস্যার ক্ষেত্রে যেমন, মেনোপজের ক্ষেত্রে বিষয়টি চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয় না। যদি না তা বড় কোন শারীরিক সমস্যা সৃষ্টি করে।

প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়ে বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে গবেষণা করেছেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের জেমস পি গ্র্যান্ট স্কুল অফ পাবলিক হেলথের অধ্যাপক আফসানা কাওসার।

তিনি বলছেন, পশ্চিমা বিশ্বে মেনোপজ নারীদের জন্য অনেক বড় ইস্যু।

“তাদের কাছে যৌনতা একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অনেকে চেহারায় মেনোপজের ছাপ পড়লে, অর্থাৎ মেনোপজের কারণে সৌন্দর্য কমে গেলে তারা ছবি পর্যন্ত তুলতে চান না। সেখানে হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি হয়। অনেক কিছু করেন নারীরা। তারা এটি নিয়ে কথা বলেন।”

তার ভাষায়, বাংলাদেশে নারীর জীবনের পরবর্তী ধাপ যেমন সে শাশুড়ি, নানী ও দাদী হয়ে উঠবে।

সন্তান জন্মদান, যৌনতা, সৌন্দর্য, শরীরের এই দিকগুলো তার জন্য গৌণ হয়ে উঠবে, সেটি সামাজিকভাবে ঠিক করে করে দেয়া থাকে।

এর উপর নির্ভর করে এই অঞ্চলে মেনোপজের প্রতি মনোভাব গড়ে উঠেছে বলে তিনি মনে করেন।

“এই অঞ্চলের কথা বলি, দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চল, এখানে নারীর এই শারীরিক পরিবর্তনটা খুব প্রাকৃতিক পরিবর্তন হিসেবে গ্রহণ করা হয়। যুগ যুগ ধরে এটা খুব ন্যাচারালভাবে চলে এসেছে”।

“এখানে নারীরা বাড়িতে থাকেন, সংসার সন্তান এসব দেখভাল করে থাকেন। একটা সময় নাতি নাতনির দায়িত্ব তার উপরে আসে। নারী কোন সময়ে থেমে নেই। তার জীবন চলমান জীবন। এমন চলমান জীবনে সে তার এই পরিবর্তনটা অনেক সময় বুঝতেই পারে না।”

যৌনতা ও মেনোপজ:

কিন্তু সমস্যাটি যদি হয় যৌনতা বিষয়ক তাহলে সে নিয়ে এখানে কথা বলা রীতিমতো অস্বাভাবিক ব্যাপার।

যৌনতায় নারীর আগ্রহ থাকলে সেটি সমাজের পছন্দ নয়। যৌনতা নিয়ে নারী এদেশে কথা বলে খুব কম।

কিন্তু গাজীপুরে একটি কলেজের শিক্ষক কাজি রোমেনা বলছিলেন, মেনোপজের পর তার শরীরের যৌনতা যে আর আগের মতো নেই সেটি তিনি অনুভব করেন।

তিনি বলছেন, “অনেক সময় মনে হয় যে মাসিকের কারণে নিজের শরীরের ভেতরে একটা উর্বরতা অনুভব করা, সেই উর্বরতাটা মিস করছি। ওইখানে আমি একটা অভাব বোধ করছি। যখন একটা মেয়ের পিরিয়ড হয় তখন যে এটা ফিল করে। কিন্তু এখন অনবরত দিনের পর দিন একই রকম চলছে। উর্বরতা ফিল করতে পারছি না।”

মেনোপজের পর প্রায়শই দাম্পত্য জীবনে যৌনতায় সমস্যা হবে বলে ধারণা করা হয়।

যোনিপথ শুকিয়ে যাওয়াকে সেজন্য অনেকে দায়ী করেন।

তবে চিকিৎসকেরা বলেন এটি ভ্রান্ত ধারনা। নারীরা অনেকে যৌনতায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন বলে বলে মনে করা হয়।

মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মেখলা সরকার বলছেন, অনেক নারী মনে করেন স্বামী হয়তো তাকে আর আগের মতো ভালবাসবেন না, তার নারীত্ব হারিয়ে যাবে, এসব চিন্তার কারণে মেনোপজ হওয়ার পর নারীরা অনেকেই আশা হারিয়ে ফেলেন, অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়েন।

তিনি বলছেন, “নারীত্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটা ব্যাপার হল সন্তান ধারণের ক্ষমতা। এর সাথেই মাসিকের সম্পর্ক। মাসিকের সাথে আর একটা যে ব্যাপার খুব গুরুত্বপূর্ণ সেটি হল যৌনতা। অনেক নারীর মনের মধ্যে একটা ভয় থাকে যে সে বোধহয় সেক্সুয়ালি আর আগের মতো পারফর্ম করতে পারবে না।”

এছাড়া একজন নারী অনেক দিন ধরে একটি শারীরিক অভিজ্ঞতার সাথে বসবাস করেন। কিন্তু মেনোপজের মাধ্যমে তিনি নতুন একটা ধাপে প্রবেশ করেন। তার শরীরের অনেক বড় একটি পরিবর্তন ঘটে, সেই সাথে তার জীবনেও অনেক বড় একটি রূপান্তর ঘটে। অনেকের এসব আমূল পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নিতে সমস্যা হয়।

ডা. মেখলা সরকার বলছেন, “দেখা যায় কোন সমস্যা না থাকলেও ইনসিকিউরিটি থেকে সমস্যাটা আসলেই দেখা দেয় এবং এদেশে অনেক নারী যৌনতায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন।”

যা করলে মানিয়ে নিতে সুবিধা হবে:

ডা. গুলশান আরা বলছেন মেনোপজ কোন অসুখ নয় যে এর চিকিৎসা দরকার হবে।

৩০ বছর বয়স থেকে কিছু বিষয় মেনে চললেই ইস্ট্রোজেন কমে গেলে যে সমস্যাগুলো হয় তার প্রভাব অতটা মারাত্মক হয় না। সে নিয়ে কিছু পরামর্শ দিচ্ছেন তিনি।

“প্রতিটি নারীর মেনোপজ সম্পর্ক সচেতন থাকা প্রয়োজন। এটা সুসম খাবার গ্রহণ, নিয়মিত ব্যায়াম, কায়িক পরিশ্রম ও জীবনে অ্যাক্টিভ থাকার উপর নির্ভর করে। একদম শুরু থেকে যদি আমরা লাইফস্টাইলটা এরকমভাবে তৈরি করি, খাবার যদি সুসম হয়, সচেতনতা থাকে তখন অনেক ভালোভাবে অ্যাডাপ্ট করা যায়, জটিলতাগুলো কম হয়।”

জটিলতাগুলো কমানোর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হল বিষয়টি নিয়ে কথা বলা।

বয়ঃসন্ধিকালে একটা সময় হলে মেয়েদের ঋতুস্রাব শুরু হওয়াটাই যেমন স্বাভাবিক, ঠিক তেমনি একটি বয়সের পর পুরোপুরি মাসিক ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়াও নারীর শরীরের জন্য প্রাকৃতিক নিয়ম।

তার নানা দিক নিয়ে কথা বলে, সঠিক তথ্য জেনে নিলে যে কোন ক্ষতি নেই সেই বিষয়টি এখনো বাংলাদেশে গুরুত্ব পাচ্ছে না।

চিন্তিত হওয়ার কি কিছু আছে?

গাইনোকোলজিস্ট ও মেনোপজ বিশেষজ্ঞ ড. হেদার কুরি বলেছেন, মেনোপজ নিয়ে আতঙ্কগ্রস্ত হবার কিছু নেই।

মেনোপজের লক্ষণ দেখা দিলে ডাক্তারের সাথে আলাপ করলে এই বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

মেনোপজের ক্ষেত্রে হরমোন প্রতিস্থাপন থেরাপিকে একটি কার্যকর উপায় হিসাবে বিবেচনা করা হয়। তবে, এই নিয়ে বিতর্কও রয়েছে। কারণ হরমোন প্রতিস্থাপনের বেশ কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে।

নারীর জীবনের এক-তৃতীয়াংশ সময় মেনোপজের মধ্য দিয়ে কাটে। মেনোপজ বা রজঃনিবৃত্তির বিষয়ে অনেক নারীর জ্ঞান সীমিত। তবে মেনোপজ হওয়া নারীদের নানা শারীরিক জটিলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে হাড়ক্ষয়, ভিটামিন ডির অভাব, মানসিক অবসাদ, শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি ইত্যাদি। নারীদের হাড়ের ভেতর ঘনত্ব কমে যায়, সহজে হাড় ভেঙে যায়। তাই ৩৫ বছরের পর থেকে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি, প্রোটিনজাতীয় খাবার বেশি করে একজন নারীকে খেতে হবে। আর মেনোপজ কী, সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে তা বিস্তারিত নারীদের জানাতে হবে, তাঁদের সচেতন করে তুলতে হবে।

মেনোপজ দিবস উপলক্ষে বিশেষজ্ঞদের মতামত:

আন্তর্জাতিক মেনোপজ দিবসের প্রাক্কালে ১৪ অক্টোবর বাংলাদেশ মেনোপজ সোসাইটি (বিএমএস) আয়োজিত ‘হাড়ের স্বাস্থ্য’ বিষয়ে এক ওয়েবিনারে দেশের বিশিষ্ট স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা এসব কথা বলেন। ওয়েবিনারে দেওয়া বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য সংক্ষেপে এখানে তুলে ধরা হলো।

ওয়েবিনারটি সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ মেনোপজ সোসাইটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. ফারজানা দিবা। আয়োজনটির সায়েন্টেফিক পার্টনার ছিল বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড। সহযোগিতায় ছিল ওভোক্যাল–ডি এবং মিডিয়া পার্টনার প্রথম আলো:

অধ্যাপক ডা. টি এ চৌধুরী, সাবেক সভাপতি, অবস্ট্রেটিক্যাল অ্যান্ড গাইনোকোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশ (ওজিএসবি)- সহজাতভাবেই নারীরা মেনোপজ সমস্যায় ভোগেন। আমরা জানি, মেনোপজের সমস্যা কী? অনেক নারী জানেন না, অনেকে জানেনও। মেনোপজের সমস্যা নিয়ে যেসব নারী আসেন, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, তাঁরা আর্থিকভাবে স্বামী কিংবা সন্তানের ওপর নির্ভরশীল। মেনোপজ নারীদের রোগ, নারীদের সমস্যা, তবে সমাধান কিন্তু তাঁদের হাতে নয়। এ সময় নানাভাবে নারীকে সহযোগিতা করতে পারেন পুরুষ। মেনোপজে যাওয়া নারীর হাড়ের ভেতর খনিজের ঘনত্ব কমে যাওয়া। বোন মিনারেল ডেনসিটির (হাড়ের মধ্যকার খনিজের ঘনত্ব) পরীক্ষা এক লাখ নারীর মধ্যে একজনও করার সুযোগ পান না। হাড়ের ভেতর ঘনত্ব কমে গেলে ভঙ্গুর হাড় সহজে ভেঙে যায়। তাই সরকারি উদ্যোগে বিনা পয়সায় ৬৫ বছর ওপরের নারীদের হাড়ের ভেতরের ঘনত্ব পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া যায় কি না, সেটি ভেবে দেখা উচিত। মেনোপজের বিষয়ে স্বামী যদি না বোঝেন, সহযোগিতা না করেন, তাহলে কিন্তু ওই নারীর সুচিকিৎসা হবে না।

জাতীয় অধ্যাপক ডা. শাহ্‌লা খাতুন, সভাপতি, বাংলাদেশ মেনোপজ সোসাইটি- নারী কিংবা পুরুষের একটা নির্ধারিত বয়সের পর হাড় ভঙ্গুর হয়ে যায়। নির্দিষ্ট বয়সের পর শরীরে ক্যালসিয়াম কমে যেতে থাকে। বয়স যত বেশি হয়, হাড় তত ভঙ্গুর হয়। অর্থাৎ নারীর অস্টিওপোরোসিস হয়। হাড়ের ভেতর ঘনত্ব কমে যায়। হাড় অনেকটা মাকড়সার জালের মতো হয়ে যায়। এসব হাড় ভেঙে গেলে নানা জটিলতা তৈরি হয়। হাড়ের এই ক্ষয় সাধারণত নীরবে এবং ক্রমবর্ধমানভাবে ঘটতে থাকে।

অধ্যাপক ডা. রওশন আরা বেগম, সহসভাপতি, বাংলাদেশ মেনোপজ সোসাইটি- ৪৫ বছরের পর একজন নারীর মেনোপজ শুরু হয়। নারীর জীবনের এক-তৃতীয়াংশ সময় চলে যায় এই মেনোপজ সময়ে। মাসিক বা পিরিয়ড যখন এক বছর সময় পর্যন্ত বন্ধ হয়ে যায়, পরের সময়টা আমরা ধরে নিই, মেনোপজ হয়েছে। আমরা যদি নারীস্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনা করি, তাহলে সেরা সময়টা এই মেনোপজের সময়। এটা শুরু হয় ৪৫ বছর বয়স থেকে। অবশ্য বাংলাদেশের অনেক নারীর বেলায় মেনোপজ আরও আগে শুরু হয়। কারণ, বাংলাদেশে বাল্যবিবাহ হয়। সেরা সময়টা যদি সেরা করা যায়, তবে আমাদের রাষ্ট্র, সমাজ—সবাই উপকৃত হবে। মেনোপজের সময় অনেক নারী বিষণ্নতায় ভোগেন। মেনোপজের সময় হঠাৎ নারী ঘেমে ওঠেন। তিনি কিছু মনে রাখতে পারেন না। আস্তে আস্তে তিনি বিষণ্নতায় ভুগতে থাকেন। হাড়ের রোগ হতে থাকে। কোমর বাঁকা হয়ে আসতে থাকে। ঠিকমতো হাঁটতে পারেন না, কষ্ট হয়। ৩০ থেকে ৩৫ বছরের পর থেকেই কিন্তু হাড় ক্ষয় শুরু হয়ে যায়। ৩৫ বছর বয়স থেকে আমাদের শুরু করতে হবে। আগে থেকে ক্যালসিয়াম খেতে হবে।

অধ্যাপক ডা. ফেরদৌসি বেগম, সভাপতি, অবস্ট্রেটিক্যাল অ্যান্ড গাইনোকোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশ- হাড়ের সুস্থতার জন্য ভিটামিন ডি এবং ক্যালসিয়াম খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত ব্যায়াম করা খুব জরুরি। ভিটামিন ডির অভাব থাকলে হাড়ের ক্ষতি হবে। মেনোপজের সময় ভিটামিন ডি আরও গুরুত্বপূর্ণ। নানাবিধ কারণে হাড় ক্ষয়ে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ে। তাই নিয়মিত ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার খেতে হবে। শীতের দিনে রোদে যাওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ।

অধ্যাপক ডা. লায়লা আরজুমান্দ বানু, সাবেক সভাপতি, অবস্ট্রেটিক্যাল অ্যান্ড গাইনোকোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশ-মেনোপজ হলে জীবনটা শেষ হয়ে যায় না। মেনোপজ-পরবর্তী সময়ে হাড় ক্ষয় হয়। হাড়টা খুব নরম হয়ে যায়। হাড় ভালো রাখতে হলে ক্যালসিয়াম খেতে হবে। আমাদের হাঁটাচলা করতে হবে। আমাদের শুয়েবসে থাকলে চলবে না। আমাদের ভালো করে বুঝতে হবে, মেনোপজ কিন্তু একটা গুরুত্বপূর্ণ সময়। জীবনের এক-তৃতীয়াংশ সময় কিন্তু মেনোপজের সময়। এই সময়টা কিন্তু আমাদের সক্রিয় থাকতে হবে। ধূমপান করা যাবে না। ঠিকমতো ঘুমাতে হবে, আদর্শ খাবার খেতে হবে।

অধ্যাপক ডা. গুলশান আরা, মহাসচিব, অবস্ট্রেটিক্যাল অ্যান্ড গাইনোকোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশ- মেনোপজের সময় হটফ্ল্যাশ হয়, যেটা খুবই কষ্টকর। হঠাৎ গরম লাগা, ঘাম হওয়া ইত্যাদি সব উপসর্গ। এ সময় হরমোন থেরাপি দেওয়া যেতে পারে। সঠিক সময়ে সঠিক পদ্ধতিতে সঠিক ডোজ দিতে পারলে উপকার পাওয়া যাবে অনেক বেশি।

অধ্যাপক ডা. শেখ জিন্নাত আরা নাসরিন, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশে মেনোপজ সোসাইটি- বয়স বাড়লে মাংসপেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় আর সার্কোপেনিয়ায় আক্রান্ত হলে মাংসপেশির পরিমাণ কমে যায়। এখানে পুষ্টির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। মাংসপেশিকে রক্ষার জন্য নিয়মিত ক্যালসিয়াম খেতে হবে। ভিটামিন ডি খেতে হবে।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. সুরাইয়া রহমান, সহসভাপতি, বাংলাদেশে মেনোপজ সোসাইটি- বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের হাত ধরে ২০০৫ সালে বাংলাদেশ মেনোপজ সোসাইটির প্রতিষ্ঠা হয়। সেই থেকে মেনোপজ হওয়া নারীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরির কাজ করে যাচ্ছে এই সংগঠন।

অধ্যাপক ডা. সামিনা চৌধুরী, সাবেক সভাপতি, অবস্ট্রেটিক্যাল অ্যান্ড গাইনোকোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশ-মেনোপজের সময় অনেক নারী নিজেকে একেবারই গুটিয়ে ফেলেন। এমন মায়েদের কথা আমাদের জানতে হবে। তাঁদের কাছে যাওয়ার জন্য আমাদের অনেক রাস্তা খোলা আছে। সেই রাস্তা ধরে আমাদের এগোতে হবে। আমরা কিন্তু প্রান্তিক পর্যায়ে যেতে পারি। আমাদের যদি সম্মিলিত উদ্যোগ থাকে, তাহলে এই নারীরা উপকৃত হবেন।

অধ্যাপক ডা. ফারহানা দেওয়ান, নির্বাচিত সভাপতি, অবস্ট্রেটিক্যাল অ্যান্ড গাইনোকোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশ- মেনোপজের উপসর্গের মধ্যে আছে হঠাৎ ঘেমে যাওয়া, ঘুমের সমস্যা হওয়া, মানসিক সমস্যা ইত্যাদি। মেনোপজের সময় জীবনযাপনে পরিবর্তন আনার পরামর্শ দেন তিনি। মেনোপজের সময়ে নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে। যোগব্যায়ামও করা যেতে পারে। প্রতিদিন নিয়মিত ৩০ মিনিট করে হাঁটলেও অনেক উপকার। হাড়ের ছোট ছোট জোড় (জয়েন্ট) কিন্তু সচল রাখতে হবে। কারণ, মেনোপজের সময় হাড় পাতলা হয়ে যায়।

অধ্যাপক ডা. সালেহা বেগম চৌধুরী, সাবেক মহাসচিব, অবস্ট্রেটিক্যাল অ্যান্ড গাইনোকোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশ- হাড়ের ক্ষয়রোধে দৈনিক যদি এক হাজার মিলিগ্রাম করে ক্যালসিয়াম নেওয়া যায়, তাতে অনেক উপকার হয়। মেনোপজ হওয়ার পর ভালো থাকতে হলে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খেতে হবে। শাকসবজি খেতে হবে। হাঁটাচলার মধ্যে থাকতে হবে। এই সময় ব্রকলি, শর্ষেশাক, মটরশুঁটি, ডাল, চিংড়ি মাছ, বাদাম, রুটি ইত্যাদি খেতে হবে। কারণ, এসব খাবারে ক্যালসিয়াম আছে। যাঁরা ভিটামিন ডির অভাবজনিত সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট দিতে হবে।

তথ্যসূত্র:

  • গাইনোকোলজিস্ট ও মেনোপজ বিশেষজ্ঞ ড. হেদার কুরি,
  • মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মেখলা সরকার,
  • ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের জেমস পি গ্র্যান্ট স্কুল অফ পাবলিক হেলথের অধ্যাপক আফসানা কাওসার, তিনি প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়ে বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে গবেষণা করেছেন, বিবিসি বাংলা।
  • বাংলাদেশ মেনোপজ সোসাইটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. ফারজানা দিবা, প্রথম আলো।
  • Edited: Natural_Healing.

কোন মন্তব্য নেই

Popular Post

Blogger দ্বারা পরিচালিত.