First Aid Present

Lifestyle Modification এবং প্রাকৃতিক খাদ্য, পানীয়, শাকসবজি, গাছ, ডালপালা, ফল, মসলা, পাতা ও ফুল ইত্যাদির দ্বারা প্রাথমিক চিকিৎসা।

আগুনে পোড়া রোগীর প্রাথমিক চিকিৎসা

পুড়ে যাওয়া ব্যাপারটি অনেকটাই দুর্ঘটনাবশত। শীতকালে আমরা প্রায় এ ধরনের পুড়ে যাওয়ার ঘটনা শুনে থাকি। প্রচণ্ড শীতের হাত থেকে রক্ষা পেতে আগুনের আঁচ নিতে, কাপড়ে আগুন লেগে অথবা দুর্ঘটনাবশত কুপি উল্টে গিয়ে শরীর বা শরীরের অংশবিশেষ পুড়ে যেতে পারে।

আগুন দেখলে বিচলিত বা আতঙ্কগ্রস্ত হবেন না। ধীরস্থির থাকুন। প্রথমে আগুনের উৎপত্তি কোথায়, সত্যিই আগুন লেগেছে কি-না জানার চেষ্টা করুন। অযথা চিৎকার চেঁচামেচি না করে প্রাথমিক অবস্থায়ই আগুন নেভানোর চেষ্টা করুন।


অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্ঘটনায় শরীর পুড়ে গেলে আতঙ্কগ্রস্থ না হয়ে মাথা ঠান্ডা রেখে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে দ্রুত। পোড়া স্থান পরিস্কার পানি দিয়ে ধুয়ে শুকনো গজ বা ব্যান্ডেজে মুড়ে দিন।
দগ্ধ হওয়ার কারণ: বিভিন্ন কারণে মানুষ পুড়ে যায়। নারীদের শরীরে আগুন লাগার ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটে রান্নাঘরে। শীতের রাতে আগুনের উষ্ণতা নিতে গিয়েও অনেকে পুড়ে যায়। গরম পানি, ভাতের মাড় ও ডাল পড়ে গ্রামের অনেক বৃদ্ধ, শিশু ও নারীর শরীর ঝলসে যায়। মশার কয়েল থেকেও আগুন ধরে মানুষ দগ্ধ হয়। পাশাপাশি ইদানীং সড়ক দুর্ঘটনায়, গ্যাস সিলিন্ডার, ল্যাপটপ ও মুঠোফোন বিস্ফোরণে অনেকে দগ্ধ হচ্ছে। বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে অনেকে পুড়ে যায় এবং রাসায়নিক বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে সবচেয়ে বেশি রোগী হাসপাতালে আসে। বেশি পরিমাণে পুড়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে।

রান্নাঘরের সতর্কতা: 

একটু সতর্ক থাকলে অনেক সময় অগ্নি দুর্ঘটনা এড়ানো যায়। তবু দুর্ঘটনা যদি ঘটেই যায়, তবে যথাযথ চিকিৎসা নিতে হবে। মনে রাখতে হবে, পুড়ে যাওয়ার পর তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়াটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। অধিকাংশ আগুনে পোড়ার ঘটনা রান্নাঘরেই ঘটে। এ জন্য সাবধানতার প্রয়োজন আছে। রান্নার সময় একটু অসতর্ক হলে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

রান্নাঘরে ঢিলেঢালা কাপড় ব্যবহার না করে আঁটসাঁট কাপড় ব্যবহার করবেন। ভালো হয় কিচেন অ্যাপ্রোন ব্যবহার করলে। সকালে রান্নাঘরে চুলায় আগুন দেওয়ার আগে অবশ্যই জানালা খুলে দেবেন। গরম পানি আনা-নেওয়ার সময় বালতি ব্যবহার করবেন। হঠাৎ পুড়ে গেলে প্রচুর পরিমাণে পানি ঢালবেন। অগ্নি নির্বাপন যন্ত্র রান্নাঘরে রাখবেন। হঠাৎ করে চোখে পুড়ে গেলে চক্ষু বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেবেন। গ্যাসের চুলার আগুন নিভিয়ে রাখবেন।

হঠাৎ অগ্নিদুর্ঘটনায়:

আকস্মিক দুর্ঘটনায় বা মুহূর্তের অসতর্কতায় পুড়ে যাওয়ার মতো মারাত্মক ও যন্ত্রণাদায়ক পরিস্থিতি ঘটে যেতে পারে। রান্নাঘর, মোমবাতি, হারিকেন, মশা মারার কয়েল, গরম পানি, গরম পানীয় এমনকি হ্যান্ড স্যানিটাইজারের মতো সাধারণ দৈনন্দিন বস্তু ব্যবহারের অসতর্কতা থেকেও হতে পারে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। বৈদ্যুতিক সামগ্রী ব্যবহারে অসতর্কতাও পুড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ। এমন দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করাই কাম্য। তারপরও যদি দুর্ঘটনা ঘটে যায়, জরুরিভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করতে হবে। এতে ক্ষতি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।

পুড়ে গেলে প্রথম কাজ হলো, পুড়ে যাওয়ার উৎস থেকে সরে যাওয়া। ঘরে, কর্মক্ষেত্রে বা যেকোনো জায়গায় আগুন লেগে গেলে পানি দিয়ে আগুন নেভাতে হবে। পর্যাপ্ত পানি পাওয়া না গেলে পুরু কম্বল বা পুরু কাঁথা দিয়ে চেপে আগুন নেভাতে হবে। বিদ্যুতায়িত হলে দ্রুত বিদ্যুতের মেইন সুইচ বন্ধ করার ব্যবস্থা নিতে হবে। শরীরে আগুন লেগে গেলে মাটিতে গড়িয়েও আগুন নেভানো সম্ভব। এরপর যা করতে হবে, তা হলো আহত স্থানে প্রচুর পানি ঢালা। আক্রান্ত স্থানটি প্রবহমান পানিতে (ট্যাপের পানি) ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট রাখতে হবে। এরপর পরিষ্কার, সুতি কাপড় দিয়ে আক্রান্ত স্থানটি ঢেকে নিয়ে হাসপাতালে যান। আক্রান্তকে বারবার পানি বা স্যালাইন পান করতে দিন। হাত কিংবা পা পুড়ে গেলে আক্রান্ত হাত কিংবা পা যতটুকু সম্ভব, কম নাড়াচাড়া করতে হবে। যেমন পায়ের কোনো অংশ পুড়ে গেলে রোগীকে বসিয়ে বা শুইয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে হাসপাতালে নেওয়ার সময়ও রোগীকে হাঁটিয়ে নেওয়া উচিত নয়।

মারাত্মক দুর্ঘটনায়:

যেকোনো দুর্ঘটনায় মাথা ঠান্ডা রেখে জীবন বাঁচাতে হবে। অগ্নিদুর্ঘটনায় পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত লাগতে পারে, হাত-পা ভেঙে যেতে পারে, রক্তক্ষরণ হতে পারে। মাথায় আঘাত লাগলে, হাড় ভেঙে গেলে কিংবা অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হলে অনেক সময় তা বাইরে থেকে বোঝা না-ও যেতে পারে। তাই বড় ধরনের দুর্ঘটনায় অবশ্যই জরুরি ভিত্তিতে নিকটস্থ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রোগীকে নিয়ে যেতে হবে। শরীরের ১৫ শতাংশের বেশি অংশ পুড়ে যাওয়া (শিশুদের সঙ্গে ১০ শতাংশের বেশি হলেই) তা মারাত্মক ধরনের তীব্র পোড়া। এ ছাড়া চোখ, কান, মুখমণ্ডল, গলা, আঙুল, কবজি, হাত-পায়ের তালু, পায়ুপথ ও এর আশপাশের অংশ অল্প পুড়ে গেলেও তা মারাত্মক।

কতটুকু পোড়াটা বিপজ্জনক?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেয়া তথ্য মতে, বড়দের ক্ষেত্রে শরীরের ১৫ শতাংশ এবং শিশুদের ক্ষেত্রে যদি শরীরের ১০ শতাংশ পুড়ে যায় তাহলে তা ঝুঁকিপূর্ণ বলে ধরা হয়।

তবে খুব কম বয়সী শিশু বা নবজাতক এবং বয়স্কদের ক্ষেত্রে এই পরিমাপ সব সময় খাটে না। এসব এক্ষেত্রে ১০ কিংবা ১৫ ভাগের চেয়ে কম পুড়ে গেলেও অনেক সময় তা প্রাণঘাতী হতে পারে।

পোড়া অংশের পরিমাণ যত বেশি হবে মৃত্যুর আশঙ্কা তত বেড়ে যাবে। এছাড়া এটা বয়সের সাথে সম্পর্কযুক্ত। অর্থাৎ বয়স্ক মানুষের ক্ষেত্রে কম পরিমাণ পোড়াও প্রাণহানির কারণ হতে পারে।

এ বিষয়ে শেখ হাসিনা ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি'র সহকারি অধ্যাপক ডা. শারমিন আক্তার সুমি বলেন, কোন কোন ক্ষেত্রে ৩০% এর কম পোড়াটাও বিপদজনক।

"যখন পোড়াটা অনেক গভীর হয়, রোগী যখন অনেক বেশি বয়স্ক থাকে কিংবা খুব কম বয়সী থাকে, রোগীর যদি অন্য কোন স্বাস্থ্য সমস্যা যেমন রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, অ্যাজমা থাকে, যারা অনেক মোটা থাকে, যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল থাকে, এসব ক্ষেত্রে পোড়ার পরিমাণ খুব বেশি না থাকলেও অবস্থা অনেক বেশি খারাপ হয়ে যায়।"

শরীরের কত ভাগ পুড়লো তার সাথেও বিপদের মাত্রাটা জড়িত বলে মনে করেন তিনি।

শরীরের কত ভাগ পুড়লো তার সাথেও বিপদের মাত্রাটা জড়িত বলে মনে করেন তিনি।

মানবদেহকে ১০০ ভাগ ধরা হয়। এর মধ্যে ১৫% এর বেশি পুড়ে গেলে অবস্থা খারাপ হওয়া শুরু হয়। এটা ৩০ ভাগের বেশি হলে সেখানে এক্সটেনসিভ ট্রিটমেন্ট (বিশেষ চিকিৎসা) দরকার হয়।

শরীরের ৪০ ভাগের বেশি পুড়ে গেলে সেই রোগীকে ক্রিটিক্যাল বা সংকটাপন্ন বলে ধরা হয়। শ্বাসনালী অক্ষত থাকলে কোনও ব্যক্তির শরীর ৪০ শতাংশ দগ্ধ হলেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়। তবে এটাও নির্ভর করে রোগীর বয়সের ওপর।

এ ছাড়া ৪০ শতাংশের বেশি পুড়ে গেলে সে রোগীকে শঙ্কটাপন্ন বলে ধরে নেই। এর বেশি পরিমাণ পুড়লে আমাদের এখানকার আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে যতোটা সম্ভব চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করি।

"আর ৭০ ভাগের বেশি হলে ধরে নেয়া হয় যে তার বাঁচার আশা নেই বললেই চলে।"

পোড়ার ধরন অনুযায়ী করণীয়:

আগে বুঝতে হবে মাইল্ড, মডারেট না সিভিয়র বার্ন। সেই মতো শুরু হবে চিকিৎসা। মেডিসিনের ডা. অরুণাংশু তালুকদার বললেন, ‘‘যে কোনও বার্নকে দু’ভাগে ভাগ করা যায়। ড্রাই বার্ন— এ ক্ষেত্রে গরম পাত্র অর্থাৎ গরম কড়াই বা চাটু ধরতে গিয়ে ছেঁকা লেগে গেল। আর একটা হয় স্কাল্ড— এ ক্ষেত্রে গরম জল বা রান্না করা খাবার হয়তো গায়ের কোথাও পড়ে গিয়ে পুড়ে গেল। সে ক্ষেত্রেও ফোস্কা পড়ে যায়। চামড়ার কতটা অংশ পুড়েছে সেটা দেখা দরকার। অনেক সময়ে শুধু উপরের চামড়া পুড়ে যায়। কিন্তু স্টোভ বা গ্যাস সিলিন্ডার ফেটে গিয়ে কেউ পুড়ে গেলে সেই বার্ন সিভিয়র। তখন চামড়ার নীচের মাংসল অংশও পুড়ে যায়। তাই হাসপাতালে নিয়ে যেতেই হয়।’’ তবে শরীরের কোন অংশ পুড়ছে, সেই অনুযায়ীও বার্ন সিরিয়াস কি না বিবেচনা করা হয়। যেমন, মুখে বার্ন হলে তা সিরিয়াস ধরা হয়। আবার পিঠের তুলনায় আঙুলের মাথা গোল করে বা গোড়ালির অংশ পুড়ে গেলে তা সিরিয়াস বার্নের অন্তর্গত হবে। কারণ সেই অংশে পোড়া জায়গা শুকোনোর পরে চামড়ায় টান পড়লে অসুবিধে হয়।

একটা জিনিস কতখানি গভীর হয়ে পুড়বে তা নির্ভর করে কতক্ষণ সময় ধরে আগুনের সংস্পর্শে থাকলে, কোন ধরণের আগুনে পুড়লো এবং যে জিনিসে পুড়লো সেটার তাপমাত্রা কত ছিল।

এগুলো মিলে পোড়াকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। এগুলো হচ্ছে-

কন্টাক্ট বার্ন: এটা হচ্ছে কোন কিছুর সাথে লেগে পোড়া। তরল পদার্থ বা শক্ত পদার্থের সংস্পর্শে আসা। যেমন গরম পাতিল বা কয়েনে পোড়া।

ফ্লেম বার্ন: সরাসরি আগুনের সংস্পর্শে পোড়া। অর্থাৎ আগুন জামায় লাগলো বা গায়ে লাগলো।

কেমিকেল বার্ন: বিভিন্ন ধরণের রাসায়নিকের সংস্পর্শে আসলে পুড়ে গেলে সেটাকে কেমিকেল বার্ন ধরা হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু পানি ঢাললেই পোড়ার পরিমাণ কমিয়ে আনা যেতে পারে।

বাংলাদেশে ফ্লেম বার্ন সবচেয়ে বেশি হয় বলে জানান ডা. শারমিন আক্তার সুমি।

শরীরের কত ভাগ পুড়লো তার সাথেও বিপদের মাত্রাটা জড়িত

ত্বক কতটা গুরুতরভাবে পুড়েছে এবং ত্বকের কোন কোন স্তর পুড়ে গেছে—সেটির ওপর ভিত্তি করে পোড়ার ধরন বা মাত্রা নির্ধারিত হয়। আমাদের ত্বকের স্তর তিনটি। সেগুলো হলো—

এপিডার্মিস: ত্বকের সবচেয়ে বাইরের স্তর।

ডার্মিস: এপিডার্মিসের ঠিক নিচের টিস্যুস্তর যা রক্তনালী, নার্ভ বা স্নায়ু, ঘর্মগ্রন্থি ও চুলের গোড়া নিয়ে গঠিত।

সাবকিউটিস: ত্বকের গভীরতম স্তর যা চর্বি ও টিস্যু নিয়ে গঠিত।

পোড়ার গভীরতার ওপর নির্ভর করে পোড়াকে মূলত ৪ ভাগে ভাগ করা হয়—

১- পোড়ার ধরন- প্রথম ডিগ্রি।

আক্রান্ত স্তর- শুধু এপিডার্মিস।

লক্ষণসমূহ- শরীরের উপরিভাগের স্তর হচ্ছে ত্বক,  আগুনে ত্বক পুড়ে গেলে চামড়া লাল হয়ে যাবে, হালকা ব্যথা ও সামান্য ফোলা থাকতে পারে, এবং জ্বালা করে কিন্তু ফোসকা পড়বে না (যেমন: সূর্যের তাপে পুড়ে যাওয়া ত্বক)।

করনীয়- এ ক্ষেত্রে পোড়ার স্থানে শুধু ১৫ থেকে ২০ মিনিট পানি ঢাললেই চলবে। খুব বেশি জ্বললে একটি প্যারাসিটামল ট্যাবলেট খেতে পারেন। ক্ষেত্রবিশেষে হাসপাতালে যাওয়া লাগতে পারে (যেমন: শরীরের অনেকখানি জায়গা পুড়ে গেলে এবং শিশু ও বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে)।

২- পোড়ার ধরন- দ্বিতীয় ডিগ্রি।

আক্রান্ত স্তর- দুই ডিগ্রি বার্ন হলে ত্বকের উপরিভাগের প্রথম স্তর (এপিডার্মিস) সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পরবর্তী স্তর (ডার্মিস) আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। 

লক্ষণসমূহ- চামরা লাল বা ধূসর হয়ে পুড়ে বা ঝলসে যায়। আক্রান্ত স্থান ফ্যাকাশে গোলাপি হয়ে যেতে পারে, প্রচণ্ড ব্যথা থাকবে, ফুলে যায়, ছোটো ছোটো ফোস্কা পড়তে পারে।

করনীয়- সাধারণত গরম পানি বা গরম তরল কিছু পড়লে, কাপড়ে আগুন লেগে গেলে, মোমের গরম তরল অংশ সরাসরি চামড়ায় লাগলে, আগুনে উত্তপ্ত কড়াইজাতীয় কিছুর স্পর্শে এ ধরনের বার্ন হয়।

এ ক্ষেত্রে অনেকক্ষণ ধরে পানি ঢালতে হবে—এক-দুই ঘণ্টা পর্যন্ত। ফোসকা গলানোর চেষ্টা করবেন না এবং পরবর্তীতে হাসপাতালে নিতে হবে।

৩- পোড়ার ধরন- তৃতীয় ডিগ্রি।

আক্রান্ত স্তর- এপিডার্মিস ও ডার্মিস

লক্ষণসমূহ- আক্রান্ত স্থান কালো হয়ে যায়, চামড়া পুড়ে শক্ত হয়ে যায়, স্পর্শ করলেও ব্যথা অনুভূত হয় না। ছোপ ছোপ দাগ থাকবে, ত্বক শুষ্ক কিংবা আর্দ্র থাকতে পারে, আর্দ্র ত্বক চকচকে দেখাবে, ত্বক ফোলা ও ফোস্কা থাকবে, প্রচণ্ড ব্যথা থাকতে পারে। আবার ব্যথা একেবারেই না-ও থাকতে পারে।

করনীয়- সরাসরি আগুনে পুড়লে, বিদ্যুতায়িত হলে, ফুটন্ত পানি বা তরল সরাসরি শরীরে পড়লে বা বিস্টেম্ফারণে এ ধরনের বার্ন হয়। এক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তিকে যত দ্রুত সম্ভব আগুন বা গরম জায়গা থেকে সরিয়ে নিন।

পুড়ে যাওয়া কাপড় খুলে দিতে হবে। আক্রান্ত ব্যক্তিকে এমনভাবে শুইয়ে দিতে হবে যাতে তার পুড়ে যাওয়া অংশ খোলা দিকে থাকে। তারপর জগ বা মগে নরমাল পানি বা সামান্য ঠান্ডা পানি এনে পোড়া জায়গায় ঢালতে হবে যতক্ষণ না তার জ্বালা-যন্ত্রণা কমে এবং ক্ষতস্থানের গরমভাবও কমে না যায়। আক্রান্ত স্থানটি ফুলে যাওয়ার আগে সেখান থেকে ঘড়ি, বেল্ট, আংটি, কাপড় ইত্যাদি যদি থাকে, খুলে ফেলতে হবে। পুড়ে যাওয়া অংশের কাপড় যদি লেগে থাকে তবে সেটা না টেনে বাকি কাপড় কেটে সরিয়ে ফলতে হবে। পরিষ্কার জীবাণুমুক্ত ব্যান্ডেজ বা কাপড় দিয়ে ক্ষতস্থান হালকা করে বেঁধে দিতে হবে। যদি মুখে কোথাও পুড়ে যায় তবে পানি দিয়ে ঠাণ্ডা করতে হবে যতক্ষণ না ক্ষতস্থান ঠাণ্ডা হয় এবং ব্যথা কমে। মুখ ঢাকবার প্রয়োজন নেই, তবে পরিষ্কার জীবাণুমুক্ত কাপড় দিয়ে এমনভাবে মাস্ক তৈরি করতে হবে, যাতে নাক, মুখ ও চোখ বের করে মুখ ঢাকা যায়। সিলভার সালফাডায়জিন ক্রিম হাতের কাছে থাকলে ক্ষতস্থান পরিষ্কার করে লাগিয়ে দিন। আক্রান্ত অংশ পরিষ্কার কাপড় বা গজ-ব্যান্ডেজ দিয়ে ঢেকে একটু উঁচু করে ধরে রাখুন। আক্রান্ত ব্যক্তির জ্ঞান থাকলে পানিতে একটু লবণ মিশিয়ে স্যালাইন বা শরবত করে খেতে দিন অথবা ডাবের পানি বা খাওয়ার পানি পর্যাপ্ত পরিমাণে পান করতে দিন। প্রাথমিক চিকিৎসা চালানো অবস্থায় যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে নিন

৪- পোড়ার ধরন- চতুর্থ ডিগ্রি।

আক্রান্ত স্তর- এপিডার্মিস, ডার্মিস ও সাবকিউটিস, অর্থাৎ ত্বকের সবগুলো স্তর এক্ষেত্রে প্রায়ই আক্রান্ত স্থানের সম্পূর্ণ চামড়া পুড়ে নিঃশেষ হয়ে যায়।

লক্ষণসমূহ- চামড়ার নিচের টিস্যু দেখতে ফ্যাকাশে কিংবা কালো লাগতে পারে, বাদবাকি চামড়া শুষ্ক ও সাদা, বাদামী কিংবা কালো রঙের হয়, এই ধরনের পোড়ায় ফোসকা পড়ে না এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ব্যথা হয় না, ত্বক লেদার অথবা মোমের মতো দেখাতে পারে।

হাসপাতালে কি নিতে হবে- হ্যাঁ, যত দ্রুত সম্ভব।

শ্বাসনালী পোড়া খারাপ কেন?

অনেক সময় দেখা যায় যে, আগুনের সংস্পর্শে আসলে শ্বাসনালী পুরে যায়। এ ধরণের পোড়া খুবই ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানান ডা. শারমিন আক্তার সুমি।

পেট্রোল বা কোন দাহ্য পদার্থ দিয়ে যদি আগুন লাগানো হয়, কিংবা গ্যাস থেকে আগুন লাগলে বা বদ্ধ কোন জায়গায় আগুন লাগলে শ্বাসনালী পুড়ে যাওয়ার শঙ্কা সবচেয়ে বেশি থাকে।

তিনি বলেন, শ্বাসনালীর পোড়াটা সরাসরি ফুসফুসে প্রভাব সৃষ্টি করে বলে এই পোড়া সবচেয়ে মারাত্মক।

আমরা যে শ্বাস নেই সেটি একটি নালীর মাধ্যমে ফুসফুসে যায়। এই বাতাসের সাথে ছোট ছোট উপাদান থাকে যা খালি চোখে দেখা যায় না। এগুলো ফুসফুসে গিয়ে সংক্রমণ সৃষ্টি করে।

"পরিবেশে বা বাতাসে যে মাইক্রোঅর্গানিজম থাকে সেগুলো চামড়া বা ত্বক ভেদ করে ঢুকতে পারে না। কিন্তু চামড়া পুরো গেলে সেগুলো সহজেই ফুসফুস এবং মাংসপেশিকে সংক্রমণ তৈরি করে।"

এই মাইক্রোঅর্গানিজমগুলো পোড়া শ্বাসনালীর ভেতর দিয়ে ফুসফুসে সংক্রমণ তৈরি করে। যার কারণে নিউমোনিয়া দেখা দেয়। এ কারণে এটি একটি বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করে বলে জানান ডা. শারমিন আক্তার সুমি।

শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের প্রধান সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন। জানালেন, বাকি শরীর অক্ষত থাকলেও কারও যদি শুধু শ্বাসনালী আগুনে দগ্ধ হয়, তবে সরাসরি তা ফুসফুস আক্রান্ত করে। এই পোড়া সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। শ্বাসনালী পুড়লে ৯৭ ভাগ রোগীই মারা যায়। এতে শরীরের অন্যান্য অংশেও সংক্রমণ দেখা দেয় দ্রুত।

পুড়ে গেলে যা হয়:

শরীরের কোথাও পুড়ে গেলে তীব্র ব্যথা হতে পারে। এ ছাড়াও পোড়া স্থানে নিচের অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে—

ত্বক লাল হওয়া,

চামড়া উঠে আসা,

ফোসকা পড়া,

ফুলে যাওয়া,

ত্বক পুড়ে কালো অথবা একেবারে সাদাটে হয়ে যাওয়া,

জ্বালাপোড়া হওয়া,

উল্লেখ্য, মারাত্মকভাবে পুড়ে গেলেও তেমন ব্যথা না-ও হতে পারে। কারণ শরীরের কোথাও গভীরভাবে পুড়ে গেলে ব্যথা অনুভব করার জন্য প্রয়োজনীয় নার্ভ বা স্নায়ুও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই এমন ক্ষেত্রে অবহেলা না করে রোগীকে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া উচিত।

উচ্চ তাপ ছাড়াও অন্যান্য কারণে শরীর পুড়ে যেতে পারে। যেমন: বৈদ্যুতিক শক, রেডিয়েশন, তীব্র ঘর্ষণ ও অ্যাসিড বা ক্ষয়কারক রাসায়নিকের সংস্পর্শ। সচরাচর আমরা পোড়া বলতে যা বুঝি সেটি এসব পোড়া থেকে ভিন্ন। এগুলোর চিকিৎসা পদ্ধতিও সাধারণ পোড়ার মতো নয়। আবার ভুল চিকিৎসার কারণে ক্ষততে ইনফেকশনসহ দীর্ঘমেয়াদী বিভিন্ন জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।

প্রাথমিক চিকিৎসা:

আগুন লেগে কেউ যদি পুড়ে যায়, তাহলে কী হবে? হাসপাতালে যাওয়ার আগে প্রাথামিক চিকিৎসাসেবায় করণীয় কী? 

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান লিমন কুমার ধর বলেন, ‘আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের আগুন নিভিয়ে ফেলেই সাধারণ কলের বা ঝরনার পানি ছেড়ে রেখে অন্তত ১৫ মিনিট ধরে চলমান পানির ধারা ক্ষতস্থানে লাগাতে হবে। বালতি বা গামলার আবদ্ধ পানি নয়, যেকোনো ধরনের পোড়া বা ঝলসানোর জন্য চলমান/প্রবাহমান পানির ধারা সবচেয়ে কার্যকর। ক্ষতস্থানে একেবারেই হাত দেওয়া বা ঘষাঘষি করা যাবে না। তারপর পরিষ্কার সাদা সুতি কাপড়ে আলতো করে ঢেকে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

এক্ষেত্রে;

  • রোগীকে তাপের উৎস থেকে অতি দ্রুত কোথাও সরিয়ে নিতে হবে। আশেপাশে কেউ থাকলে তাকে সাহায্যের জন্য ডাকতে হবে। 
  • আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে নিজে নিরাপদ স্থানে চলে যান এবং অন্যদের নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে সাহায্য করুন।
  • যদি আগুন গায়ে বা পোশাকে লেগেই যায়, দৌড়াদৌড়ি করবেন না; তাতে আগুন বেড়ে যাবে। শুয়ে পড়ুন ও গড়াগড়ি দিতে থাকুন যতক্ষণ না আগুন নিভে যায়। সম্ভব হলে আক্রান্ত ব্যক্তির গায়ে ভেজা কাঁথা বা কম্বল দিয়ে জড়িয়ে ধরুন। অথবা অগ্নি নির্বাপক যন্ত্রের সাহায্যে আগুন নিভানোর চেষ্টা করুন। কাপড়ে আগুন ধরলে সেটি সাথে সাথে খুলে ফেলতে হবে।
  • যেখানেই আগুন লাগুক, ভুলেও লিফট ব্যবহার করে বের হওয়ার চেষ্টা করা যাবে না।
  • আগুনের ধর্ম ওপরের দিকে ওঠা। তাই বহুতল ভবনের নিচের দিকের যেকোনো অংশে আগুন লাগলে সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় সতর্ক থাকতে হবে। তেমন হলে বিল্ডিংয়ের খোলা ছাদে চলে যাওয়াই ভালো। তাতে করে ঝুঁকি কম থাকবে এবং উদ্ধার পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে।
  • মুখ অথবা চোখ পুড়ে গেলে রোগীকে যতক্ষণ সম্ভব সোজা করে বসিয়ে রাখার চেষ্টা করতে হবে। এতে ফোস্কা পড়া বা ফোলা কিছুটা কমাতে সাহায্য করবে। অন্যদিকে পা কিংবা শরীরের নিচের অংশ পুড়ে গেলে রোগীকে শুইয়ে দিয়ে পা উঁচু করে রাখতে হবে।
  • বাসায় গরম পানি বা চা পড়ে পুড়ে গেলে ক্ষতস্থানে ট্যাপের পানিতে পরিষ্কার করে তাতে ১ শতাংশ এসএসডি ক্রিম লাগিয়ে দিন। ব্যথা হলে প্যারাসিটামল ট্যাবলেট খেতে পারেন। গর্ভবতী হলে কোনো ধরনের মলম না লাগানো ভালো। পরবর্তী সময়ে প্লাস্টিক সার্জনের সহায়তা নিতে পারেন চিকিৎসার জন্য।
  • অ্যাসিড অথবা রাসায়নিকে পুড়লে সেই রাসায়নিকে ভেজা কাপড় সাবধানে সরিয়ে ফেলতে হবে। হাসপাতালে যাওয়ার আগ পর্যন্ত ক্ষতস্থানটি প্রচুর পরিমাণে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুতে হবে।

প্রাথমিকভাবে পোড়া অংশে পানি ছাড়া অন্য কিছু লাগানো যাবে না কেন?

উচ্চ তাপ দুই ধরনের উৎস থেকে সৃষ্টি হতে পারে—শুকনো ও ভেজা। শুকনো তাপের উৎসের মধ্যে রয়েছে আগুন, গরম তৈজসপত্র ও গরম ইস্ত্রি। অন্যদিকে গরম পানি ও জলীয় বাষ্প হলো ভেজা তাপের উৎস। তবে উভয় ধরনের পোড়ায় একই রকম চিকিৎসা দেওয়া হয়। যেকোনো ধরনের পোড়ার ক্ষেত্রেই যত দ্রুত সম্ভব প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করতে হবে। এর মাধ্যমে ত্বকের ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে আনা যায়। 

প্রাথমিক অবস্থায় আক্রান্ত স্থানে স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি ছাড়া অন্য কিছুই ব্যবহার করবেন না। ঠান্ডা পানি, বরফ, কুসুম গরম পানি—কোনোটাই পুড়ে যাওয়া স্থানের জন্য উপযোগী নয়। খুব ঠান্ডা পানি দিলে আক্রান্ত স্থানের কোষগুচ্ছ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। 

ডাক্তার লিমন কুমার ধর বলেন, চিকিৎসক দেখার আগে পোড়া জায়গায় মলম, ভাতের মার, তেল, লবণের পানি, টুথপেস্ট, ডিম বা ডিমের সাদা অংশ, কোন ধরণের ক্রিম ও তৈলাক্ত পদার্থ যেমন মাখন দেয়া যাবে না, আলুসহ যেকোনো উপাদান দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। 

কারণ- এগুলি  প্রাথমিকভাবে জীবাণুমুক্ত থাকলেও পরবর্তীতে এটাকে সংক্রমণের দিকে ঠেলে দেয়। হাসপাতালে নেয়ার পর এই জিনিসগুলোকে পরিষ্কার করা হয়। আর তখন এগুলো জমাট বেঁধে থাকে বলে চামড়া উঠে আসার শঙ্কা থাকে। অর্থাৎ তার ক্ষত আরো গভীর হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এরপর কতটা অংশ কেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেটি বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। এ ছাড়া ক্ষতস্থানে লাগানো উপাদান তুলে দেখতে হলে রোগীর কষ্ট বেড়ে যাবে। তাই পানি দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার পাতলা কাপড় জড়িয়ে যত দ্রুত সম্ভব নিকটস্থ হাসপাতালে বা চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া দরকার।

সাধারণ তাপমাত্রার অথবা সামান্য ঠান্ডা পানি ব্যবহার করতে হবে। বরফ বা বরফ-ঠান্ডা পানি ব্যবহার করা যাবে না। এক্ষেত্রে চলমান বা প্রবাহমান পানির নিচে ক্ষতস্থান রাখতে হবে কোন স্থির পানিতে নয়।
প্রাথমিক অবস্থায় পোড়া অংশে কেনো শুধু পানিই ঢালতে হবে?

শেখ হাসিনা ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি'র সহকারী অধ্যাপক ডা. শারমিন আক্তার সুমি বলেন, আগুনে পোড়ার প্রথম আধাঘণ্টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এসময় রোগীর শরীরে যত বেশি সম্ভব পানি ঢালতে হবে।

শুধু পানি ঢাললেই পোড়ার পরিমাণ কমিয়ে আনা যেতে পারে। "যেখানে ২০% পুড়তো সেটাকে হয়তো ১৫ বা ১০% এ নামিয়ে আনা যেতে পারে।"

যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বহমান ঠাণ্ডা পানি দিয়ে পোড়া জায়গা অন্তত ২০ মিনিট ধরে ধুতে হবে। তবে বরফ, বরফ শীতল পানি কোন ধরণের ক্রিম ও তৈলাক্ত পদার্থ যেমন মাখন দেয়া যাবে না।

পানি ঢালার পর রোগীর তাপমাত্রা চেক করুন-

পানি ঢালার পর রোগীর শরীর গরম রাখার চেষ্টা করতে হবে যাতে হাইপোথারমিয়া না হয়। সেক্ষেত্রে কম্বল দিয়ে তাকে জড়িয়ে নেয়া যেতে পারে। তবে শরীরের যে অংশ পুড়ে গেছে সেখানে যাতে কোন ধরণের কাপড় না থাকে সেটি খেয়াল রাখতে হবে।

কাপড় ও গহনা খুলে ফেলুন-

কেউ অগ্নিকাণ্ডের শিকার হলে তার পরিহিত কাপড় ও গহনা যত দ্রুত এবং যথাসম্ভব খুলে ফেলতে হবে।

শিশুদের ক্ষেত্রে ন্যাপি কিংবা ডায়াপার থাকলে সেটি খুলে ফেলতে হবে।

কিন্তু পোড়া চামড়া বা পেশীর সাথে যদি কোন ধাতব পদার্থ বা কাপড়ের টুকরো আটকে গিয়ে থাকে তাহলে তা সরানোর চেষ্টা করা যাবে না। এক্ষেত্রে ক্ষত আরো বেশি বাড়ার আশঙ্কা থাকে।

যথা সম্ভব রোগীকে তরল ও প্রোটিন খাওয়াতে হবে-

পোড়া রোগীকে স্যালাইন দেয়া সম্ভব না হলে মুখে অন্তত স্যালাইন, ডাবের পানি বা তরল জাতীয় খাবার বেশি করে খাওয়াতে হবে।

এছাড়া ক্যালরি ও প্রোটিন জাতীয় খাবার যেমন ডিম বা মুরগি খাওয়ানোর পরামর্শ দেয়া হয়।

প্যারাসিটামল এবং সিলভার সালফাডায়াজিন-

আক্রান্ত স্থানে পানি ঢালার পর (বাতাসে অথবা পরিষ্কার টিস্যু বা শুকনা কাপড় দিয়ে) শুকিয়ে নিয়ে এরপর সিলভার সালফাডায়াজিন মলম প্রয়োগ করা যায়, কিন্তু এ ছাড়া অন্য কোনো মলম, জেলি, মধু কোনো কিছুই ব্যবহার করা যাবে না। কপালে, চোখের কাছে সিলভার সালফাডায়াজিন মলম প্রয়োগ করার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকতে হবে; খুবই হালকাভাবে মলমটি লাগাতে হবে যাতে তা চোখে না চলে যায়।

এরপর ব্যথা হলে, ব্যথার জন্য প্যারাসিটামল অথবা আইবুপ্রোফেন সেবন করা যাবে।

হাতের কাছে কোন কিছু না থাকলে প্রাথমিক চিকিৎসায় পানি ঢালার পর ভেজা কাপড় দিয়ে ক্ষতস্থান মুড়িয়ে অথবা শুকনা পরিষ্কার কাপড় দিয়ে আলতো করে ঢেকে নিয়ে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।

ক্ষতস্থানটির ঢেকে ফেলুন-

প্রাথমিক চিকিৎসায় পানি ঢালার পর ক্ষতস্থানটি শুকিয়ে নিয়ে পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত গজ দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। গজ না থাকলে পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত কাপড় অথবা পলিথিন ব্যবহার করা যেতে পারে।

পোড়া রোগীকে কেন খুব দ্রুতই হাসপাতালে নিতে হবে? 

আগুনে পোড়োর পর প্রথম ২৪ ঘণ্টা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে মধ্যে হাসপাতালে নেয়া গেলে রোগীর মৃত্যু ঝুঁকি অনেকাংশেই কমিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

ডা. শারমিন আক্তার সুমি বলেন, প্রথমত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে নেয়া হলে রোগীর প্রয়োজন অনুযায়ী তাকে ২০-৩০ লিটার পর্যন্ত স্যালাইন দেয়া যায়। কিন্তু এর চেয়ে বেশি সময় অতিবাহিত হয়ে গেলে ৩-৪ লিটারের বেশি দেয়া সম্ভব নয়। ফলে তার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

প্রথম ২৪ ঘণ্টায় স্যালাইন দেয়ার কারণে যে উপকার পাওয়া যায় পরে আর সেটি পাওয়া যায় না। এজন্য এই ২৪ ঘণ্টাকে পোড়া রোগীর জন্য গোল্ডেন আওয়ার বলা হয়।

যা করবেন না:

  • ঘরে বসে বড়সড় পোড়ার চিকিৎসা করার চেষ্টা করা যাবে না।
  • টুথপেস্ট, তেল ও হলুদ ক্ষতস্থানে লাগানো যাবে না।
  • ক্ষতস্থানে বরফ বা তীব্র শীতল পানি লাগানো যাবে না। এতে ক্ষতটি আরও গভীর হয়ে যেতে পারে।
  • লম্বা সময় ধরে রোগীর শরীরে ঠান্ডা পানি ঢালা যাবে না। এতে রোগীর শরীর অতিরিক্ত ঠান্ডা হয়ে যেতে পারে।
  • ক্ষততে সরাসরি তুলা, টিস্যু কিংবা ক্রিম লাগানো যাবে না।
  • হাসপাতালে যাওয়ার আগে ফোসকা ফাটানো যাবে না।
  • ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ক্ষতস্থানের ড্রেসিং করা কিংবা কোনো অ্যান্টিবায়োটিক অথবা অন্য কোনো মলম লাগানো ঠিক নয়।
  • নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে অন্যকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া শুরু করবেন না।

যখন ডাক্তারের কাছে যেতে হবে-

ত্বকের উপরিভাগের পোড়ার (অগভীর পোড়া) ক্ষেত্রে সাধারণত প্রচণ্ড জ্বালাপোড়া হয়ে থাকে, আক্রান্ত স্থান লাল হয়ে যায়, সেখানে ফোসকাও পড়তে পারে। গভীরভাবে পুড়ে গেলে জ্বালাপোড়া তেমন হয় না, আক্রান্ত স্থান সাদাটে হয়ে যায়, ফোসকা পড়ে না। তবে পোড়া ক্ষত গভীর বা অগভীর যে রকমই হোক না কেন, শরীরের যত কম বা বেশি অংশই পুড়ে যাক না কেন, প্রাথমিক চিকিৎসা শেষ করে কাছের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি কেন্দ্রে যেতে হবে। সেই সুযোগ না পেলে নিকটস্থ শল্যচিকিৎসকের (সার্জন) শরণাপন্ন হতে হবে। সেই সুযোগও না পেলে যেকোনো হাসপাতালের জরুরি বিভাগ বা চিকিৎসকের কাছে গিয়ে ক্ষতের মাত্রা নির্ণয় করে যতটা চিকিৎসাসেবা গ্রহণের সুযোগ আছে, সেটি নিয়ে এরপর প্রয়োজনমতো বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। বয়স্ক এবং শিশুদের শরীরের কম অংশ পুড়লেও তা মারাত্মক হতে পারে, তাই সতর্ক থাকুন।

প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পরে রোগীকে হাসপাতালে নিতে হবে কি না সেটি পোড়ার ধরন ও আকারসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর নির্ভর করবে।

পোড়ার মাত্রা বেশী হলে রোগীকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হবে। সম্ভব হলে পোড়ার চিকিৎসায় বিশেষায়িত কোনো হাসপাতাল (যেমন: শেখ হাসিনা ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি) অথবা নিকটস্থ বড় হাসপাতালের বার্ন ইউনিট এ নিয়ে যাওয়া উচিত।

নিচের চারটি ক্ষেত্রে পোড়ার রোগীকে দেরি না করে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে—

১. বড় অথবা গভীর ক্ষত হলে: আক্রান্ত ব্যক্তির হাতের তালুর চেয়ে বড় আকারের ক্ষত হলে,

২. বিশেষ অঙ্গ পুড়ে গেলে: হাত, পা, চোখ, মুখ, পায়ের পাতা অথবা যৌনাঙ্গ পুড়ে ফোসকা পড়লে,

৩. চামড়া সাদা কিংবা কালো হয়ে গেলে: পোড়া স্থানের চামড়া পুড়ে সাদাটে হয়ে গেলে অথবা ঝলসে গিয়ে কালো হয়ে গেলে, যত কম বা বেশি-ই হোক,

৪. রাসায়নিক অথবা বিদ্যুতের সংস্পর্শ: রাসায়নিক অথবা বিদ্যুতের সংস্পর্শে শরীর পুড়ে গেলে।

নারী, বয়স্ক ব্যক্তি এবং পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুর ক্ষেত্রে পোড়া সংক্রান্ত জটিলতায় ভোগার ঝুঁকি বেশি থাকে। তাই তাদের যেকোনো ধরনের পোড়ার জন্য ডাক্তার দেখানো উচিত।

শ্বাসনালীতে উত্তপ্ত ধোঁয়া প্রবেশ করলে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। কখনো কখনো কাশি, গলা ব্যথা ও শ্বাসকষ্টের মতো লক্ষণগুলো দেখা দিতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। তাই এই বিষয়ে অবহেলা করা উচিত নয়।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-

কখনো কখনো গুরুতরভাবে পুড়ে যাওয়া রোগীর শরীরে অক্সিজেন মারাত্মকভাবে কমে যেতে পারে। এর ফলে রোগীর জীবন বিপন্ন হতে পারে। একে ডাক্তারি ভাষায় ‘শক’ বলা হয়। এই অবস্থায় নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিতে পারে—

  • শরীর ঘাম দিয়ে ঠান্ডা হয়ে যাওয়া
  • পালস বা নাড়ির গতি বেড়ে যাওয়া। উল্লেখ্য, সাধারণ হিসাবে পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তিদের পালস প্রতি মিনিটে গড়ে ৬০–১০০ হলে সেটিকে স্বাভাবিক ধরা হয়, 
  • শ্বাস-প্রশ্বাস দ্রুত হয়ে যাওয়া, 
  • চেহারা ফ্যাকাসে হয়ে যাওয়া, 
  • হাই তুলতে থাকা, 
  • জ্ঞান হারিয়ে ফেলা।

এই ধরনের লক্ষণ দেখা দেওয়ার সাথে সাথে রোগীকে নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। জরুরি প্রয়োজনে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করতে পারেন। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত নিচের তিনটি কাজ করুন—

১. সম্ভব হলে রোগীকে চিৎ করে শুইয়ে দিয়ে দুই পা উঁচু করে রাখুন। প্রয়োজনে পায়ের নিচে পরিষ্কার বালিশ দিতে পারেন। 

২. রোগীর মুখ ও শরীরের পুড়ে যাওয়া অংশ বাদে শরীরের বাকি অংশ পরিষ্কার কম্বল কিংবা চাদর দিয়ে ঢেকে দিন।

৩. রোগীকে মুখে কোনো ধরনের খাবার অথবা পানীয় দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। এগুলো শ্বাসনালীতে গিয়ে ইনফেকশন করতে পারে। এমনকি রোগীর জীবন হুমকির মুখে ফেলে দিতে পারে।

হাসপাতালে চিকিৎসা:

হাসপাতালে রোগীর শরীরের কতটুকু অংশ পুড়েছে সেটি বিশেষ নিয়মে হিসাব করা হবে। পাশাপাশি ক্ষতের গভীরতা যাচাই করা হবে এবং ক্ষত পরিষ্কার করে সঠিকভাবে ড্রেসিং করা হবে।

গুরুতর পোড়ার ক্ষেত্রে অপারেশন করে রোগীর ত্বক প্রতিস্থাপনের, অর্থাৎ নতুন করে চামড়া লাগানোর প্রয়োজন হতে পারে। এ ছাড়া পোড়ার কারণে সৃষ্ট পানিশূন্যতা ও অন্যান্য জটিলতা রোধে স্যালাইনসহ বিভিন্ন ঔষধ দেওয়া হতে পারে।

পরিমাণে বেশি পুড়ে গেলে স্যালাইন দেওয়া খুবই জরুরি। অনেক সময় আগুনে শ্বাসনালি পুড়ে গেলে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) সাপোর্ট দরকার হয়।

অনেকে পোড়ার স্থানে দাগ নিয়ে খুব উৎকণ্ঠিত থাকেন। সাধারণত গরম পানি, চা বা ডালের পোড়া দাগ ছয় মাসে চলে যায়।

গরম তেল বা আগুনে পোড়ার দাগ দীর্ঘস্থায়ী হয়। দাগের প্রকারভেদে আমরা লেভিসিকা ক্রিম (সিলিকন জেল), মেডারমা ক্রিম, জারজেল ক্রিম ও ভাইট ক্রিম ব্যবহারের পরামর্শ দিই। এই চিকিৎসা সাধারণত দীর্ঘদিনের হয়ে থাকে।

বার্ন থেকে ইনফেকশন হলে অ্যান্টিবায়োটিকের কোর্স করারও দরকার পড়ে কখনও-কখনও। তবে তার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। কারণ কিছু ক্ষেত্রে ক্ষতে অ্যান্টিবায়োটিক মলম লাগাতে বলা হয়, কিছু ক্ষেত্রে ওষুধ খাওয়ার প্রয়োজন পড়ে।

সতর্কতা:

  • বাসা বা অফিস—যেখানেই হোক না কেন, প্রথমেই বিদ্যুতের মূল সুইচ ও গ্যাসের সংযোগ বন্ধ করতে হবে। সেই সঙ্গে নিকটস্থ ফায়ার সার্ভিস অফিসে খবর পৌঁছাতে হবে।
  • রান্নাঘরে ফোনে কথা বলবেন না। এতে অমনোযোগী ও অসাবধান হয়ে পড়তে পারেন। 
  • কাপড়ে যেন আগুন না লাগে, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। ঢিলেঢালা পোশাক, শাল, চাদর, ওড়না, শাড়ির আঁচল চট করে সরে গিয়ে আগুন লেগে যেতে পারে। তাই আঁটসাঁট হয়ে রান্নাঘরে যাবেন। দরকার হলে চাদর বা ওড়না খুলে রাখবেন। 
  • কাজ শেষে অবশ্যই গ্যাসের চুলা নিভিয়ে দেবেন। চুলার আগুনে কাপড় শুকাতে দেবেন না।
  • সিলিন্ডার ও গ্যাসের সংযোগ ঠিকঠাক রাখুন। মাঝেমধ্যে ফুটো বা লিক আছে কি না, মিস্ত্রি ডেকে পরীক্ষা করুন। 
  • সকালে দেশলাই জ্বালানোর আগে রান্নাঘরের জানালা খুলে দিন আগে। বদ্ধ জমা গ্যাস যেন বেরিয়ে যায়। 
  • গরম পানি, পানীয়, ডাল, তরকারি প্রভৃতি রাখুন সাবধানে, শিশুর নাগালের বাইরে। পানি গরম করার পাত্রে গরম পানি নিয়ে রান্নাঘর থেকে অন্য স্থানে যাবেন না। যে পাত্রে পানি গরম করা হবে, সেটির অর্ধেক বা দুই-তৃতীয়াংশ পরিমাণ পানি নিয়ে ফুটিয়ে নিন। চুলা নিভিয়ে দিয়ে কিছুটা স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি যোগ করুন সেই পাত্রে। এবার চুলা থেকে পাত্রটি নামিয়ে নিয়ে বালতিতে এই পানি ঢেলে অন্যত্র নিতে পারবেন। 
  • করোনাকালে বেশির ভাগ বাড়িতেই স্পিরিট, স্যানিটাইজার ইত্যাদি জীবাণুনাশকভর্তি বোতল বা কনটেইনার আছে। এগুলো রান্নাঘর ও চুলা থেকে দূরে রাখবেন। কোনো অবস্থাতেই এসব জিনিসের পাশে সিগারেট বা দেশলাই ধরাবেন না। 
  • মাঝেমধ্যেই ঘরের বৈদ্যুতিক সুইচবোর্ডগুলো পরীক্ষা করিয়ে নিন। কোনো অবস্থাতেই নষ্ট বা সমস্যাযুক্ত সুইচ ব্যবহার করা যাবে না। 
  • মুঠোফোন চার্জে দিয়ে কথা বলবেন না।

তথ্যসূত্র:

  • শেখ হাসিনা ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি'র সহকারি অধ্যাপক ডা. শারমিন আক্তার সুমি, বিবিসি বাংলা।
  • মোহাম্মদ এস খালেদ, সহকারী অধ্যাপক, বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ,
  • ডা. মো. হেদায়েত আলী খান, সহযোগী অধ্যাপক, শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট, ঢাকা,
  • ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান লিমন কুমার ধর, প্রথম আলো।
  • ডা. সেঁজুতি সীমান্ত,
  • ডা. ইমা ইসলাম, সহায় হেল্থ।
  • ডা. কামরুল আক্তার সঞ্জু, আবাসিক সার্জন, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, এনটিভি।
  • মেডিসিনের ডা. অরুণাংশু তালুকদার, আনন্দবাজার।
  • শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের প্রধান সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন, বাংলা ট্রিবিউন।
  • কালের কণ্ঠ।
  • Edited: Natural_Healing.

কোন মন্তব্য নেই

Popular Post

Blogger দ্বারা পরিচালিত.