First Aid Present

Lifestyle Modification এবং প্রাকৃতিক খাদ্য, পানীয়, শাকসবজি, গাছ, ডালপালা, ফল, মসলা, পাতা ও ফুল ইত্যাদির দ্বারা প্রাথমিক চিকিৎসা।

আগুন লাগলে কিংকর্তব্যবিমূঢ় না হয়ে মাথা ঠান্ডা রেখে তা নিভানোর চেষ্টা করুন

প্রতিবছর শুকনা মৌসুমে প্রায়ই আগুন লাগার খবর শোনা যায়। এবারও সেই ধারা আছে। নানা কিছু থেকে হঠাৎ করে দগ্ধ হচ্ছেন অনেকে। পুড়ে অগ্নিদগ্ধ হওয়া, মারা যাওয়া ছাড়াও ক্ষতি হচ্ছে ঘরবাড়ি, দোকানপাটের।

হঠাৎ ঘটে যাওয়া আকস্মিক অঘটনের কারণে যত ঠান্ডা মাথার ব্যক্তিই হোন না কেন, হয়ে যান কিংকর্তব্যবিমূঢ়। ফলে সামান্য ভুলে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। 

একেক ধরনের আগুন নেভানোর উপায়ও ভিন্ন। তাই আগুন লাগলে কিংকর্তব্যবিমূঢ় বা হতভম্ব না হয়ে ঠান্ডা মাথায় সাবধানতার সহিত পদক্ষেপ নিতে হবে।
রান্না করতে গিয়ে, অসাবধানতায়, ইলেকট্রিক শর্টসার্কিট থেকে, দাহ্য পদার্থ থেকে যখন–তখন ছোট্ট আগুনের ফুলকির মাধ্যমে বড় আগুনে রূপান্তরিত হতে পারে। তাই কোন ধরনের আগুন লাগলে কীভাবে নেভানো যায়, সেটি জানা জরুরি।

আগুন লাগার কারণ:

বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের তথ্যমতে, ২০০৯ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে অগ্নি দুর্ঘটনার সংখ্যা ৮৫ হাজারেরও বেশি যাতে ১৬ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছেন।
তাদের তথ্যমতে অগ্নিকাণ্ডের প্রধান কারণগুলো তিনটি- বৈদ্যুতিক গোলযোগ, চুলা থেকে লাগা আগুন এবং সিগারেটের আগুন। যত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে তার ৭২ শতাংশই ঘটে এই তিনটি কারণে।
কিন্তু এই কারণগুলো এবং তা থেকে বাঁচার উপায় সাধারণ মানুষজন কতটা জানেন?

বৈদ্যুতিক গোলযোগ, চুলার আগুন এবং সিগারেটের আগুন- 

দমকল বাহিনীর অপারেশন্স বিভাগের উপ পরিচালক দিলিপ কুমার ঘোষ বলছেন, "আবাসিক এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ব্যাপারে মানুষজন সবচেয়ে বড় ভুল যেটি করেন তা হল অনেকে রান্নার পর চুলা জ্বালিয়ে রাখেন। চুলার আশপাশে অনেকেই শুকনো পদার্থ, কাগজ, কাপড় বা অন্যান্য দাহ্য পদার্থ রাখেন। শিশুদের হাতের নাগালে গ্যাসের চুলা ও ম্যাচের কাঠি অনেক সময় বিপদের কারণ হতে পারে।"
ঢাকায় গন প্রশিক্ষণ ও মহড়ায় জড়ো হয়েছেন বহু মানুষ। সেখানে ঘন ঘন মহড়া এবং অন্যান্য নির্দেশনার পাশাপাশি আগুন লাগলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পথ চিহ্নিত করে রাখার পরামর্শ দেন দমকল কর্মীরা।

মশার কয়েলও বিপদ ডেকে আনতে পারে বলে সাবধান করেন মি. ঘোষ। "মশার কয়েল ব্যাবহারে হয়ত আপনি মশা থেকে বাঁচলেন কিন্তু এটি আবাসিক এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের বড় উৎস।"


বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের বড় কারণ হিসেবে মি. ঘোষ বলছেন, বিদ্যুতের তার সঠিক ভাবে না নেয়া, অনেক বেশি মাল্টি-প্লাগ ব্যবহার করা, বাড়ির বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার ক্ষমতার বাইরে বেশি বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার করা, বৈদ্যুতিক তার বা সরঞ্জামের সাথে পানির সংস্পর্শ।


এছাড়া বিদ্যুৎ চলে গেলে মোমবাতি বা কুপির ব্যবহারও ঝুঁকিপূর্ণ। সিগারেট খাওয়ার পর তা কোথায় ফেলছেন এব্যাপারে সতর্ক থাকেন না অনেকে। সেটি গ্যাসের লাইনের উপরে পড়তে পারে অথবা শুকনো কাগজ বা পাতার উপর পরে আগুন ধরে যেতে পারে। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় সিগারেট খেতে খেতে ঘুমিয়ে পড়াও বিপদের অন্যতম কারণ।


দিলিপ কুমার রায় বলছেন, শুষ্ক ও দাহ্য পদার্থ চুলার কাছ থেকে সরিয়ে রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন।
তিনি বলছেন, শুষ্ক বস্তুর আগুন যেমন কাগজ, কাপড় বা গাছের পাতায় আগুন লাগলে নেভানোর সবচেয়ে ভালো উপায় পানি।

দেশের ৭২ শতাংশ অগ্নিকাণ্ড ঘটে বৈদ্যুতিক গোলযোগ, চুলা থেকে এবং সিগারেটের কারণে
তবে রান্না করার সময় গরম তেলে আগুন লাগলে কড়াইটির উপরে কোন ঢাকনা দিতে হবে।
পেট্রল বা ডিজেলের মতো তেলে আগুন লাগলে পানি ব্যবহার করলে বরং বিপদ। এক্ষেত্রে আগুন যদি ছোট হয় তবে বালি, বস্তা, কাঁথার মতো ভারি কাপড় দিয়ে সেই আগুন ঢেকে দিতে হবে।

জ্বালানি তেলের আগুনে সবচেয়ে বেশি কাজ করে ফেনা জাতীয় পদার্থ। গ্যাসের আগুনে কার্বন ডাই-অক্সাইড সবচেয়ে ভালো কাজ করে।
ঘরে সবসময় ফায়ার এক্সটিংগুইশার রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন মি. ঘোষ। যা দিয়ে সব ধরনের আগুন নেভানো যায়। কিন্তু সেটি কেনার সামর্থ্য না থাকলে এক বালতি পানি ও বালি রাখার কথা বলছেন তিনি।

বিদ্যুতের আগুন লাগলে অবশ্যই 'মেইন সুইচ' বন্ধ করতে হবে। আর গ্যাসের আগুনের ক্ষেত্রে গ্যাসের রাইজার বন্ধ করে সরবরাহ কেটে দিতে হবে।
ঘন ঘন মহড়া, বাড়ি থেকে বের হওয়ার পথ চিহ্নিত করে রাখার কথাও বলছেন তিনি।
মি. রায় বলছেন, এগুলো করলেই যে একশ ভাগ আগুনের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে তা নয়। তবে এতে অগ্নিকাণ্ড ও হতাহতের সংখ্যা কমে আসবে।

আগুন লাগলে যা করতে হবে:

পুড়ে যাওয়ার ব্যাপারটি অনেকটাই দুর্ঘটনাবশত। আগুন লাগলেই অনেকে ভয় পেয়ে যান। ভয় না পেয়ে কীভাবে একে মোকাবিলা করবেন সেটা নির্ধারণ করুন।
  • আগুন দেখলে আতঙ্কগ্রস্ত না হয়ে ধীরস্থির থাকুন। প্রথমে আগুনের উৎপত্তি কোথায়, সত্যিই আগুন লেগেছে কি না, এটি জানার চেষ্টা করুন। অযথা চিৎকার-চেঁচামেচি না করে প্রাথমিক অবস্থায় আগুন নেভানোর চেষ্টা করুন।
  • তেলজাতীয় আগুনে কম্বল, কাঁথা, ছালা বা মোটা কাপড় ভিজিয়ে চাপা দিন।
  • বৈদ্যুতিক আগুনে দ্রুত প্রধান সুইচ বন্ধ করুন। 
  • পরনের কাপড়ে আগুন লাগলে মাটিতে গড়াগড়ি দিন, ভুলেও দৌড়াবেন না। তাতে আগুন বেড়ে যাবে।
  • ছোট বাচ্চারা আগুন লাগতে দেখলে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে হবে এবং দ্রুত নিকটবর্তী বড় কাহার‌ও কাছে খবর পৌঁছে দিতে হবে।
  • বহুতল ভবনে আগুন লাগলে, পর্যায়ক্রমে ধীরেসুস্থে নেমে আসুন। হুড়োহুড়ি করে নামতে যাবেন না। আগুন ঊর্ধ্বমুখী, তাই ওপরতলায় আগুন লাগলে প্রথমে সেই তলার লোকজনকে বেরিয়ে আসার সুযোগ দিন। ওপরের তলার পর নিচের দিকের তলার লোকজনকে বেরিয়ে আসার সুযোগ দিন।

পানি দিলেই কি আগুন নিভে যায়?

দুর্ঘটনা হিসেবে অগ্নিকাণ্ড খুবই মারাত্মক। আগুন যত বড় হয়, তত সর্বগ্রাসী হয়ে ওঠে। সামনে যা পায়, তা–ই পুড়িয়ে ছাই করে দেয়। তোমাকে যদি জিজ্ঞেস করা হয়, আগুন নেভাতে কী দরকার? অনেকেই পানির কথা বলবে। পানি দিয়ে যে আগুন নেভানো যায়, সেটা খুবই সত্যি কথা, তবে সব ক্ষেত্রে নয়।

জ্বালানি বা আগুনের উৎসের ওপর নির্ভর করে আগুন নানা ধরনের হয়। আগুনের কিছু ধরন আছে, যেখানে পানি দিলে হিতে বিপরীত হয়। আগুন আরও বেড়ে যায়। বিশ্বাস হচ্ছে না? আচ্ছা, বলছি।

তার আগে আগুনের ধরন বলতে কী বোঝাতে চাচ্ছি, সেটা পরিষ্কার করি। তোমরা নিশ্চয়ই জানো, আগুন জ্বলার জন্য প্রয়োজন জ্বালানি। জ্বালানি বলতে শুধু যে গ্যাস বা তেলকে বোঝায়, তা নয়। যে জিনিসে আগুন লাগতে পারে, সেটাই আগুনের জ্বালানি। হতে পারে সেটা তেল, গ্যাস, কাঠ, লোহা, রাসায়নিক, বিদ্যুতের লাইন বা অন্য যেকোনো কিছু।
আগুন কোন ধরনের জ্বালানি পুড়িয়ে জ্বলছে, তার ওপর নির্ভর করে বিশেষজ্ঞরা আগুনকে বেশ কয়েকটি ভাগে ভাগ করেছেন। এসব ভাগকেই বলছি নানা ধরনের আগুন।
একেক ধরনের আগুন নেভানোর জন্য একেক রকম কৌশলের দরকার হয়। সেগুলো আজ আমরা একটুখানি জানব।

আগুনের কয়েকটি ধরন:

আগুন বিভিন্ন কারণে লাগতে পারে। ফায়ার সার্ভিস থেকে বলছে আগুনের পাঁচটি ধরন রয়েছে।

বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানা গাজীপুর সেনানিবাসের উপ-সহকারী পরিচালক এবং সহকারী ফায়ার অফিসার দেওয়ান সোহেল রানা বলছিলেন আগুনের ধরন বুঝে আগুন নেভানো উচিত।

আগুনের বিভিন্ন ধরনকে ৫ভাগে ভাগ করেছে দমকল বাহিনী। যেমন;

  • ক্লাস এ-পুড়ে ছাই বা কয়লা হয়ে যায় এমন আগুন
  • ক্লাস বি-তেলের আগুন
  • ক্লাস সি-ইলেকট্রিক আগুন
  • ক্লাস ডি-ধাতব পদার্থের আগুন
  • ক্লাস ই-গ্যাসের আগুন
  • ক্লাস কে-ভোজ্য তেল বা প্রাণীর চর্বি

একেক ধরনের আগুন নিভানোর জন্য আলাদা আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে:

দেওয়ান সোহেল রানা বলছিলেন, আগুন ধরলে প্রাথমিক ভাবে বুঝতে হবে আগুনের ধরন কেমন, নেভানোর জন্য সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।

তিনি বলেন, যেকোন আগুন ধরতে দাহ্য-বস্তু বা জ্বালানি, অক্সিজেন এবং তাপ লাগে

আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য এই তিনটি উপকরণের যেকোন একটি সরিয়ে ফেললে আগুন অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আসে।

তবে এক এক ধরনের আগুন নেভানোর জন্য এক এক ধরনের কৌশল নিতে হয় বলে তিনি জানান। 

বগুড়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক মো. আবদুল হামিদ জানান, আগুন মূলত যে মাধ্যমগুলো থেকে লাগতে পারে, সেগুলো হলো কঠিন ও তরল পদার্থের আগুন, গ্যাস থেকে লাগা আগুন, ধাতব পদার্থ থেকে ও বিদ্যুৎ থেকে লাগা আগুন। যে মাধ্যম থেকে আগুনের বিস্তার, সেটি চিহ্নিত করে সেই মাধ্যমের আগুন নেভানোর প্রক্রিয়া শুরু করলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব।’

পুড়ে ছাই বা কয়লা হয় এমন আগুন:

এই আগুনের সূত্রপাত সাধারণত হয় চুলা থেকে। বাংলাদেশে খড়-খুটা, বাঁস, কাঠ, কাগজ, কয়লা, কাপড়ের মতো সাধারণ পদার্থ, প্লাস্টিক কিংবা এমন কিছু থেকে আগুন লাগলে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। বেশিরভাগ সময় এইসব দিয়ে চুলা জ্বালানো হয় সেখান থেকেই এই আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারে।

এধরণের আগুন নেভানোর জন্য পানি, শুকনো বালি এবং ভেজা বস্তা দিয়ে নেভাতে হবে।

চারপাশে এ ধরনের আগুনই বেশি দেখা যায়। সৌভাগ্যবশত, এ আগুন নেভানো সবচেয়ে সহজ। যুক্তরাষ্ট্রের দ্য ফায়ার ইকুইপমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের মতে, ‘ক্লাস এ’ ধরনের আগুন নেভানোর জন্য পানি বা অগ্নিনির্বাণ যন্ত্র থেকে নির্গত কার্বন ডাই–অক্সাইডের ফোম ব্যবহার করতে হবে।

তেলের আগুন:

জ্বালানি তেল, মবিল, পেট্রোল, অ্যালকোহল, প্রোপেন, গ্যাসের মতো অতি দাহ্য পদার্থ ‘ক্লাস বি’ ধরনের আগুনের জ্বালানি। সাধারণত এসব জ্বালানি যেখানে মজুত থাকে, সেখানে এ ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঘটে। 

তাহলে সেটা নেভাতে সাবানের ফেনা বা  ফোম ব্যবহার করা হয়। ফায়ার সার্ভিস বলছে কেমিক্যাল মিশ্রিত ফোম এক্ষেত্রে বেশি কার্যকরী। তবে এটা সময়সাপেক্ষ।

আবার ভেজা কম্বল, বস্তা, কাঁথা বা ভারী কাপড় ছড়িয়ে দিয়েও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করতে হবে। যদি কোনো কিছুই পাওয়া না যায়, তবে শুকনা বালু ছিটিয়েও তরল পদার্থ থেকে সৃষ্ট আগুন বশে আনা যায়।

‘ক্লাস বি’ ক্যাটাগরির আগুন নেভানোর জন্য কোনোভাবেই পানি ব্যবহার করা উচিত নয়। এটা হীতে বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে কারণ এ আগুনের তাপমাত্রা অনেক বেশি থাকে। ফলে, পানি আগুনের উৎসে পৌঁছানোর আগেই বাষ্পে পরিণত হয়ে আগুনকে আরও বাড়িয়ে দেওয়ার আশঙ্কা থাকে।

এ ধরনের আগুন নেভাতে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রের কার্বন ডাই-অক্সাইড বা অক্সিজেনের প্রবাহ বন্ধ করে দেয়, এমন রাসায়নিক ফোম ব্যবহার করা উচিত।

বৈদ্যুতিক গোলযোগের আগুন:

বৈদ্যুতিক মাধ্যম থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটলে কোনোভাবেই পানি দেওয়া যাবে না। কারণ, বুয়েটের কেমিকৌশল বিভাগের শিক্ষক ড. ইয়াছির আরাফাত বলেন, ইলেকট্রিক শর্টসার্কিট বা গোলযোগ থেকে আগুন ধরলে কখনোই সেই আগুন নেভাতে পানি দেয়া যাবে না। পানি বিদ্যুৎ সুপরিবাহী হওয়ায় যে ব্যক্তি পানি দেবেন তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যেতে পারেন। তাই প্রথমেই চেষ্টা করতে হবে বৈদ্যুতিক লাইনের মেইন সুইচ বন্ধ করার। তবে মেইন সুইচে আগুন লেগে গেলে যত দ্রুত সম্ভব নিকটস্থ বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করতে হবে। যাতে করে লাইনের বিদ্যুৎ সরবরাহ দ্রুততার সঙ্গে বন্ধ হয়ে যায়। লাইন বন্ধ হয়ে গেলে নিরাপদ দূরত্বে থেকে পানি ছড়িয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা যায়, তবে সবচেয়ে ভালো হয় যদি ফায়ার এক্সটিংগুইশার বা অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রের সাহায্যে কার্বন ডাই-অক্সাইড ছড়িয়ে দেওয়া যায়। এতে আগুন সহজেই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।

দেওয়ান সোহেল রানা বলছিলেন, এখানে অনেকে ভুলভাবে পানি দেন। তিনি বলেন "পানি দেয়া যাবে ছুঁড়ে বা কাটা কাটা ভাবে। যাতে করে আপনার সাথে পানির কোন ছোঁয়া না থাকে অর্থাৎ পানি থেকে আপনাকে বিযুক্ত থাকতে হবে"।

ড. ইয়াছির আরাফাত বলেন "এই আগুন নেভানোর জন্য কার্বন ডাই অক্সাইড দরকার হয়। এক্ষেত্রে এবিসিই ড্রাই পাউডার ব্যবহার করা হয়"।

পুরোনো ও ত্রুটিযুক্তি বৈদ্যুতিক লাইন, ক্রুটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ এ ধরনের আগুনের প্রধান উৎস। বাসাবাড়ি ও কল-কারখানায় বৈদ্যুতিক আগুন লাগতে পারে। 

যদি বিদ্যুৎ–সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা যায়, তাহলে ক্লাস সি ধরনের আগুন সাধারণত ‘ক্লাস এ’ ধরনের আগুনে পরিণত হয়।

বৈদ্যুতিক আগুন নেভাতেও পানি বা ফোমজাতীয় অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র (foam extinguisher) ব্যবহার করা উচিত নয়। এতে পরিস্থিতি আরও বিপদজনক হয়ে উঠতে পারে। কারণ, সেখানে বিদ্যুৎ পরিবাহী ধরনের পদার্থ থাকে।

ধাতব বা রাসায়নিক পদার্থ থেকে সৃষ্ট আগুন:

ধাতব পদার্থ গলাতে প্রচুর তাপের প্রয়োজন হয়। শিল্পকারখানায় অতি দাহ্য রাসায়নিক পুড়লে এ পরিমাণ তাপ উৎপন্ন হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ ম্যাসাচুসেটসের এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড সেফটি অফিসের বিশেষজ্ঞদের মতে, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম ও সোডিয়ামের মতো ক্ষারীয় ধাতু থেকে এ ধরনের আগুন তৈরি হয়। এসব পদার্থ বাতাস বা পানির সংস্পর্শে এলে জ্বলে উঠতে পারে বা বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। 

যুক্তরাষ্ট্রের ফায়ার ইকুইপমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের মতে, ‘ক্লাস ডি’ ক্যাটাগরির আগুন নেভানোর জন্য শুধু ড্রাই পাউডার অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র ব্যবহার করা উচিত। ফোম বা পানি এ ধরনের আগুনের তীব্রতাকে বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই সেগুলো ব্যবহার করা উচিত নয়।

দেওয়ান সোহেল রানা বলছেন, ধাতব পদার্থের আগুন নেভাতে পানি দেয়া যাবে না। এক্ষেত্রে শুকনা বালি দিয়ে তাপ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। যেহেতু আগুন ধরতে দাহ্য-বস্তু বা জ্বালানী, অক্সিজেন এবং তাপ লাগে - তাই ধাতব পদার্থের আগুন থেকে তাপ সরিয়ে ফেললে আগুন নেভানো সহজ হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, রাসায়নিক থেকে সৃষ্ট আগুন খুব সতর্কতার সঙ্গে নেভাতে হয়।

ফায়ার সার্ভিস বলছে, রাসায়নিকের মধ্যে নানা রকমের উপাদান রয়েছে। তাই ফায়ার সার্ভিসকে ঘটনাস্থলে যেয়ে পর্যবেক্ষণ করে পদ্ধতি বের করতে হয়।

দেওয়ান সোহেল রানা বলেন, রাসায়নিক থেকে সৃষ্ট আগুন প্রাথমিক ভাবে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস এবং কুয়াশা আকারে পানি দিয়ে নেভানো যায়। তবে এক্ষেত্রে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের সাহায্য নিতে হবে।

আর যেকোন আগুনের ঘটনায় সবার আগে ফায়ার সার্ভিসকে ডাকতে হবে বলে পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

গ্যাস থেকে আগুন:

যেকোনো ধরনের গ্যাস থেকে ছড়িয়ে পড়া আগুনের ক্ষেত্রে গ্যাসের সরবরাহ লাইন বন্ধ করে দিতে বা রাইজারের নব ঘুরিয়ে দিতে হবে। 

গ্যাস সিলিন্ডার থেকে আগুন লাগলে ভেজা কাঁথা, কম্বল, বস্তা বা ভারী কাপড় সিলিন্ডারের গায়ে জড়িয়ে চাপ দিয়ে বা নব ঘুরিয়ে কিংবা পানির জোর ঝাপটা দিয়ে গ্যাসের সরবরাহ বন্ধ করে দিতে হবে। সব সময় খেয়াল রাখতে হবে, যদি গ্যাস লিক করছে বোঝা যায়, তাহলে কোনোভাবেই সেই স্থানের কাছাকাছি দেশলাই, সিগারেট, জ্বলন্ত মোমবাতি, কুপি ধরনের কোনো কিছু জ্বালানো অবস্থায় নিয়ে যাওয়া যাবে না।

মনে রাখতে হবে গ্যাসের আগুন নিভাতে হলে বস্তা বা পানি দিয়ে বারি/ঝাপটা দিতে হবে। এতে করে বাতাস/অক্সিজেন বন্ধ হয়ে যাবে সাথে আগুনও নিভে যাবে।

ক্লাস কে (জ্বালানি: ভোজ্য তেল বা প্রাণীর চর্বি)

সাধারণত রান্নাঘর থেকে এ ধরনের আগুনের সূত্রপাত ঘটে। অসাবধানতায় রান্না করার সময় উচ্চ তাপে ভোজ্য তেলে আগুন লাগলে সেটাকে ‘ক্লাস কে’ ক্যাটাগরির আগুন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

এই ক্যাটাগরির আগুনকে অনেকেই ‘ক্লাস বি’ আগুনের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেন, যেটা মোটেও ঠিক নয়। দুই ক্যাটাগরির আগুনের বৈশিষ্ট্য ভিন্ন। তবে, নেভানোর পদ্ধতিতে কিছুটা মিল আছে। ‘ক্লাস বি’ ধরনের আগুন নেভাতে যেমন পানি ব্যবহার করা একেবারেই উচিত নয়। তেমনি, ‘ক্লাস কে’ ধরনের আগুনেও পানি দেওয়া ঠিক নয়। এতে করে আগুন ছিটকে ছড়িয়ে পড়তে পারে। গরম তেলে পানি পড়লে এই প্রভাব দেখা যায়।

‘ক্লাস কে’ ধরনের আগুন নেভানোর জন্য ভেজা রাসায়নিক বা কার্বন ডাই-অক্সাইডের ফোম নির্গমনকারী অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র ব্যবহার করতে হবে। বাণিজ্যিক রান্নাঘরে এ ধরনের যন্ত্র রাখা বাধ্যতামূলক।

রান্নাঘরের আগুন ছোট হলে মোটা তোয়ালে বা কাপড় ভিজিয়ে সেটা দিয়ে আগুন ঢেকে ফেলা যেতে পারে। এতে করে আগুনে বাইরে থেকে অক্সিজেনের সরবরাহ হয় না। ফলে আগুন নিভে যায়। তবে, মনে রাখা প্রয়োজন, এটা শুধু ছোট আগুনের ক্ষেত্রে প্রযেজ্য, যেটা তোয়ালে দিয়ে ঢেকে ফেলা যাবে। অন্যথায় অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র ব্যবহার করতে হবে এবং প্রয়োজনে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিতে হবে।

অগ্নিকাণ্ড ও পোড়া প্রতিরোধের উপায়:

বাসা-বাড়িতে কিছু সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করলে আগ্নিকাণ্ড ও পোড়ার দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো যেতে পারে।

বিদ্যুৎবাহী পদার্থের ব্যবহার:

  • ভেজা হাতে কখনই বিদ্যুৎবাহী পদার্থ না ধরা,
  • অসতর্কভাবে কোনো উন্মুক্ত বৈদ্যুতিক লাইন ব্যবহার না করা,
  • বিদ্যুতের কোন কানেকশন লুজ বা ঢিলা রাখা যাবে না
  • পুরাতন কোন ডিভাইস বা সুইচ ইত্যাদি চেঞ্জ করে নতুন সেটিং করা।

বাড়িতে সাবধানতা:

  • বাসার বৈদ্যুতিক লাইন ও গ্যাসের লাইন ঠিক আছে কি না সেদিকে নিয়মিত লক্ষ রাখা এবং সমস্যা থাকলে যত দ্রুত সম্ভব তা মেরামত করা,
  • গোসলখানায় গিজার বা গরম পানির লাইন থাকলে পানির তাপমাত্রা কমিয়ে রাখা,
  • ঘরে ধূমপান না করা এবং আগুনের অন্যান্য উৎস ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা।

রান্নার সময়ের সতর্কতা:

  • রান্না শেষে সবসময় চুলা বন্ধ করার অভ্যাস করা,
  • রান্নার সময় পরিহিত পোশাক (যেমন: শাড়ি, ওড়না কিংবা গামছা) এর দিকে খেয়াল রাখা। সম্ভব হলে আগুন নিরোধক অ্যাপ্রন পরা,
  • গরম পানি ও অন্যান্য গরম বস্তু সতর্কতার সাথে ব্যবহার করা।

শিশুদের জন্য বিশেষ সতর্কতা:

  • ছোটো বাচ্চাদের রান্নাঘর, আগুনের উৎস (যেমন: লাইটার, ম্যাচ, কুপিবাতি ও জ্বলন্ত মোমবাতি) এবং চা-কফির মতো গরম পানীয় থেকে দূরে রাখা,
  • বাচ্চাদের গোসল করানোর আগে কনুই দিয়ে পানির তাপমাত্রা দেখে নেওয়া।

বাড়ি ও কর্মক্ষেত্রে বাড়তি নিরাপত্তা: 

  • ধোঁয়ার জন্য বিশেষ অ্যালার্ম এবং ইমারজেন্সি সিঁড়ির সুব্যবস্থা রাখা, যাতে আগুন লাগলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়া যায়,
  • বিল্ডিং এর প্রতি তলায় লিখিত ব্যবহার পদ্ধতিসহ অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র রাখা। প্রয়োজনে বিল্ডিং এর সকল ভাড়াটিয়া মিলে চাঁদা তুলে এই ব্যবস্থা করা যায়,
  • ফায়ার সার্ভিসের ফোন নাম্বার লিখে চোখে পড়ে এমন কোথাও টাঙিয়ে রাখা।

এক্ষেত্রে:

  • বাসা বা অফিস—যেখানেই হোক না কেন, প্রথমেই বিদ্যুতের মূল সুইচ ও গ্যাসের সংযোগ বন্ধ করতে হবে। সেই সঙ্গে নিকটস্থ ফায়ার সার্ভিস অফিসে খবর পৌঁছাতে হবে।
  • যেখানেই আগুন লাগুক, ভুলেও লিফট ব্যবহার করে বের হওয়ার চেষ্টা করা যাবে না।
  • আগুনের ধর্ম ওপরের দিকে ওঠা। তাই বহুতল ভবনের নিচের দিকের যেকোনো অংশে আগুন লাগলে সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় সতর্ক থাকতে হবে। তেমন হলে বিল্ডিংয়ের খোলা ছাদে চলে যাওয়াই ভালো। তাতে করে ঝুঁকি কম থাকবে এবং উদ্ধার পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে।
  • আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে নিজে নিরাপদ স্থানে চলে যান এবং অন্যদের নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে সাহায্য করুন।
  • যদি আগুন গায়ে বা পোশাকে লেগেই যায়, দৌড়াদৌড়ি করবেন না; তাতে আগুন বেড়ে যাবে। শুয়ে পড়ুন ও গড়াগড়ি দিতে থাকুন যতক্ষণ না আগুন নিভে যায়। সম্ভব হলে আক্রান্ত ব্যক্তির গায়ে ভেজা কাঁথা বা কম্বল দিয়ে জড়িয়ে ধরুন।

আগুন নিভানোর যন্ত্র:

আগুন নেভানো বা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য ব্যবহৃত যন্ত্রকে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র বলা হয়। অতি প্রচলিত অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রগুলোতে সাধারণত সিলিন্ডারে উচ্চচাপে রক্ষিত তরল কার্বন ডাই-অক্সাইড নজ্‌ল লিয়ে স্প্রে আকারে বের করে আগুন নেভানো হয়।

প্রকারভেদ:

অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রগুলোকে সাধারণত ০৪ ভাগে ভাগ করা হয়েছে, যথা-

১. ওয়াটার টাইপ,

২. ফোম টাইপ,

৩. সিওটু (CO2) টাইপ,

৪. ডিসিপি টাইপ ড্রাই কেমিকেল পাউডার।

ফায়ার এক্সটিংগুইসার বা অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র।

ব্যবহার:

  • অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র পরিচালনার সাধারণ ধাপসমূহ হলঃ
  • সেফটি পিনটি টানুন।
  • নিরাপদ দুরত্বে থেকে (অন্তত ছয় ফুট দুরে) নজলটি আগুনের মূলে তাক করুন।
  • হাত দিয়ে নজলটি চাপুন।
  • অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রটি আগুনের দিকে তাক করে একপাশ থেকে আরেক পাশে নাড়ান।

ব্যবহারে সর্তকতা:

  • বাতাসের অনুকুলে ব্যবহার করা।
  • যথাসম্ভব আগুনের নিকটবর্তী অবস্থান থেকে ব্যবহার করা।
  • সরাসরি মানুষের শরীরে ব্যবহার না করা।
  • ড্রাই কেমিক্যাল পাউডার ব্যবহারের সময় সাবধানতা অবলম্বন করা যাতে শ্বাস প্রশ্বাসের সহিত শরীরে প্রবেশ করতে না পারে।
  • সিওটু ফায়ার এক্সটিংগুইসার ব্যবহারের সময় সর্তকাতার সাথে এর ডিসচার্জ হর্ন ধরা। অসর্তকতার কারণে কুল বার্ণ হতে পারে।

বিভিন্ন ধরনের আগুনের জন্য বিভিন্ন রকমের অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র রয়েছে। ভুল রকমের অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ব্যবহারের ফলে আগুন আরও বাড়তে পারে তাই সঠিক ধরনের অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ব্যবহার করা উচিত। দয়া করে মনে রাখবেনঃ বেরিয়ে যান, বাইরে থাকুন, ফায়ার সার্ভিসকে খরব দিন।

পরিশেষে:

আগুন যেমন ভয়ংকর, তেমনি দৈনন্দিন জীবনে আগুন আমাদের ভীষণ প্রয়োজন। বাড়িতে খাবার রান্না থেকে শুরু করে কারখানায় নানা পণ্য তৈরি, সবখানেই আগুনের ব্যবহার দেখতে পাবে। প্রয়োজনীয় এই আগুন আমাদের অসতর্কতার কারণেই ভয়ংকর হয়ে ওঠে।

আগুনের দুর্ঘটনা থেকে বাঁচার বাঁধাধরা কোনো উপায় নেই। সতর্ক থাকতে হবে সবাইকে। ম্যাচ, লাইটার, রাসায়নিক পদার্থ, বৈদ্যুতিক সকেটের মতো আগুন লাগাতে পারে এমন জিনিস রাখতে হবে পরিবারের যারা ছোট, তাদের নাগালের বাইরে।

তথ্যসূত্র:

  • বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানা গাজীপুর সেনানিবাসের উপ-সহকারী পরিচালক এবং সহকারী ফায়ার অফিসার দেওয়ান সোহেল রানা,
  • দমকল বাহিনীর অপারেশন্স বিভাগের উপ পরিচালক দিলিপ কুমার ঘোষ,
  • বুয়েটের কেমিকৌশল বিভাগের শিক্ষক ড. ইয়াছির আরাফাত, বিবিসি বাংলা।
  • বগুড়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক মো. আবদুল হামিদ, প্রথম আলো।
  • ইনসাইডার> কিশোর আলো।
  • ডা. কামরুল আক্তার সঞ্জু, আবাসিক সার্জন, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, এনটিভি।
  • ডা. ইমা ইসলাম,
  • ডা. সেঁজুতি সীমান্ত, সহায় হেল্থ।
  • উইকিপিডিয়া।
  • Edited: Natural_Healing.

কোন মন্তব্য নেই

Popular Post

Blogger দ্বারা পরিচালিত.